জিপার



আন্দালিব রাশদী
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

জায়গাটা ঠিক ধানমন্ডিতে নয়, কিন্তু ধানমন্ডি দাবি করতে করতে একসময় সিটি কর্পোরেশন মেনে নিয়েছে, ঠিক আছে, পশ্চিম ধানমন্ডি। সাতমসজিদ রোডের পশ্চিমে, শঙ্কর প্লাজা ঘেঁষে সামনে কিছুটা এগিয়ে খুশবু রেস্তোরাঁ আর একাধিক বিরিয়ানি হাউস ডিঙ্গিয়ে বামদিকে অন্তত পঞ্চাশ গজ এগিয়ে আবার বামে। হোসেন আলী গার্লস স্কুল পেরিয়ে পশ্চিম ধানমন্ডি ইউসুফ হাইস্কুল লাগোয়া বাড়িটা পাকিস্তান আমলের। ভাইবোনদের গোলযোগের কারণে ডেপেলাপার এসেও ফিরে গেছে। পরিবারের মধ্যে এর বিরুদ্ধে ওর প্যাঁচ লাগিয়ে যে বোনটি সমস্যা জিইয়ে রাখত ক’দিন আগে একটি ভয়াবহ স্ট্রোক তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছে, আর কথা এতটাই অস্পষ্ট হয়ে গেছে যে ভাইবোনেদের কেউই বুঝতে পারছে না, ফলে নিজেদের মধ্যকার বিরোধের তীব্রতা কমে এসেছে, সবাই ডেভেলাপার ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে। আলাপ-আলোচনা—বিশেষ করে সাইনিং মানি কত হবে, অ্যাপার্টমেন্ট ভাগাভাগির অনুপাত ষাট চল্লিশ নাকি পঞ্চাশ পঞ্চাশ তাও অনেকটাই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। হস্তান্তর দেরি হচ্ছে কারণ মন্টুর বিয়েটা ভাড়া বাড়িতে হোক এটা বাবা চাচ্ছেন না।

মন্টু দেড়মাসের ছুটিতে নিউজিল্যান্ড থেকে এসেছে। খুকুর ছবি দেখেই বলেছিল, দারুণ তো।

মন্টু গত দশবছরে সাতবার দেশে ফিরেছে, অনুপস্থিতির সময় তার নিচতলার রুমটা হাতছাড়া হয়ে গেলেও ফেরার তারিখ সাব্যস্ত হলে বাবা রুমটাতে ঝাড়পোছ করাতেন, বিয়ে সামনে রেখে এবার ভালোরকম চুনকামও করিয়ে দিয়েছেন।

মন্টুর বড়বোন ঝর্ণা আপু এবার সতর্ক—মন্টুকে পাত্রীর সাথে কথা বলতে দেবেন না। কথাবার্তা বললেই মন্টু সব গুলিয়ে ফেলবে যেমনটা করেছে আগেরবার, প্রায় দেড় বছর আগে। বাবার কলিগের মেয়ে মাফরুহাকে প্রায় সবাই পছন্দ করেছিল, মন্টুও নিজেও। গায়ে হলুদের ঠিক আগের দিন ঝর্ণা আপুকে বলল, আমি মিথ্যে দিয়ে জীবনটা শুরু করতে চাই না। মাফরুহাকে দশ মিনিটের জন্য হলেও আমার সাথে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলার একটা স্কোপ করিয়ে দাও। আমি কথাটা বলি।

ঝর্ণা বলল, তুই আমাদের আয়োজনটা নষ্ট করে দিবি। একটা ভালো মেয়ে হাতছাড়া হয়ে যাবে।

মন্টু বলল, ভেবো না আমি খুব সামলে বলব।

ধানমন্ডির পুরনো ২৭ নম্বর, নতুন ১৬ নম্বর রোডে কফি ওয়ার্ল্ডে দুজনের মোলাকাত সাব্যস্ত হয়। দুজন এক টেবিলে বসবে, খানিকটা দূরে অন্য একটি টেবিলে মাফরুহার ছোট মামী ও ঝর্ণা বসে কফি খাবে, একটুখানি গপসপ করবে।

দুজনই পূর্ব পরিচিত। বিসিএস পরীক্ষা দেবার জন্য দুজন একই জায়গায় কোচিং করেছে এবং দুজনের কেউই প্রিলিমিনারি পর্বও ডিঙাতে পারেনি। দুজনের কেউই অন্য কোনো চাকরিরও চেষ্টা করেনি। মাফরুহার ছোট মামী আমেরিকায় মাইগ্রেট করবে, কাগজপত্র পাকাপাকি করছে আর ঝর্ণার স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে, এখন স্টেজ টু-তে, নিজেই বলেছে পুরোপুরি সেরে যাবার নিশ্চয়তা না পেলে কোনো চাকরিতেই যাবে না বাসায় থাকবে, খাবে ঘুমাবে, তারপর মারা যাবে; ক্যান্সার আর জায়গা পেল না—একেবারে ব্রেস্টে ধরেছে!

ঝর্ণা ও মাফরুহার ছোট মামী কেবল কফিতে চুমুক দিয়েছে, মাফরুহা হঠাত্ চিত্কার করে মন্টুকে চিট, ফ্রড, ইমপোস্টার—এসব গাল দিতে শুরু করল এবং আরো বলল সাধু সেজে বিয়ের প্রস্তাব দেবার জন্য তাকে এখনই পুলিশে সোপর্দ করা উচিত।

মন্টু কিছু বলতে চাইছিল, মাফরুহা বলল, ইউ শাট আপ।

এমন খোলামেলা কাফেতে মন্টু মাফরুহার গায়ে হাত দিয়েছে এমন মনে করার কারণ নেই, কিন্তু কাফের লোকজন যেভাবে যেভাবে মন্টুর ওপর দৃষ্টি ফেলছে যে কারোরই মনে হবে তারা জীবনে প্রথম একজন ধর্ষণকারীকে এত কাছ থেকে দেখছে।

ওহ্ মাই গড, রেইপিস্ট।

মাফরুহা হাইহিলের খট খট শব্দ তুলে বলল, চললাম।

তার ছোট মামী দুশো টাকা দামের কাপোচিনোতে আর একটি কেবল চুমুক দিয়ে তার পেছন পেছন ছুটল।

ঝর্ণা মন্টুকে জিজ্ঞেস করল, কী রে কি ঘটল?

মন্টু বলল, আল্লাহ বড় বাঁচা বাঁচিয়ে দিয়েছেন। শি ইজ অ্যা ক্র্যাজি ওমেন। থ্যাঙ্ক ইউ আপু, ভাগ্যিস এই সিটিংটা অ্যারেঞ্জ করেছিলে, নতুবা আমার লাইফটা হেল হয়ে যেত।

কিন্তু এবার কী হবে?

মন্টু রাজি হলো পাত্রীর সাথে কথা বলে পরিস্থিতি জটিল করে তুলবে না, কিন্তু পাত্রীকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি দেবে যা কেবল পাত্রীই দেখবে। সিদ্ধান্ত নিয়ে খামবন্ধ সেই চিঠি পাত্রীর হাতে দেবার দায়িত্ব ঝর্ণাই নিল।

খুকুর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে মধ্যরাতে পাত্রপক্ষের যেসব বন্ধু ও স্বজন ফিরে এলো তাদের চোখেমুখে আনন্দ। গায়ে হলুদ দেবার সময় মেয়েটাকে একটু হলেও ছুঁয়ে দেখা যায়। যারা তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছে এবং হলুদ দেবার নাম করে আলতো করে ছুঁয়েছে, তাদের সবাই বলেছে, দারুণ দেখতে, এ ডাবল প্লাস। খুকুর গায়ে হলুদেই যে জাঁকালো অনুষ্ঠান করা হয়েছে পাত্রপক্ষ বৌভাতেও এত বড় আয়োজন করতে পারবে না। ধনী পরিবারের মেয়ে, তার উপর সুন্দরী। খুকুর গালে ও কপালে এক চিমটি হলুদের ছোঁয়া দিয়েছে মন্টুর সবচেয়ে বড় বোনের মেয়ে টুশি।

টুশি আগে পাশের কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছে, মামী কি সত্যিই এত সুন্দর!
একটু মেকআপ তো আছেই, কিন্তু গালটা এমন তুলতুলে করল কিভাবে?

যারা ভিডিও করেছে, ক্যামেরায় স্থিরচিত্র ধারণ করেছে, সেলফোনের ক্যামেরায় যারা খুকুকে টার্গেট করেছে সকলেই যার যার ছবির সংগ্রহ মন্টুর ডেস্কটপ কম্পিউটারে ডাউনলোড করে দিয়ে গেল। চলমান ছবি আর স্থির ছবি দেখে দেখে মন্টু বাকি রাতটা অবলীলায় পার করে দিতে পারবে। সকালের নাস্তা সেরে একটা ঠান্ডা ঘুম দেবে।

একজন পুরুষ মানুষের জন্য সুন্দরী স্ত্রীর অধিকারী হবার মতো গৌরবের আর কিছু নেই। রুমের দরজা বন্ধ করে কম্পিউটারের স্ক্রিনে খুকুকে দেখে মুগ্ধ হয় এবং একসময় স্বগতোক্তি করতে থাকে: তুমি কত সুন্দর!

মন্টু তার দেখা সুন্দরী তরুণীদের চেহারা মনে করতে থাকে। বন্ধু, আত্মীয়, পরিচিত, অপরিচিতজনের স্ত্রীদের কাল্পনিক ছবি একে একে খুকুর পাশে পেস্ট করে এবং বলে, ধারে কাছে আসার মতোও নয়, একজনও না।

জুম করে খুকুর মুখমণ্ডলের প্রতিটি অংশ বর্ধিত আকারে কম্পিউটারের পুরো পর্দায় দেখে খুঁত বের করতে চেষ্টা করে। সকাল নাগাদ নিশ্চিত হয় খুকুর বাম চোখ একটু ট্যারা। যারা খুকুর গালে ও কপালে হলুদ লাগিয়েছে তাদের কেউ এ কথাটি বলেনি।

একটুখানি ট্যারা চোখ, এক গালে টোল, একপাশে গেজ দাঁত এমনিতেই নারীর চেহারায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে। আর সে নারী যদি দেখতে সুন্দর হয়, তার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়।

নির্ঘুম রাতটি পেরিয়ে যায়, সূর্য উঠি উঠি করছে—তার মনে হলো কোথায় সে খুকুর সৌন্দর্যে বুদ হয়ে থাকবে—তা না করে চেহারার খুঁত আছে কিনা তা বের করতে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে। মন্টুর ছিদ্রান্বেষী স্বভাবটা পুরনো। সামনাসামনি একজন সিনেমার নায়িকাকে দেখে এসে বাসায় বলেছে, চেহারা ঠিকই আছে, কিন্তু নাকের ভেতর একটা চুল দেখতে পেয়েছি।

কলিং বেলটা তখনই বাজল।

এত সকালে তো কারো আসার কথা নয়। গ্রামের আত্মীয়দের কেউ হতে পারে, বাবা হয়তো তাদের দাওয়াত দিয়েছেন—মন্টুর বিয়েতে তোরা আসিস কিন্তু।

দরজার কাছে গিয়ে অভ্যাসবশত বলে উঠল, কে?
ভাই আমি, দরজাটা খুলুন।

অবশ্যই নারীকন্ঠ। আশি কি নব্বই হাজার জনে নারীকণ্ঠী দু’একজন পুরুষেরও দেখা মেলে।

আবারও সেই কণ্ঠ শোনে। মন্টু নিশ্চিত, এটা অবশ্যই নারীকণ্ঠ। নারীকণ্ঠের কিছু তাত্ক্ষণিক সতর্কীকরণ প্রতিক্রিয়া রয়েছে: মন্টু তুমি খালি গায়ে পরনে লুঙ্গি, মন্টু তোমার বিছানা ভীষণ অগোছালো, মন্টু টেবিলের ওপর তোমার মোজা ও আন্ডারওয়্যার কেন? মন্টু কমোডে সিগারেটের বাট ও ছাই ভাসছে—এখনই ফ্ল্যাশ করো, লুঙ্গি ছেড়ে প্যান্ট পরো, মোজা আন্ডারওয়্যার লুকোও, খালি গায়ে থেকো না, অশ্লীল দেখায়। পুরুষ কেউ হলে খালি গায়ে সমস্যা হতো না। যা কিছু করার তাড়াতাড়ি করো।

একটু কালক্ষেপণ করার জন্য মন্টু আবার জিজ্ঞেস করে, কে?
ভাই আমি, বলছি। খুলুন, আমি।
আমি! আমি আবার কে?
প্লিজ দরজাটা খুলুন।

কিছু কথা মন্টু বোকার মতোই বলে। এটা না বললেও চলত, তবুও বলল, একটু অপেক্ষা করুন, আমি খালি গায়ে, আগে শার্ট পরে নিই।

দরজার ওপাশ থেকে তাত্ক্ষণিক জবাব, আমি খুকু, আপনি যদি মন্টু হয়ে থাকেন, আপনাকে খালি গায়ে দেখলে অসুবিধা নেই।

তার মানে, সে যদি মন্টু না হয়, তাহলেই কেবল তার খালি গা ঢাকার ব্যাপার আসবে। কিন্তু মন্টু হলে তাকে যে কোনো অবস্থায় দেখার ওজিএল—ওপেন জেনারেল লাইসেন্স তাকে দেওয়া হচ্ছে। কাজেই একটু আগাম সে দেখতেই পারে।

দুই.
দরজায় অপেক্ষমাণ খুকু কে হতে পারে তা সে আঁচ করতে পারবে না মনে করার কারণ নেই।
মন্টু চারজন খুকুকে কমবেশি চেনে। দুজনকে ভালো করে। দুজনকে কম কম—একজনকে লাইভ দেখেছে, একজনকে ছবিতে। মেয়েহীন পরিবারের ছোটছেলে হুমায়ুন আজিজ মুস্তাকিমকে তার বাবা আদর করে ডাকত—খুকু। ফ্রক পরাত। ঘটিহাতা হাফ প্যান্ট পরত, মাথায় ফিতে বাঁধত, একবার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আবার তাকে শাড়িও পরানো হয়েছিল। তার চমত্কার দাড়ি গোঁফ গজিয়েছে, পৌরুষেয় অঙ্গও জেগে উঠেছে তবু সে খুকুই রয়ে গেছে। তার বন্ধুরা তো খুকু ছাড়া অন্য কোনো নামে কখনো ডাকেনি। তার নববিবাহিত স্ত্রী মাইশাও বলে, খুকু সিগারেটটা ছেড়ে দাও না প্লিজ। কিংবা খুকু তোমার তো হেভি পারফোর্মেন্স!

দ্বিতীয় খুকু তার ফ্রি প্রাইমারি স্কুলজীবনের সবচেয়ে মোটাসোটা ক্লাসমেট খুকুরাণী সমাদ্দার। তাদের ক্লাস টিচার বলেছেন সবাই নিরাপদ দূরত্বে থেকো—খুকু যদি কারো উপরে গড়িয়ে পড়ে সে কিন্তু চিড়ের মতো চ্যাপ্টা হয়ে যাবে।

খুকু তার একটা না একটা দোষ ধরে চড় থাপ্পর মারত, কান ধরে উঠবস করাত। মন্টুর হাতের লেখা খারাপ, এজন্য শাস্তি দিত; নিচু হয়ে তাকালে তার নাকে ভেতর সর্দি দেখা যায় কেন এই অপরাধেও খুকুর মার তার অবশ্যপ্রাপ্য হয়ে উঠত। তবে সে তার বিরুদ্ধে টিচারের কাছে বিচার দিতে পারে এই ভয়ে টিফিন টাইমে স্কুলের গেটে কুলিং ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আইস্ক্রিমওয়ালার কাছ থেকে মিল্ক আইস্ক্রিম কিনেও খাওয়াত। দু-চারটা চড় খেলেও আইস্ক্রিম পাবার পর মারটা পুষিয়ে যেত। খুকু অকারণে, কারণে কেন তাকে মারত, সে-ই ভালো জানে।

তৃতীয় খুকুর বাম চোখটা ট্যারা হতে পারে। সম্ভবত এই সেই খুকু।

চতুর্থ খুকুর নাম সচিবালয়ের খুকু। খবরের কাগজ তার ছবি ছেপেছে, শিরোনামে লিখেছে: মক্ষীরাণী খুকুর সাম্রাজ্য। মন্ত্রী, সচিব, চিফ ইঞ্জিনিয়ার, এমডি প্রায় সবাই তার উষ্ণ শরীরের ছোঁয়া পেয়েছিল। বিনিময়ে তার হাতে তুলে দিয়েছেন রাষ্ট্রের অনেক মেগাপ্রজেক্টের ওয়ার্ক অর্ডার। সেই খুকুর সাথে মন্টু কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। সেই খুকুর তালিকায় আঠার হাজার নাম ও ফোন নম্বর থাকতে পারে, তারা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মন্টু নামের কেউ নেই।

মন্টু দ্রুত লুঙ্গি ছেড়ে প্যান্ট পরে, সাদা টি-শার্টে গা ঢাকে, কমোড চেক করে, আবার দরজার পাশে এসে দাঁড়ায়, পুরনো আমলের দরজায় স্পাইহোল না থাকায় দরজায় চোখ লাগিয়ে দেখে যে খোলা না খোলার সিদ্ধান্ত নেবে তার উপায় নেই। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় কলিং বেল আবার বেজে ওঠে।

খুলছি।
নারীকন্ঠ এবার ধমকে ওঠে। দরজা খুলতে কতক্ষণ লাগে?

ছিটকিনি খুলতেই প্রায় হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে সম্পূর্ণ বোরকাঢাকা এক নারী। চেহারা না দেখা পর্যন্ত তার বয়স ঊনিশ না ঊনআশি তা বলা সম্ভব নয়।

কে, কি, কেন—এসব প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে খুকু বলল, আগে দরজা বন্ধ করুন। পাঁচ মিনিট বসে কথা বলে চলে যাব, আপনাকে অস্থির হতে হবে না। আমিই খুকু। গতকাল আমার গায়ে হলুদ হয়েছে। যদি সব ঠিকঠাক থাকে আগামীকাল আপনার সাথে আমার বিয়ে। অবশ্যই যদি সব ঠিকঠাক থাকে।

পরস্পরকে তুমি বলার মতো কথোপকথন তাদের হয়নি—এ নিয়ে মন্টু দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নয়। বিয়ের রাতেই আপনি ও তুমির ফয়সালা হয়ে যাবে। বিয়ের রাতে মন্টুর মা আলেয়া বেগম তার বাবাকে তুমি সম্বোধন করেছিলেন, এতে নসরুল্লাহ সাহেব ঈষত্ ক্ষিপ্ত হন এবং বলেন, বয়সে আমি তোমার চেয়ে এগার বছরের বড় এটা মাথায় রেখে কথা বলো। অবশ্য দিন বদলে গেছে। একুশ বছরের বড় স্বামীকে স্ত্রী অবলীলায় তুমি বলতে থাকে।

বোরকার পর্দা পুরোটা সরাতে মন্টু থ হয়ে গেল। এত কাছে থেকে তো আগে দেখেনি। তরতাজা রক্তমাংসের এ সুন্দর তরুণী, রাতভর বিশ্লেষণ করে যে খুঁতটি বের করেছিল সেই বাম চোখটিকে আর ট্যারা মনে হচ্ছে না।

হঠাত্ মন্টু আনমনা হয়ে পড়ে—প্যান্ট পরেছে ঠিকই, কিন্তু জিপার কি টেনেছিল—মনে করতে পারছে না। তাড়াতাড়ি একটা পুরনো খবরের কাগজ কোলের উপর রাখে—এ জায়গাটা অন্তত ঢাকা পড়ুক।

একটু প্রকৃতিস্থ হবার পর মন্টুই বলল, কষ্ট করে আপনাকে এতদূর আসতে হলো। একটা ফোন করলেই হতো। সব যে ঠিকঠাক নেই সেটা তো বেশ অনুমান করতেই পারছি। আমি আসলে কোনো কিছু লুকোতে চাইনি। সে জন্যই সত্যটা চিঠিতে লিখেছি।

খুকু বলল, ঠিকই করেছেন।

মন্টু বলল, আমি বুঝতে পেরেছি পারিবারিক চাপে আপনাকে সম্মতি দিতে হয়েছে। আপনি এ নিয়ে ভাববেন না; রিজেক্ট করাটাই স্বাভাবিক। ঘটনা যাই হোক আমাকে বলতেই হবে, এটা আমার প্রথম বিয়ে না, দ্বিতীয় বিয়ে। লন্ডনে আসার পর যখন ইলল্যিগাল ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে ধরা পড়লাম, ডিপোর্ট করবেই, সে সময় এক ইমিগ্রেশন লইয়ার বললেন টাকা খরচ করতে পারলে ডিপোর্টেশন ঠেকিয়ে দিতে পারবেন। তখন আমার মায়ের বয়সের কাছাকাছি এক বিধবা গ্যাব্রিয়েলা আন্ডারউডকে বিয়ে করলাম। আমি পরের ১২০ দিন গ্যাব্রিয়েলার অ্যাপার্টমেন্টেই ছিলাম; উকিল আর গ্যাব্রিয়েলা মিলে বাকি কাজটা করেছে। অনেকগুলো কাগজে সই করতে হয়েছে। এর মধ্যে বিয়ের কাগজ রয়েছে। কাজেই আমার অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে গ্যাব্রিয়েলা আন্ডাউডকে আমি বিয়ে করিনি এবং তিনি আমার প্রথম স্ত্রী নন। তার অনুরোধে আমি তাকে গ্যাবি ডাকতাম।

একটু দম নিয়ে মন্টু বলল, গ্যাব্রিয়েলা যদি সবটাই টাকার জন্য করত তাহলে ভয়ঙ্কর অসুস্থ হবার পর আমাকে সস্তা হাসপাতালের বিছানায় রেখে পালিয়ে যেত। কিন্তু তার যতটা সম্ভব দেখাশোনা করেছেন। আমার কাগজপত্র বৈধ হবার পর ডিভোর্স করেছেন। আপনার দিক থেকে আমি বলব ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অসুবিধে নেই। আমি ঝর্ণা আপুকে বলে দিচ্ছি, সামলে নেবে। তাছাড়া আমাদের পক্ষে গেস্ট সংখ্যা খুব বেশি নয়। ফোনেই বলে দেওয়া যাবে।

এতক্ষণ শুনে খুকু বলল, আপনার কথা কি শেষ হয়েছে?

মন্টু বলল, হ্যাঁ মূল কথাটা, মানে যে কথাটা আমি লুকোতে চাইনি তা বলা হয়ে গেছে। তার মানে প্রকৃতপক্ষে আপনার সাথে আমার বিয়েটা কোনোভাবেই আমার প্রথম নয়, দ্বিতীয় বিয়ে। আপনি কিছুটা দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনাকে আমার যথেষ্ট সুন্দরী মনে হয়েছে, আপনি অবশ্যই একজন ফ্রেশ হাজব্যান্ড, আগে যে ভাবেই হোক বিয়ে করেনি—এমন একজনের দাবি জানিয়ে আমাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। আমিও মিথ্যে দিয়ে জীবন শুরু করতে চাই না।

খুকু বলল, আপনার কথার রিপিটেশন হচ্ছে। আমি মহিলাদের মতো এক কথা বারবার বলা পছন্দ করি না।

মন্টু একটুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে বলল, সরি।

খুকু বলল, আপনি যে বিষয়গুলো বলেছেন আমি সাত বছর বয়সেই এসব শুনেছি। আমার সবচেয়ে বড়ভাই লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, আর একটু হলে ডিপার্টেড হতে যাচ্ছিল। তখন আইরিশ এক উকিল এক হাজার পাউন্ড চুক্তিতে অ্যানাবেল সুইনবার্গ নামের প্রায় পয়ষট্টি বছর বয়সী এক ইংলিশ ইহুদি নারীর সাথে আমার পচিঁশ বছর বয়সী ভাইয়ার বিয়ের আয়োজন করে। বিয়ের কাগজপত্র সই হয়। এগুলো ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে দাখিল করা হয়। কথা ছিল ছয়মাস পর কাগজে কলমে আমার ভাইকে ছেড়ে নতুন কোনো ক্লায়েন্টকে খুঁজবে।

যদিও আমার ভাইয়ার বলতে গেলে কোনো উপার্জনই ছিল না অ্যানাবেল প্রতিমাসে দেড়শ পাউন্ড করে একটা অ্যালাউন্স দিতে শুরু করল। তারপর একসময় তার রুমভাড়াই বাঁচিয়ে দেবার জন্য তার বাড়িতে তুলে আনল এবং তারা সত্যি সত্যিই স্বামী-স্ত্রীর জীবন যাপন শুরু করল। তার ভয় ছিল ইয়ং হবার কারণে কখন না আমার ভাই তাকে ডাম্প করে চলে যায়। ভাইয়া তা করেনি। আরো তিন বছর পর অ্যানাবেল সুইনবার্গ মারা গেলে ভাইয়া এতটাই কষ্ট পায় যে বাকি জীবন বিয়ে না করে থাকার প্রতীজ্ঞা করে বসে। মাত্র গত বছর তার প্রতীজ্ঞা ভেঙে একটি বাঙালি মেয়েকে বিয়ে করেছে। আপনার ব্যাপারটা আমার কাছে কোনো বিষয়ই নয়। আমার কথাটা শোনার পর আপনার সিদ্ধান্ত যত দ্রুত আমাকে জানাবেন তত দ্রুত আমি বাড়ি ফিরে যেতে পারব। দেখতে পাচ্ছেন বোরকা পরে এসেছি। বোরকাটা বুয়ার। সে-ই বেরোতে সাহায্য করেছে। এখন সে আমার রুম ভেতর থেকে বন্ধ করে শুয়ে বা বসে আছে। আমার তিন টোকার সিগন্যাল শুনলে দরজা খুলবে, আমি ভেতরে চলে যাব, সে বোরকা নিয়ে বেরিয়ে আসবে।

বলুন, কী বলতে চাচ্ছেন?

গতকাল সকালে হলে নিশ্চিতভাবে বলতে পারতাম না। আজ পারছি কারণ মধ্যরাতে লুকোনো প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে ইউরিন টেস্ট করেছি। পজেটিভ। মানে আমি প্রেগন্যান্ট। আপনি প্রেগনেন্সির সাথে জড়িত কোনো প্রশ্ন যেমন কাজটা কে করল, তার সাথে কতদিনের সম্পর্ক এমন কিছু জিজ্ঞেস করতে পারবেন না। আপনাকে সিদ্ধান্তটা পাঁচমিনিটের মধ্যেই জানাতে হবে—আমার পেটের সন্তান আপনার নয় জেনেও আমাকে বিয়ে করবেন না করবেন না? আপনার উত্তরও আমি জানি। উত্তরটা না। তবুও আপনার নিজের মুখ থেকে শুনলে আমার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে—কিংবা আমি যে সিদ্ধান্ত নেব সে জন্য কোনো গিল্ট ফিলিং থাকবে না।

তার কথাটা মন্টুর কানে কতটা ঢুকেছে সে-ই জানে। তা অনেকক্ষণ ধরে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, তুমি আসলেই অনেক সুন্দর।

খুকু বলল, ধ্যাত্ পিতলা আলাপ ছাড়েন। যা জিজ্ঞেস করেছিলাম তার জবাব দেন। সময় আছে আর সাড়ে তিন মিনিট। আপনি আমাকে তুমি বলতে শুরু করলেন নাকি? বয়সে বড় হলেই তুমি বলার অধিকার জন্মায় না। শুনুন আমার প্রেগন্যান্সি নিয়ে কোনো প্রশ্ন করতে পারবেন না, আমি বলেছি। কিন্তু আপনার মনে প্রশ্ন থাকলে আছে, থাকারই কথা। আপনার সিদ্ধান্তের সুবিধের জন্য আপনি জিজ্ঞেস করার আগেই কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিচ্ছি: প্রথমত: এই সন্তানটির বাবা যে আমি তাকে একটুও ভালোবাসি না—কাজেই তাকে বিয়ে করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাহলে এমআর-এর নামে একটা গর্ভপাত করিয়ে নিলেই তো হয় সব ঝামেলা মিটে যাবে। আমি এমআর চাই না, আমি বেবিটাকে চাই। আপনাদের পক্ষ থেকে যখন আমাকে দেখতে আসে তখনও আমার একই অবস্থা। কিন্তু ভেতরের দিকটা তো দেখা যায় না। এটা জানলে যারা আমাকে সুন্দর বলেছে সবাই ছিঃ ছিঃ করতে থাকবে। আর একটা কথা শুনুন প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছি বলে আমি অথৈ সাগরে পড়েছি এটা যদি মনে করেন তবে ভুল করবেন। আমি যে অবস্থায় আছি সব জেনেশুনে একজন আমাকে বিয়ে করার জন্য একজন অপেক্ষায় আছে। শুধু আমার মুখের হা শুনতে চায়। বলতে পারেন তাহলে আমি তাকে এখনই বিয়ে করছি না কেন? এখানেও একটি বাস্তব সমস্যা আছে। তার ভালোবাসার কারণে আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি কিন্তু আমার সন্তানটিকে ভরণপোষণ করার মতো সামর্থ্যও তার নেই। অথচ আমার বেবি আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এই বেবির বাবা কে সে প্রশ্ন আমার কাছে অবান্তর। আপাতত বাকি রইলেন আপনি। এখন পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছে আমাদের দুজনের—মানে আমার আর আমার বেবির ভরণপোষণের সামর্থ্য আপনার আছে। আর ভালোবাসার কথা—কাছাকাছি থাকলে আমাদের জন্য আপনার ভালোবাসা সৃষ্টি হবে, আপনার জন্যও আমার হবে। আপনি রিজেক্ট করে দিলে সমস্যা মোটেও নেই, কারণ আমাকে যারা ভালোবাসতেই চেয়েছে তাদের কেউ না কেউ বেবিসহ আমার সাথে সংসার করতে রাজি হয়েও যেতে পারে, হয়তো সে আপনার চেয়েও যোগ্য পাত্র। এমন কাউকে যে পাবই সে আত্মবিশ্বাস আমার কোত্থেকে এলো—এটা জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার জবাবটা আত্মম্ভরী মনে হলেও সত্যটা তো বলতেই হবে—এটা সুন্দর হবার অ্যাডভান্টেজ। আমি জানি আমি আর দশটা মেয়ের চেয়ে দেখতে বেশি সুন্দর।

মন্টু মুখ খুলল, সাড়ে তিন মিনিটের পুরোটা তো আপনিই নিয়ে নিলেন। আমার জন্য কি তার তিরিশ সেকেন্ডও থাকবে না?

সময় দিয়ে লাভ নেই। উত্তর আমি জানি। তবুও আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। আমারও গিল্ট ফিলিংসটা যাতে না হয় সে জন্যই বোরকা পরে হাজির হয়েছি। আমার কথা শোনার জন্য ধন্যবাদ। চললাম। আপনি প্যান্টের জিপার টানুন।

মন্টুর যতটা বিব্রত হবার কথা হলো না। উঠে দাঁড়িয়ে খুকুর কাঁধে হাত রেখে প্রত্যয়ী কণ্ঠে তুমি সম্বোধন করেই বলল, তোমার সামনে আমার প্যান্টের জিপার খোলা কি বন্ধ তাতে কিছু এসে যায় না। কারণ আমি রাজি। আর জেনে রেখো ঐ বেবিটা আমারই। মানে তোমার আর আমার।

এবার খুকু আবেগবিহ্বল হলে বলল, মানে?

মন্টু বলল, বেবিটা হিসেবের একটু আগে হবে এই তো? চিন্তা নেই আমিই রটিয়ে দেব তোমার সাথে আমার আগে থেকেই ওরকম শোওয়াশুয়ির একটা সম্পর্ক ছিল।

মন্টু দু’হাত বাড়াতে খুকু তার হাতের বেস্টনির মধ্যে এসে বোতাম উলট-পালটের কারণে বুকের কাছের বেশ খানিকটা ফাঁকা জায়গায় মুখ রেখে কামড়াতে শুরু করল। মুখ তুলে বলল, তুমি মিথ্যে বলছো না তো?

মন্টু বলল, সেটা পরীক্ষা করার জন্য কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করার কী দরকার। তুমি থেকে যাও। তোমাকে আর বুয়ার বেশে ফেরার দরকার নেই।

খুকু বলল, না, কাল রাত থেকে তো তোমার সাথেই থাকব।

মন্টু খুকুকে রিকশায় তুলে দেয়। বলে, খুকু হ্যাভ অ্যা সেইফ জার্নি।

খুকুও মুখ ঘুরিয়ে আড় চোখের ইশারায় দেখায়, জিপার টানো মন্টু। বাইরে অন্য মানুষ।

পাদটীকা
মন্টু খুকুকে মিথ্যে কথা বলেছে। লন্ডনের গ্যাব্রিয়েলা অ্যান্ডারউড মোটেও বিধবা ছিল না, তার মায়ের বয়সীও নয়। গ্যাব্রিয়েলা তখন তারই সমবয়সী মোটামুটি সুন্দরী ইংলিশ তরুণী। কোনো উকিল তাকে যোগাড় করে দেয়নি। মায়ের বয়ফ্রেন্ডের হাত থেকে বাঁচার জন্য এসেক্স থেকে লন্ডনে চলে এসেছে। হাই, হ্যালো করতে করতে মন্টুর সাথে একটা মিষ্টি সম্পর্ক হয়েছে। মন্টুকে ধরে রাখার জন্য বিয়ের আয়োজন সে-ই করে। তারা একসাথে সাড়ে চার বছর স্বামী-স্ত্রীর জীবনও যাপন করে। গ্যাব্রিয়েলা যখন একটা বাচ্চার জন্য উতলা হয়ে উঠে মন্টু তাকে বলে তুমি যদি কনসিভ করতে না পারো সেটা কি আমার দোষ? তোমার প্রবলেম আছে, চেক করাও।

এবার গ্যাবি বলে চেক করানোর দরকার নেই। আমার মার বয়ফ্রেন্ড আমাকে প্রেগন্যান্ট বানিয়ে দিয়েছিল। আমার মা-ই অ্যাবর্ট করানোর ব্যবস্থা করে দেয়। আর তুমি বাস্টার্ড বলছো আমি কনসিভ করতে পারি না।

ভাঙন ধরে যায়। মাস তিনেকের মধ্যে গ্যাবিই মন্টুকে ডিভোর্স করে। মন্টু তার দুর্বলতা জানে বলেই যথেষ্ট আস্থার সাথে খুকুকে বলে, অবশ্যই তোমাকে বিয়ে করব।

মন্টু জিপার টানতে টানতে খুকুর দিকে আবার তাকায়। খুকুর রিকশা ততক্ষণে আরো এক ঝাঁক রিকশার মধ্যে হারিয়ে গেছে।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;