স্যালুট ইমরান মাঝি, স্যালুট আপনার কবিতা

জিয়া হাশান
নিজ গৃহ আঙিনায় কবি ইমরান মাঝি

নিজ গৃহ আঙিনায় কবি ইমরান মাঝি

  • Font increase
  • Font Decrease

ইমরান মাঝির সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য, তা আমার ভাগ্যে একবারই জুটেছে। তখন আমার এক বান্ধবী তুমুল ছাত্রী। সন্ধ্যা লাগার সাথে সাথে তার বাসায় হাজিরা জরুর। তাই যথাসময়ে তারে বাসায় পৌঁছে দিয়া ফিরতি বাসের অপেক্ষায় স্ট্যান্ডে দাঁড়ায়ে আছি। তখন মিরপুর থেকে ঢাকায় আগমনের মিনিটে মিনিটে বাস সার্ভিসের যুগ সচল হয়নি। বরং ঘণ্টা কিংবা আধাঘণ্টা পার করে তবেই তাদের দুএকটার সাক্ষাৎ মেলার দিনকাল বলবৎ।

সে-ই আদ্দিকালে, সে-ই শীতের সন্ধ্যায় হঠাৎ কোত্থেকে যেন সামনে এসে আর্বিভূত হয় অভিজিৎ দাস, আমাদের হাজারও উদ্দেশেরে ব্যর্থ করে দিয়া আজও যে নিরুদ্দেশ। তারে দেখে আমি চমকে উঠি, ধরা খাওয়ার, বান্ধবীর সাথে গোপন অভিসারের কাহিনী ফাঁস হয়ে যাবার আশঙ্কায় পড়ি। তা থেকে মুক্তির পথে তাই, ও কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই প্রশ্ন ছুড়ে দিই—কী খবর! আপনি এখানে?
: এ্যাই তো এলাম। আজ ওর সাথে থাকব।
কার সাথে থাকবে? তাকায়ে দেখি অভিজিতের সাথে আরো একজন। শীতের আধিক্যের কারণে গলা থেকে কোমর অবধি চাদরে ঢাকা তার শরীর। ফলে মাথাটাই কেবল চোখে পড়ে। আর তার উপরিতলে প্রশস্ত ঢাকের রাজত্বকে কোনোভাইে চোখের পক্ষে এড়ানো সম্ভব না। সেটাই সে আমার ভেতরে চালান করে, মনের দুয়ারে পৌঁছে দেয়। তাই তা-ই, তার চেহারা-সুরতের মধ্যে সবচেয়ে পষ্ট হয়ে আমার মনে গেঁথে যায়।

তার পানে ইঙ্গিত করে অভিজিৎ বলে—এ্যাই ইমরান মাঝি। কবিতা লেখে। মিরপুরের একটা কাপড়ের শোরুমে কাজ করে। এ্যাই তো সামনেই ওর বাসা।

কিন্তু তার কবিতা তো আমার কখনো পড়া হয়নি। কোনো পংক্তিতে সায়ের করিনি। এমনকি নামটাও আগে কখনো শুনেছি বলে মনে করতে পারি না। তাই আমার আগ্রহরা মিইয়ে যায়। গলা তোলা থেকে, কোনো রকম কৌতূহল প্রকাশ থেকে বিরত থাকে। বরং আমার গন্তব্যের বাস এলে ওদের ফেলে রেখে ঝটপট তাতে উঠে পড়ি। সাথে সাথে ইমরান মাঝির সাথে আমার এক ও অদ্বিতীয় সাক্ষাতের পরিসমাপ্তি ঘটে।

আর কখনো তার সাথে সাক্ষাৎ না হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তার নামটা আমার কানে সওয়ার হয়। একেবারে আসন নিয়া গেড়ে বসে।

সেবার শাহবাগের লোক প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে এক সাহিত্য সম্মেলন বসে। ওপার বাংলার মোটাসোটা নামের দুচারজন কবি-সাহিত্যিক আসেন। জমজমাট হয়ে ওঠে আসর। সেখানে বাংলাদেশের কবিতা নিয়া আলোচনা করেন মরহুম আব্দুল মান্নান সৈয়দ। নৌকার লগির মতো দীর্ঘ ও ঋজু তাঁর বক্তৃতা। তার এক ফাঁকে তিনি বলেন, দুইজন তরুণ কবির কবিতা তাঁর ভালো লাগে। তাদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনার বীজ তিনি দেখতে পান।

কিন্তু তাদের নাম নেয়ার সাথে সাথে অন্যরা, যারা নিজেরই নিজেদেরকে বিপুল সম্ভাবনার আধার মনে করেন, তারা ক্ষিপ্ত হতে, কৈফিয়ত তলব করতে, এমনকি তার ওপর কিলঘুষির সদ্বব্যবহারও করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। কেননা বর্তমান কবি-সমাজের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, এমনকি দুএকবার শিকারও। তাই বিপুল সম্ভাবনাময় তার পছন্দের দুই তরুণ কবির নাম উল্লেখ করা থেকে তিনি বিরত থাকেন। মুখে আর উচ্চারণ করেন না।

ফলে দর্শক শ্রোতা, যাদের বেশিরভাগই কবি-সাহিত্যিক-লেখক গোত্রের রথি-মহারথি, তাদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়—সৌভাগ্যবান দুই কবি কে কে, যাদের কবিতায় মুগ্ধ আব্দুল মান্নান সৈয়দের মতো বিদগ্ধ সমালোচক। তাদের নাম বের করতে তারা সচেষ্ট হয়ে ওঠেন, কেউ কেউ তো রীতিমতো মারিয়া হওয়ার পথ ধরেন।

বাঙালি আমেরিকা আবিষ্কার করতে পারেনি বটে, কিন্তু অনুক্ত দুই কবির নাম দু মিনিটেই আবিষ্কার করে ফেলে। ব্যাস, দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে সে নাম ঘুরে বেড়াতে থাকে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা হিসাবে এক সময় আমার কানে এসেও হাজির হয়। আর কী আশ্চর্য! সে দুটো নামের মধ্যে একটা দেখি—ইমরান মাঝি।

আফসোস তখন আমারে ঘিরে ধরে—হায়! সেদিন মিরপুরের বাসস্ট্যান্ডে আলাপটা কেন লম্বা করলাম না। চেনা-পরিচয়রে গাঢ় করে তুললাম না। সে আফসোস আরো চরমে পৌঁছে যখন দেখি আশপাশের সবাই তার কবিতার সাথে চেনা-পরিচয় করা সারা। কারো কারো তো ঘর-গৃহস্থলিও করা—কবিতার নাম-পংক্তি মুখস্থ করে ফেলা।

তবে সে আফসোস অতটা চূড়ায় চড়েনি যে, তারে নামানোর জন্য সাথে সাথে আজিজ মার্কেটে গিয়া ইমরান মাঝির কবিতার বই কিনে ফেলব। তারপর তাঁর কবিতার লাইনে লাইনে হাঁটাহাঁটি করব। বরং তাঁর বইয়ের সাথে সাক্ষাত, তারে ঘরে তুলে নেয় এবং কবিতার সাথে জানা-পরিচয় করা, শেষে আপ্লুত হওয়া—সে আলাদা কাহিনী। আরো অনেক পরে, বছর দেড়েক হবে হয়তো বা, সে কাহিনী পা ফেলে, মানে যাত্রা শুরু করে আর কি।

◤ দুধভাই বইয়ের প্রচ্ছদ ◢


তখন মাসের শুরুর দিকে বইপত্র কেনার যুগ। বেতন পাওয়ার পরপরই টাকা-পয়সা, হাতের ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবার আগেই পছন্দের বই, কালো আক্ষরে ছাপানো সাদা কাগজের সুশৃঙ্খল মুঠার কতগুলো কিনে ফেলি। তাতে হাবুডুবু খেয়ে মাসের বাকি দিনগুলো কাটাই। এরকম একদিন আজিজ মার্কেটে থেকে অনেকগুলো কাগজের মুঠা কিনে বগলদাবা করে বাসার পথ ধরব ধরব এমন সময় মনে হয়—কী যেন খুঁত রয়ে গেছে। কেনাকাটা সম্পূর্ণ হয়নি। অসম্পূর্ণতা মুখ বাড়ায়ে আছে।

কী সে খুঁত? অসম্পূর্ণতা কোথায়? খুঁজতে গিয়া দেখি—কেনা মুঠাগুলোর সব মোটা ঘাড়ের গল্প-উপন্যাস কিংবা ভারী দেহের ভ্রমণকাহিনী বা আত্মজীবনী। স্লিম দেহের লাবণ্যময়ী কাব্যগ্রন্থ নাই একটাও। ফলে মনটা খচখচ করে ওঠে—এত বড় খুঁত নিয়া পুরাটা মাস কাটাব কিভাবে? পাঠকের মর্যাদাটুকু ধরে রাখতে হলেও তো মাসে অন্তত একটা নতুন কবিতার বই পড়া দরকার। তাই আবার বইয়ের দোকান পানে ফিরি। হাতের কাছে যেটা পাই তাতেই ঢুকে পড়ি।

তাকে সার বেঁধে খাড়া হয়ে থাকা কবিতার বইগুলো পানে তাকাই। একটার পর একটায় চোখ বুলাতে গিয়া ইমারন মাঝির ‘দুধভাই’-এর দেখা পাই। একই মায়ের দুধ খাওয়া ভাইয়ের সাথে এটাই আমার প্রথম সাক্ষাত। হাতে নিয়া দেখি—মাঞ্জাসুতা নামের এক সংস্থার গর্ভজাত ভাইটির দেহাবয়ব খুবই ক্ষীণ—মাত্র ৬৪ পৃষ্ঠায় তার পূর্ণাঙ্গ রূপ। দামেও তাই বেশ রেয়াত—মাত্র ৫০ টাকা। তারপর আবার টুয়ান্টি পার্সেন্ট কমিশন। সুতরাং কিনতে আর অসুবিধা কোথায়? বরং খুঁত মোছার এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতের মুঠোয় পুরে, ব্যাগের ভেতর চালান করে দিয়া মনের আনন্দে বাসায় ফিরি।

কিন্তু যেহেতু দুচার লাইন গদ্য লিখি তাই তার বইগুলো পানে পক্ষপাত ষোলআনা। তার একটার পর একটায় সায়ের করি—গল্প-উপন্যাস-ভ্রমণকাহিনীতে হাবুডুবু খাই। ফলে তুমুল সংখ্যালঘু গোত্রের পদ্যের বইখানা ‘দুধভাই’ পড়ে থাকে টেবিলের কোণায়, আর সব বইয়ের তলদেশে।

অফিস শেষ করে একদিন বাসায় ফিরে দেখি গদ্যের রফাদফা করা সারা। সদ্য কেনা সবগুলো গল্প-উপন্যাস-ভ্রমণকাহিনী পড়া শেষ। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে ‘দুধভাই’রে হাতদাবা করি। খুলে তার পাতায় চোখ মেলে ধরি। আর কী আশ্চর্য! প্রথম কবিতা পড়েই চমকে উঠি—অ্যা! এ কী কবিতার ভাষা! কীরকম কবিতা এ? দেখি তার প্রথম বাক্য—‘নদীর কাছে যারা থাকে মন খারাপ হলে তারা ঢেউয়ের কাছে যায়।’ এরকম কবিতা তো আগে কখনো পড়িনি। এ ভাষা তো চেখে দেখিনি কখনো।

আরো সামনে আগাই। তখন দেখি উরশিতলা, নারকেলের পীড়, চালের ডোলা, মেইরখুটি, পুলি পিঠা, পলাপালি খেলা, তাফাল, নাড়ার চাউলি’র মতো শব্দের ছড়াছাড়ি। কবিতার রগে রগে তাদের উপস্থিতি। রক্তপ্রবাহের সাথে ছোটাছুটি। কিন্তু এগুলো তো আমাদের গ্রামের শব্দ, বাড়ির উঠানের ধ্বনি, ঘরের কোণের কলকাকলি। তাদের এই মহিমান্বিত রূপ, কবিতার অঙ্গপ্রতঙ্গরে সুসমৃদ্ধ করার সামর্থ্য দেখে আমি হা হয়ে যাই। নস্টালজিয়া আমারে জাপটে ধরে। আপাদমস্তক কব্জা করে ফেলে। কেননা রুটি-রুজির ধান্ধায় নগরবাস হলেও আমার কৈশোর-শৈশব কেটেছে গ্রামে। এই সব শব্দের আদরে যতনে। তাদের সাথে উঠবসে।

শব্দ পড়ি দিয়া বাক্যের পিছু ধরি। তাদের আগামাথায় হাঁটি। দেখি অপূর্ব তাদের গঠন—মখমলের মতো যেমন মসৃণ—এতটুকু জটিলতাহীন, দুর্বোধ্যের ঘেরাটোপবিহীন, তেমনি ইস্পাতের মতো দৃঢ়। তাই পাঠমাত্রই হৃদয়ে আসন নেয়। মনে গেঁথে থাকে। সে রকম গাঁথা বাক্যগুলোর একটাতে দেখি আমাদের নিয়তি—‘নদীই মোদের আল্লা-রসুল নদীই মাতাপিতা।’ আরেকটাতে আমাদের গৃহবধূদের দুঃখগাথা—‘বাপের বাড়ি থেকে মাছ এলে বধূরা সব ঘরে ভাগ করে দেয় আর মরা মাছের কাছে জেনে নেয় পিতা ও মাতার খবর।’ আবার কোনোটায় মায়ের আশাভরসা—‘মায়েরা মেয়ের বিয়েতে উঠাবে বলে লেজ কেটে কাৎলা ছেড়ে দেয়।’ কোনোটায় গাছের পাতার করুণ পরিণতি—‘গাছের পাতা নদীতে আত্মহত্যা করে।’ শেষে আমাদের কৃষকভাইয়ের আনন্দ—‘নিজের জমির পাকা ধান আলে দাঁড়িয়ে দেখার একটা হলুদ সুখ আছে।’

এভাবে বইয়ের আপাদমস্তক, ৫৭টা কবিতা জুড়ে আমাদের গ্রামের রূপ, ভাইয়ের সামর্থ্য, বোনের দুঃখ-বেদনা, বাবা-মায়ের বিষণ্ণতার অনুপম চিত্র আঁকা। কিন্তু আমার চাকরি-বাকরি, পিচঢালা রাস্তায় ছোটাছুটি, ক্ষমতার দম্ভ কিংবা প্রতারণার ফাঁদের কোনো কথা নাই। তাই বইয়ের আগাগোড়া খুঁজেও একটা দুটো নাগরিক শব্দ পাওয়া ভার। সুতরাং নগররে পিছে ফেলে, তার পরাজিত করে ধুলায় মিশায়ে নাই করে দিয়া আমাদের গ্রামের এই বিজয় কেতন ওড়ানো, তারে কবিতার পরতে পরতে তুলে ধরা দেখে আমার বুক ফুলে ওঠে, আড়াই হাত প্রশস্ত হয়।

তাই খুঁজে নিয়া একদিন ইমরান মাঝিরে ফোন দেই—আপনার কবিতা বিচারের সামর্থ্য আমার নাই। তার জন্য চোখে অক্ষম পিঁচুটিঅলা অধ্যাপকরা আছেন। তারা তার কৃমিকীট ঘাটবেন। তবে যে কবিতা পড়তে ভালো লাগে, মন ছুঁয়ে যায়, হৃদয় স্পর্শের অনুভূতির জন্ম হয় তারে নিশ্চয়ই ভালো কবিতা বলা যায়। সে বিচারে আপনার কবিতা ষোলআনার চেয়েও দুচারআনা আগানো।

কিন্তু কী আশ্চর্য! এত বড় কম্লিমেন্ট, ভূয়সী প্রশংসার পাওয়ার পরও ইমরান মাঝির মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া নাই। নেই তার উৎসাহে উদ্বাহু নৃত্য। বরং ধন্যবাদের মতো রসকসহীন শুকনো শব্দ দিয়া কাজ সেরে সে ফোন রেখে দেয়।

তাহলে কী করা? ঠিক করি ‘দুধভাই’ নিয়া লিখব। পুরো বই নিয়া একটা মহারোহী আলোচনা গড়ে তুলব। কিন্তু আজ লিখি কাল লিখি করে আর হয় না। তারপর একদিন দেখি টেবিল থেকে বইটা উধাও। কে যে নিয়া গেছে বা কারে যে দিয়া দিয়েছি কিছুই আর মনে করতে পারি না। মার্কেটে খুঁজি, দেখি সব দোকানেই বিক্রি-বাটা শেষ। কী করা, শেষে ইমরান মাঝির শরণাপন্ন হই। সুবোধ বালকের মতো সে দুদিন পরেই দু কপি ‘দুধভাই’ কুরিয়ার করে।

কিন্তু তারপরও লেখা আর হয় না। সে এক অলীক বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। কিছুতেই আর হয়ে ওঠে না। এভাবে একদিন দুই দিন করে আজ সাত বছর হয়ে গেছে। একটা লাইনও লিখতে পারিনি। এমনকি ফেসবুকে দুএকটা স্ট্যাটাসও দেওয়া হয়নি। তবে এই সাত বছরে ইমরান মাঝির সাথে আমার বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। ফেসবুকে নিয়মিত যোগাযোগও। কিন্তু সে একবারও আমার ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় নাই। বলে নাই—কই, আপনি লিখবেন বলছিলেন, লিখলেন কই?

টানা সাত বছর ধরে ধৈর্যরে আঁকড়ে ধরা, তারে সাথে নিয়া নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকা কিংবা কারো কারো মতে, উদাসীনতারে বগলদাবা করে রাখা, তার সাথে বসবাস করা একজন কবির জন্য অপরিহার্য। চণ্ডীদাসের মতো এমন নিষ্ঠা জরুরি। ইমরান মাঝি তা করতে সক্ষম হয়েছেন। অতএব স্যালুট ইমরান মাঝি, স্যালুট আপনার কবিতা।

আপনার মতামত লিখুন :