জন মিল্টন, অন্ধত্ব যাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
বিশ্বসাহিত্য থেকে মিল্টনের প্রাসঙ্গিকতা কখনো ফুরাবে না

বিশ্বসাহিত্য থেকে মিল্টনের প্রাসঙ্গিকতা কখনো ফুরাবে না

  • Font increase
  • Font Decrease

সপ্তদশ শতক। রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় টানাপোড়েন চলছে গোটা ইউরোপ জুড়ে। ঠিক সেই সময়েই আগমন ঘটল এক নতুন সুরের। জন মিল্টন—বিশ্বসাহিত্যের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী মহাকবি। বলা হয়, শুধুমাত্র প্যারাডাইজ লস্ট যতটা প্রভাব ফেলেছে তার পরবর্তী পাশ্চাত্য সাহিত্যকর্মে; হোমারের ইলিয়াড এবং অডিসি ছাড়া আর কোনো লেখাই ততটা ফেলতে পারেনি।

১৬০৮ সালের ৯ ডিসেম্বর। লন্ডনের প্রোটেস্ট্যান্ট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জন মিল্টন। বলে রাখা ভালো, তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন ক্যাথোলিক। পিতা মিল্টন সিনিয়র প্রথম ক্যাথোলিক থেকে প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদে দীক্ষিত হন। শিশু মিল্টন শিক্ষালাভ করেন টমাস ইয়ং নামের জনৈক প্রেসবিটেরিয়ান মতাবলম্বীর কাছে থেকে। খুব সম্ভবত এই শিক্ষকের প্রভাবই পরবর্তীকালে তার যুগান্তকারী ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহযোগিতা করে।

হাতেখড়ি শেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। ধ্রুপদী ল্যাটিন এবং গ্রিক ভাষায় অর্জন করেন দক্ষতা। পড়াশোনা করেন ক্যামব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে। পড়াশোনার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করলেও টিউটর বিশপ উইলিয়াম চ্যাপেলের সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল না।

১৬২৯ সালে মেধা তালিকায় চতুর্থ অবস্থান নিয়ে গ্রাজুয়েশন সমাপ্তি করেন মিল্টন। চেয়েছিলেন এংলিকান চার্চে যাজক হিসাবে যোগ দিতে। অনেকটা সে কারণেই মাস্টার্সের ডিগ্রি নেবার আগ পর্যন্ত থেকে গেলেন ক্যামব্রিজেই। সত্যি বলতে ল্যাটিন নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং পড়াশোনার পরিবেশ মিল্টনের মনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নিতে দেয়নি। উপরন্তু ঘৃণা করতেন মারাত্মকভাবে। তবে দুয়েকজন বন্ধু যে জোটেনি, তা না। এরই মধ্যে লেখালেখিতে হাত পাকাতে থাকলেন। প্রথম প্রকাশিত লেখা ‘এপিটাফ’ নামে ছোট্ট একটা কবিতা। লেখা হয়েছিল শেক্সপিয়ারকে প্রশংসা করে।

মিল্টন বুঝতে পেরেছিলেন; বিশ্ববিদ্যালয় তার ক্ষুধা পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। তাই মাস্টার্স শেষ করার পর টানা ছয় বছর নিজের মতো করে পড়াশোনায় নিমগ্ন থাকলেন। আধুনিক ও প্রাচীন লেখাগুলোর পাশাপাশি সাহিত্য, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, ভাষাবিজ্ঞান, অলঙ্কারশাস্ত্র, বিজ্ঞানসহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জন করলেন। মূলত এই সময়ে তিনি কবিতার দিকে ক্রমশ ঝুঁকে পড়েন।

পরিবারে মেয়েদের সাথে মিল্টন


 

১৬৩৮ সালের মে মাস। মিল্টন ইউরোপে ভ্রমণে বের হলেন। ফ্রান্সের প্যারিস হয়ে পৌঁছালেন ইতালিতে। জুলাইতে তিনি ফ্লোরেন্সে গিয়ে উঠলেন; সেখানকার বুদ্ধিজীবী আর জ্ঞানীরা বেশ শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করলেন তাকে। একমাস পরে চলে গেলেন রোমে। সিসিলি আর গ্রিসেও যেতে চেয়েছিলেন; কিন্তু ১৬৩৯ সালের গ্রীষ্মে বন্ধুর মৃত্যুর কারণে লন্ডন ফিরে আসতে হলো।

লন্ডনে তখন ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত চলছে। তা মিল্টনকেও প্রভাবিত করল এক পর্যায়ে। ধর্ম আর শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনার স্বার্থে কলম তুলে নিলেন হাতে। ১৬৪২ সালে ১৬ বছর বয়সের বালিকা ম্যারি পাওয়েলকে বিয়ে করে নিজেকে স্থির করতে চাইলেন। কিন্তু অসম এই বিয়ে খুব একটা সুখী হতে দেয়নি তাকে। ম্যারি তিন বছরের জন্য চলে যায় তাকে ছেড়ে। পরে ফিরে আসলেও টানাপোড়েনের সমাধান হয়নি। তাদের ঘরে চারটি সন্তানের জন্ম হয়। ছেলেটি শৈশবে মারা যায়। বাকি তিন মেয়ে বড় হয়ে উঠেছে চোখের সামনেই।

মিল্টন লেখালেখি করতেন প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে


 

ইংল্যান্ডে তখন গৃহযুদ্ধ চলছে। মিল্টন তার লেখনীশক্তিকে কাজে লাগান সেই সুযোগ পেয়ে। তিনি ছিলেন প্রজাতন্ত্রপন্থী। সরকারের পক্ষ থেকে ডেকে নেওয়া হয় পররাষ্ট্র বিভাগে, বিশেষ করে ল্যাটিনের কাজ করার দায়িত্ব দিয়ে। ১৬৫২ সালে ইংল্যান্ডের মানুষের পক্ষ নিয়ে ল্যাটিনে লিখলেন Defensio pro Populo Anglicano গ্রন্থ। দুই বছর পরে লিখলেন অলিভার ক্রমওয়েলের সমর্থনে। যদিও তিনি ১৬৪৫ সালেই তার কবিতার সংকলন প্রকাশ করে ফেলেছিলেন। তথাপি তার কবি পরিচিতিটা এই সময়ে ঢাকা পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা এবং লেখালেখির মধ্যে।

ঠিক এই বছরেই মিল্টন বলতে গেলে অন্ধই হয়ে পড়লেন। তারপরেও গদ্য আর পদ্য আকারে বের হতে থাকল তার অনুভূতি। লেখার কাজে সাহায্য করার জন্য রাখা হয়েছিল লোক। সবচেয়ে বিখ্যাত সনেট—“When I Consider How My Life Is Spent,” লেখা হয়েছে এই সময়েই। ১৬৫৬ সালে ক্যাথরিন উডকুক নাম্নী এক রমণীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বছর দুই পরে সন্তান প্রসবকালে তার স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে। মারা যায় সেই শিশু কন্যা সন্তানটিও।

অন্ধত্ব তাকে ঠেকাতে পারেনি


 

১৬৫৮ সাল। অলিভার ক্রমওয়েল মৃত্যুবরণ করলে ইংল্যান্ডের প্রজাতন্ত্র আবার হুমকির মুখে পড়ে। মিল্টন তার পূর্বতন আদর্শ মোতাবেক প্রজাতন্ত্রের পক্ষেই কথা বলে যাচ্ছিলেন; যদিও তা ফলপ্রসূ হয়নি। আবার প্রতিষ্ঠিত হলো রাজতন্ত্র। ১৬৬০ সালে রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর মিল্টন বাধ্য হলেন গোপনে চলে যেতে। তার বিরুদ্ধে তখন গ্রেফতারের পরোয়ানা আর সেই সাথে লেখাগুলোকে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ। অবশ্য খুব শীঘ্রই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে আর তাকে জেলের ভয়ে পালাতে হয়নি। আরো একবার বিয়ে করলেন ২৪ বছরের নারী এলিজাবেথকে। শোনা যায়, এলিজাবেথ ছিল তারই মেয়ের বন্ধু।

জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি প্রবন্ধ আর পদ্য লেখাতে মনোযোগ দেন। দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা এবার তার কলমের নিবে পরিণত অবস্থায় বের হতে শুরু করে। ১৬৬৪ সালে অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখেন তার সবচেয়ে বিখ্যাত মহাকাব্য ‘প্যারাডাইজ লস্ট’। স্বর্গ থেকে মানুষের পতনকে তুলে ধরলেন এক অনন্য ভাষা ও চিন্তার মিশেলে। ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের মাস্টারপিস হিসাবে গ্রহণযোগ্যতা পায় মহাকাব্যটি। লুসিফারের ত্রিমাত্রিক বৈশিষ্ট্য উপস্থাপনের জন্য উন্মোচিত হয় তার খ্রিস্ট্রীয় বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা। হন নিন্দিত ও নন্দিত। সেই সূত্র ধরেই লিখেন ‘প্যারাডাইজ রিগেইনড’।

প্যারাডাইস্ট লস্ট-এ প্রতিফলিত হয়েছে তার ধর্ম-দর্শন আর শিল্পবোধ 


 

১৬৭৪ সালের ৮ নভেম্বর কিডনি সমস্যায় মৃত্যুবরণ করেন মিল্টন। কিন্তু তার চিন্তাধারা ইংরেজি কবিতাকে দেখিয়েছে নতুন পথ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার লেখা অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছে কবিদের কল্পনায়। তাকে আসন দেওয়া হয়েছে শেক্সপিয়ারের পাশেই। আধুনিক বিশ্বের যে প্রান্তেই প্রথা ভাঙার আন্দোলন ওঠে; সেখানেই নিজের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে হাজির হয় মিল্টন আর তার সাহিত্যকর্ম।

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;