পুরস্কৃত চিন্ময় গুহ'র 'ঘুমের দরজা ঠেলে'



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
চিন্ময় গুহ ও তার বই, ছবি: সংগৃহীত

চিন্ময় গুহ ও তার বই, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

'ঘুমের দরজা ঠেলে' বইটি পড়ে আক্ষরিক অর্থেই চমকিত হয়েছিলাম, যদিও লেখক চিন্ময় গুহের চিন্তা ও রচনাশৈলীতে আগেই চমৎকৃত ছিলাম 'দেশ'-এ প্রকাশিত লেখার দ্যুতিতে। চটজদলি তার আরেক বই 'চিলেকোঠার উন্মাদিনী' হাতের কাছে পেয়ে সংগ্রহ করতে বিলম্ব করিনি। তার পর পরই আমার টেবিলে চুম্বকের মতো চলে আসে তার বই 'গাঢ় শঙ্খের খোঁজে ও অন্যান্য প্রসঙ্গ'।

ইউটিউবে মনীষী গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের সঙ্গে আলাপচারিতা কিংবা রমাঁ রল্যাঁ প্রসঙ্গে পাবলিক লেকচারে চিন্ময় গুহকে আরও নিবিড়ভাবে পেয়েছি পরিশীলিত যুক্তি, মেধা ও বিশ্লেষণের প্রাখর্যে। বুঝতে অসুবিধা হয় না, কেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন উপাচার্যকে ফরাসি শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দুই দুইবার (২০১০ ও ২০১৩ সালে) 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত করেছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি পেলেন 'ঘুমের দরজা ঠেলে' বইটির জন্য ভারতের সম্মানজনক একটি সাহিত্য পুরস্কার। চারটি ভাষায় কুড়িটির বেশি মননশীল গ্রন্থের রচয়িতা অধ্যাপক চিন্ময় গুহ ২০১৯ সালের জন্য যে 'সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার'-এ ভূষিত হলেন, সে পুরস্কার প্রতিবছরই বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, মণিপুরী, পাঞ্জাবী সহ ভারতের ২৪টি ভাষার সাহিত্যিকদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠতম জনকে দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে দিল্লি থেকে ঘোষণা করা হয় সাহিত্য অকাদেমি প্রাপকদের তালিকা। ২০১৬ সালে কলকাতার সিগনেট প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘ঘুমের দরজা ঠেলে’ বইটির জন্য বাংলা ভাষা ক্যাটাগরিতে সাহিত্য অকাদেমি পেলেন চিন্ময় গুহ।

'ঘুমের দরজা ঠেলে' বইটিকে বলতে হয় ৬৪টি গদ্যের একটি সংকলন। প্রতিটি গদ্যই শুরু হয়েছে রাত্রির আবহ দিয়ে। ফলে বইয়ের নামকরণও সার্থক। এই বইয়ে তিনি এনেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শেকসপিয়ার, বঙ্কিমচন্দ্র, শেলি, ভলতেয়ার, রমাঁ রল্যাঁ, বোদল্যের, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অন্নদাশঙ্কর রায়, অরুণ মিত্র, সত্যজিৎ রায়, বুদ্ধদেব বসু সহ আরও অনেকের প্রসঙ্গ। বইটিতে তিনি 'দর্শন আর সাহিত্যের সমুদ্রবেলা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে (এমনই) এক জলকল্লোলকে ছুঁতে' চেয়েছেন, 'যা কবিতার মতো গদ্যের শরীরে মিশে গেছে।'

ফলে তার হাতে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব, অনাস্বাদিত, নিরীক্ষাধর্মী অথবা পরীক্ষামূলক এক সিনটেক্স, যাকে বলা যায় গদ্য হয়েও কবিতার অধিক, চিন্তা হয়েও সৌন্দর্যের প্রতীক। যেমন:

'এক অনন্ত নক্ষত্রবীথির সামনে আমি দাঁড়িয়ে। শূন্যে কালপুরুষের তরবারি। নীচে স্বেদ, রক্ত, শব্দগুঁড়ো, ভাসমান কাগজের স্তূপ। আর পাসকাল-বর্ণিত ভয়াবহ নৈঃশব্দ। আমি নিচু হয়ে হাতড়ে-হাতড়ে চেনা অক্ষর খুঁজি। শব্দের শরীর এত ভাস্কর্যময় তা কি আমি জানতাম? তার নীল দ্যুতি কি আমার করোটি ভেদ করে চলে যাবে? কয়েকটি কাগজে শিশির পড়ছে। সেগুলো হাতে নিয়ে ঘুমের দরজা ঠেলে আমি আবার ফিরে আসি আমার ছোট ঘরের ছায়ান্ধকার নড়বড়ে টেবিলে। জানলা খোলা। শব্দের ফিসফিসানি।'

তারপর পুরো বই জুড়ে ইতিহাস, দর্শন, নন্দন, সাহিত্যের বৈশ্বিক মহারাজপথ ধরে চলা। পাঠককে বিশ্বমননের একটি সংক্ষিপ্ত, অথচ বিশিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করানোর অন্য নাম হলো চিন্ময় গুহের 'ঘুমের দরজা ঠেলে'। গতানুগতিক বইয়ের বদলে একে ডাকা ভালো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রজেক্ট নামে।

প্রবন্ধ চর্চা করে দেশে বা বিদেশে পুরস্কৃত হওয়া সত্যিই দুরূহ। সাহিত্যের জনপ্রিয়তায় ঠাঁই পাওয়াও কষ্টকর। চিন্ময় গুহের কলমে 'দুরূহ' ও 'কষ্টকর' কাজটিই অনায়াসে সাধিত হয়েছে।

তাকে নিয়ে, বিশেষত তার মননশৈলী ও সৃজনসম্ভার বিষয়ে আলাদা করে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা আছে। তাকে অধ্যয়ন ও অনুধ্যানের আলোকে এক সময় তা করাও যাবে, যেমনটি শহীদুল জহির (পাণ্ডুলিপি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) এবং রিজিয়া রহমান (কালি ও কলম, বেঙ্গল পাবলিশার্স) প্রসঙ্গে করেছি। আপাতত তাকে অভিনন্দন।

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;

যারা পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী, ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

;

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

  • Font increase
  • Font Decrease

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৯তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। মাইকেল মদুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মভূমি যশোরের সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে মহাকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়ির মধুমঞ্চে কবির জীবনীর ওপর আলোচনা সভা। এছাড়া রয়েছে কবিতা আবৃত্তি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে মেলা উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। দুই বছর পর মেলা ঘিরে মধুপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও মধুসূদন দত্তের নামে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে যশোরবাসী।

মধুসূদনের পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন জমিদার। মা ছিলেন জাহ্নবী দেবী। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মা জাহ্নবী দেবীর কাছে। তেরো বছর বয়সে মদুসূদন দত্ত কলকাতা যান এবং স্থানীয় একটি স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনার পর তিনি সেসময়কার হিন্দু কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন।

তিনি বাংলা, ফরাসি ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষালাভ করেন। এরপর তিনি কলকাতার বিশপস কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। পরবর্তীতে আইনশাস্ত্রে পড়ার জন্য তিনি ইংল্যান্ড যান।

মাইকেল মদুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্যেও অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্ববাসী এ ধীমান কবিকে মনে রেখেছে কৃতজ্ঞচিত্তে। তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি হলো দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী (নাটক), পদ্মাবতী (নাটক), বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেকটর বধ ইত্যাদি।

এ মহাকবির জন্মের কারণেই সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ জগৎবিখ্যাত। কালের প্রবাহে কপোতাক্ষ নদের যৌবন বিলীন হলেও মাইকেলের কবিতার কপোতাক্ষ নদ যুগে যুগে বয়ে চলেছে।

১৮৭৩ সালে ২৯ জুন কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ মহাকবি। কলকাতায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

;