চাঁদের থালা ও পেটকাটা ষ সংক্রান্ত গল্প



খান রকিব
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

একটি অতিক্রান্ত সন্ধ্যাকে পেছনে ফেলা যাক। তুলে আনা যাক একটি দৃশ্যপট। রমনা কালী মন্দির। খোলা আকাশের নিচে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান। কিছু লোক তাদের যাপিত সন্ধ্যায় গ্লানি মোচনের চেষ্টায় স্বচ্ছ চায়ের কাপে তুমুল দ্বন্দ্ব জুড়ে দেয়। রমনা কালী মন্দিরে কেন গরুর দুধের চা-ই পাওয়া যায়? কেন লঙ ও আদার পরিমিত মিশ্রণের রঙ চা নয়? কারণ এখানে থালার মতো চ্যাপ্টা বন রুটি পাওয়া যায়। বন রুটির ক্রিমের সাথে গরুর দুধের চা; খুচরো খাবার হিসেবে জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত পাহাড় ডিঙিয়ে প্রায় আকাশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। খুচরো আলাপের সাথে তুমুল দ্বন্দ্ব হয়; চিনির কৌটা ও চায়ের কাপের অন্তমিলে বাজে টুং টাং সঙ্গীত। তারপর একটি দৌড় প্রতিযোগিতার অলস খরগোশের মতো ঐ যে অতিক্রান্ত সন্ধ্যা যখন ক্রমে রাতের দিকে যাত্রা শুরু করে তখন রমনা কালী মন্দিরের আকাশে উদিত হয় ঝলমলে থালার মতো গোটা চাঁদ। মন্দিরের পুকুর, পাকা ঘাট। ঘাটের সিঁড়ির কয়েক ধাপ নিচে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে থাকা বিপুল। ভাতের সন্ধানে এসেছিল ঢাকায়।

ভাতের বদলে সে শুয়ে থাকে রাস্তায়, ফুটপাতে, পুকুর ঘাটে। সন্ধ্যার আগে কাছাকাছি কোথাও ঝড় হয়েছে, সাথে বৃষ্টিও। এখন পরিষ্কার আকাশ। পূর্ণিমা চাঁদ আর শীতল বাতাস। সেই বাতাসের ঝাঁকুনিতে বিপুলের দেহ থেকে থেকে কেঁপে ওঠে। পূর্ণিমা চাঁদের আলো তার ম্লান মুখচ্ছবিকে কপট স্পষ্টতা এনে দেয়। দূরে কোথাও হাসনাহেনার মাতাল করা ঘ্রাণ যখন অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিপুলের নাকে লাগে তখন সে চোখ তুলে তাকায়। উপরে আকাশ, থালার মতো চাঁদ। নিচে বিপুল, পেটে ক্ষুধা। তারপর সেই থালা আরো নিচে নেমে আসে। একদম বিপুলের হাতের কাছে। ঝনঝনিয়ে বেজে ওঠে। অবিরাম অবিশ্রামে বাজতে থাকা থালার উচ্চস্বর হারিয়ে যায় দূরের পথে অগুনিত যানবাহনের কর্কষ হুইসেলে। কিন্তু ঐ যে আকাশে চাঁদের থালা, সেই থালায় ভাত নেই। চাঁদের থালায় কেন ভাত থাকে না? কারণ এ শহরে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই। পাবলিক টয়লেট কেন নেই? কারণ এই শহরে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত থালা নেই। এইসব ভাবতে থাকে বিপুল। ভাবনার অবকাশ পায় কিছু। যেহেতু বাহারি আহারে সময় ব্যয় করার ফুরসত নেই তাদের। যেন ছিল না কখনো! একটি বাদামওয়ালার এলোমেলো পায়চারি, উথালপাতাল ঘুরঘুর। কালী মন্দিরের চায়ের দোকানে সূক্ষ্ম, সুচালো তারে ঝুলছে রুটি। আর বিপুলের পেটে কুই কুই শব্দতরঙ্গ সঞ্চারিত করে ক্ষুধার পোকা। দূরের আকাশে ঐ প্রাগৈতিহাসিক স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, পরিপুষ্ট শূন্য থালা অথবা মন্দিরের তারে ঝুলে ঝুলে, ফুলে ফেঁপে ওঠা থালার মতো রুটির সাথে বিপুল নিজের কোনো নৈকট্য খুঁজে পায় না।

ফলে সে পুকুরের সিঁড়ি থেকে উঠে আসে। গাঝাড়া দেয়। পেছনে পড়ে থাকে জ্যোৎস্নায় সুরভিত হাসনাহেনার পাশে থলথলে পুকুর। উপরে বাঁশের কঞ্চিতে বসে থাকা বুভুক্ষু মাছরাঙা। ঘাটে জমে থাকা উচ্ছিষ্ট সিগারেট; যেন বিপুলের জীবনের যাবতীয় ক্লেদাক্ত অনুসন্ধি।

বিপুল হাটে। সাথে সাথে চাঁদও হাটে। চাঁদের কি পাখা গজিয়েছে? নাহ তাহলে তো চাঁদ উড়ে উড়ে দূরান্তরে হারিয়ে যেত! এই চাঁদ হারায় না। তবে আড়াল হয়। এইসব নাগরিক নিয়নের শিয়রের পাশে দাঁড়ালে পূর্ণিমা তার পুঁজি করা আলো নিয়ে আড়াল হয়ে যায়। পুঁজির কেস সালা দারুণ চক্কর। মানুষের ক্ষুধা ভুলিয়ে দেয়। থাকে কেবল পিপাসা। বাড়ে শুধু পানির চাহিদা। এই শহরে এমন কোনো টিউবওয়েল নেই যা বিপুলের পিপাসা মেটায়। তথাপি পানি তো কেনাই লাগে। কিন্তু ঐ যে সেই একই রকম টাকার অসুখ!

রাত ক্রমশ গতিশীল। সারি সারি গাড়ি ছুটে চলছে ভাবনাহীন। ছুটছে মানুষ, ঝুলছে ভিক্ষুক মুক্ত এলাকায় ভিখিরির মূর্তি। হাঁটছে তারা, চাঁদ-থালা ও বিপুল। টিএসসি, শাহবাগ, বাংলামোটর ফার্মগেট। মানুষের এইসব আধাকৃত্রিম ছুটে চলায় বিপুলের বুকের ভেতরটা হুহু হাওয়া জাগানিয়া গান গেয়ে নেচে ওঠে। চাঁদের পায়ের সাথে তার চটিজোড়ার সংঘর্ষ বাঁধে। থমকে যায়। আর এমন একটা নরমাল রাত নিয়ে ভাবে, যা সে গত তিনদিন ধরে কাটিয়ে যাচ্ছে। উষ্কখুষ্ক চুল, আস্তিন গোটানো গায়ের জামায় ঘামের বিদঘুটে গন্ধ, পরনের জিন্সে জমা ধুলোবালির স্তর, ধূলি ছাড়া এই শহরে বিপুলের খাবার মতো কোনো আহার নেই। গ্রামীণ জনপদ ছেড়ে সে যখন ঢাকায় আসে, এই তো তিনদিন আগে, তারপর ইন্টারভিউ, চাকরি, স্বপ্ন, নিশ্চয়তা কতকিছু। পূর্ণ হলো কই? এখানে এসে বিপুলের স্বপ্ন হয়েছে ধূলিস্মাৎ। তার বদলে পথের যাবতীয় ধুলোবালি মাথায় নিয়ে ছুটছে সে।

গন্তব্যহীন মানুষের থাকে কেবল হাঁটার মতো রাত। কিন্তু তার দুটি ক্ষুধার্ত দুপুরও গড়িয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে। তারপর আর তো যেতে চায় না সময়। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের মতো থমকে আছে। উদ্যানের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছে ফুটপাতের সস্তা ভাত। শাহবাগের বুড়ি মহিলার ডেকচিতে সরিষা ফুলের মতো ফুটে থাকা খিচুড়ি।

বিপুলের পেট মোচড় দিয়ে ওঠে। ফার্মগেটের ফুটওভার ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে খ্যাকখ্যাক করে হাসে। গলার কাছে আটকে থাকা জীর্ণতা বমির সাথে বের করে দিতে চায়। কিন্ত বিপুল বাস্তব জীবন ও রূপকথার পার্থক্য অনুধাবন করে। ফলে রূঢ় বাস্তবতা বিপুলের গলা টিপে ধরে। সে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাতে চায়। ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি, ছুটতে ছুটতে মহাখালী রেলক্রসিংয়ে এসে থামে। এখন মধ্য রাত। রেলক্রসিংয়ের আশপাশ প্রায় জনশূন্য। একটি চায়ের স্টল খোলা পড়ে আছে নীরবে। কোলাহল নেই, মানুষের চনমনে আমেজ ঢেকে গেছে নিদ্রার আবেশে। কেবল কিছু নিশিশ্রমিক কাজের ফাঁকে জিরিয়ে নেওয়ার অবকাশ হিসেবে বন রুটির সাথে কলা খাওয়ার কৌশলে ঝাঁপ দিয়েছে চা স্টলে। রাজধানীর ঐতিহাসিক জ্যাম হটিয়ে কিছু দূরপাল্লার বাস তেড়েফুঁড়ে ছুটছে গন্তব্যের দিকে। রেলক্রসিংয়ের ঐপাশে সোডিয়াম আলোর ঝলকানিতে ম্লান পূর্ণিমা রাত। এইপাশে রেললাইন, নিচে অন্ধকার। সমান্তরাল রেললাইনের ওপর দাঁড়ানো বিপুল। আর ঠিক ঐ মুহূর্তে চলমান দৃশ্যপটের সমাপনী বার্তা হিসেবে আকাশে উদিত ভাতহীন চাঁদের থালা মেঘের পাহাড়ে আঘাত হানে। বিচূর্ণ চাঁদের থালায় ধ্বস নামে; লীন হয়ে থাকে কালো ঘেমের চূড়ায়।

মহাখালি রেলক্রসিংয়ে পুনর্বার যখন বৃষ্টি আসে, তার আগে আচমকা আকাশ গুমোট হয়ে যায়। গাঢ় রাত্রির আঁধার আরো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়, তুমুল বাতাসে ধূসর ধূলিঝড়ে চোখ-মুখ নিভে যায়। রেললাইনের অনতিদূরে বয়সের ভারে ন্যুব্জতার প্রতীক ডাব গাছ নড়ে ওঠে, শাখা নেই, ডাল নেই, পাতা নেই, শুধু শরীর। দৃষ্টির সীমানায় একটি কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে উড়ছে নীল পলিথিন দুরন্ত বাতাসে। তারপর আসে বৃষ্টি, তারপর মেঘ উড়ে যায় আকাশ থেকে আকাশে। আর নিচে বৃষ্টির ফোঁটা মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে, একাকী বিপুল। কোথাও হয়তো কোনো নাগরিক বারান্দার গ্রিলে এইসব বৃষ্টির ফোঁটা রোমাঞ্চকর সঙ্গীতের বয়ান নিয়ে আসে। কিন্তু এইখানে ভিজে যাচ্ছে ফ্লাইওভার, ভিজে যাচ্ছে নর্দমা ও প্রস্রাবাগার। ভিজে যাচ্ছে গেরেজ ভিজে যাচ্ছে রাস্তা ও কংক্রিট। ভিজে যাচ্ছে চোখ, ক্ষুধার শোক মুষলধারে বৃষ্টিস্নাত এই রাত্রি বেলায়। আর তখন একটি উড়োজাহাজ আকাশে উড়ে যাচ্ছিল ইস্পাতের রেললাইনকে আড়াআড়ি অতিক্রম করে। বিপুল অকস্মাৎ উপরে তাকায়। উড়োজাহাজের শব্দের তীব্রতায় তার মাথা ঝিমঝিম করে, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে ওঠে; ক্ষুধায় অথবা ক্লান্তিতে। সে রেললাইনের ওপর লুটিয়ে পড়ে বাঁধাহীন। বিপুলের জড়োসড়ো হয়ে যাওয়া শরীর যেন অন্তস্থ য এর আকৃতি ধারণ করে। আর তখন দূরে কোনো এক স্টেশন থেকে হুইসেল বাজিয়ে ছুটে আসে পুঁজি অথবা দুঃখের ট্রেন।

ট্রেন, রেললাইন আর খুব কাছের সেই চায়ের স্টল, বিপুলের জীবনের সর্বশেষ দৃশ্যপট। উজ্জীবিত হেডলাইট জ্বালিয়ে, কু ঝিকঝিক করে ট্রেন আসে, চলে যায়। বিপুল কাটা পড়ে। একটি আর্তনাদের জ্বলন্ত ধ্বনি আশপাশের বাতাসের সাথে মিশে গেলে, তন্দ্রাঘোরে আটকে থাকা স্টলের লোকটি আচমকা মাথা তুলে তাকায়। দ্যাখে, একটি দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে আছে রেললাইনের ওপর। পেট বরাবর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দেহের নিচের ভাগ নড়েচড়ে উঠছে। উপরে চোখ মিটমিট করছে। বৃষ্টির জলের স্বাভাবিক স্রোতের সাথে মিশে যাচ্ছে রক্ত। লোকটি ছাতা মাথায় ধরে এক গ্লাস পানি নিয়ে এগিয়ে গেল। দেখল যে, মরেনি, বেঁচে আছে। জিজ্ঞাসা করলো নাম, পরিচয়। বিপুল বলতে পারল না কিছুই। লোকটি পানির গ্লাস এগিয়ে ধরল মুখে। বিপুল মাথা নেড়ে অসম্মতি জানাল। তারপর তর্জনী উঁচিয়ে ধরল ঐ চা স্টলের দিকে। লোকটি তাকাল এবং দেখল, ৬০ ওয়াট বাল্বের আলোয় চকচক করছে পলিব্যাগে মুড়ানো থালার মতো চ্যাপ্টা বন রুটি। লোকটি দৌড়ে চলে গেল। পেছনে অন্তস্থ য এর আকৃতিতে কাটা পড়ে পেটকাটা ষ হয়ে পড়ে রইল বিপুল।

ওমিক্রণে থমকে গেছে বইমেলার আয়োজন



সজিব তুষার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এবারও থমকে গেছে লেখক পাঠকের প্রাণের আসর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। তুমুল উৎসাহ আর ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও কোভিড- ১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক থামিয়ে দিয়েছে কাজ। একটা বড় অংশের কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে গর্ত আর স্তূপ স্তূপ বাঁশ।

বরাবরের মত এ বছরেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা অমর একুশে বইমেলা-২০২২। সে অনুযায়ী, কাজ শুরু করে দিয়েছিলো আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো প্রকাশনী গুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লটারি পূর্ববর্তী কার্যক্রম। কাজ চলার মাঝেই বাঁধ সাধে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

গত ১৬ জানুয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানান, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বইমেলা। মেলার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বাংলা একাডেমির। সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করা যেতো বইমেলা'। 

সরকারের এই ঘোষণার পর থমকে গেছে পুরো উদ্যমে শুরু হওয়া মেলার স্টল তৈরির কাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, স্টল তৈরির জন্য মাঠে কাঠামোর বেশ খানিকটা তৈরি হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় পুঁতে রাখা রয়েছে বাঁশ। কিন্তু কাজ করতে দেখা যায়নি কোনও শ্রমিককে।

এবারের বই মেলায় প্রথম বই প্রকাশ হবে এমন এক তরুণ লেখক বায়েজিদ হোসেন বলেন, 'ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আমাদের রক্তে গেঁথে গেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনার তোপে পণ্ড হয় গতবারের মেলাও। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তায় বসে যাবে। এমন চলতে থাকলে খুব দ্রুতই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এখন পর্যন্ত যেটুকু টিকে আছে সেটা নষ্ট করে ফেললে; শিল্প সংস্কৃতির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।

যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা সঠিক সময়ে শুরু করার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থিক'র প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল বলেন, 'গতবারের মেলার অভিজ্ঞতার পর এবছর আর রিস্ক নেব বলে মনে হচ্ছে না। সম্ভব হলে জমা দেওয়া টাকাটা ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো'।

স্টলের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বাবদ খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'দুটা স্টলের জন্য জমা দিতে হয়েছে আগের থেকেও বেশি। ডেকোরেশন খরচ। স্টলের লোকের খরচ। তাদের এমন সিদ্ধান্তে আমি কোনভাবেই লস আটকাতে পারবো না'।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে গেলে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, "মহাপরিচালক- প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানানো পর্যন্ত কেউ কিছু বলতে পারবো না"।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থেকে তোলা বইমেলার প্রস্তুতিকালীন কাজের একাংশের ছবি। ছবি- বার্তা২৪.কম

 

এর আগে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই নেওয়া হচ্ছে বইমেলা শুরুর প্রস্তুতি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরও মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। আবার নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিলই টানে ইতি। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে দু'সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে আদতে বই মেলা হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বইমেলা মানেই হাজার মানুষের ভিড়। লেখক পাঠকের সমারোহ। তবে একের পর এক মেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুলো মেলা করবে কি না তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন সচেতন মহল।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা হোক চান বড় একটা অংশের নেটিজানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও তুলছেন তারা।


উল্লেখ্য, মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির গেইটে ১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে চট বিছিয়ে শুরু করেন বই বিক্রি। ১৯৭৭ সালে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে। ১৯৭৮ সালে এ বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় বাংলা একাডেমিকে। তখন মহাপরিচালক ছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী। পরের বছরই বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি যুক্ত হয় মেলার সঙ্গে।

মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় ১৯৮৩ সালে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' নামে এ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আর করা যায়নি। পরের বছর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আসর বসে 'অমর একুশে বইমেলা'র। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে কাগজের বইয়ের মুহুর্মুহু গন্ধ মাখা বইমেলাই যেন দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ভাষা সংগ্রামের কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকার জ্যাম ঠেলেও ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাণের গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ভাষা ও বইপ্রেমী মানুষের কাছে। সবাই চায় বইমেলা ফিরে পাক তার আগের জৌলুশ। বইয়ের সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের এই মিল বন্ধনের পুণ্যভূমি বেঁচে থাকুক সব অশুভ ছায়া থেকে।

;

অন্বেষণ মানে তো খোঁজ, এই খোঁজ হল আত্ম-অন্বেষণ...



সুবর্ণা মোর্শেদা, চিত্রশিল্পী
সুবর্ণা মোর্শেদা

সুবর্ণা মোর্শেদা

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে খোঁজার যে তাগিদ, আমার মধ্যে সেটা সবসময়ই কাজ করে। এই তাগিদ থেকেই আমার কাজের শুরু বলা যেতে পারে। সবসময় মনে হয়, নিজেকে খোঁজার চেয়ে কঠিন কিছু নাই। গত দুই বছরে সেই খোঁজার তাগিদ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। এই সময়ে অন্যদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, তার মাঝেও নিজেকেই খোঁজার চেষ্টা চলতো। লকডাউনের বেশ আগে থেকেই নিজেকে অনেক বেশি আইসোলেশনে নিয়ে যাই আমি—একটা নিরঙ্কুশ একাকীত্বের মধ্যে চলে আত্ম-অনুসন্ধানের কাজ। সো, লকডাউন আমার জন্য খুব নতুন কিছু ছিলো না। শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন করে থাকাটা ছিলো একেবারে নতুন।


২০১৯-এর একটা সময় আমি খুব অন্ধকারে ডুবে যাই। স্বভাবগত দিক থেকে রঙিন মানুষ হয়েও একটা গভীর ব্যক্তিগত কারণে আমার জীবন হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ সাদা-কালো। আর এ সময়টাতেই নিভৃতে অনেকগুলো কাজ করে ফেলি। কখনো লিথোগ্রাফ, কখনো পেন্সিল স্কেচ আর কাগজে সেলাই করে করা এ-কাজগুলোই আমাকে সেই গভীর অন্ধকারেও বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছে। কাগজে সেলাই করে শিল্পকর্ম নির্মাণের একটা আলাদা আনন্দ আছে। সেটা হলো স্পর্শের আনন্দ।


এই স্পর্শকে কেমন করে দেখাবো! সেলাইয়ের উঁচু-নিচু অংশগুলোকে আমি বলি স্পর্শের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে স্পর্শের অনুভূতিকে অন্যের মনে সঞ্চার করা যায়। বড় হওয়ার পর, জীবনে এই প্রথম আমি মায়ের সাথে বাবার সাথে এতো দীর্ঘ সময় আমি কাটানোর অবকাশ পেয়েছি। আমার মায়ের গাছ লাগানোর শখ অনেক আগে থেকেই। সেই শখ লকডাউনে আরো তীব্র হলো।

তাঁর লাগানো গাছগুলো যতো বড় হচ্ছিলো, আর তাঁর বয়স যেন ততোই কমছিলো। গাছে ফল ধরা, ফুল ধরা দেখে তাঁর কী যে এক আনন্দ! সব মিলে যেন এক অপার্থিব অনুভূতি! তো, আমি তাঁকে একজন সফল চাষী হিসেবে ঘোষণা করলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি গন্ধ, স্পর্শ নিয়ে কাজ করি। এবার মায়ের গন্ধের সঙ্গে যোগ হলো মায়ের বাগানের গন্ধ-স্পর্শ।


গাছগুলোর পাতা যখন ঝরে পড়ে, সে-পাতার রং, শেইপকে আমার কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করা আর স্পর্শগুলোকে ধরার জন্যই আমার কাগজে সেলাই করার কাজ। আমার ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে ঘুম হয় না বা হতো না সেই অন্ধকার সময়গুলোতে। ঘুম না হওয়ার কারণে যে সকালে খারাপ লাগতো তা-ও না। সকালের গন্ধ আমার খুব প্রিয়।


এরমধ্যেই হলো মায়ের করোনা। দীর্ঘ ১ মাস ধরে মায়ের সিরিয়াস কন্ডিশন । আমি বুঝতে পারতাম, গাছগুলোও মাকে খুব মিস করছে। এদিকে মা তো হসপিটালে অক্সিজেন নিতে ব্যস্ত! ২৪ ঘন্টাই মায়ের সঙ্গে থাকি। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া-- কখনও ভালো, কখনও মন্দ। অবশেষে মায়ের জয়ী হয়ে ঘরে ফেরা। তাঁর সঙ্গে আবার তাঁর গাছেদের সেই নিবিড় সম্পর্ক--গভীর বন্ধুত্ব!

পুরো সময়টাই যেন কবিতার মত, প্রেমের কবিতা! আমার সাদা-কালো ক্যানভাসে ছড়িয়ে দেওয়া রঙের মত! অন্ধকারে অপরূপ আলোর মত। আমার ছবিগুলো যেন জীবনের মত! আমার জীবন যেন আমার ছবির মতো!

সকলকে আমন্ত্রণ!


চিত্রকর্ম প্রদর্শনী: ‘অন্বেষণ’
শিল্পী: সুবর্ণা মোর্শেদা (তৃতীয় একক প্রদর্শনী)
স্থান: ইএমকে সেন্টার
প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন: অধ্যাপক জামাল আহমেদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, তাওহিদা শিরোপা।
মাধ্যম: লিথোগ্রাফ, সায়ানোটাইপ, পেন্সিল স্কেচ, জলরংসহ বিভিন্ন মাধ্যম
সংখ্যা: মোট ৪২টি শিল্পকর্ম
চলবে: ১৫-৩০ জানুয়ারি
শো কিউরেটর: রেজাউর রহমান

;

কল্পনা ও ইতিহাসের ট্রাজিক নায়িকা আনারকলি



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আনারকলির নাম উচ্চারিত হলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের আবহে এক করুণ-মায়াবী প্রেমকাহিনী সবার মনে নাড়া দেয়। ইতিহাস ও কল্পকথায় আবর্তিত এই রহস্যময়ী নতর্কীর পাশাপাশি শাহজাদা সেলিম তথা সম্রাট জাহাঙ্গীর, সম্রাট আকবর, সম্রাজ্ঞী যোধা বাঈ চোখের সামনে উপস্থিত হন। ভেসে আসে পরামক্রশালী মুঘল আমলের অভিজাত রাজদরবার ও হেরেম। ব্রিটিশ ঔপনিবেশ-পূর্ব উপমহাদেশের ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক দ্যুতি, বহুত্ববাদী পরিচিতির রাজকীয় অতীত এসে শিহরিত করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকদের। 

১৫২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৮৫৭ সালে অস্তমিত ৩৩১ বছরের বিশ্ববিশ্রুত মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে বহু সম্রাট, শাহজাদা, শাহজাদীর নাম বীরত্বে ও বেদনায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু আনারকলির নাম বিশ্বস্ত ঐতিহাসিক বিবরণের কোথাও লেখা নেই, যদিও মুঘল হেরেমের এই রহস্যময়ী নারীর নাম আজ পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্য-চলচ্চিত্র ও লোকশ্রুতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। সম্রাজ্ঞী, শাহজাদী কিংবা কোনও পদাধিকারী না হয়েও মুঘল সংস্কৃতির পরতে পরতে মিশে থাকা কে এই নারী, আনারকলি, যিনি শত শত বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছেন, এমন জিজ্ঞাসা অনেকেরই। ইতিহাসে না থাকলেও শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে চিত্রিত হচ্ছেন তিনি অকল্পনীয় জনপ্রিয়তায়। ইতিহাস ও মিথের মিশেলে তাকে নিয়ে আখ্যান ও কল্পকথার কমতি নেই। তার নামে প্রতিষ্ঠিতি হয়েছে মাজার, সমাধি স্মৃতিসৌধ, প্রাচীন বাজার, মহিলাদের পোষাকের নান্দনিক ডিজাইন। ইতিহাসের রহস্যঘেরা এই নারীকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ইতিহাস সৃষ্টিকারী চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’। রচিত হয়েছে অসংখ্য গ্রন্থ ও গবেষণা।

যদিও বাংলা ভাষায় আনারকলিকে নিয়ে আদৌ কোনও গ্রন্থ রচিত হয়নি, তথাপি উর্দু সাহিত্যে তাকে নিয়ে রয়েছে একাধিক নাটক ও উপন্যাস। ইংরেজিতে রয়েছে বহু গ্রন্থ। বিশেষত উর্দু ভাষার বলয় বলতে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের যে বিশাল এলাকা পূর্বের বিহার থেকে পশ্চিমে পাঞ্জাব পর্যন্ত প্রসারিত, সেখানে আনারকলি একটি অতি পরিচিত ও চর্চিত নাম। সাহিত্যে ও লোকশ্রুতিতে তিনি এখনও জীবন্ত। অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে রয়েছে আনারকলি মাকবারা। মাকবারা হলো কবরগাহ, সমাধিসৌধ। মুঘল স্মৃতিধন্য শহর দিল্লি, লাহোরে আছে আনারকলি বাজার। সাহিত্য ও লোককথার মতোই আনারকলিকে নিয়ে নির্মিত নানা লিখিত ও অলিখিত উপাখ্যান। 

অথচ মুঘল রাজদরবার স্বীকৃত ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থগুলোর কোথাও উল্লেখিত হন নি আনারকলি। প্রায়-প্রত্যেক মুঘল রাজপুরুষ লিখিত আকারে অনেক স্মৃতি ও ঐতিহাসিক বিবরণ লিপিবদ্ধ রাখলেও তার নাম আসে নি কোনও মুঘলের আত্মস্মৃতি বা ইতিহাস গ্রন্থে। তাহলে কেবলমাত্র একটি কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে তার নাম অর্ধ-সহস্র বছর ধরে লোকমুখে প্রচারিত হলো কেন এবং কেমন করে? সত্যিই আনারকলি বলে কেউ না থাকতেন কেমন করে সম্ভব হলো পাঁচ শতাধিক বছর ধরে নামটি টিকে থাকা? এসব খুবই বিস্ময়কর বিষয় এবং আশ্চর্যজনক ঐতিহাসিক প্রশ্ন।

ভারতবর্ষে মুঘল ইতিহাসের এক রহস্যময় নারী চরিত্র রূপে আনারকলিকে নিয়ে আগে বহু চর্চা হলেও সবচেয়ে সফল ও ব্যাপকভাবে তিনি চিত্রিত হয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের কেন্দ্রস্থল বলিউডের ইতিহাস সৃষ্টিকারী সেরা জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল ছবি ‘মুঘল-ই-আজম’-এ। ছবির কাহিনী মুঘল-ই-আজম তথা শাহানশাহ জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের দরবারে আবর্তিত। আকবরপুত্র শাহজাদা সেলিম, যিনি পরবর্তীতে হবেন সম্রাট জাহাঙ্গীর, মুঘল দরবারের এক নবাগত নর্তকী আনারকলির প্রেমে বিভোর। দীর্ঘ ছবিটি সেলিম-আনারকলির প্রণয়ের রোমান্টিকতায় ভরপুর। কিন্তু সম্রাট আকবর সেই ভালোবাসা মেনে নিতে নারাজ। প্রচণ্ড ক্রোধে আকবর আনারকলিকে শাহজাদার জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হন নি, সম্রাটপুত্রকে ভালোবাসার অপরাধে তুচ্ছ নর্তকী আনারকলিকে জীবন্ত কবরস্থ করেন। 

প্রশ্ন হলো, সত্যিই যদি আনারকলি নামে কোনও চরিত্র না-ই থাকবে, তাহলে এতো কাহিনীর উৎপত্তি হলো কেমন করে? সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রে আনারকলিকে কেন্দ্র করে যা বলা হয়েছে বা দেখানো হয়েছে, তার সত্যতা কতটুকু? সত্যিই কি আনারকলিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল? নাকি আনারকলি বলে ইতিহাসে কোনও চরিত্রই ছিল না? নাকি সব কিছুই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কোনও মিথ, উপকথা বা গল্প? এসব প্রশ্নের উত্তর শত শত বছরেও মেলে নি।

আনারকলি যদি ‘কাল্পনিক’ হবেন, তাহলে, মুঘল আমলে ভারতে আগত ইংরেজ পরিব্রাজকের বর্ণনায়, লখনৌর লেখকের উপন্যাসে, লাহোরের নাট্যকারের নাটকে, বলিউডের একাধিক সিনেমায় আনারকলি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হবেন কেন? কেন শত শত বছর কোটি কোটি মানুষ আনারকলির নাম ও করুণ ঘটনায় অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন? কেন আনারকলির নামে ভারতের প্রাচীন শহরগুলোতে থাকবে ঐতিহাসিক বাজার? লাহোরে পাওয়া যাবে তার কবরগাহ, যেখানে শেষ বয়সে শাহজাদা সেলিম তথা সম্রাট জাহাঙ্গীর হাজির হয়ে নির্মাণ করবেন সমাধিসৌধ আর রচনা করবেন করুণ প্রেমের কবিতা?

এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্যে ‘কিছুটা ঐতিহাসিক, কিছুটা কাল্পনিক চরিত্র আনারকলি’ ও তাকে ঘিরে প্রবহমান প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলীর ঐতিহাসিক পর্যালোচনা ভিত্তিক এই রচনা। আমার রচিত ‘দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্র্যাজিক হিরো’ (প্রকাশক: স্টুডেন্ট ওয়েজ) গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করায় মুঘল মূল-ইতিহাসের বাইরের এই রহস্যময়ী চরিত্র ও আখ্যানকে বাংলাভাষী পাঠকের সামনে উপস্থাপনে উৎসাহী হয়েছি। উর্দু ও ইংরেজিতে আনারকলির ঘটনাবলী ও প্রাসঙ্গিক ইতিহাস নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। যেগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। আনারকলির প্রসঙ্গে তাকে নিয়ে নির্মিত অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’ সম্পর্কেও আলোকপাত করেছি। চেষ্টা করেছি ইতিহাস ও মিথের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মুঘল হেরেমের রহস্যময়ী নতর্কী ও বিয়োগান্ত প্রেমের নায়িকা আনারকলিকে অনুসন্ধানের।

;

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনায় আক্রান্ত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) তাঁর কোভিড–১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। বতর্মানে তিনি নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বইমেলার উদ্বোধনের জন্য গত ২ জানুয়ারি মালদহ গিয়েছিলেন শীর্ষেন্দু। সেই বইমেলা স্থগিত হয়ে যায়। মালদহ থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর তাঁর সর্দি, কাশি এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। সন্দেহ হলে সোমবার তিনি নমুনা পরীক্ষা করান। মঙ্গলবার কোভিড–১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। এ খবর তিনি নিজেই জানিয়েছেন।

লেখক বলেন, ‘জ্বর আসেনি কখনও। উপসর্গ হিসেবে ক্লান্তি, দুর্বলতার সঙ্গে স্বাদহীনতা রয়েছে।

;