একাত্তর, মায়ের দুর্মর লজ্জার এক গোপন কথন

নাসরীন জাহান
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

রুদ্ধশ্বাস সাবধানে মেসের জানালায় ঘাপটি মেরে থাকতে থাকতে হাত-পায়ে টানটান ধরে যায়। যাই যাই শীতের উত্তুরে হাওয়া দুই বাড়ির মাঝের রাস্তায়ই যে কেন ঘাপটি মেরে যায়, ও বাড়ির জানালার পর্দা উড়ছে না। টানা ফোন বন্ধ ছন্দার, অস্থির জাকির এই মফস্বলে কোনোদিনই এই সাহস করে উঠতে পারেনি, এমন মুহূর্তগুলোতে ছন্দার বাড়িতে হাজির হয়ে যাওয়া। মৃদু-ঘন-ধীর লয়ে চলা ছন্দার মন পেতে কম আছারিবিছারি প্রহরের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হয়নি জাকিরকে। অদ্ভুত বিষণ্নতার মাঝে প্রহরের পর প্রহর ডুবে থাকত সে।

এরপর বদ্ধ দিঘির জলে স্রোত সঞ্চারিত হলে দুজন কত আলুলায়িত বিকেলে ব্রহ্মপুত্রের জলে পা ডুবিয়ে কৃষি ভার্সিটির চত্বর পেরিয়ে অদ্ভুত রোমাঞ্চে হেঁটেছে, যেন নিজেকে হাজার উপুড় করেও কেন যেন ছন্দাকে কখনোই তেমন খুলতে পারেনি জাকির।

এই রহস্য তাকে যত নোনা জলে সাঁতলিয়েছে, তত দুর্মর টেনেছে ছন্দার প্রতি নিজের সত্তাকে। ময়মনসিংহ শহরটা রাজধানীর কাছে হওয়ায়ই হয়তো মেয়েরা রাজধানীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেক স্মার্ট। ছন্দার তাঁতের অনুজ্জ্বল পোশাক, সজ্জাহীন মুখ, চোখের ঘন পাপড়ি জাকিরকে রীতিমতো মায়ের মুখের উদ্ভাসনে কাঁপাত। আজকাল মায়ের মতো মেয়ে কত জনমে দেখতে পাওয়া যায়? যেদিন ছন্দা ‘হ্যাঁ, ভালোবাসি’ বলল তার পরদিন কপালে যুক্ত করেছিল স্রেফ কালো টিপ, তাতেই দুর্মর কম্পনে জাকিরের পড়িমরি দশা।

ধড়াস!

বুক কেঁপে ওঠে। পর্দার ওপাশে শ্যামল ছন্দার গভীর কালো চোখ…গ্রিলের বাইরে সন্তর্পণে হাত বাড়িয়ে ইঙ্গিত করল জাকিরকে তাদের চিরকালীন রেললাইনটার দিকে যেতে।

বন্ধুরা যার যার মতো বাইরে। কেউ ক্লাসে, কেউ কাজে। নিজ বাড়ি মেইন শহর থেকে কিছুটা দূরে। তাই বন্ধুদের ছোঁকছোঁক পথ ধরে জাকির ঠিক ছন্দাদের সামনের মেসটাতেই মাঝেমধ্যে আসে।

সামনে অবারিত রেললাইন!

কত কত দিন যে এখানে এসে সে ছন্দার জন্য দাঁড়িয়ে থেকেছে। এরপর স্লিপার টপকে টপকে একসঙ্গে আনন্দমোহন কলেজে গেছে।

এই পথ দিয়ে যেতেই কত কী যে চোখে পড়ে ছন্দার! বহু বর্ণিল ঘাসফুল… ঝকঝকে পাথর… মাঝ মাঝে শুকনো গুয়ের গন্ধ নাক কুঁচকাত জাকিরের, ছন্দা বলত, এ দেশের এই দিকটা যখন বদলানো যাইতেছে না, তখন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো… কই, কই… জাকির বলত আমি তো বরং চারদিকে কাঁঠালিচাঁপার ঘ্রাণ পাইতেছি… চোখ বুজো… অনুভব করো।

অথচ কলেজে পড়াকালীন, ভার্সিটি ভর্তি হওয়ার অবধি ছন্দার বিপরীত স্বভাবের এক মেয়ের জন্য কী মাখামাখি উথালপাথার প্রেমই না ছিল তার! ছটফট স্বভাবের মেয়েটি সারাক্ষণ মৃত্তিকার থেকে কিছু ওপরে ভাসন্ত রাখত জাকিরকে। চায়নিজে যাওয়া, নৌভ্রমণ, প্রাইভেটকার ভাড়া করে লং জার্নি…সটান কণ্ঠে বলত, মেয়ে-পুরুষ সমান অধিকার, খরচ ফিফটি-ফিফটি।

জাকিরদের পরিবার ধর্মভীরু। বাবা নানা রকম ওয়াজ মাহফিলে যান… জাকিরের বুক টিপ টিপ করত, এই জিন্স ফতুয়া পরা মেয়েটাকে সে কিভাবে পরিবারে উপস্থাপন করবে? কিন্তু সম্পা এসে সামনে দাঁড়ালে সব প্রতিকূলতা অদ্ভুত নিঃসীমে মুছে যেত। চারপাশ অপসৃত হয়ে কেবল পৃথিবীতে দাঁড়াত তারা দুজনই।

সম্পার বান্ধবীর খালি ফ্ল্যাটে দুজনের চুম্বন গড়িয়ে ফাটাফাটি শারীরিক সম্পর্কের পর সম্পা যখন আচমকা হাওয়া… পাগলপ্রায় জাকির বিষ খেয়ে মরতে বসছিল। ‘তুমি আমাকে নষ্ট করেছ’—সম্পার এ কথার মাথামুণ্ডু লেজ না বুঝে যখন প্রায় শেষ আঁধার দেখছে, জাকিরের ছোটবেলার বন্ধু বলল, কাল ওকে আরেক ছেলের সঙ্গে গাড়িতে দেখলাম। তোর অবস্থা দেখে ওর সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছি। স্কুলজীবন থেকেই প্রেম সেক্স ওর ডাল-ভাত। নইলে কিশোরী মেয়ে এত অনায়াসে তোর সঙ্গে শরীরে লিপ্ত হইল?

তুই এতসব কিভাবে জানিস?

সবাই তোর মতো বুদ্ধু না।

এরপর ভেবেছিল জীবনে আর মেয়ে না, আর প্রেম না, আর বিশ্বাস না… না, মানে জাকির এই জীবনে পারবেই না আর কোনো মেয়েকে ভালোবাসতে। বাবা-মা বিয়ের কথা বললে দেশ ছেড়ে পালাবে। এরপর আত্মসম্মোহনে বুঁদ হয়ে থাকা জাকিরের চারপাশে সময়গুলো কখনো কাশফুল কখনো রঙধনু ফড়িংয়ের বিলোড়ন নিয়ে উড়াউড়ি করলেও বিশাল পাহাড়ের গুহামুখ ছাড়া কিচ্ছু চোখে পড়ত না তার। বিড়বিড় করত সে… আমি তো চামড়া খসা হরিণে মতো কেউ… তখনই নিঃশব্দ পা ফেলে সামনে এসে দাঁড়াল ছন্দা। ইন্টারমিডিয়েট থেকেই সে এই কলেজে একেবারে নিজ নিমগ্নতায় ঘোর খেত। হাতেগোনা দু একজন বান্ধবী আর ছেলে বলতে ভাইয়ের মতো পাশে থাকা তুহিনে সাথে চলত। অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে একদিন তখনও জাকির ডুবে ছিল সম্পাতে, সম্পার বিচ্ছেদ মানতেই পারছিল না। আচমকা ফিল্মে নাটকে ঘটার মতোই ছন্দার সাথে ধাক্কাটা লাগে। সমস্ত বই-খাতা কুড়িয়ে না-রাগ-না বিরক্তি অদ্ভুত নিস্পৃহ একটা চোখ জাকিরের সত্তায় গেঁথে ছন্দা নিঃশব্দে হেঁটে যায়। নিজের মধ্যে মূহ্যমান ছন্দাকে জাকির সম্পার বলয়চ্যূত হয়ে মাথা তুলতে তুলতে যত ছুঁতে চায় তত সে দূরবর্তী। একই ক্লাসে পড়ুয়া ছন্দা যেন সমস্ত কলেজে ক্লাসে অন্য এক নির্জীব জগত থেকে আসা কেউ। ‘প্রথম প্রেম ভোলা যায় না’—এই বোধে কল্পনারত জাকির বেমালুম ভুলে গেল সম্পার সাথে তার জীবন এসপার-ওসপার বোধ সম্পর্ককে। বরং উদ্দমিত অনুভব তাকে খাড়া করিয়ে ভাবাল, যে প্রেমে কোনো মেয়েকে ঘরের বউ ভাবা যায় না, সত্যিই বড় অপরিপক্ব সেই প্রেম। তিন বোন এক ভাইয়ের সংসারে মায়ের সোনার টুকরো ছেলের পুরো অবয়বে জীবন রসের পুনর্জাগরণ ঘটল। ধীরে ধীরে ছন্দার একটু একটু খোলস ভাঙতে থাকলে জানা হলো, ছন্দার নানা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা মারা গেছেন রোড অ্যাকসিডেন্টে, এগারো বছর আগে। মা এনজিওতে কাজ করেন।

সময় তো পরতের বড় জখমেও ধুলো-মাটি দিয়ে ঢেকে আস্তর পর্যন্ত দিয়ে দেয়। কেন কিছুতেই ছন্দার বিষণ্নতা কাটে না?

নানুকে যখন বেয়নেট দিয়ে গুঁতিয়ে মারছে রাজাকার আর পাক আর্মি, কিশোরী মা গাছের পেছনে বসে সব দেখছিলেন… সেই দৃশ্য মাকে আজীবন তাড়া করে।

সে তো বিয়াল্লিশ বছর আগের কথা… বিস্মিত জকির বলে, সেটা নিয়ে এখনো পড়ে থাকার কী? তোমার বাবার দুর্ঘটনা তোমাদের কষ্ট দেয় না?

বিয়াল্লিশ বছর আগে কোনো ফাজলামি হয় নাই, শান্ত ছন্দা ফুঁসে উঠেছিল, ওটা তুমি বুঝবা না।

না, আর বুঝতেও চায় না জাকির। তার বাড়িতে কেউ যুদ্ধে মারাও যায়নি, এর কোনো জিকিরও নেই… কেন ছন্দার মধ্যে থেকে তার নানাকে হত্যা করা মায়ের বর্ণিত ফর্সা জরুল মুখের বিজাতীয় ভাষায় কথা বলা বিশেষ এক মিলিটারির চেহারাটা অপসৃত হয় না?

বিকেল গড়াতে থাকে।

একটা ট্রেন তার ধ্বনি চারপাশে কোরাসের মতো ছড়িয়ে স্তিমিত হলে ছন্দা আসে।

দুজন ধীরে স্লিপার টপকায়। অদ্ভুত এক বাতাস এসে দুজনকে মূহ্যমান করে দিয়ে সানকিপাড়ার দিকে চলে যায়।

তুমি দুই দিন যাবত ক্লাসে আসো নাই। দুই দিন তোমার মোবাইল বন্ধ।

ছন্দা তেমনই নিশ্চুপ দূরের ধুলোঘূর্ণির দিকে চেয়ে থাকে।

একটা ম্যাসেজ করতে পারতা না? আমার দিনরাত বাঁচিমরি দশা, এইটুকু
কখন সেন্স নাই তোমার।

দুইদিন ধরে মা খুব কাঁদতেছিল।

তোমার মায়ের কান্না কি সিজনাল, ডিসেম্বরে শুরু হয়, মার্চের শেষে গিয়ে… দুই দিন ছন্দাহীনতয় কাতর জাকির ভেঙে পড়ে, তোমাদের এই ব্যাপারগুলো বুঝি না… রাষ্ট্রীয় শোক বিজয়ের দিবসের মতো তোমাদের কান্না-হাসি কেন শুধু ওইসব মাস দিবসেই উসকে ওঠে? যুদ্ধে তোমার নানার মতো কতজন মরছে তার হিসাব আছে? সবাই যদি ওইসব আঁকড়ায়া পইড়া থাকত… আমি বুঝি না ছন্দা কত বছর আগের সেই ঘটনা নিয়ে জাবর কাটতে বড় মজা তোমার মায়ের, নিজের পাগলামি নিয়া তোমারেও পাগল বানায়া ছাড়তেছে, আরে যে নারীর স্বামীর মৃত্যু নিয়া কান্না নাই সে…।

জাকিরের ভূমণ্ডল কাঁপিয়ে যেন বা সাক্ষাৎ যমদূত, এই চোখে তাকায় ছন্দা... এবং পিছু হটতে থাকে, বড্ড ভুল হয়া গেছে তোমারে চিনতে, আসলে তুমিও তাদের একজন…। বলতে বলতে শান্ত ধীর স্বভাবের মেয়েটি এমন উত্তুঙ্গ উড়ালে দৌড় দেয়, বুকে দম আটকে দাঁড়িয়ে থেকে তার অপসৃয়মাণতার দৃশ্য দেখা ছাড়া আর কিছু থাকে না জাকিরের।

২.
এক সন্ধ্যায় যখন পুরো আঁধারে জমেছে জমকালো কালো… ইলেকট্রিসিটি নেই… যখন পুরো ভেঙে চুরচুর অবয়ব সত্তার সামনে জাগতিকভাবে সুস্থ মাকে এক অদ্ভুত আঁধার থেকে টেনে জিজ্ঞেস করছে ছন্দা, কী হইছে আম্মু? তুমি এত কানতেছো কেন? আমাকেও বলবা না?

ছায়া ফুঁড়ে নিজেকে টেনে তোলে মা, এরপর নিঃশব্দে নিজেকে মেঝেতে নামিয়ে রান্নাঘরের দিকে নিয়ে যেতে যেতে বলে, একটু ধাতস্থ হই, তারপর বলি?

ঠিক আছে।

তোমার কী হয়েছে ছন্দা? একেবারে মরে মরে আছো যে? মা ঘাড় ফেরায় ।

তোমার অবস্থা দেখে আমার খুব ভাবনা হইতেছে, ছন্দা সজোরে কষে নিজের বেদনা সামলায়, না… না, সে জাকিরকে নিয়ে আর ভাববে না। ঠিক আছে, তুমিও ধাতস্থ হয়ে তোমারটা বলো—নিজের ক্রন্দনের মধ্যেও ছন্দাকে লক্ষ করার মায়ের এই ব্যাপার বরাবরের মতোই বিস্মিত করে ছন্দাকে। সারা দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গণজোয়ার চলছে। জাকিরের ফ্যামিলি এসব হ্যাপায় পড়তে জাকিরকে কঠিনভাবে নিষেধ করায় জাকিরের সান্নিধ্যে সঞ্চালিত ছন্দা নিজেও এসব এড়িয়েই চলেছে।

কিন্তু দুদিন আগে মা উদ্ভ্রান্তের মতো ঘরে ফিরে যেন সে বিয়াল্লিশ বছর আগের জীবনে ফিরে গেছে এইভাবে তড়পাচ্ছে, থুথু ছুঁড়ছে পাক আর্মি রাজাকারদের উদ্দেশে। আর এইসব দিকচক্রবাকে ঘূর্ণায়িত ছন্দা কিছুতেই এর কূল কিনারা না পেয়ে এই জীবন বাস্তবতার বাইরে মানুষ জাকিরকে এড়াতে শুরু করেছে। যে ছেলে তার এই জীবনের ছিটে মাত্র স্পর্শ করতে পারে না তার সাথে নিজেকে জড়ানো… না না সাংঘাতিক ভুল হয়ে গেছে ছন্দার।

নিজ জীবনে ছন্দা দিনরাত বেদনাভূত মূহ্যমান ঢেউ খেত, তা দেখতে এত আটপৌরে যে কেউ কখনো সেইভাবে একফালি তরঙ্গিত চোখ তুলেও তাকে দেখেনি। সেদিক থেকে তার প্রতি জাকিরের উন্মাদ আকর্ষণ তাকে বোধের এমন উচ্চতায় তুলেছিল… মোমের শিখার দিকে তাকিয়ে বুক মোচড়ানো যন্ত্রণায় চোখ ভেসে যেতে থাকে তার। রাতে নিঃশব্দে ভাত খেয়ে মা-মেয়ে এক শয্যায় শোয় ঠিকই… কিন্তু বেদনার নিঃসঙ্গ তাণ্ডবে দুজনই দুজনের অনিদ্রাকে মৌনতার মধ্যে স্পর্শ করে, কিন্তু কারো কণ্ঠ থেকেই বাক্য স্ফুরণের প্রেরণা পায় না।

নিজের যাতনা দাবিয়ে ছন্দা ভাবে, অথচ এই মা-ই নাকি কৈশোরে এই মফস্বলেই নানার উৎসাহে ক্লাসিক্যাল নাচ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল! হা জীবন!

আচমকা দুর্দান্ত শব্দ, রুদ্ধ দরজা খুলে যায়, কতগুলো হায়েনা আসে দলবল নিয়ে, ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে ছন্দাকে বাকরুদ্ধ করে টেনে নিয়ে যেতে থাকে অন্ধকার অরণ্যের দিকে, কাঁপতে কাঁপতে উঠে বসে ছন্দা। এমন স্বপ্ন প্রায়ই বুনো জন্তুর মতো তাকে তাড়া করে কত রাত যে কাঁপাতে কাঁপাতে উঠে বসাত, কেবল জাকির এসে তাকে সাতরঙা রঙধনুতে ভাসাতে শুরু করলে কিছুদিন এই স্বপ্ন থেকে মুক্তি ঘটেছিল।

ভোরে মা নামাজ শেষে বাইরের তাজা বাতাস নিতে বারান্দায় গিয়ে বসে, কিন্তু নিস্তেজ পড়ে থাকা ছন্দা দীর্ঘদিন পর সেই স্বপ্নে এত সশব্দে কাঁপছে সে?

মার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই দাবানলময় ঘটনা আজ স্বপ্নে হায়েনাদের মধ্যে জাকিরের মুখ দেখল সে? আচমকা চলনশক্তিহীন ছন্দা অনুভব করে জ্বর জ্বরবোধে জিভে সাগরের নুন জমেছে।

না… না… এ স্বপ্ন…

কিন্তু কী করে তা এত সত্যের মতো তীব্র হয়, জাকির কি সত্যিই দলবল নিয়ে রাত্তিরে এসেছিল? ছটফট করতে করতে চারপাশে তাকায় সে; আম্মু কই?

নিস্তেজ হাত শরীরের নানা অংশে বিস্তার করে। সমস্ত চামড়া গিঁটে এত ব্যথার টাটানি কেন?

ঠাডা পড়া মানুষের মতো ছন্দা খোলা দরজা দিয়ে বের হওয়া আলোয় দেয়ালে লম্বা পিঁপড়ার সারি দেখতে থাকে। একটা খুদে খাবারের টুকরো নিয়ে ছুটন্ত পিঁপড়েদের মধ্যে ঠোঁট ছুঁয়ে ছুঁয়ে কী যে কথা হচ্ছে… ভাবতে ভাবতেই সেই জীবন্ত স্বপ্ন আর বাস্তবতা তার মাথায় হাতুড়ির বাড়ি মারে, সে দেখে, হাত-পা বাঁধা মায়ের নিশ্চল চোখের সামনে জাকির তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করছে।

আধো জাগরণ আর তন্দ্রার ঘোরে কম্পমান ছন্দা নিজ চক্রে আবর্তিত হয়, আমি জাকিরকে কেন এইরূপ দেখব? সে তো আমাকে সেভাবে স্পর্শই করেনি। তবে?

আম্মু… চাদর আঁকড়ে অস্ফুটে ডাকে সে।

তারই ধ্বনির টানে বারান্দা থেকে মা ঘরে এসে ছন্দার মাথার কাছে বসে, নিঃশ্বাস নিতে বারান্দায় গিয়েছিলাম, কী হয়েছে মা?

পরনে মহা স্বস্তি নিয়ে ঘুমের তলায় তলিয়ে যেতে যেতে সে জাকিরের সঙ্গে জীবনের সুন্দর স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরতে চায়, কিছু না আম্মু…।

আমার কী সুন্দর?

চোখ।

আর?

চোখ… আর জানো তোমার সবচাইতে কী সুন্দর? আমি তোমার মধ্যে আমার মায়ের মুগ্ধ রূপ দেখতে পাই।

জাকির, কখনো প্রেমিকার মধ্যে মায়ের মুখ, মায়ের রূপ খুঁজবা না। তোমার মা তো বেঁচে আছেন। বেঁচে না থাকলেও এই অশ্লীল তুলনা আমি করতে দিতাম না। জীবনে দুজনের দুই রকম সম্পূর্ণ দুই ধরনের ভূমিকা। এই খোঁজা, এই তুলনা দুজনকেই অসম্মানিত করে।

জাকির হতবিহ্বল তাকিয়ে থাকে।

তোমার চোখে দ্বিধা, আচ্ছা জাকির, আমি যদি বলি তোমার মধ্যে আমি আমার বাবার রূপ দেখতে পাই। আমার বাবা পৃথিবীতে নেই, থাকলেও তুমি ন্যূনতম সেনসেটিভ হইলে আমার বারবার বলা এই স্তুতিতে তুমি আমাকে প্রেমিক সত্তায় ছুঁইতে গেলে, আমার বাবার সত্তা তোমাকে স্থবির করত না? কখনো না?

পাগলে মতো ছন্দার মুখে-ঠোঁটে চুম্বন খেতে খেতে জাকির বলেছিল, ইউ আর গ্রেট, এ জন্যই তো তোমাকে এত ভালোবাসি সোনা।

বান্ধবীদের প্রেমে ‘জান, সোনা জাদু’ এসব শুনে ছন্দার প্যানপ্যান বোধে পা গোলাত, জাকিরের সঙ্গে প্রেমের মোহে কখন যে একজন আরেকজন এ রকম ডাকে আপ্লুত হতো টেরই পেত না ছন্দা।

পরদিন ক্লাসমেট তুহিন এলো।

ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারেই এই ছেলে প্রথম তাকে বন্ধুত্বে সহজ করেছিল। মায়ের এনজিওতে সে পার্টটাইম কাজও করে। সহপাঠী হিসেবে জাকিরের সঙ্গেও ভালো বন্ধুত্ব। এর চেয়েও বড় কথা, ছন্দার বাবা তুহিনের মাকে আপন বড়বোনের মতো জানত। দীর্ঘ বিচ্ছেদে ফের পরিচয় হলে এ জন্যই মা এই জগতে ছন্দা বাদে তার জীবনের নাজুক অধ্যায় তুহিনকে তার মাকে শেয়ার করতে পেরেছিল।

তুহিনের মা অবশ্য মারা গেছেন কয়েক বছর আগে।

নিজেকে ঝেড়ে মা সহাস্য আপ্যায়নে নাস্তা বানাতে যায়।

হাত-পা শিরশির করে ছন্দার। আড়াই দিন যাবত বুকে পাথর চাপা দিয়ে সে মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিল। তুহিন জাকিরের কোনো উদ্দাম বার্তা নিয়ে আসেনি তো? স্তব্ধ প্রহর কাটে। সহসা কিছুক্ষণ কেউ কথা বলতে পারে না।

একসময় রান্নাঘরের দিকে তীক্ষ্ণ চোখ রেখে, কণ্ঠ নামিয়ে তুহিন বলে, আন্টি ক্যান অফিসে যায় না, তা তো জানসই।

হিম স্রোত বয়ে যায় ছন্দার ভিন্ন একটি বিষয়ে পল্টি খেয়ে, না জানি না।

বলছ কী তুই?

আসল কথায় আয়, নিজেকে বিন্যস্ত করে ছন্দা বলে।

আমি তো বেশ কত দিন ধইরাই ক্লাস শেষে চাকরির গুষ্টি বাদ দিয়া গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে আছি। কয়েক দিন যাবত ডিস্টার্ব আছিলাম, যে আমার চৌদ্দগোষ্টি নাস্তিক কারে বলে জানে না, আমিও না, তুইও জানোস, আমার ব্লগে আমার নামে কারা যে ইসলামবিরোধী কথা লেইখা পরিবারে সমাজে আমারে ভিলেন বানানো শুরু করছে… আহা! অস্থির হইস না, এই সূত্র ধইরাই মোদ্দা কথায় আসতেছি, আমি তো এর আগে কয়েক দিন জাকিরের বাসায় গেছি। ভদ্র পরিবার… তার বাবাও শান্ত প্রকৃতির। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে শিবিরকর্মীরা অনেক তাণ্ডব করলে পাল্টা ধাওয়া করতে গিয়া দেখি ওরা ছুটতে ছুটতে জাকিরের বাড়িতে ঢুকল। আমি তাজ্জব হয়া দেখি, ওদের শান্ত করতে করতে জাকিরের বাবা বাড়ির বাইরে আসতে। আমি কাঁঠালগাছের নিচে তার কথা শুইন্যা ‘থ’। সে আমাদের রুখতে প্রয়োজনে যা যা অস্ত্র আছে তাদের দিবে বলল।

নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে থাকে ছন্দার। জানালা দিয়ে ঢোকা ফাল্গুন কি চৈত্রের হাওয়ার মধ্যে এত আগুনের হল্কা, চামড়া পুড়ে যেতে থাকে ছন্দার। হুড়মুড় করে এগিয়ে আসে সেই ভয়াল স্মৃতি, যা মায়ের সঙ্গে সঙ্গে ছন্দার এতকাল অবচেতন সত্তাকে পঙ্গু করে রেখেছে। বিয়াল্লিশ বছর আগের এক ভুতুড়ে সন্ধ্যা। নানাকে পিটিয়ে আধমরা করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পাক আর্মির সঙ্গে কয়েকজন রাজাকার মিলে নানার চোখ টেনে খুলে রাখে। তার সামনেই মাকে জরুলমুখো এক পাক আর্মি কৈশোরিক কৌমার্য ভাঙার মজায় ধর্ষণের পর ধর্ষণ করে নানার আর্তচিৎকারের মাঝে তাকে গুলি করে মেরে মাকে ধরাধরি করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এরপর কত রাত কত দিন মায়ের আর্তকণ্ঠময় অঝোর ধ্বনি, ছন্দা রে, ক্যাম্পে থাকতে, এ দেশের যারেই পাইছি, পা ধইরা মুক্তি চাইছি। ওরা তখন যেন মানুষ না… অশ্লীল অসভ্য গ্রহের কেউ… আমি মুক্তি পাওয়ার পর এই এখনো ওই বর্বরতার জন্য যত না কান্দি যত না আব্বার বুকে গুলির কষ্ট… মৃত্যুময় পীড়ন, পরে স্বামীর মৃত্যুতেও তা তুচ্ছ হয়ে দাঁড়ায় ভয়ংকর লজ্জা, যে আব্বা আমারে খুকি, বেবি, এসব ছাড়া ডাকত না… তার সামনে আমারে উলঙ্গ কইরা… উফ কী দুর্বিষহ… এইটা ভাবতে ভাবতেই লজ্জায় শরমে পঙ্গু থাইক্যা পঙ্গুতর হয়া যাই।

ওই দোজখ আন্ধারে একসময় ফেরেশতার মতো আইসা দাঁড়াইল তোমার যোদ্ধা বাবা। তার দায়িত্বের মধ্যে আমার মৃত সন্তান হইল। এরপর সে আমারে বিয়ে করছে। কিন্তু জীবনে এত যাতনার মধ্যে সংসার কী হয়?

যে দাম্পত্যে একজনের ত্যাগ থাকে, সে না চাইলেও তার মধে করুণা থাকে, উদারতার ঋণ থাকে, সেই দাম্পত্য একজনকে ছুঁইলে আরেকজনের রোমাঞ্চ? অসম্ভব না? একই বিছানায় আমাকে সহজ করতে যখনই সে আমার কাপড়ে হাত দিত, ওই ঝাঁক ঝাঁক নেকড়ের ছোবলে বিক্ষত দেহে চমকায়া উঠতাম। দিনের পর দিন মানসিক ডাক্তার দেখানো হইল… কিন্তু টান দিয়া আব্বার চক্ষের সামনে যে বেদনার লজ্জা… তার তাড়া থাইকা মুক্তি পাইলাম না। পরক্ষণেই মৃত নানা আর বাবার মৃত্যুশোকে মা শিশুর মতো কাঁদতে থাকে। কান্না থামলে ধাতস্থ মা ধীরে ধীরে ছন্দাকে বলে—বেশ কয়েক বছর পর এমন টানাপোড়েনে রোমাঞ্চহীন সম্পর্কের মধ্যেই তোমার জন্ম যেন আমাদের দুজনরে বাঁচায়া দিল, আমরা মুখর হওয়ার, কথা বলার, সহজ হওয়ার মানে তোমারে নিয়া বাঁচার পথ পাইলাম। ছন্দা সভ্যজীবনের নিঃশ্বাস নিয়া বাঁচতে মানুষ নিজেই নিজের শাসক যে কিছু নিয়মে নিজেকে শৃঙ্খলিত করে, আবার নিজেই শোষিত, সেই নিয়মে নিজেকে চলতে বাধ্য করে।

এমন গুম মারলি যে? তুহিনের কণ্ঠ সারা ঘরে কোরাসের মতো ধ্বনিত হয়। আঁধার ঘরে আচমকা বাতির প্রজ্বলন ছন্দাকে চমকে দেয়। সন্ধ্যা হেলান দিচ্ছে রাতের গায়ে। মা নাশতা দিয়ে বলা যায় ছুটতে ছুটতে ভেতরে চলে যায়। যেন ঢোকের সঙ্গে বিষ গিলছে, এমন বোধে হেঁচকি খেয়ে ছন্দা বলে, আম্মুর সঙ্গে কী হইছে? ধীর কণ্ঠে তুহিন শুরু করে, জাকিরের বাবা আমাদের এনজিওতে আসছিল বড় ডোনেশন দিয়ে আরো কিছু আসল নকল মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিজেও যোদ্ধা হয়ে। আমি আন্টির সঙ্গে দর্শকের সারিতে বসা আছিলাম। তুই তো জানোস, আমার খালা একজন বীরাঙ্গনা হয়া হাজারও কটূক্তি সয়া মাথা উঁচু কইরা হাঁটে। তোর নানার সামনের লজ্জাটার কারণে তোরা মা-ময়ে এদ্দিন যা বুকে চাইপ্যা চলছিলি, জাকিরের বাবা মঞ্চে উইঠ্যা কিছুক্ষণ আন্টির দিকে তাকায় সেই দীর্ঘ বছরের গুমর ভাইঙ্গা দিয়া বলতে শুরু করল, এই যে সামনে বসা আমার বীরাঙ্গনা বোন…।

সটান দাঁড়ায়া ছন্দা… যেন তার সমস্ত অস্তিত্বে ভূকম্পন শুরু হয়, ওই কুত্তাটাই কি নানার সামনে…?

টেনে ছন্দাকে বসিয়ে ক্ষান্ত করতে করতে তুহিন বলে, না। তবে ক্যাম্পে আন্টি যাদের পা ধরেছে, যারা আন্টির কাতরতায় চিৎকার হাসিতে লাত্থি দিয়া উল্টা পৈশাচিক নিপীড়ন করছে, তাদের একজন। বাড়ি ফিরতে গিয়া আন্টি বমি করতে করতে নিজেরে শান্ত করে, পরে এ নিয়ে তোরে কিছু না আমারে বলতে প্রমিজ করাইছিল।

জাকির এইসব জানে?

আগে জানত না। এখন তার বাপের ছবি আমরা জায়গায় জায়গায় টানাইছি। তার বাপেও তাতে বেপরোয়া হইতেছে। জাকির জানলেই কী? কোন সন্তানেরে দেখছোস এইসব শুইনা বিশ্বাস কইরা বাপের বিরুদ্ধে যাইতে?

তুহিনের কথার সঙ্গে সঙ্গে জাকিরের প্রতি যাও বুঝ-অবুঝ প্রেম ছিল, হিমস্রোতে উবে যেতে থাকে। কী করে ছন্দা পারল জীবনের এমন বাস্তবতা নিয়ে অত অবাস্তব উদ্দামে ভাসতে? সত্যিকার অর্থে প্রেম বাবা করেছিল মাকে। যুদ্ধ শেষে জঙ্গলে মুমূর্ষু মাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখে বাবাই ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যায়। দিনরাত তার শারীরিক মানসিক সেবা করে। এরপর ধর্ষিতা, বীরাঙ্গনার ঘেরাটোপের বাইরে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর সম্মান বাবাই মাকে দিয়েছিল। না না, একে করুণা বলে চরম অপমানের কোনো অর্থই হয় না।

শরীরে বরফ কাটতে থাকলে চেতনারহিত ছন্দা আচমকা ভূতগ্রস্ত চোখে চারপাশে তাকায়, আরে তুই খেয়াল করবি না চারদিকে? আম্মু তোকে প্রমিজ করাইছিল…।

রিলাক্স… ছায়া আঁধার থেকে বেরিয়ে যেনবা হাঁপ ছেড়ে সোফায় হেলান দেয় তুহিন। ঘরের মধ্যের আলো-নিশীথের বিচ্ছুরণে ছন্দার বোধ হতে থাকে, যেন বা অনন্তের ওপারের অদ্ভুত এক দ্বীপে সে কেবল ঘূর্ণিচক্কর খাচ্ছে…এরপরের কথাগুলো তাকে সে সেই চক্কর থেকে স্থিত করে পৃথিবীর চরম বিস্ময়বোধের মধ্যে নিয়ে ফেলে। আজ ভোরে মা নাকি তুহিনকে ফোন করে বিকেলে আসতে বলেছে। দুই দিনের অবিশ্রান্ত কান্নাজলে মা স্মৃতির মধ্যে যে পীড়া যে লজ্জার দহন সব ভাসিয়ে দিয়েছে, মা এখন শক্তিহীন ছন্দাকে হারানোর ভয় পাচ্ছে। তুহিনের কাছে মা এখন একটা প্ল্যাটফর্ম চাইছে, যেখানে গিয়ে সে পৃথিবীর সামনে নিজ মুখে এই ঘটনার বয়ান দেবে। বলেছে, আমাকে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে নিয়ে চলো। আমি তারে বলেছি, ঢাকা যেতে হবে না, সারা দেশের মতো এই শহরেও আছে সেই জায়গা। আপনি আমাদের কৃষ্ণচূড়া মঞ্চে গিয়ে আপনার জীবন অস্তিত্বের সব জায়গা থাইকা সশব্দে আপনার এই লজ্জাকে ছুড়ে দেবেন।

কচকচে ভোরের সামনে ছককাটা মিহি রোদের ছলছলানি… জীবনের প্রথম মায়ের চোখে কাজল দেখল ছন্দা… সলাজ হাসি মায়ের, একসময় কাজল ছাড়া ভাবাই যাইত না আমাকে। দুজন দুই সখীর মতো হাত ধরাধরি করে সবুজ ঘাসে ডুবো ডুবো তেপান্তরের মতো সার্কিট হাউসটা পেরিয়ে সন্তর্পণে ব্রহ্মপুত্রের জলে পা রাখল। উদ্দাম বাতাসে নৌকো স্রোত কেটে এগোচ্ছে। যেন বা সদ্য ভূমিষ্ঠ ছন্দা আচমকা জলতরঙ্গ থেকে উঠা উদ্দাম শিশু বাতাসে নিৰশ্বাস নিতে নিতে মায়ের ওমে বসে দেখে অদ্ভুত এক দৃশ্য…

বহু বর্ণিল পদ্মপাতার ওপর ঝাঁক ঝাঁক দেবশিশু কলহাস্যে মুখর করছে জলপ্রান্তর। ঝাপসা হতে থাকা প্রেত মুখগুলো নিঃসীম আলোতে মিলিয়ে যাচ্ছে। মহাজলের ওপারে বসে তার মাতামহ তুমুল আঙুল ঢেউয়ে তবলা বাজাচ্ছে… আর তার কাজল কালো সজ্জিতা কিশোরী কন্যা নূপুরের নিক্কণ ধ্বনি তুলে জলের ওপর অবিশ্রান্ত ছন্দে নেচেই চলেছে…।

আপনার মতামত লিখুন :