স্বাধীনতার সংবাদ ১৯৭১



ভূমিকা ও অনুবাদ আন্দালিব রাশদী
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম এমনভাবে জড়িয়ে পড়েছিল, যে, শেষপর্যন্ত বিজয়টা যেন কেবল বাংলাদেশের নয়, গণমাধ্যমেরও বিজয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্র বিভিন্নভাবে উচ্ছ্বাস প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। মূল সুরটির সূত্র একই—স্বাগত বাংলাদেশ, স্বাধীনতা অর্থবহ হোক, বৈরিতার অবসান ঘটুক, আঞ্চলিক শান্তি ও সংহতি ফিরে আসুক।


নিউ ইয়র্ক টাইমসে স্বাধীনতার সংবাদ
নয়াদিল্লি, ১৬ ডিসেম্বর।। পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা দখল করার পর এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ কবুল করার পর ভারত আজ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সম্পূর্ণ অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে। পূর্বাংশে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে হাজার মাইল দূরে পশ্চিম রণাঙ্গনে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়াই বন্দুকের শব্দ থেমে গেছে, কাল রাত ৮টা থেকে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে।

পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের কী মর্যাদা হবে, তা নিয়ে ১৪ দিনের তিক্ত যুদ্ধ শেষে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘আমাদের বিবেচনায় বর্তমান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন।’

পাকিস্তানে ঘাটতির সমস্যা
দেশব্যাপী এক বেতার ভাষণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান বলেন, ‘যুদ্ধ অব্যাহত আছে এবং আমরা লড়াই চালিয়েই যাব।’

নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বিশ্বাস করেন (প্রেসিডেট যা-ই বলুন) পাকিস্তানের সরবরাহ লাইনে তীব্র সমস্যা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ও গোলাবারুদের মজুদ পাকিস্তানকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে টিকতে দেবে না।

পশ্চিম রণাঙ্গনে ছোট পাকিস্তানি শহর পাঞ্জাবের শাকারগড়ের কাছে এ দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বড় ট্যাংকযুদ্ধে ভারত—পাকিস্তানের ৪৫টি ট্যাংক ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে ভারত হারিয়েছে ১৫টি ট্যাংক।

ভারত যখন পূর্বাঞ্চলে বিজয় উদযাপন করছে, চীন অভিযোগ করেছে ভারত তার প্রোটেক্টরেট সিকিম ও তিব্বতের সীমান্ত লঙ্ঘন করে চীনা ভূখণ্ডে অন্যায় অনুপ্রবেশ করেছে।

চীনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, চীন সীমান্তে কোনো যুদ্ধই হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, পিকিং (এখন বেইজিং) পাকিস্তানের সমর্থক, তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় আক্রমণ শুরু হয় ৪ ডিসেম্বর ভোরে এবং ৪ ডিভিশন পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদলের আত্মসমর্প্রণের মধ্য দিয়ে আজ বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে তা শেষ হয়।

ঢাকায় আত্মসমর্পণ দলিল সই করেন পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফেটন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি এবং ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।

বিদ্রোহী বাংলাদেশ সরকারের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাল ঢাকা এসে পৌঁছবেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু করবেন।

আত্মসমর্পণ দলিলে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী আত্মসমর্পণকৃত সব পাকিস্তানি সৈন্য, বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য এবং পশ্চিম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সবার নিরাপত্তা প্রদান করবে।

পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের সমর্থক এবং বিহারিদের ওপর কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক নিপীড়ন এবং তাৎক্ষণিক বিচার ও হত্যা ঠেকাতে ভারত তার দৃঢ় সংকল্পের কথা ব্যক্ত করেছে। ১৯৭১-এর মার্চে পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে বাঙালিরা আট মাস ধরে পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত হয়।

আজকের আত্মসমর্পণ সম্পূর্ণভাবে একটি সামরিক বিষয়—ভারত ও পাকিস্তানের সংকট সমাধানের কোনো রাজনৈতিক চুক্তি নয়। এমনকি আন্দোলনকারী বাঙালি ও পাকিস্তানের মধ্যেও নয়।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে, পূর্ব বাংলার ক্যারিশম্যাটিক রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা জানা। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তিনি এখনো পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে রয়েছেন।
শেখ মুজিব নামে বহুল পরিচিত এ নেতার মুক্তির জন্য ভারত পাকিস্তানের জেনারেল ইয়াহিয়ার ওপর যতটা বেশি সম্ভব চাপ দেবে। তাকেই আন্দোলনকারী বাঙালিরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে এবং তাদের দেশের নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয়রা আশঙ্কা করছে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে পূর্ব পাকিস্তানে ক্ষমতার লড়াই এবং সংকট বিরাজ করবে।

ঢাকায় পাকিস্তানি কমান্ডার জেনারেল নিয়াজি ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট অফিসের মাধ্যমে গতকাল আত্মসমর্পণের বার্তা পাঠালে জটিল দরকষাকষি পর্ব শেষ করে এ আত্মসমর্পণের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় কর্মকর্তা আজ জানিয়েছেন জেনারেল নিয়াজি তার সৈন্যদের নির্ধারিত এলাকায় ‘রিগ্রুপ’ করতে চেয়েছেন অর্থাৎ লড়াই থামিয়ে সৈন্যদের স্ব স্ব অফিসারের নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র সংবরণ করতে চেয়েছেন।

বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ
কিন্তু তা ভারতীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তারা সকাল ৯টায় মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণের নির্দেশ পাঠায়। আত্মসমর্পণ উৎসাহিত করতে রাত থেকে বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টার আলটিমেটাম শেষ হওয়ার ৩০ মিনিট আগে জেনারেল নিয়াজি মিলিটারি রেডিওতে ভারতীয় আহবানের জবাব দেন। তিনি ৬ ঘণ্টা সময় প্রার্থনা করেন, তিনি একে বলেন সন্ধি। আত্মসমর্পণের বিস্তারিত দরকষাকষির জন্য একজন সিনিয়র ভারতীয় জেনারেলকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান।

ভারতীয় বাহিনী যখন উত্তর দিক থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছে এবং ঢাকার মাত্র দুই মাইলের মধ্যে চলে এসেছে, তখন ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব হেলিকপ্টারে ঢাকা এলেন।

জেনারেল জ্যাকব ও নিয়াজি যখন আত্মসমর্পণ চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে সম্মতি জানালেন। জেনারেল জ্যাকবের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও অন্যান্য ভারতীয় কর্মকর্তা আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত দলিল সই করতে ঢাকায় এলেন।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলে মুক্তিবাহিনী নামে খ্যাত বাঙালি বিদ্রোহী গেরিলাদের চিফ অব স্টাফ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (এ অংশটি যথার্থ নয়)। তারপর আনন্দ-উচ্ছল বাঙালি জনতার সামনে দুটি ভারতীয় ব্যাটালিয়ন এবং দুটি বাঙালি ব্যাটালিয়ন ঢাকায় প্রবেশ করে এবং পাকিস্তানি বহিনীর কাছ থেকে সবকিছু বুঝে নেয়।

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কিছু সংখ্যক সৈন্য কেবল ঢাকায় অবস্থান করছিল, অন্যরা বিভিন্ন অঞ্চলে। নয়াদিল্লিতে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্র সমর্পণ করার জন্য নিয়াজি সব ইউনিটে নির্দেশ পাঠিয়েছেন।

পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধে নাটকীয় শেষ অধ্যায়ে ভারতীয় বাহিনী গত রাতে বিভিন্ন ধরনের সৈন্যদের একটি কম্পোজিট ফোর্সের মাধ্যমে ভারত তার প্রথম অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং—উভচর অবতরণ করে, নৌ-সেনারা তীরে উঠে কক্সবাজারের দক্ষিণাঞ্চলে হালকা প্রতিরোধ নস্যাৎ করে দেয়।

এই অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং এটা বুঝিয়ে দেয় যে একদা তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও অসংগঠিত ভারতীয় বাহিনী অংশত সোভিয়েত সহায়তায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক উন্নতি সাধন করেছে। এ যুদ্ধে ভারত অগ্রগামী প্রযুক্তি ও প্রদ্ধতি ব্যবহার করেছে—হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ, বিপুল সংখ্যক প্যারাট্রুপার অবতরণ এবং নৌ-অবরোধ। মিসেস গান্ধী পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতির নির্দেশের সঙ্গে জাতির উদ্দেশে তার বেতার ভাষণও পাঠিয়েছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে অবস্থানরত তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার শরণ সিংকেও তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইন্দিরা গান্ধীর বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে: ‘সীমান্ত সম্প্রসারণের কোনো আগ্রহ ভারতের নেই। এখন যেহেতু পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে আত্মসমর্পণ করেছে এবং বাংলাদেশ মুক্ত, আমরা মনে করি এ অবস্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন।

ভারতীয় সংসদে আনন্দ
লেবু-বর্ণ শাড়ি পরে প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী যখন ভারতীয় পার্লামেন্টে পূর্ব পাকিস্তানে আত্মসমর্পণের সংবাদ দেন, লোকসভা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

নয়াদিল্লিতে যদিও এ নিয়ে কোনো গণবিজয় উৎসব হয়নি, লোকজন যথারীতি কর্মক্ষেত্রে গিয়েছে। তাদের প্রশান্ত অবয়বের আড়ালে স্পষ্টতই আনন্দ-অহংকার ফুটে ওঠে। তারা ক্ষুব্ধও ছিল, প্রেসিডেন্ট নিক্সনের জন্য এক ধরনের ঘৃণা জমিয়ে রেখেছে। তারা মনে করেন—নিক্সন শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানকে উদ্ধার করার জন্য বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহরের একটি টাস্কফোর্স পাঠিয়েছেন।

ভারতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান ও গুরুত্ব ধুলায় লুটিয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে তাদের ক্রমাগত কূটনৈতিক সমর্থন এবং জাতিসংঘের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাবে পুনঃ পুনঃ ভেটো দিয়ে জনগণের কাছে সম্মানের আসনে অবস্থান করছে।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা শুনে মনে হবে তিনি পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন।

পাকিস্তানের একটি পদাতিক ও দুটি সাঁজোয়া ডিভিশন রয়েছে, এদিকে সীমান্তে ভারতীয় পক্ষেও প্রায় সমান বহর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে কদিনে ভারতীয় একজন কর্মকর্তার ভাষায় তারা পাঞ্জাবের পাকিস্তান অংশে শাকারগড় শহরে বিস্তারিত জরিপ চালিয়েছে এবং ৩৬০ বর্গমাইল পাকিস্তানি এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে।

গত রাতে এবং আজ পাকিস্তান ভয়ঙ্কর পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। ভারতীয় বাহিনী শাকারগড়ে রাভি নদীর পশ্চিম তীর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এখনো শহর দখল করতে পারেনি।

ভারতীয়রা বলেছে, তারা ট্যাংকের স্কোয়াড্রন পাঠিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছে প্রতি স্কোয়াড্রনে ১৪টি ট্যাংক-একটার পর একটা স্কোয়াড্রন গিয়ে ভারতীয় বাহিনীতে শক্তি যোগ করছে। মুখপাত্র জানায়, এ কারণে আজ ভয়ঙ্কর ট্যাংক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

ভারতীয় বাহিনীর চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল এসএইচপিজে মানেকশ বলেছেন, আজ পূর্ব বাংলায় যে পাকিস্তানি সেনাদল আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের সৈন্যদের জন্য উপযুক্ত এবং প্রাপ্ত মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হবে। পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে না আসা পর্যন্ত পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ভাবা যাচ্ছে না।

যৌথ কমান্ড
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও গণ সুযোগ-সুবিধাগুলো চালু করতে ভারতীয় ও বাঙালি সৈন্যদের যৌথ কমান্ড কাজ করবে, এতে বাঙালিরা সম্মত। যৌথ কমান্ডে ভারতীয়রা জ্যেষ্ঠ মর্যাদার।

একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একান্তে বলেছেন, বিশ্বাস করুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে যেতে চাই। আমরা দখলদার বাহিনী হিসেবে থাকতে চাই না, কিংবা এমন মনে হোক এটাও চাই না।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত সীমান্ত লঙ্ঘন করেছে বলে চীন যে অভিযোগ করেছে, তাতে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। একজন বলেছেন, চীনের এ কথায় অমঙ্গলের কোনো আশঙ্কা নেই, তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন চীন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষাই করছে, এখন হস্তক্ষেপ করে পাকিস্তানের কোনো উপকার করতে পারবে না।

অন্য পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, চীন অবশ্যই আতঙ্কিত এবং তার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যে ক্রুদ্ধ। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এখন বন্ধুত্বের চুক্তিতে আবদ্ধ। ১৯৬২ সালে সংক্ষিপ্ত ও সীমিত আকারের সীমান্ত যুদ্ধে চীন ভারতকে ভালোভাবেই পরাস্ত করেছিল।

 

মর্নিং স্টার, লন্ডন
ইয়াহিয়ার সৈন্যদের পরাজয়ে বাংলাদেশ নৃত্য করেছে

বাংলাদেশে গণহত্যার দায় ভুট্টো সাহেবকেও বহন করতে হবে—সে দেশের জনগণ ও নেতৃত্ব স্বাধীন দেশের ঘোষণা দিযেছে। বহু বিদেশি দূতাবাসে কর্মরত বাঙালিরা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দিয়েছে। পূর্ববাংলার মানুষ ভুট্টোকে ক্ষমা করবে আর রক্তাক্ত যুদ্ধটা ভুলে যাবে, তা হওয়ার নয়। দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে যে পরিবর্তন ঘটেছে, তা আর বদল হওয়ার নয়। সে কারণেই ইন্দোনেশিয়ার মুসলমান ছাত্র সংস্থা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

২৩ ডিসেম্বর ১৯৭১

উতুসান, মালয়েশিয়া
একটি নতুন জাতির জন্ম

গত রাতে ঢাকা শহর রাস্তায় ভেঙে পড়েছে। আনন্দে নৃত্য করেছে, ফুল ছিটিয়েছে, ভারতীয় সৈন্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। চিৎকার করে বলেছে, ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক’।

বিচ্ছিন্ন পাকিস্তানি ইউনিটগুলোতে পাকবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের খবর পৌঁছলে গোলন্দাজ গোলা ও ছোট অস্ত্রের গুলির শব্দ একাকার হয়ে যায়।

নতুন বাংলাদেশের জনপ্রশাসন আজ ঢাকায় পৌঁছার কথা—প্রাথমিক মেরামত ও পুনর্গঠন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে যেতে পারে।
ভারতীয় পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের নিয়ে ঢাকা শহরের মধ্যে রেসকোর্সে হাজির হন। এখানেই ভারতীয় ডেডলাইনের ১০ মিনিট আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পরও ওয়াশিংটন থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পৃথিবীর বৃহত্তম উড়োজাহাজবাহী নৌযান এন্টারপ্রাইজে যুক্তরাষ্ট্রের টাস্কফোর্স বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে।

১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১

আল সিয়াসা, কুয়েত
আবেগ ঝেড়ে এগিয়ে যাওয়া

জাতীয় পরিষদ আমাদের দেশের একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তানের যে জেনারেলরা অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখল করেছে, আমাদের জাতীয় পরিষদ তাদের পাশে দাঁড়াক, এটা আমাদের প্রত্যাশিত ছিল না। এটাও প্রত্যাশিত ছিল না, আমাদের জাতীয় পরিষদ ভারতীয় গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে চলবে, যে সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনের মাধ্যমে। অধিকন্তু পাকিস্তানি জেনারেলরাই পূর্ব পাকিস্তান থেকে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব বিলোপ করতে চেয়েছিল—যখন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল, মুজিবুর রহমানকে কারারুদ্ধ করা হলো, তার সঙ্গী গণপ্রতিনিধিদের সংসদ থেকে বের করে দেওয়া হলো আর জনগণকে করা হলো দেশছাড়া। আমরা কি সে জন্যই এখনো পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে আছি?
এটা হতবাক করা একটা প্রশ্ন আর অবস্থাটাও অদ্ভুত। কাজেই আমাদের মনের দরজা খুলে মস্তিষ্ক ও যুক্তি ব্যবহার করে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে বিচার করতে হবে। এগোতে হবে আবেগকে ঝেড়ে ফেলে। (সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য খালিদ খালিসের রচনা)।

১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

ডেইলি নেপাল, কাঠমান্ডু
পাকিস্তানের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ

পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানের অবলুপ্তির কারণ শাসকদের ওপর পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের চরম বিতৃষ্ণা। পূর্বাংশের মানুষ ইসলামাবাদের উপেক্ষার শিকার। যদিও তারাই বৈদেশিক মুদ্রার অধিকাংশই উপার্জন করত। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনামূলক বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সরকার তাদের শিল্প বিকাশ ঘটতে দেয়নি।
কাজেই পাকিস্তান থেকে সরে আসার জন্য পূর্ব পাকিস্তানি জনগণের যে লালিত বাসনা সাম্প্রতিক পাক-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ে তা অর্জিত হয়েছে। এই পরাজয়ের মধ্যে থেকে জন্ম নিয়েছে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
যুদ্ধ যে ধ্বংস সাধন করে গেছে তা পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের জন্য সাড়ে সাত কোটি মানুষের আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা লাগবে।...আমরা মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আবেদন জানাচ্ছি তারা যেন বাংলাদেশে তাদের ভাইদের সাহায্য করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে তারা তাদের মাটিতে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে পারবেন।

২০ ডিসেম্বর ১৯৭১

নবীন খবর কাঠমান্ডু
বাংলাদেশ একটি বাস্তবতা

সাম্প্রতিক যুদ্ধে পাকিস্তানকে তার অর্ধেকের বেশি অংশ হারাতে হয়েছে। এর কারণগুলো বিবেচনা করা দরকার। কিন্তু তা না করে নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ভুট্টো সাহেব তার দেশের নামে বিবৃতি জারি করছেন, যে দেশ আমাদের কেবল হতাশাই বৃদ্ধি করেছে। সবাই জানেন পাকিস্তান ভেঙে যাওযার দায় ইয়াহিয়া খানের চেয়ে ভুট্টোর কম নয়। সাধারণ নির্বাচনের পর ভুট্টো যদি ইয়াহিয়া খানকে কুপরামর্শগুলো না দিতেন, পূর্ব পাকিস্তান তাহলে আজ আর আলাদা দেশে রূপান্তরিত হতো না। যেভাবেই হোক পূর্ব পাকিস্তানের সব নাগিরকের প্রত্যাশার মুখে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে।

পৃথিবীর কোনো শক্তিই আর এ সত্যকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। ভুট্টো সাহেবের উচিত সত্য অনুধাবন করা। আমরা তাকে সেই পরামর্শই দিই। গতকাল তিনি যে ভাষণ দিয়েছেন তা স্ববিরোধী ও হতাশাব্যঞ্জক। তিনি দাবি করেন, তিনি পাকিস্তানের নির্বাচিত নেতা। কিন্তু তাকে স্বীকার করতেই হবে নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান তার চেয়ে আরো বড় নেতা। তিনি যদি নির্বাচনের রায়কে গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে মেনে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য কোনো মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজন হতো না। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ লাগত না এবং এমনভাবে পাকিস্তানকে পরাজিতও হতে হতো না।

যাক, গত ক’মাসে যেসব ঘটনা ঘটেছে ভুট্টো সাহেব তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন এবং এখনো টিকে থাকা পশ্চিম পাকিস্তানের ঐক্য অটুট রেখে রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন বলে আশা করা যায়। অন্য কথায় তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হবে। অপরপক্ষে তিনি যদি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি নেন তাহলে ইয়াহিয়া যেভাবে পূর্ব পাকিস্তান হারিয়েছেন তাকেও তেমনি পশ্চিম পাকিস্তান হারানোর জন্য পৃথকভাবে সম্পূর্ণ দায়ী থাকতে হবে—পাকিস্তানের অপরাধের দায় তাকেই গ্রহণ করতে হবে। আর কোনো কারণে তিনি যদি তা না করেন, তাকেও তাহলে ইয়াহিয়া খানের ভাগ্যই বরণ করতে হবে।

২২ ডিসেম্বর ১৯৭১

আলতাখি, ইরাক
যুদ্ধের জন্য পাকিস্তানি সামরিক শাসকই দায়ী

পাঞ্জাবি শোষণের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা বাঙালিরা দীর্ঘদিন ধরে সয়ে আসছে, বাঙালির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ইতিহাস এবং লাখ লাখ নাগরিকের শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ সবকিছু এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে—যার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে আপস-মীমাংসার আর কোনো সুযোগ রইল না—এটা এখন অসম্ভব।

১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১

দ্য ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর, বোস্টন
সবচেয়ে স্মরণীয় বিজয়

পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাকে যেভাবে উপেক্ষা করেছে, জনগণের অধিকার গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং গণতন্ত্রকে পদদলিত করে তা থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তান যদি কেবল দেশের পূর্বাঞ্চলের জনগণের আইনি ও স্বাভাবিক অধিকারগুলোর প্রতি নজর দিত, কখনোই পরিস্থিতির এমন বিস্ফোরণ ঘটত না।
কেবল জাতিগুলোর মধ্যে সাম্য ও পরস্পরের অধিকার সম্পর্কে শ্রদ্ধাই সত্যিকার সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

১২ ডিসেম্বর ১৯৭১

তিনি (মিসেস ইন্দিরা গান্ধী) সবচেয়ে স্মরণীয় বিজয় লাভ করেছেন। পাকিস্তানের পেশাদার সৈন্যরা নারী হওয়ায় তাকে অবজ্ঞা করেছিল। এ মেয়েলোক যুদ্ধের কী জানে?
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এমন সম্পূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট বিজয় আর ঘটেনি, অহঙ্কারী পাকিস্তানি সৈন্যদের ধূলিতে নামিয়ে আনতে ঠিক দু’সপ্তাহ সময় লেগেছে, আর এ সময়েই পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের অভ্যুদয় ঘটেছে।
এভাবেই দুটি পাকিস্তানের সমাপ্তি ঘটল। এখন থেকে কেবল একটি পাকিস্তান, পশ্চিম।

১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১

আল এহরাম, কায়রো
সমঝোতার আর পথ নেই

পূর্ববাংলা প্রসঙ্গে যে কথাটি বলতেই হয়—বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। জেড এ ভুট্টোর সহযোগিতায় পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিকজান্তা পূর্ববাংলায় যে আক্রমণ করেছে তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। এখন পাকিস্তানকে জেড এ ভুট্টোর স্বার্থেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আর তারই উচিত হবে শান্তি ও প্রগতির পথে পশ্চিম পাকিস্তানি জনগণের নেতৃত্বের দেওয়া।

১৮ ডিসেম্বর ৭১

   

অখণ্ড আকাশ



শরীফুল আলম
অখণ্ড আকাশ

অখণ্ড আকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিন তোমার সব অবহেলা আমি দ্বিগুণ করে
তোমাকেই ফিরিয়ে দেব,
তোমার সাবলীল ভঙ্গির ঘাতক সময় গুলো
আমাকে এখনও হানা দেয় ঘুমের ঘোরে ,
এ কেমন তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি ?
লতার মত তুমি জড়িয়ে থাকো সময়ের শূন্যতায়
প্রবল বাতাসে হৃদয় কেঁপে উঠে ,
আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য কোথায় , আমি তা জানিনা
হয়ত ভুলে যেতে হবে একদিন স্বপ্নের গল্প গুলো
তোমার ছবির ভাষা
রৌদ্রের গন্ধে ভরা বেবাক আকাশ ।

সংঘাত সরালে চেনা যায় অন্য আরেকটি সংঘাত
ভালোবাসার নিপুণ প্রতিশ্রতি , অবিনশ্বর আগামী ,
বৈপরিত্ব যেটুকু ছিল
তা তোমার বিভ্রমে ভরা নিগূঢ় রহস্য
আলতো ছাপ যেটুকু তুমি দিয়েছ আমায় তা লুকোবে কি করে ?
দায়সারা , চেনাশোনা , আধাচেনা , অচেনা রয়েই গেলে তুমি
শূন্য এ বুকে বিশাল আঁধার ঢেলে
মৃদু জল ঢেলে তুমি চলে গেলে ।

ফ্যাকাশে মুহূর্ত গুলো
প্রত্যহিক নিয়মেই এখন চলে ,
তবুও মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় জীবনানন্দ , রবীন্দ্রনাথ
পদ্মা , মেঘনা , যমুনা ।

তুমি নিরুদ্দেশ হবে হও
ষোড়শী চাঁদের আলো এখনও আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়
তাই জলের অতলে এখন আর খুঁজিনা সুখের মুক্তা ,
এ বুকের তলায় এখনও এক অখন্ড আকাশ ,
পূর্ণিমা নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না
অমবস্যার দুভাগ নিয়েও কোন কথা হবেনা
তবুও তুমি শচীন , মান্না হয়ে থেকো আমার ,
একদিন সকল অভিমান ভুলে
নিশ্চয় তুমি হাঁটু গেড়ে বসবে আমার সম্মুখে
জমানো কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ।

-

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

;

বার্তা২৪.কম’র বর্ষপূর্তি বিশেষ সাময়িকী

‘সপ্তবর্ণ’-এ অভিভূত মুহম্মদ জাফর ইকবাল যা বললেন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭ম বর্ষপূর্তি ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের শীর্ষ মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম প্রকাশ করেছে বিশেষ সাময়িকী ‘সপ্তবর্ণ’। এতে লিখেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান লেখকরা। সপ্তবর্ণে স্থান পেয়েছে শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধও।

মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার নিউজপোর্টালবার্তা২৪.কম’র বিশেষ সাময়িকীর কপি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল এই সংবাদমাধ্যমটির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। সপ্তবর্ণ সম্পাদক ও বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসময় তিনি সমকালীন সংবাদপত্রের বিবর্তন নিয়েও কথা বলেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বার্তা২৪.কম সপ্তমে পৌছেছে। আমার হিসেবে প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে ক্রুশিয়াল। কেউ যদি প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম করতে পারে, তখন ধরে নেওয়া যায়, হ্যা-পরবর্তী সময়টিতে তারা সাকসেসফুললি এগিয়ে যাবে।’

খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘বার্তা২৪.কম এর বিশেষ সাময়িকী সপ্তবর্ণ আমার হাতে। আমি চোখ বুলিয়ে দেখেছি, এতে কারা লিখেছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এত লেখকের এতগুলি লেখা তারা সুন্দর করে যত্ন নিয়ে একত্র করেছে। শুধু তাই না, আমার মত যে কোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-পুরো বিষয়টি আসলে ফোর কালার।’

‘খুবই সুন্দর, চমৎকার ঝকঝকে। চমৎকার সব ছবি। আমি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি লেখাগুলো পড়ার জন্য। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই, এত চমৎকার প্রকাশনা করার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়, যখন কোন একটা চমৎকার কিছু কেউ দেখে, তখন মনে করতে হবে এটা এমনি এমনি হয় নাই। ধরেই নিতে হবে এর পেছনে অনেক মানুষের অনেক শ্রম আছে। আমি অভিনন্দন জানাই তাদের, যারা এমন একটি সুন্দর প্রকাশনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে রাজি আছেন, যখন যখন মানুষদের কাগজের কিছু দেখার আর সময় নাই’-বলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আগামীতে বার্তা২৪.কম-কে এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালনের আহ্বানও জানান নন্দিত এই লেখক।

বার্তা২৪.কম টিমের সঙ্গে কথা বলছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

যে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা যেখাবে বড় হয়েছি, এখন সময়টা আসলেই পাল্টে গেছে। আমরা কাগজের খবর দেখে অভ্যস্ত। সবকিছু আমরা কাগজে পড়তাম। এখন যেটুকু কাগজে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আসে ইন্টারনেটে-ডিজিটাললি। সেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন। এবং আমরা যারা কাগজে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই জিনিসটি গ্রহণ করতে এখনও সময় লাগছে। যেহেতু বেশির ভাগ তথ্যই ডিজিটাললি আসছে, এর ভেতরে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার একটা ব্যাপার আছে।’

‘মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় অনেকটা অশিক্ষিতি মানুষের মতো। যেহেতু আমরা কাগজে পড়ে অভ্যস্ত, যখন ডিজিটাললি কিছু দেখি-প্রশ্ন আসে এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ যারা এটা তৈরি করছে, প্রকাশ করছে তারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে পারবে? সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কিনা? আমি দেখছি, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ সংবাদপত্র থেকে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে তার থেকে অনেক বেশি নেয় বিভিন্ন স্যোশাল নেটওয়ার্ক থেকে। এখানে একজন আরেক জনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে, এবং যে যে ধরণের তথ্য চায়, তাকে সে ধরণের তথ্যই দেওয়া হয়। ঘুরে ফিরে সে ওই ধরণের চক্রের ভেতরে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই একজন সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা যদি, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে-এটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যে জিনিসটা খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি করে, পপুলার-সেই জিনিসই যদি প্রচার করি তাহলে কিন্তু হবে না। নির্মোহভাবে আমাকে এমন তথ্য দিতে হবে যেটা বিশ্বাস করতে পারি। আমি অপেক্ষা করছি সেজন্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখি আর নিজেকে প্রশ্ন করি এটি কতটুকু বিশ্বাস করতে পারব।’

;

ভারতে যুগল সম্মননা প্রাপ্তিতে গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে যুগল সম্মাননা লাভ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা প্রদান করল শীর্ষ নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ইফতার ও সংবর্ধনায় ঢাকা পদাতিকসহ বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী ছাড়াও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। 

ইফতারের পর গোলাম কুদ্দুসকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা পদাতিকের সদস্যরা। তাকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে ঢাকা পদাতিকের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গোলাম কুদ্দুস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন নাদের চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহসহ অন্যরা। 

বক্তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গোলাম কুদ্দুসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর এই যুগল পদ প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানান। আগামী দিনেও বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।  

সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও হাওড়ায় দুটি সম্মাননায় ভূষিত হন লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। গত ১৮ মার্চ (২০২৪) কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাঘরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছের হাতে বঙ্গবন্ধু পদক তুলে দেন কলকাতার প্রবীণ কবি ও লেখক, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়া শ্রী পংকজ সাহা ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব রঞ্জণ সেন।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ(২০২৪) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কবি সাতকোর্নী ঘোষ সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘কলকাতার যীশু’র পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য গোলাম কুদ্দুছকে ‘একুশে স্মারক সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। 

;

জামাই



হানিফ ওয়াহিদ, রম্য লেখক
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ইফতার শেষ করে নামাজ শেষে হালকা একটা ঘুম দিয়েছিল রাকিব। হঠাৎ সুন্দরী শালী রিয়ার ভিডিও কল- কী করেন দুলাভাই?

রাকিব বিরক্তি চেপে একটা হাই তুলে বললো- ঘুমাই।

রিয়া খলবল করে বললো, ঘুম ভাঙছে?

- না, এখনো ভাঙে নাই।

ঠিক আছে। আমি আপনার ধরে হাত ধরে টান দিলাম- হেঁইয়ো! এইবার ভাঙছে!

- হ্যাঁ। কয়মাস?

রিয়া অবাক হয়ে বললো- কী, কয়মাস?

- পোলা না মাইয়া?

কী আবোলতাবোল বকেন দুলাভাই! গাঁজা দিয়ে ইফতার খাইছেন! নাকি শরবতের পরিবর্তে বোতল টানছেন!

রাকিব বিশাল হাই তুলতে তুলতে বললো, তোমার পেট উঁচা দেখা যায়!

রিয়া এবার হেসে ফেললো। আরে ভাই, এগুলো ইফতারি!

- ওরে সর্বনাশ! এক গ্রামের ইফতার তুমি একাই সাবাড় করেছো! এইটা পেট না কলসি! বাদ দেও, অসময়ে ফোন। কাহিনী কী?

আপা কই?

- আমার শত্রুর কথা বলছো! সে বাচ্চাদের অন্য রুমে পড়াতে বসেছে।

আপা যেন না জানে। আমাকে কিছু টাকা লোন দিতে হবে। আর্জেন্ট দরকার!

- লোন যে নিবা, বন্ধক কী রাখবা?

আপাতত আমার বোনকে বন্ধক রাখেন।

বন্ধকি পছন্দ হয় নাই। শোনো রিয়া, তুমি এ পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কত টাকা লোন নিছো জানো? আমি কি বিশ্বব্যাংক? কখনো কোনো টাকা ফেরত দিছো? তুমি তো আমার কাছে ঋণখেলাপি হয়ে গেলা…

বাজে আলাপ বন্ধ করেন তো‍! লোকজন সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েই ফেরত দেয় না! আর আপনি তো আমার দুলাভাই। দুলাভাইয়ের টাকায় শালীদের হক আছে। আপনার কাছে সারাজীবন ঋণখেলাপি হয়ে থাকতে চাই।

- টাকা পাবে না।

কেন?

- কারণ, আমি চাই না, তুমি সারাজীবন আমার কাছে ঋণখেলাপিদের একজন হয়ে থাকো। তোমার একটা ইজ্জত আছে নাহ!

আমার ইজ্জত নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আর টাকা কি মাগনা দেন! বিনিময় পান না!

রাকিব অবাক হলো- কী বিনিময়?

এই যে কথায় কথায় গালি দেন!

রাকিব যেন আকাশ থেকে পড়লো। হায় আল্লাহ! আমি তোমাকে কখন গালি দিলাম?

এই যে কথায় কথায় শালী বলেন, এটা গালি নাহ!

এইবার রাকিব হো হো করে হেসে ফেললো। মেয়েরা উল্টাপাল্টা কথা বলবে, এটাই নিয়ম। বাম পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা, মেয়েদের কথাবার্তাও তেমনি বাঁকা। এদের কথার ঠিক-ঠিকানা নাই।

- শোনো রিয়া, এবার মোবাইল রাখি। মশা আমাকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে কচকচ করে কামড়িয়ে খাচ্ছে।

মশা আপনাকে কচকচ করে খাবে কেন! আপনি কি শসা? বাসায় মশার কয়েল নাই?

আছে তো! ওই যে দেখছি, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর একটা মশা রাজা-বাদশার হালে বসে আছে। অথচ দোকানদার বলেছিল, মশা না গেলে টাকা ফেরত!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- গিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন।

- তবেই হয়েছে! ব্যাটা দোকানদার আমার শালীর হাজবেন্ড কি না! টাকা ফেরত চাহিবামাত্র তৎক্ষণাৎ বের করে দেবে!

রিয়া এবার দম ফাটিয়ে হাসতে লাগলো। আপনি খুবই মজার মানুষ দুলাভাই!

- বইন রে, একমাত্র তুমিই আমাকে বুঝতে পারলা! তোমার বোন তো আমাকে হাঁদারাম গাধা মনে করে। তাকে কীভাবে বোঝাই, মজার মানুষই ভালো! বেজার মানুষ কেউ পছন্দ করে না। অবশ্য তোমার বোন হচ্ছে উল্টা। তার ধারণা, বোকা মানুষরা অকারণে হা হা হি হি করে! অথচ হাসলে মানুষের মন ভালো থাকে। যাক গে, তোমার হাজবেন্ড কই?

সে শুয়ে শুয়ে তার ফিউচার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

- বাহ! ভালো ছেলে। ফিউচার আছে। এখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মোটেই ভালো ছেলে নয়, দুলাভাই। তার মোবাইল ফোন এখন চার্জে। তাই, টাইম পাস করছে। তার ভবিষ্যত অন্ধকার! বোকার হদ্দ! আপনার ধারেকাছেও সে নাই। তাকে আমি সারাক্ষণ বোঝাই- আমার দুলাভাইকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো। আপনি যদি হন মহারাজ, সে হবে ফকিরবাজ!

শুধু আমি বলেই তার সংসার করে গেলাম, অন্য কেউ হলে… আমি তাকে বলি, এত মোবাইল টিপে কী সুখ পাও? সে আমাকে কী বলে জানেন?

- না, কী বলে?

সে বলে, মোবাইল টেপার মতো সুখ নাকি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টা নাই!

রাকিব হাসতে লাগলো। কী বলো এসব! আর এই ডায়ালগ কীভাবে শিখলে? এটা তো তোমার আপার প্রতিদিনকার ডায়লগ!

কোনটা?

- এই যে, আমি বলেই তোমার সংসার করে গেলাম… এই কথাটা আমাকে তোমার আপা প্রতিদিন কমছেকম তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়। তো, তুমি যে তোমার হাজবেন্ডকে পছন্দ করো না, আবার তার সব কাজই অনুসরণ করো! মাথা ঘোরায় না! বমি বমি লাগে না!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- আপনিও তো আপার বদনাম করতেছেন…

- তোমার আপার বদনাম করার সাহস আমার নাই রে বইন! সে মনে করে আমি বোকার হদ্দ। আমার বর্তমান ভবিষ্যত কিছুই নাই। তোমার হাজবেন্ডের ভবিষ্যত ফিলিপস বাতির মতো ফকফকা! তার দুঃখ, তোমার হাজবেন্ডের মতো একটা এত ভালো ভদ্র হাজবেন্ড কেউ পায় নাই! তার কপাল নাকি খুবই খারাপ!

রিয়া এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ও মা! তাই! ওই কবিতাটা শোনেন নাই, দুলাভাই! ওই যে, নদীর এপাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়েতে যত সুখ আমার বিশ্বাস!

রাকিব মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো- আমি তো জানতাম, তোমার হাজবেন্ড আসলেই ভালো একজন ছেলে। বেশ অমায়িক! তুমি আবার তার সাথে ঝগড়া করো নাকি! কী নিয়ে ঝগড়া করো তোমরা?

রিয়া হাসতে হাসতে বললো, মেয়েদের ঝগড়া করতে কোনো কারণ লাগে না দুলাভাই! শুধু একটা হাজবেন্ড থাকলেই চলে!

রাকিব অবাক হয়ে বললো- আরে তাই তো! তার বউও তো অকারণেই তার সাথে ঝগড়া করে!

তাহলে কি সব মেয়েই এমন!

;