জয় বাংলা অবশেষে



জিনি লকারবি
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

অনুবাদ আলম খোরশেদ

মার্কিন মিশনারি, নার্স ও অনুবাদক জিনি লকারবি ১৯৬৩ সাল থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও সেখানকার দুস্থ ও বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭১ সালে, আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবহুল নয়মাসকাল ধরে তিনি একেবারে অগ্নিগিরির মাঝখানে বসে, একজন সংবেদনশীল প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে অবলোকন করেন সাধারণ বাঙালিদের সীমাহীন দুর্দশা, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নিষ্ঠুরতা, মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম বীরত্ব ও দেশপ্রেমের দৃশ্য। তাঁর সেইসব অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার কিছু ব্যক্তিগত বয়ানও তিনি লিখে রেখেছিলেন কাজের ফাঁকে ফাঁকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, তাঁর বিদ্যোৎসাহী মায়ের অনুপ্রেরণায় এবং প্রত্যক্ষ সম্পাদকীয় সহযোগিতায় তিনি On Duty In Bangladesh: The Story The Newspapers Didn’t Publish নামে এই স্মৃতিকথাটি রচনা করেন, ১৯৭৩ সালে যা যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্য থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে দেশে ও বিদেশের আরো একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এই মূল্যবান ঐতিহাসিক গ্রন্থের Joi Bangla At last অধ্যায়ের শেষাংশটুকু এখানে বার্তা২৪.কম এর পাঠকদের জন্য অনূদিত হলো।


বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহরের আগমন-সংবাদে সয়লাব হয়ে গেল রেডিও। আমাদের মতো আমেরিকানদের জন্য এটা ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্ত। এখন এমনকি সবচেয়ে অনুগত বন্ধুরাও সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল আমাদের দিকে। তাদের মতে, স্বাধীনতার সূতিকাগার হিসাবে খ্যাত আমেরিকা, বাঙালিদের প্রয়োজনের মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা কেবল বাঙালিদের স্বীকৃতি ও সাহায্য দিতেই অস্বীকার করেনি, উল্টো তার শত্রুদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র তুলে দিয়েছে, যা তারা বাঙালি হত্যাযজ্ঞে ব্যবহার করতে দ্বিধা করেনি। এবং ভারত যখন এই হত্যাযজ্ঞ ঠেকাতে এগিয়ে এলো, তখন আমেরিকা তার বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে দিল! আমেরিকা-বিরোধী মনোভাব আর কখনোই এতটা তীব্র ছিল না।

১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ভারতে মার্কিন সাহায্যসংস্থার পরিচালক এবং বর্তমানে প্রিন্সটনের উড্রো উইল্সন স্কুল অভ পাবলিক অ্যান্ড ইন্টারনেশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর ডিন জন পি. লুইস নিউ ইয়র্ক টাইম্স পত্রিকায় লিখেছেন: সাম্প্রতিক পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ অথচ সরল এক নৈতিক সংকটের সময় আমরা ভুল শিবিরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে সক্ষম হয়েছি, এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র একটি সামরিক স্বৈরাচারীর পক্ষাবলম্বন করছি।

ব্রিটেনে রক্ষণশীল পত্রিকা লন্ডন ডেইলি টেলিগ্রাফ ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করে লিখেছে: একটি মারাত্মক রকম কূটনৈতিক ব্যর্থতা, যার সমতুল্য কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন।

ঘটনার পূর্বাপর বিষয়ে অবগত, পূর্ব পাকিস্তানে বাস করা আমেরিকান নাগরিক হিসাবে আমরা, বাঙালিদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের সহানুভূতি প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি লিখি।

ডিসেম্বর ১৬, বৃহস্পতিবার সকালে আমরা রেডিওতে শুনি, জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিশেষ দূত ভুট্টো, নিরাপত্তা পরিষদের সভা ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন, তাঁর দেশকে কেউ সাহায্য করছে না বলে। ঢাকা যখন ভারতের কব্জায় চলে যাচ্ছে তখন এই ‘ঢিলেমির’ তীব্র নিন্দা করেন তিনি। কয়েকদিন ধরে বিমান ও ভূমি থেকে নিয়মিত আক্রমণের পর সকালটিকে কবরস্থানের মতো শান্ত লাগছিল। শহরে থেকে-যাওয়া অল্প ক’জন বিদেশি ব্যবসায়ীদের একজন আমাদের কুশল জানতে আসেন। তিনি ওই দিনগুলোতে রেড ক্রসের সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে, ভারী বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত বন্দর এলাকার লোমহর্ষক উদ্ধারকর্মের বর্ণনা দিচ্ছিলেন আমাদের। অনেক জাহাজেই নাকি সরাসরি আঘাত লেগেছিল এবং এমনকি কিছু বিদেশি জাহাজকে ডুবিয়ে পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল।

রিড ও আমি যে কোনো উপায়েই হোক রেড ক্রসের কাজে সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমরা জেনেছি যে, শহরের একমাত্র পশ্চিমা ধাঁচের হোটেলের ম্যানেজার, এর দরজা খুলে দিয়েছেন রেড ক্রসের জন্য, তাদের যে কোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করতে। তিনি কেবল জনসেবাই করছিলেন না, কেননা একজন বাস্তববাদী মানুষ হিসাবে তিনি জানতেন, শহরের সবচেয়ে বড় দালানটির মাথায় ওড়া রেড ক্রসের বিশাল পতাকাটির পক্ষেই একমাত্র তার এই হোটেলটিকে রক্ষা করা সম্ভব। আমাদেরকে বলা হয়, আমরা পুরো আপৎকালীন সময়টা সেখানে বিনেপয়সায় থাকাখাওয়া করতে পারি। (মাথার ওপর যুদ্ধবিমানদের অনুপস্থিতি জনসাধারণের স্বস্তির কারণ না হয়ে, আরো খারাপ এক যুদ্ধের—চট্টগ্রামের রাস্তায় রক্তাক্ত সম্মুখসমরের ইঙ্গিত দিচ্ছিল বুঝি বা।) আমরা রেড ক্রস কর্তৃপক্ষকে এই সুসংবাদের জন্য ধন্যবাদ দিই, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিই, আমাদের মেয়েরা সম্ভবত ঘরের ওল্টানো আসবাবের তলাতেই বেশি ভালো থাকবে, হোটেলে আশ্রয় নেওয়া আটকেপড়া জাহাজের নাবিক আর বিচিত্র জনতার সান্নিধ্যের চেয়ে।

সেই বিষ্যুদবারের পড়ন্ত বিকালে জনৈক নিকটবর্তী প্রতিবেশি চিৎকার করে আমাদের দুই আঙিনার মধ্যবর্তী দরজাখানি খুলে দিতে বলে। সে গুজব শুনেছে যে, ঢাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে এখানে শেষ মরণপণ লড়াই শুরু হতে পারে। তেমনটি হলে তারা যেন তাদের নারী ও শিশুদের এখানে পাঠিয়ে দিতে পারে।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার সংবাদটা আমি নিজের কাছেই রাখি, আমি চাইনি একটা গুজবের ওপর ভর করে মেয়েদের প্রত্যাশাকে বাড়িয়ে দিতে। রিড আসা মাত্রই আমি তাকে সেই প্রতিবেশির বাড়িতে পাঠিয়ে দিই সে আসলে কতটা জানে দেখার জন্য। তারপর আমরা রেডিওর শরণাপন্ন হই তার কথার সত্যতা যাচাই করার জন্য। তবে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার আগ পর্যন্ত আমরা সরাসরি কিছুই জানতে পারি না, যখন মিসেস ইন্দিরা গান্ধী ঘোষণা করেন: ঢাকা একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন রাজধানী। তাদের এই বিজয়ের মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাই।

মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

খোকা ঈশ্বরের বন্দনায় মেতে ওঠে এবং প্রার্থনার নেতৃত্ব দেয়।

রিড ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে সযত্নে লুকানো একটি বাক্স থেকে লাল সবুজ আর সোনালি রঙের বাংলাদেশের পতাকা বার করে আনে। আমরা নিষিদ্ধ বাতিগুলো জ্বালিয়ে দিই এবং পতাকাটিকে সম্মানজনক এক জায়গায় উত্তোলন করি।

টুকরোটাকরা খবরগুলো সব জোড়া লাগিয়ে আমরা জানতে পারি যে, দুপুর সোয়া বারোটায় পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এই খবরটা চট্টগ্রাম পৌঁছাতে দেরি হয় কেননা সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারতীয় বোমারু বিমান শহরের একমাত্র অবশিষ্ট বেতার সঞ্চালন স্থাপনায় আঘাত হানে। তারা যে সেটা ইচ্ছা করে করেছিল তা নয়; আসলে তাদের কাছে খবর ছিল রেলওয়ের কোনো এক বাড়িতে নাকি সৈন্যরা ঘাঁটি গেড়েছে। তারা সময়মতো সরে গিয়েছিল, কিন্তু বিমান আক্রমণে চট্টগ্রামের বাইরে যোগাযোগের সব সম্ভাবনা ধ্বংস হয়ে যায়।

পাকিস্তানি সৈন্য ও অফিসাররাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৌলতে যুদ্ধবিরতির কথা জেনে যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইয়াহিয়া খানের এই ঘোষণার খবরও পায় যে, পূর্ব পাকিস্তান এখনো পাকিস্তানের অংশ হয়েই থাকতে চায়। তিনি এও বলেন যে, যুদ্ধ জারি থাকবে—একটি পরাজয়ে গোটা যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হয় না।

অনেকেই তাঁর উপদেশ শুনে সারা রাত ধরে সশব্দ যুদ্ধ চালিয়ে গেল। রাত ভোর হলো কান্না, চিৎকার, গুলির শব্দ আর আগুনের আভায়। আমরা নিশ্চিত হতে পারছিলাম না সেটা যুদ্ধের দামামা নাকি বিজয়ের উল্লাস ছিল, তাই শেষবারের মতো টেবিল আর বসার ঘরের ওল্টানো আসবাবের নিচে আশ্রয় নিই।

সকাল দশটার মধ্যে গোটা শহর যেন উদ্দাম হয়ে ওঠে। সবাই ততক্ষণে যুদ্ধবিরতির সত্য সংবাদটা জেনে ফেলেছে। শূন্য ও নিষ্প্রাণ রাস্তাগুলো যেন প্রাণ পেয়ে জেগে ওঠে ফের। হঠাৎ করেই সবকটা রাস্তাই যেন লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এতদিন অলস বসে থাকা গাড়ি, বাস, ট্রাক ইত্যাদি সব বয়সের লোকভর্তি হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। মেয়েরা মুখের পর্দা সরিয়ে নাচতে শুরু করে পথে নেমে। প্রত্যেকেই জয় বাংলা বলতে বলতে গলা ভেঙে ফেলে।

আর তখনই এলো পরিত্রাতা তথা ভারতীয় বাহিনী। ট্রাকের পর ট্রাক যাচ্ছিল আর রাস্তায় সারবেঁধে দাঁড়ানো বাঙালিরা উল্লাস করছিল, কাঁদছিল আর হাত নাড়ছিল তাদের প্রতি। কোনো সাহসী সৈন্য গাড়ি থেকে নামামাত্রই স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ধরছিল, সামান্য একটু ছুঁয়ে দেখতে, কথা বলতে আর ধন্যবাদ দিতে। মানুষের মনোভাবের এই পরিবর্তনটুকু ছিল রীতিমতো নাটকীয়। বাচ্চারা যারা মিলিটারি পোশাকপরা কাউকে দেখলে পালিয়ে বাঁচত তারাই এখন গিয়ে তাদের কোলে উঠছে। নারীদের দেখা হচ্ছিল শ্রদ্ধার চোখে। এটাই মুক্তি, আর বাঙালিরা তার স্বাদ নিচ্ছিল প্রাণভরে।

কবিদের ডাকা ‘সোনার বাংলা’র আকাশে বাতাসে তখন কেবল “জয় বাংলা” ধ্বনি।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;