পারভিন শাকিরের কবিতা



রূপান্তর: সৈয়দ তারিক
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

[উর্দু কবিতার উজ্জ্বল ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দীর। কিন্তু মির তকি মির, মির্জা গালিব, ইকবাল, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, আহমেদ ফারাজ—উর্দু ভাষার মহিমান্বিত কবিরা সবাই পুরুষ। সব ভাষাতেই অবশ্য কবিতায়, সাহিত্যে, শিল্পে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাধারণত পুরুষেরই আধিপত্য ছিল, তবে অনেক ভাষাতেই প্রাচীন আমল থেকেই দু-চারজন বিখ্যাত নারী কবির সন্ধান মেলে। উর্দু ভাষায় উল্লেখযোগ্য নারী কবিদের পাওয়া যায় বিংশ শতাব্দীতে এসে।

আদা জাফরি, জেহরা নিগাহ, কিশওয়ার নাহিদ, ফাহমিদা নিয়াজ প্রমুখ নারী উর্দু ভাষার কবি হিসেবে খ্যাতিমান হয়েছেন। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাব্যসাফল্য অর্জন করেছেন পারভিন শাকির। তার কবিতা অনবদ্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।

উর্দুভাষার এই অনন্য আধুনিক কবি পারভিন শাকির পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালে। অল্প বয়স থেকেই তিনি লিখতে শুরু করেন। কবিতা ও গদ্য দুটোই লেখেন তিনি। পত্রিকায় কলাম লিখতেন। ‘বীণা’ এই কলমি নামে আগে লিখতেন তিনি। পেশায় প্রথমে শিক্ষকতা করতেন, পরে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।

পারভিন শাকিরের প্রথম কবিতার বই ‘খুশবু’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। বেশ সুনাম অর্জন করে এটি। এরপর ক্রমে তার অন্যান্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় : ‘সদ-বার্গ’ [জলাভূমির ফুল] (১৯৮০), ‘খুদ কালামি’ [ নিজের সাথে আলাপ] (১৯৯০), ‘ইনকার’ [ অস্বীকার] (১৯৯০) ও ‘কাফ-ই-আয়না’ [আয়নার কিনারা]। সব রচনাই প্রশংসিত হয়। তার কলামগুলো সংকলিত হয় ‘গোশা-ই-চাশম’ [চোখের কোণা] নামে। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭৬ সালে তিনি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পদক ‘দ্য প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ লাভ করেন। তার কবিতাসমগ্র প্রকাশিত হয় ‘মাহ-ই-তামাম’ [পূর্ণ চাঁদ] নামে।

উর্দু কবিতার ঐতিহ্যশীল রচনা প্রকরণ গজল লেখেন তিনি। তার লেখা গজল মেহদি হাসান, নুসরাত ফতেহ আলি খান প্রমুখ বিখ্যাত শিল্পী গেয়েছেন। তার গজলে ঐতিহ্যিক বিষয় ও ভঙ্গির সাথে আধুনিকতাকে মিশিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি আজাদ নজম অর্থাৎ মুক্তছন্দের কবিতা রচনা করেন। তার বিষয়বস্তুতে রোমান্টিক ভাবধারা যেমন আছে তেমনি সমকালীন বিভিন্ন বিষয়, নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘটনার বয়ান, সামাজিক বিষয়-আশয় ইত্যাদি রয়েছে। কবিতায়, একজন নারী হিসেবে, তার ব্যক্তিত্ব বড় চমৎকার ফুটিয়ে তোলেন তিনি। ‘আমি’ কথাটি তিনি উর্দু ভাষায় স্ত্রী-লিঙ্গেই লেখেন, যা উর্দু কবিতার ঐতিহ্যে ছিল না। উপমা, উৎপ্রেক্ষা, ইঙ্গিতময়তা, বাকসংক্ষেপ ইত্যাদির বিশিষ্ট প্রয়োগ আছে তার কবিতায়।

‘সে তো সৌরভ, হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে
ঝামেলা ফুলটি নিয়ে, ও কোথায় যাবে?’

এখানে অবিশ্বস্ত প্রেমিককে সুরভির সাথে আর প্রেমিকাকে ফুলের সাথে উপমিত করা হয়েছে। এরকম অজস্র প্রয়োগ আছে তার কবিতায়। প্রচলিত ইংরেজি শব্দ (যেমন, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর) অনায়াসে প্রয়োগ করেন তার কবিতায়। উর্দু কবিতায় তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এখন অবধি তিনি উর্দু ভাষার শ্রেষ্ঠ নারী কবি।

পারভিন উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছিলেন। ইংরেজি ভাষাতত্ত্ব ও ইংরেজি সাহিত্যে তিনি দুইটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি পিএইচডি করেন। আবার পরে ব্যাংকিংয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিসে উত্তীর্ণ হন ও তারপর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে লোকপ্রশাসনে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি এক ডাক্তারকে বিয়ে করেছিলেন ও তাদের একটি পুত্রসন্তান হয়। কিন্তু বিয়েটা টেকেনি। বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছিল।

১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু ঘটে দুর্ঘটনায়। ইসলামাবাদে অফিসে যাবার পথে তার গাড়ি একটি বাসের সাথে সংঘর্ষে পড়ে। এই ঘটনার পরিণতিতেই তিনি মারা যান। যেই রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে পরে তার নামকরণ হয় পারভিন শাকির রোড। ইসলামাবাদেই তার সমাধি অবস্থিত।


গলন্ত সন্ধ্যায়

এই গলন্ত সন্ধ্যায়
সবকিছু মিলিয়ে যায়
তোমার পোশাকের ঘ্রাণ
আমার স্বপ্নের কুঁড়িগুলো
সবকিছু মিলিয়ে যায়

দৃষ্টি স্থগিত...

কিছুক্ষণের মধ্যে
দিগন্তে জাগবে একটি তারা
তোমার দিকে তাকাতে
অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে...

তোমার হৃদয় স্মরণ করবে তখন
একটি স্মৃতির প্রতিধ্বনি
একটি বিচ্ছেদের কাহিনী
একটি অসমাপ্ত মুহূর্তের কথা
না ফোটা স্বপ্নের, না বলা কথার...

আমাদের দেখা হওয়া দরকার ছিল
অন্য কোনো সময়ে
যখন স্বপ্নপূরণ হতে পারত
ভিন্ন আকাশের নিচে
ভিন্ন পৃথিবীতে
আমাদের দেখা হওয়া দরকার ছিল...

তোমার ভাবধারা

আমার প্রতি তোমার ভাবধারা যেন-বা তেমন
যেমন থাকে তূখোড় কূটনীতিকের
কোনো তরুণ সাংবাদিকের প্রতি
—প্রত্যেকটা কথায় আশার ইঙ্গিত,
সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে রাখা,
প্রতিটা শব্দ সাবধানে সুপরিমিত,
(উদ্ধৃতির তোড়ে বিষয়টাই হারিয়ে গেছে)।
তার কোনো কথাই তীরের মতন
ফিরে গিয়ে বিদ্ধ করবে না তাকে,
(যেন তাকে অনুতাপ করতে হয়)।

প্রত্যাবর্তন

চোখদুটো নমিত
কণ্ঠস্বর ক্লান্ত
কথা বলছে ভেঙে ভেঙে
চোখের পাপড়িতে জমে আছে ধুলো
রোদে পোড়া চেহারা।

আলুঝালু মাথাটি নত করে
এসেছে অনেক আগে হারিয়ে যাওয়া বন্ধু।
হৃদয় প্রলুব্ধ হয়ে উঠল তার হাতটি ধরতে,
একছুটে গিয়ে তার মুখে চুমু খেতে,
আর কখনো তাকে একা চলে যেতে না দিতে।

কিন্তু আমার গভীর হতে কেউ বলে উঠল :
এই সবকিছুই ছলনা, মিথ্যা ভান,
কখনো বিশ্বাস করো না
কখনো বিশ্বাস করো না।

ভাগ্য

আমি সেই বধূ যাকে বাসররাত্রিতে
ঘোমটা উঠিয়ে কেউ বলেছিল,
‘আমার যা কিছু আছে সবই তোমার,
শুধু আমার হৃদয়টা বাদ দিও।’

বিমোক্ষণ

আমার কাঁধে তার মাথাটি রেখে আজ
সে কারো জন্য তার মনভরে কেঁদেছে।

সৌন্দর্য

পুরো একটি জীবন দরকার
সৌন্দর্য কী তা বুঝতে,
কারণ মেয়েরা নিজেদের মেলে দেয় না
ক্ষণিক দেখায়।

আরোগ্য

আর কোনো ফুল নাই
আমার কামনার জ্বলন্ত বাগানে,
এটা তো পাতা ঝরবার ঋতু।
তবু একান্ত ইচ্ছার একফোঁটা শিশির
এখনো আমার দুচোখ ভরে রয়েছে,
ঝিকমিকে তারার মতন,
যে ছড়ায় আলো
তোমার হাঁটবার অন্ধকার অলি-গলিতে;
নিঃশব্দে তোমার কানে-কানে সে
তোমার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা জানাচ্ছে।
যে তুমি ভালোবাসো
সদ্যফোটা ফুলের সুরভি,
আর মৃদুমন্দ বাতাস,
নীরব নদীতে ধীরে প্রবহমাণ স্বচ্ছ পানি,
আর জীবনের উজ্জ্বল বর্ণমালা,
সু্স্থ হয়ে উঠবে তুমি—
রয়েছে ওরা প্রতীক্ষায়,
বসন্তের নতুন সকাল
তোমার হাসিমাখা দৃষ্টি দেখবার অপেক্ষায় আছে।

বিদায় চিহ্ন

সে গিয়েছে চলে,
কিন্তু যখন সে এখানে ছিল
তখনকার একটি তরতাজা মুহূর্ত
লটকে রয়েছে
আমার হাতের পিঠে,
আমার জীবনে,
বাঁকা চাঁদের মতন।

তোমার নাচের সাথী

নাচের সময়
যার কাঁধের উপর
রেখেছ তোমার মাথা
আমিও একদা তার আশ্রয়ে ছিলাম।
পার্থক্য কেবল এই,
সন্ধ্যা হবার আগেই আমি পরিত্যক্ত হয়েছি,
আর তুমি এই মিথ্যা নিরাপত্তায় রইবে
ভোর পর্যন্ত।

পিকনিক

আমার বন্ধুরা সৈকতের অন্য কোথাও হাসছে,
আর আমি বসে আছি এখানে, গুনে যাচ্ছি ঢেউ,
লিখছি—তার উপরে আবার লিখছি—তোমার নাম এই বালুকাবেলায়...

স্বীকারোক্তি

তোমার চিত্রটি আমার দৃষ্টিকে উদ্বেলিত করল।
দীর্ঘ রজনী পার হলো, আমি
আবিষ্ট হয়ে পড়লাম তোমার প্রতিকৃতিতে।
তারপর সেই মুহূর্ত এলো, যখন আমি
ধীরে ধীরে রাখলাম আমার ঠোঁট
তোমার ছবিতে...

বৃষ্টি

বৃষ্টিতে কেন তুমি একা একা শিহরিত হচ্ছো,
ও মেয়ে?
আলিঙ্গন করো তাকে যার উষ্ণতা জাগানো প্রেমে
তোমার শরীর ও মন হবে সিক্ত।
আর কোনো বৃষ্টি নাই যেটি
প্রেমের বৃষ্টির চেয়ে বড়,
যার পর বিচ্ছেদের উজ্জ্বল রঙধনু
বর্ণের রহস্য নিয়ে ঝলমল করে উঠবে।

আমার শরীরের ভাবসাব

আমি সেই দিনের জন্য আকাঙ্ক্ষা করি যেদিন তুমি
আমার প্রতি আবিষ্ট হবে,
যখন দুনিয়া ভুলে গিয়ে তুমি
গভীর আবেগে আমার অভাব অনুভব করবে,
আর আমার স্বল্পভাষিতা নিয়ে অভিযোগ করবে না।
তখন হয়তো আমি ভুলে যাব অন্য সব
লেনদেন আর দায়দায়িত্ব
যেন আমি তোমার বাহুতে আমার জগতকে অনুভব করতে পারি,
আমার শরীরের ভাবকেই আমাকে পরিচালনা করতে দিতে পারি।
সেই মুহূর্তে সব সীমাপরিধির বাইরে
যখন আমরা নেকাব ও পাগড়ির প্রথা প্রত্যাখ্যান করি,
আসো আমরা আমাদের ভাগ্য পরীক্ষা করি,
আর নিষিদ্ধ ফলের স্বাদ চুরি করি।

চাঁদ

আমাদের সকলে যাত্রী,
একই ভাগ্য নিয়ে আছি আমরা সবাই।
তবু আমি একা আছি এই পৃথিবীতে
আর সে রয়েছে একা ওই আসমানে।

অসারতা

তার জগৎ বড়ই সরল, বড় বেশি
আলাদা আমার থেকে
খুবই স্পষ্ট তার স্বপ্ন
আর ইচ্ছাগুলো।
কথা বলে সে খুব কম।
আজ ভোরে লিখেছে সে,
“আমি দেখলাম
চমৎকার কিছু ফুল আর
তোমার কথা মনে পড়ল।”
হাহ! আমি জানি
আমার বুড়িয়ে যাওয়া মুখ
কোনো অর্কিড পুষ্প নয়...
কিন্তু আমি কিভাবে এই ইচ্ছা করি,
যে আমি বিশ্বাস করব
যা কিছুই বলুক সে,
অন্তত ক্ষণিকের জন্য।

অভিযোগ

বরাবর অভিযোগ করত সে,
‘আমাদের চারপাশে এত-এত মানুষ
আমাদের নিজেদের জন্য সময়ই নাই।
মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে,
বছরের প্রথম তুষারপাতে,
পূর্ণিমা রাতে,
সন্ধ্যার সৌরভে,
ভোরের মিষ্টি ঠান্ডায়,
আমি তোমার সাথে একা থাকতে চাই,
কিন্তু মনে আমার বেদনা কেবল।’

আজ আমাদের দুজনার মাঝে আর কেউ নাই,
হাত একটু নাড়ালেই সে আমাকে ছুঁতে পারে।
কিন্তু কত-কত মৌসুম এলো আর গেল,
কিন্তু অমন কথা আর বলে না সে।
তার কাছে যাওয়া আমার জন্য কঠিন কিছু না,
কিন্তু সত্যি ব্যাপার হলো,
তার কণ্ঠস্বরে ভাবাবেগ গেছে কমে
কথার ধরনটাও আগের মতন নাই আর;
যদিও সে একই গান গায়,
কিন্তু তার হৃদয় শীতল হয়ে গেছে।

আমরা সবাই ড. ফস্টাস

কোনো না কোনোভাবে আমরা সবাই ড. ফস্টাস,
কেউ তাদের আত্মাকে বেচে
আবেগ-অনুভূতির জন্য,
আবার পরিস্থিতি যখন তাদের ধোঁকা দেয়
কেউ-বা তাদের চোখ বন্ধক রাখে
স্বপ্ন বেচার জন্য,
কেউ-বা পুরো মনটাই বিনিময় করে।
আসলে নির্ধারণ করা দরকার
যুগের মুদ্রাটা কী।
কিছু বিশ্লেষণ হতে জানা যায়
জীবনের বাণিজ্যিক এলাকায়
আজকের ক্রেতারা
সর্বোচ্চ মূল্য দিচ্ছে
আত্মসম্মানের জন্য।

দ্বিপদীগুচ্ছ


সে তো সৌরভ, হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে
ঝামেলা ফুলটি নিয়ে, ও কোথায় যাবে?


তারা জেদ ধরেছে, দিনের আলোয় জোনাকি পোকা ধরে দিতে হবে,
একালের ছেলেমেয়েরা অনেক বুদ্ধিমান হয়ে গেছে।


ঘুম থেকে জেগে উঠলাম আমি, এতে কি তোমার কিছু আসে-যায়?
হাওয়া আমার দরজা ধাক্কাচ্ছে, এতে কি তোমার কিছু আসে-যায়?


আমি মরে গেলে লোকে কখনো কি ভুলে যাবে?
আমার শব্দগুলো আমার অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেবে।


বাতাসের মতো তার যাযাবর জীবনযাপন
ঝঞ্ঝার মতো সে চলে যাবে উড়িয়ে নিয়ে।


সত্যি কথা বলব আমি, আর যাব হেরে;
মিথ্যা বলে সে নির্বাক করবে আমারে।


আমার কাঙ্ক্ষিত ছিল শুধু একজনই, যখন তাকে পেলাম না
প্রার্থনা হতে আমার হাত নেমে গেল, এমনকি কী যে চাইছিলাম তাও ভুলে গেলাম।


হাঁটার কোনো শক্তি নাই, থামাও অসম্ভব
প্রেমের সফর আমাকে নির্জীব করে দিয়েছে।


তরতাজা প্রেমের নেশা আমার শরীরে ও মনে,
আবার ফুলের মৌসুম এসেছে আমার বাগানে।

১০
আরো কিছুক্ষণ তাকে দেখতাম,
হায়, চোখের পানিতে সেই সুখ সইল না।

১১
সে এখন অন্য কারো তাতে কী?
আমার সাথে তো তার শুরুই হয় নাই।

১২
যেখানে তোমার খুশি বাতাসের মতো ঘুরে বেড়াও,
আমার কল্পনার ডানা কাটা গেলে তোমার কী আসে যায়?

১৩
মেয়েদের দুঃখ আজব, আরো আজব তাদের সুখ;
হাসতে থাকে তারা অথচ কাজল ভিজে যায়।

১৪
প্রিয় হে, তোমার সাথে একশর্তে প্রেমের খেলা খেলব,
যদি আমি জিতি আমি তোমাকে পাব, যদি হেরে যাই তবে আমি তোমার হব।

১৫
রাতে আমার হৃদয়ে এমন ব্যথা জাগল,
ভোর পর্যন্ত আমি অস্থির হয়ে থাকলাম।

১৬
মিলন—পুনর্মিলনের প্রতিশ্রুতি—বিচ্ছেদ;
হঠাৎই কত কিছু ঘটে গেল!

১৭
আমি জানি বাতাসের দিকে তুমি চোখ রাখো,
কিন্তু এ কেমন কথা যে একটু দেরিও করলে না!

১৮
আমার মতোই চাঁদ গলে যাচ্ছিল
ঘুমের ঘোরে চলছিল সারারাতভর।

১৯
অনেককাল ধরে আমার আমার দুঃখ একা,
খোদা, আমার অশ্রু ঝরাচ্ছে কে?

২০
তার সব ইচ্ছা আমি পূরণ করতে চাই, শুনতে চাই তার সব কথা;
আমি তাকে শিশুর মতো হাসতে দেখতে চাই।

২১
তোমার কথা ভাবলে আমি আলো দেখতে পাই,
মনে হয় স্মৃতিগুলো চাঁদে পরিণত হয়েছে।

কু-বা-কু ফেইল গেয়ি

সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের প্রেমকাহিনী,
ফুলের সুরভি ছড়ানোর মতো সে আমাকে ভালোবেসেছিল।

কী করে বলি যে সে আমাকে ছেড়ে গিয়েছে,
সত্য হলেও সে তো বড়ই লজ্জার কথা।

যখনই সে গেছে কোথাও, ফিরেছে আমার কাছে ফের,
এটুকু ভালোই মনে সান্ত্বনা জাগায়।

তোমার হৃদয়ের মতো তোমার সাথীও ঋদ্ধ থাকুক,
বিরহের রাত কখনো তোমাকে ধ্বংস না করুক।

যখনই সে আমার তপ্ত কপালে তার হাত রাখত,
আরোগ্যের অনুভূতি জাগত আমার আত্মার গভীরে।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;