সাহিত্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দশ বিষয়বস্তু



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
পুরো গল্পকে একশব্দে যদি প্রকাশ করা যায়; সেটাই বিষয়বস্তু

পুরো গল্পকে একশব্দে যদি প্রকাশ করা যায়; সেটাই বিষয়বস্তু

  • Font increase
  • Font Decrease

একটা বইয়ের মূল বিষয়বস্তু বলতে ভেতরকার সার্বজনীন সুরকেই বোঝানো হয়। যে চিন্তা কিংবা সংবাদকে আশ্রয় করে নির্মিত হয় আখ্যানের পটভূমি, তা-ই বিষয়বস্তু। হুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ; আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’র বিষয়বস্তু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান অনিয়ম এবং অসভ্যতা। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের প্লট পুরোপুরি মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। বস্তুত প্রতিটা বই-ই জন্ম নেয় কোনো না কোনো বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে। তাই কিছু সাধারণ বিষয়বস্তু দেখা যায় অনেক বইয়ের মধ্যেই। অনেকগুলো বিষয়বস্তু নিয়ে একটা বই রচিত; এমন নজিরও বিরল নয়।

যেভাবে বুঝতে হয় বিষয়বস্তু
ছেলেবেলায় ঈশপের গল্প কে না পড়েছে? কচ্ছপ কিংবা খড়গোশের প্রতিযোগিতার সেই গল্পের অনেক কথার ভাঁজে শেষমেশ একটা কথাই মুখ্য হয়ে ওঠে—অধ্যবসায়ীরাই সত্যিকার অর্থে বিজয়ী হয়। অনুরূপ উপন্যাসের ক্ষেত্রেও। অনেকের কাছে অবশ্য উপন্যাস কিংবা গল্পের মূল বিষয়বস্তু বের করাটা রীতিমতো অসম্ভব। এরকম কোনো নিয়মও নেই যে, সাহিত্যিক একটা মাত্র লাইনে লেখার বিষয়বস্তু বলে নিয়ে লেখা শুরু করবেন। বস্তুত বিষয়বস্তু কখনো প্রকাশ্য আবার কখনো রূপকের মাধ্যমে গোটা গল্পকে জড়িয়ে রাখে।

যে কোনো লেখার বিষয়বস্তু বের করার জন্য একটা কাজ করা যেতে পারে। এমন একটি শব্দ সনাক্ত করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে উঠে আসে গোটা গল্পের উদ্দেশ্য। তবে শব্দটা যেন জীবনের সাথে সম্পর্কিত হয়। একটু এদিক সেদিক হলে অবশ্য দোষ নেই। যদিও লেখক একটা প্রসঙ্গে বন্দি হয়ে থাকেন না; থাকতে পারেন না। বিষয়বস্তু জিনিসটা অনুসন্ধানী পাঠকের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। কিছু বিখ্যাত বইয়ের প্রসঙ্গ ধরেই আলোচনা করা যাক।

বিচার
খুব সম্ভবত বিশ্বসাহিত্যে জনপ্রিয় একটি বিষয়বস্তু বিচার। এই ধরনের বইয়ে কোনো ব্যক্তিকে তার কাজের জন্য বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। কাজটা সত্যিকার অর্থেই মন্দ হোক কিংবা উপন্যাসের পটভূমিতে অন্যদের চোখে মন্দ—বিচারের ঘটনাটাই নাটকীয়তা তৈরি করে। ক্লাসিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে প্রায়ই। ‘দ্য স্কারলেট লেটার’, ‘টু কিল এ মকিংবার্ড’, ‘দ্য হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’ কিংবা ফ্রানৎস কাফকার ‘দ্য ট্রায়াল’-এর কথা সবার আগে উল্লেখযোগ্য। অবশ্য বিচারগুলো সবসময় ন্যায়বিচার হয়ে উঠতে পারে না।

বিচার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে

টিকে থাকা
শ্বাসরুদ্ধকর কিছু টিকে থাকার গল্প আছে; যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে রাতদিন। সামান্য জীবনের জন্য কিংবা প্রত্যাশা পূরণের জন্য পাড়ি দিতে থাকে এক স্তর থেকে আরেক স্তর। জ্যাক লন্ডনের যে কোনো বইকে এই ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়। চরিত্রগুলো যেন প্রায়ই বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। ‘লর্ড অব দ্য ফ্লাইস’ সেক্ষেত্রে সফল উদাহরণ। মাইকেল ক্রিচটনের ‘কংগো’ কিংবা ‘জোরাসিক পার্ক’-এর পেছনেও একই প্রভাবক।

যুদ্ধ ও শান্তি
শান্তি আর যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে গড়ে উঠেছে অজস্র উপন্যাস। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীকালে স্নায়ুযুদ্ধকালীন পরিস্থিতিও ভালো প্রভাবিত করেছে সাহিত্যিক মহলকে। বেশিরভাগ সময়েই রাজনৈতিক সংঘর্ষ কিংবা টানাপোড়েনে এইসব রচনার চরিত্রগুলো খাবি খায়। ‘গন উইদ দ্য উইন্ড’, ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’, ‘দ্য বয় ইন দ্য স্ট্রাইপড্ পাজামা’ এবং ‘দ্য রোড ব্যাক’ ঠিক এই ধরনের লেখা। যুদ্ধের পূর্বের জীবন এবং যুদ্ধময় পরিস্থিতিতে ভীতিকর অগোছালো জীবন চিত্রিত হয়েছে সূক্ষ্মতার সাথে।

যুদ্ধ বরাবরই সাহিত্যের আকর্ষণ

প্রেম
বিশ্বসাহিত্যে প্রেম যতটা সফলতার সাথে লেখকের মস্তিষ্ক দখল করে রেখেছে; অতোটা আর কিছুই পারেনি। এমনকি যুদ্ধ কিংবা অন্যান্য বিষয়বস্তুর ভেতরেও রোমান্টিকতাকে তুলে আনা হয় প্রায়শ। বাংলা সাহিত্যে শরৎচন্দ্র কিংবা রবীন্দ্রনাথের জীবনের বিশাল কর্ম গড়ে উঠেছে একে কেন্দ্র করে। বিশ্বসাহিত্যে জেন অস্টিনের ‘প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস’, টলস্টয়ের ‘আন্না কারেনিনা’, স্টিফেন মেয়ারের ‘টুইলাইট’-এর মতো উপন্যাসগুলো উদাহরণ হতে পারে।

বীরত্ব
মিথ্যে থাক কিংবা সত্য, বীরত্ব উপন্যাস রচনার অন্যতম মৌলিক বিষয়বস্তু হিসাবে প্রতীয়মান হয়েছে। সাধারণ কোনো চরিত্রের দুর্দান্ত অভিযাত্রা ও সাফল্যকে ফ্রেমে বন্দি করা হয় এখানে। হোমারের ‘ওডিসি’ থেকে শুরু করে ‘রামায়ণ’, ‘থ্রি মাসকেটিয়ার্স’, ‘হবিট’—এই শ্রেণির রচনার কাতারে পড়ে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যের নিদর্শনে বীরত্বই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। যেহেতু তৎকালীন রাজতান্ত্রিক সভ্যতায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধ্যান-ধারণা গড়ে উঠেছিল। এইজন্য ‘গিলগামেশ’ কিংবা ‘বেউলফ্’ থেকে পরবর্তী কালের ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ হিসাবে পরিগণিত।

শুভ এবং অশুভ
শুভ ও অশুভের পাশাপাশি অবস্থান মিথোলজি গড়ে ওঠার প্রধান উপজীব্য। প্রাচীন জরাথুস্ত্রবাদে ভালো আর মন্দের দেবতার মধ্যকার সংঘর্ষের মধ্য দিয়েই সৃষ্টিপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যুদ্ধ কিংবা বিচারের মতো বিষয়গুলোতেও ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব প্রতীকায়িত হয়ে ওঠে। জে কে রাউলিং এর ‘হ্যারি পটার’ কিংবা জে আর টোলকিনের ‘লর্ড অব দ্য রিং’-এর মূল কেন্দ্রবিন্দু শুভ ও অশুভের দ্বন্দ্ব। ‘স্টার ওয়ার্স’ কিংবা ‘দ্য উইচ এন্ড দ্য ওয়ারড্রব’-এর পেছনেও একই কথা প্রযোজ্য।

‘লর্ড অব দ্য রিংস’-এর প্রধান উপজীব্য শুভ ও অশুভের দ্বন্দ্ব

জীবনচক্র
জন্ম দিয়ে জীবনের শুরু আর মৃত্যু দিয়ে শেষ; লেখকেরা এই সত্যকে নাকচ করতে পারেননি। তাই অবচেতনে হলেও জীবন নিয়ে তুলে ধরেছেন নিজস্ব চিন্তা। ‘দ্য পিকচার অব ডোরিয়ান গ্রে’, ‘দ্য কিউরিয়াস কেইস অব বেনজামিন বাটন’ রচনাগুলো অনুরূপ উদাহরণ হতে পারে। বস্তুত বিষয়বস্তু হিসাবে জীবন ও মৃত্যু লেখকে আত্ম-অনুসন্ধানের দিকে ধাবিত করে। নিজেকে আবিষ্কারের পথ দেখায় নতুন করে। এজন্য ভারি কথা ও ভারি ভাব উঠে আসে।

ভোগান্তি পর্ব
শারীরিক হোক কিংবা মানসিক; মানুষের ভোগান্তি এক বৃহত্তম পরিসর ঘিরে আছে সাহিত্যের। জার্মান সাহিত্যিক ফ্রানৎস কাফকার গোটা রচনাতেই জীবনের জটিলতা ও ভোগান্তি উঠে এসেছে। দস্তয়ভস্কির ‘ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট’ দুঃখ আর ভোগান্তিতে পরিপূর্ণ। চার্লস ডিকেন্সের ‘অলিভার টুইস্ট’-এ অবশ্য শারীরিক যন্ত্রণাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। তারপরেও এই শ্রেণিতে উদাহরণ কম নেই।

‘অলিভার টুইস্ট’ উপন্যাসের প্রচ্ছদ

প্রতারণা
প্রতারণার আবার প্রকারভেদ আছে। সামাজিকভাবে হতে পারে কিংবা ব্যক্তি বিশেষের সাথেও। মার্ক টোয়েনের ‘দ্য এডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’ কিংবা শেক্সপিয়ারের অনেক নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতারণা একটা বড় স্থান নিয়ে আছে। যে কোনো রহস্য কিংবা রোমঞ্চধর্মী রচনার পেছনেও একই কথা প্রযোজ্য।

নতুন সময়
কিছু বইতে আবার উপর্যুক্ত বিষয়কে ছাপিয়ে পরিণত মনস্তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। আধুনিক সময়গুলোতে সাহিত্য অস্তিত্ববাদ, প্রথাবিরোধিতা, পরাবাস্তবতা কিংবা অন্যান্য আদর্শিক ধারাকে সামনে রেখে এগিয়ে গেছে। জীবনের খুটিনাটি বিষয়গুলো পরিণত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তুলে আনা হয় যত্নের সাথে। আলবেয়ার ক্যামুর ‘দ্য আউটসাইডার’, এবং স্যালিঙ্গারের ‘দ্য কেচার ইন দ্য রাই’ উপন্যাস এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। মার্কেজের ‘হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’, চিনুয়া আচেবের ‘থিংস ফল এপার্ট’ও এর আওতাভুক্ত।

‘আউটসাইডার’ জুড়ে রয়েছে অস্তিত্ববাদের ঘ্রাণ

উল্লিখিত বিষয়বস্তুর বাইরেও অনেকগুলো ধারা সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়। সায়েন্স ফিকশন, ইতিহাস, স্যাটায়ার কিংবা পুরানকথা দিনে দিনে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে নতুন করে। অনেক বিষয়বস্তু জন্ম নিচ্ছে নতুন পৃথিবীকে কথা বলানোর জন্য। আগামীর কথাসাহিত্যে এদের আবেদন কতটা টিকে থাকে তা সময়ই বলে দেবে।

   

অখণ্ড আকাশ



শরীফুল আলম
অখণ্ড আকাশ

অখণ্ড আকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিন তোমার সব অবহেলা আমি দ্বিগুণ করে
তোমাকেই ফিরিয়ে দেব,
তোমার সাবলীল ভঙ্গির ঘাতক সময় গুলো
আমাকে এখনও হানা দেয় ঘুমের ঘোরে ,
এ কেমন তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি ?
লতার মত তুমি জড়িয়ে থাকো সময়ের শূন্যতায়
প্রবল বাতাসে হৃদয় কেঁপে উঠে ,
আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য কোথায় , আমি তা জানিনা
হয়ত ভুলে যেতে হবে একদিন স্বপ্নের গল্প গুলো
তোমার ছবির ভাষা
রৌদ্রের গন্ধে ভরা বেবাক আকাশ ।

সংঘাত সরালে চেনা যায় অন্য আরেকটি সংঘাত
ভালোবাসার নিপুণ প্রতিশ্রতি , অবিনশ্বর আগামী ,
বৈপরিত্ব যেটুকু ছিল
তা তোমার বিভ্রমে ভরা নিগূঢ় রহস্য
আলতো ছাপ যেটুকু তুমি দিয়েছ আমায় তা লুকোবে কি করে ?
দায়সারা , চেনাশোনা , আধাচেনা , অচেনা রয়েই গেলে তুমি
শূন্য এ বুকে বিশাল আঁধার ঢেলে
মৃদু জল ঢেলে তুমি চলে গেলে ।

ফ্যাকাশে মুহূর্ত গুলো
প্রত্যহিক নিয়মেই এখন চলে ,
তবুও মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় জীবনানন্দ , রবীন্দ্রনাথ
পদ্মা , মেঘনা , যমুনা ।

তুমি নিরুদ্দেশ হবে হও
ষোড়শী চাঁদের আলো এখনও আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়
তাই জলের অতলে এখন আর খুঁজিনা সুখের মুক্তা ,
এ বুকের তলায় এখনও এক অখন্ড আকাশ ,
পূর্ণিমা নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না
অমবস্যার দুভাগ নিয়েও কোন কথা হবেনা
তবুও তুমি শচীন , মান্না হয়ে থেকো আমার ,
একদিন সকল অভিমান ভুলে
নিশ্চয় তুমি হাঁটু গেড়ে বসবে আমার সম্মুখে
জমানো কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ।

-

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

;

বার্তা২৪.কম’র বর্ষপূর্তি বিশেষ সাময়িকী

‘সপ্তবর্ণ’-এ অভিভূত মুহম্মদ জাফর ইকবাল যা বললেন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭ম বর্ষপূর্তি ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের শীর্ষ মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম প্রকাশ করেছে বিশেষ সাময়িকী ‘সপ্তবর্ণ’। এতে লিখেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান লেখকরা। সপ্তবর্ণে স্থান পেয়েছে শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধও।

মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার নিউজপোর্টালবার্তা২৪.কম’র বিশেষ সাময়িকীর কপি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল এই সংবাদমাধ্যমটির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। সপ্তবর্ণ সম্পাদক ও বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসময় তিনি সমকালীন সংবাদপত্রের বিবর্তন নিয়েও কথা বলেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বার্তা২৪.কম সপ্তমে পৌছেছে। আমার হিসেবে প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে ক্রুশিয়াল। কেউ যদি প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম করতে পারে, তখন ধরে নেওয়া যায়, হ্যা-পরবর্তী সময়টিতে তারা সাকসেসফুললি এগিয়ে যাবে।’

খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘বার্তা২৪.কম এর বিশেষ সাময়িকী সপ্তবর্ণ আমার হাতে। আমি চোখ বুলিয়ে দেখেছি, এতে কারা লিখেছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এত লেখকের এতগুলি লেখা তারা সুন্দর করে যত্ন নিয়ে একত্র করেছে। শুধু তাই না, আমার মত যে কোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-পুরো বিষয়টি আসলে ফোর কালার।’

‘খুবই সুন্দর, চমৎকার ঝকঝকে। চমৎকার সব ছবি। আমি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি লেখাগুলো পড়ার জন্য। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই, এত চমৎকার প্রকাশনা করার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়, যখন কোন একটা চমৎকার কিছু কেউ দেখে, তখন মনে করতে হবে এটা এমনি এমনি হয় নাই। ধরেই নিতে হবে এর পেছনে অনেক মানুষের অনেক শ্রম আছে। আমি অভিনন্দন জানাই তাদের, যারা এমন একটি সুন্দর প্রকাশনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে রাজি আছেন, যখন যখন মানুষদের কাগজের কিছু দেখার আর সময় নাই’-বলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আগামীতে বার্তা২৪.কম-কে এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালনের আহ্বানও জানান নন্দিত এই লেখক।

বার্তা২৪.কম টিমের সঙ্গে কথা বলছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

যে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা যেখাবে বড় হয়েছি, এখন সময়টা আসলেই পাল্টে গেছে। আমরা কাগজের খবর দেখে অভ্যস্ত। সবকিছু আমরা কাগজে পড়তাম। এখন যেটুকু কাগজে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আসে ইন্টারনেটে-ডিজিটাললি। সেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন। এবং আমরা যারা কাগজে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই জিনিসটি গ্রহণ করতে এখনও সময় লাগছে। যেহেতু বেশির ভাগ তথ্যই ডিজিটাললি আসছে, এর ভেতরে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার একটা ব্যাপার আছে।’

‘মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় অনেকটা অশিক্ষিতি মানুষের মতো। যেহেতু আমরা কাগজে পড়ে অভ্যস্ত, যখন ডিজিটাললি কিছু দেখি-প্রশ্ন আসে এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ যারা এটা তৈরি করছে, প্রকাশ করছে তারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে পারবে? সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কিনা? আমি দেখছি, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ সংবাদপত্র থেকে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে তার থেকে অনেক বেশি নেয় বিভিন্ন স্যোশাল নেটওয়ার্ক থেকে। এখানে একজন আরেক জনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে, এবং যে যে ধরণের তথ্য চায়, তাকে সে ধরণের তথ্যই দেওয়া হয়। ঘুরে ফিরে সে ওই ধরণের চক্রের ভেতরে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই একজন সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা যদি, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে-এটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যে জিনিসটা খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি করে, পপুলার-সেই জিনিসই যদি প্রচার করি তাহলে কিন্তু হবে না। নির্মোহভাবে আমাকে এমন তথ্য দিতে হবে যেটা বিশ্বাস করতে পারি। আমি অপেক্ষা করছি সেজন্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখি আর নিজেকে প্রশ্ন করি এটি কতটুকু বিশ্বাস করতে পারব।’

;

ভারতে যুগল সম্মননা প্রাপ্তিতে গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে যুগল সম্মাননা লাভ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা প্রদান করল শীর্ষ নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ইফতার ও সংবর্ধনায় ঢাকা পদাতিকসহ বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী ছাড়াও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। 

ইফতারের পর গোলাম কুদ্দুসকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা পদাতিকের সদস্যরা। তাকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে ঢাকা পদাতিকের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গোলাম কুদ্দুস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন নাদের চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহসহ অন্যরা। 

বক্তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গোলাম কুদ্দুসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর এই যুগল পদ প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানান। আগামী দিনেও বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।  

সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও হাওড়ায় দুটি সম্মাননায় ভূষিত হন লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। গত ১৮ মার্চ (২০২৪) কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাঘরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছের হাতে বঙ্গবন্ধু পদক তুলে দেন কলকাতার প্রবীণ কবি ও লেখক, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়া শ্রী পংকজ সাহা ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব রঞ্জণ সেন।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ(২০২৪) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কবি সাতকোর্নী ঘোষ সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘কলকাতার যীশু’র পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য গোলাম কুদ্দুছকে ‘একুশে স্মারক সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। 

;

জামাই



হানিফ ওয়াহিদ, রম্য লেখক
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ইফতার শেষ করে নামাজ শেষে হালকা একটা ঘুম দিয়েছিল রাকিব। হঠাৎ সুন্দরী শালী রিয়ার ভিডিও কল- কী করেন দুলাভাই?

রাকিব বিরক্তি চেপে একটা হাই তুলে বললো- ঘুমাই।

রিয়া খলবল করে বললো, ঘুম ভাঙছে?

- না, এখনো ভাঙে নাই।

ঠিক আছে। আমি আপনার ধরে হাত ধরে টান দিলাম- হেঁইয়ো! এইবার ভাঙছে!

- হ্যাঁ। কয়মাস?

রিয়া অবাক হয়ে বললো- কী, কয়মাস?

- পোলা না মাইয়া?

কী আবোলতাবোল বকেন দুলাভাই! গাঁজা দিয়ে ইফতার খাইছেন! নাকি শরবতের পরিবর্তে বোতল টানছেন!

রাকিব বিশাল হাই তুলতে তুলতে বললো, তোমার পেট উঁচা দেখা যায়!

রিয়া এবার হেসে ফেললো। আরে ভাই, এগুলো ইফতারি!

- ওরে সর্বনাশ! এক গ্রামের ইফতার তুমি একাই সাবাড় করেছো! এইটা পেট না কলসি! বাদ দেও, অসময়ে ফোন। কাহিনী কী?

আপা কই?

- আমার শত্রুর কথা বলছো! সে বাচ্চাদের অন্য রুমে পড়াতে বসেছে।

আপা যেন না জানে। আমাকে কিছু টাকা লোন দিতে হবে। আর্জেন্ট দরকার!

- লোন যে নিবা, বন্ধক কী রাখবা?

আপাতত আমার বোনকে বন্ধক রাখেন।

বন্ধকি পছন্দ হয় নাই। শোনো রিয়া, তুমি এ পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কত টাকা লোন নিছো জানো? আমি কি বিশ্বব্যাংক? কখনো কোনো টাকা ফেরত দিছো? তুমি তো আমার কাছে ঋণখেলাপি হয়ে গেলা…

বাজে আলাপ বন্ধ করেন তো‍! লোকজন সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েই ফেরত দেয় না! আর আপনি তো আমার দুলাভাই। দুলাভাইয়ের টাকায় শালীদের হক আছে। আপনার কাছে সারাজীবন ঋণখেলাপি হয়ে থাকতে চাই।

- টাকা পাবে না।

কেন?

- কারণ, আমি চাই না, তুমি সারাজীবন আমার কাছে ঋণখেলাপিদের একজন হয়ে থাকো। তোমার একটা ইজ্জত আছে নাহ!

আমার ইজ্জত নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আর টাকা কি মাগনা দেন! বিনিময় পান না!

রাকিব অবাক হলো- কী বিনিময়?

এই যে কথায় কথায় গালি দেন!

রাকিব যেন আকাশ থেকে পড়লো। হায় আল্লাহ! আমি তোমাকে কখন গালি দিলাম?

এই যে কথায় কথায় শালী বলেন, এটা গালি নাহ!

এইবার রাকিব হো হো করে হেসে ফেললো। মেয়েরা উল্টাপাল্টা কথা বলবে, এটাই নিয়ম। বাম পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা, মেয়েদের কথাবার্তাও তেমনি বাঁকা। এদের কথার ঠিক-ঠিকানা নাই।

- শোনো রিয়া, এবার মোবাইল রাখি। মশা আমাকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে কচকচ করে কামড়িয়ে খাচ্ছে।

মশা আপনাকে কচকচ করে খাবে কেন! আপনি কি শসা? বাসায় মশার কয়েল নাই?

আছে তো! ওই যে দেখছি, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর একটা মশা রাজা-বাদশার হালে বসে আছে। অথচ দোকানদার বলেছিল, মশা না গেলে টাকা ফেরত!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- গিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন।

- তবেই হয়েছে! ব্যাটা দোকানদার আমার শালীর হাজবেন্ড কি না! টাকা ফেরত চাহিবামাত্র তৎক্ষণাৎ বের করে দেবে!

রিয়া এবার দম ফাটিয়ে হাসতে লাগলো। আপনি খুবই মজার মানুষ দুলাভাই!

- বইন রে, একমাত্র তুমিই আমাকে বুঝতে পারলা! তোমার বোন তো আমাকে হাঁদারাম গাধা মনে করে। তাকে কীভাবে বোঝাই, মজার মানুষই ভালো! বেজার মানুষ কেউ পছন্দ করে না। অবশ্য তোমার বোন হচ্ছে উল্টা। তার ধারণা, বোকা মানুষরা অকারণে হা হা হি হি করে! অথচ হাসলে মানুষের মন ভালো থাকে। যাক গে, তোমার হাজবেন্ড কই?

সে শুয়ে শুয়ে তার ফিউচার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

- বাহ! ভালো ছেলে। ফিউচার আছে। এখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মোটেই ভালো ছেলে নয়, দুলাভাই। তার মোবাইল ফোন এখন চার্জে। তাই, টাইম পাস করছে। তার ভবিষ্যত অন্ধকার! বোকার হদ্দ! আপনার ধারেকাছেও সে নাই। তাকে আমি সারাক্ষণ বোঝাই- আমার দুলাভাইকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো। আপনি যদি হন মহারাজ, সে হবে ফকিরবাজ!

শুধু আমি বলেই তার সংসার করে গেলাম, অন্য কেউ হলে… আমি তাকে বলি, এত মোবাইল টিপে কী সুখ পাও? সে আমাকে কী বলে জানেন?

- না, কী বলে?

সে বলে, মোবাইল টেপার মতো সুখ নাকি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টা নাই!

রাকিব হাসতে লাগলো। কী বলো এসব! আর এই ডায়ালগ কীভাবে শিখলে? এটা তো তোমার আপার প্রতিদিনকার ডায়লগ!

কোনটা?

- এই যে, আমি বলেই তোমার সংসার করে গেলাম… এই কথাটা আমাকে তোমার আপা প্রতিদিন কমছেকম তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়। তো, তুমি যে তোমার হাজবেন্ডকে পছন্দ করো না, আবার তার সব কাজই অনুসরণ করো! মাথা ঘোরায় না! বমি বমি লাগে না!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- আপনিও তো আপার বদনাম করতেছেন…

- তোমার আপার বদনাম করার সাহস আমার নাই রে বইন! সে মনে করে আমি বোকার হদ্দ। আমার বর্তমান ভবিষ্যত কিছুই নাই। তোমার হাজবেন্ডের ভবিষ্যত ফিলিপস বাতির মতো ফকফকা! তার দুঃখ, তোমার হাজবেন্ডের মতো একটা এত ভালো ভদ্র হাজবেন্ড কেউ পায় নাই! তার কপাল নাকি খুবই খারাপ!

রিয়া এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ও মা! তাই! ওই কবিতাটা শোনেন নাই, দুলাভাই! ওই যে, নদীর এপাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়েতে যত সুখ আমার বিশ্বাস!

রাকিব মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো- আমি তো জানতাম, তোমার হাজবেন্ড আসলেই ভালো একজন ছেলে। বেশ অমায়িক! তুমি আবার তার সাথে ঝগড়া করো নাকি! কী নিয়ে ঝগড়া করো তোমরা?

রিয়া হাসতে হাসতে বললো, মেয়েদের ঝগড়া করতে কোনো কারণ লাগে না দুলাভাই! শুধু একটা হাজবেন্ড থাকলেই চলে!

রাকিব অবাক হয়ে বললো- আরে তাই তো! তার বউও তো অকারণেই তার সাথে ঝগড়া করে!

তাহলে কি সব মেয়েই এমন!

;