কাহলিল জিবরানের ‘দ্য প্রোফেট’ এবং কবিতায় নতুন বিপ্লব



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
কাহলিল জিবরান [জানুয়ারি ৬, ১৮৮৩-এপ্রিল ১০, ১৯৩১]

কাহলিল জিবরান [জানুয়ারি ৬, ১৮৮৩-এপ্রিল ১০, ১৯৩১]

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ শতকের বিস্ময়কর কয়েক ব্যক্তিত্বের মধ্যে কাহলিল জিবরান অন্যতম। ইংরেজি সাহিত্যের পুরোধা শেক্সপিয়ার এবং চীনের প্রাজ্ঞপুরুষ লাওৎসের পর জিবরানই সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের লেখক হিসাবে স্বীকৃত। ১৯২৩ সালে লেখা ‘দ্য প্রোফেট’ তাকে পরিণত করেছে সর্বকালের সেরা কবিদের একজনে। বিশ্বের প্রায় সব ভাষাতেই অনূদিত হয়েছে গ্রন্থটি। স্থান দেওয়া হয় ধর্মগ্রন্থের কাছাকাছি জায়গায়।

‘দ্য প্রোফেট’কে গণ্য করা হয় মাস্টারপিস হিসাবে


২৬টি পৃথক অনুচ্ছেদের ধাঁচে লেখা বইটি কেবল আমেরিকাতেই বিক্রি হয়েছে নয় মিলিয়ন কপির বেশি। প্রথম সংস্করণ তো প্রথম মাসেই শেষ। ষাটের দশকের পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া যায় সপ্তাহে পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্রি হবার তথ্য। এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক হারে বিক্রি চলছে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু আসলে কী আছে ‘দ্য প্রোফেট’-এ? তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যই আজকের আয়োজন।

নতুন যুগের প্রসূতি

‘দ্য প্রোফেট’ গ্রন্থটির প্রধান সফলতা ভাষার প্রয়োগরীতিতে। আরবি বাইবেল এবং কোরান সম্পর্কে জিবরানের ধারণা ছিল আগে থেকেই। বাইবেলের উপমা এবং প্রবাদ ব্যবহারের স্টাইল তাকে স্পর্শ করে। এজন্য প্রায়ই রচনার ভেতরেও সেই চিহ্ন খুঁজে পেতে কষ্ট হয় না। বিয়ে, বিচার, কৃষি, প্রেম, জীবন প্রভৃতি নিয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে অন্যরকম মাত্রা নিয়ে। যদিও গ্রন্থে কোনো ধর্মীয় আদর্শের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই; তারপরেও এক ধরনের আধ্যাত্মিকতা বিবৃত হয়েছে। অনেক সমালোচকই বইটিকে ‘প্রজ্ঞাপুস্তক’ নামে শ্রেণিকরণ করতে চান।

জিবরানকে গণ্য করা হয় নতুন যুগের ধাত্রী হিসাবে। কারণ, আধুনিক বস্তুবাদী জগতে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সীমানার বাইরে থেকেও আধ্যাত্মিকতাকে তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সফলভাবে। ব্যক্তিক অতীন্দ্রিয়বোধ, পরিশুদ্ধির সুর বেজে উঠেছে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মপ্রচার ছাড়াই।

নির্বাসনের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আল মুস্তফাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত গল্প। বারো বছর নির্বাসন বাসের পর বিদায়ী এক জাহাজে চলে যাবার আগে শহুরে জনতার আবেষ্টনীতে দাঁড়িয়ে তিনি বলে যান বিভিন্ন প্রসঙ্গে। আগ্রহী জনতা একের পর এক উপদেশ চাইতে থাকে প্রাজ্ঞপুরুষের কাছে। জবাব এসেছে নানা রূপক এবং নাটকীয় শৈলি নিয়ে। জিবরান নিজ বাসভূমি লেবানন ছেড়ে ১২ বছর যাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রে। অনেকে তাই এই আমেরিকা জীবনকেই নির্বাসন হিসাবে ব্যাখ্যা দিতে চান। সে যাই হোক, আল মুস্তফাকে বিয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তর দেন—“তোমরা একসাথে দাঁড়িয়ে থাকবে, কিন্তু মিলেমিশে যাবে না;
কারণ মন্দিরের পিলারগুলো মাঝখানে ফাঁকা রেখেই দাঁড়িয়ে থাকে,
আর ওক এবং সাইপ্রাস গাছ একে অন্যের ছায়ায় বেড়ে উঠতে পারে না।”

তাঁর হাতে জন্ম নিয়েছে সাহিত্যের এক নতুন ধারা


কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্বের বাইরে এসে আল মুস্তফার উত্তর মুগ্ধ করে রাখে পাঠককে। কেউ একজন তার কাছে সন্তানের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোজসাপ্টা ছিল তার জবাব—“তাদেরকে তোমার ভালোবাসা দিতে পারো কিন্তু চিন্তাগুলোকে না;
তাদেরও রয়েছে নিজস্ব চিন্তাভাবনা;
তাদের দেহকে আশ্রয় দিতে পারো; আত্মাকে না
কারণ তাদের আত্মা বসবাস করে আগামীর আশ্রয়ে;
যেখানে তুমি স্বপ্নেও যেতে পারবে না।”

কবি এবং পেছনে এক নারী

জিবরান সম্পর্কে অন্যতম জনপ্রিয় দাবি, তিনি তাঁর নিজের গল্পগুলোতেই নাটকীয়তা এনে পুস্তক করে তুলেছেন। তাঁর জীবনী নিয়ে নাড়াচাড়া করলে ম্যারি হাসকেল নামের জনৈক রমণীকে পাওয়া যায়; যিনি নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা দিয়ে সফল করেছেন জিবরানের প্রতিষ্ঠা। কবির লেখাগুলো পর্যন্ত নিজে কাটাছেঁড়া করে দিয়েছেন। আর জিবরানও গ্রহণ করেছেন অকুণ্ঠ চিত্তে। বস্তুত তিনি নিজেও শিখেছেন; আর এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবন সম্পর্কে গভীর দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী করেছিল। এজন্য ভালোবাসার মতো বিষয়েও তার ঝুলি শূন্য থাকেনি। জিবরান লিখেন—“নিজেকে পূর্ণতা দেওয়া ছাড়া ভালোবাসার আর কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই,
কিন্তু যদি তুমি ভালোবাসো, তবে আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে;
তাই একে নিজের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত করো।”

ম্যারি হাসকেলের পৃষ্ঠপোষকতা সহজ করে দিয়েছে চলার পথ


মৃত্যু এবং দ্বৈততা

জিবরান কেবল সার্থক কবি ছিলেন না। চিত্রকলার ওপর ছিল উচ্চতর পড়াশোনা। এজন্য ‘দ্য প্রোফেট’ পুস্তকের মাঝে মাঝে অসম্ভব সুন্দর কিছু চিত্রকর্মের দেখা মেলে; যা জিবরানেরই সৃষ্টি। সারাজীবনে এরকম প্রায় ৭০০ ছবি সৃষ্টি করেছেন তিনি। তাদের মধ্যে ইয়েটস্, ইয়াং-এর পোর্ট্রেটও ছিল।

জিবরানের মৃত্যু হয় মাত্র ৪৮ বছর বয়সে। এরইমধ্যে সৃষ্টিকর্মের এক বিশাল জগৎ দিয়ে গেলেন মানুষকে। পরবর্তীতে গার্ডেন অব প্রোফেট, স্যান্ড এন্ড ফোম, ম্যাডম্যান, ব্রোকেন উইংস প্রভৃতি লেখাগুলো মাইলফলক তৈরি করে গিয়েছে কবিতার ধারণায়। সমালোচনাকারীদের অভিযোগ, জিবরান দ্বৈততাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তার লেখাগুলো তাই প্রায়শ পরিণত হয়েছে প্যারাডক্স-এ। তাদের মনে রাখা দরকার, তাওবাদের প্রধান গ্রন্থ ‘তাও তে চিং’ কিংবা মধ্যযুগের মুসলিম অনেক সুফিদের লেখায় দ্বৈততা একটা অলঙ্কারের মতোই উঠে এসেছে। আনন্দ ও দুঃখ নিয়ে জিবরানের অভিমত—“কেউ বলে সুখ দুঃখের চেয়ে বড়, কারো দাবি সুখের চেয়ে বড় দুঃখ;
আমি বলি এরা আলাদা না, তারা একসাথেই আসে,
যখন একজন তোমার সাথে বসে থাকে; তখন এইকথা ভুলে যেও না—
অন্যজন তোমারই বিছানায় ঘুমিয়ে।”

আধ্যাত্মিকতা এবং বিস্তৃতি

ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, তাওবাদ প্রভৃতি ধর্ম নিয়ে জিবরানের ধারণা ছিল; তা তার লেখাতেই স্পষ্ট। বস্তুত তার আল মুস্তফা চরিত্র চিত্রণের মধ্য দিয়ে একজন মহাপুরুষের চোখে পৃথিবীর বিভিন্ন গতানুগতিক বিষয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতায় চাপা পড়ে যাওয়া হৃদয়কে উদ্ধার করার চেষ্টা ফুটেছে ছত্রে ছত্রে। কোনো প্রকার হিংসা, উগ্রতা কিংবা বিচ্ছিন্নতাকে উসকে না দিয়ে বিশ্বমানবকে বিশ্ব-আত্মার সাথে একীভূত করতে চেয়েছেন জিবরান। এজন্য ‘দ্য প্রোফেট’ গ্রন্থটি সর্বকালের সেরা বইগুলোর তালিকাতে ঠাঁই পেয়েছে। প্রতিটা ভাষায় জিবরানের ‘দ্য প্রোফেট’ গৃহীত হয়েছে সাদরে। তাকে পাঠ করা হচ্ছে রুমি ও সা’দী কিংবা শেক্সপিয়ার ও উইলিয়াম ব্ল্যাকদের সাথে।

বইকে কেন্দ্র করে হলিউডে নির্মিত হয়েছে এনিমেটেড চলচ্চিত্র


 

   

অখণ্ড আকাশ



শরীফুল আলম
অখণ্ড আকাশ

অখণ্ড আকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিন তোমার সব অবহেলা আমি দ্বিগুণ করে
তোমাকেই ফিরিয়ে দেব,
তোমার সাবলীল ভঙ্গির ঘাতক সময় গুলো
আমাকে এখনও হানা দেয় ঘুমের ঘোরে ,
এ কেমন তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি ?
লতার মত তুমি জড়িয়ে থাকো সময়ের শূন্যতায়
প্রবল বাতাসে হৃদয় কেঁপে উঠে ,
আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য কোথায় , আমি তা জানিনা
হয়ত ভুলে যেতে হবে একদিন স্বপ্নের গল্প গুলো
তোমার ছবির ভাষা
রৌদ্রের গন্ধে ভরা বেবাক আকাশ ।

সংঘাত সরালে চেনা যায় অন্য আরেকটি সংঘাত
ভালোবাসার নিপুণ প্রতিশ্রতি , অবিনশ্বর আগামী ,
বৈপরিত্ব যেটুকু ছিল
তা তোমার বিভ্রমে ভরা নিগূঢ় রহস্য
আলতো ছাপ যেটুকু তুমি দিয়েছ আমায় তা লুকোবে কি করে ?
দায়সারা , চেনাশোনা , আধাচেনা , অচেনা রয়েই গেলে তুমি
শূন্য এ বুকে বিশাল আঁধার ঢেলে
মৃদু জল ঢেলে তুমি চলে গেলে ।

ফ্যাকাশে মুহূর্ত গুলো
প্রত্যহিক নিয়মেই এখন চলে ,
তবুও মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় জীবনানন্দ , রবীন্দ্রনাথ
পদ্মা , মেঘনা , যমুনা ।

তুমি নিরুদ্দেশ হবে হও
ষোড়শী চাঁদের আলো এখনও আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়
তাই জলের অতলে এখন আর খুঁজিনা সুখের মুক্তা ,
এ বুকের তলায় এখনও এক অখন্ড আকাশ ,
পূর্ণিমা নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না
অমবস্যার দুভাগ নিয়েও কোন কথা হবেনা
তবুও তুমি শচীন , মান্না হয়ে থেকো আমার ,
একদিন সকল অভিমান ভুলে
নিশ্চয় তুমি হাঁটু গেড়ে বসবে আমার সম্মুখে
জমানো কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ।

-

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

;

বার্তা২৪.কম’র বর্ষপূর্তি বিশেষ সাময়িকী

‘সপ্তবর্ণ’-এ অভিভূত মুহম্মদ জাফর ইকবাল যা বললেন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭ম বর্ষপূর্তি ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের শীর্ষ মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম প্রকাশ করেছে বিশেষ সাময়িকী ‘সপ্তবর্ণ’। এতে লিখেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান লেখকরা। সপ্তবর্ণে স্থান পেয়েছে শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধও।

মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার নিউজপোর্টালবার্তা২৪.কম’র বিশেষ সাময়িকীর কপি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল এই সংবাদমাধ্যমটির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। সপ্তবর্ণ সম্পাদক ও বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসময় তিনি সমকালীন সংবাদপত্রের বিবর্তন নিয়েও কথা বলেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বার্তা২৪.কম সপ্তমে পৌছেছে। আমার হিসেবে প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে ক্রুশিয়াল। কেউ যদি প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম করতে পারে, তখন ধরে নেওয়া যায়, হ্যা-পরবর্তী সময়টিতে তারা সাকসেসফুললি এগিয়ে যাবে।’

খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘বার্তা২৪.কম এর বিশেষ সাময়িকী সপ্তবর্ণ আমার হাতে। আমি চোখ বুলিয়ে দেখেছি, এতে কারা লিখেছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এত লেখকের এতগুলি লেখা তারা সুন্দর করে যত্ন নিয়ে একত্র করেছে। শুধু তাই না, আমার মত যে কোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-পুরো বিষয়টি আসলে ফোর কালার।’

‘খুবই সুন্দর, চমৎকার ঝকঝকে। চমৎকার সব ছবি। আমি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি লেখাগুলো পড়ার জন্য। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই, এত চমৎকার প্রকাশনা করার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়, যখন কোন একটা চমৎকার কিছু কেউ দেখে, তখন মনে করতে হবে এটা এমনি এমনি হয় নাই। ধরেই নিতে হবে এর পেছনে অনেক মানুষের অনেক শ্রম আছে। আমি অভিনন্দন জানাই তাদের, যারা এমন একটি সুন্দর প্রকাশনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে রাজি আছেন, যখন যখন মানুষদের কাগজের কিছু দেখার আর সময় নাই’-বলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আগামীতে বার্তা২৪.কম-কে এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালনের আহ্বানও জানান নন্দিত এই লেখক।

বার্তা২৪.কম টিমের সঙ্গে কথা বলছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

যে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা যেখাবে বড় হয়েছি, এখন সময়টা আসলেই পাল্টে গেছে। আমরা কাগজের খবর দেখে অভ্যস্ত। সবকিছু আমরা কাগজে পড়তাম। এখন যেটুকু কাগজে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আসে ইন্টারনেটে-ডিজিটাললি। সেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন। এবং আমরা যারা কাগজে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই জিনিসটি গ্রহণ করতে এখনও সময় লাগছে। যেহেতু বেশির ভাগ তথ্যই ডিজিটাললি আসছে, এর ভেতরে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার একটা ব্যাপার আছে।’

‘মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় অনেকটা অশিক্ষিতি মানুষের মতো। যেহেতু আমরা কাগজে পড়ে অভ্যস্ত, যখন ডিজিটাললি কিছু দেখি-প্রশ্ন আসে এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ যারা এটা তৈরি করছে, প্রকাশ করছে তারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে পারবে? সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কিনা? আমি দেখছি, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ সংবাদপত্র থেকে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে তার থেকে অনেক বেশি নেয় বিভিন্ন স্যোশাল নেটওয়ার্ক থেকে। এখানে একজন আরেক জনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে, এবং যে যে ধরণের তথ্য চায়, তাকে সে ধরণের তথ্যই দেওয়া হয়। ঘুরে ফিরে সে ওই ধরণের চক্রের ভেতরে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই একজন সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা যদি, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে-এটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যে জিনিসটা খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি করে, পপুলার-সেই জিনিসই যদি প্রচার করি তাহলে কিন্তু হবে না। নির্মোহভাবে আমাকে এমন তথ্য দিতে হবে যেটা বিশ্বাস করতে পারি। আমি অপেক্ষা করছি সেজন্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখি আর নিজেকে প্রশ্ন করি এটি কতটুকু বিশ্বাস করতে পারব।’

;

ভারতে যুগল সম্মননা প্রাপ্তিতে গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে যুগল সম্মাননা লাভ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা প্রদান করল শীর্ষ নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ইফতার ও সংবর্ধনায় ঢাকা পদাতিকসহ বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী ছাড়াও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। 

ইফতারের পর গোলাম কুদ্দুসকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা পদাতিকের সদস্যরা। তাকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে ঢাকা পদাতিকের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গোলাম কুদ্দুস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন নাদের চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহসহ অন্যরা। 

বক্তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গোলাম কুদ্দুসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর এই যুগল পদ প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানান। আগামী দিনেও বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।  

সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও হাওড়ায় দুটি সম্মাননায় ভূষিত হন লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। গত ১৮ মার্চ (২০২৪) কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাঘরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছের হাতে বঙ্গবন্ধু পদক তুলে দেন কলকাতার প্রবীণ কবি ও লেখক, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়া শ্রী পংকজ সাহা ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব রঞ্জণ সেন।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ(২০২৪) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কবি সাতকোর্নী ঘোষ সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘কলকাতার যীশু’র পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য গোলাম কুদ্দুছকে ‘একুশে স্মারক সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। 

;

জামাই



হানিফ ওয়াহিদ, রম্য লেখক
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ইফতার শেষ করে নামাজ শেষে হালকা একটা ঘুম দিয়েছিল রাকিব। হঠাৎ সুন্দরী শালী রিয়ার ভিডিও কল- কী করেন দুলাভাই?

রাকিব বিরক্তি চেপে একটা হাই তুলে বললো- ঘুমাই।

রিয়া খলবল করে বললো, ঘুম ভাঙছে?

- না, এখনো ভাঙে নাই।

ঠিক আছে। আমি আপনার ধরে হাত ধরে টান দিলাম- হেঁইয়ো! এইবার ভাঙছে!

- হ্যাঁ। কয়মাস?

রিয়া অবাক হয়ে বললো- কী, কয়মাস?

- পোলা না মাইয়া?

কী আবোলতাবোল বকেন দুলাভাই! গাঁজা দিয়ে ইফতার খাইছেন! নাকি শরবতের পরিবর্তে বোতল টানছেন!

রাকিব বিশাল হাই তুলতে তুলতে বললো, তোমার পেট উঁচা দেখা যায়!

রিয়া এবার হেসে ফেললো। আরে ভাই, এগুলো ইফতারি!

- ওরে সর্বনাশ! এক গ্রামের ইফতার তুমি একাই সাবাড় করেছো! এইটা পেট না কলসি! বাদ দেও, অসময়ে ফোন। কাহিনী কী?

আপা কই?

- আমার শত্রুর কথা বলছো! সে বাচ্চাদের অন্য রুমে পড়াতে বসেছে।

আপা যেন না জানে। আমাকে কিছু টাকা লোন দিতে হবে। আর্জেন্ট দরকার!

- লোন যে নিবা, বন্ধক কী রাখবা?

আপাতত আমার বোনকে বন্ধক রাখেন।

বন্ধকি পছন্দ হয় নাই। শোনো রিয়া, তুমি এ পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কত টাকা লোন নিছো জানো? আমি কি বিশ্বব্যাংক? কখনো কোনো টাকা ফেরত দিছো? তুমি তো আমার কাছে ঋণখেলাপি হয়ে গেলা…

বাজে আলাপ বন্ধ করেন তো‍! লোকজন সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েই ফেরত দেয় না! আর আপনি তো আমার দুলাভাই। দুলাভাইয়ের টাকায় শালীদের হক আছে। আপনার কাছে সারাজীবন ঋণখেলাপি হয়ে থাকতে চাই।

- টাকা পাবে না।

কেন?

- কারণ, আমি চাই না, তুমি সারাজীবন আমার কাছে ঋণখেলাপিদের একজন হয়ে থাকো। তোমার একটা ইজ্জত আছে নাহ!

আমার ইজ্জত নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আর টাকা কি মাগনা দেন! বিনিময় পান না!

রাকিব অবাক হলো- কী বিনিময়?

এই যে কথায় কথায় গালি দেন!

রাকিব যেন আকাশ থেকে পড়লো। হায় আল্লাহ! আমি তোমাকে কখন গালি দিলাম?

এই যে কথায় কথায় শালী বলেন, এটা গালি নাহ!

এইবার রাকিব হো হো করে হেসে ফেললো। মেয়েরা উল্টাপাল্টা কথা বলবে, এটাই নিয়ম। বাম পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা, মেয়েদের কথাবার্তাও তেমনি বাঁকা। এদের কথার ঠিক-ঠিকানা নাই।

- শোনো রিয়া, এবার মোবাইল রাখি। মশা আমাকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে কচকচ করে কামড়িয়ে খাচ্ছে।

মশা আপনাকে কচকচ করে খাবে কেন! আপনি কি শসা? বাসায় মশার কয়েল নাই?

আছে তো! ওই যে দেখছি, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর একটা মশা রাজা-বাদশার হালে বসে আছে। অথচ দোকানদার বলেছিল, মশা না গেলে টাকা ফেরত!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- গিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন।

- তবেই হয়েছে! ব্যাটা দোকানদার আমার শালীর হাজবেন্ড কি না! টাকা ফেরত চাহিবামাত্র তৎক্ষণাৎ বের করে দেবে!

রিয়া এবার দম ফাটিয়ে হাসতে লাগলো। আপনি খুবই মজার মানুষ দুলাভাই!

- বইন রে, একমাত্র তুমিই আমাকে বুঝতে পারলা! তোমার বোন তো আমাকে হাঁদারাম গাধা মনে করে। তাকে কীভাবে বোঝাই, মজার মানুষই ভালো! বেজার মানুষ কেউ পছন্দ করে না। অবশ্য তোমার বোন হচ্ছে উল্টা। তার ধারণা, বোকা মানুষরা অকারণে হা হা হি হি করে! অথচ হাসলে মানুষের মন ভালো থাকে। যাক গে, তোমার হাজবেন্ড কই?

সে শুয়ে শুয়ে তার ফিউচার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

- বাহ! ভালো ছেলে। ফিউচার আছে। এখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মোটেই ভালো ছেলে নয়, দুলাভাই। তার মোবাইল ফোন এখন চার্জে। তাই, টাইম পাস করছে। তার ভবিষ্যত অন্ধকার! বোকার হদ্দ! আপনার ধারেকাছেও সে নাই। তাকে আমি সারাক্ষণ বোঝাই- আমার দুলাভাইকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো। আপনি যদি হন মহারাজ, সে হবে ফকিরবাজ!

শুধু আমি বলেই তার সংসার করে গেলাম, অন্য কেউ হলে… আমি তাকে বলি, এত মোবাইল টিপে কী সুখ পাও? সে আমাকে কী বলে জানেন?

- না, কী বলে?

সে বলে, মোবাইল টেপার মতো সুখ নাকি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টা নাই!

রাকিব হাসতে লাগলো। কী বলো এসব! আর এই ডায়ালগ কীভাবে শিখলে? এটা তো তোমার আপার প্রতিদিনকার ডায়লগ!

কোনটা?

- এই যে, আমি বলেই তোমার সংসার করে গেলাম… এই কথাটা আমাকে তোমার আপা প্রতিদিন কমছেকম তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়। তো, তুমি যে তোমার হাজবেন্ডকে পছন্দ করো না, আবার তার সব কাজই অনুসরণ করো! মাথা ঘোরায় না! বমি বমি লাগে না!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- আপনিও তো আপার বদনাম করতেছেন…

- তোমার আপার বদনাম করার সাহস আমার নাই রে বইন! সে মনে করে আমি বোকার হদ্দ। আমার বর্তমান ভবিষ্যত কিছুই নাই। তোমার হাজবেন্ডের ভবিষ্যত ফিলিপস বাতির মতো ফকফকা! তার দুঃখ, তোমার হাজবেন্ডের মতো একটা এত ভালো ভদ্র হাজবেন্ড কেউ পায় নাই! তার কপাল নাকি খুবই খারাপ!

রিয়া এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ও মা! তাই! ওই কবিতাটা শোনেন নাই, দুলাভাই! ওই যে, নদীর এপাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়েতে যত সুখ আমার বিশ্বাস!

রাকিব মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো- আমি তো জানতাম, তোমার হাজবেন্ড আসলেই ভালো একজন ছেলে। বেশ অমায়িক! তুমি আবার তার সাথে ঝগড়া করো নাকি! কী নিয়ে ঝগড়া করো তোমরা?

রিয়া হাসতে হাসতে বললো, মেয়েদের ঝগড়া করতে কোনো কারণ লাগে না দুলাভাই! শুধু একটা হাজবেন্ড থাকলেই চলে!

রাকিব অবাক হয়ে বললো- আরে তাই তো! তার বউও তো অকারণেই তার সাথে ঝগড়া করে!

তাহলে কি সব মেয়েই এমন!

;