মানষ্যেরা মইরা যায়

আবু মুস্তাফিজ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশার মা মরল বিষ খাইয়া আর হাফিজার আব্বা মরল নাড়ে প্যাঁছ নাইগা।

তখন চৈত মাস, আসি আসি করিতেছে। পুলাপান পাকড়া গুটার গুয়ায় খড়ছি গাঁইতা আর খড়ছির গুয়ায় মুরগের ফৈড় গাঁইতা আকাশে জোরে ঢেল দেয়। হুঁশ কইরা পাকড়া গুটা আকাশের এত উঁচায় উড়িয়া যায় যে তারে আর দেখা যায় না।

মুরগির বাচ্চার ন্যায় জুড়ায় জুড়ায় চোখ মেলিয়া আকাশ পানে চাইয়া থাকে পুলাপানরা। একটু পরেই মুরগের ফৈড় চড়কির ন্যায় ঘুরিতে ঘুরিতে নিচে নাইমা আসে। বড় মনোহর ভঙ্গিতে।

গোড়ান গ্রামের দুয়ারে দুয়ারে তখন এই খেলা চলে। বাতাসে সইষ্যার ঝাঁঝ, বাড়ি দেয় মাইনষ্যের নাকে মুখে। গিরস্ত বাড়ির দুয়ারভরা ধুবরি আর মাঘী সইষ্যার পালা। হুকা দেওয়া সইষ্যার জ্বালায় খালি পাওয়ে হাঁটন দায়। পুলাপানের নরোম পায়ে বিন্দা পড়ে।

উহঃ কইরা চিক্যার দেয় আজিজ মাস্টরের পুলা রানা। এহনো দুধ ছাড়ে নাই, কিন্তু ছাড়ার কথা আছিল আরো দুই বচ্ছর আগে। কিন্তু মাস্টরের বউর বছর ঘুরতেই আরেক গেদি অওয়ায় লাভ হইছে ড্যাকরার। বইনেরে কেনি মাইরা নিজেই ঝাঁপিয়া পড়ে মাওয়ের নধর বুনিতে।

এতক্ষণ ঘুমিয়াই আছিল, গাড়ি বারিন্দায় ফালিয়া রাখা জলচকিতে। পুলাপানের উলাউলিতে ঘুম ভাঙছে। চোকে দুই ডলা মাইরা দেকে তাগো দুয়ারে পুলাপানের মেলা।

জলচকিথন নাইমা নৈড় দিয়া দুয়ারে নামে। হইষ্যা কাঁটা নরোম পাওর পাতায় ঘাঁই মারে। উহঃ কইরা চিক্যার দেয় ছ্যাড়া। কিন্তু পুলাপানের উলাউলিতে সে চিক্যার হারিয়া যায়।

মাস্টরের পুলাও ট্যাটন কম না, খাড়াইতে নিজেরে সামলিয়া নেয়। ন্যাটা দিয়া বইয়্যা ডাইন পাওডারে বাঁও পাওয়ের উপরে তুইলা বরই কাঁটার ন্যায় সইষ্যার কাঁটা ঝাইড়া ফালাইতে ফালাইতে ফোত ফোত কইরা কাঁন্দে, নাকে হিদ জইম্যা থাকায়।

পুলাপানের উলাউলি কী নইয়া ঠাহর করিতে এট্টু টাইম লাগে রানার। সবার চোখ আকাশমুখী থাকায় সেও চোখ মেলিয়া আকাশ দেখে। একটা না, দুইডা না, ঝাঁকে ঝাঁকে মুরগের ফৈড় চড়কির ন্যায় ঘুরিতে ঘুরিতে নিচে নামিয়া আসিতেছে।

মাস্টরের পুলার জল টলমলা চোকে মুরগের ফৈড়ালা পাকড়া গুটার ছবি আয়নার ন্যায় ফুটিয়া উঠে।

চড়কি মাটিতে গড়াইয়া পড়িলে পুলাপান পাছড়াপাছড়ি করিয়া উহাদের কুড়াইয়া ফির‌্যা ছুঁড়িয়া মারে। উহারা উড়িয়া চলিয়া যায় আকাশে। জোড়ায় জোড়ায় চোখ উহাদের নাই হওয়া দেখে। ফের ফিরা আইলে চড়কির ঘূর্ণিতে ওগো চোকও ঘুরপাক খাইতে থাকে।

একটা চড়কি রানার সামনেই পড়ে। থাফা দিয়া সে তা ধইরা ফেলে। চড়কির মূল মালিক এট্টু দূরে খাঁড়িয়া মালিকানা হারানির আশঙ্কায় পড়ে। মাস্টরের পুলা বইলা কথা। চাইলেই কাইড়া নেওয়া যায় না। তাই দূরে খাঁড়িয়া কারবার দেখে।
চড়কি হাতে পাইয়া রানা সকল ব্যথা ব্যাদ্না ভুইলা লাফ দিয়া খাঁড়ায়। অন্যগো দেখাদেখি সেও উহা ছুঁড়িয়া মারে। কিন্তু চড়কি আকাশে না গিয়া মাথার দুই তিন হাত উপরে উঠিয়াই নামিয়া পড়ে।

ইহা দেকিয়া চড়কির মূল মালিক খিক খিক করিয়া হাসে। আইগিয়া কাছে আইসা রানার হাত থিকা চড়কি নিয়া কহে, ওমনে না, এমনে। কইয়া মূল মালিক চড়কি আকাশে ছুড়িয়া মারে।

কিন্তু মালিকানা হাতছাড়া হইয়া যাওয়ায় রানা এইবার মাটিতে গড়ান দিয়া কান্দন শুরু করে। ব্যাপারটা আগেই বুঝবার পারছিল ছ্যাড়া। তাই নৈড় দিয়া পুলাপানের ভিড়ে ঢুইকা যাইতে দেরি করে না আর।

কিন্তু মাস্টরের পুলার গৈড় পাইরা কান্দনে অন্য পুলাপানও ডরাইয়া যায়। তারা চড়কি খেলা বাদ দিয়া পুব ভাগে পলাইয়া যায়।

পুব ভাগে বিরাট খেড়ের পালা, সেইখানে তারা পাহাড়ে চড়ার আমোদ নিয়া পালার উপরে উঠিতে থাকে। উপরে উঠিয়া লাফ দিয়া নিচে নামে।

নতুন এই খেলায় আমোদ আরো বেশি। তুমুল উত্তেজনা লইয়া পুলাপান পালার উপরে ওঠে এবং লাফ দিয়া নিচে নামিয়া পড়ে।

মাস্টরের পুলার গড়াগড়ি পাইড়া কান্দনটাই সার হয়, কেউ তারে ধরেও না, চড়কিও আনিয়া দেয় না। ফলে তার কান্দনডা আর জমে না। তাই কান্দন ভুইলা এক ফাঁকে চাইয়া দেখে তাগো দুয়ারে আর কেউ নাই। পুবভাগ থিকা উলাউলির আওয়াজ ভাসিয়া আসে।

কান্দন ভুইলা সে পুবভাগে দৌড় মারে। যাইয়া দেখে পুলাপান খেড়ের পালার মাথায় উঠিয়া লাফ দিয়া নিচে নামিয়া পড়িতেছে।

এই খেলাও তার মনে ধরে। সেও খেড়ের পালার পাহাড়ে উঠতে যায়। খেড়গুলারে চুলের মুঠির মতো ধইরা ধইরা ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকতে থাকে। কিন্তু কিছু দূর উঠিয়াই চুলের মুঠি ছাড়িয়া দিলেই ছর ছর কইরা নিচে নাইমা আসে।

এ এক মজার খেলা। একবার ওঠা, আরেকবার নামা। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর রানাও পালার মাথায় উইঠা পড়ে। উইঠা তার দুনিয়াডারে কেমন ছোট ছোট লাগে। আকাশটা য্যান মাথার একটু উপরেই। এক লাফের জায়গায় দুই তিন লাফ দিলেই ধরা যাইব তারে।

পুব ভাগের চৌরি ঘরের চাল দেখা যায়। চালে শুইয়া আছে বরই গাছ, তার অসংখ্য ডাইলপালা, পাকা পাকা বরই। যা নিচ থিকা দেখা যায় না। শিমগাছ, তার বেগুনীফুলগুলা।

মাস্টরের পুলা চারপাশটা একটু একটু দেখতে থাকে, কিন্তু পারে না বেশিক্ষণ। পুলাপান হুড়াহুড়ি লাগাইয়া দেয়, তারা উপরে উইঠা জাম্প দিয়া নিচে নাইমা যায়।

দেখাদেখি মাস্টরের পোলাও জাম্পের প্রস্তুতি নেয়। ওয়ান টু থিরি। যেনবা অনন্তকাল শূন্যে থাকিয়া মুরগের ফৈড়ের ন্যায় মাটিতে গোত্তা খায়।

আর তখনই সে টের পায় তার বাঁও হাতটা বাঁইকা গেছে। কী এক অভাবিত বোধ তারে ঘিরিয়া ধরে, তার নিঃশ্বাস বন্ধ হইয়া আসে।

ম্যালাক্ষণ বাদে যখন সে নিশ্বাস নিতে পারে, তখন তার আর্তচিৎকারে পুব ভাগ হইতে মেহেদীর নানী ছুটিয়া আসে। কিছুদিন আগেই সে তার মেয়ে ও নাতি নাতকোরদিগকে দেখিতে দূরপাশা হইতে গোড়ান আসিয়াছে।

মেহেদীর নানী রানার বুক দুইয়া দিতে থাকে, সুরা পড়িতে পড়িতে। নিঃশ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হইয়া আসিলে রানার চিৎকার বাড়িয়া চলে।

নানু আমার নানু কী হইছে আপনের? বলিয়া মেহেদীর নানী রানার বাঁও হাত দেখিয়া চমক্যা উঠে। সে হাতটারে সোজা করিতে চায় কিন্তু পারে না, উপরন্তু উহা ফুলিয়া উঠিতে থাকে।

শুনিয়া আজিজ মাস্টর স্কুল হইতে ছুটিয়া আসে। আইসা দেখে পুত্রর বাঁও হাত ফুলিয়া ঢোল হইয়া গেছে। তাহারে জলচৌকিতে শুয়াইয়া মাথায় পানি ঢালিতেছে, তার চাচাত ভাই হুমায়ুনের শ্বাশুড়ি, মেহেদীর নানী। উৎসাহী পুলাপান গোল হইয়া তাহাই দেখিতেছে, কোনোরূপ গোল না করিয়া।

আজিজ মাস্টর সময় নষ্ট না করিয়া একখানা বাঁশ কাটিয়া বাতি বানাইয়া তাহা দিয়া পুত্রর হাত যথাসম্ভব শক্ত করিয়া বাঁধিয়া দেয়।

সন্ধ্যায় অফিসথন রানার আম্মা আসিয়া আরেক দাবার চিকরাচিকরি শুরু করে। আব্বা আপনের কী হইছে? কী হইছে আপনের? আমার সোনা আব্বা, আপনে কিসের নিগ্যা খেড়ের পালায় উঠছিলেন? বইলা হাউমাউ কইরা কান্দে।

আজিজ মাস্টর জলচৌকিতে বইসা থাকে, গ্রামের লোকেরা তারে ঘিরিয়া থাকে, নানা কথা জিগাশ করে। সে কিছুর জব দেয়, কিছুর দেয় না। গ্রামের লোকেরা তার থমভাব বুঝিয়া নিজেরাও থম মারিয়া থাকে। কেহবা আবার নিজেরা নিজেরা প্যাচালে মগ্ন হইয়া পড়ে।

সারা রাইত কোনোভাবে কাটতে না কাটতেই সক্কাল বেলা তিনজনে ম্যালা করে মির্জাপুরে, কুমুদিনী হাসপাতালে।

হাসপাতালে ম্যালা মানুষ, সবাই অপরিচিত। তারই মাঝে একটা লোকে আজিজ মাস্টররে ডাকে, দুলা ভাই কেমুন আছেন?

আজিজ মাস্টর আইগিয়া যায়, আপনে এইখানে?

রানার আম্মা রানারে কয়, হাফিজার আব্বা।

হাফিজার আব্বা কয়, আমার ওসুক, ডাক্টারেরা কইছে, নাড়ে প্যাঁচ নাগছে।

আজিজ মাস্টর আহারে কইয়া সহমর্মিতা প্রকাশ করে।

হাফিজার আব্বা আরো জিগায়, আমনে এনু কিসের নিগা আইছেন?

আর কইয়েন না, আপনের ভাইগনার হাত ভাঙছে। কইয়া আজিজ মাস্টর তাড়াহুড়া করে, আসি তাইলে? যাওয়ার সুমে দেখা করুমনে।

ঠিকাছে দুলাভাই, কইয়া হাফিজার আব্বা খালি গতরে নিস্পৃহ দৃষ্টিতে বসিয়া থাকে। তার নাড়ের প্যাঁচ ছোটার আশায়।

অপারেশন থিয়েটারে আজিজ মাস্টরের পুলা কেউরে কাছে ঘেঁষপার দেয় না। প্রথমে নাত্তি মারে নার্সরে। পরে এক শিক্ষানবিস ডাক্টার তারে ধরবার আইলে তারেও নাত্তি মাইরা বসে। ডাক্টার পিছিয়া যাওয়ায় নাত্তিডা অল্পের নিগা নাগে না।

এমতাবস্থায় ডাক্টার নার্সেরা একজন আরেকজনের মুখি তাকাবুকি করে। তখন মূল সার্জন হাতে একটা ফোরসেপ তুলিয়া লয় আর মুখ দিয়া চুক চুক শব্দ করিয়া মাস্টরের পুলার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ছুরিমুখি তাকাইয়াই মাস্টরের পুলার হাতপাও ছোড়াছুড়ি বন্ধ হইয়া যায়, ডরাইয়া স্থির হইয়া পড়ে। আর এই সুযোগে কেউ একজন তার মুখে ক্লোরোফর্মের মাস্কটা লাগাইয়া দেয়।

মাস্টরের পুলা অন্য পৃথিবীতে চলিয়া যায়, যে পৃথিবীতে পাকড়া গোটা মুরগের ফৈর হইয়া উড়িয়া চলে।

রানাও মুরগের ফৈড়ের ন্যায় উড়তে উড়তে এক আকাশ হইতে আরেক আকাশে যাইতে থাহে। তারপর একটা গভীর জঙ্গলে নামিয়া পড়ে। জঙ্গলের ভিতর দিয়া যাইতে যাইতে হঠাৎ একটা সুরঙ্গ দেখিতে পায়।

এই সময় কে যানি তারে ডাকে, আব্বা ওঠেন ওঠেন... আপনের হাত ভালো হইয়া গেছে।

রানার উঠতে ইচ্ছা করে না। সে সুড়ঙ্গের ভিতরেই থাকিতে চায়। কিন্তু আজিজ মাস্টর ছাড়ে না, আব্বা দেখেন দেখেন, আপনের নিগা কতডি চলকেট আনছি।

চলকেট নাকি আজিজ মাস্টরের ধাক্কাধাক্কি রানারে সুড়ঙ্গ হইতে টানিয়া আনে। উঠিয়া দেখে সে একখানা স্ট্রেচারে শুইয়া আছে। তার বাঁও হাতে প্লাস্টার করা, খালি গা। তার শরম করে।

রানার মা তার এক হাতে জামাটা পরায়, বাঁও হাত গজ দিয়া গলার সাথে ঝুলাইনা।

রানারে কোলে লইয়া আজিজ মাস্টর হাসপাতাল থিকা বাইরয়। নিচতালায় আইসা হাফিজার আব্বার নগে ফের দেখা হয়।

দুলাভাই আমার নিগা দুয়া কইরেন। ছলছল চোখে চাইয়া থাকে হাফিজার আব্বা। তার ফর্শা শইল শুকাইয়া দড়ি হইয়া গেছে পরাই।

হাসপাতালের সামনে শিশু গাছ, কৃষ্ণচূড়ারা ছায়া বিছাইয়া রাখাইয়া আছে। আজিজ মাস্টর রিকশা নেয়। তাহাদে পুলা আর বউরে লইয়া ম্যালা করে মির্জাপুর বাসট্যান্ডে। রানার বাঁও হাত ঝুইলা থাকে বুকের কাছে।

গাড়ি ঘোড়ার ন্যায় দৌড়ায়। চৈত মাসের গরমে যাত্রীরা বাসাত না থাকায় জুবজুবিয়া ঘামে। কাটবডি বাসের নগে রাস্তার গাছেরাও দৌড়ায়।

পাকুল্যা বাজারে আইসা গাড়ি থামে। আজিজ মাস্টার নাইমা পড়ে, স্ত্রী পুত্রসহ।
তাহাদে বিাজার থিক্যা এক সের গুল্লা কিনে, রসগুল্লা। বউরে কয়, খাবা?

বউ কয়, না, থাইগ্গাছে। বাইত্তে যাইয়া খামুনি।

পুত্ররে জিগাশ করে, আব্বা আমনে একটা খাবেন?

রানার সুড়ঙ্গের ধ্যান্দাটা এখনো ছাড়ে নাই, খুন খুন কইরা কান্দে।

ফলে আজিজ মাস্টর নিজেই কয়, এহ বাইত্তে তো আইসা পড়ছি, আবর কান্দন কিসের?

রানা তেমু খুন খুন কইরা কান্দে। তার আম্মা তারে কোলে নিয়া বসে। আর কানে কানে কয়, কাইলকা নানীগইত্তে যামু। কান্দে নাছে।

নানীর বাড়ি যাওনের কথা শুইনা রানার চোখের সুড়ঙ্গে ঝিলিক মারে। তার খুন খুন কান্দন বন্ধ হইতে থাকে।

নানীগইত্তে যাইয়া শোনে হাফিজার আব্বা মইরা গেছে। পরের দিন তার লাশ আসে, তালাইয়ে মোড়া।

বিশার মাও আরো সপ্তাহানি আগেই মইরা গেছে।

রানা তার আম্মার কোলে বইসা দুধ খায়, না ভাঙ্গা হাত দিয়া বুনি ছানতে ছানতে। রানার আম্মার উঁকুণ বাইছা দেয় বিশার চাচতো বোইন সালেহা।

হইছিল কী, বিষ খাইল যে? রানার আম্মা জিগাশ করে।

প্যাট বাজছিল।

এল্লা! কস কী? ওই বুইড়া বেঠির!

হ, ওইডাই তো কইতাছে মাইনষ্যে।

তা ক্যারা বাজাইছিল?

চারাবাড়ির এক ছ্যারা। কামলা দিবার আইছিল ওগো বাইত্তে। এর মধ্যেই ঘটনা ঘইটা গেছে। বিশা রাইতে উইঠা বাঁশছুফে হাগবার যাইয়া মাওরে ওই ছ্যারার নগে দেখছে।

তারবাদে?

তারবাদে আর কী? পুলায় মায়ের নগে রাগ কইরা ঘরে দিছে ঝাঁপ, আর খুলে না। বিশার মাও দুয়ারে খাড়িয়া কান্দে। কিন্তু পুলায় আর ঝাঁপ খুলে না যে খুলেই না।

হুম।

ছ্যাড়ারই বা দুষ কী? কয়দিন পরে করব বিয়া, মার এই কীত্তিকলাপ কি সইয়া পারে?

তাতো ঠিকই।

হেই রাইতেই বিষ খায় বিশার মাও। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শ্যাষ। পরে ডাক্তাররা কয়, হ্যার প্যাটে বাচ্চা আছে, এক মাসের।

আহারে।

রানা দুধ খাইতে খাইতে সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়া হাঁটতে হাঁটতে মুরগের ফৈড়ের ন্যায় আকাশে উড়িতে থাকে।