জেমস জয়েসের ইউলিসিস: পৌরাণিক আখ্যান থেকে মানবিক উপাখ্যান



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
জেমস জয়েস

জেমস জয়েস

  • Font increase
  • Font Decrease

জেমস জয়েস ও তার জগদ্বিখ্যাত উপন্যাস ‘ইউলিসিস’-এর নাম জানেন না, এমন শিক্ষিত লোক বিশ্বে বিরল। কিন্তু ১৯১৪ সালে পৃথিবীর কেউই তাকে চিনতেন না। সে বছর ২২ বার নাকচ হওয়া জয়েসের ছোটগল্পের একটি বই ছাপাতে রাজি হন লন্ডনের এক প্রকাশক। তারপর ক্রমশ তিনি চলে আসেন পাদপ্রদীপের আলোয়। পরিচিত হন বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে।

১৩ জানুয়ারি, ১৯৪১ সালে পরলোকে পাড়ি দেওয়া এই লেখক ২ ফেব্রুয়ারি ১৮৮২ সালে জন্ম নেন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন শহরে। জেমস অগাস্টিন অ্যালওসিয়াস জয়েস নামের আইরিশ লোকটিই ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, মার্কিন কবি এজরা পাউন্ড যার আরেক বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Portrait of the Artist’এর সম্পাদনার কাজ করেন।

‘ইউলিসিস’ উপন্যাস জয়েসকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিত করে। হোমারের মহাকাব্য ‘ওডিসি’র সমান্তরালে উপন্যাসটি তিনি বিশাল কলেবরে রচনা করেন। তার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হলো ‘ডাবলিনারস’, ‘ফিনেগ্যানস ওয়েক’।

জেমস জয়েস ইউলেসিসের (Ulysses) নামকরণ করেছেন একটি বিখ্যাত গ্রিক বীরত্বগাঁথা থেকে। ইউলেসিসে বর্ণনা করা হয়েছে এক মহান গ্রিক বীরের। যিনি ট্রয় যুদ্ধ জয় শেষে তার নিজ দেশ ইথাকায় ফিরে যাচ্ছেন। উপাখ্যানটি সে ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আবর্তিত।

মহাকাব্যিক আখ্যান থেকে বের হয়ে এসে ‘ইউলিসিস’-এ জেমস জয়েস নিয়ে আসেন এক আলাদা আবহ ও মাত্রা। তার ‘ইউলিসিস’-এর নায়ক কোনো মহান সম্রাট অথবা কোনো বীর নন, এক অতি সাধারণ, সাদামাটা, দয়ালু, বোকা মানুষ, নাম লিওপারড ব্লুম। খুব ছোটোখাটো একটা চাকরি করা ব্লুমের চরিত্রে সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটির কোনো শেষ নেই। ভাগ্যও তার সঙ্গে বীরের মতো আচরণ করেনি। করেছে দারুণ অসহযোগিতা।

জেমস জয়েস দেখান, তার কাহিনীর নায়ক চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়, তার স্ত্রী অন্যের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। ক্যাথলিক সমাজে ইহুদি ব্লুম উপেক্ষার পাত্র হতে থাকে। কেউই তার দিকে ভালো নজরে তাকায় না পর্যন্ত। তারপরও লিওপারড হেরে যায় না। সে স্বপ্ন দেখে। সে কল্পনা করে একটি সুন্দর, হাসিখুশি জীবনের। লড়াকু মানুষের আশাবাদী স্বপ্ন ও ইতিবাচক কল্পনাই জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’-এর মূল উপজীব্য।

নায়কোচিত কোনো গুণ না থাকা সত্ত্বেও জয়েস এই রকম ব্যক্তিত্বের দিকে ‘সমাজের দৃষ্টি’ নিয়ে আলোকপাত করেছেন। জয়েস দেখিয়েছেন, ব্লুমের অধিকার রয়েছে সমাজ থেকে যোগ্য সম্মান পাবার। অবশ্যই তাকে নিয়েও সমাজের ততটা আগ্রহ থাকা উচিত যতটা আগ্রহ থাকে মানুষের গ্রিক বীর ইউলিসিসের গল্পের প্রতি। পৌরাণিক আখ্যানকে ছাপিয়ে ব্যক্তিমানুষের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার আধুনিক প্রতিফলন জেমস জয়েসের কথাশিল্পের অন্যতম শক্তিমত্তার পরিচায়ক।

জয়েসের প্রিয় ডাবলিন শহর


ফলে জেমস জয়েসের ইউলিসিস উপন্যাসটিকে বলা যেতে পারে, পৌরাণিক আখ্যান পেরিয়ে আসা মানবিক উপাখ্যান। কারণ, ইংরেজি ভাষার যে কয়েকজন সাহিত্যিক তাদের সাহিত্যকর্মে সমাজের সব স্তরের মানুষের কথা বলেছেন এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম সেরা হয়ে আছেন আইরিশ সাহিত্যিক জেমস জয়েস। ব্রিটিশ রাজতান্ত্রিক গৌরব ও অভিজাত্য শ্রেণির জ্যাতাভিমান ভিত্তিক সাহিত্যের বিপরীতে জেমস জয়েস হলেন মানবিক মানুষের জয়গানে মুখরিত।

জয়েসের উপন্যাস মানুষের সংগ্রামশীলতার প্রতি প্রচলিত নজর বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কথা বলে। মানুষকে মর্যাদা দেওয়া, নিজেদেরকেই নিজেদের সমাদর করার শিক্ষা দেন জেমস জয়েস। তিনি মনে করেন, প্রাচীন বীরপূজা নয়, আধুনিক জীবনে এটাই মেনে নিতে হবে যে, মানুষের ক্ষুদ্র জীবনে নানা সংগ্রাম প্রতিটি মানুষকেই ঘিরে আছে এবং মানুষের জীবন নাট্যের নায়ক বা নিয়ন্ত্রক মানুষ নিজেই, অন্য কেউ নয়।

জয়েস মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, মানুষের জীবনে যে প্রতিদিনের কাজগুলো করা হয়, যেমন, খাওয়া, নিজের দুঃখে ও মানুষের দুঃখে দুঃখিত হওয়া, বাজার করা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি, সেগুলো তুচ্ছ বা উপেক্ষা করার মতো নয়। এই ব্যাপারগুলো সুন্দর, গভীর এবং আসলেই প্রশংসার দাবিদার। মানুষের প্রতিদিনের জীবন ঐ গ্রিক বীরের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। কারণ প্রত্যেকের জীবনটা একেকটা ছোট ছোট যুদ্ধক্ষেত্র আর এখানে প্রতিটি মানুষই জীবনসংগ্রামের সৈনিক। পৌরাণিক যুদ্ধকে জেমস জয়েস দেখেছেন প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধে।

নিজেও তিনি জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ফলে সাহিত্যিক জীবনে সেই কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন জেমস জয়েস। আধুনিক জীবন সংগ্রামকে মহাকালের নিরিখে ফুটিয়ে তুলেছেন। সমাজের বাস্তব ছবি দেখার জন্য তিনি সরেজমিনে ঘুরেছেন পথে-প্রান্তরে, দেশে দেশে। প্রচণ্ড শব্দ ও বাক্য শক্তির অধিকারী এই প্রথিতযশা কথা সাহিত্যিক তার লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন জীবনের গল্প, সমাজের গল্প। তার উপন্যাস ও গল্পে কাহিনীর বয়ান এতোই নিখুঁত যে চোখের সামনে সব কিছু বাস্তবের মতো দেখতে পাওয়া যায়। তার কলমে ডাবলিন শহর ও সেখানকার মানুষগুলো পাঠকের সামনে জীবন্ত সত্তায় প্রতিভাত হয়।

জেমস জয়েসের লেখায় একাধারে স্থান পেয়েছে খুব সাধারণ জীবনের বর্ণাঢ্যতা, আবার মানব মনের বিচিত্র সব চিন্তা প্রবাহ (যা stream of consciousness নামে পরিচিত)। এমনকি শেষ উপন্যাসে তিনি আবিষ্কারই করে ফেলেন এমন এক বিচিত্র ভাষা শৈলী ও শিল্পবোধ, যা তার অনন্য স্বকীয়তার স্মারক।

তার শিল্প তৃষ্ণা ছিল প্রবল। মানুষ, সমাজ ও জগতের নানা বিষয় জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করেছেন তিনি জীবনভর। জানতে চেয়েছেন, শিল্প কী, কেন? তার বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘The Portrait of the Artist as a Young Man’-এ বলেছেন, একজন শিল্পীর সত্যিকারের শিল্পী হয়ে উঠতে দুটি গুণ থাকা দরকার, তা হলো:
এক) Integritas বা শিল্পী হিসেবে একজনের শৈল্পিক সত্ত্বার অখণ্ডতা, দুই) Claritas বা পাঠকের কাছে একজন শিল্পীর দায়বদ্ধতা।

জয়েস তার পুরো জীবনের প্রথম ২০ বছর জন্মভূমি ডাবলিন শহরেই কাটিয়েছেন। এ সময় তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন অলিতে-গলিতে, পথে-প্রান্তরে। খুব কাছ দিয়ে দেখেছেন মানুষের জীবন। পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন শহর যেমন, ইতালির অড্রিয়াটিক সমুদ্র তীরের ট্রিএস্ট, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এবং ফ্রান্সের প্যারিসের মতো শহরগুলোই হয়ে ওঠে তার আবাস ও ঠিকানা। দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি লিখেছেন। এগুলোর মধ্যে আছে দুটি কবিতার বইও। আরো আছে, একটি ছোটগল্পের সংকলন, একটি নাটক এবং তিনটি উপন্যাস।

সব লেখকের কাছে নিজ শহর যেমন একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য পায়, ডাবলিন জয়েসের কাছে তেমনই। পরবর্তীতে ওরহাম পামুকের মধ্যে ইস্তাম্বুলের প্রভাব দেখা গেছে। এমন উদাহরণ বহু দেওয়া যায়। ‘মাত্রা ও পটভূমি’তে ভিন্ন ভিন্ন হলেও প্রিয় শহর ডাবলিনের প্রভাব ছিল তার সব লেখাতেই। ডাবলিন এমনই এক শহর ছিল তার কাছে, যে শহরকে তিনি একইসাথে পাগলের মতো ভালোবাসতেন এবং ঘৃণাও করতেন। তার লেখাতেই উঠে এসেছে সেসব কথা। এর পেছনে একটি প্রেক্ষাপট আছে। আর আছে স্বাধীনতার স্পৃহা।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ডাবলিন তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটা অংশ ছিল এবং পরাধীনতার এই বিষয়টি কোনো আইরিশ নাগরিক কখনোই মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। ফলে সকল আইরিশের মতো একটা স্বাধীন, সুন্দর ডাবলিনের স্বপ্ন দেখতেন তিনি ছোটবেলাতেই। তার পড়াশোনার শুরু জেজুইটে (Jesuits), এসময়েই তিনি বিদেশি ভাষাতে অসামান্য দক্ষতা দেখাতে শুরু করেন। যখন তিনি ডাবলিনের ইউনিভার্সিটি কলেজের ছাত্র, তখন থেকেই তিনি পুরোদমে বই রিভিউ, কবিতা, ছোটগল্প এগুলো লেখা শুরু করেন।

কিন্তু পেশা হিসাবে সাহিত্যকর্ম একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য ছিল না। সাহিত্য করে পেট চলবে না, এমনই ছিল পরিস্থিতি। ফলে তিনি প্যারিসে চলে গেলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার জন্য। কিন্তু ফল হল উল্টো, কলেজ ও লাইব্রেরিমুখী হবার বদলে সমানতালে ভিড় জমাতে শুরু করলেন তিনি মদখানা আর পতিতালয়ে। জীবনকে তিনি দেখতে লাগলেন বিভিন্ন পরিসরে এবং নিজের অভিজ্ঞতার আয়নায়।

জীবনের এমনই জটিল ও এলোমেলো পর্যায়ে, ১৯০৪ সালে, হঠাৎ করেই জয়েসের ভালো লেগে গেল গ্যালওয়ের এক অশিক্ষিত কিন্তু অত্যন্ত আবেদনময়ী নারীকে, যার নাম নোরা বার্নাকেল। নোরাও পড়ে গেলেন ভালোবাসার এক মায়াবী জালে। তাদের মধ্যে গভীর প্রেম ও প্রণয় সঞ্চারিত হয়। জীবনে কেউ কাউকে ছেড়ে যাননি। জয়েসের অত্যন্ত জটিল এবং কঠিন জীবন সংগ্রামের সময়ে নোরা জয়েসের পাশেই ছিলেন।

নোরাকে নিয়েই জয়েস ইউরোপের দেশে দেশে পাড়ি জমান। পরবর্তী ১০ বছর যাযাবরের মতো ঘুরতে থাকেন বিভিন্ন শহরে। সংসার পাতেন, হয়ে ওঠেন বাচ্চাকাচ্চার জন্মদাতা। জয়েসের সকল কর্মপ্রয়াসের পেছনে নেপথ্যের প্রণোদনা ছিল নোরার।

আর তার সাহিত্যের সাফল্যের পেছনে ছিল বাস্তব অভিজ্ঞতায় আহরিত উপাদান, যা তিনি গভীরতমভাবে দেখেছেন এবং ভাষার আখরে বাস্তবে রূপায়িত করেছেন। মানুষের বীরত্ব ও ক্ষুদ্রতা, মহত্ত্ব ও শঠতা পাশাপাশি রেখে দেখেছেন তিনি। বলেছেন, ‘অনুপস্থিতই সবচেয়ে বড় উপস্থিতি’, ‘জীবনে ভুল বলে কিছু নেই, প্রতিটি ভুলই একেকটি অভিজ্ঞতা।’ জেমস জয়েসের লেখায় পাওয়া উক্তিগুলো কেবল বইয়ে নয়, বহুল উল্লেখিত ও ব্যবহৃত হয়েছে বাস্তব জীবনেও।

জেমস জয়েস তার সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে এমনই এক স্থায়ী প্রভাব রেখেছেন, যা কাল ও ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে নিত্য প্রবহমান। নিজের সমকালকে ছুঁয়ে তিনি তার সাহিত্য সম্ভারের মধ্য দিয়ে পৌঁছে গেছেন আজকের পাঠকের কাছেও, লেখক হিসাবে যা তার শক্তিমত্তা ও বিশিষ্টতার গতিময়তাকেই প্রমাণিত করে।

   

অখণ্ড আকাশ



শরীফুল আলম
অখণ্ড আকাশ

অখণ্ড আকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিন তোমার সব অবহেলা আমি দ্বিগুণ করে
তোমাকেই ফিরিয়ে দেব,
তোমার সাবলীল ভঙ্গির ঘাতক সময় গুলো
আমাকে এখনও হানা দেয় ঘুমের ঘোরে ,
এ কেমন তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি ?
লতার মত তুমি জড়িয়ে থাকো সময়ের শূন্যতায়
প্রবল বাতাসে হৃদয় কেঁপে উঠে ,
আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য কোথায় , আমি তা জানিনা
হয়ত ভুলে যেতে হবে একদিন স্বপ্নের গল্প গুলো
তোমার ছবির ভাষা
রৌদ্রের গন্ধে ভরা বেবাক আকাশ ।

সংঘাত সরালে চেনা যায় অন্য আরেকটি সংঘাত
ভালোবাসার নিপুণ প্রতিশ্রতি , অবিনশ্বর আগামী ,
বৈপরিত্ব যেটুকু ছিল
তা তোমার বিভ্রমে ভরা নিগূঢ় রহস্য
আলতো ছাপ যেটুকু তুমি দিয়েছ আমায় তা লুকোবে কি করে ?
দায়সারা , চেনাশোনা , আধাচেনা , অচেনা রয়েই গেলে তুমি
শূন্য এ বুকে বিশাল আঁধার ঢেলে
মৃদু জল ঢেলে তুমি চলে গেলে ।

ফ্যাকাশে মুহূর্ত গুলো
প্রত্যহিক নিয়মেই এখন চলে ,
তবুও মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় জীবনানন্দ , রবীন্দ্রনাথ
পদ্মা , মেঘনা , যমুনা ।

তুমি নিরুদ্দেশ হবে হও
ষোড়শী চাঁদের আলো এখনও আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়
তাই জলের অতলে এখন আর খুঁজিনা সুখের মুক্তা ,
এ বুকের তলায় এখনও এক অখন্ড আকাশ ,
পূর্ণিমা নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না
অমবস্যার দুভাগ নিয়েও কোন কথা হবেনা
তবুও তুমি শচীন , মান্না হয়ে থেকো আমার ,
একদিন সকল অভিমান ভুলে
নিশ্চয় তুমি হাঁটু গেড়ে বসবে আমার সম্মুখে
জমানো কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ।

-

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

;

বার্তা২৪.কম’র বর্ষপূর্তি বিশেষ সাময়িকী

‘সপ্তবর্ণ’-এ অভিভূত মুহম্মদ জাফর ইকবাল যা বললেন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭ম বর্ষপূর্তি ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের শীর্ষ মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম প্রকাশ করেছে বিশেষ সাময়িকী ‘সপ্তবর্ণ’। এতে লিখেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান লেখকরা। সপ্তবর্ণে স্থান পেয়েছে শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধও।

মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার নিউজপোর্টালবার্তা২৪.কম’র বিশেষ সাময়িকীর কপি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল এই সংবাদমাধ্যমটির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। সপ্তবর্ণ সম্পাদক ও বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসময় তিনি সমকালীন সংবাদপত্রের বিবর্তন নিয়েও কথা বলেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বার্তা২৪.কম সপ্তমে পৌছেছে। আমার হিসেবে প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে ক্রুশিয়াল। কেউ যদি প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম করতে পারে, তখন ধরে নেওয়া যায়, হ্যা-পরবর্তী সময়টিতে তারা সাকসেসফুললি এগিয়ে যাবে।’

খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘বার্তা২৪.কম এর বিশেষ সাময়িকী সপ্তবর্ণ আমার হাতে। আমি চোখ বুলিয়ে দেখেছি, এতে কারা লিখেছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এত লেখকের এতগুলি লেখা তারা সুন্দর করে যত্ন নিয়ে একত্র করেছে। শুধু তাই না, আমার মত যে কোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-পুরো বিষয়টি আসলে ফোর কালার।’

‘খুবই সুন্দর, চমৎকার ঝকঝকে। চমৎকার সব ছবি। আমি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি লেখাগুলো পড়ার জন্য। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই, এত চমৎকার প্রকাশনা করার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়, যখন কোন একটা চমৎকার কিছু কেউ দেখে, তখন মনে করতে হবে এটা এমনি এমনি হয় নাই। ধরেই নিতে হবে এর পেছনে অনেক মানুষের অনেক শ্রম আছে। আমি অভিনন্দন জানাই তাদের, যারা এমন একটি সুন্দর প্রকাশনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে রাজি আছেন, যখন যখন মানুষদের কাগজের কিছু দেখার আর সময় নাই’-বলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আগামীতে বার্তা২৪.কম-কে এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালনের আহ্বানও জানান নন্দিত এই লেখক।

বার্তা২৪.কম টিমের সঙ্গে কথা বলছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

যে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা যেখাবে বড় হয়েছি, এখন সময়টা আসলেই পাল্টে গেছে। আমরা কাগজের খবর দেখে অভ্যস্ত। সবকিছু আমরা কাগজে পড়তাম। এখন যেটুকু কাগজে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আসে ইন্টারনেটে-ডিজিটাললি। সেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন। এবং আমরা যারা কাগজে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই জিনিসটি গ্রহণ করতে এখনও সময় লাগছে। যেহেতু বেশির ভাগ তথ্যই ডিজিটাললি আসছে, এর ভেতরে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার একটা ব্যাপার আছে।’

‘মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় অনেকটা অশিক্ষিতি মানুষের মতো। যেহেতু আমরা কাগজে পড়ে অভ্যস্ত, যখন ডিজিটাললি কিছু দেখি-প্রশ্ন আসে এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ যারা এটা তৈরি করছে, প্রকাশ করছে তারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে পারবে? সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কিনা? আমি দেখছি, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ সংবাদপত্র থেকে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে তার থেকে অনেক বেশি নেয় বিভিন্ন স্যোশাল নেটওয়ার্ক থেকে। এখানে একজন আরেক জনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে, এবং যে যে ধরণের তথ্য চায়, তাকে সে ধরণের তথ্যই দেওয়া হয়। ঘুরে ফিরে সে ওই ধরণের চক্রের ভেতরে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই একজন সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা যদি, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে-এটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যে জিনিসটা খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি করে, পপুলার-সেই জিনিসই যদি প্রচার করি তাহলে কিন্তু হবে না। নির্মোহভাবে আমাকে এমন তথ্য দিতে হবে যেটা বিশ্বাস করতে পারি। আমি অপেক্ষা করছি সেজন্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখি আর নিজেকে প্রশ্ন করি এটি কতটুকু বিশ্বাস করতে পারব।’

;

ভারতে যুগল সম্মননা প্রাপ্তিতে গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে যুগল সম্মাননা লাভ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা প্রদান করল শীর্ষ নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ইফতার ও সংবর্ধনায় ঢাকা পদাতিকসহ বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী ছাড়াও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। 

ইফতারের পর গোলাম কুদ্দুসকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা পদাতিকের সদস্যরা। তাকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে ঢাকা পদাতিকের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গোলাম কুদ্দুস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন নাদের চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহসহ অন্যরা। 

বক্তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গোলাম কুদ্দুসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর এই যুগল পদ প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানান। আগামী দিনেও বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।  

সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও হাওড়ায় দুটি সম্মাননায় ভূষিত হন লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। গত ১৮ মার্চ (২০২৪) কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাঘরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছের হাতে বঙ্গবন্ধু পদক তুলে দেন কলকাতার প্রবীণ কবি ও লেখক, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়া শ্রী পংকজ সাহা ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব রঞ্জণ সেন।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ(২০২৪) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কবি সাতকোর্নী ঘোষ সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘কলকাতার যীশু’র পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য গোলাম কুদ্দুছকে ‘একুশে স্মারক সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। 

;

জামাই



হানিফ ওয়াহিদ, রম্য লেখক
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ইফতার শেষ করে নামাজ শেষে হালকা একটা ঘুম দিয়েছিল রাকিব। হঠাৎ সুন্দরী শালী রিয়ার ভিডিও কল- কী করেন দুলাভাই?

রাকিব বিরক্তি চেপে একটা হাই তুলে বললো- ঘুমাই।

রিয়া খলবল করে বললো, ঘুম ভাঙছে?

- না, এখনো ভাঙে নাই।

ঠিক আছে। আমি আপনার ধরে হাত ধরে টান দিলাম- হেঁইয়ো! এইবার ভাঙছে!

- হ্যাঁ। কয়মাস?

রিয়া অবাক হয়ে বললো- কী, কয়মাস?

- পোলা না মাইয়া?

কী আবোলতাবোল বকেন দুলাভাই! গাঁজা দিয়ে ইফতার খাইছেন! নাকি শরবতের পরিবর্তে বোতল টানছেন!

রাকিব বিশাল হাই তুলতে তুলতে বললো, তোমার পেট উঁচা দেখা যায়!

রিয়া এবার হেসে ফেললো। আরে ভাই, এগুলো ইফতারি!

- ওরে সর্বনাশ! এক গ্রামের ইফতার তুমি একাই সাবাড় করেছো! এইটা পেট না কলসি! বাদ দেও, অসময়ে ফোন। কাহিনী কী?

আপা কই?

- আমার শত্রুর কথা বলছো! সে বাচ্চাদের অন্য রুমে পড়াতে বসেছে।

আপা যেন না জানে। আমাকে কিছু টাকা লোন দিতে হবে। আর্জেন্ট দরকার!

- লোন যে নিবা, বন্ধক কী রাখবা?

আপাতত আমার বোনকে বন্ধক রাখেন।

বন্ধকি পছন্দ হয় নাই। শোনো রিয়া, তুমি এ পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কত টাকা লোন নিছো জানো? আমি কি বিশ্বব্যাংক? কখনো কোনো টাকা ফেরত দিছো? তুমি তো আমার কাছে ঋণখেলাপি হয়ে গেলা…

বাজে আলাপ বন্ধ করেন তো‍! লোকজন সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েই ফেরত দেয় না! আর আপনি তো আমার দুলাভাই। দুলাভাইয়ের টাকায় শালীদের হক আছে। আপনার কাছে সারাজীবন ঋণখেলাপি হয়ে থাকতে চাই।

- টাকা পাবে না।

কেন?

- কারণ, আমি চাই না, তুমি সারাজীবন আমার কাছে ঋণখেলাপিদের একজন হয়ে থাকো। তোমার একটা ইজ্জত আছে নাহ!

আমার ইজ্জত নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আর টাকা কি মাগনা দেন! বিনিময় পান না!

রাকিব অবাক হলো- কী বিনিময়?

এই যে কথায় কথায় গালি দেন!

রাকিব যেন আকাশ থেকে পড়লো। হায় আল্লাহ! আমি তোমাকে কখন গালি দিলাম?

এই যে কথায় কথায় শালী বলেন, এটা গালি নাহ!

এইবার রাকিব হো হো করে হেসে ফেললো। মেয়েরা উল্টাপাল্টা কথা বলবে, এটাই নিয়ম। বাম পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা, মেয়েদের কথাবার্তাও তেমনি বাঁকা। এদের কথার ঠিক-ঠিকানা নাই।

- শোনো রিয়া, এবার মোবাইল রাখি। মশা আমাকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে কচকচ করে কামড়িয়ে খাচ্ছে।

মশা আপনাকে কচকচ করে খাবে কেন! আপনি কি শসা? বাসায় মশার কয়েল নাই?

আছে তো! ওই যে দেখছি, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর একটা মশা রাজা-বাদশার হালে বসে আছে। অথচ দোকানদার বলেছিল, মশা না গেলে টাকা ফেরত!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- গিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন।

- তবেই হয়েছে! ব্যাটা দোকানদার আমার শালীর হাজবেন্ড কি না! টাকা ফেরত চাহিবামাত্র তৎক্ষণাৎ বের করে দেবে!

রিয়া এবার দম ফাটিয়ে হাসতে লাগলো। আপনি খুবই মজার মানুষ দুলাভাই!

- বইন রে, একমাত্র তুমিই আমাকে বুঝতে পারলা! তোমার বোন তো আমাকে হাঁদারাম গাধা মনে করে। তাকে কীভাবে বোঝাই, মজার মানুষই ভালো! বেজার মানুষ কেউ পছন্দ করে না। অবশ্য তোমার বোন হচ্ছে উল্টা। তার ধারণা, বোকা মানুষরা অকারণে হা হা হি হি করে! অথচ হাসলে মানুষের মন ভালো থাকে। যাক গে, তোমার হাজবেন্ড কই?

সে শুয়ে শুয়ে তার ফিউচার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

- বাহ! ভালো ছেলে। ফিউচার আছে। এখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মোটেই ভালো ছেলে নয়, দুলাভাই। তার মোবাইল ফোন এখন চার্জে। তাই, টাইম পাস করছে। তার ভবিষ্যত অন্ধকার! বোকার হদ্দ! আপনার ধারেকাছেও সে নাই। তাকে আমি সারাক্ষণ বোঝাই- আমার দুলাভাইকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো। আপনি যদি হন মহারাজ, সে হবে ফকিরবাজ!

শুধু আমি বলেই তার সংসার করে গেলাম, অন্য কেউ হলে… আমি তাকে বলি, এত মোবাইল টিপে কী সুখ পাও? সে আমাকে কী বলে জানেন?

- না, কী বলে?

সে বলে, মোবাইল টেপার মতো সুখ নাকি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টা নাই!

রাকিব হাসতে লাগলো। কী বলো এসব! আর এই ডায়ালগ কীভাবে শিখলে? এটা তো তোমার আপার প্রতিদিনকার ডায়লগ!

কোনটা?

- এই যে, আমি বলেই তোমার সংসার করে গেলাম… এই কথাটা আমাকে তোমার আপা প্রতিদিন কমছেকম তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়। তো, তুমি যে তোমার হাজবেন্ডকে পছন্দ করো না, আবার তার সব কাজই অনুসরণ করো! মাথা ঘোরায় না! বমি বমি লাগে না!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- আপনিও তো আপার বদনাম করতেছেন…

- তোমার আপার বদনাম করার সাহস আমার নাই রে বইন! সে মনে করে আমি বোকার হদ্দ। আমার বর্তমান ভবিষ্যত কিছুই নাই। তোমার হাজবেন্ডের ভবিষ্যত ফিলিপস বাতির মতো ফকফকা! তার দুঃখ, তোমার হাজবেন্ডের মতো একটা এত ভালো ভদ্র হাজবেন্ড কেউ পায় নাই! তার কপাল নাকি খুবই খারাপ!

রিয়া এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ও মা! তাই! ওই কবিতাটা শোনেন নাই, দুলাভাই! ওই যে, নদীর এপাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়েতে যত সুখ আমার বিশ্বাস!

রাকিব মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো- আমি তো জানতাম, তোমার হাজবেন্ড আসলেই ভালো একজন ছেলে। বেশ অমায়িক! তুমি আবার তার সাথে ঝগড়া করো নাকি! কী নিয়ে ঝগড়া করো তোমরা?

রিয়া হাসতে হাসতে বললো, মেয়েদের ঝগড়া করতে কোনো কারণ লাগে না দুলাভাই! শুধু একটা হাজবেন্ড থাকলেই চলে!

রাকিব অবাক হয়ে বললো- আরে তাই তো! তার বউও তো অকারণেই তার সাথে ঝগড়া করে!

তাহলে কি সব মেয়েই এমন!

;