তারা গুনতির দেশে



অহ নওরোজ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

চরিত্র :
নিরি (ছয় বছরের বালিকা, চঞ্চল)
মা (বয়স ত্রিশের কাছাকাছি, মধ্যবিত্ত মুখ),
বাবা (বয়স চল্লিশ প্রায়, কাঁচাপাকা চুল আর চেহারায় আভিজাত্য)
বৃক্ষ (মাঝারি সবুজ নারিকেল গাছ, চিরল-বিরল পাতা তার)
ব্যাঙ (বেশ বড়সড় কোলাব্যাঙ)

কথক :
বহুদিন আগে,
পাতালের অন্ধকারে অন্য এক জগৎ ছিল
কেবল যেখানে শুধু উন্মুক্ত প্রান্তর, আর শীতল রাতের গন্ধ
সারাদিন ওম ধরা ম্লান রোদে সব যেন হৃদয়ের কাছে নুয়ে আছে।

ওইখানে মানুষের মনে কোনো ব্যথা নেই;
দিনে কোনো তাড়া নেই।
সব ছিল সুনশান—পরমায়ু উৎসব—

কিন্তু একদিন রাতে অজানা কারণে,
কিংবা হয়তো কারণ নেই কোনো—
কৌতূহলী শরীরে কেবল
গোলাপের ভাঁজে উড়ে, জোছনায় নিঝুম লুকিয়ে
চিহ্নহীন হয়ে গেল এক পাতালকুমারী।

বাইরে প্রথম...
পৃথিবীর আলো তাকে অন্ধ করে দেয়—
উড়ে যায় স্মৃতিগুলো।
দুইদিন পর তাকে মরে যেতে হয়।
তবু তার পিতা বিশ্বাস করত
একদিন সে আবার ফিরে আসবে কোথাও
সম্ভবত অন্য কোনো দেহে,
অন্য কোনোখানে,
অন্য কোনো ইতিহাসে।

..................

দৃশ্য : ০১
[গাড়ি চলছে, মায়ের সঙ্গে
বালিকা একটা মেয়ে।
পুরাতন গাড়ি—মাটির সরল পথ,
গাড়ি দোলার অভ্যাসে মনে হয়
নিচে যেন জলাভূমি।
পথের দুধার ঘেঁষে ঘন বনভূমি]
—মা, আমরা কোনখানে যাচ্ছি? শহর ছাড়ছি কেন?
—আমরা চলেছি তারা গুনতির দেশে, সেখানে মেঘের পরে মেঘ
আর সবুজের ঘ্রাণ মহাকায় মেলে আছে।
—রূপকথার মতন কোনো কিছু আছে?
—তুমি সারাদিন এসব আজব ভাবো কেন? এসব শুধুই গল্প ভেবো।
বলো যেন গাড়ি থামে—আমাকে নামতে হবে—কিছুটা হাঁটতে হবে।
ঝাঁকুনিতে বাড়ছে ব্যথাটা—কিছুদিন বাদে আসবে তোমার ভাইটা।

[গাড়ি থামে, থেমে থেমে হেঁটে হেঁটে, কুসুম নরম স্বস্তি আসে।
পেটে ব্যথা কমে,
নিরি এ সময়ে বনের ভেতর গিয়ে
যেন কিছু দ্যাখে]
—নিরি, আর যেও না ওদিকে, ফিরে এসো। আমরা এখন যাত্রা শুরু করবো আবার।
—মা, একটা পরী দেখেছি ওখানে।
—এসব চোখের ভুল। মন দিয়ে শোনো—আমরা একটু পরে যেখানে তোমার বাবা থাকে, সেখানে পৌঁছাব।
তাকে বাবা ডাকবে, বুঝেছো? আমি চাই তুমি বাবা ডাকো। সেটা তোমার জন্যই ভালো। এটা কেবল একটা শব্দ।
—তিনি আমার বাবা নন। আমার বাবার এরকম ধনী নন। তিনি মারা গেছেন অনেক আগে।
—যা বলেছি সেটা শোনো মা আমার।

[নিরি চুপ থাকে। কিছুক্ষণ পর তারা
একটি সুন্দর খোলা, মাঠ-ঘেরা বাড়ি পৌঁছে।]
—প্রিয়তমা স্বাগতম। আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না তোমার। আমার সন্তান, ও তো ভালো আছে?
[গর্ভবতী-পেটে হাত রেখে] এইতো নড়ছে, সম্ভবত বাবাকে চিনেছে, আহা! হয়তো গাইছে।
—ভেবো না, ও ভালো আছে।
—নিরিকে কোথায় রেখে এলে?
ওকে তো দেখছি না।
[নিরিকে গাড়ির অন্য পাশ থেকে দেখা যায়]
—এই যে বালিকা কেমন আছো?
[নিরি ভ্রূক্ষেপ করে-না। মাঠের ভেতর দিয়ে বনের নিকটে দৌড় দেয়।
সেখানে পুরোনো কুঠিবাড়ি—পরিত্যাক্ত। ধীরে ধীরে সে ভেতরে ঢোকে।]

দৃশ্য ০২
[নিরি চোখ খোলে। বিছানায় শুয়ে আছে। তার দিকে মা তাকিয়ে]
—আমাকে না বলে ওদিকে গিয়েছো কেন?
—মা, একটা পরী দেখেছি ওখানে।
—চুপ করো। সেখানে অজ্ঞান পড়ে ছিলে।
তোমাকে রহিমা খালা না-দেখলে হতো কী-যে!
এখন দরজা আর আলো বন্ধ করো, যাও সোনামনি।
[নিরি মায়ের আদেশ শোনে]
—এবার আমার কাছে এসো। লেপের তলায় ঢোকো। তোমার পা জমে গিয়েছে দেখছি।
মা আমার—আমাকে না বলে, এভাবে কোথাও আর যাবে না, বুঝেছো?
তোমাকে খুঁজতে কষ্ট হয়। আমি এই দেহ নিয়ে হাঁটতে পারি-না।
তুমি কি শুনছো?
[নিরির দু’চোখ জানালার ফাঁক গলে বাইরের অন্ধকারে ওড়ে।
সেখানে চাঁদের আলো, আর সাদা কিছু নড়ে]
—ভয় পাচ্ছো তুমি?
—বাইরে কিসের শব্দ, কেউ কি ওখানে থাকে মাগো?
—কিছু না, বাতাস হবে। শহরের রাত থেকে এখানে গ্রামের রাত কিছুটা আলাদা। শহরে প্রচুর গাড়ি চলাচল করে। এখানে সেসব শব্দ নেই। এখানের বাড়িগুলো বেশ পুরাতন। হাওয়ায় টিনে শব্দ হয়। কখনো দরজা ক্যাচ-ক্যাচ করে। ঘুম দাও। সকালে অনেক কিছু নতুন দেখবে। খেলার অনেক সাথি পাবে। এখন ঘুমাও।
—মা একটা গল্প বলো—
—অনেক দূরের দেশে, বিরাট পর্বত ছিল।
সেইখানে পাথর কেবল কালো।
সূর্য অস্ত যেত ঠিক পাহাড়ের মাথার ওপরে—
সেখানে ফুলের গাছ ছিল হাজারে হাজারে—
একটা জাদুর ফুল প্রতি রাতে ছড়াত মধুর ঘ্রাণ।
সে কখনো শুকাত-না। যেন অমর হয়েছে—ম্লান
কিন্তু কেউ এর কাছে যেতে সাহস পেত না—
তার কাঁটা ছিলো বিষে ভরা।
—তারপর কী মা?
[নিরি দেখে মা ঘুমে তলিয়ে গিয়েছে। সে বিছানা ছেড়ে ওঠে।
বাইরে জোছনা, জলের মতন ঘন হয়ে ঝরছে যেনবা।
সে আবার কিছু দ্যাখে, বাইরে উড়ছে। তার পিছু পিছু কুঠিবাড়ির ভেতরে চলে যায়]
—কেউ কি এখানে আছে?
[কুঠিবাড়ির ভেতরে সাদা উঠানে তখন দেখা যায় একটি মাঝারি বৃক্ষ। চিরল-বিরল পাতা তার।
পাতা দুলিয়ে দুলিয়ে সে কথা বলছে]
—ভয় পেয়ো-না-গো মেয়ে। আবার এসেছো ফিরে?
কী নাম তোমার? তাকাও, আমার দিকে।
[নিরি গাছটির দিকে দ্যাখে]
—আমি নিরি। তুমি?
—আমার অনেক নাম ছিল...অনেক পুরনো নাম। কেবল বাতাস আর গাছ সেইসব নাম উচ্চারণ করতে পেরেছে।
আমার আসল পরিচয় হলো আমি একজন দাস। তোমার বাবার দাস।
অনেক আগের কথা। সে আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে।
তুমি পৃথিবীর আলোতে মরেছো, আমি বেঁচে গেছি অলৌকিক, কিংবা গাছ হয়ে গিয়ে।
—মিথ্যা বলছো এগুলো।
আমার বাবার কোনো দাস নেই। তিনি ছিলেন গরীব লোক।
বরং দাস অভ্যাসের জীবন তারই ছিল।
—আমি মিথ্যা কখনো বলি-না।
চেয়ে দেখো তোমার বামের কাঁধ।
সেখানে রয়েছে উল্কি আঁকা চাঁদ।
এটাই প্রমাণ। তুমি পাতালপুরির রাজার প্রাণ।
—আসলেই তাই—বাম পাশে উল্কি আঁকা,
চাঁদ আর দুটো তারা।
—চলো তবে ফিরে যাই।
তুমি গেলে রাজা খুশি হবে যারপরনাই।
তোমার আসল বাবা সে-ই। চলো দ্রুত, চলো যাই।
—কিভাবে সেখানে যাব?
—সবকিছু এত সোজা নয়, কোরো-না রাতের অপচয়।
—কী এমন সে কঠিন কাজ।
—এই বই নাও।
[নিরি নেয় এবং খোলে]
—এখানে তো কিছু লেখা নেই। বইজুড়ে সাদা পাতা।
—একা থাকলে খুলবে—তোমাকে দেখাবে ভবিষ্যত।
বই খুলে বলবে সকল কিছু, যা জানতে চাও।
[বইটি জামার মধ্যে নিয়ে, নিরি হেঁটে আসে কুটির প্রান্তরে।]

দৃশ্য ০৩
[চারদিকে ঝলমলে আলো।
গ্রামের সবুজ দিন। শীতের আভাস নেই যেন।
শান বাঁধানো পুকুর—স্বচ্ছ টলোমলো।]
—আজ ভালো করে স্নান সেরে নাও নিরি। তারপর এই জামা পরো
[নিরি দ্যাখে একটি সবুজ জামা—দারুণ মখমলের]
—মা, এখানে স্নান করব না। পুকুরে আমার ভয়। তাছাড়া এখানে শীত।
—আচ্ছা। ঘরে যাও। গরম পানির আয়োজন করতে বলি।

দৃশ্য ০৩ (০১)
[গোসলের ঘর—
গরম পানির ধোঁয়া সারাঘরে—
নিরি গোসল করে না
কিংবা দেরি করে—
এক কোণে লুকিয়ে বইটি খোলে—
তার চারপাশে ঝুঁকে যেন কুয়াশারা
যেন বকুল গাছের নিচে কেউ একা
মুখ নামিয়ে গুনছে ফুল।]
—আমাকে জানাও পাতালপুরিতে ফিরে যাবার উপায়।

[ধূসর পাতায় আঁকা লাল দীর্ঘ পথ
হয়ে উঠছে সতেজ—
সেই পথে আহ্নিকের ভিড়
আর হলুদ হাওয়া চলে গেছে
সবুজ বনের ধার ঘেঁষে।
সে দেখতে পায় সবকিছু
জেনে যায় বহুকিছু।
এই বাড়ির অদূরে, বনের ভেতর গিয়ে
মরা পথটির প্রান্তদেশে, নিঝুম গহিনে
আছে এক গাড় সবুজ পানা-পুকুর,
তার কাছে বাদামী একটি গাছ আছে
তাতে কয়েকটা সজনে হয়েছে।
সেই গাছের গোড়ায় জল ছেড়ে উড়ুক্কু মাছের মতো
মাঝে মাঝে শ্বাস নেয় একটি গোলাপি ব্যাঙ
তার গলার ভেতরে চাবিটি বাঁকানো।
ওই চাবি নিতে হবে
কুটিরের ভেতরের ঘরটি খুলতে হবে
তারপর পাতালপুরে যাওয়া যাবে।]
—নিরি স্নান করা হলো?
—এইতো হয়েছে প্রায়।
[বই বন্ধ করে, স্নান সারে নিরি। তার চোখে এক অজানা ভাবনা দেখা দেয়]

দৃশ্য ০৪
[আবছায়া অন্ধকার
জনশূন্য যেন গোলাঘর
সেখানে একাকী এক কোণে বসে আছে নিরি
বাইরে নেমেছে সন্ধ্যা, হালকা ঝরছে বৃষ্টি।
নিরি আবার বইটি খোলে]
—পাব কিভাবে ওই কুটিরের চাবি?

[এখন সে দ্যাখে অফুরন্ত মাঠ—
আর জেনে যায়—
অনেক বছর আগে পৃথিবীর ফুলগুলো আরো সাদা ছিল।
এই বন তখন অনেক ছোট,
এখানে অদ্ভুত সব প্রাণী বসত করত
তারা একে অপরের জীবন বাঁচাত
আর ঘুমাত বিশাল এক বট গাছের ছায়ায়।
সেই বট গাছ এখনো রয়েছে
শুধু শাখাগুলো শুকিয়ে গিয়েছে—
গাছটির ডানদিকে—সূর্য যেদিকে সন্ধ্যায় হেলে
শিকড়ের পাশে পোতা আছে জাদুর দুইটি মুক্তাদানা
ওই দানা তুলে নিলে গাছ আবার সবুজ হবে।
বাসা বাঁধবে পাখিরা। লাল লাল ফল হবে।
আর যদি মুক্তদুটো হাতে করে যাও
সেই পানা পুকুরের সজনে গোড়ায়—
ব্যাঙটাকে খুঁজে পাও
তার সামনে রাখবে
দেখবে সে খেয়ে নেবে মুক্তদুটো
তারপর গলগল করে বমিতে ভাসাবে
বেরিয়ে আসবে চাবি]
—এসব কি আসলেই সত্যি? কিভাবে বুঝব সব সত্যি?
[নিজ মনে ভেবে ভেবে, বইয়ের অন্য পাতা খোলে]
—বলো আমার মা, কী করছে এখন?

[বইয়ের পাতাগুলো ধূসরতার নিকটে চলে যায়।
মাঠ ছাপানো বৃষ্টিতে চাঁদ ঢেকে গেছে
লণ্ঠনের চারপাশে লাফাচ্ছে কাদুলে পোকা
একটি কেবল ছায়া একা, যেন আরো ঘোলা হয়ে যায়।
নিরির মা কাতরাচ্ছে পেটের ব্যথায়।
আরও জানতে পারা যায়—
পূর্ণিমার আগে মারা যাবে সন্তানসম্ভাবা
যদি তাকে বাঁচাতেই হয়,
যেতে হবে কুটিরের পাশটায়
জমে ওঠা অন্ধকার কিংবা দিনের সবুজে
বেঁচে রয়েছে সেখানে—বুনো হলুদের শটিবন
গোলাপের কাঁটার অভ্যাস রয়েছে তাদের—
তবু
দিনে কিশোর পাখিরা ওইখানে পোকা খুটে খায়
আর রাতে ঝুঁকে পড়া অন্ধকারে
নীল পাখনার ফসফরাসের আলোতে জোনাকি জ্বলে।
যে কোনো সন্ধ্যায় সবথেকে রোদে-পোড়া শটিগাছ তুলে ফেলে
তার মূল যদি, দুধে ভিজিয়ে খাটের নিচে, রাখা যায়
গর্ভব্যথা হবে উপশম, পাবে পরমায়ু।]

দৃশ্য : ০৫
[বিছানার চারপাশে মহিলারা। সন্তানের অপেক্ষায় বাইরে পুরুষ।
চাদর ভিজছে রক্তে। তবু কোনো সমাধান নেই। বেড়ে যাচ্ছে ব্যথা
লুকিয়ে ভেতরে ঢোকে নিরি।
বিছানার নিচে রাখে দুধভরা বাটি।
তাতে হাসছে শেকড়। যেন সহসা থিতিয়ে যায় কান্নার চিৎকার।
...
নিরি বেরিয়ে আসছে। কে বলছে যেন, ভাই এলো তার।]

দৃশ্য : ০৬
[আজ আলোর আঘাত নেই কোনো
মধ্যদিনে বনের ভেতরে সন্ধ্যা উঁকি মারে যেন।
পানাপুকুরের ‘পরেও আলোর দেখা নেই
চারপাশের গাছেরা জড়ো হয়ে
অনাবৃষ্টি আর অতিবৃষ্টির ফারাক
ভুলিয়ে দিয়েছে।
সজনে গাছের গোড়াতেই
ভুস করে ভেসে ওঠে বিশাল কোলাব্যাঙ]

—এই যে গোলাপি ব্যাঙ। তাকাও আমার দিকে।
আমি পাতালপুরির রাজকুমারী, শুনছো?
আমি তোমাকে পাই না ভয়।
খাবার এনেছি দেখো।
[নিরি মুক্তাদুটো ছুঁড়ে দেয়,
শুকনো পাতার ’পরে ঝিকিমিকি করে মুক্তাদুটো
ব্যাঙ শুধু চেয়ে যায়—অতঃপর গিলে ফেলে—অনায়াসে।
যেন গোলমরিচ খেয়েছে খালি মুখে—
এরপর বিশাল হা করে উগরে দিয়েছে
পেটের সকল জল। তাতে বেরিয়ে-আসে সোনার-চাবি।]

দৃশ্য : ০৭
[গাড়ি চলছে, মায়ের সঙ্গে
বালিকা একটা মেয়ে।
পুরাতন গাড়ি—মাটির সরল পথ,
গাড়ি দোলার অভ্যাসে মনে হয়
নিচে যেন জলাভূমি।
পথের দুধার ঘেঁষে ঘন বনভূমি।

মায়ের কোলের মধ্যে মেয়েটির
ঘুম ভেঙে যায়। সে কেবল দেখে
তার মা’র মুখ, নীল ডালিয়ার দেশ যেন
কাছেই কোথাও আছে।

গাড়ি চলছে পুরনো অভ্যাসে
পথের দুধার ঘেঁষে ঘন বনভূমি
আরো ঘন হয়ে আসে]

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;

স্বপ্নের পদ্মা সেতু



রিঝুম ইতি
স্বপ্নের পদ্মা সেতু

স্বপ্নের পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি জন্মেছি বাংলায়-

গর্বিত আমি,
শেখ হাসিনার মহিমায়।
পেয়েছি আমি,
স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
একদিন যেটা,
স্বপ্নই ছিলো শুধু।
আজ, পদ্মাসেতুর প্রয়োজন -
বুঝবে সেই,
ভুক্তভুগী যেজন।
মাঝরাতে-
বেড়েছিলো মায়ের অসুখ।
ফেরিঘাটে-
গুণেছি শুধু প্রহর।
অবশেষে -
পারিনি মাকে বাঁচাতে,
পেরেছো কি দায় এড়াতে?
অভাবের সংসার-
একটা চাকরি,খুব দরকার।
একদিন-
ডাক পড়লো আমার,
ইন্টারভিউ দেবার।
পড়লাম এসে-
ফেরিঘাটের জ্যামে,
স্বপ্ন নষ্ট-
কিছু সময়ের দামে।
বাংলাদেশে-
হয়নি কোন চাকরি,
ভেবেছি তাই-
বিদেশ দেবো পাড়ি।
ভিটেমাটি সব বেঁচে,
সব টাকা যোগাড় করে।
রওনা দিলাম ভোরে,
চারপাশের-
কুয়াশা ঘিরে ধরে।
ফেরি চলাচল বন্ধ,
হারালো,জীবনের ছন্দ।
সারা বছর-
হাড়ভাংগা পরিশ্রমে,
জন্মাই ফসল-বাংলার মাটির বুকে।
পাইনা ভালো দাম,
এই কি তবে-
আমার ঘামের দাম।
শহরে আমি-
সবজি বেঁঁচবো দামে,
কিন্তু-
ঘাটে সবজি যাবে পঁচে।
শুধু-
পাইনি সুবিধা আমি,
পেয়েছে আরো-
তিন কোটি বাঙালি।
হাজারো-
ব্যর্থতার গল্প,
এভাবেই-
রচনা হতো।
হয়েছে স্বপ্ন পূরণ,
পদ্ম সেতুর দরুণ।

লেখক-রিঝুম ইতি, অনার্স- ১ম বর্ষ, প্রাণীবিদ্যা, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

;

সত্য-মিথ্যার মাঝখানে!



ড. মাহফুজ পারভেজ
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

১.

ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ইউলিসিস প্রবেশ করেছিলেন নিজেরই প্রাসাদে, ইথাকায়। ইথাকা সাধারণত ইতিহাসে চিহ্নিত হয় হোমারের ইথাকা নামে। ওডিসিয়াস-এর বাড়ি। যে দ্বীপটিতে বিলম্বিত প্রত্যাবর্তন ঘিরে ক্লাসিকাল গ্রিক গল্প 'ওডিসি' আবর্তিত।

প্রত্নতাত্ত্বিককাল থেকেই ইথাকাকে পৌরাণিক বীরের বাড়ি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওডিসি'তে হোমার ইথাকাকে এভাবে বর্ণনা করেন:

"পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ইথাকাতে বাস করুন, সেখানে এক পাহাড়, নেরিটন। বনের সাথে বসতি। অনেকগুলো দ্বীপের একটি। কাঠবাদাম জ্যাসিয়েন্টসকে ঘিরে রেখেছে। ইথাকা নিজেই মূল ভূখন্ডের কাছাকাছি ঘেঁষার দিকে খুব আগ্রহী। অন্যরা ভোর ও সূর্যের দিকে পৃথক হয়ে পড়েছে। কিন্তু অতিপ্রাকৃত দ্বীপ ইথাকা যুবকদের জন্য একজন ভাল নার্সের মতো প্রণোদন জাগ্রতকারী। "

২.

ইথাকায় ইউলিসিসের ফিরে আসার মধ্যে পেরিয়ে গিয়েছিল কুড়ি বছর। এতই প্রাচীন তাঁর অনুপস্থিতি যে, স্ত্রী পেনেলোপির একাধিক প্রণয়প্রার্থী তাঁরই প্রাসাদে এসে জড়ো হয়েছে, বসবাস করছে এই আশায় যে, হয়তো এবার পেনেলোপি-কে পাওয়া যাবে।

পেনেলোপি প্রথমে অপেক্ষায় ছিলেন, স্বামী ফিরবেন। তাই তাঁর প্রণয়াকাঙ্ক্ষীদের দূরে রাখতেন এক চতুর ছলনায়। সকলকে বলতেন, তিনি ইউলিসিসের পিতা লেয়ার্তেসের জন্য একটি শবাচ্ছাদনবস্ত্র বুনছেন, বোনা শেষ হলেই সাড়া দেবেন মনোমতো এক ভালবাসার আবেদনে। কিন্তু সে-বোনা অনন্তকাল ধরে যেন চলতে থাকল, চলতেই থাকল। আসলে, সকালের বুনন রাতে বিনষ্ট করে ফেলতেন তিনি।

ইউলিসিস ফিরবেন, সময় ক্রয় করে চলেছেন পেনেলোপি তাই। এটাই ছিল সত্য। আর সব মিথ্যা।

অবশেষে একটা সময় এমন এল, যখন সমস্ত আশা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ল। দু’দশক পেরিয়ে গেল যে। ইউলিসিস সম্ভবত আর ফিরবেন না, তাঁদের পুত্র টেলেম্যাকাস-ও বড় হয়ে গিয়েছে। এবার তা হলে পেনেলোপি অন্য পুরুষের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারেন।

এমনই এক ক্ষণে ফিরে এলেন ইউলিসিস। তবে, ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে। তারপর যখন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে স্বয়ম্বরসভা, তখন দেখা গেল, এই ভিক্ষুকই হলেন সেরা পাণিপ্রার্থী পেনেলোপির। স্বপরিচয়ে প্রত্যাবর্তন এবার তাঁর। একে একে হত্যা করলেন স্ত্রী-র সকল পাণিপ্রার্থীকে। তিনিই তো অধিকর্তা, প্রমাণ করতে হবে তাঁকে। প্রমাণ করলেনও তিনি।

৩.

লুইজ় গ্লিক-এর 'মেডোল্যান্ডস' কবিতাগ্রন্থে ইউলিসিস-পেনেলোপির যে-মিথ, তার ভেতর এক গাঢ় অন্তরঙ্গতা আছে। 'গাঢ়' শব্দটা বললে নিমেষে মাথায় আসে বাংলা ভাষার সেই কবিকে, শহরের পথহাঁটা যাঁকে স্মরণ করিয়ে দিত, ‘বেবিলনে একা একা এমনই হেঁটেছি আমি রাতের ভিতর’।

বস্তুত, অনুভব বা বোধ গাঢ় না-হলে স্মৃতি অবাধ বিচরণ করতে পারে না। জীবনের স্মৃতি প্রস্তরীভূত হতে পারে না কালাতিক্রমী কল্পস্মৃতির সঙ্গে। যেমনভাবে, শরীরের শত প্রলোভন থাকা সত্ত্বেও মন মিশতে পারে না মনের সঙ্গে।

কারো কারো কবিতাভাষায় প্রচ্ছন্ন রয়েছে সেই গাঢ় অনুভব, যে-কারণে কবিতা আর জীবন পাশাপাশি বসবাস করতে পারে। পুরাণকাহিনিকণা আর বাস্তবের খণ্ডাংশ একাকার হতে পারে। পৌরাণিক আখ্যান পেরিয়ে সামনে এসে দাঁড়াতে পারেন একজন ইউলিসিস। একজন পেনেলোপি নব-নির্মাণে উত্থিত হতে পারেন। কালান্তরের দাগ মুছে আমাদের কালের নারী-পুরুষে পরিণত হতে পারেন তাঁরা।

৪.

বাস্তবের জীবনে ছুঁয়ে যাওয়া পৌরাণিক ভাষ্যের অপর নাম 'মিথ'। আদিতে যা গ্রিক শব্দ 'mythos' থেকে উদ্ভূত।  শব্দটি হোমারের বিভিন্ন কাজে প্রচুর দেখা গেছে। এমন কি হোমার যুগের কবিরাও এই শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার করেছেন তাদের সাহিত্য কর্মে।

মূলগত অর্থে 'mythos' শব্দটি সত্য অথবা মিথ্যার মাঝে পার্থক্য বোঝাতে প্রয়োগ করা হয়। David Wiles এর মতে, প্রাচীন গ্রিসে শব্দটি বিপুল তাৎপর্য বহন করতো। এটি ব্যবহার করা হত মিথ্যাচারমূলক ধর্মীয় বা সামাজিক ব্যাপারগুলোকে উপস্থাপন করার সময়।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মিথ নিজেই এখন সত্য ও মিথ্যার মাঝখান থেকে জীবনের বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। 'এটা ছিল' বা 'এটা হতে পারতো' ধরনের বহু মিথ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে সত্যের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অবয়বে। কিংবা মিথ প্রতিষ্ঠিত করতে দাঙ্গা, হাঙ্গামা, হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাতের বন্যা বইছে। একদা মিথ্যাচারমূলক ধর্মীয় বা সামাজিক ব্যাপারগুলোকে উপস্থাপন করতো যে মিথ, তা-ই এখন ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার মজবুত হাতিয়ারে পরিণত হয়ে হত্যা করছে মানুষ ও মানবতাকে।

৫.

সত্য আর মিথ্যার স্পষ্ট বিভাজনের পাশে মিথ দাঁড়িয়ে আছে অমীমাংসিত উপস্থিতিতে। কারো কাছে তা সত্য, কারো কাছে মিথ্যা, কারো কাছে অনির্ধারিত চরিত্রে। ব্যক্তি বা সামাজিক চর্চার বাইরে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমেও সত্যের পাশাপাশি মিথ্যা ও মিথের বাড়বাড়ন্ত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মার্কিন দেশে সাংবাদিকতা বললেই 'ফেইক নিউজ' শব্দটি সামনে চলে আসতো৷ বিরুদ্ধে গেলে মিথ্যা বা ফেইক বলাটা এখন ক্ষমতাসীনদের ট্রেন্ড বা ট্রেডমার্ক৷

এদিকে, তথ্যের সুনামির মধ্যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা আলাদা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে৷ এর পেছনে কার দায় সবচেয়ে বেশি, তা এক গভীর গবেষণার বিষয়।

প্রতিদিন সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদ প্রবাহে কতো কতো সংবাদ আসে৷ আজকাল সবচেয়ে জরুরি আর গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো ফেসবুকে পাওয়া যায় শেয়ার-কমেন্টের কারণে৷ কিন্তু  ধীরে ধীরে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। এখন সত্য, মিথ্যা বা মিথ ফেসবুক স্ট্যাটাস বা কমেন্টে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমও সঠিক তথ্য দেওয়ার চেয়ে কিভাবে প্রকাশ করলে ক্লিক আর শেয়ার বাড়বে, সেদিকে বেশি মনোযোগী৷

ফলে সত্য, মিথ্যা, মিথের ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি চারপাশে। আর মাঝখানে অসহায় মানুষের বিপন্ন অবস্থান।

পাদটীকা: ইউলিসিস আইরিশ লেখক জেমস জয়েস (জন্ম-২ ফেব্রুয়ারি ১৮৮২, মৃত্যু-১৩ জানুয়ারি ১৯৪১, বয়স ৫৮)-এর কালজয়ী সৃষ্টি। ১৯২২ সালে এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। অধিকাংশ সাহিত্য সমালোচক ইউলিসিস-কে ইংরেজি ভাষায় লিখিত বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে গণ্য করে থাকেন। ইউলিসিস-এর কাহিনী একটিমাত্র দিনকে ঘিরে। ১৯০৪ সালের ১৬ জুন। এই সাধারণ একটি দিনে এক সাধারণ নাগরিক লেওপোল্ড ব্লুম (Leopold Bloom) ডাবলিন শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান নানা কাজে। প্রাচীন গ্রিক কবি হোমার-এর রচিত মহাকাব্য ওডিসি-র সাথে উপন্যাসটির অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ওডিসি কাব্যের বীর ইউলিসিস-এর নামেই উপন্যাসের নামকরণ। জয়েস-এর ভক্তরা ১৬ জুন দিনটিকে ব্লুম-দিবস (Bloomsday) হিসেবে পালন করে থাকেন। জয়েসের ইউলিসিস বিশাল এক গ্রন্থ। কোন কোন সংস্করনের দৈর্ঘ্য হাজার পৃষ্ঠার উপরে চলে গিয়েছে। বিগত আশি বছর ধরে সাহিত্য বিশারদরা বইটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন। বইটি সাহিত্যাঙ্গণে অনেক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বিংশ শতকের শুরুতে আধুনিকতাবাদ (modernism) নামে যে সাহিত্যধারার সৃষ্টি হয়, ইউলিসিস তার অতি উৎকৃষ্ট একটি উদাহরণ। বিরতিহীন চৈতন্যবর্ণনার (stream of consciousness) অনবদ্য প্রয়োগের জন্যে উপন্যাসটি যথার্থই বিখ্যাত। এ ছাড়াও জয়েস-এর অভিনব গদ্যশৈলী, গদ্য নিয়ে বিচিত্র সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কুশলী চরিত্রায়ন ও চমৎকার রসবোধ বইটিকে স্বতন্ত্রতা এনে দিয়েছে। তবে বইটি বেশ দুরূহপাঠ্য যে কারণে কেউ কেউ এর সমালোচনা করেছেন। ১৯৯৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত প্রকাশক মডার্ন লাইব্রেরি শতাব্দীর সেরা ১০০টি ইংরেজি উপন্যাসের তালিকা প্রনয়ন করে। ইউলিসিস তালিকার শীর্ষে স্থান পায়। ২০২২ সাল জেমস জয়েসের ইউলিসিস প্রকাশের শতবর্ষ।

ড. মাহফুজ পারভেজ,  প্রফেসর,  রাজনীতি বিজ্ঞান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম

;