কাহলিল জিবরানের ‘দ্য প্রোফেট’ এবং কবিতায় নতুন বিপ্লব



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
কাহলিল জিবরান [জানুয়ারি ৬, ১৮৮৩-এপ্রিল ১০, ১৯৩১]

কাহলিল জিবরান [জানুয়ারি ৬, ১৮৮৩-এপ্রিল ১০, ১৯৩১]

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ শতকের বিস্ময়কর কয়েক ব্যক্তিত্বের মধ্যে কাহলিল জিবরান অন্যতম। ইংরেজি সাহিত্যের পুরোধা শেক্সপিয়ার এবং চীনের প্রাজ্ঞপুরুষ লাওৎসের পর জিবরানই সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের লেখক হিসাবে স্বীকৃত। ১৯২৩ সালে লেখা ‘দ্য প্রোফেট’ তাকে পরিণত করেছে সর্বকালের সেরা কবিদের একজনে। বিশ্বের প্রায় সব ভাষাতেই অনূদিত হয়েছে গ্রন্থটি। স্থান দেওয়া হয় ধর্মগ্রন্থের কাছাকাছি জায়গায়।

‘দ্য প্রোফেট’কে গণ্য করা হয় মাস্টারপিস হিসাবে


২৬টি পৃথক অনুচ্ছেদের ধাঁচে লেখা বইটি কেবল আমেরিকাতেই বিক্রি হয়েছে নয় মিলিয়ন কপির বেশি। প্রথম সংস্করণ তো প্রথম মাসেই শেষ। ষাটের দশকের পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া যায় সপ্তাহে পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্রি হবার তথ্য। এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক হারে বিক্রি চলছে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু আসলে কী আছে ‘দ্য প্রোফেট’-এ? তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যই আজকের আয়োজন।

নতুন যুগের প্রসূতি

‘দ্য প্রোফেট’ গ্রন্থটির প্রধান সফলতা ভাষার প্রয়োগরীতিতে। আরবি বাইবেল এবং কোরান সম্পর্কে জিবরানের ধারণা ছিল আগে থেকেই। বাইবেলের উপমা এবং প্রবাদ ব্যবহারের স্টাইল তাকে স্পর্শ করে। এজন্য প্রায়ই রচনার ভেতরেও সেই চিহ্ন খুঁজে পেতে কষ্ট হয় না। বিয়ে, বিচার, কৃষি, প্রেম, জীবন প্রভৃতি নিয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে অন্যরকম মাত্রা নিয়ে। যদিও গ্রন্থে কোনো ধর্মীয় আদর্শের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই; তারপরেও এক ধরনের আধ্যাত্মিকতা বিবৃত হয়েছে। অনেক সমালোচকই বইটিকে ‘প্রজ্ঞাপুস্তক’ নামে শ্রেণিকরণ করতে চান।

জিবরানকে গণ্য করা হয় নতুন যুগের ধাত্রী হিসাবে। কারণ, আধুনিক বস্তুবাদী জগতে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সীমানার বাইরে থেকেও আধ্যাত্মিকতাকে তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সফলভাবে। ব্যক্তিক অতীন্দ্রিয়বোধ, পরিশুদ্ধির সুর বেজে উঠেছে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মপ্রচার ছাড়াই।

নির্বাসনের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আল মুস্তফাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত গল্প। বারো বছর নির্বাসন বাসের পর বিদায়ী এক জাহাজে চলে যাবার আগে শহুরে জনতার আবেষ্টনীতে দাঁড়িয়ে তিনি বলে যান বিভিন্ন প্রসঙ্গে। আগ্রহী জনতা একের পর এক উপদেশ চাইতে থাকে প্রাজ্ঞপুরুষের কাছে। জবাব এসেছে নানা রূপক এবং নাটকীয় শৈলি নিয়ে। জিবরান নিজ বাসভূমি লেবানন ছেড়ে ১২ বছর যাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রে। অনেকে তাই এই আমেরিকা জীবনকেই নির্বাসন হিসাবে ব্যাখ্যা দিতে চান। সে যাই হোক, আল মুস্তফাকে বিয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তর দেন—“তোমরা একসাথে দাঁড়িয়ে থাকবে, কিন্তু মিলেমিশে যাবে না;
কারণ মন্দিরের পিলারগুলো মাঝখানে ফাঁকা রেখেই দাঁড়িয়ে থাকে,
আর ওক এবং সাইপ্রাস গাছ একে অন্যের ছায়ায় বেড়ে উঠতে পারে না।”

তাঁর হাতে জন্ম নিয়েছে সাহিত্যের এক নতুন ধারা


কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্বের বাইরে এসে আল মুস্তফার উত্তর মুগ্ধ করে রাখে পাঠককে। কেউ একজন তার কাছে সন্তানের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোজসাপ্টা ছিল তার জবাব—“তাদেরকে তোমার ভালোবাসা দিতে পারো কিন্তু চিন্তাগুলোকে না;
তাদেরও রয়েছে নিজস্ব চিন্তাভাবনা;
তাদের দেহকে আশ্রয় দিতে পারো; আত্মাকে না
কারণ তাদের আত্মা বসবাস করে আগামীর আশ্রয়ে;
যেখানে তুমি স্বপ্নেও যেতে পারবে না।”

কবি এবং পেছনে এক নারী

জিবরান সম্পর্কে অন্যতম জনপ্রিয় দাবি, তিনি তাঁর নিজের গল্পগুলোতেই নাটকীয়তা এনে পুস্তক করে তুলেছেন। তাঁর জীবনী নিয়ে নাড়াচাড়া করলে ম্যারি হাসকেল নামের জনৈক রমণীকে পাওয়া যায়; যিনি নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা দিয়ে সফল করেছেন জিবরানের প্রতিষ্ঠা। কবির লেখাগুলো পর্যন্ত নিজে কাটাছেঁড়া করে দিয়েছেন। আর জিবরানও গ্রহণ করেছেন অকুণ্ঠ চিত্তে। বস্তুত তিনি নিজেও শিখেছেন; আর এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবন সম্পর্কে গভীর দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী করেছিল। এজন্য ভালোবাসার মতো বিষয়েও তার ঝুলি শূন্য থাকেনি। জিবরান লিখেন—“নিজেকে পূর্ণতা দেওয়া ছাড়া ভালোবাসার আর কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই,
কিন্তু যদি তুমি ভালোবাসো, তবে আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে;
তাই একে নিজের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত করো।”

ম্যারি হাসকেলের পৃষ্ঠপোষকতা সহজ করে দিয়েছে চলার পথ


মৃত্যু এবং দ্বৈততা

জিবরান কেবল সার্থক কবি ছিলেন না। চিত্রকলার ওপর ছিল উচ্চতর পড়াশোনা। এজন্য ‘দ্য প্রোফেট’ পুস্তকের মাঝে মাঝে অসম্ভব সুন্দর কিছু চিত্রকর্মের দেখা মেলে; যা জিবরানেরই সৃষ্টি। সারাজীবনে এরকম প্রায় ৭০০ ছবি সৃষ্টি করেছেন তিনি। তাদের মধ্যে ইয়েটস্, ইয়াং-এর পোর্ট্রেটও ছিল।

জিবরানের মৃত্যু হয় মাত্র ৪৮ বছর বয়সে। এরইমধ্যে সৃষ্টিকর্মের এক বিশাল জগৎ দিয়ে গেলেন মানুষকে। পরবর্তীতে গার্ডেন অব প্রোফেট, স্যান্ড এন্ড ফোম, ম্যাডম্যান, ব্রোকেন উইংস প্রভৃতি লেখাগুলো মাইলফলক তৈরি করে গিয়েছে কবিতার ধারণায়। সমালোচনাকারীদের অভিযোগ, জিবরান দ্বৈততাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তার লেখাগুলো তাই প্রায়শ পরিণত হয়েছে প্যারাডক্স-এ। তাদের মনে রাখা দরকার, তাওবাদের প্রধান গ্রন্থ ‘তাও তে চিং’ কিংবা মধ্যযুগের মুসলিম অনেক সুফিদের লেখায় দ্বৈততা একটা অলঙ্কারের মতোই উঠে এসেছে। আনন্দ ও দুঃখ নিয়ে জিবরানের অভিমত—“কেউ বলে সুখ দুঃখের চেয়ে বড়, কারো দাবি সুখের চেয়ে বড় দুঃখ;
আমি বলি এরা আলাদা না, তারা একসাথেই আসে,
যখন একজন তোমার সাথে বসে থাকে; তখন এইকথা ভুলে যেও না—
অন্যজন তোমারই বিছানায় ঘুমিয়ে।”

আধ্যাত্মিকতা এবং বিস্তৃতি

ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, তাওবাদ প্রভৃতি ধর্ম নিয়ে জিবরানের ধারণা ছিল; তা তার লেখাতেই স্পষ্ট। বস্তুত তার আল মুস্তফা চরিত্র চিত্রণের মধ্য দিয়ে একজন মহাপুরুষের চোখে পৃথিবীর বিভিন্ন গতানুগতিক বিষয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতায় চাপা পড়ে যাওয়া হৃদয়কে উদ্ধার করার চেষ্টা ফুটেছে ছত্রে ছত্রে। কোনো প্রকার হিংসা, উগ্রতা কিংবা বিচ্ছিন্নতাকে উসকে না দিয়ে বিশ্বমানবকে বিশ্ব-আত্মার সাথে একীভূত করতে চেয়েছেন জিবরান। এজন্য ‘দ্য প্রোফেট’ গ্রন্থটি সর্বকালের সেরা বইগুলোর তালিকাতে ঠাঁই পেয়েছে। প্রতিটা ভাষায় জিবরানের ‘দ্য প্রোফেট’ গৃহীত হয়েছে সাদরে। তাকে পাঠ করা হচ্ছে রুমি ও সা’দী কিংবা শেক্সপিয়ার ও উইলিয়াম ব্ল্যাকদের সাথে।

বইকে কেন্দ্র করে হলিউডে নির্মিত হয়েছে এনিমেটেড চলচ্চিত্র


 

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;