বুল্লে শাহ’র কবিতা



ভূমিকা ও ভাষান্তর: সৈয়দ তারিক
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

পাঞ্জাবের সুফি ভাবুক ও কবি বুল্লে শাহ’র জীবনকাল ছিল মোগল আমলের শেষভাগে। তার আসল নাম সৈয়দ আবদুল্লাহ শাহ কাদরি, যদিও কর্ম ও রচনার মাধ্যমে তিনি যুগযুগান্ত ধরে বুল্লে শাহ নামেই খ্যাতিমান। তার আবির্ভাব ১৬৮০ সালে, ভাওয়ালপুরের উচ নামক স্থানে, যেটি এখন পাকিস্তানের পাঞ্জাবের অন্তর্ভুক্ত। তার পূর্বপুরুষেরা বর্তমান উজবেকিস্তানের বুখারা হতে এসেছিলেন। (হাফিজ তার কবিতায় প্রিয়ার গালের তিলের বিনিময়ে এই বুখারা ও তার সাথে সমরখন্দ বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, পাঠকের হয়তো সে কথা মনে পড়ে যাবে।) তাদের বংশ মহানবির সরাসরি উত্তরসূরী।

বুল্লে শাহ’র বাবার নাম ছিল শাহ মুহম্মদ দরবেশ। তিনি গ্রামের মসজিদে ধর্মপ্রচারক (হয়তো ইমাম বা খতিব) ছিলেন ও শিক্ষকতা করতেন। পরে তিনি পেশাকর্মের জন্য পান্ডোকে যান। বুল্লে শাহ তার প্রাথমিক পড়াশোনা সেখানেই করেন, পরে উচ্চতর বিদ্যার্জনের জন্য কাসুর যান। সেখানে মাওলানা মহিউদ্দিনের কাছে শিক্ষালাভ করেন। বুল্লে শাহের আধ্যাত্মিক গুরু বা পীর ছিলেন লাহোরের প্রখ্যাত সুফি দরবেশ শাহ ইনায়েত কাদরি। বুল্লে শাহ’র জীবনধারা সম্পর্কে বেশি একটা জানা যায় না। নানা লোকশ্রুতিতে বিভিন্ন বর্ণনা আছে।

পাঞ্জাবি সুফি কবিতার যে-ঐতিহ্য রয়েছে, যে-ধারায় কবিতা লিখেছেন শাহ হুসাইন (১৫৩৮-১৫৯৯), সুলতান বাহু (১৬২৯-১৬৯১), ও শাহ শরাফ (১৬৪০-১৭২৪) সেই ধারায় বুল্লে শাহ কবিতা চর্চা করেন। বুল্লে শাহ’র সমসাময়িক সিন্ধি কবি ছিলেন শাহ আবদুল লতিফ ভিটাই (১৬৮৯-১৭৫২)। তার জীবনকালে খ্যাতনামা পাঞ্জাবি কবি ওয়ারিস শাহ (১৭২২-১৭৯৮)—যিনি ‘হির রানজা’ রচনায় খ্যাতিমান, ও সিন্ধি সুফি কবি সাচাল সারমাস্ত (১৭৩৯-১৮২৯) সৃজনশীল ছিলেন। তার সমকালে উর্দু কবিতার আরেক দিকপাল মির তকি মির (১৭২৩-১৮১০) ছিলেন ৪০০ মাইল দূরে আগ্রায়।

সাধারণত যে প্রকরণে বুল্লে শাহ কবিতা লিখতেন তার নাম কাফি। পাঞ্জাবি ও সিন্ধি কবিতার এটি একটি জনপ্রিয় ধারা। কাফি নামে সঙ্গীতের একটা রাগ যেমন আছে, তেমনি এটা গীতিকবিতার একটা ধরনও। বাবা ফরিদ, বুল্লে শাহ, শাহ হুসাইন, শাহ আবদুল লতিফ ভিটাই, সাচাল সারমাস্ত, খাজা গোলাম ফরিদ প্রমুখ এই ধারায় কবিতা লিখেছেন। সুরারোপিত হয়ে এই রচনাগুলো গীত হয়ে আসছে দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষত পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে। এই ধারার কবিতায় একটা প্রধান ও কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে মানবাত্মা ও স্রষ্টার মধ্যে, বা ভক্ত (মুরিদ) ও গুরু (মুরশিদ, পীর), বা আশেক (ভক্ত) ও মাশুক (প্রেমাস্পদ, প্রিয়)-এর মধ্যে আলাপ বা কথোপকথন।

এইসব কাফির সুরারোপিত রূপটি রাস্তার গায়ক থেকে শুরু করে উঁচু-অভিজাত-বিখ্যাত গায়কেরা, যেমন : নুসরাত ফতেহ আলি খান বা আবিদা পারভিন এখনো গেয়ে চলেছেন। বিখ্যাত কাওয়ালি গান ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’-এর কথাই ধরা যাক। বুল্লে শাহ’র রচনা এটা। যদিও ত্রয়োদশ শতকে শাহবাজ কালান্দারের প্রয়াণের পর আমির খসরু প্রথমে ওটি লিখেছিলেন, পরবর্তীতে বুল্লে শাহ গানটিকে পরিমার্জিত ও বিস্তৃত করেন। তার লেখা রূপটিতেই গানটি প্রচলিত, যদিও বিভিন্ন শিল্পী আবার কিছু রকমফের করে গানটি উপস্থাপন করেন। নানাভাবে তাঁর কবিতা ও গান সরাসরি বা রূপান্তরিত হয়ে কিংবা অনুপ্রেরণা হয়ে পরবর্তী কালের শিল্প-সাহিত্যে প্রবহমাণ রয়েছে। পাকিস্তান ও ভারতের অনেক সিনেমায় তার গান ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, বলিউডের ‘দিল সে’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত সাম্প্রতিক কালের বিখ্যাত গান ‘ছাইয়া ছাইয়া’ বুল্লে শাহ’র রচনার প্রেরণাতেই রচিত হয়েছে। গানটির দৃশ্যায়ন দেখে আপাতভাবে যেমনই মনে হোক, গানটির কথা (গুলজার এটি রচনা করেছেন) সুফিদর্শনেরই প্রকাশক :

‘যার মাথার উপর প্রেমের ছায়া পড়েছে
তার পায়ের নিচে বেহেশত রয়েছে
প্রেমের ছায়ায় ছায়ায় চলো।’

বুল্লে শাহ’র কবিতায় ও দর্শনে মুসলমানদের ধর্মীয় গোঁড়ামি ও নিয়মতান্ত্রিকতার প্রবল সমালোচনা পাওয়া যায়। বুল্লে শাহ’র ভাবধারা মানবতাবাদী। আধ্যাত্মিক বিষয়ের পাশাপাশি জগতের সামাজিক বিষয়েও তাঁর প্রজ্ঞাময় দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় মেলে। জীবন-জগতের জটিল বিষয়গুলোর সহজ-সরল উপস্থাপনা তার রচনাকে জনপ্রিয় করেছে।

কাফি রূপকল্পটি শুধু সুফিরাই নন, শিখ গুরুরাও ব্যবহার করতেন। বুল্লে শাহ’র জনপ্রিয়তা মুসলমানদের হতে হিন্দু ও শিখদের মধ্যে বিস্তৃত হয়েছিল। তার সম্পর্কে লিখিত তথ্যাদি হিন্দু ও শিখ লেখকদের রচনাতেই বেশি পাওয়া যায়। বুল্লে শাহ’র সময়টি মুসলমান ও শিখদের মধ্যে সঙ্ঘাতের কাল ছিল। কিন্তু সেই সময় বুল্লে শাহ ছিলেন পাঞ্জাবের অধিবাসীদের জন্য শান্তির আলোকবর্তিকা। একবার পূর্বঘটনার জের ধরে মুসলমানদের হাতে এক তরুণ শিখ নিহত হয়। বুল্লে শাহ এর প্রবল প্রতিবাদ করেন। এতে পাঞ্জাবের মোল্লা-মুফতিরা তার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়। হত্যা-আঘাত-সঙ্ঘাতের ঘটনার জবাব প্রতি-আক্রমণ নয়, বুল্লে শাহ এই আদর্শই প্রতিষ্ঠা করতে চান। শিখ গুরু তেগ বাহাদুরকে তিনি গাজি বলে সংবর্ধনা জানান। এতে ধর্মান্ধ মুসলমানেরা তার ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে।

তার তিরোধান ১৭৫৭ সালে, পলাশীর যুদ্ধের বছরে। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মোল্লারা তাকে কাফের ফতোয়া দিয়েছিল। তারা তাঁর জানাজা পড়তেও অস্বীকার করে। তখন কাসুরের প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব কাজি হাফিজ সৈয়দ জাহিদ তার জানাজায় ইমামতি করেন।

কাসুরে তিনি সমাহিত হন। সেটি একটি দরগাহে পরিণত হয়। তার রওজায় যেতে বিশাল একটি পরিচ্ছন্ন বারান্দা পেরোতে হয়। সেই বারান্দার ছাদে চমৎকার ক্যালিগ্রাফিতে তার কবিতা খচিত রয়েছে।


তোমাকে চাই, আমি তোমাকে চাই;
ঘটনাই এই, আমি কী করি এখন?
বাঁচতে পারি না আমি, মরতেও নয়,
তোমাকে চাই, আমি তোমাকে চাই।

আমার মিনতিটুকু শোনো।
দিন বলো, রাত বলো, শান্তি কোনো নাই।
আর এক মুহূর্ত আমি তোমাকে না পেলে বাঁচব না।
তোমাকে চাই, আমি তোমাকে চাই;
ঘটনাই এই, আমি কী করি এখন?

বিরহ ব্যথার বুঝি কোনো শেষ নাই।
কেউ কি মিটিয়ে দিতে পারে এ বেদনা?
তাকে তো দেখি না আমি, বাঁচব কিভাবে?
তোমাকে চাই, আমি তোমাকে চাই;
ঘটনাই এই, আমি কী করি এখন?

বুল্লে শা বলে, আছি চরম বিপদে,
দয়া করে এনে দাও ত্রাণ।
কিভাবে সইব আমি বেদনা এমন?
তোমাকে চাই, আমি তোমাকে চাই;
ঘটনাই এই, আমি কী করি এখন?

***
রানজা রানজা ডেকে ডেকে
নিজে আমি রানজা হয়ে গেছি।
আমাকে সবাই ডাকো রানজা নাম ধরে,
হীর বলে ডেকো না গো কেউ।
রানজা আমার মাঝে, রানজার মাঝে আছি আমি,
আর কোনো ভাবনা নাই অন্তরে আমার।
আমি নাই, শুধু সে-ই আছে।
মজা করে একা-একা সে নিজের সাথে।

***
না আমি মসজিদের ইমানদার,
না আমি কাফেরদের আচার-অনুষ্ঠান,
না আমি ভেজালের অভ্যন্তরে খাঁটি।

না আমি বৈদিক,
না আমি হাজির আছি নেশালু জিনিসে,
না আমি হারানো, না আমি দূষিত।

না আমি মিলন, না আমি দুঃখ,
না আমি নিহিত আছি খাঁটি বা ভেজালে,
না আমি পানি, না মাটি।

না আমি আরবীয়, না আমি লাহোরি,
না আমি ভারতীয় শহর নাগুরির,
না আমি হিন্দি, না আমি পেশোয়ারের তুর্কি।

না আমি তৈরি করেছি বিশ্বাসের বিভাজন,
না আমি সৃষ্টি করেছি আদম ও হাওয়াকে,
না আমি রেখেছি নিজের নাম।

শুরু হোক বা শেষ হোক,
আমি কেবল নিজের সত্তা সম্পর্কে জানি,
দ্বৈততাকে স্বীকার করো না,
আমি ছাড়া আর কোনো জ্ঞানী নাই।

কে এই বুল্লে শাহ?
বুল্লে, আমি জানি না—কে আমি।

না আমি মুসা নবি, না আমি ফেরাউন,
না আমি আগুন, না আমি বাতাস,
না আমি বাস করি মাসুমদের নগরে।
বুল্লে শাহ, কে লোকটা দাঁড়িয়ে আছে?

বুল্লে, আমি জানি না—কে আমি।
বুল্লে, আমি জানি না—কে আমি।

***
কেবল তুমিই আছো, আমি নাই, ওগো প্রিয়তম।
কেবল তুমিই আছো, আমি নাই।
ধ্বংস-হয়ে-যাওয়া বাড়ির ছায়ার মতো
আমার মনেই আমি ফিরে আসি ফের।
যদি আমি কথা বলি, তুমি বলো সাথে,
যদি আমি চুপ থাকি, তুমি জাগো মনে,
যদি-বা ঘুমিয়ে পড়ি, ঘুমাও আমার সাথে তুমি,
যদি হাঁটি, সাথী হও,
আহা, বুল্লে! আমার বাড়িতে স্বামী এসেছেন আজ।
জীবন আমার তার জন্যে নিবেদিত।
কেবল তুমিই আছো, আমি নাই, ওগো প্রিয়তম।

***
হাজিরা মক্কায় যায়।
প্রিয়তম রানজাই মক্কা আমার।
হ্যাঁ, আমি পাগলই হয়ে গেছি।

আমার হয়েছে বিয়ে রানজার সাথে।
আমার আব্বা তবু পিড়াপিড়ি করে বিয়ে দিতে।
হ্যাঁ, আমি পাগলই হয়ে গেছি।

হাজিরা মক্কায় যায়।
আমার অন্তরে থাকে স্বামী, সে-ই মক্কা আমার।
হ্যাঁ, আমি পাগলই হয়ে গেছি।

হাজি-গাজি সকলেই অন্তরে আছে,
চোর ও পকেটমার—তারাও রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি পাগলই হয়ে গেছি।

হাজিরা মক্কায় যায়।
আমি যাই হাজেরার তখতের দিকে।
হ্যাঁ, আমি পাগলই হয়ে গেছি।

যেখানেই থাকে প্রিয়তম,
কাবা থাকে সেইখানে,
চারটি কেতাব তবু খুঁজে মরো তুমি।
হ্যাঁ, আমি পাগলই হয়ে গেছি।

***
আমাকে তোমার প্রেম নাচিয়েছে শুধু সারাক্ষণ।
তোমার প্রণয়ে পড়া মানে বিষ খাওয়া এক গ্লাস।
হেকিম আমার, এসো, এ আমার শেষের প্রহর।
আমাকে তোমার প্রেম নাচিয়েছে শুধু সারাক্ষণ।

***
প্রেমে যে মজেছে সেই জন
গান গায় নাচে সারাক্ষণ।

প্রেমিকের জামা যে পরেছে
তার উপর আশিস ঝরেছে।

পেয়ালায় সে দেয় চুমুক,
প্রশ্ন-জবাব নাই—আছে শুধু সুখ।

প্রেমে যে মজেছে সেই জন
গান গায় নাচে সারাক্ষণ।

প্রিয়তম আছে যে-হৃদয়ে,
পূর্ণ তা প্রণয়ে-প্রণয়ে।

নাই আর নিয়ম-আচার,
আছে শুধু উল্লাসে বাঁচা।

প্রেমে যে মজেছে সেই জন
গান গায় নাচে সারাক্ষণ।

***
ফেরাও তোমার মুখ এ-আমার দিকে, ওগো প্রিয়,
ফেরাও তোমার মুখ এ-আমার দিকে।

গেঁথেছো আমাকে তুমি—তুমিই—বড়শিতে,
টেনেছো আমাকে তুমি—তুমিই—সুতায়।
ফেরাও তোমার মুখ এ-আমার দিকে।

এসেছে আজান নেমে তোমারই আরশ হতে, আর
মক্কায় প্রতিধ্বনি।
ফেরাও তোমার মুখ এ-আমার দিকে।

বুল্লে বলছে, আমি কোনোদিনও মরব না, তবে
আর কেউ মরলে মরবে।
ফেরাও তোমার মুখ এ-আমার দিকে।

***
সে আমারে ছেড়ে গেছে, নিজেই বিদায় নিয়ে, হায়!
কী আমার দোষ ছিল? কী আমার অপরাধ ছিল?
না দিনে না রাতে আমি ঘুমাই শান্তিতে,
দুচোখ আমার শুধু পানি ফেলে যায়।
তলোয়ার-বল্লম তীক্ষ্ণ যতই
তারও চেয়ে বেশি ধার প্রেমের তীরের।
প্রেমের চাইতে বেশি নিষ্ঠুর নয় আর কেউ,
এ অসুখ সারাতে পারে না কোনো বৈদ্য-হেকিম,
বিরহের বেদনা প্রবল এত, গাঢ়।
বুল্লে, মালিক যদি ঝরাতেন করুণার ধারা,
রাতারাতি পাল্টে যেত আমার সময়।
সে আমারে ছেড়ে গেছে, নিজেই বিদায় নিয়ে, হায়!
কী আমার দোষ ছিল? কী আমার অপরাধ ছিল?

***
বহুত হয়েছে, বহুত;
কথা কও তুমি আমার সঙ্গে হেসে।

তুমি তো আমার হৃদয়েই করো বাস,
তবুও কেন যে আমাকে ছলনা করো!
আমার দু ঠোঁটে তোমার নামের জিকির,
তবু বারেবারে কেন তুমি সরে পড়ো!
বহুত হয়েছে, বহুত।

যে মরেই গেছে মারছো আবার তারে,
আমার মাথা কি তোমার ব্যাটের বল?
কণ্ঠে আমার কথাকে থামিয়ে দাও,
তোমার তীরের নিশানা বড় সফল।

পালাবে কোথায়? ফেলেছি তোমাকে ধরে,
বেঁধেছি তোমাকে আমার চুলের সাথে;
তবু দেখি তুমি পলায়নে তৎপর!
পাবে না সুযোগ এ দফায় অজুহাতে :
বহুত হয়েছে, বহুত!

বুল্লে বলছে, আমি দাস, ওগো প্রভু,
একটি পলক তোমাকে দেখতে চাই;
বারবার বলি, আমার হৃদয়টাকে
তোমার খোলসে আবৃত দেখতে চাই :
বহুত হয়েছে, বহুত।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;