স্বাধীনতার সংবাদ ১৯৭১



ভূমিকা ও অনুবাদ আন্দালিব রাশদী
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম এমনভাবে জড়িয়ে পড়েছিল, যে, শেষপর্যন্ত বিজয়টা যেন কেবল বাংলাদেশের নয়, গণমাধ্যমেরও বিজয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্র বিভিন্নভাবে উচ্ছ্বাস প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। মূল সুরটির সূত্র একই—স্বাগত বাংলাদেশ, স্বাধীনতা অর্থবহ হোক, বৈরিতার অবসান ঘটুক, আঞ্চলিক শান্তি ও সংহতি ফিরে আসুক।


নিউ ইয়র্ক টাইমসে স্বাধীনতার সংবাদ
নয়াদিল্লি, ১৬ ডিসেম্বর।। পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা দখল করার পর এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ কবুল করার পর ভারত আজ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সম্পূর্ণ অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে। পূর্বাংশে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে হাজার মাইল দূরে পশ্চিম রণাঙ্গনে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়াই বন্দুকের শব্দ থেমে গেছে, কাল রাত ৮টা থেকে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে।

পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের কী মর্যাদা হবে, তা নিয়ে ১৪ দিনের তিক্ত যুদ্ধ শেষে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘আমাদের বিবেচনায় বর্তমান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন।’

পাকিস্তানে ঘাটতির সমস্যা
দেশব্যাপী এক বেতার ভাষণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান বলেন, ‘যুদ্ধ অব্যাহত আছে এবং আমরা লড়াই চালিয়েই যাব।’

নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বিশ্বাস করেন (প্রেসিডেট যা-ই বলুন) পাকিস্তানের সরবরাহ লাইনে তীব্র সমস্যা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ও গোলাবারুদের মজুদ পাকিস্তানকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে টিকতে দেবে না।

পশ্চিম রণাঙ্গনে ছোট পাকিস্তানি শহর পাঞ্জাবের শাকারগড়ের কাছে এ দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বড় ট্যাংকযুদ্ধে ভারত—পাকিস্তানের ৪৫টি ট্যাংক ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে ভারত হারিয়েছে ১৫টি ট্যাংক।

ভারত যখন পূর্বাঞ্চলে বিজয় উদযাপন করছে, চীন অভিযোগ করেছে ভারত তার প্রোটেক্টরেট সিকিম ও তিব্বতের সীমান্ত লঙ্ঘন করে চীনা ভূখণ্ডে অন্যায় অনুপ্রবেশ করেছে।

চীনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, চীন সীমান্তে কোনো যুদ্ধই হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, পিকিং (এখন বেইজিং) পাকিস্তানের সমর্থক, তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় আক্রমণ শুরু হয় ৪ ডিসেম্বর ভোরে এবং ৪ ডিভিশন পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদলের আত্মসমর্প্রণের মধ্য দিয়ে আজ বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে তা শেষ হয়।

ঢাকায় আত্মসমর্পণ দলিল সই করেন পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফেটন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি এবং ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।

বিদ্রোহী বাংলাদেশ সরকারের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাল ঢাকা এসে পৌঁছবেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু করবেন।

আত্মসমর্পণ দলিলে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী আত্মসমর্পণকৃত সব পাকিস্তানি সৈন্য, বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য এবং পশ্চিম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সবার নিরাপত্তা প্রদান করবে।

পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের সমর্থক এবং বিহারিদের ওপর কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক নিপীড়ন এবং তাৎক্ষণিক বিচার ও হত্যা ঠেকাতে ভারত তার দৃঢ় সংকল্পের কথা ব্যক্ত করেছে। ১৯৭১-এর মার্চে পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে বাঙালিরা আট মাস ধরে পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত হয়।

আজকের আত্মসমর্পণ সম্পূর্ণভাবে একটি সামরিক বিষয়—ভারত ও পাকিস্তানের সংকট সমাধানের কোনো রাজনৈতিক চুক্তি নয়। এমনকি আন্দোলনকারী বাঙালি ও পাকিস্তানের মধ্যেও নয়।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে, পূর্ব বাংলার ক্যারিশম্যাটিক রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা জানা। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তিনি এখনো পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে রয়েছেন।
শেখ মুজিব নামে বহুল পরিচিত এ নেতার মুক্তির জন্য ভারত পাকিস্তানের জেনারেল ইয়াহিয়ার ওপর যতটা বেশি সম্ভব চাপ দেবে। তাকেই আন্দোলনকারী বাঙালিরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে এবং তাদের দেশের নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয়রা আশঙ্কা করছে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে পূর্ব পাকিস্তানে ক্ষমতার লড়াই এবং সংকট বিরাজ করবে।

ঢাকায় পাকিস্তানি কমান্ডার জেনারেল নিয়াজি ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট অফিসের মাধ্যমে গতকাল আত্মসমর্পণের বার্তা পাঠালে জটিল দরকষাকষি পর্ব শেষ করে এ আত্মসমর্পণের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় কর্মকর্তা আজ জানিয়েছেন জেনারেল নিয়াজি তার সৈন্যদের নির্ধারিত এলাকায় ‘রিগ্রুপ’ করতে চেয়েছেন অর্থাৎ লড়াই থামিয়ে সৈন্যদের স্ব স্ব অফিসারের নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র সংবরণ করতে চেয়েছেন।

বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ
কিন্তু তা ভারতীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তারা সকাল ৯টায় মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণের নির্দেশ পাঠায়। আত্মসমর্পণ উৎসাহিত করতে রাত থেকে বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টার আলটিমেটাম শেষ হওয়ার ৩০ মিনিট আগে জেনারেল নিয়াজি মিলিটারি রেডিওতে ভারতীয় আহবানের জবাব দেন। তিনি ৬ ঘণ্টা সময় প্রার্থনা করেন, তিনি একে বলেন সন্ধি। আত্মসমর্পণের বিস্তারিত দরকষাকষির জন্য একজন সিনিয়র ভারতীয় জেনারেলকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান।

ভারতীয় বাহিনী যখন উত্তর দিক থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছে এবং ঢাকার মাত্র দুই মাইলের মধ্যে চলে এসেছে, তখন ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব হেলিকপ্টারে ঢাকা এলেন।

জেনারেল জ্যাকব ও নিয়াজি যখন আত্মসমর্পণ চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে সম্মতি জানালেন। জেনারেল জ্যাকবের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও অন্যান্য ভারতীয় কর্মকর্তা আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত দলিল সই করতে ঢাকায় এলেন।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলে মুক্তিবাহিনী নামে খ্যাত বাঙালি বিদ্রোহী গেরিলাদের চিফ অব স্টাফ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (এ অংশটি যথার্থ নয়)। তারপর আনন্দ-উচ্ছল বাঙালি জনতার সামনে দুটি ভারতীয় ব্যাটালিয়ন এবং দুটি বাঙালি ব্যাটালিয়ন ঢাকায় প্রবেশ করে এবং পাকিস্তানি বহিনীর কাছ থেকে সবকিছু বুঝে নেয়।

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কিছু সংখ্যক সৈন্য কেবল ঢাকায় অবস্থান করছিল, অন্যরা বিভিন্ন অঞ্চলে। নয়াদিল্লিতে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্র সমর্পণ করার জন্য নিয়াজি সব ইউনিটে নির্দেশ পাঠিয়েছেন।

পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধে নাটকীয় শেষ অধ্যায়ে ভারতীয় বাহিনী গত রাতে বিভিন্ন ধরনের সৈন্যদের একটি কম্পোজিট ফোর্সের মাধ্যমে ভারত তার প্রথম অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং—উভচর অবতরণ করে, নৌ-সেনারা তীরে উঠে কক্সবাজারের দক্ষিণাঞ্চলে হালকা প্রতিরোধ নস্যাৎ করে দেয়।

এই অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং এটা বুঝিয়ে দেয় যে একদা তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও অসংগঠিত ভারতীয় বাহিনী অংশত সোভিয়েত সহায়তায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক উন্নতি সাধন করেছে। এ যুদ্ধে ভারত অগ্রগামী প্রযুক্তি ও প্রদ্ধতি ব্যবহার করেছে—হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ, বিপুল সংখ্যক প্যারাট্রুপার অবতরণ এবং নৌ-অবরোধ। মিসেস গান্ধী পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতির নির্দেশের সঙ্গে জাতির উদ্দেশে তার বেতার ভাষণও পাঠিয়েছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে অবস্থানরত তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার শরণ সিংকেও তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইন্দিরা গান্ধীর বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে: ‘সীমান্ত সম্প্রসারণের কোনো আগ্রহ ভারতের নেই। এখন যেহেতু পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে আত্মসমর্পণ করেছে এবং বাংলাদেশ মুক্ত, আমরা মনে করি এ অবস্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন।

ভারতীয় সংসদে আনন্দ
লেবু-বর্ণ শাড়ি পরে প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী যখন ভারতীয় পার্লামেন্টে পূর্ব পাকিস্তানে আত্মসমর্পণের সংবাদ দেন, লোকসভা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

নয়াদিল্লিতে যদিও এ নিয়ে কোনো গণবিজয় উৎসব হয়নি, লোকজন যথারীতি কর্মক্ষেত্রে গিয়েছে। তাদের প্রশান্ত অবয়বের আড়ালে স্পষ্টতই আনন্দ-অহংকার ফুটে ওঠে। তারা ক্ষুব্ধও ছিল, প্রেসিডেন্ট নিক্সনের জন্য এক ধরনের ঘৃণা জমিয়ে রেখেছে। তারা মনে করেন—নিক্সন শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানকে উদ্ধার করার জন্য বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহরের একটি টাস্কফোর্স পাঠিয়েছেন।

ভারতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান ও গুরুত্ব ধুলায় লুটিয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে তাদের ক্রমাগত কূটনৈতিক সমর্থন এবং জাতিসংঘের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাবে পুনঃ পুনঃ ভেটো দিয়ে জনগণের কাছে সম্মানের আসনে অবস্থান করছে।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা শুনে মনে হবে তিনি পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন।

পাকিস্তানের একটি পদাতিক ও দুটি সাঁজোয়া ডিভিশন রয়েছে, এদিকে সীমান্তে ভারতীয় পক্ষেও প্রায় সমান বহর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে কদিনে ভারতীয় একজন কর্মকর্তার ভাষায় তারা পাঞ্জাবের পাকিস্তান অংশে শাকারগড় শহরে বিস্তারিত জরিপ চালিয়েছে এবং ৩৬০ বর্গমাইল পাকিস্তানি এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে।

গত রাতে এবং আজ পাকিস্তান ভয়ঙ্কর পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। ভারতীয় বাহিনী শাকারগড়ে রাভি নদীর পশ্চিম তীর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এখনো শহর দখল করতে পারেনি।

ভারতীয়রা বলেছে, তারা ট্যাংকের স্কোয়াড্রন পাঠিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছে প্রতি স্কোয়াড্রনে ১৪টি ট্যাংক-একটার পর একটা স্কোয়াড্রন গিয়ে ভারতীয় বাহিনীতে শক্তি যোগ করছে। মুখপাত্র জানায়, এ কারণে আজ ভয়ঙ্কর ট্যাংক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

ভারতীয় বাহিনীর চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল এসএইচপিজে মানেকশ বলেছেন, আজ পূর্ব বাংলায় যে পাকিস্তানি সেনাদল আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের সৈন্যদের জন্য উপযুক্ত এবং প্রাপ্ত মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হবে। পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে না আসা পর্যন্ত পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ভাবা যাচ্ছে না।

যৌথ কমান্ড
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও গণ সুযোগ-সুবিধাগুলো চালু করতে ভারতীয় ও বাঙালি সৈন্যদের যৌথ কমান্ড কাজ করবে, এতে বাঙালিরা সম্মত। যৌথ কমান্ডে ভারতীয়রা জ্যেষ্ঠ মর্যাদার।

একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একান্তে বলেছেন, বিশ্বাস করুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে যেতে চাই। আমরা দখলদার বাহিনী হিসেবে থাকতে চাই না, কিংবা এমন মনে হোক এটাও চাই না।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত সীমান্ত লঙ্ঘন করেছে বলে চীন যে অভিযোগ করেছে, তাতে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। একজন বলেছেন, চীনের এ কথায় অমঙ্গলের কোনো আশঙ্কা নেই, তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন চীন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষাই করছে, এখন হস্তক্ষেপ করে পাকিস্তানের কোনো উপকার করতে পারবে না।

অন্য পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, চীন অবশ্যই আতঙ্কিত এবং তার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যে ক্রুদ্ধ। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এখন বন্ধুত্বের চুক্তিতে আবদ্ধ। ১৯৬২ সালে সংক্ষিপ্ত ও সীমিত আকারের সীমান্ত যুদ্ধে চীন ভারতকে ভালোভাবেই পরাস্ত করেছিল।

 

মর্নিং স্টার, লন্ডন
ইয়াহিয়ার সৈন্যদের পরাজয়ে বাংলাদেশ নৃত্য করেছে

বাংলাদেশে গণহত্যার দায় ভুট্টো সাহেবকেও বহন করতে হবে—সে দেশের জনগণ ও নেতৃত্ব স্বাধীন দেশের ঘোষণা দিযেছে। বহু বিদেশি দূতাবাসে কর্মরত বাঙালিরা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দিয়েছে। পূর্ববাংলার মানুষ ভুট্টোকে ক্ষমা করবে আর রক্তাক্ত যুদ্ধটা ভুলে যাবে, তা হওয়ার নয়। দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে যে পরিবর্তন ঘটেছে, তা আর বদল হওয়ার নয়। সে কারণেই ইন্দোনেশিয়ার মুসলমান ছাত্র সংস্থা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

২৩ ডিসেম্বর ১৯৭১

উতুসান, মালয়েশিয়া
একটি নতুন জাতির জন্ম

গত রাতে ঢাকা শহর রাস্তায় ভেঙে পড়েছে। আনন্দে নৃত্য করেছে, ফুল ছিটিয়েছে, ভারতীয় সৈন্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। চিৎকার করে বলেছে, ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক’।

বিচ্ছিন্ন পাকিস্তানি ইউনিটগুলোতে পাকবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের খবর পৌঁছলে গোলন্দাজ গোলা ও ছোট অস্ত্রের গুলির শব্দ একাকার হয়ে যায়।

নতুন বাংলাদেশের জনপ্রশাসন আজ ঢাকায় পৌঁছার কথা—প্রাথমিক মেরামত ও পুনর্গঠন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে যেতে পারে।
ভারতীয় পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের নিয়ে ঢাকা শহরের মধ্যে রেসকোর্সে হাজির হন। এখানেই ভারতীয় ডেডলাইনের ১০ মিনিট আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পরও ওয়াশিংটন থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পৃথিবীর বৃহত্তম উড়োজাহাজবাহী নৌযান এন্টারপ্রাইজে যুক্তরাষ্ট্রের টাস্কফোর্স বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে।

১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১

আল সিয়াসা, কুয়েত
আবেগ ঝেড়ে এগিয়ে যাওয়া

জাতীয় পরিষদ আমাদের দেশের একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তানের যে জেনারেলরা অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখল করেছে, আমাদের জাতীয় পরিষদ তাদের পাশে দাঁড়াক, এটা আমাদের প্রত্যাশিত ছিল না। এটাও প্রত্যাশিত ছিল না, আমাদের জাতীয় পরিষদ ভারতীয় গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে চলবে, যে সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনের মাধ্যমে। অধিকন্তু পাকিস্তানি জেনারেলরাই পূর্ব পাকিস্তান থেকে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব বিলোপ করতে চেয়েছিল—যখন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল, মুজিবুর রহমানকে কারারুদ্ধ করা হলো, তার সঙ্গী গণপ্রতিনিধিদের সংসদ থেকে বের করে দেওয়া হলো আর জনগণকে করা হলো দেশছাড়া। আমরা কি সে জন্যই এখনো পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে আছি?
এটা হতবাক করা একটা প্রশ্ন আর অবস্থাটাও অদ্ভুত। কাজেই আমাদের মনের দরজা খুলে মস্তিষ্ক ও যুক্তি ব্যবহার করে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে বিচার করতে হবে। এগোতে হবে আবেগকে ঝেড়ে ফেলে। (সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য খালিদ খালিসের রচনা)।

১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

ডেইলি নেপাল, কাঠমান্ডু
পাকিস্তানের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ

পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানের অবলুপ্তির কারণ শাসকদের ওপর পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের চরম বিতৃষ্ণা। পূর্বাংশের মানুষ ইসলামাবাদের উপেক্ষার শিকার। যদিও তারাই বৈদেশিক মুদ্রার অধিকাংশই উপার্জন করত। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনামূলক বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সরকার তাদের শিল্প বিকাশ ঘটতে দেয়নি।
কাজেই পাকিস্তান থেকে সরে আসার জন্য পূর্ব পাকিস্তানি জনগণের যে লালিত বাসনা সাম্প্রতিক পাক-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ে তা অর্জিত হয়েছে। এই পরাজয়ের মধ্যে থেকে জন্ম নিয়েছে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
যুদ্ধ যে ধ্বংস সাধন করে গেছে তা পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের জন্য সাড়ে সাত কোটি মানুষের আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা লাগবে।...আমরা মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আবেদন জানাচ্ছি তারা যেন বাংলাদেশে তাদের ভাইদের সাহায্য করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে তারা তাদের মাটিতে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে পারবেন।

২০ ডিসেম্বর ১৯৭১

নবীন খবর কাঠমান্ডু
বাংলাদেশ একটি বাস্তবতা

সাম্প্রতিক যুদ্ধে পাকিস্তানকে তার অর্ধেকের বেশি অংশ হারাতে হয়েছে। এর কারণগুলো বিবেচনা করা দরকার। কিন্তু তা না করে নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ভুট্টো সাহেব তার দেশের নামে বিবৃতি জারি করছেন, যে দেশ আমাদের কেবল হতাশাই বৃদ্ধি করেছে। সবাই জানেন পাকিস্তান ভেঙে যাওযার দায় ইয়াহিয়া খানের চেয়ে ভুট্টোর কম নয়। সাধারণ নির্বাচনের পর ভুট্টো যদি ইয়াহিয়া খানকে কুপরামর্শগুলো না দিতেন, পূর্ব পাকিস্তান তাহলে আজ আর আলাদা দেশে রূপান্তরিত হতো না। যেভাবেই হোক পূর্ব পাকিস্তানের সব নাগিরকের প্রত্যাশার মুখে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে।

পৃথিবীর কোনো শক্তিই আর এ সত্যকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। ভুট্টো সাহেবের উচিত সত্য অনুধাবন করা। আমরা তাকে সেই পরামর্শই দিই। গতকাল তিনি যে ভাষণ দিয়েছেন তা স্ববিরোধী ও হতাশাব্যঞ্জক। তিনি দাবি করেন, তিনি পাকিস্তানের নির্বাচিত নেতা। কিন্তু তাকে স্বীকার করতেই হবে নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান তার চেয়ে আরো বড় নেতা। তিনি যদি নির্বাচনের রায়কে গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে মেনে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য কোনো মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজন হতো না। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ লাগত না এবং এমনভাবে পাকিস্তানকে পরাজিতও হতে হতো না।

যাক, গত ক’মাসে যেসব ঘটনা ঘটেছে ভুট্টো সাহেব তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন এবং এখনো টিকে থাকা পশ্চিম পাকিস্তানের ঐক্য অটুট রেখে রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন বলে আশা করা যায়। অন্য কথায় তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হবে। অপরপক্ষে তিনি যদি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি নেন তাহলে ইয়াহিয়া যেভাবে পূর্ব পাকিস্তান হারিয়েছেন তাকেও তেমনি পশ্চিম পাকিস্তান হারানোর জন্য পৃথকভাবে সম্পূর্ণ দায়ী থাকতে হবে—পাকিস্তানের অপরাধের দায় তাকেই গ্রহণ করতে হবে। আর কোনো কারণে তিনি যদি তা না করেন, তাকেও তাহলে ইয়াহিয়া খানের ভাগ্যই বরণ করতে হবে।

২২ ডিসেম্বর ১৯৭১

আলতাখি, ইরাক
যুদ্ধের জন্য পাকিস্তানি সামরিক শাসকই দায়ী

পাঞ্জাবি শোষণের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা বাঙালিরা দীর্ঘদিন ধরে সয়ে আসছে, বাঙালির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ইতিহাস এবং লাখ লাখ নাগরিকের শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ সবকিছু এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে—যার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে আপস-মীমাংসার আর কোনো সুযোগ রইল না—এটা এখন অসম্ভব।

১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১

দ্য ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর, বোস্টন
সবচেয়ে স্মরণীয় বিজয়

পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাকে যেভাবে উপেক্ষা করেছে, জনগণের অধিকার গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং গণতন্ত্রকে পদদলিত করে তা থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তান যদি কেবল দেশের পূর্বাঞ্চলের জনগণের আইনি ও স্বাভাবিক অধিকারগুলোর প্রতি নজর দিত, কখনোই পরিস্থিতির এমন বিস্ফোরণ ঘটত না।
কেবল জাতিগুলোর মধ্যে সাম্য ও পরস্পরের অধিকার সম্পর্কে শ্রদ্ধাই সত্যিকার সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

১২ ডিসেম্বর ১৯৭১

তিনি (মিসেস ইন্দিরা গান্ধী) সবচেয়ে স্মরণীয় বিজয় লাভ করেছেন। পাকিস্তানের পেশাদার সৈন্যরা নারী হওয়ায় তাকে অবজ্ঞা করেছিল। এ মেয়েলোক যুদ্ধের কী জানে?
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এমন সম্পূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট বিজয় আর ঘটেনি, অহঙ্কারী পাকিস্তানি সৈন্যদের ধূলিতে নামিয়ে আনতে ঠিক দু’সপ্তাহ সময় লেগেছে, আর এ সময়েই পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের অভ্যুদয় ঘটেছে।
এভাবেই দুটি পাকিস্তানের সমাপ্তি ঘটল। এখন থেকে কেবল একটি পাকিস্তান, পশ্চিম।

১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১

আল এহরাম, কায়রো
সমঝোতার আর পথ নেই

পূর্ববাংলা প্রসঙ্গে যে কথাটি বলতেই হয়—বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। জেড এ ভুট্টোর সহযোগিতায় পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিকজান্তা পূর্ববাংলায় যে আক্রমণ করেছে তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। এখন পাকিস্তানকে জেড এ ভুট্টোর স্বার্থেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আর তারই উচিত হবে শান্তি ও প্রগতির পথে পশ্চিম পাকিস্তানি জনগণের নেতৃত্বের দেওয়া।

১৮ ডিসেম্বর ৭১

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;