একখানা স্বাদহীন দিবসের তরজমা বটে



এনামুল করিম নির্ঝর
লেখকের নিজস্ব আলোকচিত্র অবলম্বনে

লেখকের নিজস্ব আলোকচিত্র অবলম্বনে

  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র বেগে ছুটে আসছে গজব!

গুডজব গুডজব বলে তখন হাততালি দিচ্ছে প্রকৃতি!

কৃতি পাগলেরা তবু কিছুতেই বোঝে না কোত্থেকে আসে তা; কেনইবা কী এমন কারণ তার!

চোখ দুটো ডান হাতের পিঠে ডলতে ডলতে আসেন পর্যবেক্ষক। তাঁর উঁকি দেওয়া অভ্যাস বেহিসেবী বাম হাত, কাৎ হয় রক্ষাকারীর চমকে দেওয়া ধমকে। তার মুঠোর ভেতর জাপটে ধরে রাখা ইবলিশ হ্রস্ব উ-কার! নড়ন-চড়ন বুঝে উড়তে উড়তে ঠিকঠাক বসে যায় গ অক্ষরের পুচ্ছদেশ বেশে!

ব্যাস, শুরু হয় খেলা! গজব গুজব হয়ে ডানা মেলে হুহু ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় বিস্তৃর্ণ তল্লাটে । খাটে বসে থাকা পক্ষাঘতে’র ঘানিটানা যে অর্বাচীন ছায়াব্যক্তি, সে এবার পর্যবেক্ষকের আদলটা বিনাশর্তে ধার নেয় এবং শুরু করে হাঁক-ডাক হৈ হল্লা। কল্লা বাড়িয়ে প্রতিবেশি মজমা নেয় নিচ্ছে বটে, তবে আমল দেয় না তাপে!

ব্যক্তি ডাকছে তার গিন্নীকে, কৈ গো কৈ গো কৈ গো কৈ গো!

স্বাধীন ব্যাংক এবং পরাধীন মগজ সঞ্চয় প্রকল্পের প্রীতি আয়োজনে খিঁচুড়ি উৎসব আজ! আমন্ত্রণ উদ্যোক্তা অউকওআবাচস-অবসরপ্রাপ্ত উন্নয়নকর্মী ও আদর্শবাদী রাজনৈতিক চর্চা সংঘে’র। হঠাৎই বাহারি নিমন্ত্রণপত্রখানা গিন্নী’র ছাপাছাপা শাড়ির মতো মেলে ধরে নিজেকে। ছায়াব্যক্তি ভাবে, তাজ্জব বিষয়! হয় কোনো বিশেষ ঘটনা অথবা কোনো অচেনা টান, খানখান ভাগ্যটা যাবে জোড়াতালি মেরামতে।

বহুবহুদিন পর নিজেকে বিশেষ কেউ ভাবার সামান্য ফুরসৎ পায় ভদ্রলোক...। আসলে এটাই ঘটনা হয়তো, কদিন থেকেই মনে হচ্ছিল, হবে কিছু একটা হবে এবার আলবৎ। তিনি আবার ডাকেন গিন্নীকে, কৈ গো কৈ গো কৈ গো কৈ গো! গোঁয়ার মনটা হুট করে উঠে জ্বলে তার, আগুন আগুন তাপে কাঁপে শরীর সাংসারিক আহলাদে! পাড়ার ঘুম ভাঙ্গা আওয়াজে সাড়া না পেয়ে বেশ গোস্বা গোস্বা কদমে হনহন করে ছুটতে শুরু করেন তিনি।

ভাত বেড়ে কেবল বসা গিন্নী তখন তেড়ে আসে রে রে রে রে করে।

: কানে শোনার মেশিন গিয়েছে পচে, কেনার মুরোদ নাই! খালি দোষ ধরে তেজ দেখাচ্ছো আজ। থামো তুমি, বলো আগে হঠাৎ কে দিল এমন তেল তোমার অবশ শরীরে?

: কেউ না, কেউ না... এএমনি টান

: নিশ্চই আবার দিয়েছো কোনো গুজবে তাহলে

আরে নাহ্, বলে মেলে ধরলেন বাহারি নিমন্ত্রণপত্রখানা তিনি।

: যাই বিশেষ দিবসে যাই কপালটা ঘষে দেখি গিয়ে, দেখি কিছু ঘটে কিনা সাজা ঘিয়ে । বাকি আছে যত দম, আরো যাবে পচে সংকোচে সংকোচে...
: কিন্তু এই বয়সে এমন বেহায়পনা? ছ্যাঁ ছ্যাঁ ছ্যাঁ… এমন ন্যাংটো হয়েই যাচ্ছো তুমি সেথা? অ্যাঁ ?

ব্যক্তি থামলেন, একটু ঘামলেন।

: তাই তো, ছেঁড়া প্যান্টখানা সেলাই করতে দিয়ে বেমালুম ভুলে বসে আছি দেখছি! শার্টটা পরেছি ঠিকই, কিন্তু নীচতলা তো একদম খালি ঘর-বারান্দা হে!

গিন্নী তখনো তাকিয়ে। যা দেখে পাল্টা জোর বেড়ে যায় ব্যক্তির মনের—
সবটাই জোড়াতালি ফালিফালি হাহাকার,
লজ্জা’র ব্যকরণে পড়াশোনা সমাহার!
ঘুরে ফিরে অজুহাত তুমি কে হে সর্দার
সময়ের ন্যাংটামো পরে আছো জামা কার?

: ফিরে তাকানোর সময় নেই আমার একদম। দুনিয়ায় কমবেশি সবই তো উলঙ্গ এখন, সেটা নিয়ে এত ঢং করার আছে! সবাই ন্যাংটা এখন... সবই ন্যাংটা, ন্যাংটো...

বলতে বলতে রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা কাগজ মুঠোয় আঁকড়ে ধরে লজ্জা ঢাকে সে । তারপর কদম চলে সাধারণ মানের চেয়ে একটু বেশি গতিতে। যেন কতদিন নিজেকে নিজের মতো মনে হয়নি তার। সর্বস্ব হারানো মানুষের ভেতরেও যে টিকে থাকা সামান্য আঁচ বেঁচে থাকে প্রচণ্ড উত্তপ্ত হবার আশায়! মনে হয় যেন কেউ তাকে কোনোদিন বোঝয়নি মুক্তি শব্দে’র যুক্তিটা আসলে কী! একটা স্বাদহীন স্বাধীনতার রুটি এপাশ ওপাশ করতেই খরচ হচ্ছে শ্বাস। যা হোক, এবার যাওয়া যাক আমন্ত্রণে...

মাঠে তখন মহাআড়ম্বর! খানিকটা থেঁতলে যাওয়া ঘাসের পিঠে বসে মহাসমরোহে বগল বাজায় আম খাওয়া জনগন। কাঁঠাল কেন জাতীয় ফল এবং রয়েল বেঙ্গল কেন জাতীয় পশু এনিয়ে চলছে চরম কুস্তী বিতর্ক। আশাবাদ ব্র্যন্ডের বাসি পাউরুটির নুয়ে পড়া একেকটা স্লাইস গুঁজে দেওয়া হচ্ছে সকলের পেতে রাখা হাতে। একটা বাচ্চা হাত বাড়িয়েছে দুবার । কেবল কথা বলতে শিখে খিদাটও বেড়েছে খুব তার। আর যায় কোথায়! বিতরণ বাহিনী জ্বলে উঠে হিংস্র জন্তুর মতো। মেজাজ মর্জিতে ঠান্ডা পানি ঢালবেন? কিন্তু পানি কই?

গজব গুজব, গুজব গজব ঢেকুর তুলে চলতি আবহওয়া’র হাতপাখা নাড়েন বিশেষ মহাজন। “তুই আমারে করলি দিওয়ানা” গান গাওয়া গর্ধভটাও হু হু করে বুক ফাঁটা কান্না কেঁদে বলে উঠে, আমরা আসলে ধংসের দারপ্রান্তে! রক্ষা করো মালিক। শালিক সংখ্যা নিয়ে মেতে থাকা তরুণী তখন মুখ গোমড়া করে তাকিয়ে থাকে। একটা, দুইটা তিনটা...সংখ্যা আসলে কিছুই না। ভাগ্যে মাখন থাকলে এমনিই চকচকে হয়ে যায় সব।

মহাজন হাতপাখা নেড়ে লাথি মারে মাঠের থেঁতলে যাওয়া ঘসে।…নিয়ন্ত্রণ- কন্ট্রোল! ঢোল বাজাও, কিন্তু নিঃশব্দে। খাও, কিন্তু মুখে খাবার-দাবার না দিয়ে। কান্না, রান্না-বান্না, খিদা বা চাহিদা, চলন বলন, মন-মানসিকতা এবং আবেগ বেগের নিয়ন্ত্রণ অতিব জরুরি। চুপটি করে থাকো হে ভাবুক দল, তল থেকে উপর পর্যন্ত যত জিন্দা-মূর্দাছল, জল ফেললে ফেলে দাও। ফাঁকা করো ঘটি বাটি, শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণই হোক পরিপাটি!

এতক্ষণ এলোমেলো দৃশ্য কাঁধে ক্লান্ত ছায়াব্যাক্তি একটু দাঁড়াবেন। পেছন দিকটায় তখন মহড়া চলছে মহামাতব্বরদের! “আসলেই কি আমরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ” ছায়ব্যক্তি জিজ্ঞাসায় স্বাক্ষী হতে চান মিথ্যে বাস্তবতার। নিয়ন্ত্রণের চাবি, দাবি তোলা ভোলামনে সান্ত্বনা’র মাখন চিবুতে চায় বাদাম ভাজা হয়ে।

স্বচ্ছ হয় ব্যক্তি’র মশকরা শতকরা যত ভাগ। তত রাগ ঢেকে বোঝাই যায়, এই বিশেষ আয়োজনের রুমালটায় নকশা কাটা—হাজার কোটি টাকার বিশেষণ মাত্র।

তিনি তাকালেন ডান থেকে বামে এবং বাম থেকে ডানে। তারপর দিলেন একটা অট্টচিৎকার, ফুটবল কই ফুটবল?

পাশের এক ছাপোষা জনতা ডাবল মশলার পানের পিক্ ফেলে ফিক্ করে হাসে, পাগলটা দেখি ফুটবল আর ক্রিকেটের তফ্যাৎটাই বোঝে না!

: হ... বুইঝ্যা আপনি এক্কেরে আহসান মঞ্জিল কিইন্যা বুড়িগঙ্গার হাওয়া খাইতেসেন এক্কেরে!

ছায়াব্যক্তির চামড়ামোটা অনুভূতির তরমুজ দশা।

দেখে লাল, চেখে লাল। স্বাদ লাগে না ঠোঁটে একটুও! অশ্রাব্য, অকথ্য কোনো কথাই আজকাল লাগে না গায়ে একটুও।

কেবল হাত দু’খানা ক্ষ্যাপা শরীরের পেছন পেছন চুপসে যাওয়া নিতম্ব চুলকায় আর ভাবে, কেন আজ শান্ত স্বভাব অশান্ত পর্বত বেশে নির্বাক আড়মোড়া ভেঙ্গে ডাঙ্গায়, ভাঙ্গায় মোটা অংক নোট চোট খাওয়া অজস্র খুচরো সংখ্যার মতো।

চারপাশে তখন জনস্রোতে ভেসে যাওয়া ঢেউ। মাঠময় হাবাগোবা লোকেরা বসে বসে মুড়ি খায়। ব্যক্তির সুড়সুড়ি লাগে, হাসি পায়। কিন্তু বেরোয় না কিছুই, বরং মন থেকে গলা পর্যন্ত এসে একটা ময়লা ত্যানার মতো কাঁচুমাচু ভাঁজ হয়ে লেপ্টে থাকে শ্বাসে। তাঁর আগ্রহের দুরবিন, ক্ষীণ এক আশাবাদ শলাকা, বলাকা হয়ে মেলে ধরে পাখা।

চারপাশের মুড়িখেকো দর্শকের মাঝখানে বাহারী মঞ্চে শুয়ে বসে কথা কচ্ছেন সুবেশী অতিথিগণ। কথা কচ্ছেন স্বাধীন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহাশয়, স্বাধীন ব্যাংকের অর্থ কী? স্বাধীনভাবে টাকা দিবেন, টাকা নিবেন, টাকা রাখবেন, টাকা নিবেন। একটা স্বাধীন দ্যাশের স্বাধীন ব্যাংক তো এমনই হবার কথা হে, একটা স্বাধীন দ্যাশের স্বাধীন নাগরিকদের এমন চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা দিতে না পারলে সকল শহীদের রক্ত নর্দমার পানিতে ঠাঁই পাবে। শুনেছি আপনারা এটা ওটা কচ্ছেন! শুনেন , ধরেন একটা মাটির কলসে পানি ভরে রাখলেন রাতে বিছানায় যাবার পূর্বে। সকালে উঠে দেখলেন কলস ফাঁকা! হে হে এ তো অতি সাধারণ কাণ্ড। ছাগলও বুঝবে অংক না কষে। মাটির কলস তো ফুটো হবেই, হতেই পারে নাকি? এখন সেইটা নিয়ে ধরেন কিছু মরা ধনেপাতা এইটা-সেইটা কেচ্ছা তো বানাতেই পারে নাকি? গুনা গুনা বুঝেন গুনা, কবিরা গুনা সগিরা গুনা, সব খসে যাবে, কিস্যু থাকবেনা নে। ভাগ্যে’র ওপর কি গরুছাগল চরানো যায়? বলেন...

আরেকজন লিখিত বক্তব্য এনেছিলেন বটে, বার কয়েক চেষ্টাও করলেন চোখে চোখ রেখে ইঙ্গিত করার। আবেগী মনটা হাউমাউ করছে বেশ, এ্যাতগুলো কান একসাথে পাওয়া যায়! কথা তো সবারই আছে কিছু না কিছু। অবশেষে কাগজের ভাঁজটা খুলতেই শালা মাইক হারামজাদা বিগড়ে ক্যাঁও ম্যাঁও ক্যাঁও ম্যাঁও করলো শুরু বিভ্রাটে, তার মধ্যেই চিকন বাঁশির মতো হ্যালো হ্যালো আওয়াজ শোনা যায় ভাঙ্গাচোরা আন্দাজে।

মুড়িখেকো জনগন তখন—স্বাদহীন স্বাদহীন বলে উল্লাশে ভাসে সবাই আশেপাশে।

স্বাধীন ব্যাংকের চেয়ারম্যান বেশ বেপোরোয়া, শোয়া থেকে দাঁড়িয়ে এক কোয়া রসুন খায় চিবিয়ে। হাতের মুঠোয় নিয়ে অণ্ডকোষ জোড়া খানিক খোঁচাখুচি করে হাসে হে হে হে হে করে। বলে, আপনাদের আরো এক প্যাকেট করে মুড়ি দিতে বলব? খাবেন আপনারা?

উল্লাশে মেতে মুড়িখেকো পাবলিক বলে—স্বাধীন, স্বাধীন, স্বাধীন, স্বাধীন...

চেয়ারম্যানের খলখল হাসি দেখে ছায়াব্যক্তি ভাবলেন একটু পেচ্ছাপ করা দরকার। কিন্তু একটু পা চালাতেই আবার উটকো ধাক্কা। তাও আবার সেই ছাপোষা জনতার সাথে।

: আরে আপনাকে তো চেনা চেনা লাগছে ভায়া ।

: হ্যাঁ, সেই তো আপনাকে হতভাগা ক্লাবে দেখেছি তো। আহতভাগা আর নিহতভাগা’র ক্যারাম কম্পিটিশিনে আপনি খেলা না দেখে স্যুপ খাচ্ছিলেন ছুপ ছুপ করে। আমি গিয়ে বসলাম আর আপনি বললেন, আচ্ছা বলুন তো টাকাটা আসলে আমরা কবে কখন পেতে পারি, কোন আন্দাজ? সেদিনও পাশ থেকে একজন ফিসফিস করে বলেছিল, ইনি টাকা হারিয়ে পাগল হয়ে গেছেন পুরোপুরি। আজও আপনাকে তেমন পাগলই মনে হচ্ছে আমার। মনে হচ্ছে সেকারণেই আপনি শোকটা কাটিয়ে উঠেছেন সহজে। ঠিক?

ছায়াব্যক্তি প্রশ্ন শুনে পেছনে তাকালেন, গেলেন পেচ্ছাপের চাপ ভুলে। বিশাল এক মূর্তি দাঁড়িয়ে ভেংচি কাটছে তাকে। তারপাশে যে রঙিন পাতার গাছ, টুকটুকে লাল বর্ণ ফল ধরে আছে তাতে। জনতা চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে ছুটছে সেদিকে । মাইকে চলছে তৎপর চিৎকার—
গুজব গাছের গজব ফল
মনটা করে সমতল
গুজব গাছের গজব ফল
মুছবে এবার চোখের জল
গুজব গাছের গজব ফল
বানায় টাকা হাতের কল
গুজব গাছের গজব ফল
জবর খবর জলদি চল

ততক্ষণে বিনাশর্তে ধার নেওয়া পর্যবেক্ষকের আদলটা ফিরে যেতে শুরু করেছে ঠিক। দেখা যাচ্ছে রাস্তা, ছায়ার পাশে ছায়া। একেকটা রক্তাক্ত সিঁড়ি, বেহায়া সময়ের কবলে পড়ে ধার চাইছে মায়া!

ডান কানে শোনা যাচ্ছে ছাপোষা জনতার বয়ান, ওই যে কোকিলের ভাষা বুঝে ব্যখ্যা দিতে জানত যে প্রকৃত বসন্তের। যার নিঃশ্বাসে ভাসত কবিতা আর বিশ্বাসে প্রেমময় গল্প-আভাস!

: এই লোক কি সেই লোক? আমাদের টাকা পয়সা জমা ছিল যার কাছে?

: টাকা যার কাছে, সেইটা তার! আর শুনেন, এইসব এখন জিগায়েন গুগলরে! ...স্বাদহীনতা মানেই স্বাধীনতা। মানলে মান, নাহলে পাছাটা দে আগায়া...এবং সেটাই আর্থিক সেবা।

বামকানে গিন্নীর ডাক, বেঁচে থাকলে উঠে পড়ো জলদি ।

ভদ্রলোক উঠে পড়েন এবং দ্যাখেন একটা গজব ফল রাখা আছে বিছানার পাশে। টকটকে রং, তাকাতেই এমনভাবে মিষ্টি হেসে ডাকল। কিছুতেই ফেরানো গেল না মনটাকে। হোক স্বাদহীন, দিই একটা কাঁমড়!

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;