মুগ্ধকর শিল্প আয়োজন ‘বই দেখা’



মাহমুদ হাফিজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম

চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘বইদেখা’ শীর্ষক এক সাহিত্য আড্ডা ও চলচ্চিত্র আয়োজনে শুক্রবার দিনভর অভ্যাগতদের মুগ্ধ করে রাখলো ক্যাডেট কলেজ ক্লাব। গুলশানস্থ ক্লাব মিলনায়তনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নষ্টনীড় গল্প অবলম্বনে অস্কারবিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘চারুলতা’ ছবি প্রদর্শন করা হয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনেরই নাম দেয়া হয় ‘বই দেখা’। ফাঁকে ফাঁকে ছিল স্বনামখ্যাত চলচ্চিত্রকার, শিল্পসমালোচক, লেখক-সাংবাদিকের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা-বিতর্ক। দিনশেষে ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের সভাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন(অব.) মুহাম্মাদ আলমগীর বলেন, আমাদের ক্লাবটি যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পের একটি কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে এতে কোন সন্দেহ নেই।

ক্লাবের পৃষ্ঠপোকষকতায় মূল আয়োজনটি করে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিটেরেরি সোসাইটি। ক্লাব সদস্যদের জন্য তিনশ আর অতিথিদের জন্য পাঁচশ’ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাস্তা, চা বিস্কুট, মধ্যাহ্ন আহার, বিকেলে কেক চা দিয়ে অভ্যাগতদের আপ্যায়িত করা হয়। সকাল নয়টায় শুরু হয়ে টানা সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। দর্শনীর বিনিময়ে টানা অনুষ্ঠান হলেও আয়োজনে দর্শকশ্রোতার অভাব হয়নি।

নাস্তার পরই বড় পর্দায় সত্যজিৎ রায়ের ‘চারুলতা’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আধঘণ্টা যেতে না যেতেই আকস্মিক বন্ধ। উদ্যোক্তারা জানালেন, আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে এই ছবি প্রদর্শন করা হবে। ডা. ফাতেমা দোজা পোডিয়ামে এসে মাইক নিয়ে উপস্থাপনা শুরু করলেন। মঞ্চে ডাকা হলো ‘বই দেখা’ সাহিত্য আড্ডার মূল আলোচক সত্যজিৎ গবেষক ও সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন পিন্টুকে। অনুষ্ঠানে ভ্রমণলেখক শাকুর মজিদ ও ডা. মিরাজুল ইসলামকে খুব তৎপর দেখা গেল। তাঁরা লিটেরেরি সোসাইটির কর্মকর্তা এবং এই অভিনতুন আইডিয়ার নেপথ্য কারুকার। শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে মূল আলোচককে ডাকা হলে তিনি সত্যজিৎ রায়, চারুলতা ছবিসহ নানা বিষয়ে নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। বললেন, সাহিত্যকে চলচ্চিত্রে রূপায়ন করতে হলে অনেক সংযোজন-বিয়োজন করতে হয়। মূল গল্পে অনেক সময় ভিজ্যুয়ালাইজ করার মতো উপাদানের ঘাটতি থাকে। ঘাটতি মিটিয়ে একে ভিন্ন একটি শিল্প মাধ্যমে রূপান্তর করার দক্ষতা ভাল নির্মাতার থাকে। ‘চারুলতা’, পথের পাঁচালী সহ অসংখ্য ছবিতে সত্যজিৎ রায় এই দক্ষতা দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে নির্মাতাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাহিত্যিক কিংবা সমালোচকদের তীব্র রোষের শিকার হতে হয়। সত্যজিৎও হয়েছেন। তিনি বলেন, আবার সব চলচ্চিত্রায়ণ শিল্পের মানে উন্নীত হয় না। তাই যদি হতো, তাহলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস সবচেয়ে শিল্পসফল চলচ্চিত্র হতো। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাষায় অনেকেই এই গল্প নিয়ে ছবি বানিয়েছেন, কিন্তু তা শিল্পমান পায়নি।

লেখক নির্মাতা শাকুর মজিদ

আনোয়ার হোসেন পিন্টুর পর আলোচনায় আসেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক শামীম আকতার। তিনি ‘চারুলতা’ ছবির শিল্প সফলতা তুলে ধরে বলেন, পত্রিকা সম্পাদক স্বামী ভূপতির ব্যস্ততার মধ্যে গৃহবন্দী চারুলতার নিঃসঙ্গ জীবনে তার দেবর অমল এক আশীর্বাদ হয়ে আসে। একে কারা যে পরকীয়ার তকমা পরিয়ে দিয়েছে। তবে একে ঋণাত্মকভাবে না দেখে শিল্পবিবেচনা এবং সামাজিক প্রেক্ষিতের নিরিখে দেখতে হবে।

মূল বক্তা সত্যজিৎ রায় গবেষক আনোয়ার হোসেন পিন্টু

এ পর্যায়ে দর্শকস্তর থেকে আলোচনার ওপর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসেন আরা জলি বলেন, চারুলতা-অমলের যে প্রেম-দুর্বলতার কথা বলা হচ্ছে, তা মানসিক বন্ধুত্বের পর্যায়ে মাত্র, এখানে জৈবিক বিষয় নেই। এর চেয়ে অনেক বেশি পরকীয়া আমরা বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র, বুদ্ধদেব বসুসহ অনেকের রচনায় পেয়েছি। পরে আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্রামোদী ডা. মিরাজুল ইসলাম ও চলচ্চিত্রকার শবনম ফেরদৌসী।

মধ্যাহ্ন আহারের পর আলোচনায় আসেন স্বনামখ্যাত চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম। তিনি ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের শিল্পসফলতা তুলে ধরে বলেন, সাহিত্য আলাদা শিল্প মাধ্যম, চলচ্চিত্র আলাদা। তাই রবীন্দ্রনাথের নষ্টনীড় গল্পকে চলচ্চিত্রায়ন করতে গিয়ে সত্যজিৎ এমন সব বিষয় সংযোজ বিয়োজন করেছেন, যা মূল গল্পে খুজে পাওয়া যাবে না।

মাহমুদ হাফিজ আলোচনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশ্ন করছেন

মিথস্ক্রিয়া পর্যায়ে লেখক-সাংবাদিক মাহমুদ হাফিজ প্রশ্ন তোলেন, আজকের আলোচনায় বার বারই ঘুরে ফিরে আসছে সাহিত্য-চলচ্চিত্রে রূপায়ণ নিয়ে। সত্যজিৎ রায়ের পর্যায়ের অস্কারবিজয়ী চলচ্চিত্রকারকেও সাহিত্য ও শিল্পসমালোচকদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে চারুলতাসহ সাহিত্য অবলম্বনে ছবি বানাতে গিয়ে। তাহলে সাহিত্য ও চলচ্চিত্র মাধ্যমে অন্তর্গত কোন বিরোধ আছে কিনা? আর চলচ্চিত্র নির্মাতারাই কেন সাহিত্যকে অবলম্বন করছেন, তাদের কাছে কি গল্প নেই ? গল্পটি নিজস্ব হলে তো আর সাহিত্য আর চলচ্চিত্রের যে বিরোধ থাকতো না।

জবাবে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র দু্টি ভিন্ন শিল্প মাধ্যম। বিরোধ আছে বলে আমি মনে করি না। রবীন্দ্রনাথই বলে গেছেন, চলচ্চিত্র সাহিত্যের চাটুকারিতা থেকে যতোদিন না বেরুতে পারবে, ততোদিন চলচ্চিত্রের মুক্তি নেই। তারপরও আমরা দেখি অনেক সময় বিরোধ হয়ে যায়। সত্যজিৎ রায়কেও অনেক বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘চাকা’র প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, নাট্যজন সেলিম আল দীনের ‘চাকা’ নাটক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি একে চলচ্চিত্রে রূপ দিই। প্রথম প্রদর্শনী দেখে অনেকে কিছুই হয়নি বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তবে সেলিম আল দীন আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। প্রথমদিকে আমার সঙ্গে তাঁর তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। তিনি তাঁর চিত্রনাট্য ও সংলাপ ছাড়া নাটকটিকে চলচ্চিত্রে রূপদান করতে দিতে রাজি হননি। আমার অনঢ় অবস্থানের পর তিনি অনুমতি দেন। তিনি বলেন, আমাদের মানতে হবে, চলচ্চিত্র আলাদা শিল্পমাধ্যম। এতে চলচ্চিত্রকার নিজস্ব স্বাধীনতা নেন এবং নিজস্ব ইন্টারপ্রিটেশন দাঁড় করান। তখন বিরোধের তৈরি হতে পারে।

এ পর্যায়ে কবি ও ভ্রমণলেখক কামরুল হাসান প্রশ্ন করেন, বাংলা চলচ্চিত্র মেধাহীন লোকের প্রবেশ এবং বাণিজ্যিক খারাপ ছবির কারণে দিন দিন মানুষ চলচ্চিত্রবিমুখ হতে শুরু করে এবং দেশের সিনেমাহলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আজ আবার চলচ্চিত্র শিল্পের বেশে ফেরৎ আসতে শুরু করেছে মেধাবী নির্মাতাদের হাতে। এটি আমাদের আশাবাদী করে তোলে।

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ

পরবর্তী আলোচকবৃন্দ সাহিত্য-চলচ্চিত্র বিরোধ প্রসঙ্গটিকে কেন্দ্রে রেখেই আলোচনা চালিয়ে যান। মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত নির্মাতা মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, আমাদের কিশোরকালে লোকজন সিনেমা বলতে ‘বই’ই দেখতে যেতো। বই থেকে বই হয়ে যাওয়া চলচ্চিত্র প্রদর্শনকে ‘বই দেখা’ শিরোনাম দিয়ে এই আয়োজনে তিনি উৎসাহিত। তিনি বলেন, প্রশ্ন উঠেছে সাহিত্য-চলচ্চিত্রের বিরোধ নিয়ে। মোরশেদুল ইসলাম বললেন, বিরোধ নেই। আমি বলবো প্রবল বিরোধ আছে। কারণ সাহিত্যকে চলচ্চিত্রে রূপ দিতে গেলে বিরোধ হবেই। আমরা যখন ধ্রূপদী একটি ছবি দেখি তখন সেটি একটি কবিতা বলে মনে হয়। সেটি মূল সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্রকারের হাতে কবিতা হয়ে যায়।

চলচ্চিত্রকার তৌকির আহমেদ বলেন, দর্শক কিভাবে বিশেষভাবে গল্পটি শুনতে চায়, চলচ্চিত্রকারকে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হয়। চলচ্চিত্র এবং পোয়েটিকস হাত ধরাধরি করেই চলে। একজন সুসাহিত্যিকের ইতোমধ্যে লেখা গল্পকে চলচ্চিত্রের গল্প হিসেবে নিতে দোষের কিছু নেই।

তবে জীবিত লেখককে সন্তুষ্ট করা খুব কষ্টকর। কারণ লেখক যা সৃষ্টি করেছেন তা তার কাছে প্রিয়। তিনি পরিবর্ধন, পরিমার্জন দেখতে চাইবেন না, নিজস্ব ইন্টারপ্রিটেশনের রূপান্তর দেখতে চাইবেন। এ জন্য জীবিত লেখকের বদলে প্রয়াত লেখকের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র করা অধিকতর শ্রেয়। তৌকির বলেন, তাছাড়া আপনি নতুন যা কিছুই করেন, ওভারল্যাপিং বা অন্যের মতো কিছুটা হতেই পারে।

স্থপতি -চলচ্চিত্রকার তৌকির আহমেদ

নাগরিক টিভির প্রধান নির্বাহী আবদুন নূর তুষার বলেন, চলচ্চিত্রায়ণের মতো ভাল গল্পের যোগান আমাদের দেশে খুব কম। সব সময়ই চলচ্চিত্র বিখ্যাত সাহিত্যের কাছ থেকে গল্প নিয়ে থাকে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বসাহিত্যের ক্ষেত্রেও এই কথা সত্য। জেমস বন্ড, জোরাসিক পার্ক এসব বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র সাহিত্য থেকেই এসেছে। তিনি বলেন, একটি ভাল সাহিত্যকে চলচ্চিত্রায়ণ করতে গেলে যে বাজেট ও রসদ প্রয়োজন তার ঘাটতি রয়েছে এখানে। এ ব্যাপারে অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। যাতে নির্মাতারা শতবছরের পুরনো জিনিসপত্র সহজে পায় এবং চলচ্চিত্রে রূপদান করতে পারে। পশ্চিমাদের ঐতিহ্য নেই বলে তারা এলিয়ন, সুপারম্যানের মতো অতিমানবীয় চরিত্র তৈরি করে তা শিল্প করে তোলে।

লেখক-স্থপতি ও নির্মাতা শাকুর মজিদ বৌদি কাদম্বরী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ছায়াপাত নষ্টনীড়ি গল্পটিতে রয়েছে এবং তা চারুলতা অনেক কিছুতে রূপায়ন হয়েছ বলে প্রামাণিক দলিল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আজ কলকাতা শহর মানেই সিটি অব টেগোর। আর তা শুরু হয়েছিল ১০ সদর স্ট্রীট থেকে। এ বিষয়েবিস্তর গবেষণা করে তিনি ভ্রমণগদ্য এই নামে বই লিখেছেন বলে উল্লেখ করেন।

পরে অমিত মল্লিক চারুলতা ছবিটিতে মোজার্টের একটি সঙ্গীতভাষ্যকে ফর্ম হিসেবে নিয়ে শিল্পে দাঁড় করিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

পরে শাকুর মজিদ ঘোষণা করেন, ক্যাডেট কলেজের লেখাপড়ার বাইরে সাহিত্য চর্চাটিও জমজমাট ছিল। আজ ক্যাডেট থেকে পেশাদার হয়ে যাওয়া অনেকেই আবার সাহিত্যে ফিরে আসছেন। লিটেরেরি সোসাইটি সাবেক ক্যাডেটদের লেখা সাহিত্য বিকাশের নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;