বিশ্বসাহিত্যের অজানা বিষয়



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
চমকপ্রদ তথ্য অথচ সত্যিকার সাহিত্যপ্রেমীরা জানে না—এমনটা হওয়া উচিত?

চমকপ্রদ তথ্য অথচ সত্যিকার সাহিত্যপ্রেমীরা জানে না—এমনটা হওয়া উচিত?

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যের প্রতি মানুষের টান সহজাত। কখনো গল্প কিংবা কখনো কবিতায় যুগে যুগে প্রকাশিত হয়ে আসছে মনের ভাব। পশ্চিমে হোমারের ইলিয়াড কিংবা পূর্বে ব্যাসদেবের মহাভারতের জন্মের পেছনে তাই প্রায় কাছাকাছি অনুঘটক কাজ করেছে। বিভিন্ন সময়ে ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেছে ছন্দবদ্ধ শ্লোক। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের সফোক্লিস কিংবা ইউরিপিডিসের ট্র্যাজেডি পড়ে সমানভাবেই অনুরিত হয় হাল জামানার পাঠক।

সাহিত্যের ইতিহাসে উপন্যাসের আগমন সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ধরতে গেলে অনেক পরে। সেই মেসোপটেমিয় সভ্যতার গিলগামেশ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সাহিত্যে চমকপ্রদ বহু ঘটনাই ঘটে গেছে। তারই কয়েকটি পাঠকের সামনে হাজির করতেই আজকের আয়োজন।

সর্বকালের সেরা বিক্রিত উপন্যাস

মিগেল ডি সারভান্টেস একজন স্পেনিশ সাহিত্যিক। ১৬০৫ সালে প্রথম খণ্ড এবং ১৬১৫ সালে দ্বিতীয় খণ্ড হিসাবে তিনি একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন নিজের ভাষায়। ডন কিহোতে নামের উপন্যাসটি পরবর্তী পশ্চিমা সাহিত্যের ইতিহাসে মাইলফলক বলে পরিগণিত। প্রকাশের পর বইটির ৫০০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস হিসাবে পায় পাকা আসন।

◤ এখনো একে জনপ্রিয়তায় পেছনে ফেলতে পারেনি অন্য কোনো বই ◢


উপন্যাসটি মূলত তৎকালীন শিভ্যালরি ব্যবস্থাকে ব্যাঙ্গ করেই রচিত। জনৈক ডন কিহোতে অব লা মানচা চিন্তার আতিশায্যে নিজেকে বীর নাইটের আসনে বসায়। তরবারি, ঘোড়া, নারী কিংবা মদের সাথে ঘটনা প্রবাহিত হয়েছে গভীরে। বর্ণনার সাবলীলতা এবং নাটকীয়তা পরবর্তী যুগে উপন্যাস লেখার পথকে সুগম করে দেয়।

এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল

খবরটা অবশ্যই থতমত খাইয়ে দেবার মতো। নেহায়েত শিশুসুলভ একটা গ্রন্থ লুইস ক্যারোলের এলিস’স এডভ্যাঞ্চার ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড। পাঠক মাত্রই জানে, ছোট্ট এলিসের বিস্ময়কর ভ্রমণকে কেন্দ্র করে পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে। কেউ কেউ শিশুতোষ গ্রন্থ বলেই ক্ষান্ত হলেও কারো কারো মতে বইটি আধ্যাত্মিক যাত্রার রূপক উপস্থাপন। তবে গোটা রচনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা উসকানি ছিল না—এটা সর্বসম্মতভাবে নিশ্চিত। তারপরেও বইটি নিষিদ্ধ তালিকায় স্থান করে নেয় চীনের হুনান প্রদেশে।

◤ বইটি ব্যান করে দেওয়া হয় পশুর মুখ দিয়ে মানুষের ভাষায় কথা বলানোর জন্য ◢


প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে। বহুলভাবে বিভিন্ন জায়গায় সমাদৃত হলেও চীনের হুনান প্রদেশে বইটি অন্যান্য কিছু বইয়ের সাথে ব্যান করে দেওয়া হয়। সরকার মনে করে, বইটিতে পশুকে মানুষের ভাষায় কথা বলতে দেওয়া হয়েছে—যা অনুচিত। মানুষ আর পশু কখনোই সমান হতে পারে না।

সবচেয়ে দীর্ঘ বই

A la recherche du temps perdu একটি ক্লাসিক উপন্যাসের নাম। লিখেছেন মারসেল প্রাউস্ট। সাত খণ্ডে লেখা সৃষ্টিকর্মটিকে মনে করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ উপন্যাসগুলোর একটি। ৯৬০৯০০০টি বর্ণ, ১২৬৭০৬৯টি শব্দ এবং ৩০৩১টি পৃষ্ঠা। ইংরেজিতে বইটি অনূদিত হয়েছে In Search of Lost Time নামে। ঘটনা এগিয়ে গেছে বক্তার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দিয়ে।

◤ বিস্তৃতি এবং লেখকের চিন্তার তীক্ষ্মতা বইটিকে অনন্যতা দিয়েছে ◢


শুধু মাত্র বিস্তৃতির জন্য না, বিষয়বস্তু আর লেখকের স্বতন্ত্র রচনাশৈলির কারণে উপন্যাসটি অন্যতম বিখ্যাত হিসাবে বিবেচ্য।

লিও তলস্তয়ের সাহায্যকারী

ওয়ার এন্ড পিস কিংবা আন্না কারেনিনার মতো থান ইট সাইজের উপন্যাস লেখক লিও তলস্তয়। মহাকাব্যধর্মী বিস্তার আর রাশিয়ার জীবনব্যবস্থাকে তুলে ধরার মুনশিয়ানার জন্য তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বি বলে মনে করা হয়। অথচ একটা চমকপ্রদ তথ্য খুব সম্ভবত তার বেশির ভাগ ভক্তেরই অজানা।

◤ কতটুকু তাকে মনে রেখেছে তলস্তয়ের ভক্তরা? ◢


প্রকাশকের কাছে পাঠানোর আগে কয়েক দফায় পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছে তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ার এন্ড পিস’-এর। সাতটি আলাদা সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি নিজের হাতে কপি করেন স্ত্রী সোফিয়া তলস্তয়। মনে রাখা দরকার, উপন্যাসের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪০০।

ভিক্টর হুগোর ব্যবহৃত সবচেয়ে দীর্ঘতম বাক্য

ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজারেবল’ বিশ্বসাহিত্যে ক্লাসিকের মর্যাদায় অভিষিক্ত। ঘটনার সাবলীলতা এবং প্রেক্ষাপট নির্মাণে নতুন জোয়ার আনে বইটি। অগুণতি গুণের পরেও চমৎকার একটা তথ্য পাওয়া যায় এখানে। ৮২৩ শব্দব্যাপী লম্বা এক বাক্য অনায়াসে ব্যবহার করেছেন হুগো। যদিও সবচেয়ে দীর্ঘ বাক্য ব্যবহারের নজির আছে।

◤ ভিক্টর হুগোর ব্যবহৃত সবচেয়ে দীর্ঘ বাক্য ◢


জোনাথন কোয়ে’র লেখা দ্য রোটার’স ক্লাব গ্রন্থে ব্যবহৃত বাক্যে শব্দের সংখ্যা ১৩৯৫৫। তার পরেই রয়েছে জেমস্ জোয়েসের ‘ইউলিসিস’। সেখানে ব্যবহৃত বাক্যে শব্দের সংখ্যা ৪৩৯১। বাক্যগুলো আসলে গঠিত হয়েছে যতিহীন অনেক বাক্যকে যুক্ত করার মাধ্যমে। দুই বা ততোধিক বাক্যাংশ যুক্ত হয়েছে কোনো প্রকার উপযুক্ত বিরাম চিহ্ন ছাড়াই।

শার্লক হোমস্: ফরেনসিক বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক

আর্থার কোনান ডয়েলের নাম কে না জানে? গোয়েন্দা ও রহস্য উপন্যাস লেখার পুরোধা হিসাবে তার জনপ্রিয়তা কতটা উচ্চতায় ছিল তা প্রমাণিত। বেকার স্ট্রিটে শার্লক হোমসের ঠিকানায় সত্যিকার অর্থেই মানুষের চিঠি পাঠানো ঘটনাও নতুন না। সেই শার্লক হোমস্ লেখার সময়েই লেখক অপরাধের নানা সূত্র বর্ণনা করেছেন; যা তখনও পুলিশ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে অজানা ছিল। যেমন, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বা ছাই জমিয়ে রাখা তার মতে টাইপরাইটারের অন্যতম সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

◤ শার্লক হোমস্ থেকে নির্মিত হয়েছে বহু সিনেমা ◢


কোনান ডয়েল তার লেখায় ‍খুবই সাদামাটা উপাত্ত ব্যবহার করে সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন। জুতা, চুল, টাই, হাতের লেখা, আঙুলের ছাপ থেকে বের হয়ে আসত অপরাধীর সত্যিকার পরিচয় এমনকি পূর্ববর্তী না দেখা ঘটনার বিবরণ। সত্যিকার অর্থে তার লেখার সময়ে আঙুলের ছাপ নিরীক্ষা কিংবা হাতের লেখা পর্যবেক্ষণ সবে মাত্র যাত্রা শুরু করেছে। তার বিভিন্ন লেখা এবং নানা তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে পরে পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগ নানা জটিলতা সমাধানের পথ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।

যে বইতে কেবল সাদা পাতা

যদি কোনো মরুভূমিতে নির্বাসন দেওয়া হয়; সাথে করে কোন পাঁচটি বই সাথে নেবেন? জবাবে বার্নাড শ’র কথা ছিল বেশ চমকপ্রদ। নাহ, কোনো বই নয়; সাথে করে তিনি নিতে চেয়েছেন পাঁচটি লেখাহীন শূন্য বই।

◤ পাঠকের চিন্তাকে স্বাধীনতা দিতেই এই প্রচেষ্টা ◢


১৯৭৪ সালে তার এই চিন্তার যথার্থ রূপ দেয় ‘হারমনি বুকস্’ নামক এক আমেরিকান প্রকাশনা সংস্থা। বইয়ের নাম দেয়া হয় দ্য বুক অব নাথিং। বইতে মোট ১৯২টি সাদা পাতা যুক্ত ছিল। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রকাশনা সংস্থা থেকে জানানো হয়, ‘দ্য বুক অব নাথিং আসলে একটা খালি বই। সম্ভাব্যতার তো আর কোন সীমারেখা টানা যায় না। নিজের মতো করে উপন্যাস প্রোথিত করুন। সংকলন করে রাখুন নিজের চিন্তাবলি। ছবি আঁকা, তালিকা তৈরি, হিসাব সংরক্ষণ, অটোগ্রাফ সংগ্রহ, কবিতা, ছুটি কাটানো, ডায়েরি, ধাঁধা, সেলাইয়ের ছক, গান, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, প্রিয় বাক্য কিংবা একান্ত নিজস্ব কোনো কল্পনাকে সাজিয়ে রাখুন নিজের মতো করে। তার মানে আপনি যা করতে চান, এটি তাই।

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;