ভাষা রাজনীতি আধিপত্য



আহমেদ স্বপন মাহমুদ
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

১.
কেবল এই মুল্লুকে নয়, ভাষা নিয়ে সর্বত্রই একটা জবরদস্তি লক্ষ করা যায়। এই জবরদস্তি অরাজনৈতিক নয়। বরং বেশি মাত্রায় রাজনৈতিক। কেবল ভাষা বলতে কিছু নাই, তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভীপ্সা ছাড়া।

বাংলা ভাষার গতিপ্রকৃতি যদি লক্ষ করা যায়, তাহলে এটি একটি জবরদস্তিমূলক ভাষা, সন্দেহ নাই। আপনি যখন আপনার ভাষার আধিপত্য জারি রাখতে চান, রাজনৈতিকভাবেই তা রাখতে চান—অন্যের ভাষাকে আক্রমণ করে, দখল করে তা যেন জারি রাখতে হয়। আদিবাসীদের ভাষার দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গারো, তঞ্চইঙ্গা, চাকমা, মারমা ইত্যাদি বহু ভাষা খোদ বাংলা ভাষার আক্রমণের কারণে নাই হয়ে যাচ্ছে।

ভূখণ্ডের রাজনীতি ভাষাকে ভাষা হতে দেয় এবং দেয় না, ভাষার ওপর প্রভাব জারি রাখে এবং রাখে না। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ভাষা আর বাংলাদেশের ভাষার রাজনীতিকে এক বলে ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই, কখনো কখনো মিল থাকলেও। ভাষার আধিপত্য রাজনীতিরই আধিপত্য। এটি কি বাংলা ভাষার সাথে গারো ভাষার, বা পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার সাথে বাংলাদেশের ভাষার তুলনামূলক রাজনীতির অংশ নয়!

আবার একই ভাষার নানা রূপ থাকে। ভাষা বাংলা বটেন, কিন্তু সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বা বরিশালের ভাষার বিভিন্নতা ভাষার বৈচিত্র ও জীবনধারারই অংশ, যে জীবনপ্রবাহ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

ভাষার আধিপত্যই ভাষাকে জীবিত রাখে, অন্য অর্থে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিস্তার ভাষাকে ভাষা হিসেবে জারি রাখে। কলকাতার দিকে তাকালেই বোঝা যায়, হিন্দি ভাষার আগ্রাসন সেখানে কতটা। ইংরেজি ভাষার প্রভাব ও বিস্তার অরাজনৈতিক নয়, সারা দুনিয়া তা টের পাচ্ছে।

সাহিত্যের ক্ষেত্রে, ভাষা এক হলেও, সাহিত্য এক না। ইংরেজি সাহিত্য বলতে আমরা অস্ট্রেলিয় সাহিত্যকে বুঝি না। অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন ও আমেরিকার ভাষা ইংরেজি। কিন্তু আমেরিকান সাহিত্যকে কেবল ভাষার অভিন্নতার কারণে ব্রিটিশ সাহিত্য বলি না। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সাহিত্য বলা তাই তেমন কোনো দোষের নয়। কারণ ভারতের প্রদেশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অভীপ্সা ভারতের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলন করে তার ভাষা দিয়েই, যেমনটা বাংলাদেশও। তবে শিল্প-নন্দন গুণাগুণ দেশকালের বাইরে, সে কথা আমরা জানি। ভাষা যখন তার অন্তরমর্মে পৌঁছে তখন ভাষা লুপ্ত হয়ে কেবল সুর ছড়ায়; যে কারণে সাহিত্যিকের বড়ত্ব ও মহত্ব, মহৎ শিল্পকর্ম দেশকালের সীমারেখা মানে না কোনোদিন।

কেউ কেউ দেশভাগের মর্মপীড়ায় বাংলাদেশের ভাষা ও সার্বভৌমত্বকে যদি ভারতের হাতে তুলে দেওয়াকে সমাধান মনে করেন, বা ভাষার ঐক্যকেই রাজনীতি ও সম্প্রীতির মূলমন্ত্র হিসেবে মনে করেন, তারা ভূগোলোর রাজনীতি ও সময়ের দায়কেই অস্বীকার করতে চান, এদেশের মর্ম ও স্বাধীনতাকেও তারা অস্বীকৃতি জানাতে চান বলে মনে করতে পারি আমরা। স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যে কারণে উজ্জ্বল, ভাষার রাজনীতিও সেই কারণে আলাদা, সাহিত্যও।
তবে ইতিহাস ভাষার দায় নেয় সময় সময়।

২.
ভাষা গড়ে ওঠে, পক্ব হয় এবং বিস্তার পায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে—এ কথা যেমন সত্য, একইভাবে ভাষা রসময় হয়, ভাষা মধুর হয় এবং বিচিত্র মাত্রায় অর্থপূর্ণ হয় সাহিত্যের কারণে। ভাষা তার সাধারণ ব্যবহারিক স্বভাব ছাড়িয়ে যখন ভাবে উন্নীত হয় তখনই ভাষার বহিরার্থ লুপ্ত হয় এবং বিবিধ অর্থ নিয়ে সে নতুন মাত্রায় প্রকাশ পায়। সম্ভবত এই কারণে নিরেট শব্দরাশি ভাষাকে কোনো সৌন্দর্য দেয় না, বরং প্রকৃত কাব্য ও সাহিত্য ভাষাকে সুন্দর করে তোলে এবং মনে আনন্দ দেয়। ধরুন, আমি বললাম—
এনা মেনা তেনা খান
সেনা ফেনা বেনা ধান।
উপর্যুক্ত শব্দগুলোর কোনো অর্থপূর্ণ তাৎপর্য নেই। এখানে এক ধরনের ছন্দের দোল আছে বটে, কিন্তু তা কবিতা হয় নাই। কিন্তু যখন কবি বলেন—
বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই
তখন আমরা সহজেই বুঝতে পারি, এই ‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি কেবল ছন্দের দোলা নয়, মনকেই পুরোপুরি নাড়িয়ে দেয়। বেদনার্থ করে তোলে। এলোমেলো করে দেয়। এবং এক ধরনের বেদনার প্রশান্তিও দেয় মনে। ভাষার শক্তি এখানেই। সাহিত্যেরও। কারণ ভাষা লুপ্ত হয়ে তখন অন্য অর্থ ধারণ করে, মর্মমূলে ভাষা পৌঁছে দেয় গভীর অর্থপূর্ণ দ্যোতনা।

বলেছিলাম, ইতিহাস ভাষার দায় নেয় সময় সময়। উল্টা করে বললেও ভুল হবে না যে, ভাষা ইতিহাসের দায় বহন করে অনেক সময়। ইতিহাস বহন করে বলেই ভাষা সাক্ষ্য হয়ে উঠে আসে; ব্যক্তির ও ইতিহাসের, সমষ্টির। ধরুন, দেশভাগ নিয়ে কতজনের কত মর্মপীড়া। বহুজনের লেখাপত্রে, গল্পগুজবে, আলাপসালাপে শোনা যায় যারা এখনো পীড়িত বোধ করেন। বিভাজনের তাৎক্ষণিকতার পীড়া আছে বৈ কি! কিন্তু বিভাজনও সমষ্টির আকাঙ্ক্ষা হয়। এবং পূর্ণ হয় খণ্ড থেকে। ভাষার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ করা যায়। ভারতীয় ভূগোলের বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে খণ্ড থেকেই পূর্ণ হয় সমষ্টির স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে; কারো একক কোনো স্বপ্ন ও ইচ্ছায় নয়। বরং সমষ্টি একক হয়েই খণ্ডকে পূর্ণতা দেয়। স্বাধীন ও সার্বভৌম ভূখণ্ড তাই অর্থপূর্ণ হয় ভাষায়, মাধুর্যে, তাৎপর্যে। দেশভাগ হয়তো ইতিহাসের দায়, কিন্তু ভাষাভাগ বলতে কি কিছু আছে?

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ভাষাভাগও আছে এবং সময়ের দায় বহন করে চলে। ১৯৪৭-এর দেশভাগ পূর্ণ থেকে খণ্ড নয়, পূর্ণ থেকে সে পুনরায় পূর্ণ হয়েছে। পাকিস্তান এরই নজির। বাংলাদেশও। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরির আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশ (তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান—পূর্ববাংলা) কোনো প্রতিবাদ করেনি তখন। না ভাষার প্রশ্নে, না ধর্মের প্রশ্নে জোরালো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়। ইতিহাসে অদ্ভুত রকমের কাণ্ডও ঘটে! দেশভাগ সময়ের রাজনীতির প্রয়োজনে ঘটলেও ধর্মের প্রশ্নে এটি অদ্ভুত আচরণ করে! সংখ্যাগরিষ্ঠ সমগ্র পাকিস্তানের মুসলমান ভাষা নিয়ে তর্ক তোলেনি, বরং আনন্দের ঢেকুর তুলেছে; হিন্দুআধিপত্য থেকে মুক্ত হয়ে তারা নিজেরাই স্বতন্ত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের রাষ্ট্র পেয়েছে বলে।

পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতি তখন স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেনি, ভাষাকেও সামনে আনেনি, বরং দেখা যায়, বাংলার কবিসাহিত্যিকদের কেউ কেউ এই বিভাজনের পূর্ণতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি, অদ্ভুত, বায়ান্নে যখন বাংলাভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়নের জন্য আন্দোলন হয়, তখনও স্বাধীনতার প্রশ্ন আড়ালেই থেকে যায়। যদিও বায়ান্নে ভাষা পুরোমাত্রায় রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। ইতিহাসের দায় এখানেই।

৩.
ভাষা জীর্ণ হয় যেমন ভাষার গৌরবও জীর্ণ হয়। প্রতিদিন ব্যবহারে ভাষা পুরাতন হয়ে পড়ে, নতুন শব্দরাশি এসে ভাষাকে নতুনত্ব দেয়। সাধারণ্যের অলক্ষেই ঘটে এসব। সময় যেমন ভাষার ধারক, আবার সময়ই ভাষাকে, ভাষাভঙ্গিকে বদলে দেয়। যে কারণে ভাষা কোনো একক, স্থির নির্দিষ্ট বিষয় বা বস্ত নয়, না নির্দিষ্ট কোনো অভিব্যক্তি। কারণ নতুন সময় নতুন ভাষা নতুন অভিব্যক্তিই ভাষার শক্তি। আর পুরাতন ভাষার ঐতিহ্য, ইতিহাসের সাক্ষ্য, রাজনীতি-অর্থনীতির স্মারক।

ভাষার গুরুত্ব লোপ পায়, ভাষাও বিলুপ্ত হয়। বিলুপ্ত হয় ঐতিহ্য, রজনীতি, শক্তি ও ইতিহাস। প্রতিদিন হাজার হাজার শব্দ, শত শত ভাষা এই জগৎ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নতুন শব্দ। কিন্তু ভাষার বিলুপ্তির সাথে জনপদের আশা-আকাঙ্ক্ষা স্বপ্নও বিলুপ্ত হয়। কেবল ভাষা নয়, এই প্রাণবৈচিত্রময় জগতের অনেক প্রাণসম্পদ বিলুপ্তির সাথে সাথে ভাষা ও আচার বদলে যায়। ভাষা ও প্রকৃতি তাই একক ও বৈচিত্রময়। কারণ নতুন নতুন শব্দের উদ্ভব যেমন হয় প্রকৃতি ও বিজ্ঞান থেকে, মানুষের স্বপ্ন ও উপলব্ধি থেকে একইভাবে শব্দের বিনাশও প্রকাশের শক্তিমত্তার বিনাশ করে, ভাবিভঙ্গির বিনাশ করে। মনে রাখা দরকার, ভাষার বিনাশ প্রকৃতিরও বিনাশ, বৈচিত্রেরও বিনাশ। এবং এই বিনাশ প্রাকৃতিক নয়, বরং অধিকভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক।

নতুন নতুন শব্দের, রীতির, ভাষাভঙ্গির ও ভাষাশৈলির উদ্ভব ও প্রকাশ ঘটে সাধারণত লেখক ও কবি সাহিত্যিকদের হাতে। এইক্ষেত্রে কাব্যসাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, ভাষাভাণ্ডারে তার অবদানের কারণেই। কিন্তু সমাজের উৎপাদন, ভোগ ও বিনিময় রীতি ভাষার আদলকে বদলে দেয়, ভাষাকাঠামোর ভঙ্গি পরিবর্তন করে এমনটিই লক্ষ করা যায়। আবার এমন বললেও অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, ভাষা নিজেই উৎপাদন, ভোগ ও বিনিময় রীতি ঠিক করে। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে ভাষার নতুন অভিব্যক্তি ও প্রকাশ লক্ষ করা যায়। নাট-বল্টু-স্ক্রু ইত্যাদি শব্দ যেমন কারখানায় হরহামেশা বলা হয়, এবং তাদের অর্থের তারতম্য হয় প্রকাশ্যে, একইভাবে ভার্চুয়াল জগতে গুগল, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি শব্দ পুরো প্রকাশব্যবস্থা ও যোগাযোগ আদান-প্রদান ব্যবস্থাকে আমূলে বদলে দিয়েছে। এবং এইগুলে কেবল শব্দ নয় বরং একেকটি প্রতিষ্ঠান যা ব্যবসাবাণিজ্যের অনুঘটক হয়ে কাজ করছে সমাজের উৎপাদন ও ভোগ ব্যবস্থায়।

এখানে অর্থনীতির যোগসূত্রই কেবল নয়, অর্থাৎ ভাষার অর্থনীতিই শুধু নয়, ভাষার রাজনীতিও সমানভাবে উপস্থিত ও ক্রিয়াশীল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুধু মতপ্রকাশের উন্মুক্ত জায়গা নয়, এটি একইসাথে রাজনীতি ও অর্থনীতির জায়গা। মুক্তবাণিজ্য অর্থনীতির কালে এ নিয়েও রমরমা বাণিজ্য, বাণিজ্যের রাজনীতিও সক্রিয়। অন্যদিকে, ভাষাবাণিজ্য তো রয়েছেই। আমরা দেখছি, কী করে ইংরেজি ভাষা সারা দুনিয়ায় নিজে বাণিজ্য করছে এবং অপরাপর ভাষার বিনাশ করছে। এই বিনাশ সহসা বোঝা না গেলেও তা টের পাওয়া যায় সমাজের রীতিনীতি ও প্রকাশভঙ্গির ওপর নজর দিলে। বাংলা ভাষার বিস্তার নেই এমন নয়, কিন্তু একইসাথে বাংলা যে বিনাশের পথে তা সহজেই অনুমেয়। একটু বাড়িয়ে বললে, এই ভাষাবিনাশ রাষ্ট্রের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিনাশের অংশ নয়—এমন বলা যাবে না।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;