বিশ্বসাহিত্যের অজানা বিষয়



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
চমকপ্রদ তথ্য অথচ সত্যিকার সাহিত্যপ্রেমীরা জানে না—এমনটা হওয়া উচিত?

চমকপ্রদ তথ্য অথচ সত্যিকার সাহিত্যপ্রেমীরা জানে না—এমনটা হওয়া উচিত?

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যের প্রতি মানুষের টান সহজাত। কখনো গল্প কিংবা কখনো কবিতায় যুগে যুগে প্রকাশিত হয়ে আসছে মনের ভাব। পশ্চিমে হোমারের ইলিয়াড কিংবা পূর্বে ব্যাসদেবের মহাভারতের জন্মের পেছনে তাই প্রায় কাছাকাছি অনুঘটক কাজ করেছে। বিভিন্ন সময়ে ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেছে ছন্দবদ্ধ শ্লোক। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের সফোক্লিস কিংবা ইউরিপিডিসের ট্র্যাজেডি পড়ে সমানভাবেই অনুরিত হয় হাল জামানার পাঠক।

সাহিত্যের ইতিহাসে উপন্যাসের আগমন সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ধরতে গেলে অনেক পরে। সেই মেসোপটেমিয় সভ্যতার গিলগামেশ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সাহিত্যে চমকপ্রদ বহু ঘটনাই ঘটে গেছে। তারই কয়েকটি পাঠকের সামনে হাজির করতেই আজকের আয়োজন।

সর্বকালের সেরা বিক্রিত উপন্যাস

মিগেল ডি সারভান্টেস একজন স্পেনিশ সাহিত্যিক। ১৬০৫ সালে প্রথম খণ্ড এবং ১৬১৫ সালে দ্বিতীয় খণ্ড হিসাবে তিনি একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন নিজের ভাষায়। ডন কিহোতে নামের উপন্যাসটি পরবর্তী পশ্চিমা সাহিত্যের ইতিহাসে মাইলফলক বলে পরিগণিত। প্রকাশের পর বইটির ৫০০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস হিসাবে পায় পাকা আসন।

◤ এখনো একে জনপ্রিয়তায় পেছনে ফেলতে পারেনি অন্য কোনো বই ◢


উপন্যাসটি মূলত তৎকালীন শিভ্যালরি ব্যবস্থাকে ব্যাঙ্গ করেই রচিত। জনৈক ডন কিহোতে অব লা মানচা চিন্তার আতিশায্যে নিজেকে বীর নাইটের আসনে বসায়। তরবারি, ঘোড়া, নারী কিংবা মদের সাথে ঘটনা প্রবাহিত হয়েছে গভীরে। বর্ণনার সাবলীলতা এবং নাটকীয়তা পরবর্তী যুগে উপন্যাস লেখার পথকে সুগম করে দেয়।

এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল

খবরটা অবশ্যই থতমত খাইয়ে দেবার মতো। নেহায়েত শিশুসুলভ একটা গ্রন্থ লুইস ক্যারোলের এলিস’স এডভ্যাঞ্চার ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড। পাঠক মাত্রই জানে, ছোট্ট এলিসের বিস্ময়কর ভ্রমণকে কেন্দ্র করে পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে। কেউ কেউ শিশুতোষ গ্রন্থ বলেই ক্ষান্ত হলেও কারো কারো মতে বইটি আধ্যাত্মিক যাত্রার রূপক উপস্থাপন। তবে গোটা রচনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা উসকানি ছিল না—এটা সর্বসম্মতভাবে নিশ্চিত। তারপরেও বইটি নিষিদ্ধ তালিকায় স্থান করে নেয় চীনের হুনান প্রদেশে।

◤ বইটি ব্যান করে দেওয়া হয় পশুর মুখ দিয়ে মানুষের ভাষায় কথা বলানোর জন্য ◢


প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে। বহুলভাবে বিভিন্ন জায়গায় সমাদৃত হলেও চীনের হুনান প্রদেশে বইটি অন্যান্য কিছু বইয়ের সাথে ব্যান করে দেওয়া হয়। সরকার মনে করে, বইটিতে পশুকে মানুষের ভাষায় কথা বলতে দেওয়া হয়েছে—যা অনুচিত। মানুষ আর পশু কখনোই সমান হতে পারে না।

সবচেয়ে দীর্ঘ বই

A la recherche du temps perdu একটি ক্লাসিক উপন্যাসের নাম। লিখেছেন মারসেল প্রাউস্ট। সাত খণ্ডে লেখা সৃষ্টিকর্মটিকে মনে করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ উপন্যাসগুলোর একটি। ৯৬০৯০০০টি বর্ণ, ১২৬৭০৬৯টি শব্দ এবং ৩০৩১টি পৃষ্ঠা। ইংরেজিতে বইটি অনূদিত হয়েছে In Search of Lost Time নামে। ঘটনা এগিয়ে গেছে বক্তার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দিয়ে।

◤ বিস্তৃতি এবং লেখকের চিন্তার তীক্ষ্মতা বইটিকে অনন্যতা দিয়েছে ◢


শুধু মাত্র বিস্তৃতির জন্য না, বিষয়বস্তু আর লেখকের স্বতন্ত্র রচনাশৈলির কারণে উপন্যাসটি অন্যতম বিখ্যাত হিসাবে বিবেচ্য।

লিও তলস্তয়ের সাহায্যকারী

ওয়ার এন্ড পিস কিংবা আন্না কারেনিনার মতো থান ইট সাইজের উপন্যাস লেখক লিও তলস্তয়। মহাকাব্যধর্মী বিস্তার আর রাশিয়ার জীবনব্যবস্থাকে তুলে ধরার মুনশিয়ানার জন্য তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বি বলে মনে করা হয়। অথচ একটা চমকপ্রদ তথ্য খুব সম্ভবত তার বেশির ভাগ ভক্তেরই অজানা।

◤ কতটুকু তাকে মনে রেখেছে তলস্তয়ের ভক্তরা? ◢


প্রকাশকের কাছে পাঠানোর আগে কয়েক দফায় পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছে তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ার এন্ড পিস’-এর। সাতটি আলাদা সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি নিজের হাতে কপি করেন স্ত্রী সোফিয়া তলস্তয়। মনে রাখা দরকার, উপন্যাসের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪০০।

ভিক্টর হুগোর ব্যবহৃত সবচেয়ে দীর্ঘতম বাক্য

ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজারেবল’ বিশ্বসাহিত্যে ক্লাসিকের মর্যাদায় অভিষিক্ত। ঘটনার সাবলীলতা এবং প্রেক্ষাপট নির্মাণে নতুন জোয়ার আনে বইটি। অগুণতি গুণের পরেও চমৎকার একটা তথ্য পাওয়া যায় এখানে। ৮২৩ শব্দব্যাপী লম্বা এক বাক্য অনায়াসে ব্যবহার করেছেন হুগো। যদিও সবচেয়ে দীর্ঘ বাক্য ব্যবহারের নজির আছে।

◤ ভিক্টর হুগোর ব্যবহৃত সবচেয়ে দীর্ঘ বাক্য ◢


জোনাথন কোয়ে’র লেখা দ্য রোটার’স ক্লাব গ্রন্থে ব্যবহৃত বাক্যে শব্দের সংখ্যা ১৩৯৫৫। তার পরেই রয়েছে জেমস্ জোয়েসের ‘ইউলিসিস’। সেখানে ব্যবহৃত বাক্যে শব্দের সংখ্যা ৪৩৯১। বাক্যগুলো আসলে গঠিত হয়েছে যতিহীন অনেক বাক্যকে যুক্ত করার মাধ্যমে। দুই বা ততোধিক বাক্যাংশ যুক্ত হয়েছে কোনো প্রকার উপযুক্ত বিরাম চিহ্ন ছাড়াই।

শার্লক হোমস্: ফরেনসিক বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক

আর্থার কোনান ডয়েলের নাম কে না জানে? গোয়েন্দা ও রহস্য উপন্যাস লেখার পুরোধা হিসাবে তার জনপ্রিয়তা কতটা উচ্চতায় ছিল তা প্রমাণিত। বেকার স্ট্রিটে শার্লক হোমসের ঠিকানায় সত্যিকার অর্থেই মানুষের চিঠি পাঠানো ঘটনাও নতুন না। সেই শার্লক হোমস্ লেখার সময়েই লেখক অপরাধের নানা সূত্র বর্ণনা করেছেন; যা তখনও পুলিশ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে অজানা ছিল। যেমন, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বা ছাই জমিয়ে রাখা তার মতে টাইপরাইটারের অন্যতম সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

◤ শার্লক হোমস্ থেকে নির্মিত হয়েছে বহু সিনেমা ◢


কোনান ডয়েল তার লেখায় ‍খুবই সাদামাটা উপাত্ত ব্যবহার করে সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন। জুতা, চুল, টাই, হাতের লেখা, আঙুলের ছাপ থেকে বের হয়ে আসত অপরাধীর সত্যিকার পরিচয় এমনকি পূর্ববর্তী না দেখা ঘটনার বিবরণ। সত্যিকার অর্থে তার লেখার সময়ে আঙুলের ছাপ নিরীক্ষা কিংবা হাতের লেখা পর্যবেক্ষণ সবে মাত্র যাত্রা শুরু করেছে। তার বিভিন্ন লেখা এবং নানা তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে পরে পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগ নানা জটিলতা সমাধানের পথ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।

যে বইতে কেবল সাদা পাতা

যদি কোনো মরুভূমিতে নির্বাসন দেওয়া হয়; সাথে করে কোন পাঁচটি বই সাথে নেবেন? জবাবে বার্নাড শ’র কথা ছিল বেশ চমকপ্রদ। নাহ, কোনো বই নয়; সাথে করে তিনি নিতে চেয়েছেন পাঁচটি লেখাহীন শূন্য বই।

◤ পাঠকের চিন্তাকে স্বাধীনতা দিতেই এই প্রচেষ্টা ◢


১৯৭৪ সালে তার এই চিন্তার যথার্থ রূপ দেয় ‘হারমনি বুকস্’ নামক এক আমেরিকান প্রকাশনা সংস্থা। বইয়ের নাম দেয়া হয় দ্য বুক অব নাথিং। বইতে মোট ১৯২টি সাদা পাতা যুক্ত ছিল। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রকাশনা সংস্থা থেকে জানানো হয়, ‘দ্য বুক অব নাথিং আসলে একটা খালি বই। সম্ভাব্যতার তো আর কোন সীমারেখা টানা যায় না। নিজের মতো করে উপন্যাস প্রোথিত করুন। সংকলন করে রাখুন নিজের চিন্তাবলি। ছবি আঁকা, তালিকা তৈরি, হিসাব সংরক্ষণ, অটোগ্রাফ সংগ্রহ, কবিতা, ছুটি কাটানো, ডায়েরি, ধাঁধা, সেলাইয়ের ছক, গান, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, প্রিয় বাক্য কিংবা একান্ত নিজস্ব কোনো কল্পনাকে সাজিয়ে রাখুন নিজের মতো করে। তার মানে আপনি যা করতে চান, এটি তাই।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;