বৈশ্বিক ও দেশীয় পটভূমিতে বর্ণালী সাহার প্রথম উপন্যাস



শাহ মখদুম, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
বর্ণালী সাহা ও তাঁর বইয়ের প্রচ্ছদ

বর্ণালী সাহা ও তাঁর বইয়ের প্রচ্ছদ

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এ পাঠক সমাবেশ থেকে প্রকাশিতব্য বর্ণালী সাহার প্রথম উপন্যাস ‘দ্যা নর্থ এন্ড’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী শিবু কুমার শীল। এর আগে ২০১৫ সালে শুদ্ধস্বর থেকে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘আম্মা ও দূরসম্পর্কের গানগুলি’ প্রকাশিত হলে ঠাসবুনোট ভাষাশৈলি ও গল্প বলার ধরনের জন্য বোদ্ধামহলে বইটি প্রশংসিত হয়।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এই কথাসাহিত্যিকের নতুন বই বের হতে যাচ্ছে। বার্তা২৪.কমকে বর্ণালী সাহা জানিয়েছেন, দেশীয় প্রেক্ষাপটের সাথে উপন্যাসের বিষয়স্তু ও প্রসঙ্গসমূহে এসে মিশেছে দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও উদ্বাস্তু সমস্যাসহ বৈশ্বিক নানা ইস্যু।

তিনি আরো জানান, একদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থীদের পুনর্বাসন নিয়ে সোচ্চার মানুষেরা। অন্যদিকে দেশে দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদী ধ্যান ধারণা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সব রকমের মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের অনাগ্রহ—এ সবকিছুই অন্তর্গত প্রতিঘাত হয়ে উপন্যাসটিতে উপস্থিত।

প্রকাশিতব্য নতুন উপন্যাস, প্রবাসে তাঁর জীবন যাপন, পঠন-পাঠন ও লেখালেখি নিয়ে সম্প্রতি বার্তা২৪.কমের পক্ষ থেকে বর্ণালী সাহার সাথে কথা বলেছেন কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট শাহ মখদুম


বার্তা২৪: দুটা বইয়ের মাঝখানে পাঁচ বছরের ব্যবধান। এত সময় লাগল কেন?
বর্ণালী সাহা: টানা তিন বছর লিখতে পারি নাই। মানসিক সংকট পার করলাম। অস্ট্রেলিয়া ব্যাক করার পর ইচ্ছা থাকলেও একলা নতুন জীবনের চাপে লেখা অনিয়মিত হয়। অবশ্য আমার সহকর্মীরা উদার ছিল। সপ্তাহে ৩-৪ দিন কাজ করার সুবিধা ছিল। কিন্তু বাকি দিনগুলিতে লেখার চেয়ে পড়ার ইচ্ছা বেশি কাজ করত।

বার্তা২৪: কী পড়লেন?
বর্ণালী সাহা: পড়লাম অস্ট্রেলিয়ার সাহিত্য। অস্ট্রেলিয়ার বড় সাহিত্যিকদেরকে নিবিড় পাঠের সুযোগ আগে হয় নাই। প্যাট্রিক হোয়াইট, লেস মারে, রিচার্ড ফ্লানাগান, জুডিথ রাইট, ডেভিড মালুফ। এই দেশের ল্যান্ডস্ক্যাপ এবং ঘরের ভিতরকার গল্প আমাকে টানে। সম্পূর্ণ না বোঝার অস্বস্তির কারণে অন্য একটা অর্থ পরিগ্রহ করে।

বার্তা২৪: উপন্যাস লিখতে শুরু করলেন কবে?
বর্ণালী সাহা: শেষ দু বছর ধরে লিখলাম ও সম্পাদনা করলাম।

বার্তা২৪: এরমধ্যে আর কিছু লিখেছেন?
বর্ণালী সাহা: এরমধ্যে ইংরেজি আর বাংলায় বেশ কিছু গল্পের খসড়া তৈরি করলাম। এছাড়া একটা অনুবাদে উৎসাহী হয়েছি।

বার্তা২৪: আপনার কাছে আপনার রচিত ইংরেজি সাহিত্যের প্রত্যাশিত পাঠক কারা?
বর্ণালী সাহা: পাঠক কারা হতে পারে এনিয়ে সেভাবে চিন্তা করি নাই। মূলত সাহিত্যিক ফিকশন পড়তে যারা পছন্দ করে এবং বিচিত্র পটভূমি ও বিষয়ের গল্প গ্রহণে সক্ষম—হয়তো তারা।

বার্তা২৪: আপনার প্রথম বই ছিল গল্পের। আবার আপনি কবিতা অনুবাদ করেন। এবার বের হচ্ছে উপন্যাস। কোন মাধ্যমে আসলে সিরিয়াস আপনি।
বর্ণালী সাহা: মূলত গল্প আর উপন্যাস। গল্পের একটা বাস্তব সুবিধা হলো সাতিহ্য সম্পাদকদের তাগাদায় সময় বের করে কিছু না কিছু লেখা হয়ে যায়।

বার্তা২৪: নতুন কী যেন অনুবাদ শুরু করেছেন বললেন...
বর্ণালী সাহা: ভ্যান গঘের লেখা চিঠির সংকলন। থিও’র কাছে লেখা। আর্ট এবং আর্টিস্ট হয়ে ওঠার জার্নি নিয়ে উৎসাহী থাকায় শুরু করি।

বার্তা২৪: প্রকাশিতব্য উপন্যাসটা কলেবরে কেমন হচ্ছে?
বর্ণালী সাহা: খুব বড় না। কমপ্যাক্ট রাখার চেষ্টা করেছি। আবার নভেলাও না এটা। সাধারণত আমার গল্পই তো বেশ বড় হয়, যে কারণে অনেক সময় সাহিত্য পাতায় ছাপানো সম্ভব হয় না।

বার্তা২৪: কথাসাহিত্যে নিজেকে কাদের ধারাবাহিকতা বলে মনে করেন?
বর্ণালী সাহা: বাংলা কথাসাহিত্যে বা যে কোনো সাহিত্যে ধারাবাহিকতা দেখার মতো চোখ বা অবকাশ আমার হয় নাই। প্রভাব তো অনেকের, কিন্তু সেটা ধারা বা পরম্পরা বহন করার মতো কিছু করছি মনে হয় না। ইলিয়াস, শওকত আলী, ওয়ালিউল্লাহ, মাহমুদুল হক দিয়ে আমাদের সাম্প্রতিক গদ্যের রস চেনা শুরু। কিন্তু আমার দৃষ্টি বাংলা গদ্যে বা কথাসাহিত্যে কম নিবদ্ধ। মানে বাংলা গদ্যের পরম্পরা চিহ্নের ওপর কম নিবদ্ধ। কম বয়সে কমলকুমার হতে চাইতাম। আরো কম বয়সে তারাশঙ্কর, বিভূতি, মানিক।

বার্তা২৪: এখনকার কাদের লেখা পড়েন?
বর্ণালী সাহা: এখন যাদের লেখা আলাদা করে সময় নিয়ে পড়ি, তারা হলেন শাহীন আপা (শাহীন আখতার), মাসরুর ভাই (মাসরুর আরেফিন), সাগুফতা শারমীন তানিয়া, মশিউল আলম। শুধু গদ্য বললাম। কবিতা নিয়ে বলতে গেলে খেই হারিয়ে ফেলব। নিজে কবিতা লিখি কম বিধায় মুগ্ধতা অধিক।

বার্তা২৪: আপনার সাহিত্যিক বন্ধুরা কারা?
বর্ণালী সাহা: আমি সাহিত্যিক দেখে বন্ধুত্ব করি না যদিও। সাহিত্যের সূত্রে পরিচয় কিন্তু পরে বন্ধুত্ব বা বন্ধুস্থানীয় হয়েছেন এমন হচ্ছেন—রাইসু (ব্রাত্য রাইসু), হক ভাই (সিদ্ধার্থ হক)। শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আছেন আফসান চৌধুরী, ওয়াসি আহমেদ। আমি এমনিতে সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে খুব বেশি মানুষ চিনি না।

বার্তা২৪: আপনার উপন্যাসটি মূলত কী নিয়ে?
বর্ণালী সাহা: একদিকে কোপেনহেগেন ও ব্রিস্টল, আরেকদিকে ঢাকার বুকে চলমান রোমান্টিক সাসপেন্স, বন্ধুত্ব, প্রেম ও বিশ্বাসহননের গল্প নিয়ে এই উপন্যাস।

বার্তা২৪: উপন্যাসের পটভূমি নিয়ে আরেকটু শুনতে শুনতে শেষ করি।
বর্ণালী সাহা: দ্যা নর্থ এন্ড উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছেন প্রাক্তন স্কুলশিক্ষিকা রোজম্যারি ইম্যাকুলেট—যাকে কেউ-না-কেউ প্রায় প্রতিদিনই ফোন করত। বলত ইয়েমেনের স্কুলে বাচ্চাদের ওপর শিলাবৃষ্টির মতো বোমাবর্ষণের গল্প, বলত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুঃখদুর্দশার কথা। কিছু করতে না পেরে একসময় বিশ্বাস করতে শুরু করেন পৃথিবীকে দেওয়ার মতো আর কিছু উনার বাকি নাই। মর্নিং ওয়াকে গিয়ে একদিন ব্রিস্টলের ঝুলন্ত ব্রিজ থেকে উনি লাফিয়ে পড়েন।

ঠিক সেই সময়েই রোজম্যারির ফোটোগ্রাফার নাতি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থীদের ছবি তোলায় ব্যস্ত। এক বিবাহিত বাঙালি উন্নয়নকর্মীর সাথে তার প্রেমের পরিণাম চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে কোপেনহেগেন পর্যন্ত একটা বক্ররেখায় সঞ্চারিত।

কিশোরগঞ্জে মাজহারুন-নূর সম্মাননা পেলেন ছয় কীর্তিমান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীতকিশোরগঞ্জে মাজহারুন-নূর সম্মাননা পেলেন ছয় কীর্তিমান

ছবি: সংগৃহীতকিশোরগঞ্জে মাজহারুন-নূর সম্মাননা পেলেন ছয় কীর্তিমান

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিষ্ঠ চিকিৎসক, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ্ব ডা. এ. এ. মাজহারুল হক এবং রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্থা ‘মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন’ ছয় কীর্তিমানকে সম্মাননা প্রদান করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শাহ মাহতাব আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক লাইজু আক্তার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান।

এতে সম্মাননা বক্তৃতা করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ।

বক্তব্য রাখছেন ড. মাহফুজ পারভেজ

অনুষ্ঠানে ৬ষ্ঠ এবং ৭ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননাপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২০ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের আইনপেশার কৃতীজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ফারুকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন ও শাহ আজিজুল হক।

৭ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২১ পেয়েছেন ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, পাঠ ও পাঠাগার আন্দোলনের অগ্রণীজন মু আ লতিফ, মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষাবিদ উষা রাণী দেবী এবং শতবর্ষ অতিক্রমকারী ১২০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আলীমুদ্দীন লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নাসিরউদ্দিন ফারুকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, প্রবীণ সাংবাদিক মু আ লতিফ ও আলীমুদ্দীন লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামাল উদ্দিন সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন এবং প্রয়াত শাহ আজিজুল হকের পরিবারের পক্ষে ভাতিজা এডভোকেট শাহ আশরাফ উদ্দিন দুলাল ও মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষাবিদ উষা রাণী দেবীর পক্ষে তার মেয়ে গৌরি রাণী দেবী সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।

 এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক বাদল রহমান।


অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজকর্মী আবদুর রহমান রুমী, সাংবাদিক শেখ মাসুদ ইকবাল, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মননা অনুষ্ঠান শেষে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, ‘মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন’ কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ২০১৫ সাল থেকে সম্মাননা বক্তৃতার আয়োজন করে আসছে।

;

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা রয়েছে: ড. মাহফুজ পারভেজ



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বক্তব্য রাখছেন ড. মাহফুজ পারভেজ

বক্তব্য রাখছেন ড. মাহফুজ পারভেজ

  • Font increase
  • Font Decrease

বার্তা২৪.কম'র অ্যাসোসিয়েট এডিটর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ও কিশোরগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্থা ‘মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন'র নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেছেন, 'বাংলার গৌরবদীপ্ত জনপদ কিশোরগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিকাশ ও রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা রয়েছে।'

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম স্মরণ, দোয়া ও ইফতার মাহফিল এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি সম্মাননা বক্তব্য প্রদানকালে আরো বলেন, 'অবক্ষয়, অন্ধকার ও অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে আলোকিত সমাজ গঠনে ইতিহাস-ঐতিহ্যের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।'

বরিষ্ঠ চিকিৎসক, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ্ব ডা. এ. এ. মাজহারুল হক এবং রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্থা ‘মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক স্থানীয় ছয় কীর্তিমানকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহ মাহতাব আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক লাইজু আক্তার।

মাজহারুন-নূর সম্মাননা অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক বাদল রহমান।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আবদুর রহমান রুমী, সাংবাদিক শেখ মাসুদ ইকবাল, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, মহিলা পরিষদ সম্পাদক আতিয়া রহনান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এতে জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও নানা শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহ মাহতাব আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বার্তা২৪.কম'র কন্ট্রিবিউটিং এডিটর শাহ ইস্কান্দার আলী স্বপন, মহিলা পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিক, সাহিত্য সম্পাদক বাবুল রেজা, ছড়াকার সামিউল হক মোল্লা, ঈসাখাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান বদরুল হুদা সোহেল, কিশোরগঞ্জ নিউজ প্রধান সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ৬ষ্ঠ এবং ৭ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননাপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২০ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের আইনপেশার কৃতীজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ফারুকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন ও শাহ আজিজুল হক।

৭ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২১ পেয়েছেন ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, পাঠ ও পাঠাগার আন্দোলনের অগ্রণীজন মু আ লতিফ, মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষাবিদ উষা রাণী দেবী এবং শতবর্ষ অতিক্রমকারী ১২০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আলীমুদ্দীন লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নাসিরউদ্দিন ফারুকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, প্রবীণ সাংবাদিক মু আ লতিফ ও আলীমুদ্দীন লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামাল উদ্দিন সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন এবং প্রয়াত শাহ আজিজুল হকের পরিবারের পক্ষে ভাতিজা এডভোকেট শাহ আশরাফ উদ্দিন দুলাল ও মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষাবিদ উষা রাণী দেবীর পক্ষে তার মেয়ে অধাপিকা গৌরি রাণী দেবী সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।

সম্মননা অনুষ্ঠান শেষে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে স্মরণ সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারের পূর্বে দোয়া পরিচালনা করেন জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, অ্যাডভোকেট গাজি এনায়েতুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সংস্কৃতিজন লুৎফুন্নেছা চিনু। অনুষ্ঠানে স্পন্সর হিসাবে যুক্ত ছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড।

প্রসঙ্গত, ‘মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন’ কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ২০১৫ সাল থেকে সম্মাননা বক্তৃতার আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

;

কলকাতায় বিশ্ব কবিতা দিবসের অনুষ্ঠান



কনক জ্যোতি,  কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কলকাতায় বিশ্ব কবিতা দিবসের অনুষ্ঠান

কলকাতায় বিশ্ব কবিতা দিবসের অনুষ্ঠান

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক কবিতা দিবসে ছায়ানট (কলকাতা) এবং লা কাসা দে লোস পলিগ্লোতাস যৌথভাবে আয়োজন করে একটি কবিতা সন্ধ্যার। অনুষ্ঠানটি হয় কলকাতায় অবস্থিত একটি স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট তাপাস্তে - তে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ছায়ানট (কলকাতা)-এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক এবং পরিকল্পনা করেন  লা কাসা দে লোস পলিগ্লোতাস-এর প্রতিষ্ঠাতা শুভজিৎ রায়।

এই বিশেষ দিনে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করা হয় বাংলা এবং স্প্যানিশে। বিশ্ব কবিতা দিবসে কবিতার ভাষায় এক হয়ে যায় বাংলা এবং স্পেন। এক করলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা এবং স্প্যানিশ দুই ভাষাতে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে এই আয়োজন।

বাংলায় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করেন সৌভিক শাসমল, তিস্তা দে, দেবলীনা চৌধুরী এবং স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ ও পাঠ করেন শুভজিৎ রায়। অনুষ্ঠানটি দর্শকদের প্রশংসা লাভ করে।

বিশ্ব কবিতা দিবস উপলক্ষ্যে ছায়ানট (কলকাতা) এবং কৃষ্ণপুর নজরুল চর্চা কেন্দ্র যৌথভাবে আরও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শরৎচন্দ্র বাসভবনে। প্রায় ৫০ জন কবি এবং বাচিক শিল্পী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন কবির কবিতা এই অনুষ্ঠানে শোনা যায়।

;

দারুণ সৌভাগ্য আমাদের



মহীবুল আজিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ধরো তোমার যদি জন্ম না হতো...

আমি ক্রমশ সরু হয়ে যাওয়া ইতিহাসের
গলিটার দিকে তাকাই।
ওপার থেকে ছিটকে আসে বিগত কালের আলোক,
ইহুদিদের চর্বি দিয়ে সাবান বানিয়েছিল জার্মানরা।
বাথটাবে সেই সাবানের ফেনার মধ্যে ঠেসে ধরে
ওরা ঠাপাতো ইহুদি মেয়েদের।
পাকিস্তানিরা ঐভাবেই ঠাপাতো আমাদের।
ধরো তোমার যদি জন্ম না হতো...
সিন্ধু থেকে আসতো আমাদের জেলা প্রশাসকেরা,
পেশোয়ার থেকে গভর্নরেরা।
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেডটিচার
প্রিন্সিপাল ভিসি'রা আসতো লাহোর করাচি মুলতান থেকে।
ফ্যালফেলে তাকিয়ে আমরা ভাবতাম,
আহা কবে জন্ম নেবে আমাদের মেসায়া!
নেপথ্যে ভেসে আসতো অদম্য কুচকাওয়াজের শব্দ।
ধরো তোমার যদি জন্ম না হতো...
আমরা লম্বা লম্বা পাঞ্জাবি পরতাম গোড়ালি পর্যন্ত।
ঘরে ঘরে রবীন্দ্রনাথ নজরুলের গান বাজতো কাওয়ালির সুরে--
আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের নাম ভুলে যেতাম
কিন্তু জিন্না'কে ভুলতাম না।
ধরো তোমার যদি জন্ম না হতো...
ঢাকার মাঠে খেলা হতো পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের।
প্রত্যেকটি খেলায় একজন করে সুযোগ পেতো
বাঙালি টুয়েল্ফথৃ ম্যান যারা মূল খেলোয়াড়দের
বিশ্রাম দেবার জন্য প্রচণ্ড দাবদাহের রোদে
প্রাণপণ ফিল্ডিঙয়ের ওস্তাদি দেখাতো।

আমাদের কাজ হতো শুধু
পাকিস্তানিদের চার-ছয়ে উদ্দাম হাততালি দেওয়া,
হাততালি দিতে দিতে তালু ফাটিয়ে ফেলা।
তীব্র হাততালির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি
আজ মার্চের সতেরো।
দারুণ সৌভাগ্য আমাদের তুমি জন্ম নিয়েছিলে!
১৭-০৩-২০২৩

;