জীবনের কলরবের অপেক্ষায়



সঞ্জয় দে
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের বাড়ির খুব কাছেই একটা পার্ক। এর চারদিকে বাঁধানো পথ। সেই পথটিকে দুধার থেকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে প্রুস আর উইলো গাছের ঋজু প্রশাখা। আজ সকালে সেখানে হাঁটতে গেলাম। প্রায় দু সপ্তাহ ধরেই হাঁটতে যাবার ইচ্ছে থাকলেও হয়ে উঠছিল না। কারণটা—বৃষ্টি। ইলশেগুড়ি বৃষ্টিও নয় একেবারে মুষলধারে বর্ষণ। আমার বাড়ির টালির চালে লাগানো সোলার প্যানেলে সেই বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা একসাথে ঝরে কারণে সৃষ্টি হয় এক অদ্ভুত ঐকতান। আমি সেই তানে এতোটাই বিমুগ্ধ হয়ে কান পেতে থাকি যে, বাকি সব কাজ শিকেয় ওঠে।

সেই পার্কের পথটিতে আজ আমি ছাড়া আর কেউ নেই। সাধারণত এমনটা কখনো হয় না। সব সময়েই এখানে কারো না কারো উপস্থিতি থাকে। সকালের দিক হলে থাকে চাইনিজ বুড়িদের একটা ছোট্ট দল। তাদের দলনেত্রী তার ঝুলিতে করে আনা রেডিওটি চালিয়ে পার্কের বাকি সবাইকে শোনান প্রাচ্যদেশীয় সঙ্গীত। সেই সঙ্গীতের তালে তালে বাকি সবাই ফুরফুরে হাওয়ায় উৎফুল্ল হয়ে ওঠা অবস্থায় যখন হাঁটে, তখন সেই দলটি মত্ত থাকে শারীরিক নানা কসরতে। দু একজন আবার পার্কের মাঝখানে ঘাসের জমিনে উঠে পোষা কুকুরের চেইন খুলে দিয়ে চিৎকার করে বলে, ‘রান মাই বয়, রান।’ কুকুরগুলো বন্ধনহীনতার আনন্দ পেয়ে এমন ছুট লাগায়, ভ্রম হয়—তারা পার্কের অপর ধারে থাকা কারুর ওপর হামলে পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু ওরা ওদের সীমানা জানে। তাই পার্কের শেষ মাথায় গিয়েই গাড়ির হার্ড ব্রেকের মতো করে থেমে যায়। তারপর মনিবের দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকায়, যার অর্থ হলো—নাউ হোয়াট?

আজ সেই কুকুরগুলোও উধাও। তার বদলে আছে একপাল পিঁপড়ে। ওরা দলবেঁধে সড়কের এপার থেকে ওপারে যাচ্ছে। সুনসান সড়ক বলে মনুষ্য পদতলে পিষে মরার খুব একটা ভয় নেই। সেই মুহূর্তে আমি পার্কের ঘাসে ঢাকা জমিনের দিকে নজর করে দেখি এক অদ্ভুত দৃশ্য।

এমনিতে এই পার্কের চারধারে অসংখ্য কাঠবিড়ালির বসত হলেও ওরা সহজে দেখা দেয় না। কখনো কখনো এ পাড়া থেকে ও পাড়ায় যাবার প্রয়োজন হলে লেজ তুলে ভোঁ দৌড় লাগায়। পেছন থেকে কেবল দেখা যায়—ওদের বাদামি লেজের খানিকটা। সেই লজ্জাবনত প্রাণীদের এক বিশাল দল আজ পার্কে রোদ পোহাচ্ছে। একেবারে সমুদ্রতটে পেতে রাখা বেঞ্চে সৌখিন গৃহী মানুষেরা যেভাবে সূর্যের দিকে মুখ করে শুয়ে থাকে, অনেকটা সেই ভঙ্গিতে। তাদের এই শুয়ে থাকার মাঝেও আছে এক অদ্ভুত জ্যামিতিক বিন্যাস। এখানে-ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই ওরা। বরং অপর পক্ষের ওপর আক্রমণ হানতে উদ্যত পরাক্রমশালী রাজার সৈন্যবাহিনীর মতোই তারা শুয়ে আছে কয়েকটি সরল রেখায়, একই দিকে মুখ করে।

হঠাৎ কোথা থেকে যেন এক ঝলক হাওয়া ভেসে আসে। এ শহরে ঋতুচক্র আবর্তিত হয় একটু ভিন্ন রূপে। শীতের পর বসন্ত নয়, বরং এখানে ঘনঘোর বর্ষার পর নিশ্চুপ প্রগলভতায় চুপি চুপি হানা দেয় বসন্তের কমলা রোদ। পথের পাশের রুক্ষ ঢালু জমিতে ঘুমিয়ে থাকা আইস প্ল্যান্টের ঝোপগুলো বেগুনী ফুলের পাপড়ি মেলে রঙের বাসরে চারদিক সাজায়। বাতাসে থাকে ফুলের রেণুর তাজা গন্ধ। আর সেই ঘ্রাণে মৌমাছিরা মাতাল হয়ে গুনগুন করে ঘুরে বেড়ায়। এর সঙ্গে থাকে তাজা, কবোষ্ণ হাওয়া—যে হাওয়া এই মুহূর্তে আমাকে ভাসিয়ে দিল। মিষ্টি সুরভিত হাওয়ায় স্নান করে আমার চোখ যায় পার্কের কোণের শিশুমঞ্চের দিকে। বালির ভেতরে জেগে থাকা কয়েকটি স্লিপার আর লোহার স্প্রিঙের সাথে আটকে থাকা খেলনা গাড়ি। নিশ্চল। নিঝুম। যেন সেই চেরনোবিলের ঘটনায় পরিত্যক্ত শহর প্রিপায়েতের শিশু পার্ক। যে পার্কটি মনে করিয়ে দেয়, এক সময়ে হয়তো সেখানেও শিশুদের কোলাহল ছিল। আজ নেই। তারা সবাই কোথাও যেন পালিয়ে গেছে। আর প্রবাহমান সময়ের অন্য সীমায় এই পার্কের স্লিপারকে দেখছি ধীরে ধীরে গ্রাস করা শুরু করেছে শৈবালের পাতলা স্তর। আমি ভাবতে থাকি, এই পার্কটিও কি তেমনিভাবে একদিন পরিণত হবে শৈবাল আর মরিচার অভয়ারণ্যে?

তবে দেখলাম শিশুরা না থাকলেও একজন মানুষ অন্তত আছেন এখানে। একে আগে খেয়াল করিনি। সিকামোর গাছের ছায়ায় লেপটে থাকায় তিনি হয়তো আমার দৃষ্টিসীমায় কোনো কম্পন তৈরি করেননি। ইনি একজন গৃহহীন মানুষ। ভবঘুরে। সাথে একটি সাইকেল। পুরো সংসারটি এতেই চাপিয়ে ঘোরেন। সাইকেলটি গাছের কাণ্ডে ঠেস দিয়ে তিনি বসে আছেন গাছের ছায়ায়। ভাবখানা এমন—সাইকেলে করে বিশ্ব পরিভ্রমণের এক পর্যায়ে এখানে এসে দু দণ্ড জিরিয়ে নিচ্ছেন। গায়ে ময়লাটে জ্যাকেট। মাথায় উদ্ভ্রান্ত চুল। গালের বাদামি দাড়িগুলো নেমে এসেছে বুক অবধি। চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে। সে দৃষ্টি অবাঙময়। যেন তার কিছুই বলবার নেই, এ জগতের কিছুই তার শুনবার নেই; পৃথিবীর ব্যথাতুর কান্না স্পর্শ করার কোনো ইচ্ছেই তার এ মুহূর্তে নেই। যোগী পুরুষের মতো তিনি ধ্যানস্থ ভঙ্গিতে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন দূরের গাছের শাখামূলের কাছে থাকা একটি গোল্ডফিঞ্ছ পাখির দিকে।

মুহূর্তের জন্যে আমার মনে হয়, আমি এই লোকটির মতো ভাবলেশহীন হতে চাই। চারিদিকে মৃত্যুর কথা শুনে ক্লান্ত আমি। অবসন্ন। এই ক্লান্তি আর অবসন্নতা আমার রাতের ঘুমে দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দেয় আজকাল। সেই প্রখ্যাত সুইডিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা ইঙ্গমার বার্গম্যানের ‘বুনো স্ট্রবেরি’ ছবিটির প্রারম্ভিক দৃশ্যের মতো। ছবির নাম ভূমিকায় থাকা বুড়ো প্রফেসর স্বপ্নে দেখেন—একাকী এক নগরের পথ ধরে হাঁটছেন। কিন্তু কী আশ্চর্য! তিনি ছাড়া সেই রোদপ্লাবিত নগরে আর কেউ নেই। তিনি মানুষ খোঁজেন, প্রাণের সন্ধানে এদিক-ওদিক তাকান। হঠাৎ একটি লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পেছন থেকে এগিয়ে যান। কিন্তু ঘাড়ে হাত রাখতেই সেই মানুষরূপী মূর্তি ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে। এরপর সহসাই দেখেন—একটি কফিনবাহী ঘোড়ার শকট এগিয়ে আসছে। সহিস নেই। যেন কেউ দূর থেকে ঘোড়ার বুকে অদৃশ্য চাবুক মেরে গাড়িটিকে চালাচ্ছে। গাড়িটি চকিতে একটা লাইটপোস্টে আটকে যায়। কফিনটি ছিটকে পড়ে মাটিতে। তিনি এগিয়ে গেলে কফিনের ডালা থেকে একটি হাত এসে তাকে জাপটে ধরে। এটুকু দেখার পর প্রফেসরের ঘুম ভেঙে যায়। বিশ্বের বুকে হামলে পড়া এই করোনার থাবাকে আমার মনে হয় সেই কফিনের জ্যান্ত হাত। আমাদের দিকে অলক্ষ্যে হাত বাড়িয়ে জাপটে ধরতে চাইছে। কখনো পারছে। কখনো পারছে না। পারুক আর নাই পারুক, ঠিক অমন একটা অশরীরী হাতের ভয়ে শহরের সড়কগুলো আজ বিজন, প্রাণের জন্যে বুভুক্ষু।

ইঙ্গমার বার্গম্যানের বুনো স্ট্রবেরি সিনেমার প্রারম্ভিক দৃশ্য

যারা এই পার্ক কিংবা সড়ককে পরিত্যাগ করে নিজেদেরকে স্বেচ্ছাবন্দী করেছেন, তাদেরকেই-বা দোষ দিই কী করে? মহামারি তো এমনই। যেখানে যায়, যখন যায়, পারমাণবিক বোমার হল্কার মতো সবকিছুকে গ্রাস করে নেয়। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের পালাবার পথ থাকে না। শবের পাহাড় জমিয়ে তবেই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয় মহামারির ঘূর্ণিবায়ু। যে প্রজন্ম সেই বায়ুর ঝাপটার মাঝে পতিত হয়, তারা হয়তো দুর্ভাগা। কিন্তু মানব ইতিহাসে সেই দুর্ভাগা প্রজন্ম তো এসেছে বারে বারে। নিয়তির অমোঘ ইশারায়। মহামারির এই করাল থাবার শিরশিরে ইঙ্গিত বহুকাল আগে পেয়েছিলাম মনটেনিগ্রতে। কোটর শহরে। পুরনো দুর্গে ঘেরা সে শহরে নানা গলি-ঘুপচি পেরিয়ে প্রদোষ বেলায় ঢুকেছিলাম কুমারি মা মেরীর এক চার্চে। ভেতরটা কেমন গুমোট। পোড়া মোম আর ধূপের গন্ধের সাথে স্যাঁতস্যাঁতে এক ভাব যুক্ত হয়ে সেই ভেতরকার পরিবেশকে দিয়েছে প্রাচীনতার আভাস। চার্চের বাঁ দিকের দেয়ালে লেপটে থাকা এক মার্বেল স্লেটে লিখে রাখা কয়েক ছত্র বাণী পড়ে তো আমি হতভম্ব। স্তব্ধ। চতুর্দশ শতকের কোনো এক সময়ে প্লেগ এসে হানা দিয়েছিল এ শহরে। মোটামুটি পুরো শহরটিকেই গিলে খায় প্লেগ। যারা প্রাণ হারালেন তাদেরকে পরে সমাধিস্থ করা হয় এই চার্চের বেসলট পাথরের মেঝেটির তলে। আশা ছিল, মরজগতে হেরে গেলেও মেরীর আশীর্বাদে তাঁর হাত ধরে মৃতেরা হয়তো স্বর্গের দরজা অবধি পৌঁছুতে পারবেন। পুরোটা পড়ে আমার আতংকে নীল হয়ে যাবার দশা! অর্থাৎ আমি যেখানটায় দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক তার নিচেই হয়তো আছে কোনো কফিন? কফিনের ভেতর ঝুরঝুরে হলদেটে কঙ্কাল? ছিটকে বেরিয়ে এসেছিলাম সেই চার্চ থেকে।

সেদিন সেই চার্চ থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসার উপায় থাকলেও বর্তমানের বাস্তবতা থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসি কী করে? ফাউচি নামক এক মৃদুভাষী বিজ্ঞানী প্রতিদিন হোয়াইট হাউসের সবুজ বাগানে দাঁড়িয়ে যে স্পষ্ট কথাগুলো বলেন, সেগুলো তো সেই বাস্তবতাকেই আরো বেশি করে চিনিয়ে দেয়। জলদ গম্ভীর স্বরে বলা তার কথাগুলো মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে কোনো ছলাকলা করে না, বরং যেন বলে দেয়—প্রস্তুত হও। ফাউচি তো বটেই, বিশ্বের তাবৎ সংবাদপত্রকে আমার আজকাল মনে হয় সেই মেডুসা রাক্ষসীর মতো। ক্যারাভাজিও যে রাক্ষুসিকে এঁকেছিলেন নিজের সমস্ত শিল্পী সত্তা দিয়ে। পুরাণে আছে, সর্প দিয়ে মস্তকমণ্ডিত এই রাক্ষুসি যার দিকে সরাসরি তাকাত, সে-ই প্রাণকে বিদায় জানিয়ে প্রস্তরীভূত হতো। ইহলোকের প্রতি মমতাসম্পন্ন মানুষেরা তাই এই রাক্ষুসির দিকে তাকাত আড়চোখে, নয়তো দর্পণের প্রতিচ্ছবিতে চোখ রেখে। আমি সেভাবেই এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি এখনকার সকল খবর, সকল দুঃসংবাদ।

এভাবে এড়িয়ে গিয়ে আমি আসলে কী প্রত্যাশা করি? কিংবা আমার অবচেতন মন কী খুঁজে পেতে চায়? আমার সেই প্রত্যাশার এক ঝলক সন্ধান আমি কিন্তু পেয়ে যাই পার্কে তিন পাক হাঁটার পরপরই। হঠাৎ দেখি, পার্কের পাশে অনেকটা খাড়া উঠে যাওয়া যে পাহাড়সারি, সেগুলোতে দুটো ঝোপ দুলছে। অকস্মাৎ সেখান থেকে বেরিয়ে আসে দু বালক। একজনের মাথায় সেই রোমান সৈনিকদের মতো ঝুটা শিরস্ত্রাণ। অন্যজনের হাতে নকল বন্দুক। ওরা একজন অপরজনকে তাড়া করছে। হয়তো ওদের একজন ভালো মানুষ, অন্যজন মন্দ মানুষের ভূমিকায় খেলা করছে। হাসতে হাসতে দুজনেই উঠে যায় পাহাড় বেয়ে। ওদের কল্লোলে দুলে ওঠে উইলো গাছের ঝোপের পত্রমণ্ডলী।

আমি বেশ আনন্দ দিয়ে ওদের প্রস্থান দেখি। কিছুটা হলেও মনুষ্য কলরবের সন্ধান পাওয়ায় বেশ ফুরফুরে হয়ে ওঠে আমার মন।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;