মানষ্যেরা মইরা যায়



আবু মুস্তাফিজ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশার মা মরল বিষ খাইয়া আর হাফিজার আব্বা মরল নাড়ে প্যাঁছ নাইগা।

তখন চৈত মাস, আসি আসি করিতেছে। পুলাপান পাকড়া গুটার গুয়ায় খড়ছি গাঁইতা আর খড়ছির গুয়ায় মুরগের ফৈড় গাঁইতা আকাশে জোরে ঢেল দেয়। হুঁশ কইরা পাকড়া গুটা আকাশের এত উঁচায় উড়িয়া যায় যে তারে আর দেখা যায় না।

মুরগির বাচ্চার ন্যায় জুড়ায় জুড়ায় চোখ মেলিয়া আকাশ পানে চাইয়া থাকে পুলাপানরা। একটু পরেই মুরগের ফৈড় চড়কির ন্যায় ঘুরিতে ঘুরিতে নিচে নাইমা আসে। বড় মনোহর ভঙ্গিতে।

গোড়ান গ্রামের দুয়ারে দুয়ারে তখন এই খেলা চলে। বাতাসে সইষ্যার ঝাঁঝ, বাড়ি দেয় মাইনষ্যের নাকে মুখে। গিরস্ত বাড়ির দুয়ারভরা ধুবরি আর মাঘী সইষ্যার পালা। হুকা দেওয়া সইষ্যার জ্বালায় খালি পাওয়ে হাঁটন দায়। পুলাপানের নরোম পায়ে বিন্দা পড়ে।

উহঃ কইরা চিক্যার দেয় আজিজ মাস্টরের পুলা রানা। এহনো দুধ ছাড়ে নাই, কিন্তু ছাড়ার কথা আছিল আরো দুই বচ্ছর আগে। কিন্তু মাস্টরের বউর বছর ঘুরতেই আরেক গেদি অওয়ায় লাভ হইছে ড্যাকরার। বইনেরে কেনি মাইরা নিজেই ঝাঁপিয়া পড়ে মাওয়ের নধর বুনিতে।

এতক্ষণ ঘুমিয়াই আছিল, গাড়ি বারিন্দায় ফালিয়া রাখা জলচকিতে। পুলাপানের উলাউলিতে ঘুম ভাঙছে। চোকে দুই ডলা মাইরা দেকে তাগো দুয়ারে পুলাপানের মেলা।

জলচকিথন নাইমা নৈড় দিয়া দুয়ারে নামে। হইষ্যা কাঁটা নরোম পাওর পাতায় ঘাঁই মারে। উহঃ কইরা চিক্যার দেয় ছ্যাড়া। কিন্তু পুলাপানের উলাউলিতে সে চিক্যার হারিয়া যায়।

মাস্টরের পুলাও ট্যাটন কম না, খাড়াইতে নিজেরে সামলিয়া নেয়। ন্যাটা দিয়া বইয়্যা ডাইন পাওডারে বাঁও পাওয়ের উপরে তুইলা বরই কাঁটার ন্যায় সইষ্যার কাঁটা ঝাইড়া ফালাইতে ফালাইতে ফোত ফোত কইরা কাঁন্দে, নাকে হিদ জইম্যা থাকায়।

পুলাপানের উলাউলি কী নইয়া ঠাহর করিতে এট্টু টাইম লাগে রানার। সবার চোখ আকাশমুখী থাকায় সেও চোখ মেলিয়া আকাশ দেখে। একটা না, দুইডা না, ঝাঁকে ঝাঁকে মুরগের ফৈড় চড়কির ন্যায় ঘুরিতে ঘুরিতে নিচে নামিয়া আসিতেছে।

মাস্টরের পুলার জল টলমলা চোকে মুরগের ফৈড়ালা পাকড়া গুটার ছবি আয়নার ন্যায় ফুটিয়া উঠে।

চড়কি মাটিতে গড়াইয়া পড়িলে পুলাপান পাছড়াপাছড়ি করিয়া উহাদের কুড়াইয়া ফির‌্যা ছুঁড়িয়া মারে। উহারা উড়িয়া চলিয়া যায় আকাশে। জোড়ায় জোড়ায় চোখ উহাদের নাই হওয়া দেখে। ফের ফিরা আইলে চড়কির ঘূর্ণিতে ওগো চোকও ঘুরপাক খাইতে থাকে।

একটা চড়কি রানার সামনেই পড়ে। থাফা দিয়া সে তা ধইরা ফেলে। চড়কির মূল মালিক এট্টু দূরে খাঁড়িয়া মালিকানা হারানির আশঙ্কায় পড়ে। মাস্টরের পুলা বইলা কথা। চাইলেই কাইড়া নেওয়া যায় না। তাই দূরে খাঁড়িয়া কারবার দেখে।
চড়কি হাতে পাইয়া রানা সকল ব্যথা ব্যাদ্না ভুইলা লাফ দিয়া খাঁড়ায়। অন্যগো দেখাদেখি সেও উহা ছুঁড়িয়া মারে। কিন্তু চড়কি আকাশে না গিয়া মাথার দুই তিন হাত উপরে উঠিয়াই নামিয়া পড়ে।

ইহা দেকিয়া চড়কির মূল মালিক খিক খিক করিয়া হাসে। আইগিয়া কাছে আইসা রানার হাত থিকা চড়কি নিয়া কহে, ওমনে না, এমনে। কইয়া মূল মালিক চড়কি আকাশে ছুড়িয়া মারে।

কিন্তু মালিকানা হাতছাড়া হইয়া যাওয়ায় রানা এইবার মাটিতে গড়ান দিয়া কান্দন শুরু করে। ব্যাপারটা আগেই বুঝবার পারছিল ছ্যাড়া। তাই নৈড় দিয়া পুলাপানের ভিড়ে ঢুইকা যাইতে দেরি করে না আর।

কিন্তু মাস্টরের পুলার গৈড় পাইরা কান্দনে অন্য পুলাপানও ডরাইয়া যায়। তারা চড়কি খেলা বাদ দিয়া পুব ভাগে পলাইয়া যায়।

পুব ভাগে বিরাট খেড়ের পালা, সেইখানে তারা পাহাড়ে চড়ার আমোদ নিয়া পালার উপরে উঠিতে থাকে। উপরে উঠিয়া লাফ দিয়া নিচে নামে।

নতুন এই খেলায় আমোদ আরো বেশি। তুমুল উত্তেজনা লইয়া পুলাপান পালার উপরে ওঠে এবং লাফ দিয়া নিচে নামিয়া পড়ে।

মাস্টরের পুলার গড়াগড়ি পাইড়া কান্দনটাই সার হয়, কেউ তারে ধরেও না, চড়কিও আনিয়া দেয় না। ফলে তার কান্দনডা আর জমে না। তাই কান্দন ভুইলা এক ফাঁকে চাইয়া দেখে তাগো দুয়ারে আর কেউ নাই। পুবভাগ থিকা উলাউলির আওয়াজ ভাসিয়া আসে।

কান্দন ভুইলা সে পুবভাগে দৌড় মারে। যাইয়া দেখে পুলাপান খেড়ের পালার মাথায় উঠিয়া লাফ দিয়া নিচে নামিয়া পড়িতেছে।

এই খেলাও তার মনে ধরে। সেও খেড়ের পালার পাহাড়ে উঠতে যায়। খেড়গুলারে চুলের মুঠির মতো ধইরা ধইরা ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকতে থাকে। কিন্তু কিছু দূর উঠিয়াই চুলের মুঠি ছাড়িয়া দিলেই ছর ছর কইরা নিচে নাইমা আসে।

এ এক মজার খেলা। একবার ওঠা, আরেকবার নামা। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর রানাও পালার মাথায় উইঠা পড়ে। উইঠা তার দুনিয়াডারে কেমন ছোট ছোট লাগে। আকাশটা য্যান মাথার একটু উপরেই। এক লাফের জায়গায় দুই তিন লাফ দিলেই ধরা যাইব তারে।

পুব ভাগের চৌরি ঘরের চাল দেখা যায়। চালে শুইয়া আছে বরই গাছ, তার অসংখ্য ডাইলপালা, পাকা পাকা বরই। যা নিচ থিকা দেখা যায় না। শিমগাছ, তার বেগুনীফুলগুলা।

মাস্টরের পুলা চারপাশটা একটু একটু দেখতে থাকে, কিন্তু পারে না বেশিক্ষণ। পুলাপান হুড়াহুড়ি লাগাইয়া দেয়, তারা উপরে উইঠা জাম্প দিয়া নিচে নাইমা যায়।

দেখাদেখি মাস্টরের পোলাও জাম্পের প্রস্তুতি নেয়। ওয়ান টু থিরি। যেনবা অনন্তকাল শূন্যে থাকিয়া মুরগের ফৈড়ের ন্যায় মাটিতে গোত্তা খায়।

আর তখনই সে টের পায় তার বাঁও হাতটা বাঁইকা গেছে। কী এক অভাবিত বোধ তারে ঘিরিয়া ধরে, তার নিঃশ্বাস বন্ধ হইয়া আসে।

ম্যালাক্ষণ বাদে যখন সে নিশ্বাস নিতে পারে, তখন তার আর্তচিৎকারে পুব ভাগ হইতে মেহেদীর নানী ছুটিয়া আসে। কিছুদিন আগেই সে তার মেয়ে ও নাতি নাতকোরদিগকে দেখিতে দূরপাশা হইতে গোড়ান আসিয়াছে।

মেহেদীর নানী রানার বুক দুইয়া দিতে থাকে, সুরা পড়িতে পড়িতে। নিঃশ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হইয়া আসিলে রানার চিৎকার বাড়িয়া চলে।

নানু আমার নানু কী হইছে আপনের? বলিয়া মেহেদীর নানী রানার বাঁও হাত দেখিয়া চমক্যা উঠে। সে হাতটারে সোজা করিতে চায় কিন্তু পারে না, উপরন্তু উহা ফুলিয়া উঠিতে থাকে।

শুনিয়া আজিজ মাস্টর স্কুল হইতে ছুটিয়া আসে। আইসা দেখে পুত্রর বাঁও হাত ফুলিয়া ঢোল হইয়া গেছে। তাহারে জলচৌকিতে শুয়াইয়া মাথায় পানি ঢালিতেছে, তার চাচাত ভাই হুমায়ুনের শ্বাশুড়ি, মেহেদীর নানী। উৎসাহী পুলাপান গোল হইয়া তাহাই দেখিতেছে, কোনোরূপ গোল না করিয়া।

আজিজ মাস্টর সময় নষ্ট না করিয়া একখানা বাঁশ কাটিয়া বাতি বানাইয়া তাহা দিয়া পুত্রর হাত যথাসম্ভব শক্ত করিয়া বাঁধিয়া দেয়।

সন্ধ্যায় অফিসথন রানার আম্মা আসিয়া আরেক দাবার চিকরাচিকরি শুরু করে। আব্বা আপনের কী হইছে? কী হইছে আপনের? আমার সোনা আব্বা, আপনে কিসের নিগ্যা খেড়ের পালায় উঠছিলেন? বইলা হাউমাউ কইরা কান্দে।

আজিজ মাস্টর জলচৌকিতে বইসা থাকে, গ্রামের লোকেরা তারে ঘিরিয়া থাকে, নানা কথা জিগাশ করে। সে কিছুর জব দেয়, কিছুর দেয় না। গ্রামের লোকেরা তার থমভাব বুঝিয়া নিজেরাও থম মারিয়া থাকে। কেহবা আবার নিজেরা নিজেরা প্যাচালে মগ্ন হইয়া পড়ে।

সারা রাইত কোনোভাবে কাটতে না কাটতেই সক্কাল বেলা তিনজনে ম্যালা করে মির্জাপুরে, কুমুদিনী হাসপাতালে।

হাসপাতালে ম্যালা মানুষ, সবাই অপরিচিত। তারই মাঝে একটা লোকে আজিজ মাস্টররে ডাকে, দুলা ভাই কেমুন আছেন?

আজিজ মাস্টর আইগিয়া যায়, আপনে এইখানে?

রানার আম্মা রানারে কয়, হাফিজার আব্বা।

হাফিজার আব্বা কয়, আমার ওসুক, ডাক্টারেরা কইছে, নাড়ে প্যাঁচ নাগছে।

আজিজ মাস্টর আহারে কইয়া সহমর্মিতা প্রকাশ করে।

হাফিজার আব্বা আরো জিগায়, আমনে এনু কিসের নিগা আইছেন?

আর কইয়েন না, আপনের ভাইগনার হাত ভাঙছে। কইয়া আজিজ মাস্টর তাড়াহুড়া করে, আসি তাইলে? যাওয়ার সুমে দেখা করুমনে।

ঠিকাছে দুলাভাই, কইয়া হাফিজার আব্বা খালি গতরে নিস্পৃহ দৃষ্টিতে বসিয়া থাকে। তার নাড়ের প্যাঁচ ছোটার আশায়।

অপারেশন থিয়েটারে আজিজ মাস্টরের পুলা কেউরে কাছে ঘেঁষপার দেয় না। প্রথমে নাত্তি মারে নার্সরে। পরে এক শিক্ষানবিস ডাক্টার তারে ধরবার আইলে তারেও নাত্তি মাইরা বসে। ডাক্টার পিছিয়া যাওয়ায় নাত্তিডা অল্পের নিগা নাগে না।

এমতাবস্থায় ডাক্টার নার্সেরা একজন আরেকজনের মুখি তাকাবুকি করে। তখন মূল সার্জন হাতে একটা ফোরসেপ তুলিয়া লয় আর মুখ দিয়া চুক চুক শব্দ করিয়া মাস্টরের পুলার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ছুরিমুখি তাকাইয়াই মাস্টরের পুলার হাতপাও ছোড়াছুড়ি বন্ধ হইয়া যায়, ডরাইয়া স্থির হইয়া পড়ে। আর এই সুযোগে কেউ একজন তার মুখে ক্লোরোফর্মের মাস্কটা লাগাইয়া দেয়।

মাস্টরের পুলা অন্য পৃথিবীতে চলিয়া যায়, যে পৃথিবীতে পাকড়া গোটা মুরগের ফৈর হইয়া উড়িয়া চলে।

রানাও মুরগের ফৈড়ের ন্যায় উড়তে উড়তে এক আকাশ হইতে আরেক আকাশে যাইতে থাহে। তারপর একটা গভীর জঙ্গলে নামিয়া পড়ে। জঙ্গলের ভিতর দিয়া যাইতে যাইতে হঠাৎ একটা সুরঙ্গ দেখিতে পায়।

এই সময় কে যানি তারে ডাকে, আব্বা ওঠেন ওঠেন... আপনের হাত ভালো হইয়া গেছে।

রানার উঠতে ইচ্ছা করে না। সে সুড়ঙ্গের ভিতরেই থাকিতে চায়। কিন্তু আজিজ মাস্টর ছাড়ে না, আব্বা দেখেন দেখেন, আপনের নিগা কতডি চলকেট আনছি।

চলকেট নাকি আজিজ মাস্টরের ধাক্কাধাক্কি রানারে সুড়ঙ্গ হইতে টানিয়া আনে। উঠিয়া দেখে সে একখানা স্ট্রেচারে শুইয়া আছে। তার বাঁও হাতে প্লাস্টার করা, খালি গা। তার শরম করে।

রানার মা তার এক হাতে জামাটা পরায়, বাঁও হাত গজ দিয়া গলার সাথে ঝুলাইনা।

রানারে কোলে লইয়া আজিজ মাস্টর হাসপাতাল থিকা বাইরয়। নিচতালায় আইসা হাফিজার আব্বার নগে ফের দেখা হয়।

দুলাভাই আমার নিগা দুয়া কইরেন। ছলছল চোখে চাইয়া থাকে হাফিজার আব্বা। তার ফর্শা শইল শুকাইয়া দড়ি হইয়া গেছে পরাই।

হাসপাতালের সামনে শিশু গাছ, কৃষ্ণচূড়ারা ছায়া বিছাইয়া রাখাইয়া আছে। আজিজ মাস্টর রিকশা নেয়। তাহাদে পুলা আর বউরে লইয়া ম্যালা করে মির্জাপুর বাসট্যান্ডে। রানার বাঁও হাত ঝুইলা থাকে বুকের কাছে।

গাড়ি ঘোড়ার ন্যায় দৌড়ায়। চৈত মাসের গরমে যাত্রীরা বাসাত না থাকায় জুবজুবিয়া ঘামে। কাটবডি বাসের নগে রাস্তার গাছেরাও দৌড়ায়।

পাকুল্যা বাজারে আইসা গাড়ি থামে। আজিজ মাস্টার নাইমা পড়ে, স্ত্রী পুত্রসহ।
তাহাদে বিাজার থিক্যা এক সের গুল্লা কিনে, রসগুল্লা। বউরে কয়, খাবা?

বউ কয়, না, থাইগ্গাছে। বাইত্তে যাইয়া খামুনি।

পুত্ররে জিগাশ করে, আব্বা আমনে একটা খাবেন?

রানার সুড়ঙ্গের ধ্যান্দাটা এখনো ছাড়ে নাই, খুন খুন কইরা কান্দে।

ফলে আজিজ মাস্টর নিজেই কয়, এহ বাইত্তে তো আইসা পড়ছি, আবর কান্দন কিসের?

রানা তেমু খুন খুন কইরা কান্দে। তার আম্মা তারে কোলে নিয়া বসে। আর কানে কানে কয়, কাইলকা নানীগইত্তে যামু। কান্দে নাছে।

নানীর বাড়ি যাওনের কথা শুইনা রানার চোখের সুড়ঙ্গে ঝিলিক মারে। তার খুন খুন কান্দন বন্ধ হইতে থাকে।

নানীগইত্তে যাইয়া শোনে হাফিজার আব্বা মইরা গেছে। পরের দিন তার লাশ আসে, তালাইয়ে মোড়া।

বিশার মাও আরো সপ্তাহানি আগেই মইরা গেছে।

রানা তার আম্মার কোলে বইসা দুধ খায়, না ভাঙ্গা হাত দিয়া বুনি ছানতে ছানতে। রানার আম্মার উঁকুণ বাইছা দেয় বিশার চাচতো বোইন সালেহা।

হইছিল কী, বিষ খাইল যে? রানার আম্মা জিগাশ করে।

প্যাট বাজছিল।

এল্লা! কস কী? ওই বুইড়া বেঠির!

হ, ওইডাই তো কইতাছে মাইনষ্যে।

তা ক্যারা বাজাইছিল?

চারাবাড়ির এক ছ্যারা। কামলা দিবার আইছিল ওগো বাইত্তে। এর মধ্যেই ঘটনা ঘইটা গেছে। বিশা রাইতে উইঠা বাঁশছুফে হাগবার যাইয়া মাওরে ওই ছ্যারার নগে দেখছে।

তারবাদে?

তারবাদে আর কী? পুলায় মায়ের নগে রাগ কইরা ঘরে দিছে ঝাঁপ, আর খুলে না। বিশার মাও দুয়ারে খাড়িয়া কান্দে। কিন্তু পুলায় আর ঝাঁপ খুলে না যে খুলেই না।

হুম।

ছ্যাড়ারই বা দুষ কী? কয়দিন পরে করব বিয়া, মার এই কীত্তিকলাপ কি সইয়া পারে?

তাতো ঠিকই।

হেই রাইতেই বিষ খায় বিশার মাও। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শ্যাষ। পরে ডাক্তাররা কয়, হ্যার প্যাটে বাচ্চা আছে, এক মাসের।

আহারে।

রানা দুধ খাইতে খাইতে সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়া হাঁটতে হাঁটতে মুরগের ফৈড়ের ন্যায় আকাশে উড়িতে থাকে।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;