ভলতেয়ার : ফরাসি চিন্তার সৌরভ



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ভলতেয়ার [নভেম্বর ২১, ১৬৯৪-মে ৩০, ১৭৭৮]

ভলতেয়ার [নভেম্বর ২১, ১৬৯৪-মে ৩০, ১৭৭৮]

  • Font increase
  • Font Decrease

জগৎস্বীকৃত ফরাসি সৌরভের মতোই প্রসিদ্ধ ফরাসি চিন্তা ও দর্শন। ইউরোপ কেন্দ্রিক দার্শনিক চিন্তাভাবনা, যা পশ্চিমা বিশ্বের মানসজগৎ গঠন করেছে, তাতে মূল হিস্যা ফরাসি, জার্মান ও ইংরেজদের। যদিও ইউরোপের আদি চিন্তাধারার বিকাশ হয়েছে প্রাচীন গ্রিক ও রোমে। তবে আধুনিক ইউরোপীয় চিন্তা ও দর্শনের সূতিকাগার ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ব্রিটেন।

ফরাসি চিন্তাজগতে আলোদায়ী অসংখ্য দিকপালের নাম উল্লেখ করা যায়। এদের মধ্যে রুশো, দেকার্ত, রম্যাঁ রোলাঁ, ভলতেয়ার, সার্ত্র অন্যতম। ফরাসি জ্ঞানদীপ্তি আধুনিক জীবনবোধ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার উন্মেষ ঘটায় সেদেশে, যার প্রত্যক্ষ অভিঘাতে ১৭৮৯ সালে সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতার অম্লান আদর্শে সম্পন্ন হয় ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লব। নির্মম বাস্তিল দূর্গ আর জীবন-সংহারী গিলোটিনের ভয় উপেক্ষা করে বিপ্লবী ফরাসি জনতা স্বৈরাচারী রাজা ষোড়শ লুইকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

ফরাসি বিপ্লব ইউরোপ এবং নতুন বিশ্বের ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলে মানব ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের নির্ণায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এটি সামন্তবাদের অবসান ঘটায় এবং পৃথকভাবে সংজ্ঞায়িত ব্যক্তিগত মুক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করেছিল। এনেছিল গণমানুষের অধিকারের সুবাতাস। ফরাসি বিপ্লব বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিল ভলতেয়ারের চিন্তা ও দর্শনের দ্বারা।

ভলতেয়ার নামে সমধিক পরিচিত হলেও তাঁর মূল নাম ফ্রঁসোয়া মারি আরুয়ে। জন্ম ২১ নভেম্বর ১৬৯৪ সালে আর মৃত্যু ১৭৭৮ সালের ৩০ মে। ভলতেয়ার তাঁর ছদ্মনাম। এ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। তিনি ছিলেন ফরাসি আলোকময় যুগের একজন লেখক, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক।

ভলতেয়ারের বিশেষ কৃতিত্ব ছিল তাঁর অসাধারণ বাকচাতুর্যে (wit) ও দার্শনিক ছলাকলায় (philosophical sport)। বাগ্মী হিসাবে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তিনি নাগরিক স্বাধীনতার স্বপক্ষে, বিশেষত ধর্মের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

স্বৈরাচারী রাজা ষোড়শ লুইয়ের দুঃশাসনে তিনি ফ্রান্সের কঠোর সেন্সর আইন উপেক্ষা করে সামাজিক সংস্কারের অন্যতম প্রবক্তা রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। খ্রিস্টান গির্জা ও তৎকালীন ফরাসি সামাজিক আচার ছিল তাঁর ব্যঙ্গবিদ্রুপের লক্ষ্য। নাগরিকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি অভিজাত শাসকচক্রের কঠোর সমালোচনা করেন।

ভলতেয়ারের উদ্দেশ্য ছিল গির্জার ভণ্ডামি, মুর্খতাকে জনসন্মুখে তুলে ধরা


ভলতেয়ারের জন্ম ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস শহরে। তার বাবা ফ্রঁসোয়া আরুয়ে (১৬৫০ - ১৭২২) ছিলেন নোটারি ও সরকারের ট্রেজারি দপ্তরের এক সাধারণ কর্মকর্তা। মা মারি মার্গ্যরিত দোমার (১৬৬০ - ১৭০১) ছিলেন ফ্রান্সের পোয়াতু প্রদেশের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। ভলতেয়ার তাদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।

১৭০৪ থেকে ১৭১১ সাল পর্যন্ত ভলতেয়ার কোলেজ লুই-ল্য-গ্রঁ নামক বিদ্যালয়ে জেসুইট পাদ্রিদের কাছে পড়াশোনা করেন। এখানেই তিনি প্রাচীন লাতিন ও গ্রিক ভাষা শেখেন। পরবর্তী জীবনে ভলতেয়ার ইতালীয়, স্পেনীয় ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।

স্বৈরাচার, গির্জা তথা খ্রিস্টধর্মকে ভলতেয়ার ফ্রান্সের সার্বিক বিকাশে বাধা হিসাবে দেখতেন এবং সে কারণেই তাঁর রচনাবলী স্বদেশে নির্মমভাবে সমালোচিত হয়েছিল। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল গীর্জার ভণ্ডামি, মুর্খতাকে জনসন্মুখে তুলে ধরা। তিনি মানুষের অজ্ঞতা, মূর্খতা, প্রতারণা, অন্যায়-অবিচার, উৎপীড়নকারীকে ঘৃণা করতেন। এছাড়া ইসলাম ধর্ম ও তার প্রচারক হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। ইহুদি ধর্ম নিয়েও তার নেতিবাচক মন্তব্য রয়েছে। বিদ্রুপধর্মী লেখা ‘রিজেন্ট’-এর জন্য ভলতেয়ার বাস্তিলের কারাগারে বন্দী হন।

আঠারো শতাব্দীতে ভলতেয়ারকে ফ্রান্সের বিশিষ্টজনরা হোমার ও ভার্জিলের সমকক্ষ বলে প্রশংসা করেন। তবে ফ্রান্সের সমাজ ও রাজ পরিবারের সঙ্গে ঝামেলার কারণে ১৭২০ সালে ইংল্যান্ডে চলে যান ভলতেয়ার।

সেখানে তিনি নির্বাসন যাপন করেন। ইংল্যান্ডে ভলতেয়ার ছিলেন অখ্যাত ও অপরিচিত কবি। তাই নানা কৌশলে অভিজাত মহলের সুনজরে আসার চেষ্টা করেন তিনি। তিনি রানী ক্যারোলিনকে উদ্দেশ্য করে একটি কবিতা লেখেন। তাই ব্রিটিশ রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে দুইশ পাউন্ড ভাতাও পেতেন।

ভলতেয়ারের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে দুই হাজার বই ও ২০ হাজার চিঠি। সম্প্রতি তার ১৪টি লেখা নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, দ্য এইজ অব লুই, এসে অন দ্য কাস্টমস এ্যান্ড দ্য স্পিরিট অব দ্য নেশনস, জাডিগ ইত্যাদি।

ফরাসি জাতির চিন্তার জগতে তার প্রভাব যেমন আছে, তেমনি আছে তার নিন্দা ও সমালোচনা। ফরাসি উদারনৈতিক, মুক্তমনা, ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তার সৌরভ ছড়াচ্ছেন তিনি আজও।

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;

‘মুঘল ঐতিহ্যে দারাশিকোহ পরাজিত হয়েও চিন্তা-মননে বিজয়ী’



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চবি জাদুঘর লেকচার সিরিজে ড. মাহফুজ পারভেজ। বার্তা২৪.কম

চবি জাদুঘর লেকচার সিরিজে ড. মাহফুজ পারভেজ। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

"ধর্মীয় উদারতা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের শিক্ষার জন্য দারাশিকোহ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বর্তমান ভারতীয় উপমহাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দাপটে ভিন্নমতের সংখ্যালঘুরা যখন তটস্থ, তখন দারাশিকোহ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক" বলে মন্তব্য করেছেন প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ।

তিনি বলেন, "মুঘল রাজনৈতিক ঐতিহ্যে দারাশিকোহ পরাজিত হলেও চিন্তা-মননের দিক থেকে বিজয়ী হয়েছেন।"

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) জাদুঘর লেকচার সিরিজের উদ্বোধনী প্রবন্ধ "দারাশিকোহকে কেন স্মরণ করা জরুরি" উপস্থাপনকালে শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, "জ্ঞানমনস্কতা ও শুভবোধের বিকাশে মুক্তমন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আবহ অপরিহার্য। দারাশিকোহ এমনই ঋদ্ধ চেতনা লালন করেছিলেন।" উল্লেখ্য, ড. মাহফুজ পারভেজ "দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্র্যাজিক হিরো" গ্রন্থের লেখক।

চবি জাদুঘর মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত লেকচার সিরিজে চবি বঙ্গবন্ধু চেয়ার, ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন প্রবন্ধের উপর আলোচনাকালে বলেন, "দারাশিকোহ চিন্তার বিশিষ্টতায় উজ্জ্বল। তিনি ছিলেন উদারপন্থী মুঘল।"

কথাসাহিত্যিক, কলা অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মহীবুল আজিজ বলেন, "দারাশিকোহ রাজনীতিতে পরাজিত হয়েও ইতিহাসের বিচারে স্থায়ী হয়েছে নন্দনতাত্ত্বিক বহুমাত্রিকতায়।"

কলা অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. সেকান্দার চৌধুরী বলেন, "ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার অনেক উপাদান রয়েছে দারাশিকোহর চিন্তায়।"

কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মাহবুবুল হক বলেন, "উচ্চতর গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ গঠনে জাদুঘরের বহুমুখী কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"

চবি জাদুঘরের পরিচালক, ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বশির আহাম্মদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. আনোয়ার সাঈদ, প্রফেসর ড. সাবিনা নার্গিস লিপি, প্রফেসর ড. সালমা বিনতে শফিক, লেখক-অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসহাক প্রমুখ।

চবি জাদুঘর লেকচার সিরিজ সঞ্চালনায় ছিলেন চবি সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক মিশকাতুল মোমতাজ মুমু।

উল্লেখ্য, ১৫২৬ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত উপমহাদেশ শাসনকারী মুঘলদের ইতিহাসে শাহজাদা দারাশিকোহর মতো চরিত্র আরেকটিও নেই। পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তম জ্যেষ্ঠপুত্র, দার্শনিক-বুদ্ধিজীবী দারাশিকোহকে উত্তরাধিকারী রূপে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোহিনূর-খচিত মুকুট আর ময়ূর সিংহাসন পাওয়ার বদলে তিনি ভাগ্যাহত হয়ে প্রাণ হারান ক্ষমতার ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে।

তথাপি পরাজিত ও নিহত দারা প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সম্রাট না হয়েও সম্রাটের মতোই আলোচিত। মহান মুঘল আকবরের দর্শনচর্চা, সমন্বয়বাদ, উদারনীতির উত্তরাধিকার তিনি। বিশ্ববিশ্রুত মুঘল মিনিয়েচার আর্টের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক দারার অ্যালবাম এখনো সংরক্ষিত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে।

দারার চিন্তা ও কর্মের নানা দিক অদ্যাবধি বিশ্বব্যাপী আলোচিত। বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষ ও সহনশীল ভারতের বীজমন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে দারার চিন্তাধারায়। রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে ব্যর্থ, কিন্তু শিল্প ও দর্শনচর্চায় সমুজ্জ্বল দারাশিকোহ যেন মুঘল সাংস্কৃতিক পরম্পরার এমনই এক ব্যক্তিত্ব, যাকে তুলনা করা যায় শেকসপিয়ারের ‘হ্যামলেট’-এর প্রিন্স অব ডেনমার্কের সঙ্গে। এক বিয়োগান্ত চরিত্র হয়ে তার মস্তক সমাহিত তাজমহল প্রাঙ্গণে আর শরীর দিল্লির হুমায়ূন মাকবারার কবরগাহে।

মুঘল সিংহাসন বঞ্চিত শাহজাদা দারাশিকোহর জীবন ও কর্মের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ আখ্যানগুলো উন্মোচিত হয়েছে ড. মাহফুজ পারভেজ রচিত 'দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্রাজিক হিরো' গ্রন্থে। শাহজাদা দারাশিকোহর বহুমাত্রিক ও বেদনাময় জীবনালেখ্য ২০২১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে প্রকাশনা ঐতিহ্যে ৭০ বছরের আভিজাত্যে ঋদ্ধ প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ'।

;