পাতার ঘর



নাহার মনিকা
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

“বাগান বিক্রি করে দিব।”
“ওখানে তিহানকে নিয়ে যাব।”

রান্নাঘর থেকে শায়লা, আর শোবার ঘর থেকে আমি বেরিয়ে দুজনে মুখোমুখি হয়ে একযোগে কথা বলে বাক্যহারা হয়ে গেলাম!

শায়লা ওড়না মুখে চেপে কাঁদতে শুরু করল, যেন শব্দ না হয়, যেন তিহানের ঘুম ভেঙে না যায়। সে বাগান বিক্রির ঘোর বিরোধী।

তাহলে এখন কি উপায়? প্রবল মাথা নাড়ে সে, জানে না। সে শুধু ছেলেকে নিয়ে আব্বার বাগানে যেতে চায়।

এটা দুদিন আগে দুপুরের ঘটনা।

আমাদের গ্রামের বাড়ির পেছনে ফলফলাদির গাছ নিয়ে যে বাগানটা নোঙ্গর করা জাহাজের মতো নিঃশব্দ দাঁড়িয়ে আছে, আমার কখনো সেদিকটায় যাওয়ার আগ্রহ হয়নি। শায়লা আর তিহান মিলে সেই জাহাজটা সচল করে দিয়েছে। আমি এখন বাগানটাকে ভরসা করার মতো করে দেখছি।

লক-ডাউন উপেক্ষা করে অফিসে এসেছি। ইশতিয়াক স্যারও এসেছেন। স্টাফদের বেতন দেওয়ার আগে কিছু কাজ বাকি। ফাইলগুলো আমার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চান।

আজকে প্রথমবারের মতো হেঁটে অফিসে এলাম। শেষ কবে এতটা পথ হেঁটেছি, মনে নেই। মাস্ক মুখে, ক্যাপ, সানগ্লাস, ব্যাকপ্যাক নিয়ে বাইরে বের হওয়ার আগে ভেবেছি একটা রিক্সা অন্তত পেয়ে যাব। কিন্তু রাস্তা ফাঁকা, রিক্সা তো দূর মানুষই হাতে গোনা। কিছুদূর হাঁটার পর অবশ্য শরীরের ম্যাজম্যাজে ভাব কেটে গেল। রিক্সায় যে রাস্তা চল্লিশ মিনিট লাগে, সে পথে আধঘণ্টা হেঁটে অফিসের দরজায় পৌঁছে গেলাম! দুপাশের বাড়িঘর, গাছপালা দেখতে দেখতে রাস্তার পাশের একসারি দেবদারু গাছের কচি মসৃণ পাতায় চোখ আটকে গেল! আব্বা আমাদের বাড়ির সামনে দেবদারু গাছ লাগিয়েছিল। বাড়ির পেছনে বাগানেও কি ছিল?

ইশতিয়াক স্যার আগেই পৌঁছে গেছেন। এমন নিশ্চুম অফিসেও আগে কোনোদিন আসিনি। স্বাভাবিক সময়ের সরগরম পরিবেশ মাথার ভেতর ঢুশ দিয়ে যাচ্ছে। ফোন, কম্প্যুটারের ঘড়ি এখন আর সেকেন্ডের কাঁটা দেখায় না। আমি পালস দেখার মতো ধীরে ধীরে সেকেন্ড গুনি মনে মনে। এক গোনার পর নাতিদীর্ঘ একটি শ্বাস, বুড়ো আঙুল কব্জির কাছের নীলচে শিরাতে তিনটে আঙ্গুলে অল্প চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। দুই, তিন...পাঁচ। তিহান এভাবে শিখেছে তার দাদুর কাছে। আমি শিখেছি তিহানের কাছে।

এগারটা চল্লিশে ইশতিয়াক স্যার জুতার মচ মচ শব্দ তুলে অফিস থেকে চলে যাওয়ার আগে আমাকে বলবেন—“ফাহমিদ সাহেব আর ঘণ্টাখানেক থাকেন।”

কিন্তু আমার থাকতে হবে আরো ঘণ্টা তিনেক, আমি জানি। ইশতিয়াক মাহমুদের একঘণ্টা মানে আমার তিন ঘণ্টা। আশিদিনে ভূ-প্রদক্ষিণের কাহিনীর মতো আমার সময় পৃথিবীর গতির মধ্যে হাপিশ হয়ে যায়।

এখন মাত্র দশটা বেজেছে, আমি একটা-দেড়টার আগে বের হচ্ছি না। শায়লা পাথুরিয়া যাওয়ার গাড়ি ভাড়া করতে চাইছে আগামীকাল। আসলে আমারও যেতে ইচ্ছে করছে। যে ইচ্ছে আব্বা বেঁচে থাকতে তেমন একটা করেনি।

দেবদারু গাছের কি বনসাই হয়? তিহানের মামাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। তার বনসাইয়ের শখ এখন নেশায় রূপ নিয়েছে। বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে আনাচে কানাচে রকমারি বনসাই। বনসাই জিনিসটা শায়লা অপছন্দ করে। শ্লেষের কণ্ঠে ভাইকে বলে—“মানুষকেও তাইলে বাইন্ধা বাইন্ধা ছোট করে রাখার ব্যবসা খুলতে পারো। এত বড় ঘরবাড়ি লাগবে না। মুরগির খোপের মতো খোপ বানায়া ঢুকায় দিয়ো। গাছেদের যে কষ্ট হয় সেইটা কি সে বোঝে?”

শায়লা নাকি শৈশব থেকেই এমন গাছ পাগল মেয়ে। বন জঙ্গলে গেলে মাথা ঠিক থাকে না। তিহানের মামা গাছ নিয়ে বোনের নানা কীর্তি বলে, উলটো বোনকে খ্যাপায়—“কপাল খারাপ তোর, এই দেশে তো আর জঙ্গল নাই, সব সাফ। বনসাই ভরসা।”

গতকালকে সকালে তিহানের জ্বর আসেনি। ইলিশ মাছের ডিম দিয়ে ভাত খেয়েছে বলে শায়লাও খুশি। আমার কাছে ওকে ঘুম পাড়াতে দিয়ে সে বাথরুমে গোসল সারতে ঢুকল।

তিহানকে বুকের ওপরে নিয়ে চুলে বিলি কেটে দিচ্ছি, বড় হয়ে কী হতে চায়, এসব কুটুর কুটুর গল্পে এসে আমি বললাম—“তিহান, বাইশ বৎসর বয়েসের মধ্যে পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করতে হবে। তারপর তোমাকে বিয়ে করায় দিব।”

তিহানের ক্লান্ত কিন্তু তখনও উৎসাহী স্বর। বলে—“বাবা দাদুবাড়িতে বিয়ে করব? খুঁজতে হবে তো!” ছেলেটা দাদুকে ভুলতে পারে না। ওর শিশুমনের জন্য খুব তাজা স্মৃতি রেখে আব্বা না ফেরার দেশে চলে গেছে আজকে চারমাস।

আমার চোখে ঘুম নেমে আসছে, কিন্তু তবু সিরিয়াস কথা চালিয়ে যাই—“আমাদের দেশে পড়ালেখা করতে গেলে খালি খালি কতগুলি বছর নষ্ট হয়। ক্লাস ওয়ানে উঠতে প্লে-গ্রুপ, কেজি ওয়ান, কে টু কত হাবিজাবি! সিস্টেম লস। ছেলেমেয়েদের জীবন শুরু করতে ত্রিশ পয়ত্রিশ বছর বয়স হয়ে যায়। তুই একুশ বছরে পড়া শেষ করে বাইশ বছরে চাকরি পাবি। তারপর খুব ধুমধাম করে তোর বিয়ে দিব। বউ নিয়ে ব্যবিলন ঘুরতে যাবি।” হঠাৎ আমার ঘুমভাব চটে যায়। আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করি যে, এতক্ষণ ছোটবেলায় বলা আব্বার ছাড়া ছাড়া কথা ঘুরিয়ে বাড়িয়ে বলছিলাম!

“বাবা, শীত লাগে, বাবা পিঠে ব্যথা করে।” তিহানের সাত বছরের মসৃণ কপাল আগুন গরম, আবার জ্বর বেড়েছে। ও ঘুমিয়ে গিয়ে একটু পরে আবার ব্যথায় কঁকিয়ে জেগে ওঠে। শায়লা দৌড়ে এসে আমার কাছ থেকে প্রায় ছোঁ মেরে ওকে নিয়ে নিল। কম্বলে জড়িয়ে কোলে নিয়ে হাঁটে, আর নিজে গরমে ঘামতে থাকে। কালকে রাতে প্রায় সারারাত জেগে ভোরের দিকে ঘুমিয়েছে। বেরিয়ে আসার আগে ওকে জাগাইনি।

ফাইলগুলো গুছিয়ে নিয়ে বাসায় বসে কাজ করব। কিন্তু পারব কি? তিহান ওর বিছানা থেকে প্রায় নামেই না বলতে গেল, অথচ পুরো বাসা জুড়েই সে। কোথায় বসে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারব, ভাবছি। মনোসংযোগ করার দক্ষতা আমার আয়ত্তে ছিল, কিন্তু ইদানীং বড়শি ফসকে যাওয়া মাছের মতো চলে যাচ্ছে।

এখন আমার মন পরে আছে টিফিন বক্সের লাঞ্চে। আজকে অফিসে লাঞ্চ আনতে হলো। বাইরে দোকানপাট বন্ধ, খোলা থাকলেও খাওয়া চলবে না। মিষ্টিকুমড়া নিরামিষে কালোজিরা আর রসুনের ফোঁড়ন। শায়লা আগে রুটি দিয়ে দিত, কিন্তু আজকে ভাত নিয়েছি আমি। ফ্রিজ খুলে একটা বালুসাইও এনেছি। তিহানকে দেখতে এসে ওর মামা দু সপ্তাহ আগে এনেছিল। তখন আমরা ওর পাসপোর্ট করার কথা বলছিলাম। দেশে না। মুম্বাই, না কি ঠাকুর পুকুর যাব, এইসব। ওর মামা বলছিল একেবারে বাম্রুনগ্রাদ নিয়ে যেতে। ব্লাড টেস্টের পর শিশুরোগবিশেষজ্ঞ আরো কতগুলি টেস্টের সঙ্গে বায়োপসি করতে দিলেন, তখন থেকে আমরা অস্থির হয়ে আছি, কোথায় নিয়ে যাওয়া যায়। এখন ঘরবন্দী দিনে দেশের ডাক্তার হাসপাতালই ভরসা। তাই এসব আর বলে লাভ নেই, বলি না। কিন্তু বিরতিহীন ভাবছি, যাব। কিন্তু যাওয়ার জন্য রসদ চাই।

বাড়ির পেছনের বাগান বেচে দেয়ার কথা শুনে শায়লা কাঁদতে শুরু করল। আব্বা কোনো কোনো ভয়াবহ বিপদেও এই বাগান বিক্রির কথা ভাবেনি, সে শুনেছে সেসব গল্প। গাছগুলো তিহান আর তার দাদুর যৌথ স্মৃতি। হেন ফলের গাছ নেই যা আব্বা লাগায়নি। একটা ভালো জাতের পেয়ারা চারা আনতে আরেক জেলায় গেছে।

আমি ধমক দিলাম—“এই সময়ে কিছু বেচব বললেই কি বিক্রি করা যায়? গাহেক পাব?”
“তিহান ঐখানে গেলে ভালো হয়ে যাবে।”
“বেকুবের মতো কথা বলবা না”—একথা শায়লাকে বলি না। ওইই ঠিক এটা বিশ্বাস করতে মন চায়।

এসব কথা তখন এক কান দিয়ে শুনে অন্য কানে যাতায়াতের পথে যেটুকু অবশিষ্ট থেকেছে, তা-ই এখন তিহানকে শোনাই।

অথচ আমি যখন হাইস্কুলে, পরিষ্কার সাদা ড্রেস, জুতো মোজা পরে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে আম্মা আঁচলে হাত মুছে কপালে চুমু খেয়ে বিদায় দেয়ার সময় আব্বা পেছনবাড়ির দরজা থেকে সুড়ুক করে হাজির হতো। তার কাদামাখা পা, হাতে মাটির দলা, দাড়িগোঁফেও আগাছা ঘাস লেগে আছে। আমার ধোপদুরস্ত কাপড় জামার পাশে আব্বা ছিল দূরের, অনাত্মীয়ের মতো। টিফিনের জন্য লুঙ্গির খুট খুলে আধময়লা টাকা দিলেও আমি বিরক্ত হতাম। হাতে ধরে আমার টিফিনের জন্য আনা গাছপাকা কোনো পেয়ারা বা আতাফল নেওয়ায় কোনো আগ্রহ ছিল না আমার।

আব্বা কি আমার মনের ভাব টের পেত? তার মুখের ওপর কড়া রৌদ্রে আচমকা মেঘের মতো একটা পাতলা ছায়া এসে নামত। বুঝতে পারলেও পাত্তা দিইনি।

আমার সঙ্গে আব্বার দূরত্বকে নিকট বানিয়ে নিয়েছিল শায়লা।

দু বছর আগে অফিসের ট্রেনিংয়ে সিঙ্গাপুর গেলাম। শায়লা বায়না ধরল পাথুরিয়ায় গিয়ে থাকবে। তিহানের স্কুল? সে নিজেই পড়াবে। দাদুর সঙ্গে নাতির প্রকৃতি পাঠ হবে। স্কুলে পিছিয়ে যাওয়ার ঘোরতর বিরোধী আমি, কিন্তু শায়লা শুনলে তো! একবছর না কি দেখতে দেখতে কেটে যাবে, এটা নাকি তিহানের জন্য বিরাট সুযোগ। অবশ্য ঢাকায় একা বাসায় মা ছেলে থাকার চেয়ে গ্রামের বাড়ি নিরাপদ, এই যুক্তি মেনে নিতেই হলো। ভাইয়ের বাসায় কিছু জিনিসপত্র রেখে তারা পাথুরিয়া গেল।

সেই একবছরে মুখচোরা লাজুক ছয় বছরের ছেলেটা দিন দিন দুরন্ত হয়েছে। শায়লা খুশিতে ডগমগ করতে করতে খবর দিত—আজকে তিহান নারকেল গাছ বেয়ে ওপরে উঠেছে। দাদুর সঙ্গে খেজুর গাছ থেকে রসের হাড়ি নামিয়েছে। পরেরদিন, সে ভাত খায়নি, বড় এক ফজলী আম একবসায় খেয়ে ঘুম দিয়েছে। সাঁতার শিখছে! দাদুর সঙ্গে মাছ ধরতে গেছে। নাতির জন্য খেলনা কাস্তে এনেছে দাদু, ক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছে। সফেদা ফল খেতে ভালোবাসে বলে গাছের সব ফল পেড়ে খাটের নিচে রেখে দিয়েছে। কাদামাটি মাখা তিহানের ছবি তুলে পাঠায় শায়লা। আমি রাগ করতে গিয়ে নিজেকে সংবরণ করি। আর মাত্র কয়েকটা মাস, তারপর পাথুরিয়া যাওয়া বন্ধ। পড়ালেখা বাদ দিয়ে যত্তসব হাবিজাবি শেখায় উৎসাহ।

এক বৎসরকাল দাদুবাড়িতে কাটিয়ে তিহান ফলের বাগান সমন্ধে রাজ্যের তথ্য নিয়ে ফিরেছে। ওর অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমার অনীহাপ্রসূত স্মৃতি জোড়াতালি দিতে গেল ধরা পড়ে যাই।

তিহান ডাইনে বাঁয়ে মাথা দোলায়, বলে—“হলো না বাবা, আরেকটু ঐদিকে, লম্বা কদবেলগাছের পাশে দাদুর যে মিস্রিদানা আম আছে না? তারও আরেকটু পরে মিষ্টি জামগাছ। ঐ জাম খেয়ে আমি আর দাদু জিভের রঙ বেগুনী করে ফেলতাম।”

আমার স্কুলজীবনে ঐ জামগাছটা কি ছিল?

“আর তুমি তো আমাদের পাতার ঘর দেখোই নাই। দাদু ঐ জামগাছের নিচে একটা সত্যি সত্যি সবুজ পাতার ঘর বানায় দিছিল আমাকে! আমরা ওখানে দুপুরে ঘুমাইছি। ঝি ঝি পোঁকা কানে তালা লাগায় ডাকত। দাদু আমাকে নারকেল পাতা দিয়ে কত কিছু বানায় দিত! ঘড়ি, আংটি, মুকুট। আর বলত—আমি হচ্ছি পাতা রাজকুমার, হি হি হি।”

ঐ ঘর আছে এখনো?

জাহান্নামে যাক বাগান। বিক্রির বাজারদর যাচাই করতে এখানে সেখানে ফোন করি। যত দ্রুত পারা যায় বিক্রি করতে হবে। তিহানের ডাক্তার চেম্বারে বসছে না। ফোন করলে ধরছেও না।

পিজি হাসপাতালে শায়লার ভাইয়ের বন্ধুর পরিচিত ডাক্তার আছে, তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছি।

এগারোটা পঁচিশ। অফিসের সময় কি নড়ছে না? অনেকদিন হলো হাতঘড়ি পরা ছেড়ে দিয়েছি। হাতঘড়ি তিহানের খুব পছন্দ। সিঙ্গাপুর থেকে ওর জন্য একটা ক্যাসিও ঘড়ি এনেছিলাম। মিনিটের পর সেকেন্ডগুলি লটারি খেলার স্লট মেশিনের বলের মতো সরসর করে নেমে যায়। আজকাল ঘড়িটা নিয়ে তিহান বিছানার ঠিক মাঝখানে বসে। চারপাশে অনেকগুলো হাবিজাবি খেলনা ছড়িয়ে রাখে, স্পাইডার ম্যান, লোগোর বাক্স। একেক সময় সে তার ঘড়ির ছোট নীল রঙ প্লাস্টিকের ডায়ালের দিকে পলক না ফেলে চেয়ে থাকে। তখন মনে হয় যে, সাত না। ওর বয়স অনন্তকাল। আগের মতো খেলার জন্য হুটোপুটি করে না। ফ্যানের বাতাসের সঙ্গে সখ্য করতে বাইরের বাতাস উড়ে এসে ঢোকে। বারান্দার গ্রিলে অহেতুক একটা ধূসর পাখি এসে বসে। গুরুক গুরুক ডাকে। তিহান চমকে একঝলক দেখে। তারপর আবার ঘড়ির ডায়ালে চোখ ফেরায়।

দুদিন হলো ঘড়িটায় সেকেন্ডের সংখ্যাগুলো ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আগের মতো গড়গড়িয়ে জলপ্রপাতের মতো নামছে না। কোনোভাবে পানি ঢুকে গেছে কি? তিহানের ফুসফুসের মতো! ওর মিনিট থেকে সেকেন্ডের সংখ্যাগুলি নাই হচ্ছে?

তিহান কালকে রাতে কিছু খেতে চাইছিল না। শায়লা খাবার নিয়ে যতবার মুখের কাছে ধরছে, ততবার সে বাঁ হাত দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছিল। ওর ছলছল চোখে বুকভর্তি বিতৃষ্ণা। অনেকক্ষণ ধৈর্য্য ধরে একসময় শায়লা আবারও ওড়নায় চোখ চেপে শোবার ঘরে ঢুকে গেল শায়লা।

কিছুসময় পরে শান্ত হয়ে ফিরল। ছেলের কাছে বসে বলল—“দাদুবাড়ি যাবি?”
তিহানের চোখ যেন চকচক করে উঠল!

“আমি ভাইয়াকে বলছি গাড়ি ভাড়া করতে। আমরা পাথুরিয়া যাচ্ছি।” তারপর স্যুটকেস নামিয়ে কাপড় গুছিয়েছে শায়লা।

এগারোটা পয়তাল্লিশ বাজল। ইশতিয়াক স্যার বেরিয়ে গেল। এবার আমি একহাতে টিফিনবক্স খুলি।

অন্যহাতে একটা করে অক্ষর টিপে বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি টাইপ করতে থাকি “এক বিঘা জমিতে অতি যত্নে তৈরি ফলদায়িনী গাছভর্তি বাগান বিক্রি হবে। ”

ভাত খেতে ইচ্ছে করছে না। একপাশে সরিয়ে রেখে শুরুতেই বালুসাইতে কামড় দিলাম। চিনির সঙ্গে দাঁতের ফাঁকে বালু কড়মড় করে উঠল।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;