নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব বিষয়ক দুই বই নিয়ে টেরি ঈগলটন



অনুবাদ : রাজিয়া সুলতানা
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি প্রকাশিত দুটো বই নিয়ে করোনার এই সময়ে আলোচনা করেছেন বিশ্বখ্যাত সাহিত্যতাত্ত্বিক, সমালোচক ও বুদ্ধিজীবী টেরি ঈগলটন। প্রথম বইটির নাম, নিঃসঙ্গতার ইতিহাস—লিখেছেন ডেভিড ভিনসেন্ট। অন্যটি, একাকীত্বের জীবন-চরিত—এটি লিখেছেন ফে বাউন্ড আলবের্তি। প্রথম গ্রন্থটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আজ এপ্রিলের ২৪ তারিখে প্রকাশনা সংস্থা পলিটি থেকে। দ্বিতীয়টি ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড থেকে বেরিয়েছে। বিচ্ছিন্নতার এই সময়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ঈগলটনের এই আলোচনা এক ভালো উপায় হতে পারে। অপরদিকে তার অন্যসব সারগর্ভ আলোচনার মতো এই লেখাটিতেও ঘটেছে সাহিত্য, ইতিহাস আর সমাজ-রাষ্ট্রের নানামুখী চলকের সম্মিলন। যা পাঠকদের এক অন্য অভিজ্ঞতায় পৌঁছে দিতে পারে।

আলোচনাটি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

টেরি ঈগলটন

নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্ব এক কথা নয়। একাকী মানুষ সঙ্গের প্রয়োজন অনুভব করে আর নিঃসঙ্গ ধরনের মানুষ সঙ্গ থেকে নিষ্কৃতি বা অব্যাহতি চায়। ডেভিড ভিনসেন্ট তার চমৎকার নতুন এক অধ্যয়নে একাকীত্বের অনবদ্য একটা সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি একে ‘ব্যর্থ নৈঃসঙ্গ’ বলে অভিহিত করেছেন। এই দুইদল নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্বের মধ্যে আরেকটি পার্থক্য করে থাকেন। তারা বলেন যে তপস্বী, ধীবর, মৌনব্রত সন্ন্যাসী আর রোমান্টিক কবিরা একা থাকতে পছন্দ করেন তবে কেউই চান না লোকজন তাদের ত্যাগ বা বর্জন করুক। ‘নিজে নিজের সঙ্গী’ হবার ব্যাপারটি হচ্ছে মনে করেন আপনি সিনেমা দেখবেন বলে নিজেই নিজের হাতটি ধরে বসেছেন। হতে পারে আপনার সত্যি সত্যিই খুব একা থাকতে ইচ্ছে করছে অথবা বিচ্ছিন্ন থাকাকে যে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় তাকেই আপনি যুক্তিগ্রাহ্য করে তুলতে চাইছেন এভাবে। তবে যাই হোক না কেন সবচে বড় পার্থক্য হচ্ছে নিঃসঙ্গতায় কেউ মারা যায় না, কিন্তু একাকীত্ব আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেও পারে। করোনাভাইরাসের যে তাণ্ডব শুরু হয়েছে এতে করে আমরা কেউ কেউ শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারি।

সপ্তদশ শতাব্দীর আলোকায়নের আবহে, একা একা নিজের মতো করে থাকার ব্যাপারটি ছিল মানবিকতার প্রকৃত রূপের ব্যত্যয়। অথচ প্রকৃতিগতভাবেই মানবিকতা একটি সামাজিক বিষয়। তবে রোমান্টিকদের হাত ধরে এর পরিবর্তন এলো। সাধারণের মধ্যে বিচ্ছিন্ন থাকার ধারণাটি বেশ পরিচিতি পেল। ফ্রাংকেস্টাইনের দৈত্যটি হচ্ছে ইংরেজি সাহিত্যের প্রথমদিককার স্নেহ-ভালোবাসা বঞ্চিত একটা চরিত্র যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমানভাবে ধিকৃত ও প্রত্যাখ্যাত। তবুও আধুনিক যুগের একটা উপসর্গ হচ্ছে একাকীত্ব—নিঃসঙ্গতা হতে পারে যার সমালোচনা। এ হচ্ছে উত্তম কিছুর সংস্পর্শে আসার কয়েকটি উপায়ের মধ্যে একটি যা এভাবে আমাদের ক্রমবর্ধিষ্ণু বস্তুবাদী সমাজের ঘাটতিকে প্রকাশ করে। যখন ওয়ার্ডসওয়ার্থ লেখেন, তিনি মেঘের মতো একা একা ঘুরে বেড়ান তখন হয়তোবা তিনি শুধু বলতে চান তিনি একা আছেন অথবা তাঁর সঙ্গীর অভাব কিংবা একাকী থাকার ব্যাপারটা তাঁর নিজেকে জানার জন্য গভীর পারলৌকিক এক ধ্যানের সুযোগ এনে দিয়েছে।

সমগ্র বিশ্ব থেকে নিজেকে এভাবে সরিয়ে রেখে তবেই স্বরূপকে জানা—অন্তত প্রথমদিকে এ ছিল মরুভূমি অঞ্চলের খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের একটা বিশ্বাস। কিন্তু এই বইয়ে দেখানো হয়েছে যে, দিনে দিনে আধুনিক সমাজ আরো জনাকীর্ণ হওয়াতে আত্মকথনের প্রয়োজনও বেশি হয়ে পড়েছে। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাটা ব্যয়সাপেক্ষও বটে। ভার্জিনিয়া উলফ এ ব্যাপারে জোর দিয়ে বলেছেন—এজন্য প্রত্যেকের আলাদা একটি কক্ষ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই সময়ে শুধু উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেই এই ব্যয় সংকুলান সম্ভব ছিল। বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটেনের জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ এভাবে আলাদা হয়ে একা একা থাকত। দু হাজার এগার সালে এই হার বৃদ্ধি পেয়ে একত্রিশ শতাংশ বা আট লক্ষে পৌঁছে। এরপর নগরায়ন আর বড় বড় পরিবারগুলো বহুসংখ্যক মানুষকে এক জায়গায় এনে নিক্ষেপ করে; শিল্প ও পুঁজিবাদের বেনামি দুনিয়াও এদের বিচ্ছিন্ন করে দূরে সরিয়ে দেয়। গ্রামীণজীবন কঠিন হলেও আমরা জানতাম কারা আমাদের প্রতিবেশি। তাই একা থাকার বাসনা তীব্র হলেও একইসঙ্গে ভেতরে ভেতরে পরিত্যক্ত হবার ভয়ও কাজ করত।

নিঃসঙ্গতার ইতিহাস গ্রন্থটির দাবি এটি একটি ‘ব্রিটিশ সমাজের নিশ্চল ইতিহাস’ অথবা ‘অকর্মণ্য বসে থাকার ইতিহাস’। জন ক্লেয়ারের কবিতা থেকে শুরু করে ‘ইন্টারনেটের নিঃসঙ্গতা’ ধর্মানুষ্ঠানের প্রতি একনিষ্ঠতা—সবকিছু মিলিয়ে উল্লেখ করার মতো এটি একটি বহুমুখী অধ্যয়ন। একাকী হাঁটার ওপর চমৎকার একটা অধ্যায় আছে বইটিতে। আধ্যাত্মিক বিনোদনের জন্য বিংশ শতাব্দীর মধ্যবিত্তশ্রেণি একা একা হাঁটায় মন দিয়েছিল। ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর সমগ্রজীবনে ১৮০,০০০ মাইল হেঁটেছিলেন বলে জানা যায়। শ্রমিকশ্রেণীও কাজের অন্বেষণে হেঁটেছে বহুপথ। নিয়মিত একটানা এই হাঁটার বিষয়টি কৃষক আর অভিজাত শ্রেণীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

চাইলে যে কেউ একাকীত্বকে সঙ্গ হিসেবে বেছে নিতে পারে। মনস্তত্ত্ববিদ ডোনাল্ড উইনিকট মনে করেন কেবল বিশ্বস্ত একজন পূর্ণ বয়স্ক কারো উপস্থিতিতে একটা শিশু একলা থাকা শিখতে পারে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় নতুন এক ধরনের আশ্রমের ধারণায় মানুষ ভীষণভাবে উদ্বুদ্ধ হয় এবং বলা চলে এ ব্যাপারে বেপোরোয়া হয়ে ওঠে যেখানে স্ত্রীলোকেরা দলবেঁধে আলাদা থাকতে পারত। কারা-ব্যবস্থায় এরকম অপেক্ষাকৃত উচ্চ-মানের একাকী বন্দিত্বের ব্যবস্থা করা হতো। ইয়টসম্যান, রবিন নো জনসন মনে করতেন মানুষকে জেলবন্দী না করে যদি শাস্তি হিসেবে সমুদ্রপথে বিশ্বের সবজায়গায় একাকী পাঠানো হতো, তবে অপরাধ সংঘটিত হতো কম। পাথরের ওপর খোদাই করা একটা মণিযুক্ত মূর্তিতে দেখা যায় যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ধূমপানের অভ্যেসে গির্জায় যাওয়ার চেয়ে নানান রকম প্রার্থনায় ভেতরের অস্থিরতাকে শান্ত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছে মানুষ।

আধুনিক জীবনে একাকীত্বের যে তথাকথিত মহামারি, ভিনসেন্ট সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। তিনি দেখান যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্ভবপর ছিল বলেই নারী ও পুরুষ ক্রমে আরো ব্যাপকভাবে একা একা থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল। তবে যাই-ই হোক না কেন ব্যাপক এই একাকীত্বের ধারণা নতুন কিছু নয়। কোনো কোনো সমাজতাত্ত্বিকের মতে এই ধারণাটা যে আর প্রচার বা প্রসার পাচ্ছে না—এর সপক্ষে প্রমাণ খুব কমই রয়েছে। অন্যদিকে ফে বাউন্ড আলবের্তির একাকীত্বের জীবন-চরিত এ এই বিষয়টি আরো গভীর ও মূর্ত হয়ে ধরা দিয়েছে। ভিনসেন্ট সামাজিক ইতিহাসবিদ হলে ফে বাউন্ড হবেন আবেগের ইতিহাসবিদ যিনি বিশ্বাস করাতে সমর্থ হয়েছেন, মানবিক আবেগ বা অনুভূতি মোটেও নিরন্তর ও সার্বজনীন নয়, চিন্তা ও কাজের মতোই সেগুলো ঐতিহাসিকভাবে যেমন নির্ধারিত হয় তেমনি এর সবকিছুই আবার পরিবর্তনশীল। এই গ্রন্থে একটা বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে তা হচ্ছে—আমরা যেভাবে অনুভূতির প্রকাশ করি, আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি তার রূপ দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রিয় কাউকে হারানোর শোকে অথবা ধূসর রঙের কোনো ভল্লুক জড়িয়ে ধরার কারণে আতঙ্কিত হলে আপনি ক্যানসাস নাকি ক্যাম্বোডিয়া থেকে এসেছেন এটা বিবেচ্য নয়। আবেগের মুহূর্তে যে মানসিক অবস্থা তা লিঙ্গভিত্তিক—এরকম বললে সন্দেহের উদ্রেক হবেই। এই বইয়ে সেটাই দেখানো হয়েছে। পাহাড় থেকে পড়ে গেলে একজন নারী কি সত্যিই একজন পুরুষের থেকে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়? আলবের্তি জোর দিয়ে বলেছেন—“সব আবেগ-অনুভূতিই রাজনৈতিক”। কিন্তু “সবকিছুই রাজনৈতিক”—এভাবে বললে ‘রাজনীতি’ শব্দটি অর্থহীন হয়ে পড়ে। যারা মনে করেন লর্ড চ্যান্সেলরের পদটি রাজনৈতিক নয় বরং স্বাভাবিক, সেক্ষেত্রে আলবের্তির এই যুক্তিটি ধোপে টেকে না।

এরপরও অনেক যত্ন নিয়ে লেখা বিস্তর এই অধ্যয়নে জোরেশোরে দাবি করা হয় যে একাকীত্ব আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮০০ সালের দিকে। রবিনসন ক্রুশো একদা দ্বীপান্তরিত হয়েও কেন একাকী জীবনের জন্য তার কোনো অভিযোগ ছিল না এত্থেকে সেই কারণটা বোঝা সহজ হতে পারে। যখন ভিনসেন্ট বলেন ‘একাকীত্ব’কে নেতিবাচক আবেগ হিসেবে দেখা হয়েছিল শুধু এই সময়টাতে, তখন আলবের্তিও সেই সুরে সুর মেলান। কেউ একা একা থাকছে এই ব্যাপারটি এখন আর আগের মতো করে দেখা হয় না বরং নেতিবাচক অর্থে বোঝানো হয়, উপায়হীনভাবে জীবন এখন এভাবেই, বায়রনের বিষণ্ন নায়কেরা যেমন। আলবের্তি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, যারা বেশি একাকী, তাদের অপেক্ষাকৃত কমবয়সে মৃত্যুর সম্ভাবনা যারা কম একাকী তাদের চেয়ে ৩০% বেশি। দরিদ্ররা ধনীদের চেয়ে বেশি একা, অপেক্ষাকৃত কমবয়সী তরুণ তরুণীরা আরো বেশি একা। একা হওয়ার অর্থ হচ্ছে “অর্থপূর্ণ উপায়ে অন্যদের থেকে দূরে সরে থাকা”।

বিবিসির ড্রামা সিরিয়ালে মিস হ্যাভিশাম চরিত্রে গিলিয়ান অ্যান্ডারসন/ ছবি: বিবিসি

চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাস গ্রেট এক্সপেক্টেশন্স অবলম্বনে বিবিসি যে ড্রামা সিরিয়াল তৈরি করেছে তাতে প্রিন্স আলবার্টের মৃত্যুতে রানী ভিক্টোরিয়ার অতিরিক্ত শোক প্রদর্শনকে রাজতন্ত্র দ্বারা আক্রান্ত মিস হ্যাভিশাম—এই পরাবাস্তব চরিত্রটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ একটি গ্রন্থ এটি। ভিনসেন্টের দৃষ্টিতে যা ‘নিঃসঙ্গতা’, এই বইয়ে সেটাকে ‘একাকীত্ব’ হিসেবে দেখানো হয়েছে—হতে পারে, সৃজনশীল কাজের জন্য মূল্য দিয়ে যেটিকে পেতে হয়। একাকীত্ব হচ্ছে নিজের কাছে প্রত্যার্পণ অথবা ধ্বংসের দিকে গমন কিন্তু কেবল তখনই যখন কেউ তা স্বেচ্ছায় বেছে নেয়। ঐতিহাসিকভাবে, নিজেকে নিজের ও সমাজের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চিন্তা থেকেই এর প্রসূন। কিন্তু এর শুরু হয়েছিল ঊনবিংশ শতাব্দীরও অনেক আগে, হ্যামলেট বা ওথেলো এর সাক্ষ্য দেয়। এই গ্রন্থটি ঊনবিংশ শতাব্দীকে আদর্শিকভাবে একটা “অপেক্ষাকৃত সমষ্টিগত বিশ্ব” হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করে—কর্মহীন আর ভবঘুরেদের কাছে যা আশ্চর্যের একটি বিষয়।

একইভাবে, আলবের্তিও সঠিকভাবে একাকীত্বের রাজনীতিকীকরণ করেন, স্নায়ুবিজ্ঞানীরা এত্থেকে মুক্তি পাবার জন্য ঔষধের বড়ি আবিষ্কারের দিকে ছুটছেন। নিজেকে দিয়ে কিছু হচ্ছে না—এই অনুভূতি আর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের দাসত্বের ইতিহাস থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যায় না। এই ইতিহাস পেছনের দিকে টেনে যতই লম্বা করা হোক না কেন, এমনকি লেখকের কল্পনাকে ছাড়িয়ে গেলেও তা সম্ভব নয়। তিনি দেখান, “একবিংশ শতাব্দীতে অর্থ ব্যয় না করে কেউ কারো সঙ্গে সুবিধাজনক কোনো স্থানে গিয়ে দেখা করবে, এ রকম জায়গা খুব কম”। এর বড় কারণ হচ্ছে নব্য-উদারনীতিবাদের নীতি এর কোনো প্রয়োজন দেখে না। এভাবে এই বইয়ে আছে এক খলনায়ক; অন্যদিকে ভিনসেন্টকে তার অনুধ্যানে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে দেখা যায়। তবে আরো বেশ কিছু বিষয় এসেছে বইটিতে যেমন—বৃদ্ধ বয়সের ওপর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, গৃহহীনতা, উদ্বাস্তু, আদর্শ জীবনসঙ্গী, ক্ষুধা নিয়ে যেসব শিল্পী কাজ করেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো উত্তেজনা, মেদবহুল শরীর হওয়ার কারণে যে একাকীত্বের অনুভূতি—এইসব নানান জল্পনা-কল্পনা, সন্দেহ, ওয়াদারিং হাইটস উপন্যাসটিতে দেখানো হয়েছে হিথক্লিফ গাড়ি চালিয়ে বাড়ি আসতে ব্যর্থ হয়—এইসব মাথামুণ্ডুহীন অবান্তর বিষয়েরও অবতারণা হয়েছে।

এইসব ছাড়াও আরো নানান বিষয় আনা হয়েছে বইটিতে। এই অধ্যয়ন দুটোর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এদের গবেষণামূলক অনুসন্ধান ও সাধারণ ব্যাখ্যার মিশ্রণ। নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্ব নিয়ে বিভিন্ন শতাব্দীতে যা যা ঘটেছে সেসবের লম্বা লম্বা আখ্যানের বর্ণনা রয়েছে তবে বিস্তর প্রমাণ-দলিলও দেওয়া হয়েছে সেগুলোর সপক্ষে। বইদুটোতে পাণ্ডিত্য ও সহানুভূতি, কবিতা ও মনস্তত্ত্ব এসবের যে সমন্বয় ঘটেছে তা সাধারণ পাঠক ও বিশেষজ্ঞদের কাছে সমানভাবে আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম। একাকীত্ব ঘোচানোর একটা উপায় হচ্ছে নিঃসঙ্গতা। একাকী থাকাটা উপভোগ করা অথবা অন্তত একে সহ্য করাটা বেড়ে ওঠারই একটা অংশ। কিন্তু ভিনসেন্ট আর আলবের্তি উভয়েই কিভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কবিদের জন্য একাকীত্বকে ইতিবাচক করে তোলা সম্ভব, সেই বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে সচেষ্ট থেকেছেন, অন্যদিকে বাচ্চাদের লালনপালনে সময় কাটে যেসব নিঃস্ব, দরিদ্র গৃহিণীর, সামাজিক বিধি-বিধান যেখানে এর শাঁসটুকু পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে—সমাজের সেই শ্রেণীর কথা আদৌ বলা প্রয়োজন মনে করেননি তারা।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;