আমেরিকা: উপনিবেশ থেকে স্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একদার উপনিবেশ আমেরিকা এখন একক বিশ্বশক্তি, ছবি: সংগৃহীত

একদার উপনিবেশ আমেরিকা এখন একক বিশ্বশক্তি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সামরিক ও অর্থনীতির শীর্ষস্থানের অধিকারী, বর্তমান বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র একদা ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অধীনস্থ কলোনি বা উপনিবেশ। আমেরিকার নানা অঞ্চল ছিল ইউরোপের নানা দেশের দখলে। সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে দেশটি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মতাদর্শ গ্রহণ করে বিশ্বসেরা হয়েছে। উপনিবেশ থেকে আমেরিকার স্বাধীন ও শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্র রূপে গড়ে উঠার ইতিহাস অনেকেরই আগ্রহ ও মনোযোগের বিষয়।

আজকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সন্নিহিত অঞ্চলের দেশগুলো আবিষ্কৃত হয় ষোড়শ শতকে। জন ক্যাবট নামক একজন ইংরেজ প্রশাসক সর্বপ্রথম আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছান এবং মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া ইত্যাদি এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।

অবশ্য তারও আগে, ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস স্পেনের পতাকা বহন করে আমেরিকা মহাদেশের বর্তমানের পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবিষ্কার করেন। কলম্বাসের দেখানো সমুদ্রপথ ধরে অপরাপর স্প্যানিশ দখলদারগণ পুরো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে অধীনস্থ করেন। কেবল ব্রাজিল বাদ পড়ে স্প্যানিশ আগ্রাসন থেকে। ব্রাজিলে কায়েম হয় আরেক ঔপনিবেশিক দখলদার পর্তুগালের কর্তৃত্ব।

জন ক্যাবট দ্বারা আমেরিকায় প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশটির পূর্ব-উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্রিটেনের তৎকালীন রাজা সপ্তম হেনরি’র শাসন কায়েম হয়। যেহেতু ক্যাবট ছিলেন একজন ব্রিটিশ, তাই তিনি সপ্তম হেনরির হাতে শাসন ক্ষমতা তুলে দেন।

এরইমাঝে আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে এবং স্থানীয় আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের নিধন ও নির্মূল করে উপনিবেশ তৈরি হতে থাকে। উপনিবেশ গঠনের কাজে আফ্রিকা থেকে শত শত জাহাজ ভর্তি করে কালো মানুষদের দাস হিসাবে নিয়ে আসা হয়। চলতে থাকে দাস ব্যবসা এবং অবাধে সম্পদ লুণ্ঠন। নিউল্যান্ড বা নিউ ওয়ার্ল্ড নামে পরিচিতি সদ্য-আবিষ্কৃত নতুন অঞ্চল আমেরিকা ভূখণ্ডটি ইউরোপীয় নানা দেশের শোষণ, নির্যাতন ও আধিপত্য কায়েমের ক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ইতিহাস জানাচ্ছে যে, ইংরেজরা বর্তমান আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে দখল করলেও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের আজকের ফ্লোরিডা ও আশেপাশের এলাকায় শাসন প্রতিষ্ঠা করে স্পেন। ফরাসিরা নোভো-স্কটিয়া অঞ্চলে, ওলন্দাজ বা ডাচগণ হাডসন নদীর উপত্যকায় এবং সুইডিশরা ডেলাওয়ার অঞ্চলে নিজেদের উপনিবেশ কায়েম করে।

 
বিশ্বের কর্তৃত্বে আমেরিকা, ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের কর্তৃত্বে আমেরিকা, ছবি: সংগৃহীত 

ঐতিহাসিক তথ্য মতে, আমেরিকার প্রথম স্বীকৃত উপনিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬০৭ সালে, জেমস টাউন-এ। ১৭৩২ সালে পুরো অঞ্চলে উপনিবেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩টিতে এবং সকল উপনিবেশই ছিল ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির দখল কর্তৃত্বে।

১৬৬৪ সালে ব্রিটিশরা ওলন্দাজদের হটিয়ে দিয়ে ওলন্দাজ-অধিকৃত অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এরপর স্পেন-অধিকৃত অঞ্চলেও ইংরেজরা নিজেদের শাসন কায়েম করতে সক্ষম হয়। অবশেষে ১৭৬৩ সালে ইঙ্গ-ফরাসি যুদ্ধে জয়ী হয়ে ইংরেজরা সমগ্র আমেরিকার উপর নিজেদের দখল ও শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

ব্রিটিশ অধিকৃত সমগ্র আমেরিকায় উপনিবেশ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সেখানে তীব্র হয় স্বাধীনতার আন্দোলন, যা মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ভেঙে পড়ে ১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে। ১৭৭৬ সালে ১৩টি উপনিবেশ একত্রে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের মুক্তির দাবিতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। উপনিবেশগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা ও ঐক্যের পাশাপাশি নিজস্ব সামরিক বাহিনীও গড়ে তুলে। ৪ জুলাই, ১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর করে ১৩টি উপনিবেশের নেতৃবৃন্দ।

৪ জুলাই (১৭৭৬) তারিখটি আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ববহ। কারণ, এদিনে স্বাধীন-সার্বভৌম আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সূচনা হয়। বর্তমানেও ৪ জুলাই সেদেশের স্বাধীনতা দিবস রূপে পালিত হয়।

তবে ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশের কবল থেকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অবয়বটি সম্পূর্ণ হয় দীর্ঘ শাসনতান্ত্রিক আলাপ-আলোচনা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭৮৭ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকার সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৩টি রাজ্য নিয়ে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ করে। দেশটি প্রজাতান্ত্রিক নীতিতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃত্ব শাসিত হওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করে।

দুই বছর পর ৪ মার্চ, ১৭৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সকলের সম্মতির ভিত্তিতে কার্যকর হয়। সংবিধান অনুযায়ী মার্কিন সংসদে দুটি কক্ষ থাকে। একটি নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি সভা (হাউস অব রিপরেসেনটিটিভ) এবং অপরটি উচ্চকক্ষ বা সিনেট। একই বছর ৩০ এপ্রিল প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে জর্জ ওয়াশিংটন এবং উপ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে জন অ্যাডামস নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন।

প্রাথমিকভাবে ১৩টি রাজ্য নিয়ে গঠিত হলেও বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা ৫০টি। এর বাইরে ফেডারেশন শাসিত রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, পাঁচটি মেজর টেরিটোরি ও কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র দ্বীপও রয়েছে বিশাল এ দেশের মধ্যে।

আধুনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ১৭৭৬ সালে শুরু হয়ে ২৪৪ বছরের আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ইতিহাস ২৩৩ বছরের। বলা বাহুল্য, আজকের এই মহাশক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু শুরুতে এতো প্রবল ছিলনা। ছিল সাদা আর কালোর গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। যে কারণে প্রায় আড়াই শ বছরের পুরনো রাষ্ট্র হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশক্তি হিসাবে অতি নবীন।

কারণ রাষ্ট্র গঠনের প্রথম ১৫০ বছর আভ্যন্তরীণ সমস্যার মোকাবেলা ও পুনর্গঠনের কাজে ব্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। এই সময়কালে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশটির বিদেশ নীতি ইচ্ছুক ছিলনা। মার্কিনি পররাষ্ট্র নীতির ইতিহাসে এই সময়কালকে বলা হয় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী পর্যায়’।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবলভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, বিশেষত ১৯৪০ সাল থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অগ্রসর হয়, যার ফলে মহাযুদ্ধ বিজয়ের অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তারপর স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডা যুদ্ধকালীন উত্তপ্ত দ্বিমেরু কেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ব্লকের বিপরীতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্ব দেয়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব হলে বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হয় যুক্তরাষ্ট্র। এবং কঠিন পথ পেরিয়ে উপনিবেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমে ক্রমে একবিংশ শতকের পৃথিবীতে একক পরাশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী ১১ বিভাগে ১৫ জন এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির সদস্য সচিব এ এইচ এ লোকমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন:

কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, কথা সাহিত্যে ঝর্না রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ/গবেষণায় হোসেন উদ্দিন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান, রফিক উম মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধু বিষয় গবেষণায় হারুন-অর-রশীদ, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো এবং ফোকলোর বিভাগে আমিনুর রহমান সুলতানা।

অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি অথবা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

;

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আহমদ রফিক ও মাসরুর আরেফিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

  • Font increase
  • Font Decrease

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিক।

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯ পেয়েছেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন। ‘ভাষা আন্দোলন: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ প্রবন্ধের জন্য আহমদ রফিককে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ‘আগস্ট আবছায়া’ উপন্যাসের জন্য মাসরুর আরেফিনের নামের পাশে যোগ হয়েছে পুরস্কারটি।

করোনা মহামারির কারণে এবার অনলাইনের মাধ্যমে নির্বাচিত দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিককে সম্মাননা জানানো হয়। গত ১৫ জানুয়ারি এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। এছাড়া ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ার।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সমসাময়িক লেখকদের স্বীকৃতি দিতে আইএফআইসি ব্যাংক ২০১১ সালে চালু করে ‘আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার’। প্রতিবছর পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয় সেরা দুটি বই। নির্বাচিত প্রত্যেক লেখককে পাঁচ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র পেয়ে থাকেন।

;

ওমিক্রণে থমকে গেছে বইমেলার আয়োজন



সজিব তুষার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এবারও থমকে গেছে লেখক পাঠকের প্রাণের আসর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। তুমুল উৎসাহ আর ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও কোভিড- ১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক থামিয়ে দিয়েছে কাজ। একটা বড় অংশের কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে গর্ত আর স্তূপ স্তূপ বাঁশ।

বরাবরের মত এ বছরেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা অমর একুশে বইমেলা-২০২২। সে অনুযায়ী, কাজ শুরু করে দিয়েছিলো আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো প্রকাশনী গুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লটারি পূর্ববর্তী কার্যক্রম। কাজ চলার মাঝেই বাঁধ সাধে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

গত ১৬ জানুয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানান, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বইমেলা। মেলার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বাংলা একাডেমির। সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করা যেতো বইমেলা'। 

সরকারের এই ঘোষণার পর থমকে গেছে পুরো উদ্যমে শুরু হওয়া মেলার স্টল তৈরির কাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, স্টল তৈরির জন্য মাঠে কাঠামোর বেশ খানিকটা তৈরি হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় পুঁতে রাখা রয়েছে বাঁশ। কিন্তু কাজ করতে দেখা যায়নি কোনও শ্রমিককে।

এবারের বই মেলায় প্রথম বই প্রকাশ হবে এমন এক তরুণ লেখক বায়েজিদ হোসেন বলেন, 'ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আমাদের রক্তে গেঁথে গেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনার তোপে পণ্ড হয় গতবারের মেলাও। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তায় বসে যাবে। এমন চলতে থাকলে খুব দ্রুতই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এখন পর্যন্ত যেটুকু টিকে আছে সেটা নষ্ট করে ফেললে; শিল্প সংস্কৃতির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।

যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা সঠিক সময়ে শুরু করার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থিক'র প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল বলেন, 'গতবারের মেলার অভিজ্ঞতার পর এবছর আর রিস্ক নেব বলে মনে হচ্ছে না। সম্ভব হলে জমা দেওয়া টাকাটা ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো'।

স্টলের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বাবদ খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'দুটা স্টলের জন্য জমা দিতে হয়েছে আগের থেকেও বেশি। ডেকোরেশন খরচ। স্টলের লোকের খরচ। তাদের এমন সিদ্ধান্তে আমি কোনভাবেই লস আটকাতে পারবো না'।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে গেলে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, "মহাপরিচালক- প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানানো পর্যন্ত কেউ কিছু বলতে পারবো না"।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থেকে তোলা বইমেলার প্রস্তুতিকালীন কাজের একাংশের ছবি। ছবি- বার্তা২৪.কম

 

এর আগে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই নেওয়া হচ্ছে বইমেলা শুরুর প্রস্তুতি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরও মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। আবার নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিলই টানে ইতি। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে দু'সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে আদতে বই মেলা হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বইমেলা মানেই হাজার মানুষের ভিড়। লেখক পাঠকের সমারোহ। তবে একের পর এক মেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুলো মেলা করবে কি না তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন সচেতন মহল।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা হোক চান বড় একটা অংশের নেটিজানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও তুলছেন তারা।


উল্লেখ্য, মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির গেইটে ১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে চট বিছিয়ে শুরু করেন বই বিক্রি। ১৯৭৭ সালে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে। ১৯৭৮ সালে এ বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় বাংলা একাডেমিকে। তখন মহাপরিচালক ছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী। পরের বছরই বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি যুক্ত হয় মেলার সঙ্গে।

মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় ১৯৮৩ সালে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' নামে এ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আর করা যায়নি। পরের বছর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আসর বসে 'অমর একুশে বইমেলা'র। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে কাগজের বইয়ের মুহুর্মুহু গন্ধ মাখা বইমেলাই যেন দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ভাষা সংগ্রামের কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকার জ্যাম ঠেলেও ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাণের গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ভাষা ও বইপ্রেমী মানুষের কাছে। সবাই চায় বইমেলা ফিরে পাক তার আগের জৌলুশ। বইয়ের সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের এই মিল বন্ধনের পুণ্যভূমি বেঁচে থাকুক সব অশুভ ছায়া থেকে।

;

অন্বেষণ মানে তো খোঁজ, এই খোঁজ হল আত্ম-অন্বেষণ...



সুবর্ণা মোর্শেদা, চিত্রশিল্পী
সুবর্ণা মোর্শেদা

সুবর্ণা মোর্শেদা

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে খোঁজার যে তাগিদ, আমার মধ্যে সেটা সবসময়ই কাজ করে। এই তাগিদ থেকেই আমার কাজের শুরু বলা যেতে পারে। সবসময় মনে হয়, নিজেকে খোঁজার চেয়ে কঠিন কিছু নাই। গত দুই বছরে সেই খোঁজার তাগিদ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। এই সময়ে অন্যদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, তার মাঝেও নিজেকেই খোঁজার চেষ্টা চলতো। লকডাউনের বেশ আগে থেকেই নিজেকে অনেক বেশি আইসোলেশনে নিয়ে যাই আমি—একটা নিরঙ্কুশ একাকীত্বের মধ্যে চলে আত্ম-অনুসন্ধানের কাজ। সো, লকডাউন আমার জন্য খুব নতুন কিছু ছিলো না। শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন করে থাকাটা ছিলো একেবারে নতুন।


২০১৯-এর একটা সময় আমি খুব অন্ধকারে ডুবে যাই। স্বভাবগত দিক থেকে রঙিন মানুষ হয়েও একটা গভীর ব্যক্তিগত কারণে আমার জীবন হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ সাদা-কালো। আর এ সময়টাতেই নিভৃতে অনেকগুলো কাজ করে ফেলি। কখনো লিথোগ্রাফ, কখনো পেন্সিল স্কেচ আর কাগজে সেলাই করে করা এ-কাজগুলোই আমাকে সেই গভীর অন্ধকারেও বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছে। কাগজে সেলাই করে শিল্পকর্ম নির্মাণের একটা আলাদা আনন্দ আছে। সেটা হলো স্পর্শের আনন্দ।


এই স্পর্শকে কেমন করে দেখাবো! সেলাইয়ের উঁচু-নিচু অংশগুলোকে আমি বলি স্পর্শের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে স্পর্শের অনুভূতিকে অন্যের মনে সঞ্চার করা যায়। বড় হওয়ার পর, জীবনে এই প্রথম আমি মায়ের সাথে বাবার সাথে এতো দীর্ঘ সময় আমি কাটানোর অবকাশ পেয়েছি। আমার মায়ের গাছ লাগানোর শখ অনেক আগে থেকেই। সেই শখ লকডাউনে আরো তীব্র হলো।

তাঁর লাগানো গাছগুলো যতো বড় হচ্ছিলো, আর তাঁর বয়স যেন ততোই কমছিলো। গাছে ফল ধরা, ফুল ধরা দেখে তাঁর কী যে এক আনন্দ! সব মিলে যেন এক অপার্থিব অনুভূতি! তো, আমি তাঁকে একজন সফল চাষী হিসেবে ঘোষণা করলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি গন্ধ, স্পর্শ নিয়ে কাজ করি। এবার মায়ের গন্ধের সঙ্গে যোগ হলো মায়ের বাগানের গন্ধ-স্পর্শ।


গাছগুলোর পাতা যখন ঝরে পড়ে, সে-পাতার রং, শেইপকে আমার কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করা আর স্পর্শগুলোকে ধরার জন্যই আমার কাগজে সেলাই করার কাজ। আমার ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে ঘুম হয় না বা হতো না সেই অন্ধকার সময়গুলোতে। ঘুম না হওয়ার কারণে যে সকালে খারাপ লাগতো তা-ও না। সকালের গন্ধ আমার খুব প্রিয়।


এরমধ্যেই হলো মায়ের করোনা। দীর্ঘ ১ মাস ধরে মায়ের সিরিয়াস কন্ডিশন । আমি বুঝতে পারতাম, গাছগুলোও মাকে খুব মিস করছে। এদিকে মা তো হসপিটালে অক্সিজেন নিতে ব্যস্ত! ২৪ ঘন্টাই মায়ের সঙ্গে থাকি। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া-- কখনও ভালো, কখনও মন্দ। অবশেষে মায়ের জয়ী হয়ে ঘরে ফেরা। তাঁর সঙ্গে আবার তাঁর গাছেদের সেই নিবিড় সম্পর্ক--গভীর বন্ধুত্ব!

পুরো সময়টাই যেন কবিতার মত, প্রেমের কবিতা! আমার সাদা-কালো ক্যানভাসে ছড়িয়ে দেওয়া রঙের মত! অন্ধকারে অপরূপ আলোর মত। আমার ছবিগুলো যেন জীবনের মত! আমার জীবন যেন আমার ছবির মতো!

সকলকে আমন্ত্রণ!


চিত্রকর্ম প্রদর্শনী: ‘অন্বেষণ’
শিল্পী: সুবর্ণা মোর্শেদা (তৃতীয় একক প্রদর্শনী)
স্থান: ইএমকে সেন্টার
প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন: অধ্যাপক জামাল আহমেদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, তাওহিদা শিরোপা।
মাধ্যম: লিথোগ্রাফ, সায়ানোটাইপ, পেন্সিল স্কেচ, জলরংসহ বিভিন্ন মাধ্যম
সংখ্যা: মোট ৪২টি শিল্পকর্ম
চলবে: ১৫-৩০ জানুয়ারি
শো কিউরেটর: রেজাউর রহমান

;