দূরত্ব-বিচ্ছিন্নতার ছবি এঁকে বিখ্যাত যিনি



ফারহানা আজিম শিউলী
আত্মপ্রতিকৃতি: এডওয়ার্ড হপার / অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

আত্মপ্রতিকৃতি: এডওয়ার্ড হপার / অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা-বাস্তবতার কারণে দূরত্ব ও বিচ্ছিন্নতা—এ বিষয়গুলো এখন মেনে চলার চেষ্টা করছেন সবাই। এডওয়ার্ড হপার নামে বিখ্যাত মার্কিন চিত্রশিল্পী বিশ শতকে দূরত্ব আর বিচ্ছিন্নতাকে উপজীব্য করে রাঙিয়ে তুলেছিলেন তাঁর ক্যানভাস। কেন তিনি এ ধরনের ছবি এঁকেছিলেন? ঘরবন্দী থাকার সময়ে এই প্রশ্নের তত্ত্ব-তালাশ।

করোনা-পরিস্থিতির কারণে আজ ‘স্যোশাল-ফিজিক্যাল ডিসটেন্সিং’ বা ‘সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব’, ‘আইসোলেশন’ বা ‘বিচ্ছিন্নতা’—শব্দগুলো খুবই পরিচিত আমাদের কাছে। আজ থেকে বহু বছর আগেই মার্কিন চিত্রশিল্পী এডওয়ার্ড হপার (২২ জুলাই ১৮৮২-১৫ মে ১৯৬৭) বিখ্যাত ছিলেন সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব-বিচ্ছিন্নতার ছবি আঁকার জন্য। বাস্তববাদী ধারার এই চিত্রকর বিশশতকের প্রথমার্ধে পরিত্যক্ত-ধ্বংসোন্মুখ-পতিত-বেওয়ারিশ নাগরিক জীবন ও সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব-বিচ্ছিন্নতার ছবি কেন এঁকেছিলেন, তার তত্ত্ব তালাশ করতে বসলে শিল্প সমালোচকেরা বহুবিধ কারণ হয়তো বের করতে পারবেন। তবে বর্তমানের এই করোনা-উদ্ভূত বাস্তবতার কারণে এই শিল্পী আবারও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। প্রবলভাবে পুনরুত্থিত হয়েছে তাঁর চিত্রকর্ম। ইন্সটাগ্রাম ও টুইটারে তাঁর চিত্রকর্মগুলো শেয়ার হয়েছে, হচ্ছে অসংখ্যবার। যদিও তিনি অর্ধ শতক আগেই মর্ত্যলোক ছেড়েছেন এবং ইতিহাসের একদম ভিন্ন সময়ে জন্মেছিলেন।

হপার পরিত্যক্ত শহুরে ল্যান্ডস্কেপ এবং আইসোলেটেড ফিগারে, একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতাকে ধরেছেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের এই অতিমারি তাঁর শিল্পকর্মকে দিয়েছে অন্য এক দ্যোতনা, অন্য মাত্রা, অন্যরকম প্রাসঙ্গিকতা। বলা হচ্ছে, ‘আমরা সবাই এখন এডওয়ার্ড হপারের পেইন্টিং’। তিনি এখন হয়ে উঠেছেন কোয়ারেন্টাইন কালচারের ‘পোস্টার বয়’।

এই সময়ে এসে জনপরিসরে হপারের এই সাম্প্রতিক পুনরুত্থান আমাদের বর্তমান দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার দিকেই চোখ ফেরায়। আমরা যখন অবাঞ্ছিত অতিথি ‘করোনাভাইরাস’ আমাদের বাড়ি ছেড়ে যাক এমন অপেক্ষায় দিন গুনছি, ঠিক তখনই আমরা দেখছি যে, পৃথিবীটাকে অদ্ভুতুড়েভাবে তাঁর কিছু চিত্রকর্ম—যেমন ‘হাউস বাই দ্য রেইলরোড’ (১৯২৫), ‘অটোম্যাট’ (১৯২৭), ‘রুম ইন নিউইয়র্ক’ (১৯৩২), ‘নাইটহকস’ (১৯৪২), ‘কেইপ কড মর্নিং’ (১৯৫০), ‘অফিস ইন আ স্মল সিটি’ (১৯৫৩), ‘সান ইন অ্যান এম্পটি রুম’ (১৯৬৩), ‘মর্নিং সান’ (১৯৫২) কিংবা ‘ইন্টারমিশন’ (১৯৬৩)—এসব চিত্রকর্মের মতো দেখাচ্ছে। হপারের অনেক ছবিতেই যেন এখনকার আমরা; ফাঁকা সিনেমা হলে বসে থাকা একাকী এক নারী দর্শক, বেদনাবিধুর এক মানুষ তার আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টে, একাকী এক দোকানদার, এক ডিনার টেবিলে একে অপরের থেকে দূরত্বে বসে থাকা মানুষ—এ তো আমাদের বর্তমানেরই প্রতিচ্ছবি।

ইন্টারমিশন, ১৯৬৩

হপারের সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘নাইটহকস’-এ দেখা যায়, রাতে আলোকিত এক ডিনারে চার খাবারক্রেতা ও একজন ওয়েটার। এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে আঁকা। ওয়েটার এবং বাইরের জগতের সঙ্গে মানুষগুলোর বিচ্ছিন্নতা-সংযোগহীনতা ওই যুদ্ধকালীন সময়ে সৃষ্ট মানুষের অন্তর্গত বোধেরই এক বহিঃপ্রকাশ। করোনাকালীন সময়ে মানুষের অনুভূতির সঙ্গে ‘নাইটহকস’ যেন তাই একীভূত হয়ে গেছে। একীভূত হয়ে গেছে কফি হাতে একাকী বসে থাকা নারীর ‘অটোম্যাট’ চিত্রকর্মটিও।

নাইটহকস, ১৯৪২

হপারের অসম্ভব ভক্ত ছিলেন বিশ্বনন্দিত ইংরেজ চলচ্চিত্রকার আলফ্রেড হিচকক। ১৯২৫ সালে হপারের আঁকা ‘দ্য হাউস বাই দ্য রেইলরোড’ ছবিটি দ্বারা অনুপ্রাণিত হন তিনি। হপার এ ছবিতে রেলের রাস্তা দিয়ে বিচ্ছিন্ন এক অদ্ভুত পুরনো বাড়ি এঁকেছেন। এতে তখনকার প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হতে যাওয়া আমেরিকা প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে পুরনো বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে, আর প্রবেশ করছে রেললাইন। উন্নয়ন নাটকীয়ভাবে বদলে দিচ্ছে আশপাশ। ছবিতে দেখা যায়, আঁকা বাড়িটি বিচ্ছিন্ন ও নির্জন।

অটোম্যাট, ১৯২৭

এই ছবির অনুপ্রেরণায় হিচকক তাঁর ১৯৬০ সালের পৃথিবীবিখ্যাত হরর ক্ল্যাসিক ‘সাইকো’ চলচ্চিত্রে স্থান দেন ‘বেইটস ম্যানসন’কে। বলা দরকার, হপারের ছবিটি আঁকার সময়ের যে ধারণা—উন্নয়ন আসলে বিচ্ছিন্নতার একটি উপাদান—সেটি হিচককের ‘সাইকো’র সময়েও প্রাসঙ্গিক ছিল, যেখানে বিচ্ছিন্ন-নিঃসঙ্গ-নিভৃত নির্জনতায় একজন মানুষের উন্মাদনা সুতীব্র হয়ে ওঠে। আর এখন এই অতিমারির স্বেচ্ছা কিংবা মেনে নেওয়া বন্দীত্বে বিষয়টি তো আরো বেশি মূর্তমান।

হাউস বাই দ্য রেইলরোড, ১৯২৫

হপারের এই মনস্তাত্ত্বিক চিত্রকর্মগুলোর সময়কাল ১৯২০-৫০ এর দশক জুড়ে। ছবিগুলো একরকম অস্বস্তির শিহরণ জাগায় এবং ‘একটি জাতির আর্ট তখনই মহত্তম হয়ে ওঠে যখন তাতে তার মানুষের চরিত্রের প্রতিফলন থাকে’—শিল্পীর এই দর্শনকে মূর্তমান করে তোলে।

হপার তাঁর সময়ের সামষ্টিক বোধকে ধারণ করার পাশাপাশি কিন্তু নিজের অজান্তেই বর্তমানের বৈশ্বিক অতিমারির অন্তর্নিহিত বোধকেও ধারণ করেছেন।

কিছুদিন আগেও আমরা অনেকেই অত্যন্ত দ্রুতগতির এক খ্যাপাটে পৃথিবীতে কাজকর্ম করেছি, দিনযাপন করেছি, যেখানে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অত্যধিক ক্যাফেইন, অনিঃশেষ সুযোগসুবিধা, জনসমাগম, গণপরিবহন ইত্যাদি। আর আজ আমরা অনেকেই হয়তো একাকী, সোফায়-বিছানায় শুয়ে-বসে অফিস করছি। এটি আক্ষরিক অর্থেই হপারের ৭০ বছর বয়সে আঁকা ছবি ‘মর্নিং সান’-এর নারীটির মতো। করোনাকালের সময়টা আমরা যে কতটা নগণ্য ও ক্ষুদ্র, পদে পদে তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এখন দুনিয়াজুড়ে শুধু পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণ এবং ‘বিগ ড্যাটা’র রমরমা, মানুষের জীবনকে যা কিছু সংখ্যায় রূপান্তরিত করেছে। বৈশ্বিক মহামারিতে ‘মর্নিং সান’ ছবির বিছানায় স্থির হয়ে বসে থাকা নারীটির মতো কিংবা ‘কেইপ কড মর্নিং’-এর বে-উইন্ডো দিয়ে সকালের সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় বাইরে গভীরভাবে তাকিয়ে থাকা নারীর মতোই আমরা যেন জালে আটকা পড়েছি ছোট্ট এক মাছের মতো, প্রকৃতির দাক্ষিণ্যে, যাতে আমাদের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ নেই।

মর্নিং সান, ১৯৫২

হপারের ছবিতে পাই প্রশান্তি, কোলাহলশূন্যতা ও স্তব্ধতা। বিষণ্ণতার জন্য তাঁর অধিকাংশ আলোচিত চিত্রকর্ম মানসিক রোগাক্রান্তদের অন্তর্জগতের কথাও বলে। আর এই মানসিক অসুস্থতা এই করোনাকালের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটা বিষয়। আমরা এখন ভীত, আতঙ্কিত, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় মানসিকভাবে অনেকটা পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো দিন পার করছি। এমন এক সময়ে বাস করছি, যাকে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা ‘বার্ন আউট’ সংস্কৃতি নাম দিয়েছে এবং এই সংস্থাটি গত বছর দাবি করেছিল, এটি বৈশ্বিক মহামারির জন্ম দেবে, এবং সেটিই সত্যি হয়েছে। অনেকটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই আমরা অতি আগ্রাসী এবং গোপনে অনিষ্টকর এক অতি ছোঁয়াচে ভাইরাসের কারণে ঘরে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছি, বাধ্য হয়েছি নিজেদেরকে শান্ত ও স্থিত করতে।

কেইপ কড মর্নিং, ১৯৫০

কাকতালীয়ভাবে আমাদের ইতিহাসের যুগ শিল্পী হপারের পার করা সময়ের প্রতিধ্বনি তুলতে শুরু করেছে। তিনি পেয়েছিলেন ১৯১৮-এর স্প্যানিশ ফ্লু, ১৯৩০-এর ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’জনিত তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা, আর দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধ। হপার একটা ভয়ের ও অনিশ্চিত পৃথিবীতে বাস করছিলেন, যা তাঁকে বাধ্য করেছিল অশান্ত পরিবেশে একাকী চরিত্র আঁকতে। আমরাও এখন প্রতিনিয়ত এক ভীতিকর-আতঙ্কিত সময় পার করছি। ইতিহাসের এক বিপজ্জনক সংকটের সাক্ষী হতে চলেছি আমরা।

হপারের কাছে আধুনিক জীবন অবন্ধুজনোচিতের চূড়ান্ত। তাঁর চরিত্রগুলোর দূরত্ব-বিচ্ছিন্নতা-একাকিত্বের জন্য কোনো অতিমারির দরকার পড়েনি। কাচের বড় জানালা ঘেরা, উঁচু নাগরিক দালানের স্বয়ংসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্টে বাস করা মানুষজন, নির্জন এলাকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস-স্টেশন—মোটকথা, আধুনিক নগর ও ল্যান্ডস্কেপের নির্মাণই তাঁর কাছে অসম্ভব নিঃসঙ্গতা তৈরির যন্ত্রের মতো। তাঁর চরিত্রগুলোর নিজেদের মধ্যে বিনিময়ের যেন তেমন কিছু নেই। বিচ্ছিন্ন, একাকী, স্বপছন্দের-স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষদের নিয়ে হপারের যে ভয়ংকর কল্পনা-দর্শন, তা আমরা সবাই হয়তো একরকম এড়িয়ে যেতে পারি। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, তা এখন আমাদের করতে হবে একে-অন্যের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে। এবং আমরা এও জানি, সবাই নিজ বাড়িতে একদম ঠিকঠাক আছে—এটি বর্তমান ভাইরাস অতিমারির একদম শূন্যগর্ভ এক প্রোপাগান্ডা।

সেই অনেক আগে থেকেই ছবিতে ছবিতে হপার যে বার্তা দিয়েছেন তা হলো আধুনিক জীবন হতে পারে ভীষণরকম একাকিত্বের। তাঁর চরিত্রগুলো ডিনার টেবিলে কিংবা রেস্টুরেন্টে যেমন বিচ্ছিন্ন, তেমনি তাদের অ্যাপার্টমেন্টের জানালায়ও। এই ব্যাপারে তিনি আধুনিকতাবাদী শিল্পকলার প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশ্বখ্যাত নরওয়ের এক্সপ্রেশনিস্ট বা অভিব্যক্তিবাদী চিত্রশিল্পী এডওয়ার্ড মুঙ্কও তাঁর বিকট নিশাস্বপ্নের মতো ‘ইভিনিং অন কার্ল জোহান স্ট্রিট’ নামে ১৮৯২ সালে আঁকা ছবিতে দেখিয়েছেন, একটা জটলাও কী ভীষণরকম নিঃসঙ্গ জায়গা হতে পারে।

ইভিনিং অন কার্ল জোহান স্ট্রিট, ১৮৯২

সত্যি বলতে, একাকিত্ব সমসাময়িক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, বিশেষত ব্যক্তি যখন বড় শহরের বাসিন্দা। এই কারণেই আমাদের সবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি এত আসক্তি। এটি অন্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ স্থাপনের একটা মাধ্যম যেমন, তেমনি ভেতরের আশঙ্কা, অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ মুখোশে লুকিয়ে রাখবার অন্তর্জালিক আবরণও বটে।

আমরা এখন নিজেদের বিচ্ছিন্নতা আড়াল করে একরকম ভালোই আছি। হপারের মতো শিল্পীরা এই বিচ্ছিন্নতাকেই আধুনিক অবস্থার নির্ণায়ক বলেছেন। স্বাভাবিক সময়ে আমরা ক্যাফেতেও একা বসি, পার্থক্য এটুকুই; যদিও এখন হাতে থাকে আমাদের ‘সামাজিক’ সত্তার প্রতীক সেলফোন। বাস্তবতা হলো, আধুনিকতা জনসাধারণকে নাগরিক জীবনযাত্রার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা একসময়কার প্রথা ‘যূথবদ্ধতা’কে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা মুক্তি-স্বাধীনতা চেয়েছি বলেই নিঃসঙ্গতাকে বেছে নিয়েছি। কিন্তু হপারের চিত্রকর্ম একটা কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে আমাদের—আধুনিক জীবনের স্বাধীনতাই যদি চলে যায় তবে একাকিত্ব ছাড়া আর কী বাকি রইল?

করোনা-বাস্তবতায় আশঙ্কা-উদ্বেগের প্রতীক হয়ে ওঠা হপারের চিত্রকর্ম আবার একইসঙ্গে কিছুটা হয়তো স্বস্তির বাতাসও বইয়ে দিতে পারছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যত বেশি তাঁর ছবিগুলো ভাগাভাগি হচ্ছে, ততই আমরা মনে করতে পারছি, এই করোনাকালে আমরা সবাই একই তরণীর যাত্রী, সবাই ফেসবুক-টুইটার ঘেঁটে চলছি, মানব অস্তিত্বের ভবিতব্য নিয়ে আলোড়িত হচ্ছি সবাই আমরা কমবেশি।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;