মহামারি প্লেগ যেভাবে শেক্সপিয়ারকে প্রভাবিত করেছিল



পল ইয়ানেন
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

“মহামারি প্লেগের মধ্য দিয়ে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ভাবতে চেয়েছেন এমন একটা পৃথিবীর কথা, যেখানে বিষ-পয়জন নেই, মিথ্যা অপবাদ নেই, এবং নেই অশুভ দৃষ্টি।”

মহামারি প্লেগের সময়ে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার পৃথিবীতে ছিলেন। শেক্সপিয়ারের জন্ম ১৫৬৪ সালের এপ্রিল মাসে। তার জন্মের কয়েক মাস পরেই সমস্ত ইংল্যান্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে, এবং শেক্সপিয়ারের নিজের বসবাসকৃত শহরের এক চতুর্থাংশ লোক তাতে মৃত্যুবরণ করে।

প্লেগে আক্রান্ত মৃত্যু ছিল দুঃসহ যন্ত্রণার। আর সেটা সচক্ষে দেখা ছিল আরো ভয়াবহ ব্যাপার। প্লেগ মহামারি নিয়ে তখন মানুষের মাঝে যথেষ্ট অজ্ঞতা থাকার কারণে সংক্রমণটি এরকমভাবে ছড়িয়েছিল যেন এটি একজন রাগত ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা কোনো শাস্তি। প্রতীয়মান হয়েছিল, পৃথিবী হয়তো এর মধ্যদিয়েই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

শেক্সপিয়ারের লেখক-নাট্যকার হিসেবে জীবন শুরুর পরে প্লেগ বারবার ইংল্যান্ডে আঘাত হেনেছে, বিশেষত ইংল্যান্ডের রাজধানীতে—একবার ১৫৯২ সালে, তারপরে ১৬০৩ সালে, তারপরে আবারও ১৬০৯ সালে। ওই সময়ে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা যখনই সপ্তাহে তিরিশের ঊর্ধ্বে চলে যেত, লন্ডন-কর্তৃপক্ষ তখনই শহরের সব রঙমহল বন্ধ করে দিত। ১৬ শতকের প্রথম দশকে লন্ডনের রঙমহলগুলো যতদিন না খোলা ছিল, তারচেয়ে বেশি সময় সেগুলোকে বন্ধই রাখতে হয়েছে।

শিল্পীর তুলিতে ১৫৯২ সালের প্লেগ মহামারি

মহামারি প্লেগ শেক্সপিয়ারের জীবনে একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। প্লেগের ভয়াবহ সংক্রমণ এবং এর ফলে উদ্ভূত সামাজিক অচলতার মুখে মানুষের জীবন কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, এবিষয়টি সতর্কতা তৈরির ভঙ্গিতে শেক্সপিয়ারের বেশ কয়েকটি নাটকে উঠে এসেছে।

জুলিয়েটের বার্তাবাহক কোয়ারেন্টিনে
‘রোমিও জুলিয়েট’ নাটকের কথা বাদ দিলে শেক্সপিয়ারের কাজে কিভাবে প্লেগের উপস্তিতি আছে, তা বোঝা একটু মুশকিল। কেননা ‘রোমিও জুলিয়েট’-এর সম্পূর্ণ আদল বা ভাষার মধ্যেই, এর পুরো চিত্রনাট্য জুড়েই জীবন-সম্বন্ধীয় গভীর চিন্তাভাবনাগুলো প্রোথিত হয়েছে। ‘টুয়েল্ফথ নাইট’ নাটকটিতে অলিভিয়ার একদা মনে হয়েছে, ভালোবাসা তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটা যেন প্লেগের সংক্রমণের মতোই। এক জায়গায় সে বলেছে, “এরকম দ্রুতই হয়তো কেউ প্লেগে আক্রান্ত হয়।”

‘রোমিও জুলিয়েট’ নাটকে জুলিয়েটের ভুয়া মৃত্যুর যে চিঠি রোমিওর কাছে পাঠানো হয়েছিল, সেই চিঠি রোমিওর কাছে গিয়ে পৌঁছায়নি, কারণ চিঠিটি যথাস্থানে পৌঁছাবার আগেই প্লেগ সন্দেহে বার্তাবাহককে কোয়ারেন্টিনে চলে যেতে হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ‘রোমিও জুলয়েট’ নাটকটিও শেষ হয়েছিল একটি মারাত্মক পটপরিবর্তনের মধ্যদিয়ে। জুলিয়েট যে জায়গায় মরার মতো পড়েছিল, সেখানে পৌঁছানোর পরে রোমিও তার প্রেমিকাকে মৃত দেখে আত্মহত্যা করল। আর জুলিয়েট যখন উঠল, সেও তার প্রেমিককে মৃত দেখতে পেল, তখন সেও আত্মহত্যা করল।

শেক্সপিয়ারের সবচাইতে কঠিনতম ট্রাজেডি ‘কিং লেয়ার’ নাটকের শেষ দিনগুলোতে এক চূড়ান্ত অসুস্থ পৃথিবীর চিত্রায়ণ করা হয়েছিল। সেখানে লেয়ার তার মেয়ে গনেরিলকে গালি দিয়েছিল “তুই একটা ফোঁড়া” বলে (ফোঁড়া প্লেগের সিন্ড্রম)। সে বলেছিল, “শেষ পর্যন্ত আমার দূষিত রক্তেও প্লেগ পৌঁছে গেছে!”

‘কিং লেয়ার’ নাটকের শেষদিকে একটি ভগ্নদশা পৃথিবীতে অল্প কিছু মানুষ টিকে ছিল। করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়ে আমরা টিকে-থাকারা যেরকমটা ভাবছি, অনেকটা সেরকমই সেই অবস্থা। আমাদের এই তুলনা এমন ভুল কোনো কিছু না।

এটা জানা থাকা ভালো যে, সময়ের হাত ধরে পেছনে ফিরে গেলে আমরা মানুষেরা নিজেদেরকে উদ্ধার করব কখনো “গভীর কাদার মধ্যে, যেখানে দাঁড়াবার কোনো অবস্থা ছিল না”, অথবা কখনো “গভীর জলে, যেখানে বন্যা আমাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছিল।” বাইবেলের প্রার্থনাগীতে মানুষের এই দুটি করুণ অবস্থার উল্লেখ রয়েছে।

দূষিত দৃষ্টি
তবে, শেক্সপিয়ার আমাদেরকে অন্য একটি ইতিবাচক পন্থাতেও বিষয়গুলো দেখিয়েছেন। ১৬০৯ সালের প্লেগের পরবর্তীকালে শেক্সপিয়ার তার দর্শকদেরকে সঞ্জীবনীমূলক একটি বিস্ময়কর সুন্দর নাটক উপহার দিয়েছিলেন। নাটকটির নাম ‘সিমবেলিন’। ইউনিভার্সিটি অব নিউ ব্রাউন্সিক-এ রেন্ডাল মার্টিন পরিচালিত ‘সিমবেলিন এন্থ্রপসিন প্রজেক্ট’সহ, অস্ট্রেলিয়া থেকে কাজাখিস্তান পর্যন্ত পৃথিবীর সব থিয়েটার কোম্পানিই মনে করে ‘সিমবেলিন’ নাটকটি আমাদের এই বর্তমান সময়কে কার্যকরী দৃষ্টিতে দেখবার পক্ষে একটি বিবেচনাযোগ্য পন্থা হতে পারে।

‘সিমবেলিন’ শেক্সপিয়ারের দর্শকদেরকে একটি প্লেগমুক্ত পৃথিবীতে নিয়ে গিয়েছিল বটে, তবে সেটাও, ‘সংক্রমণ’ বা দূষণের বিপদগুলোকে নিয়েই গঠিত একটি নাটক। ‘সিমবেলিন’-এর প্রধান অসৎ চরিত্র, অর্থাৎ রাজপ্রাসাদের রানী, সে কুকুর-বিড়ালদের ওপর বিষের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাত। এমনকি, তার সৎ মেয়ে আইমোজেনকে সে বিষ দিয়ে হত্যা করবার পরিকল্পনা করেছিল।

এইভাবে সরাসরি দূষিত করে হত্যার বিষয়টি এক পর্যায়ে মিথ্যা-অপবাদে রূপ নেয়। যা কিনা ভাইরাসের মতোই মুখ থেকে মুখে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই অপবাদের টার্গেটও ছিল ওই আইমোজেন। আইকামো নামের এক লোক আইমোজোনের সতীত্ব নষ্ট হওয়ার একটা দুর্বল মিথ্যা গল্প ফাঁদে। যা আইমোজেনের দেশান্তরিত স্বামী পসথুমাসও শুনতে পায়। পসথুমাস ইতালি থেকে চিঠি মারফত এক ভৃত্যকে নির্দেশ দেয় তার স্ত্রী আইমোজেনকে হত্যা করতে।

এই নাটকের পুরো জগৎটাই অশুভ-দৃষ্টির দ্বারা কলুষিত হয়ে যায়। যেখানে একথাও পরিষ্কার হয় যে, ন্যাক্কারজনক কিছুর চর্চা মানুষকে অসুস্থ করে দিতে পারে। কল্যাণকামী ডাক্তার করনিলিয়াস রানীকে বলে, “এই বিষ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আপনার অন্তরজগতকে কঠিন করে তুলবে। এই বিষের পীড়া ও সংক্রমণ—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই।”

আরো একটি বিষয় এই নাটক অবহিত করে। তা হলো, শত্রুভাবাপন্ন লোকেদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকাও বিষে আক্রান্ত হওয়ার যন্ত্রণা দিতে পারে। আইমোজেন যখন তার স্বামীকে বিদায় জানাচ্ছিল, তখন সে চারিপার্শ্বের লোকেদের অশুভ দৃষ্টিকে নির্দেশ করে বলেছিল—“তোমাকে অবশ্যই যেতে হবে, আর আমাকে এখানে প্রতিটি মূহূর্ত উপেক্ষা করতে হবে—ওইসব অশুভ রক্তচক্ষু!”

যাত্রীদল এবং কল্যাণকামী চিকিৎসকেরা
শেক্সপিয়ার আমাদেরকে এই ভগ্নদশা পৃথিবী থেকে একটি সুন্দর পৃথিবীর দিকে পথ দেখিয়েছেন। তবে এটা একটা কঠিনতম যাত্রা। আইমোজেন রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে যায়, এবং ওয়েলসের সুপ্রাচীন পাহাড়গুলোর দিকে যাত্রা করে। ব্রিটেনের উল্লেখযোগ্য পৌরাণিক চরিত্র আর্থার কিং এই ওয়েলসেরই বাসিন্দা ছিলেন। তো, আইমোজেন সেই প্রকৃতির কাছে ফিরে যায়, যেখানে তার পরিবার, এমনকি তার জাতিসত্তারও গোড়াপত্তন হয়েছিল।

বিষয় হলো, আইমোজেনের হারিয়ে যাওয়া দুই ভাই ওয়েলসের ওই জঙ্গলের থাকত। আইমোজেন তাদের সঙ্গে গিয়ে পুনর্মিলিত হলো। যদিও তারা তিনজনের কেউই জানত না, এই দুই ভাই রাজপ্রাসাদ থেকে হারিয়ে যাওয়া দুই রাজপুত্র।

নাটকটি এই পর্যন্ত আসবার পরে সকল সংকটের অবসান হয়ে যেতে লাগল বৈকি, কিন্তু ঘটনা তখনও অনেকখানি বাকি ছিল। আইমোজেনকে প্রথমে বেঁচে থাকতে হলো, এবং বেঁচে থাকার ফলেই সে কথা বলতে পারল তার নিজের এবং তার স্বামীর [সম্ভাব্য] মৃত্যু নিয়ে।

সে একদিন ওষুধের শিশিটা খুলে ওষুধটা খেয়ে নিল। না জেনে যে, এটা আসলে ছিল রানীর দেওয়া বিষের শিশি। দুই ভাই বাইরে থেকে এসে আইমোজেনকে মৃত অবস্থায় পেল। এবং তারা তাকে নাটকের ভিলেন চরিত্র ক্লোটেনের মুণ্ডুহীন মৃতদেহের পাশে শুইয়ে দিল।

ডাক্তারের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সে রানীর বিষের শিশিকে একটা ঘুমের ওষুধ দিয়ে বদলে দিয়েছিল। ফলে আইমোজেন মারা গেল না। সে ঘুম থেকে উঠে তার পাশে একটি মুণ্ডুহীন মৃতদেহ দেখতে পেল, এবং ভেবে নিল এটা তার স্বামী পসথুমাসের দেহ।

অর্থহীন জীবনকে আলিঙ্গন
এই ঘটনার পরে, বেঁচে থাকার আর কোনো অর্থ না থাকা সত্ত্বেও আইমোজেন বেঁচে রইল, এবং সামনের দিকে এগিয়ে গেল। আদতে, তার এই ‘অর্থহীন’ জীবনটাকে আলিঙ্গন করে নেওয়াই ছিল বিজ্ঞতা। যার ফলশ্রুতিতেই মূলত আইমোজেন তার নিজের এবং নাটকের অন্যান্য চরিত্রদের একটি সুখিজীবনের পুনঃসূচনা করতে পেরেছিল।

নাটকের শেষে, আইমোজেনসহ সব চরিত্ররা একস্থানে মিলিত হলো। মিথ্যাবাদী আইকামো স্বীকার করল, সে আইমোজেনের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল। একে একে সবগুলো সত্য বের হয়ে আসলো। এই সত্যরা মিথ্যার পুরো জগৎটাকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে দিল।

আইমোজেনের স্বামী পসথুমাস, যে জানত তার নির্দেশে আইমোজেনকে হত্যা করা হয়েছে, সে তার ভুল বুঝতে পেরে নিজের মৃত্যুকামনা করল। আইমোজেন দৌড়ে গিয়ে তাকে আলিঙ্গন করল, কিন্তু হতাশায় বিদ্ধ হয়ে পসথুমাস আইমোজেনকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল। আবারও সেরকম অবস্থা, যখন আইমোজেনের বেঁচে থাকবার কোনো অর্থ হয় না, কিন্তু পরক্ষণেই সে সম্বিৎ ফিরে পেল, এবং বুঝতে পারল—না, এবার সে বেঁচে থাকতে পারবে। তারা স্বামী-স্ত্রী পুনর্মিলিত হলো। আইমোজেন তখন বলল, “তোমার বিবাহিত স্ত্রীকে তুমি কেন ছুঁড়ে ফেলছো? তুমি ভাবো, যে তুমি একটা টিলার উপরে দাঁড়িয়ে আছো, এবং পুনরায় আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দাও!”
পসথুমাস উত্তর দিল, “ফলের ঝুলে থাকার মতো তুমি ঝুলে থাকো যতক্ষণ না গাছটি নিজেই মারা যায়।”

পৃথিবী রক্ষা পেল
আইমোজেন আর পসথুমাস উপলব্ধি করল, একটি সুন্দর জীবনে আমরা তখনই মিলিত হতে পারি, যখন সত্যিকারের প্রাকৃতিক পৃথিবীর গভীরে আমাদের শেকড় প্রোথিত হয়, এবং যখন আমরা বুঝে উঠতে পারি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাই মারা যাব।

এই বিষ-পয়জন, মিথ্যা অপবাদ আর অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া এক পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে তখন সব চরিত্ররা মুক্তভাবে দৃষ্টিবিনিময় করল। আইমোজেন এখন কী দেখছে, এবং কিভাবে তাকে দেখা হচ্ছে, এই বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজা স্বয়ং বলল, “পসথুমাস আইমোজেনের নিকট নোঙর ভিড়িয়েছে। এবং আইমোজেন, অনুজ্জ্বল দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে পসথুমাসের দিকে, তার ভাইদের দিকে, আমার দিকে, তার শিক্ষকের দিকে, আর সে উদ্ধার করে আনছে—প্রতিটি আনন্দের বিষয়!”

বর্তমানের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আমাদের প্রতিনিয়ত ‘কল্যাণকামী চিকিৎসক’দেরই প্রয়োজন হবে। কিন্তু সেইসঙ্গে আমরা আইমোজেনকেও অনুসরণ করতে পারি। তার সবকিছু হারাবার অভিজ্ঞতা আমাদেরকে এই প্রচণ্ড ভয়ের অবস্থা থেকে সারিয়ে তুলতে পারে। আমরা আইমোজেনের কাছ থেকে শিখতে পারি—কিভাবে আবার একটি সুন্দর পৃথিবীর দিকে যাত্রা করতে হয়।


পল ইয়ানেন
অধ্যাপক, শেক্সপিয়ার স্টাডিজ, ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি

অনুবাদ : যাকওয়ান সাঈদ

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;