নিজার কাব্বানির কবিতা



ভূমিকা ও ভাষান্তর : সৈয়দ তারিক
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজার তওফিক কাব্বানি ১৯২৩ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, কূটনীতিক, লেখক ও প্রকাশক। তার কবিতা একইসাথে সরল ও শৈলীসম্পন্ন। প্রেম, যৌনতা, নারীবাদ, আরব জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম তার কবিতার বিষয়বস্তুর মধ্যে পাওয়া যায়। আরবি ভাষার সমকালীন কবিদের মধ্যে তার স্থান প্রথম সারিতেই। তিনি সিরিয়ার জাতীয় কবি।

দামাস্কাসেই বড় হন তিনি, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করেন। আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজে পড়বার সময়েই তার প্রথম কাব্য প্রকাশিত হয়। প্রেমের কবিতা, তাতে নারীদেহ সম্পর্কে এমন চমকপ্রদ বর্ণনা ছিল যে তাতে দামাস্কাসের রক্ষণশীল সমাজে নাড়া লাগে।

স্নাতক হবার পর কাব্বানি সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। কনসাল বা সাংস্কৃতিক এটাচে হিসাবে বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৬ সালে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবার আগে পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তার লেখালেখিও অব্যাহত থাকে। পদত্যাগের পর বৈরুতে একটি প্রকাশনা সংস্থা স্থাপন করেন তিনি।

কাব্বানির বয়স যখন পনের তখন তার পঁচিশ বছর বয়সী বোন আত্মহনন করেন। তার পছন্দের নয় এমন এক লোকের সাথে বিয়ে হওয়া ঠেকাতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বোনের অন্তেষ্টিক্রিয়ার সময় কাব্বানি সিদ্ধান্ত নেন যে সামাজিক এইসব অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন।

তিনি বিপ্লবী কিনা এই প্রশ্নের জবাবে একবার তিনি বলেন, ‘আরব জগতে প্রেম বন্দীদশায় আছে, আমি একে মুক্ত করতে চাই। আমার কবিতা দিয়ে আমি আরবের আত্মা, অনুভব ও শরীরকে স্বাধীন করতে চাই। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর নয়।’ তিনি তার সময়ের সবচাইতে প্রগতিশীল ও নারীবাদী বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিবেচিত।

তার কবিতায় তার শহর দামাস্কাস বারংবার চিত্রিত হয়েছে। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনব্যাপী যে যুদ্ধ হয়েছিল তা তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে। আরবভূমির কান্না তার কবিতায় করুণভাবে চিত্রিত। যৌনতাপ্রবণ কবিতা থেকে তার কাব্যচর্চা ক্রমে রাজনৈতিক ও প্রতিরোধমূলক হয়ে ওঠে।

কাব্বানি শেষ জীবনটা লন্ডনে কাটান পনের বছর ধরে। সেখানেই ১৯৯৮ সালে পঁচাত্তর বছর বয়সে লোকান্তরিত হন। তার ইচ্ছানুসারে তাকে দামাস্কাসে সমাহিত করা হয়।


গ্রীষ্মে

গ্রীষ্মে
সৈকতে হাত-পা ছড়ালাম
আর তোমার কথা ভাবলাম।
সাগরকে যদি বলে দিতাম
তোমাকে নিয়ে আমি কী অনুভব করছি
তবে সে ছেড়ে আসত তার কূল
তার ঝিনুক-শামুক
তার মাছ,
আর আমার পিছে পিছে চলে আসত।

সাগরে প্রবেশ

অবশেষে প্রেম হলো,
আর আমরা বেহেশতে ঢুকলাম,
পিছলিয়ে
পানির চামড়ার নিচে
মাছের মতন।
আমরা দেখলাম সাগরের দুর্লভ মুক্তাগুলো
আর চমৎকৃত হলাম।
অবশেষে প্রেম হলো
কোনো ভয়-ভীতি ছাড়াই
মাছের সমাধিতে।
সুতরাং আমি দিলাম...তুমিও দিলে
আর আমরা ঠিকঠাক ছিলাম।
অবাক-করা সহজভাবে হলো এটা
জুইঁগন্ধী পানি দিয়ে লেখার মতন
মৃত্তিকায় বসন্তের প্রবাহের মতো।

যখন কেউ প্রেমে পড়ে

যখন কেউ প্রেমে পড়ে
প্রাচীন শব্দ সে কি ব্যবহার করতে পারে?
কোনো মেয়ে কি
চাইবে যে তার প্রেমিক
শুয়ে থাকুক
ব্যাকরণবিদ আর ভাষাতাত্ত্বিকের সাথে?
আমি কিছুই বলি নাই
ওই মেয়েটিকে, যাকে ভালোবেসেছি,
বরং একটি স্যুটকেসের ভিতরে
জড়ো করেছি
প্রেমের যত বিশেষণ আছে সব,
আর সমস্ত ভাষা থেকে পালিয়ে গেছি।

আমার প্রেমিকা জিজ্ঞেস করল

আমার প্রেমিকা আমাকে জিজ্ঞেস করল
‘আমার আর আকাশের মধ্যে
কী পার্থক্য আছে?’
পার্থক্যটা হলো এই :
যখন তুমি হাসো
তখন আমি আকাশের কথা ভুলে যাই।
যখন আমি ভালোবাসি
যখন আমি ভালোবাসি
তখন অনুভব করি, আমি সময়ের রাজা,
পৃথিবী আর এতে যা কিছু রয়েছে সবই আমার,
আর আমি ঘোড়ায় চেপে সূর্যে যাচ্ছি।

যখন আমি ভালোবাসি

তখন আমি তরল আলোয় পরিণত হই
চোখে দেখা যায় না যা
আর আমার খাতায় লেখা কবিতাগুলো
লজ্জাবতী ও পপি ফুলের ক্ষেত হয়ে ওঠে।
যখন আমি ভালোবাসি
আমার আঙুলগুলো হতে প্রবলভাবে পানি নির্গত হয়
আমার জিহ্বায় গজায় ঘাস
যখন আমি ভালোবাসি
তখন আমি সকল সময়সীমার বাইরের সময় হয়ে উঠি।
যখন আমি কোনো নারীকে ভালোবাসি
সবগুলো বৃক্ষ-তরু-গাছ
খালি পায়ে আমার দিকে ছুটে আসে...

প্রেমের তুলনা

আমি তোমার অন্য প্রেমিকদের মতো না,
ও আমার প্রিয়া;
অন্যে যদি তোমাকে মেঘ দেয়
আমি দেই বৃষ্টি,
অন্যে যদি লণ্ঠন দেয়
আমি দেব চাঁদ,
অন্যে যদি তরুশাখা দেয়
আমি দেব বৃক্ষসকল,
আর অন্যে যদি তোমাকে জাহাজ দেয়
আমি তোমাকে ভ্রমণ দেব।

গনক

দুচোখে ভয় নিয়ে বসে ছিল সে
উল্টানো কাপটিতে মনোনিবেশ ছিল তার,
বলল সে, দুঃখ পেয়ো না, বাবা,
ভাগ্যে আছে, প্রেমে পড়বে তুমি।
বাবা রে, যে তার প্রিয়র জন্য
নিজেকে উৎসর্গ করে, সে শহিদ হয়।
বহুকাল ধরে আমি ভাগ্য গুনে আসছি,
কিন্তু তোমার মতো পাঠ করি নাই আগে;
বহুকাল ধরে আমি ভাগ্য গুনে আসছি
তোমার মতো দুঃখ আমি দেখি নাই আগে।
প্রেমের সাগরে চিরকাল পালবিহীন নৌযানে ঘুরে বেড়ানোই পূর্বনির্ধারিত আছে,
তোমার জীবন একটি কান্নার বই হবার জন্য পূর্বনির্ধারিত আছে,
আর পানি ও আগুনের মাঝে বন্দী হয়ে থাকা।
কিন্তু সমস্ত যন্ত্রণা সত্ত্বেও
সকল দুঃখময়তা সত্ত্বেও
ওইটিই আমাদের সাথে আছে দিবানিশি
বাতাস সত্ত্বেও
বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও
সামুদ্রিক ঝড় সত্ত্বেও
ভালোবাসাই, বাপ আমার,
ওইটিই চিরকাল সবচেয়ে ভালো ভাগ্য।
তোমার জীবনে একটি মেয়ে আছে, বাবা,
তার চোখগুলো এত সুন্দর যে তা আল্লাহ তায়ালার রহমত,
তার মুখ আর হাসি গোলাপ ও গানে ভরপুর,
আর তার যাযাবর ও পাগলা জীবনের প্রেম সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়ায়।
যে মেয়েটিকে তুমি ভালোবাসো সে-ই তোমার সমস্ত জগৎ হতে পারে,
কিন্তু তোমার আকাশ বৃষ্টিময় থাকবে,
তোমার পথে থাকবে বাধাবিঘ্ন,
বাধায় আকীর্ণ থাকবে পথ, বাপ আমার।
তোমার প্রেমিকা একটা পাহারায় ঘেরা প্রাসাদে ঘুমিয়ে আছে,
যে তার বাগানের কাছে যাবে
যে তার ঘরে ঢুকবে
এবং যে তাকে প্রস্তাব দেবে
অথবা তার সাথে মিলিত হতে যাবে
তার হারিয়ে যাবার কারণ ঘটাবে সে,
বাপ আমার, হারিয়ে যাওয়া...
তুমি খুঁজবে তাকে সব জায়গায়, বাবা,
তুমি সাগরের ঢেউরাশিকে জিজ্ঞেস করবে তার কথা,
তুমি সাগরের কূলকে জিজ্ঞেস করবে,
তুমি সমুদ্রসমূহে ঘুরে বেড়াবে,
তোমার অশ্রুরাশি বয়ে যাবে নদীর মতো।
আর জীবনের শেষপ্রান্তে এসে
তুমি বুঝতে পারবে যে যেহেতু তোমার প্রিয়তমার
দেশ নাই, বাসা নাই, ঠিকানা নাই,
তুমি কেবল একটা ধোঁয়ার চিহ্নের পিছে ছুটেছিলে।
এটা কত কঠিন ব্যাপার, বাপ আমার,
এমন একটা মেয়েকে ভালোবাসা
যার কোনো দেশ নাই,
যার কোনো বাসা নাই।

জেরুজালেম

চোখের পানি না শুকানো পর্যন্ত আমি কাঁদলাম
মোমবাতি নিভে যাওয়া পর্যন্ত কাঁদলাম আমি
মেঝেতে ফাটল ধরা পর্যন্ত আমি হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে থাকলাম
মোহাম্মদ ও যিশু সম্পর্কে জানতে চাইলাম আমি
ওগো জেরুজালেম, নবীদের সৌরভ,
পৃথিবী ও আকাশের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত পথ
ওগো জেরুজালেম,
আইনের সভাঘর
অপরূপ এক শিশু যার আঙুলগুলো
পুড়ে কালো হয়ে গেছে আর চোখদুটো আনত
ছায়াময় মরুভূমি তুমি নবীগণ যার মধ্য দিয়ে গেছেন
তোমার সড়কগুলো বিষণ্ণ
তোমার মিনারগুলো শোকগ্রস্ত
তুমি এক কলো পোশাক পরা তরুণী,
কে বাজায় ঘণ্টা যিশুর জন্মের স্মরণে
শনিবার সকালে?
শিশুদের জন্য কে আনে খেলনা
বড়দিনের প্রাক্কালে?
ওগো জেরুজালেম,
চোখে বহমান বিশাল অশ্রু
কে থামাবে আগ্রাসন
তোমার ওপরে, ওগো ধর্মসমূহের মুক্তা?
কে তোমার রক্তমাখা দেয়ালগুলো ধুয়ে দেবে?
কে রক্ষা করবে বাইবেল?
কে উদ্ধার করবে কোরান?
কে বাঁচাবে খ্রিস্টকে?
কে বাঁচাবে মানুষ?
ওগো জেরুজালেম, আমার শহর
ওগো জেরুজালেম, আমার প্রেম
লেবু গাছগুলোয় কাল ফুল ফুটবে
জলপাই গাছগুলো আনন্দ করবে
তোমার চোখ নেচে উঠবে
দেশান্তরী পায়রাগুলো ফিরে আসবে
তোমার ভীতসন্ত্রস্ত ছাদে
আর তোমার শিশুরা খেলবে আবার
পিতাপুত্রের মিলন হবে
তোমার গোলাপশোভিত পাহাড়ে
আমার শহর
আমার শান্তি ও জলপাইয়ের শহর।

সুলতান

আমাকে যদি নিরাপত্তার ভরসা দেওয়া হতো
আমি দেখা করতাম সুলতানের সাথে
বলতাম তাকে: মহামান্য হে সুলতান,
আপনার ক্ষুধার্ত কুকুরগুলো আমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছে
আপনার গোয়েন্দারা সারাক্ষণ অনুসরণ করছে;
তাদের চোখ
তাদের নাক
তাদের পা আমাকে তাড়া করে ফিরছে
ভাগ্যের মতো, নিয়তির মতো;
তারা জিজ্ঞাসাবাদ করে আমার স্ত্রীকে
আর আমার সকল বন্ধুদের নামের তালিকা বানায়।
হে সুলতান!
এর কারণ আমি আপনার বধির দেয়ালের দিকে এগোতে সাহস করি,
আমি প্রকাশ করেছি আমার ব্যথা ও বেদনা,
আমাকে জুতাপেটা করা হয়েছে।
হে আমার প্রভু, হে সুলতান!
যুদ্ধে আপনি দুইবার হেরেছেন,
কারণ আপনার জনগণের অর্ধেকেরই
জিহ্বা নাই।

যখন আমি তোমাকে ভালোবাসি

যখন আমি তোমাকে ভালোবাসি
একটি নতুন ভাষা জেগে ওঠে
নতুন নতুন শহর, নতুন নতুন দেশ
আবিষ্কৃত হয়।
ঘণ্টাগুলো কুকুরছানার মতো শ্বাস নেয়,
বইয়ের পৃষ্ঠার ফাঁকে ফলে ওঠে গম,
তোমার চোখ থেকে পাখি উড়ে যায় মধুর খবর নিয়ে,
তোমার বুক থেকে কাফেলা রওনা হয়
ভারতীয় বনৌষধি নিয়ে,
চারপাশে আম ঝরে পড়ে,
বনে শুরু হয় দাবদাহ,
আর দামামা বাজতে থাকে।
যখন আমি তোমাকে ভালোবাসি
তোমার বক্ষ সব লজ্জা ঝরিয়ে ফেলে,
পরিণত হয় বিজলি ও বজ্রপাতে,
তরবারি ও ধূলিঝড়ে।
যখন আমি তোমাকে ভালোবাসি, আরবের শহরগুলো
জেগে ওঠে, প্রতিবাদ জানায়
নিগ্রহের কালের বিরুদ্ধে,
উপজাতীয় আইনের বিরোধিতায় প্রতিশোধের কালের বিরুদ্ধে।
এবং আমি, যখন তোমাকে ভালোবাসি, তখন
এগিয়ে যাই কুৎসিতের বিরুদ্ধে,
লবণের রাজাদের বিরুদ্ধে,
মরুভূমিকে প্রতিষ্ঠানীকরণের বিরুদ্ধে।
আর আমি তোমাকে ভালোবেসে যাব
যতক্ষণ না বিশ্ববন্যা আসে,
আমি তোমাকে ভালোবেসে যাব
যতক্ষণ না বিশ্ববন্যা আসে।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;