কিভাবে চিনবেন জাদুবাস্তবতা



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
রব গনজালভেসের রঙে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা

রব গনজালভেসের রঙে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতা আধুনিক শিল্পের এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি। প্রাত্যহিক জীবনের নানা ফ্যান্টাসি, বিশ্বাস এবং উপকথাগুলো সাহিত্যিকের কলমের আঁচে মূর্তমান হয়ে ওঠে। সত্য কী বস্তু? কল্পনাই বা কোন চিজ? ম্যাজিক রিয়ালিজমের পৃথিবীতে আটপৌরে ঘটনাগুলো পরিণত হয় অদ্ভুত বিস্ময়ে আর জাদুময় কল্পনারা হয়ে ওঠে গতানুগতিক। যেন বাস্তব আর কল্পনা মিলেমিশে একাকার।

জাদুবাস্তবতাকে অনেকে ‘বিস্ময় বাস্তবতা’ কিংবা ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’ বলে অভিহিত করতে চান। জাদুবাস্তবতার বেড়ে ওঠা ‘বাস্তবতাকে সংজ্ঞায়ন’-থেকে হলেও গভীরভাবে তাতে ডুবে যায়নি। গল্প, কবিতা, নাটক, সিনেমায় দৈনন্দিন জীবনাচারের সাথে নানাবিধ সংস্কার ও সমাজে লালিত কল্পকাহিনীর মিশেল ঘটে এক স্বতন্ত্র পৃথিবীই প্রস্তুত করে নিয়েছে। এই চিন্তার দাপট এতটাই প্রবল ছিল যে; চিত্রকলা এবং ভাস্কর্যেও তার প্রভাব পড়ে। উদাহরণ হিসাবে ফ্রিদা কাহলোর ছবির কথাই সবার আগে উঠে আসে।

অনেক লেখাতেই পাঠককে বিস্ময়কর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কাফকার জনপ্রিয় গল্প ‘ম্যাটামরফোসিস’-এর কথাই ধরা যাক। বেচারা গ্রেগর সকালে ঘুম থেকে উঠেই লক্ষ করল তার শরীর পুরো পরিবর্তিত হয়ে আরশোলায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ চিন্তায় অবাস্তব মনে হলেও গল্পের প্লট নির্মাণে এই আকস্মিকতা দারুণভাবে সফল করেছে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। বৃহত্তর অর্থের অনুসন্ধানে লেখকের হাতে ধরে উঠে এসেছে নাটকীয়তা। এমিলি ব্রন্টির ‘Passionate’ কিংবা হিথক্লিফের ‘Wuthering Heights’-এর কথাও প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় প্রথম দিককার নজির হিসাবে। স্পষ্টভাবে শিল্প এবং সাহিত্যের আন্দোলন হিসাবে ম্যাজিক রিয়ালিজমের পত্তন ঘটে বিশ শতকের মধ্যভাগে।

ফ্রাঞ্জ রোহ জাদুবাস্তবতা শব্দটিকে প্রথম সামনে আনেন


১৯২৫ সালে সমালোচক ফ্রাঞ্জ রোহ প্রথম ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতা শব্দের ব্যবহার করেন। তার ইচ্ছা ছিল জার্মান শিল্পীদের অঙ্কিত ছবিতে দৈনন্দিন জীবনের সাথে অতিপ্রাকৃতকে উপস্থান করার ধারাকে বর্ণনা করা। পরে চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে অন্যান্য সংস্কৃতির সমালোচকেরাও ধারণাটাকে নিজেদের মধ্যে আমদানি করল। জর্জ ওকিফে, ফ্রিদা কাহলো এবং এডওয়ার্ড হোপার—সকলেই এই জাদুবাস্তবতা চর্চাকারীদের আওতাভুক্ত।

সাহিত্যে জাদুবাস্তবতা একটা স্বতন্ত্র আন্দোলনের তকমা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। বিশেষ করে কিউবায় ১৯৪৯ সালে On the marvelous Real in Spanish America নামে প্রবন্ধ লেখা হয়। লিখেছেন আলেহো কারপেনটিয়ার। লেখকের বিশ্বাস, ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল পৃথিবীর চোখে আদর্শ হবার উপযোগী। ১৯৫৫ সালে অ্যাঞ্জেল ফ্লোরেস ল্যাটিন আমেরিকায় ম্যাজিক রিয়ালিজম ধারণার প্রয়োগ ঘটান। এর দ্বারা তিনি তার সময়ের সেইসব ল্যাটিন আমেরিকান লেখকদের বোঝাতে চেয়েছেন; যারা অতিপ্রাকৃত এবং প্রতিদিনকার ঘটনার দুর্দান্ত মিশেল ঘটিয়েছেন।

হোর্হে লুইস বোর্হেস: ম্যাজিক রিয়ালিজমের ভিত্তি স্থাপনের অন্যতম পুরোধা


ফ্লোরেসের মতে, ল্যাটিন আমেরিকায় জাদুবাস্তবতার পত্তন ঘটে ১৯৩৫ সালে আর্জেন্টাইন লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের মাধ্যমে। অবশ্য অন্যান্য সমালোচকেরা আরো কিছু নাম সামনে আনেন। তবে বোর্হেস সত্যিকার অর্থেই জাদুবাস্তবতার ভিত্তি রচনা করতে মৌলিক অবদান রাখেন। ইউরোপিয়ান লেখক কাফকার লেখার মতোই তার লেখা ছিল নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নিয়ে উজ্জ্বল। এছাড়া ইসাবেল অ্যালেন্দে, মিগেল অ্যাঞ্জেল, গাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেস এবং জোয়ান রোলফোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে।

বর্তমানে জাদুবাস্তবতাকে আন্তর্জাতিক স্রোত হিসাবে দেখা হয়। বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন সাহিত্যে এর প্রভাব গিয়ে আছড়ে পড়েছে নিজস্ব আবেদন নিয়ে। নিত্যকার দিনের সাথে অলৌকিকতার মিশেল ঘটলেই সমালোচকেরা আজকাল জাদুবাস্তবতার গন্ধ বের করার চেষ্টা করেন। কেউ পান; কেউ পান না। জাদুবাস্তবতার সফল প্রয়োগকারী কয়েকজন সফল লেখক—কেট এটকিনসন, নেইল গেইম্যান, গুন্টার গ্রাস, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, মার্ক হেলপ্রিন, এলিস হফম্যান, হারুকি মুরাকামি, টনি মরিসন, সালমান রুশদি। এছাড়া আরো অনেকের হাত ধরে প্রবাহমানতা অব্যাহত আছে।

মার্কেসের নিঃসঙ্গতার একশো বছর জাদুবাস্তবতাকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করে


সুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তবতা কিংবা অনুরূপ কল্পনাধর্মী লেখার সাথে জাদুবাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলা কঠিন কিছু না। বরং অনেকক্ষেত্রে সেটাই হয়। মনে রাখা দরকার, লোককথা ও উপকথা কখনোই ম্যাজিক রিয়ালিজমের আওতায় পড়ে না। অনুরূপভাবে হরর গল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, আধিভৌতিক রচনাবলি, কিংবা জাদুনির্ভর চরিত্রচিন্তাও এর থেকে আলাদা। জাদুবাস্তবতাকে চিনতে হলে তাই কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে—

১) যুক্তির তোয়াক্কা না করে পরিস্থিতি ও ঘটনা এগিয়ে যায়। টনি মরিসনের গল্পে দেখা যায় পালিয়ে আসা এক দাস ভূতুড়ে বাড়িতে গিয়ে ওঠে। বহুদিন আগে খুন হওয়া এক শিশুর ভূত। মার্কেসের ‘নিঃসঙ্গতার একশো বছর’-এ বাগান থেকে বাড়ির সুন্দরী মেয়েটা অদৃশ্য হয়ে যায়। আকস্মিকতা থাকলেও বর্ণনার ভঙ্গি একটা পৃথক পৃথিবীতে নিয়ে যাবে।

২) উপকথা, কুসংস্কার, লোককাহিনী, ধর্মীয় রূপক, অতিপ্রাকৃত বর্ণনা প্রভৃতিকে খুবই সহজভাবে টেনে আনা হয় জাদুবাস্তবতায়। লেখকের মুনশিয়ানা এবং বুননে তাই স্থানীয় ইতিহাস, বিশ্বাস এবং চিন্তাধারা খুবই ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে।

৩) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সমাজ ও রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়েই বসবাসের পরিধি গড়ে ওঠে। জাদুবাস্তবতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য তাকে প্রতিফলিত করা। বস্তুত ফ্যান্টাসি গল্পের সাথে ম্যাজিক রিয়ালিজমের মূল পার্থক্য এইখানটাতেই। উদাহরণ হিসাবে সালমান রুশদীর ‘মিডনাইট চিলড্রেন’-এর নাম সামনে আনা যায়।

৪) সময়ের প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে দেওয়া জাদুবাস্তবতার সাধারণ বিষয়। চরিত্রগুলো সেখানে ভবিষ্যতের মতো করে অতীতেও যেতে পারে। এজন্য মার্কেসের নিঃসঙ্গতার একশো বছরে দেখা যায় কর্নেল অরেলিয়েনো বুয়েন্দিয়ার কথা বলতে গিয়ে কিভাবে পেছনের দিকে ফিরে আসা হয়েছে। যেখানে অতীত কিংবা ভবিষ্যতের প্রথগত ধারণা বদলে গেছে। বদলে গেছে বিবরণের ধারা।

৫) জাদুবাস্তবতায় আসা জাদুগুলোর সূত্রও সত্যিকার পৃথিবীতেই প্রোথিত। এজন্য হ্যারি পটার কিংবা স্টার ওয়ার্স ম্যাজিক রিয়ালিজমের উদাহরণ হতে পারে না। স্থান, সময় ও সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে চর্চিত বিশ্বাস দ্বারা যে জাদু এখানে হাজির হয়; তা বস্তুত সত্যের মতো করেই বিস্তৃত।

৬) ম্যাজিক রিয়ালিজমের চরিত্রেরা খুবই স্বাভাবিকভাবে তাদের অতিপ্রাকৃতিককে মেনে নেয়। সাধারণত হরর গল্পগুলোতে একধরনের কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা জাগিয়ে রাখার জন্য চরিত্রদের দিয়ে কারণ আবিষ্কারের চেষ্টা করানো হয়। জাদুবাস্তব সাহিত্যে এমনটা একেবারেই নেই। তাই বাগান থেকে কারো উধাও হয়ে যাওয়া অন্যান্য চরিত্রের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয় না। মনে হয় যেন এটা হওয়া খুবই সম্ভব।

ফ্রিদা কাহলোর আঁকায় জাদুবাস্তবতা


তারপরেও ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতাকে একটা ফ্রেমে বাঁধতে চাওয়া ভুল হবে। সাহিত্য কিংবা শিল্প সম্প্রসারমান মাধ্যম। আর লেখক বা শিল্পী মাত্রই যেহেতু পুরোপুরি মুক্ত তাই এই ধারাটির মধ্যেও পরবর্তী লেখকেরা সংযোজন-বিয়োজন করতে পারেন।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;