অদ্ভুত আঁধার এক...



রুমা মোদক
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

অদ্ভুত আঁধার এক পৃথিবীতে এসেছে আজ, সত্যিকারের আঁধারে ছেয়ে গেছে আমাদের বর্তমান, আমাদের ভবিষ্যৎ। এমন এক আচমকা অন্ধকার যার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না আদৌ। আমরা অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে যারা তৃতীয় শ্রেণির তারা তো বটেই, প্রথম ও উন্নত বিশ্ব হিমসিম খাচ্ছে এই নতুন উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায়।

আমাদের জন্য বছরটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় জীবনে বছরটি ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী। বিপুল উদ্দীপনায় জাতি প্রস্তুত ছিল বছরটি উদযাপনের। আয়োজনের ঘাটতি ছিল না। কিন্তু অদৃশ্য শক্তিশালী এক জীবাণু মুহূর্তে সব তছনছ করে দিয়েছে। এক আদেশে থেমে গেছে সব আয়োজন। শুধু কি জাতির পিতার জন্মশতবর্ষের আয়োজন, রাত পোহালে আমাদের ৪৯তম মহান স্বাধীনতা দিবস। দৃষ্টি মেলে দেখা, অভিজ্ঞতার আলোতে অভ্যস্ত আয়োজনগুলি এবার আর দেখা যাবে না। প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্যান্ডে তাল উঠবে না আমাদের জাতীয় এই গৌরবের দিনটি। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মঞ্চগুলি মেতে উঠবে না কোরাসে—এক সাগরে রক্তের বিনিময়ে... কিংবা তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা...।

এই রোগে মৃত্যুর মিছিল ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে তা বলা যাচ্ছে না। এটা অনেকখানি নির্ভর করবে, কোন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা করোনা মোকাবেলায় কতখানি প্রস্তুত তার ওপর। যে দেশ যতটা প্রস্তুত সে দেশে মৃত্যুর হার তত কম হবে, আর অপ্রস্তুত দেশে অতিরিক্ত রোগীর চাপে বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাবের কারণে মৃত্যুর হার সেটা ৫% বা তারও বেশি হয়ে যেতে পারে। ১০০ জনে ৪ জন (যদি ৪% ধরা হয়), ২০০ জনে ৮ জন, দুই হাজারে ৮০ জন, দুই লক্ষে ৮ হাজার জন; আর যদি দশ লক্ষ মানুষ (মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.৬%) সংক্রমিত হয়, তবে মৃতের সংখ্যা গিয়ে ঠেকবে ৪০ হাজারে!

আমাদের দেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ইউরোপীয় দেশগুলো ধারণা করছে এই ভাইরাস তাদের মোট জনসংখ্যার ন্যূনতম ৬০-৭০% মানুষকে আক্রান্ত করবে। তাই আমাদের দেশে ১০ কেন, ২০ কিংবা ৩০ লক্ষ মানুষের মাঝে এই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়াটা খুব বিচিত্র কিছু হবে না। ভাবা যায়! দুই থেকে আড়াই লক্ষ মানুষ শেষ হয়ে যাবে এই সংক্রমণ না প্রতিরোধ না করতে পারলে।

কোভিড-১৯ একজন থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রমিত হচ্ছে আমাদের সামাজিক মেলামেশার কারণে—বিদেশ থেকে দেশে, পরিবারের একজন থেকে অন্যজন, এক পরিবার থেকে অন্য পরিবারে, এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায়, শহর থেকে গ্রামে, এবং ক্রমান্বয়ে সারাদেশে! আমরা যদি কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কাজ না করি তবে এই রোগ সারা দেশের প্রতিটি মানুষকে সংক্রমিত করবে! আমরা যদি এলাকা-ভিত্তিক কোয়ারেন্টিন করার চেষ্টা করি, তা সাময়িকভাবে কিছুটা উপকার করলেও দ্বিতীয় দফায় তা আবারও ছড়িয়ে পড়বে; আমরা যদি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিই, তাহলে সেটা এলাকা-ভিত্তিক কোয়ারেন্টিনের চাইতে ভালো কাজ করবে। তবে, আমরা যদি ব্যাপকভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি, তাহলে সেটা সবচেয়ে বেশি সুফল দেবে।

আচ্ছা এমন দিন এমন যাপন কি আমাদের কল্পনায়ও ছিল কোনোদিন? আমাদের সব আয়োজন তো বটেই থেমে যাবে আমাদের প্রাত্যহিক দিনগুলো? আমরা কেবলই বাড়ির ভেতরে, ঘর থেকে ঘরে, আরো কক্ষের ভেতরে বিচ্ছিন্ন হবো আরো। আমরা ঘুমাতে যাব প্রবল অনিশ্চয়তায়, কে জানে কাল ভোরটা দেখব কিনা!

এমন নয় যে, আমরা জানি আমরা অসুস্থ। বরং আমরা আছি এক গভীর আতঙ্কে কখন কোন মুহূর্তে আমাদের ভেতর প্রবেশ করে অচেনা অদৃশ্য ঘাতক। আমরা ঢুকে পড়ি মৃত্যুকূপে। আমাদের সাথে প্রতিদিন মহড়ায় আসে, গলা মেলায়, ভুলগুলো ঠিক করে, মঞ্চে উঠার আগে পা ছুঁয়ে আশিস চায়। প্রতি সন্ধ্যায় বাসায় চা-মুড়ি...তুমুল আড্ডা। এই জায়গাটায় বডি লেঙ্গুয়েজটা ঠিক কেমন হলে বেশি ভালো হতো? কিংবা কণ্ঠের ভেরিয়েশন। প্রতিদিন, প্রতিটি সন্ধ্যা। কয়েকদিন ওরা আসছে না। কাল এসে দরজার বাইরে, ঘরে ঢুকছে না। দিদি, না দেখে আর ভালো লাগছে না, তাই দেখতে এলাম। কে জানে যদি এটাই হয় শেষ দেখা!

এ কেমন দিন,এ কেমন অচেনা যাপন!

বিশ্বের সামনে এ এক নতুন পরীক্ষা, ভয়াবহ পরীক্ষা। যে পরীক্ষার মুখোমুখি পরপর কয়েকটি জেনারেশান হয়নি এর আগে। এ এক লড়াই। নতুন লড়াই। কিন্তু শত্রু দৃশ্যমান নয়। চিহ্নিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই হয়তো সহজ কিছুটা, ঢাল তলোয়ার, অস্ত্র, কিছুটা কৌশল।

কিন্তু শত্রু যখন হয় অদৃশ্য, যার বিরুদ্ধে আমাদের কার্যকর অস্ত্র জানা নেই, জানা নেই কৌশল। জানা নেই এর গতি, স্পষ্ট নয় এর প্রকৃতি। অন্ধকারে দরজা খুললেই মনে হচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই গুপ্ত ঘাতক, আমাদের সামান্য অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে ঢুকে পড়েছে আমাদের দেহে, বিপন্ন করে দিচ্ছে আমাদের জীবন, মানব জীবন...মানব সভ্যতা...।

কখনো নিরপরাধ আমরা। কোনো ক্ষমা প্রার্থনা, ভুল স্বীকার, কোনো অনুশোচনা কিছুতেই মুক্তি নেই আর। যদি না প্রকৃতি আমার ভেতর থেকে আমাকে রক্ষা না করে, কোনো পদক্ষেপই কাজে লাগবে না আর।

ভাবতে পারেন কেমন বদলে গেছে আমাদের চেনা পৃথিবীটা? হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা, পরিপুষ্ট হওয়া, শ্লাঘা করা বিশ্বাসের ভিতগুলো কেমন বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়েছে। অতিপ্রাকৃত, সর্বশক্তির আধারের উপাসনালয়গুলো থেকে সরে গেছে লক্ষ লক্ষ মানুষ, স্বীকার করি কিংবা না করি পরোক্ষে এ তো আস্থাহীনতাই।

ভাবতে পারেন, হয়তো আপনার সব প্রয়োজন ফুরিয়েছে! এই উদযাপন, উৎসব সবকিছুর। ভাবতে পারেন আর মেলা জমবে না বটতলা হাটতলায়! প্রয়োজন ফুরিয়েছে পা ছুঁয়ে আশিস নেওয়ার, কোলাকুলিতে সৌহার্দ্য বিনিময়ের, হাতে হাত মিলিয়ে ‘হাউ ডু ইউ ডু’ বলে কুশল বিনিময়ের? এক সম্পূর্ণ নতুন পৃথিবী এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের সামনে।

এখানে থিয়েটার নেই, ম্যুভি নেই, ক্লাব নেই, বার নেই, আড্ডা নেই, চায়ের ঠেক নেই কেবল আছে টিকে থাকার অদম্য অসহায় আশা।

সন্তানের গালে চুমু খেয়ে আমরা ভাবছি, এই কি শেষ চুমু! প্রেমের হাত ছুঁয়ে ভাবছি এই কি অন্তিম ছোঁয়া, এরপর আর গন্তব্য নেই কোনো চূড়ান্তের.....? মাকে ফোন দিয়ে ভাবছি, এই কি শেষ শোনা মায়ের কণ্ঠ?

গানটা মনে পড়ছে—একলা মানুষ মাতৃগর্ভে, একলা মানুষ চিতায়....? কিংবা আবুল হাসানের সেই কবিতা, অবশেষে মানুষ জেনেছে সে তার চিবুকের কাছেও একা...? কিংবা চলচ্চিত্রের সেই মেলোড্রামাটিক দৃশ্যটি প্রতারিত প্রেমিকা চিৎকার করে কাঁদছে—প্লিজ আমাকে একা থাকতে দাও...?

আচ্ছা, বুকে আজ একবার হাত দিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আমরা কে একা নই? আমাদের এমন কে আছে যার সাথে জীবনের সব গোপন, সব গ্লানি, সব অপমান, সব প্রতারণা ভাগ করে নিতে পারি? গর্ভধারিণী জননী কিংবা ঔরস দেওয়া জনক, এক ছাদের নিচে কাটানো জীবন সঙ্গী কিংবা কাবিন বিহীন বন্ধু কিংবা নাড়ি ছেঁড়া আত্মজ!

যে নিজের জীবন শঙ্কায় ফেলেছে আমাকে জন্ম দিতে গিয়ে কিংবা আমি নিজের জীবন শঙ্কায় ফেলেছি যাদের জন্ম দিতে, যে আমার জন্য দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছে লাল কাপড় কেউ কি প্রস্তুত আমার আমিত্বের সকল প্রকাশ্য গোপনের ভাগ নিয়ে আমাকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দিতে? না।

এই যে সামাজিক যত আয়োজন, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা অপ্রাতিষ্ঠানিক তার অধিকাংশটুকুই কেবল গৌরব ভাগাভাগির, স্বার্থ বিনিময়ের-স্বার্থ শব্দটি সবসময় নেতিবাচক নয়, প্রয়োজনেরও। কখনো দুঃখ কিংবা বেদনা ভাগাভাগিরও। কিন্তু জীবনের প্রতিটি বাঁক উপবাঁকের সত্য বলার মতো একাকীত্বহীন কেউ কি আছে পৃথিবীতে? আসলেই তো মানুষ বড় একা...।

এই নতুন যুদ্ধ আরো ক্রমশ একা হবার যুদ্ধ। কতটা আরো কতটা একা হতে পারে মানুষ, এবার পরীক্ষা তার। মানসিক একাকীত্ব শারীরিক একাকীত্বে স্থানান্তরের পরীক্ষা। তুমি তো একাই ছিলে মানুষ, এবার শুধু বিচ্ছিন্ন হও, সাময়িক বিচ্ছিন্ন হও পুনরায় যুথবদ্ধ হবার প্রত্যাশায়...।

এই একাকীত্বের পরীক্ষায় যত ভালো ফল হবে ততই সম্ভাবনা বাড়বে একটি সভ্যতা বেঁচে যাবার।

মানুষ বাঁচলে সভ্যতা বাঁচবে। সভ্যতা বাঁচলে আবার জমবে মেলা বটতলা, হাটতলা....।আমরা আবার পা ছুঁয়ে ফিরিয়ে আনব প্রিয় মূল্যবোধগুলো, গলাগলির বন্ধুত্বে ফিরে যাব নতুন কোনো মূল্যবোধে। হয়তো আমাদের উৎসব উদযাপনগুলো এই ক্রান্তিকালের সাঁকো পার হয়ে ফিরে আসবে নতুন কোনো পোশাকে। যে পোশাকে থাকবে না প্রকৃতিকর্তৃক নির্ধারিত ভিন্নতা ভিন্ন আর কোনো বৈষম্য!

কে জানে হয়তো সব হতাশার অন্ধকার গুহার পেছনে থাকে একটা সূক্ষ্ম আশার আলোক রেখা।এই মুহূর্তে পৃথিবীর কুড়িটি গবেষণাগারে চলছে নিবিড় গবেষণা। মানুষই নিমগ্ন মানুষকে বাঁচাতে। এর যে কোনো একটির সাফল্য মানব সভ্যতাকে বাঁচিয়ে দেবে কয়েক হাজার বছর। স্পেনে, ইটালিতে পৌঁছে গেছে চীন, কিউবার চিকিৎসক দল। হয়তো এই পুলিসেরাতের পুল পার হয়ে আমরা দেখা পাব নতুন এক পৃথিবীর।

যেখানে ‘রাজনৈতিক মেরুকরণ’ এক হাস্যকর শব্দ, ‘বাণিজ্যিক অবরোধ’ শব্দটি হারাবে তার নিজস্ব অর্থ। মানুষের বিজয় বিলীন করে দেবে সমস্ত কুসংস্কার আর অন্ধ বিশ্বাস।

জনহীন লোকালয়ে নিরাপদে হাঁটছে যে ময়ূর, মানুষের মায়াময় জগত ছেড়ে সে আর ফিরে যাবার প্রয়োজন বোধ করবে না, পানি ছেড়ে ডাঙায় উঠেছে যে ডলফিন মানুষই হবে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু।

সব নিরাপদ নিরাপত্তা নিয়ে, সব বুদ্ধি আর মেধা মঙ্গলে নিয়োজিত করে মানুষই হবে প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ অংশ। মানুষই দাঁড়াবে মানুষের পাশে...। এর জন্য সবার আগে ভাইরাসটাকে পরাস্ত করার জন্য, আমাদেরকে সারাবিশ্বের সমস্ত তথ্য আদান-প্রদান করতে হবে। ভাইরাসের ওপর মানুষের একটা বড় বিজয় হবে এটি। কিভাবে করোনাভাইরাসের মোকাবেলা করতে হবে, সে-ব্যাপারে চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করতে পারে। সিঙ্গাপুরের একজন চিকিৎসক যা আবিষ্কার করেছেন আজ তা বিকেল নাগাদ ভারতে অসংখ্য জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

দেশগুলো উদ্বুদ্ধ হবে নিজেদের মধ্যে মুক্তভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে এবং পরস্পরের পরামর্শ চাইতে। মেডিকেল যন্ত্রপাতি, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো টেস্টিং কিট আর শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র, উৎপাদন ও বিতরণের জন্য আমাদের একটি বৈশ্বিক প্রয়াসের প্রয়োজন পড়বে। প্রতিটা দেশ স্থানীয়ভাবে এটা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, এবং হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই মজুদ করছে, এরকম করার চেয়ে একটি সমন্বিত বৈশ্বিক প্রয়াসই বরং উৎপাদনকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করতে পারবে এবং জীবন-বাঁচানো যন্ত্রপাতি সুষম ভাগ হচ্ছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করতে পারবে। ৭১ এর বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে প্রধান প্রধান শিল্পখাতগুলোকে জাতীয়করণ করেছিলেন, তেমনি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের যুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন উৎসগুলোর শর্তহীন বিশ্বায়নের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

যেখানে করোনাভাইরাসের স্বল্পসংখ্যক রোগী ধরা পড়েছে এমন দেশগুলোর অনেক বেশি রোগী ধরা পড়েছে এমন দেশগুলোতে তারা যন্ত্রপাতি পাঠাতে পারে। তাদেরকে এই ব্যাপারে বিশ্বাস থাকতে হবে, পরবর্তীতে যখন তাদের নিজেদের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে, অন্য দেশগুলো সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রয়াস বিবেচনায় আনতে হবে যেসব দেশ এখনো ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সবচেয়ে খারাপ দশায় থাকা অঞ্চলগুলোতে সেসব দেশ তার স্বাস্থ্যকর্মী পাঠাতে পারে।
অর্থনৈতিকভাবেও আন্তর্জাতিক সহায়তাটা ব্যাপকভাবেই জরুরি, প্রতিটি সরকার যদি সব ভুলে শুধু নিজের দেশের কথা ভাবে এই গভীর সংকট পার পাওয়া সম্ভব নয়। এ সময় আসলে আমাদের ঘুরে দাঁড়াবার সময় বিশ্বকে বদলে দেওয়ার সময়। সময় রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি সব নতুন করে চেনার। স্বাধীনতা দিবসে এ বছর আমাদের নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নতুন প্রত্যয়।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;