মেয়ে, মদ ও কাগজ ফুল



তানিয়া চক্রবর্তী
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

কবিতা কী যে নেশাদ্রব্য তার আর বিবরণে, ভনিতায় কাজ নেই। কবিতা খাদ্যদ্রব্যে মিশে যাওয়া অমৃত বা বিষের মতো কিছু! বিষ বলাই ভালো বিশেষত স্লো পয়জন পদ্ধতি যদি এর প্রকৃত গাঢ় রূপের সন্ধান পাওয়া যায় তবে—কারণ এর নির্মাণ জীবন নিয়ে নিয়ে তৈরি, হয়ে সম্ভবত জীবন খেয়ে খেয়ে। আর বলে না যা কিছুই খুব তীব্র তা সন্দেহের ফলে অমৃত না ভেবে তাকে সুস্বাদু বিষ বলাই ভালো। মনের ঘূর্ণিতে খুব একটা বই নিয়ে আলোচনা করিনি বা এমনিতেও সেটা করতে নিজেকে উপযোগী বলে মনেও হয় না। কারণ পড়া, বোঝা আর প্রকাশিত লেখা এই তিনটে ধাপের মধ্যে বেশ পার্থক্য থাকে—তাকে কায়দায় আনা মুশকিল! নিজের অনুভূতি ও মুহূর্তের যাপন দিয়ে একটি জিনিস বুঝেছি কোনো কবির কবিতা ভালো লাগলে সেই কবিতাকে একটি সিন্দুকে রেখে দেওয়া ভালো। সেই সৃষ্টিকর্তার কাছে পাঠকের আরোই যাওয়া উচিত নয় কারণ স্রষ্টাকে সাধারণ নৈকট্য নিয়ে ধরলে তার শিল্প বা সাহিত্যের প্রতি বিনাহেতুতেই আকর্ষণ লঘু হয়ে যায়—ফলে ভালো লাগাকে সংরক্ষণ করাও একটি দায়িত্ব উপভোগের সঙ্গে।

এই মুহূর্তে কিছু কবিতা নিয়ে আলোচনা করব। আলোচনা নয় শুধু ভাগ করে নেওয়া। কবির সঙ্গে আলাপ নেই অবশ্য আলাপের প্রয়োজনও নেই ফলে একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি থেকে এই লেখা লিখতে আগ্রহী হলাম। যে কটি বই থেকে আমি কবিতা নিয়ে আলোচনা করব তার নাম মদ, কাগজ ফুল, তিরিশটি প্রেমের কবিতা(ভাষালিপি প্রকাশনী), মেয়ে (শুধু বিঘে দুই প্রকাশনী)।

“স্তন থেকে চোখ তুলে তাকাই চোখের দিকে। দেখি, জল টলমল করে। নৌকা, ভাসাব কিনা ভাবি। তারপর জানালার বাইরে তাকাই। একবার দেখি, বারবার দেখি, মনের গহনে পৌঁছোনোর সুগম নিশ্চিত কোনো পথ আছে নাকি? পাহাড়ের গা বেয়ে, নদীর দু পাড় দিয়ে? নদীর প্রসঙ্গে এসে ফের মনে পড়ে যায় দুটি চোখ। স্তন থেকে কিছুটা উপরে। দেখি জল টলমল করে” (দর্শন, তিরিশটি প্রেমের কবিতা)

এই কবিতা নিয়ে কী বলা যায়—একটি অন্যরকম তীব্র গভীর কবিতা—শুধুই কি তাই? তবে কি একজন নারী লেখক বলে স্তনের চেয়ে চোখের উপমা পেয়েছি বলে অন্যরকম মনে হলো—না, কারণ দুটোর মধ্যে কোনোটাই কোনো নারী পুরুষ একেবারে বাদ দিয়ে চলবে না। তবে চোখ কি খুব সাধু, স্তন কি খুব যৌন তাও নয়—স্তন তীব্র বাৎসল্যের হতে পারে, চোখ তীব্র যৌনতার হতে পারে। বিষয় হলো পথ, বিষয় হলো মুখ—কবিতাটির শুরু ও শেষ স্তন ও চোখের সঙ্গে এক প্রহেলিকা করে খেলেছে। এই চোখ এই যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারী অঙ্গ তাকে ছুঁয়ে কবিতাটি অতলের হয়ে গেছে যা পড়ার জন্য এক নির্মোহ মায়া আহ্বান করে চলেছে। এখানেই এই দর্শন নামক কবিতাটি অমৃতরূপী বিষ এবং তীব্র।

“তাঁত বোনে। হয়তো তোমারই গায়ে উঠবে ওই কাপড়ের ডুরে। তুমি কোথায় কত দূরে কোন নদীর ধারের গ্রামে তোমার বাড়ি, জানে না ওই মগ্নতম তাঁতি। আর তুমি, কিশোরীনি, জানো নাতো ঐ যুবাটির নাম। তোমার জন্যই শাড়ি বুনেছে সে, তার ব্যস্ততম হাতে। শুক্র অথবা বুধবারের হাট থেকে কিনে নিয়ে যাবে তোমার বাবা। লণ্ঠনের আলোয় দেখা হবে তোমাদের” (তিরিশটি প্রেমের কবিতা)

কবিতাটির নাম “শাড়ি”, পড়ে দেখুন কবিতাটি একটি জীবনের খুব গূঢ় টানাপোড়েনে পূর্ণ নয় কিন্তু কবিতাটি চূড়ান্ত আলোকিত যখন এই দৃশ্যকল্প ভেসে উঠবে যে এক তাঁতির হাত, দেহ, খটাখট শব্দ একটি যাপনে পূর্ণ নির্মাণে ভরা শাড়ি মেয়েটি লণ্ঠনের আলোয় দেখছে—এই দৃশ্যের অন্তর্নিহিত ভাবের মূল্য এক বুক রক্তের আত্মায় ভরা নয় কি? ঐ “লণ্ঠনের আলোয় দেখা হবে তোমাদের”—কবিতাটির সব রস এনে এই হাঁড়িতে ভরে দিল। একটি শাড়ি একটি জীবন ছাড়িয়ে বেরিয়ে গেল কোন অনন্তে...

“তবু আমি ফুল। তবু আমি ফুল।/ রাতের আলকাতরায় ঢেকে রেখেছি নিজেকে।/ যেহেতু সৌরভ সুবাস কিছু ছড়াতে পারি না।/ আকর্ষণের কোনো প্রভাই আমাকে দেননি ভগবান।/ তবু আমি ফুল—এটাই সান্ত্বনা।/ পরজন্মে সত্যি কোরো—জানাই প্রার্থনা”

“তুমি আমার গন্ধ পেলে না।/ ঝড়ের মুখে আমার নাচ/ দেখলে ভুলতে না/ অপরিচয়ের ফলে তৈরি/ তোমার মনের বেদনা—/ আমার মর্মে এসে টুকি দেয় যদি/ তোমাকে দেখাবই, দেখাবই/ কুসুমের নদী”...

টুকরো টুকরো ১৪টি কবিতা নিয়ে এই উক্ত কবিতাদের সহযোগিতায় “কাগজ ফুল” বইটি প্রকাশিত হয়েছে ভাষালিপি প্রকাশনী থেকে। কাগজফুলকে কেমন দেখি আমরা? জানি নকল তবু কেন যেন ভালোবাসি, আসল কাগজও ফুলের মতোই সরল ফলে বিকল্প রূপেও সে নিরাময়ের প্রেম যেন। এই উক্ত কবিতাদুটি দেখুন প্রথমটি অভিমানের কবিতা—এ অভিমানে অভিযোগ নেই শুধু নিভৃতের পেলব প্রার্থনা আছে। সেই প্রার্থনা জুড়ে এক অসহায়তা আছে তবু তা অপরাজেয় কিছুতেই ন্যুব্জ নয়—সে ফুলেল মর্মে অসহায় হয়েও সেই জন্ম চেয়েছে আবার—যেন আঁধারের সঙ্গে প্রেম, যেন আঁধারের প্রতি, এ জীবনের প্রতি মায়া। দ্বিতীয় কবিতাটি একটি লুকাচুরি খেলা—এক প্রেমিকের অঙ্গীকার, তার প্রত্যয় অথচ আগ্রাসী নয় যেন খেলাচ্ছলে অনুযোগ অথচ শব্দের আর মুহূর্তের এমন সহবাস যে একবার পড়লে প্রথম দুটি লাইনে মুখের শীর্ষে এসে রাজত্ব করে।

“টান শুধু টান অনুভব করে গেছি আমি/ দূর পাহাড়ের মদ আমাকে ডেকেছে বারবার”—এভাবে কবিতাটি শুরু হয়ে শেষ হয়েছে এভাবে—“এত কাছে কখনো উঠে আসোনি যে/ তোমার ঠোঁটে অবিরাম চুমু খেতে পারি/ মায়াময় কত সন্ধ্যা জোনাকি-নিবিড় কত কত রাত/ মদহীন প্রেমহীন কেটেছে আমার।”

যদিও শুরু ও শেষ দিয়ে মধ্যযামের কিছুই বোঝা যায় না ফলে আগ্রহী পাঠককে কবিতাটি পড়তে হবে। কবিতাটির নাম “পাহাড়ি ঝিঁঝিঁর ডাক”। কখনো যদি গভীর রাতে একা বিছানায় শুয়ে ঝিঁঝিঁর ডাক শোনেন বুঝবেন এর মতো ঘন তীব্র জীব বুঝি আর হয় না! যখন ডাক গভীর থেকে গভীরতর হয় তখন একই সঙ্গে হর্ষ, বিষাদ, রোমাঞ্চ এক তীব্র ঝিলমিলের মিশ্র অনুভূতি তৈরি হয়। এই কবিতাটিও সেইরকম শুরুতে স্বপ্ন, সম্ভোগ শেষে উদাস এই যে কাউন্টার এখানেই কবিতাটি নামে, দেহে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বইয়ের এলগিন রোড, মৃত্যুর পর, আক্ষেপ, কথা, আমার মদ, পুরনো, শুভ জন্মদিন—প্রত্যেকটি তীব্র যাকে বলে ডার্ক , সান্দ্রতায় ভরপুর এবং এর গায়ের গহনা নিরীক্ষণের চেয়ে এর ভাবের কাছে এমনভাবে টেনে নেয় যে পার্থিবরা অসাড় হয়ে আসে।

“কালো দরজা খুলে তুমি বাইরে এসে দাঁড়াতেই, আমি বুঝে গেলাম শেষের সেদিনের আর দেরি নেই, খুলি ফাটিয়ে ঘিলুর রস খাবেই তারিয়ে তারিয়ে, তোমার চারহাত যখন সাঁড়াশির মতো ধরল জড়িয়ে, আমার নশ্বর হাড়সকল ভেঙে গেল তোমার বুকের চাপে, পুরুষাঙ্গ কেটে তুই ভরে নিলি অতিকায় যোনিটির খাপে”

এই কবিতাটির নাম কালী, এছাড়াও আছে লক্ষ্মী, দুর্গা, সরস্বতী এবং বইয়ের শেষে “ডানকুনি-গড়িয়া” বলে একটি কবিতায় একদম ভিন্ন থেকে ভিন্নতরভাবে নারীর যত যত রূপ কবির জীবনে, দর্শনে, ভাবকল্পে এসেছে তাকে বিভিন্ন মহিমায় পাঠক পাবেন এই “মেয়ে” কাব্যগ্রন্ত্রে। কিন্তু এটা ঠিক ঐ নারী তোমার একই অঙ্গে কত রূপের মতো নাটকীয় নয় এবং তা কত মুচড়ে দেওয়া অনুভূতির তা পূর্বোক্ত কালী কবিতাটি পড়লেই বোঝা যায়। যেখানে তুমি থেকে তুই আর জাপটানো সঙ্গম থেকে এক গভীর গ্রাসে পৌঁছে গেল কবিতাটি—একে বলে উজ্জ্বল সমর্পণ!

এবারে যেটা বলার, প্রকৃত ভালো লেগে যাওয়া কবিতাকে নিয়ে কিছু বলা নিতান্ত কঠিন। যেমন লেখা একটু দূরত্বে থাকলে পাঠযোগ্য হয় সেরকম একটু কম ভালো লাগলে ভালো আলোচনা করা যায়। কারণ ভালো লাগা মানে ইন্দ্রিয়ের বশীকরণ হয়ে গেছে এর পর একে নিয়ে বলা যায় না। বইগুলো পড়ে একরকম আচ্ছন্ন অনুভূতি এসেছিল তাই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই লেখা রইল। পরিশেষে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলি যাঁর কবিতা নিয়ে আলোচনা হলো সেই কবির নাম বিপ্লব চৌধুরী।

   

কদম



আকিব শিকদার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঋতুটি শরৎ এখন পঞ্জিকার পাতায়।
বর্ষার আমেজ কাটেনি বুঝি, সারাটি আকাশ
কালো করে নামে বৃষ্টি।
একটানা ভিজে শালবন, মহুয়ার কিশলয়। সতেজ হয়-
লতানো পুঁইয়ের ডগা।

এ বর্ষণ দেখার সৌভাগ্য আমার নেই। দূর পরবাসে
বসে আমি ভাবি- আহ, কি সহজেই ভুলে গেলাম, ভুলে গেলাম
প্রিয় ফুল কদমের কথা...!
পড়ার টেবিলে দুটো কদম, আষাঢ় শ্রাবণে তরতাজা দুটো কদম
জিইয়ে রেখেছি কতো-
কাচের বোতলে। ভেজা বাতাসে কদমের হালকা সুবাস।
তিনটে বছর, মাত্র তিনটে বছর
ভুলিয়ে দিলো চব্বিশ বছরের বর্ষার স্মৃতি, যেন চব্বিশ বছর
পরাজিত তিন বছরের পাল্লায়।

পরিজন ফোন করে খবর নিতে- ‘কি পাঠাবো বল...?
কাঠালের বিচি ভাজা, চিনে বাদাম, ঝুনা নারকেল
নাকি আমের আচার...?’-ওদের তালিকায়
আমার পছন্দ অনুপস্থিত।

সাহেবদের বিলেতী ফুলের ভীড়ে
ঠাঁই নেই কদমের-
যেমন আছে কাঁদা মাটির সুঁদাগন্ধ ভরা বাংলায়।
ক্যালেণ্ডারের পাতায় দেখি
ফুটফুটে কদমের শ্বেত রেণু বিনিময়, আর অন্তরে অনুভবে
রূপ-রস-গন্ধ।

;

একগুচ্ছ কবিতা



মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পরাবাস্তবতা-জাদুবাস্তবতা
আপাতদৃষ্টিতে অবাস্তব অথচ বাস্তবের অধিক
অসম্ভব তবু প্রতিনিয়ত সম্ভাবনার শঙ্কা জাগায়
তারই নাম পরাবাস্তবতা
অন্যভাবে বলতে জাদুবাস্তবতা:
যেমন, এই যে আশ্চর্য সকাল
এর কতtটুকু তুমি দেখো
কতটুকু আমি
আর কতটুকু দিগন্তের ওপাশে অদেখার!
জলের উপর একলা মুখ ঝুঁকিয়ে থাকা
শেষবিকেলের মর্মবেদনা জানে
শিরীষ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ভাসমান পাতা
তুমি আর আমি কতটুকু জানি!
অর্থবোধ্য সীমানা পেরিয়ে
আমাদের যাতায়াত নেই
এমন কোনো ঠিকানায়
যার দিক নেই, চিহ্ন নেই, প্রতীক নেই!

সম্পর্ক

প্রিজমের টুকরোয় ছিটকে পড়া আলোয়
অধ্যয়ন করছি সম্পর্ক
সম্পর্কের উত্থান-পতন
বাঁক ও শিহরণ
লগ-ইন বা লগ-আউটে
নিত্য জন্মাচ্ছে নতুন সম্পর্ক
সম্পর্কের বিভিন্ন রং
লিখে লিখে মুছে দিচ্ছে ফেসবুক
সন্তরণশীল সম্পর্ক খেলা করছে
মানুষের জীবনের বহুদূরের ভার্চুয়ালে
সম্পর্ক হয়ে গেছে স্বপ্নময় জগতে
মনকে জাগ্রত রাখার কৌশল

জোনাকি

দূরমনস্ক দার্শনিকতায়
রাতের পথে যারা আসে
তারা যাবে দিগন্তের দিকে
আত্মমগ্ন পথিক-পায়ে।
এইসব পদাতিকের অনেকেই আর ফিরবে না
ফিরে আসবে অন্য কেউ
তার চিন্তা ও গমনের ট্র্যাপিজ ছুঁয়ে
অন্য চেহারায়, অন্য নামে ও অবয়বে।
তারপর
গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে সরল রেখায়
আলোর মশালে জ্বলে উঠবে
অনুভবের অসংখ্য জোনাকি।

নিঃসঙ্গতা

নিঃসঙ্গতা শীতের কুয়াশার মতো প্রগাঢ়
তমসাচারী মৃত পাখির নিঃশব্দ কুহুতান-স্মৃতি
নিহত নদীর শ্যাওলাজড়ানো জলকণা
দাবানল-দগ্ধ বনমর্মর:
মায়ায় মুখ আড়াল করে অনন্য বিমূর্ত বিবরে
নিঃসঙ্গতা কল্পলোকে রঙ মাখে
নীলাভ স্বপ্নের দ্যুতিতে
অস্তিত্বে, অনুভবে, মগ্নচৈতন্যে:
জীবনের স্টেজ অ্যান্ড স্ক্রিনে!

আর্কিওপটেরিক্স

পনেরো কোটি বছরের পাথরশয্যা ছেড়ে তিনি
প্রত্নজীববিদের টেবিলে চলে এলেন:
পক্ষী জীবাশ্ম দেখে প্রশ্ন শুরু হলো পৃথিবীময়
‘ডানার হলেই তাকে পাখি বলতে হবে?‘
তাহলে ‘ফ্লাইং ডাইনোসরস‘ কি?
তাদের শরীরে রয়েছে ডানা, কারো কারো দুই জোড়া!
পাখি, একলা পাখি, ভাবের পাখি খুঁজতে খুঁজতে হয়রান
বিজ্ঞানী থেকে বিপ্লবী কবিগণ
আর্কিওপটেরিক্স কি পাখির আদি-জননী?

;

কবি অসীম সাহা আর নেই



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। ৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা সাহিত্যের এই খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিষযটি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

তিনি জানান, মাঝখানে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর অসীম সাহা মোটামুটি সুস্থই ছিলেন। অল্প ক’দিন আগেই আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আজ শুনি তিনি আর নেই। বর্তমানে অসীম সাহাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাকে দেখতে সেখানেই যাচ্ছি।

অসীম সাহার শেষকৃত্য সম্পর্কে তাঁর ছোট ছেলে অর্ঘ্য সাহা বলেন, তাঁর বাবা মরদেহ দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কবি অসীম সাহা। চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন, বিষণ্নতায় ভুগছেন কবি। এছাড়া পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিস রোগেও আক্রান্ত হন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নানারবাড়ি নেত্রকোণা জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন কবি অসীম সাহা। পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্য বিভাগে। সামগ্রিকভাবে সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

;

অনন্তকাল দহন



আকিব শিকদার
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঝিঝির মতো ফিসফিসিয়ে বলছি কথা আমরা দুজন
নিজেকে এই গোপন রাখা আর কতোকাল?
: অনন্তকাল।

বাঁশের শুকনো পাতার মতো ঘুরছি কেবল চরকী ভীষণ
আমাদের এই ঘুরে ঘুরে উড়ে বেড়ানো আর কতোকাল?
:অনন্তকাল।

তপ্ত-খরায় নামবে কবে প্রথম বাদল, ভিজবে কানন
তোমার জন্য প্রতিক্ষীত থাকবো আমি আর কতোকাল?
: অনন্তকাল।

তোমার হাসির বিজলীরেখা ঝলসে দিলো আমার ভুবন
এই যে আগুন দহন দেবে আর কতোকাল?
: অনন্তকাল।

;