থিওডর মমসেন : ইতিহাস রচনা করে পেয়েছিলেন নোবেল পুরস্কার



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর
থিওডর মমসেন [৩০ নভেম্বর ১৮১৭-১ নভেম্বর ১৯০৩]

থিওডর মমসেন [৩০ নভেম্বর ১৮১৭-১ নভেম্বর ১৯০৩]

  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাসচর্চায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় না। তবুও একজন ইতিহাস রচনা করেই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি থিওডর মমসেন। প্রাচীন রোমান ইতিহাস রচনার জন্য ১৯০২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

সে সময় তার আগে থেকে সাহিত্যে বিশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এমিল জোলা, ডব্লিউ বি ইয়েটস, হার্বার্ট স্পেন্সারের মতো বিশ্ববিশ্রুত মানুষ। সবাইকে টেক্কা দিয়ে তাদের আগেই নোবেল পান মমসেন। কেন?

মমসেন রচনা করেছিলেন প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম লীলাক্ষেত্র রোমের আদ্যোপান্ত ইতিহাস। তিনি তাঁর ১৬ খণ্ডের বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘করপাস ইনস্ক্রিপশন্স লাতিনেরাম’-এর জন্য বিশেষ খ্যাতি পেয়েছিলেন। এতে ইতিহাস রচনার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজস্ব ঘরানার জন্ম দেন তিনি।

মমসেনকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের সেরা ঐতিহাসিকের একজন রূপে, যা প্রতিফলিত হয়েছে তার আরেক গ্রন্থ ‘হিস্ট্রি অব রোম’ রচনার সময়। এই রচনাগুলোই তাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছিল। তিনি ইতিহাসকে উচ্চাঙ্গ সাহিত্যের আসনে নিয়ে গিয়েছিলেন সৃজনশীল দক্ষতায়।

পাঁচ খণ্ডে হিস্টোরি অব রোম


 

তার পুরো নাম ক্রিস্তিয়ান ম্যাথিয়াস থিওডর মমসেন। নভেম্বর মাসটি তার জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ১৮১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি ডেনমার্কের গার্ডিন শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯০৩ সালের ১ নভেম্বর ৮৫ বছর বয়সে জার্মানিতে পরলোকগমন করেন।

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরের বছরই তিনি মারা যান। নোবেল কমিটি তাকে পুরস্কার দিতে বিলম্ব করলে তিনি এ পুরস্কার আর পেতেন না। কারণ নোবেল পুরস্কার মরণোত্তর দেওয়া হয় না। এ কারণে যথাসময়ে অর্থাৎ জীবিতকালে পুরস্কার না পাওয়ায় বিশ্বের বহু প্রতিভাবান ও যোগ্য মানুষ নোবেল বঞ্চিত হয়েছেন। মমসেনের সৌভাগ্য যে তিনি মৃত্যুর আগের বছর এ পুরস্কার পেয়ে নিজের অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতি লাভ করতে সক্ষম হন।

মমসেনের কৈশোর ও ছাত্রজীবন কাটে হলস্টেইন শহরে। ইউরোপের নানা শহরে বসবাসের অভিজ্ঞতা তিনি পেয়েছিলেন। তার মা-বাবা দুজনই পণ্ডিত ছিলেন। তার জীবনের মূল শিক্ষা লাভ করেন তার বাবা জেমস মমসেনের কাছ থেকে। বাবার কাছ থেকেই তিনি গ্রিক, জার্মান, ফরাসি, ইংরেজি ইত্যাদি ইউরোপীয় ভাষা শিখেছিলেন।

মমসেনের বাবা সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। ফলে বাল্যকালেই মমসেন সাহিত্যের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই তিনি শেক্সপিয়ার, বায়রন, ভিক্টর হুগো প্রমুখের সাহিত্যকর্ম পড়ে শেষ করে ফেলেন। এমনকি অল্প বয়সেই তিনি এইসব বিখ্যাত সাহিত্যিকদের বেশ কিছু লেখা জার্মান ভাষায় অনুবাদও করে ফেলেন। এভাবে পিতার সাহচর্যে ও পারিবারিক পরিবেশে তিনি বিশ্ব এবং জার্মান সাহিত্য ও দর্শনের জগতে প্রবেশ করেন একেবারে অল্প বয়সেই।

১৮৩৮ সালে থিওডর মমসেন ডেনিস বিশ্ববিদ্যালয় কিইল-এ ভর্তি হন। আগে ইতিহাসে পড়লেও এখানে এসে ইতিহাসে তেমন আগ্রহ পাননি তিনি। পড়াশোনা শুরু করেন আইন বিষয়ে। পড়াশোনায় তিনি বিশেষ সাফল্য অর্জন করেন। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে এ বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপনা শুরু করেন তিনি।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তী সময়ে তিনি রোমান আইন সম্পর্কে বিশেষ গবেষণা করেছিলেন। এই গবেষণা করাকালীন তিনি বুঝতে পারেন, রোমান আইনের ক্রমবিবর্তনের চিত্র প্রাচীন শিলালিপিতে পাওয়া যাওয়ার কথা। এই আগ্রহের বশেই একসময় প্রাচীন মুদ্রা ও শিলালিপি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এসময় তার মনে শিলাবিদ বা এপিগ্রাফবিদ হওয়ার সাধ জেগেছিল, ঐতিহাসিক হওয়ার তেমন কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু রোমান আইনের মূল অনুসন্ধান করতে করতে ঐতিহাসিকে পরিণত হন তিনি। এ হিসেবে তিনি আইনের অধ্যাপক হয়েও রোমের সমৃদ্ধ ইতিহাস রচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও লাভ করেন।

ইতিহাস রচনার জন্য মমসেন ইতালিতে গিয়েছিলেন। মূলত আইন পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি বৃত্তি দিয়ে তিন বছরের জন্য ইতালিতে পাঠিয়েছিল। সেখানে গিয়ে প্রাচীন রোমান শিলালিপি ও মুদ্রা সংশ্লিষ্ট প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে রচনা করেন ‘করপাস ইনস্ক্রিপশন্স লাতিনেরাম’ নামক ১৬ খণ্ডের একটি বইসিরিজ। এই বইয়ের প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৩৩ সালে। আর ১৬তম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬৩ সালে। গভীর ধৈর্য্য ও অধ্যাবসায়ের শক্তিতে সুদীর্ঘ ৩০ বছরের কঠোর পরিশ্রমে তিনি বইটির ১৬টি খণ্ডের প্রকাশনা শেষ করেন, যা ইতিহাসের ক্ল্যাসিক বা ধ্রুপদী বইয়ের মর্যাদা পেয়েছে।

১৮৪৮ সালে মমসেন জার্মানির লাইপেজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক মনোনীত হন। এরপর ১৮৫২ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে চলে যান তিনি। জুরিখে থাকার সময়ই তিনি সিদ্ধান্ত নেন নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে রোমের ইতিহাস আবার লিখবেন। এই উদ্দেশ্য নিয়েই তার অবিরাম অধ্যবসায় শুরু হয়। অবিরাম লিখতে থাকেন পাতার পর পাতা। এসময় তিনি রাতে মাত্র ২ ঘণ্টা ঘুমাতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “রাতে যা পড়ি, সকালেই তা দ্বিগুণ হয়ে যায়।”

এই অবর্ণনীয় পরিশ্রমের মাধ্যমে মমসেন নতুন ইতিহাস গ্রন্থ ‘হিস্ট্রি অব রোম’ রচনা করেন। ১৮৫৪ সালে বইটির প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইটি পড়ে সমগ্র ইউরোপের সৃজনশীল লোকজন অভিভূত হয়ে পড়ে। মমসেনের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশে। তার এই বইয়ের প্রথম তিনটি খণ্ডের বিষয়বস্তু ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দ থেকে শুরু করে দিগ্বিজয়ী বীর জুলিয়াস সিজার কর্তৃক উত্তর আফ্রিকার সেনেট সৈন্যদের পরাজয় পর্যন্ত সমগ্র রোমের ইতিহাস বৃত্তান্ত।

১৮৫৪ সালে মমসেন আবার জার্মানিতে ফিরে আসেন এবং প্রুশিয়ার ব্রাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নিযুক্ত হন। এ সময়ই তিনি সেখানকার এক পুস্তক ব্যবসায়ীর কন্যা মেরি রেইমারকে বিয়ে করেন। পেশাগত কারণে তিনি পারিবারিক জীবনে খুবই কম সময় দিতে পেরেছিলেন এবং তার পরিবার সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়।

মমসেন ১৮৫৮ সালে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোমান ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপকের পদে যোগ দেন। কর্মজীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি জার্মানির প্রগতিশীল দলের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৬৩ থেকে ১৮৬৬ এবং ১৮৭৩ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত প্রুশিয়ার সংসদের সদস্য পদে বহাল ছিলেন তিনি।

এ সময়কাল তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৮৭০ সালে সেডানে প্রুশিয়া বা তখনকার জার্মানি ও ফ্রান্সের যুদ্ধে ফ্রান্স পরাজিত হয়। ১৮৭১ সালে ফ্রাঙ্কফুর্টে সম্পাদিত এক অপমানজনক চুক্তিতে ফ্রান্স স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। এতে জার্মানির প্রকৃত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ঐক্যের নির্মাতা ছিলেন অটো ফন বিসমার্ক। এই ঐক্যের পর মমসেন জার্মান ইম্পেরিয়াল পার্লামান্টের (রাইখস্ট্যাগ) সদস্য হন। তখন তিনি বিসমার্কের অভ্যন্তরীণ রীতি-নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন এবং এ কারণে তাকে কারাগারে অন্তরিন থাকতে হয়েছিল।

বিপুল কর্ম ও বিচিত্র জীবনধারার অধিকারী মেধাবী ঐতিহাসিক থিওডর মমসেন ১১৬ বছর আগে ১৯০৩ সালের ১ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করলেও ইতিহাসচর্চার অঙ্গনে তিনি আছেন সমাসীন।

   

অখণ্ড আকাশ



শরীফুল আলম
অখণ্ড আকাশ

অখণ্ড আকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিন তোমার সব অবহেলা আমি দ্বিগুণ করে
তোমাকেই ফিরিয়ে দেব,
তোমার সাবলীল ভঙ্গির ঘাতক সময় গুলো
আমাকে এখনও হানা দেয় ঘুমের ঘোরে ,
এ কেমন তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি ?
লতার মত তুমি জড়িয়ে থাকো সময়ের শূন্যতায়
প্রবল বাতাসে হৃদয় কেঁপে উঠে ,
আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য কোথায় , আমি তা জানিনা
হয়ত ভুলে যেতে হবে একদিন স্বপ্নের গল্প গুলো
তোমার ছবির ভাষা
রৌদ্রের গন্ধে ভরা বেবাক আকাশ ।

সংঘাত সরালে চেনা যায় অন্য আরেকটি সংঘাত
ভালোবাসার নিপুণ প্রতিশ্রতি , অবিনশ্বর আগামী ,
বৈপরিত্ব যেটুকু ছিল
তা তোমার বিভ্রমে ভরা নিগূঢ় রহস্য
আলতো ছাপ যেটুকু তুমি দিয়েছ আমায় তা লুকোবে কি করে ?
দায়সারা , চেনাশোনা , আধাচেনা , অচেনা রয়েই গেলে তুমি
শূন্য এ বুকে বিশাল আঁধার ঢেলে
মৃদু জল ঢেলে তুমি চলে গেলে ।

ফ্যাকাশে মুহূর্ত গুলো
প্রত্যহিক নিয়মেই এখন চলে ,
তবুও মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় জীবনানন্দ , রবীন্দ্রনাথ
পদ্মা , মেঘনা , যমুনা ।

তুমি নিরুদ্দেশ হবে হও
ষোড়শী চাঁদের আলো এখনও আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়
তাই জলের অতলে এখন আর খুঁজিনা সুখের মুক্তা ,
এ বুকের তলায় এখনও এক অখন্ড আকাশ ,
পূর্ণিমা নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না
অমবস্যার দুভাগ নিয়েও কোন কথা হবেনা
তবুও তুমি শচীন , মান্না হয়ে থেকো আমার ,
একদিন সকল অভিমান ভুলে
নিশ্চয় তুমি হাঁটু গেড়ে বসবে আমার সম্মুখে
জমানো কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ।

-

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

;

বার্তা২৪.কম’র বর্ষপূর্তি বিশেষ সাময়িকী

‘সপ্তবর্ণ’-এ অভিভূত মুহম্মদ জাফর ইকবাল যা বললেন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭ম বর্ষপূর্তি ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের শীর্ষ মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম প্রকাশ করেছে বিশেষ সাময়িকী ‘সপ্তবর্ণ’। এতে লিখেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান লেখকরা। সপ্তবর্ণে স্থান পেয়েছে শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধও।

মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার নিউজপোর্টালবার্তা২৪.কম’র বিশেষ সাময়িকীর কপি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল এই সংবাদমাধ্যমটির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। সপ্তবর্ণ সম্পাদক ও বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসময় তিনি সমকালীন সংবাদপত্রের বিবর্তন নিয়েও কথা বলেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বার্তা২৪.কম সপ্তমে পৌছেছে। আমার হিসেবে প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে ক্রুশিয়াল। কেউ যদি প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম করতে পারে, তখন ধরে নেওয়া যায়, হ্যা-পরবর্তী সময়টিতে তারা সাকসেসফুললি এগিয়ে যাবে।’

খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘বার্তা২৪.কম এর বিশেষ সাময়িকী সপ্তবর্ণ আমার হাতে। আমি চোখ বুলিয়ে দেখেছি, এতে কারা লিখেছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এত লেখকের এতগুলি লেখা তারা সুন্দর করে যত্ন নিয়ে একত্র করেছে। শুধু তাই না, আমার মত যে কোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-পুরো বিষয়টি আসলে ফোর কালার।’

‘খুবই সুন্দর, চমৎকার ঝকঝকে। চমৎকার সব ছবি। আমি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি লেখাগুলো পড়ার জন্য। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই, এত চমৎকার প্রকাশনা করার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়, যখন কোন একটা চমৎকার কিছু কেউ দেখে, তখন মনে করতে হবে এটা এমনি এমনি হয় নাই। ধরেই নিতে হবে এর পেছনে অনেক মানুষের অনেক শ্রম আছে। আমি অভিনন্দন জানাই তাদের, যারা এমন একটি সুন্দর প্রকাশনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে রাজি আছেন, যখন যখন মানুষদের কাগজের কিছু দেখার আর সময় নাই’-বলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আগামীতে বার্তা২৪.কম-কে এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালনের আহ্বানও জানান নন্দিত এই লেখক।

বার্তা২৪.কম টিমের সঙ্গে কথা বলছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

যে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা যেখাবে বড় হয়েছি, এখন সময়টা আসলেই পাল্টে গেছে। আমরা কাগজের খবর দেখে অভ্যস্ত। সবকিছু আমরা কাগজে পড়তাম। এখন যেটুকু কাগজে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আসে ইন্টারনেটে-ডিজিটাললি। সেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন। এবং আমরা যারা কাগজে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই জিনিসটি গ্রহণ করতে এখনও সময় লাগছে। যেহেতু বেশির ভাগ তথ্যই ডিজিটাললি আসছে, এর ভেতরে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার একটা ব্যাপার আছে।’

‘মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় অনেকটা অশিক্ষিতি মানুষের মতো। যেহেতু আমরা কাগজে পড়ে অভ্যস্ত, যখন ডিজিটাললি কিছু দেখি-প্রশ্ন আসে এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ যারা এটা তৈরি করছে, প্রকাশ করছে তারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে পারবে? সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কিনা? আমি দেখছি, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ সংবাদপত্র থেকে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে তার থেকে অনেক বেশি নেয় বিভিন্ন স্যোশাল নেটওয়ার্ক থেকে। এখানে একজন আরেক জনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে, এবং যে যে ধরণের তথ্য চায়, তাকে সে ধরণের তথ্যই দেওয়া হয়। ঘুরে ফিরে সে ওই ধরণের চক্রের ভেতরে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই একজন সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা যদি, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে-এটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যে জিনিসটা খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি করে, পপুলার-সেই জিনিসই যদি প্রচার করি তাহলে কিন্তু হবে না। নির্মোহভাবে আমাকে এমন তথ্য দিতে হবে যেটা বিশ্বাস করতে পারি। আমি অপেক্ষা করছি সেজন্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখি আর নিজেকে প্রশ্ন করি এটি কতটুকু বিশ্বাস করতে পারব।’

;

ভারতে যুগল সম্মননা প্রাপ্তিতে গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে যুগল সম্মাননা লাভ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা প্রদান করল শীর্ষ নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ইফতার ও সংবর্ধনায় ঢাকা পদাতিকসহ বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী ছাড়াও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। 

ইফতারের পর গোলাম কুদ্দুসকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা পদাতিকের সদস্যরা। তাকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে ঢাকা পদাতিকের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গোলাম কুদ্দুস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন নাদের চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহসহ অন্যরা। 

বক্তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গোলাম কুদ্দুসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর এই যুগল পদ প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানান। আগামী দিনেও বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।  

সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও হাওড়ায় দুটি সম্মাননায় ভূষিত হন লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। গত ১৮ মার্চ (২০২৪) কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাঘরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছের হাতে বঙ্গবন্ধু পদক তুলে দেন কলকাতার প্রবীণ কবি ও লেখক, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়া শ্রী পংকজ সাহা ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব রঞ্জণ সেন।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ(২০২৪) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কবি সাতকোর্নী ঘোষ সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘কলকাতার যীশু’র পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য গোলাম কুদ্দুছকে ‘একুশে স্মারক সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। 

;

জামাই



হানিফ ওয়াহিদ, রম্য লেখক
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ইফতার শেষ করে নামাজ শেষে হালকা একটা ঘুম দিয়েছিল রাকিব। হঠাৎ সুন্দরী শালী রিয়ার ভিডিও কল- কী করেন দুলাভাই?

রাকিব বিরক্তি চেপে একটা হাই তুলে বললো- ঘুমাই।

রিয়া খলবল করে বললো, ঘুম ভাঙছে?

- না, এখনো ভাঙে নাই।

ঠিক আছে। আমি আপনার ধরে হাত ধরে টান দিলাম- হেঁইয়ো! এইবার ভাঙছে!

- হ্যাঁ। কয়মাস?

রিয়া অবাক হয়ে বললো- কী, কয়মাস?

- পোলা না মাইয়া?

কী আবোলতাবোল বকেন দুলাভাই! গাঁজা দিয়ে ইফতার খাইছেন! নাকি শরবতের পরিবর্তে বোতল টানছেন!

রাকিব বিশাল হাই তুলতে তুলতে বললো, তোমার পেট উঁচা দেখা যায়!

রিয়া এবার হেসে ফেললো। আরে ভাই, এগুলো ইফতারি!

- ওরে সর্বনাশ! এক গ্রামের ইফতার তুমি একাই সাবাড় করেছো! এইটা পেট না কলসি! বাদ দেও, অসময়ে ফোন। কাহিনী কী?

আপা কই?

- আমার শত্রুর কথা বলছো! সে বাচ্চাদের অন্য রুমে পড়াতে বসেছে।

আপা যেন না জানে। আমাকে কিছু টাকা লোন দিতে হবে। আর্জেন্ট দরকার!

- লোন যে নিবা, বন্ধক কী রাখবা?

আপাতত আমার বোনকে বন্ধক রাখেন।

বন্ধকি পছন্দ হয় নাই। শোনো রিয়া, তুমি এ পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কত টাকা লোন নিছো জানো? আমি কি বিশ্বব্যাংক? কখনো কোনো টাকা ফেরত দিছো? তুমি তো আমার কাছে ঋণখেলাপি হয়ে গেলা…

বাজে আলাপ বন্ধ করেন তো‍! লোকজন সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েই ফেরত দেয় না! আর আপনি তো আমার দুলাভাই। দুলাভাইয়ের টাকায় শালীদের হক আছে। আপনার কাছে সারাজীবন ঋণখেলাপি হয়ে থাকতে চাই।

- টাকা পাবে না।

কেন?

- কারণ, আমি চাই না, তুমি সারাজীবন আমার কাছে ঋণখেলাপিদের একজন হয়ে থাকো। তোমার একটা ইজ্জত আছে নাহ!

আমার ইজ্জত নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আর টাকা কি মাগনা দেন! বিনিময় পান না!

রাকিব অবাক হলো- কী বিনিময়?

এই যে কথায় কথায় গালি দেন!

রাকিব যেন আকাশ থেকে পড়লো। হায় আল্লাহ! আমি তোমাকে কখন গালি দিলাম?

এই যে কথায় কথায় শালী বলেন, এটা গালি নাহ!

এইবার রাকিব হো হো করে হেসে ফেললো। মেয়েরা উল্টাপাল্টা কথা বলবে, এটাই নিয়ম। বাম পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা, মেয়েদের কথাবার্তাও তেমনি বাঁকা। এদের কথার ঠিক-ঠিকানা নাই।

- শোনো রিয়া, এবার মোবাইল রাখি। মশা আমাকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে কচকচ করে কামড়িয়ে খাচ্ছে।

মশা আপনাকে কচকচ করে খাবে কেন! আপনি কি শসা? বাসায় মশার কয়েল নাই?

আছে তো! ওই যে দেখছি, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর একটা মশা রাজা-বাদশার হালে বসে আছে। অথচ দোকানদার বলেছিল, মশা না গেলে টাকা ফেরত!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- গিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন।

- তবেই হয়েছে! ব্যাটা দোকানদার আমার শালীর হাজবেন্ড কি না! টাকা ফেরত চাহিবামাত্র তৎক্ষণাৎ বের করে দেবে!

রিয়া এবার দম ফাটিয়ে হাসতে লাগলো। আপনি খুবই মজার মানুষ দুলাভাই!

- বইন রে, একমাত্র তুমিই আমাকে বুঝতে পারলা! তোমার বোন তো আমাকে হাঁদারাম গাধা মনে করে। তাকে কীভাবে বোঝাই, মজার মানুষই ভালো! বেজার মানুষ কেউ পছন্দ করে না। অবশ্য তোমার বোন হচ্ছে উল্টা। তার ধারণা, বোকা মানুষরা অকারণে হা হা হি হি করে! অথচ হাসলে মানুষের মন ভালো থাকে। যাক গে, তোমার হাজবেন্ড কই?

সে শুয়ে শুয়ে তার ফিউচার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

- বাহ! ভালো ছেলে। ফিউচার আছে। এখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মোটেই ভালো ছেলে নয়, দুলাভাই। তার মোবাইল ফোন এখন চার্জে। তাই, টাইম পাস করছে। তার ভবিষ্যত অন্ধকার! বোকার হদ্দ! আপনার ধারেকাছেও সে নাই। তাকে আমি সারাক্ষণ বোঝাই- আমার দুলাভাইকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো। আপনি যদি হন মহারাজ, সে হবে ফকিরবাজ!

শুধু আমি বলেই তার সংসার করে গেলাম, অন্য কেউ হলে… আমি তাকে বলি, এত মোবাইল টিপে কী সুখ পাও? সে আমাকে কী বলে জানেন?

- না, কী বলে?

সে বলে, মোবাইল টেপার মতো সুখ নাকি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টা নাই!

রাকিব হাসতে লাগলো। কী বলো এসব! আর এই ডায়ালগ কীভাবে শিখলে? এটা তো তোমার আপার প্রতিদিনকার ডায়লগ!

কোনটা?

- এই যে, আমি বলেই তোমার সংসার করে গেলাম… এই কথাটা আমাকে তোমার আপা প্রতিদিন কমছেকম তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়। তো, তুমি যে তোমার হাজবেন্ডকে পছন্দ করো না, আবার তার সব কাজই অনুসরণ করো! মাথা ঘোরায় না! বমি বমি লাগে না!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- আপনিও তো আপার বদনাম করতেছেন…

- তোমার আপার বদনাম করার সাহস আমার নাই রে বইন! সে মনে করে আমি বোকার হদ্দ। আমার বর্তমান ভবিষ্যত কিছুই নাই। তোমার হাজবেন্ডের ভবিষ্যত ফিলিপস বাতির মতো ফকফকা! তার দুঃখ, তোমার হাজবেন্ডের মতো একটা এত ভালো ভদ্র হাজবেন্ড কেউ পায় নাই! তার কপাল নাকি খুবই খারাপ!

রিয়া এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ও মা! তাই! ওই কবিতাটা শোনেন নাই, দুলাভাই! ওই যে, নদীর এপাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়েতে যত সুখ আমার বিশ্বাস!

রাকিব মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো- আমি তো জানতাম, তোমার হাজবেন্ড আসলেই ভালো একজন ছেলে। বেশ অমায়িক! তুমি আবার তার সাথে ঝগড়া করো নাকি! কী নিয়ে ঝগড়া করো তোমরা?

রিয়া হাসতে হাসতে বললো, মেয়েদের ঝগড়া করতে কোনো কারণ লাগে না দুলাভাই! শুধু একটা হাজবেন্ড থাকলেই চলে!

রাকিব অবাক হয়ে বললো- আরে তাই তো! তার বউও তো অকারণেই তার সাথে ঝগড়া করে!

তাহলে কি সব মেয়েই এমন!

;