নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব বিষয়ক দুই বই নিয়ে টেরি ঈগলটন



অনুবাদ : রাজিয়া সুলতানা
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি প্রকাশিত দুটো বই নিয়ে করোনার এই সময়ে আলোচনা করেছেন বিশ্বখ্যাত সাহিত্যতাত্ত্বিক, সমালোচক ও বুদ্ধিজীবী টেরি ঈগলটন। প্রথম বইটির নাম, নিঃসঙ্গতার ইতিহাস—লিখেছেন ডেভিড ভিনসেন্ট। অন্যটি, একাকীত্বের জীবন-চরিত—এটি লিখেছেন ফে বাউন্ড আলবের্তি। প্রথম গ্রন্থটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আজ এপ্রিলের ২৪ তারিখে প্রকাশনা সংস্থা পলিটি থেকে। দ্বিতীয়টি ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড থেকে বেরিয়েছে। বিচ্ছিন্নতার এই সময়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ঈগলটনের এই আলোচনা এক ভালো উপায় হতে পারে। অপরদিকে তার অন্যসব সারগর্ভ আলোচনার মতো এই লেখাটিতেও ঘটেছে সাহিত্য, ইতিহাস আর সমাজ-রাষ্ট্রের নানামুখী চলকের সম্মিলন। যা পাঠকদের এক অন্য অভিজ্ঞতায় পৌঁছে দিতে পারে।

আলোচনাটি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

টেরি ঈগলটন

নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্ব এক কথা নয়। একাকী মানুষ সঙ্গের প্রয়োজন অনুভব করে আর নিঃসঙ্গ ধরনের মানুষ সঙ্গ থেকে নিষ্কৃতি বা অব্যাহতি চায়। ডেভিড ভিনসেন্ট তার চমৎকার নতুন এক অধ্যয়নে একাকীত্বের অনবদ্য একটা সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি একে ‘ব্যর্থ নৈঃসঙ্গ’ বলে অভিহিত করেছেন। এই দুইদল নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্বের মধ্যে আরেকটি পার্থক্য করে থাকেন। তারা বলেন যে তপস্বী, ধীবর, মৌনব্রত সন্ন্যাসী আর রোমান্টিক কবিরা একা থাকতে পছন্দ করেন তবে কেউই চান না লোকজন তাদের ত্যাগ বা বর্জন করুক। ‘নিজে নিজের সঙ্গী’ হবার ব্যাপারটি হচ্ছে মনে করেন আপনি সিনেমা দেখবেন বলে নিজেই নিজের হাতটি ধরে বসেছেন। হতে পারে আপনার সত্যি সত্যিই খুব একা থাকতে ইচ্ছে করছে অথবা বিচ্ছিন্ন থাকাকে যে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় তাকেই আপনি যুক্তিগ্রাহ্য করে তুলতে চাইছেন এভাবে। তবে যাই হোক না কেন সবচে বড় পার্থক্য হচ্ছে নিঃসঙ্গতায় কেউ মারা যায় না, কিন্তু একাকীত্ব আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেও পারে। করোনাভাইরাসের যে তাণ্ডব শুরু হয়েছে এতে করে আমরা কেউ কেউ শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারি।

সপ্তদশ শতাব্দীর আলোকায়নের আবহে, একা একা নিজের মতো করে থাকার ব্যাপারটি ছিল মানবিকতার প্রকৃত রূপের ব্যত্যয়। অথচ প্রকৃতিগতভাবেই মানবিকতা একটি সামাজিক বিষয়। তবে রোমান্টিকদের হাত ধরে এর পরিবর্তন এলো। সাধারণের মধ্যে বিচ্ছিন্ন থাকার ধারণাটি বেশ পরিচিতি পেল। ফ্রাংকেস্টাইনের দৈত্যটি হচ্ছে ইংরেজি সাহিত্যের প্রথমদিককার স্নেহ-ভালোবাসা বঞ্চিত একটা চরিত্র যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমানভাবে ধিকৃত ও প্রত্যাখ্যাত। তবুও আধুনিক যুগের একটা উপসর্গ হচ্ছে একাকীত্ব—নিঃসঙ্গতা হতে পারে যার সমালোচনা। এ হচ্ছে উত্তম কিছুর সংস্পর্শে আসার কয়েকটি উপায়ের মধ্যে একটি যা এভাবে আমাদের ক্রমবর্ধিষ্ণু বস্তুবাদী সমাজের ঘাটতিকে প্রকাশ করে। যখন ওয়ার্ডসওয়ার্থ লেখেন, তিনি মেঘের মতো একা একা ঘুরে বেড়ান তখন হয়তোবা তিনি শুধু বলতে চান তিনি একা আছেন অথবা তাঁর সঙ্গীর অভাব কিংবা একাকী থাকার ব্যাপারটা তাঁর নিজেকে জানার জন্য গভীর পারলৌকিক এক ধ্যানের সুযোগ এনে দিয়েছে।

সমগ্র বিশ্ব থেকে নিজেকে এভাবে সরিয়ে রেখে তবেই স্বরূপকে জানা—অন্তত প্রথমদিকে এ ছিল মরুভূমি অঞ্চলের খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের একটা বিশ্বাস। কিন্তু এই বইয়ে দেখানো হয়েছে যে, দিনে দিনে আধুনিক সমাজ আরো জনাকীর্ণ হওয়াতে আত্মকথনের প্রয়োজনও বেশি হয়ে পড়েছে। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাটা ব্যয়সাপেক্ষও বটে। ভার্জিনিয়া উলফ এ ব্যাপারে জোর দিয়ে বলেছেন—এজন্য প্রত্যেকের আলাদা একটি কক্ষ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই সময়ে শুধু উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেই এই ব্যয় সংকুলান সম্ভব ছিল। বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটেনের জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ এভাবে আলাদা হয়ে একা একা থাকত। দু হাজার এগার সালে এই হার বৃদ্ধি পেয়ে একত্রিশ শতাংশ বা আট লক্ষে পৌঁছে। এরপর নগরায়ন আর বড় বড় পরিবারগুলো বহুসংখ্যক মানুষকে এক জায়গায় এনে নিক্ষেপ করে; শিল্প ও পুঁজিবাদের বেনামি দুনিয়াও এদের বিচ্ছিন্ন করে দূরে সরিয়ে দেয়। গ্রামীণজীবন কঠিন হলেও আমরা জানতাম কারা আমাদের প্রতিবেশি। তাই একা থাকার বাসনা তীব্র হলেও একইসঙ্গে ভেতরে ভেতরে পরিত্যক্ত হবার ভয়ও কাজ করত।

নিঃসঙ্গতার ইতিহাস গ্রন্থটির দাবি এটি একটি ‘ব্রিটিশ সমাজের নিশ্চল ইতিহাস’ অথবা ‘অকর্মণ্য বসে থাকার ইতিহাস’। জন ক্লেয়ারের কবিতা থেকে শুরু করে ‘ইন্টারনেটের নিঃসঙ্গতা’ ধর্মানুষ্ঠানের প্রতি একনিষ্ঠতা—সবকিছু মিলিয়ে উল্লেখ করার মতো এটি একটি বহুমুখী অধ্যয়ন। একাকী হাঁটার ওপর চমৎকার একটা অধ্যায় আছে বইটিতে। আধ্যাত্মিক বিনোদনের জন্য বিংশ শতাব্দীর মধ্যবিত্তশ্রেণি একা একা হাঁটায় মন দিয়েছিল। ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর সমগ্রজীবনে ১৮০,০০০ মাইল হেঁটেছিলেন বলে জানা যায়। শ্রমিকশ্রেণীও কাজের অন্বেষণে হেঁটেছে বহুপথ। নিয়মিত একটানা এই হাঁটার বিষয়টি কৃষক আর অভিজাত শ্রেণীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

চাইলে যে কেউ একাকীত্বকে সঙ্গ হিসেবে বেছে নিতে পারে। মনস্তত্ত্ববিদ ডোনাল্ড উইনিকট মনে করেন কেবল বিশ্বস্ত একজন পূর্ণ বয়স্ক কারো উপস্থিতিতে একটা শিশু একলা থাকা শিখতে পারে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় নতুন এক ধরনের আশ্রমের ধারণায় মানুষ ভীষণভাবে উদ্বুদ্ধ হয় এবং বলা চলে এ ব্যাপারে বেপোরোয়া হয়ে ওঠে যেখানে স্ত্রীলোকেরা দলবেঁধে আলাদা থাকতে পারত। কারা-ব্যবস্থায় এরকম অপেক্ষাকৃত উচ্চ-মানের একাকী বন্দিত্বের ব্যবস্থা করা হতো। ইয়টসম্যান, রবিন নো জনসন মনে করতেন মানুষকে জেলবন্দী না করে যদি শাস্তি হিসেবে সমুদ্রপথে বিশ্বের সবজায়গায় একাকী পাঠানো হতো, তবে অপরাধ সংঘটিত হতো কম। পাথরের ওপর খোদাই করা একটা মণিযুক্ত মূর্তিতে দেখা যায় যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ধূমপানের অভ্যেসে গির্জায় যাওয়ার চেয়ে নানান রকম প্রার্থনায় ভেতরের অস্থিরতাকে শান্ত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছে মানুষ।

আধুনিক জীবনে একাকীত্বের যে তথাকথিত মহামারি, ভিনসেন্ট সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। তিনি দেখান যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্ভবপর ছিল বলেই নারী ও পুরুষ ক্রমে আরো ব্যাপকভাবে একা একা থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল। তবে যাই-ই হোক না কেন ব্যাপক এই একাকীত্বের ধারণা নতুন কিছু নয়। কোনো কোনো সমাজতাত্ত্বিকের মতে এই ধারণাটা যে আর প্রচার বা প্রসার পাচ্ছে না—এর সপক্ষে প্রমাণ খুব কমই রয়েছে। অন্যদিকে ফে বাউন্ড আলবের্তির একাকীত্বের জীবন-চরিত এ এই বিষয়টি আরো গভীর ও মূর্ত হয়ে ধরা দিয়েছে। ভিনসেন্ট সামাজিক ইতিহাসবিদ হলে ফে বাউন্ড হবেন আবেগের ইতিহাসবিদ যিনি বিশ্বাস করাতে সমর্থ হয়েছেন, মানবিক আবেগ বা অনুভূতি মোটেও নিরন্তর ও সার্বজনীন নয়, চিন্তা ও কাজের মতোই সেগুলো ঐতিহাসিকভাবে যেমন নির্ধারিত হয় তেমনি এর সবকিছুই আবার পরিবর্তনশীল। এই গ্রন্থে একটা বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে তা হচ্ছে—আমরা যেভাবে অনুভূতির প্রকাশ করি, আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি তার রূপ দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রিয় কাউকে হারানোর শোকে অথবা ধূসর রঙের কোনো ভল্লুক জড়িয়ে ধরার কারণে আতঙ্কিত হলে আপনি ক্যানসাস নাকি ক্যাম্বোডিয়া থেকে এসেছেন এটা বিবেচ্য নয়। আবেগের মুহূর্তে যে মানসিক অবস্থা তা লিঙ্গভিত্তিক—এরকম বললে সন্দেহের উদ্রেক হবেই। এই বইয়ে সেটাই দেখানো হয়েছে। পাহাড় থেকে পড়ে গেলে একজন নারী কি সত্যিই একজন পুরুষের থেকে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়? আলবের্তি জোর দিয়ে বলেছেন—“সব আবেগ-অনুভূতিই রাজনৈতিক”। কিন্তু “সবকিছুই রাজনৈতিক”—এভাবে বললে ‘রাজনীতি’ শব্দটি অর্থহীন হয়ে পড়ে। যারা মনে করেন লর্ড চ্যান্সেলরের পদটি রাজনৈতিক নয় বরং স্বাভাবিক, সেক্ষেত্রে আলবের্তির এই যুক্তিটি ধোপে টেকে না।

এরপরও অনেক যত্ন নিয়ে লেখা বিস্তর এই অধ্যয়নে জোরেশোরে দাবি করা হয় যে একাকীত্ব আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮০০ সালের দিকে। রবিনসন ক্রুশো একদা দ্বীপান্তরিত হয়েও কেন একাকী জীবনের জন্য তার কোনো অভিযোগ ছিল না এত্থেকে সেই কারণটা বোঝা সহজ হতে পারে। যখন ভিনসেন্ট বলেন ‘একাকীত্ব’কে নেতিবাচক আবেগ হিসেবে দেখা হয়েছিল শুধু এই সময়টাতে, তখন আলবের্তিও সেই সুরে সুর মেলান। কেউ একা একা থাকছে এই ব্যাপারটি এখন আর আগের মতো করে দেখা হয় না বরং নেতিবাচক অর্থে বোঝানো হয়, উপায়হীনভাবে জীবন এখন এভাবেই, বায়রনের বিষণ্ন নায়কেরা যেমন। আলবের্তি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, যারা বেশি একাকী, তাদের অপেক্ষাকৃত কমবয়সে মৃত্যুর সম্ভাবনা যারা কম একাকী তাদের চেয়ে ৩০% বেশি। দরিদ্ররা ধনীদের চেয়ে বেশি একা, অপেক্ষাকৃত কমবয়সী তরুণ তরুণীরা আরো বেশি একা। একা হওয়ার অর্থ হচ্ছে “অর্থপূর্ণ উপায়ে অন্যদের থেকে দূরে সরে থাকা”।

বিবিসির ড্রামা সিরিয়ালে মিস হ্যাভিশাম চরিত্রে গিলিয়ান অ্যান্ডারসন/ ছবি: বিবিসি

চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাস গ্রেট এক্সপেক্টেশন্স অবলম্বনে বিবিসি যে ড্রামা সিরিয়াল তৈরি করেছে তাতে প্রিন্স আলবার্টের মৃত্যুতে রানী ভিক্টোরিয়ার অতিরিক্ত শোক প্রদর্শনকে রাজতন্ত্র দ্বারা আক্রান্ত মিস হ্যাভিশাম—এই পরাবাস্তব চরিত্রটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ একটি গ্রন্থ এটি। ভিনসেন্টের দৃষ্টিতে যা ‘নিঃসঙ্গতা’, এই বইয়ে সেটাকে ‘একাকীত্ব’ হিসেবে দেখানো হয়েছে—হতে পারে, সৃজনশীল কাজের জন্য মূল্য দিয়ে যেটিকে পেতে হয়। একাকীত্ব হচ্ছে নিজের কাছে প্রত্যার্পণ অথবা ধ্বংসের দিকে গমন কিন্তু কেবল তখনই যখন কেউ তা স্বেচ্ছায় বেছে নেয়। ঐতিহাসিকভাবে, নিজেকে নিজের ও সমাজের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চিন্তা থেকেই এর প্রসূন। কিন্তু এর শুরু হয়েছিল ঊনবিংশ শতাব্দীরও অনেক আগে, হ্যামলেট বা ওথেলো এর সাক্ষ্য দেয়। এই গ্রন্থটি ঊনবিংশ শতাব্দীকে আদর্শিকভাবে একটা “অপেক্ষাকৃত সমষ্টিগত বিশ্ব” হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করে—কর্মহীন আর ভবঘুরেদের কাছে যা আশ্চর্যের একটি বিষয়।

একইভাবে, আলবের্তিও সঠিকভাবে একাকীত্বের রাজনীতিকীকরণ করেন, স্নায়ুবিজ্ঞানীরা এত্থেকে মুক্তি পাবার জন্য ঔষধের বড়ি আবিষ্কারের দিকে ছুটছেন। নিজেকে দিয়ে কিছু হচ্ছে না—এই অনুভূতি আর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের দাসত্বের ইতিহাস থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যায় না। এই ইতিহাস পেছনের দিকে টেনে যতই লম্বা করা হোক না কেন, এমনকি লেখকের কল্পনাকে ছাড়িয়ে গেলেও তা সম্ভব নয়। তিনি দেখান, “একবিংশ শতাব্দীতে অর্থ ব্যয় না করে কেউ কারো সঙ্গে সুবিধাজনক কোনো স্থানে গিয়ে দেখা করবে, এ রকম জায়গা খুব কম”। এর বড় কারণ হচ্ছে নব্য-উদারনীতিবাদের নীতি এর কোনো প্রয়োজন দেখে না। এভাবে এই বইয়ে আছে এক খলনায়ক; অন্যদিকে ভিনসেন্টকে তার অনুধ্যানে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে দেখা যায়। তবে আরো বেশ কিছু বিষয় এসেছে বইটিতে যেমন—বৃদ্ধ বয়সের ওপর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, গৃহহীনতা, উদ্বাস্তু, আদর্শ জীবনসঙ্গী, ক্ষুধা নিয়ে যেসব শিল্পী কাজ করেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো উত্তেজনা, মেদবহুল শরীর হওয়ার কারণে যে একাকীত্বের অনুভূতি—এইসব নানান জল্পনা-কল্পনা, সন্দেহ, ওয়াদারিং হাইটস উপন্যাসটিতে দেখানো হয়েছে হিথক্লিফ গাড়ি চালিয়ে বাড়ি আসতে ব্যর্থ হয়—এইসব মাথামুণ্ডুহীন অবান্তর বিষয়েরও অবতারণা হয়েছে।

এইসব ছাড়াও আরো নানান বিষয় আনা হয়েছে বইটিতে। এই অধ্যয়ন দুটোর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এদের গবেষণামূলক অনুসন্ধান ও সাধারণ ব্যাখ্যার মিশ্রণ। নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্ব নিয়ে বিভিন্ন শতাব্দীতে যা যা ঘটেছে সেসবের লম্বা লম্বা আখ্যানের বর্ণনা রয়েছে তবে বিস্তর প্রমাণ-দলিলও দেওয়া হয়েছে সেগুলোর সপক্ষে। বইদুটোতে পাণ্ডিত্য ও সহানুভূতি, কবিতা ও মনস্তত্ত্ব এসবের যে সমন্বয় ঘটেছে তা সাধারণ পাঠক ও বিশেষজ্ঞদের কাছে সমানভাবে আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম। একাকীত্ব ঘোচানোর একটা উপায় হচ্ছে নিঃসঙ্গতা। একাকী থাকাটা উপভোগ করা অথবা অন্তত একে সহ্য করাটা বেড়ে ওঠারই একটা অংশ। কিন্তু ভিনসেন্ট আর আলবের্তি উভয়েই কিভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কবিদের জন্য একাকীত্বকে ইতিবাচক করে তোলা সম্ভব, সেই বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে সচেষ্ট থেকেছেন, অন্যদিকে বাচ্চাদের লালনপালনে সময় কাটে যেসব নিঃস্ব, দরিদ্র গৃহিণীর, সামাজিক বিধি-বিধান যেখানে এর শাঁসটুকু পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে—সমাজের সেই শ্রেণীর কথা আদৌ বলা প্রয়োজন মনে করেননি তারা।

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;