চাঁদের থালা ও পেটকাটা ষ সংক্রান্ত গল্প



খান রকিব
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

একটি অতিক্রান্ত সন্ধ্যাকে পেছনে ফেলা যাক। তুলে আনা যাক একটি দৃশ্যপট। রমনা কালী মন্দির। খোলা আকাশের নিচে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান। কিছু লোক তাদের যাপিত সন্ধ্যায় গ্লানি মোচনের চেষ্টায় স্বচ্ছ চায়ের কাপে তুমুল দ্বন্দ্ব জুড়ে দেয়। রমনা কালী মন্দিরে কেন গরুর দুধের চা-ই পাওয়া যায়? কেন লঙ ও আদার পরিমিত মিশ্রণের রঙ চা নয়? কারণ এখানে থালার মতো চ্যাপ্টা বন রুটি পাওয়া যায়। বন রুটির ক্রিমের সাথে গরুর দুধের চা; খুচরো খাবার হিসেবে জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত পাহাড় ডিঙিয়ে প্রায় আকাশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। খুচরো আলাপের সাথে তুমুল দ্বন্দ্ব হয়; চিনির কৌটা ও চায়ের কাপের অন্তমিলে বাজে টুং টাং সঙ্গীত। তারপর একটি দৌড় প্রতিযোগিতার অলস খরগোশের মতো ঐ যে অতিক্রান্ত সন্ধ্যা যখন ক্রমে রাতের দিকে যাত্রা শুরু করে তখন রমনা কালী মন্দিরের আকাশে উদিত হয় ঝলমলে থালার মতো গোটা চাঁদ। মন্দিরের পুকুর, পাকা ঘাট। ঘাটের সিঁড়ির কয়েক ধাপ নিচে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে থাকা বিপুল। ভাতের সন্ধানে এসেছিল ঢাকায়।

ভাতের বদলে সে শুয়ে থাকে রাস্তায়, ফুটপাতে, পুকুর ঘাটে। সন্ধ্যার আগে কাছাকাছি কোথাও ঝড় হয়েছে, সাথে বৃষ্টিও। এখন পরিষ্কার আকাশ। পূর্ণিমা চাঁদ আর শীতল বাতাস। সেই বাতাসের ঝাঁকুনিতে বিপুলের দেহ থেকে থেকে কেঁপে ওঠে। পূর্ণিমা চাঁদের আলো তার ম্লান মুখচ্ছবিকে কপট স্পষ্টতা এনে দেয়। দূরে কোথাও হাসনাহেনার মাতাল করা ঘ্রাণ যখন অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিপুলের নাকে লাগে তখন সে চোখ তুলে তাকায়। উপরে আকাশ, থালার মতো চাঁদ। নিচে বিপুল, পেটে ক্ষুধা। তারপর সেই থালা আরো নিচে নেমে আসে। একদম বিপুলের হাতের কাছে। ঝনঝনিয়ে বেজে ওঠে। অবিরাম অবিশ্রামে বাজতে থাকা থালার উচ্চস্বর হারিয়ে যায় দূরের পথে অগুনিত যানবাহনের কর্কষ হুইসেলে। কিন্তু ঐ যে আকাশে চাঁদের থালা, সেই থালায় ভাত নেই। চাঁদের থালায় কেন ভাত থাকে না? কারণ এ শহরে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই। পাবলিক টয়লেট কেন নেই? কারণ এই শহরে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত থালা নেই। এইসব ভাবতে থাকে বিপুল। ভাবনার অবকাশ পায় কিছু। যেহেতু বাহারি আহারে সময় ব্যয় করার ফুরসত নেই তাদের। যেন ছিল না কখনো! একটি বাদামওয়ালার এলোমেলো পায়চারি, উথালপাতাল ঘুরঘুর। কালী মন্দিরের চায়ের দোকানে সূক্ষ্ম, সুচালো তারে ঝুলছে রুটি। আর বিপুলের পেটে কুই কুই শব্দতরঙ্গ সঞ্চারিত করে ক্ষুধার পোকা। দূরের আকাশে ঐ প্রাগৈতিহাসিক স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, পরিপুষ্ট শূন্য থালা অথবা মন্দিরের তারে ঝুলে ঝুলে, ফুলে ফেঁপে ওঠা থালার মতো রুটির সাথে বিপুল নিজের কোনো নৈকট্য খুঁজে পায় না।

ফলে সে পুকুরের সিঁড়ি থেকে উঠে আসে। গাঝাড়া দেয়। পেছনে পড়ে থাকে জ্যোৎস্নায় সুরভিত হাসনাহেনার পাশে থলথলে পুকুর। উপরে বাঁশের কঞ্চিতে বসে থাকা বুভুক্ষু মাছরাঙা। ঘাটে জমে থাকা উচ্ছিষ্ট সিগারেট; যেন বিপুলের জীবনের যাবতীয় ক্লেদাক্ত অনুসন্ধি।

বিপুল হাটে। সাথে সাথে চাঁদও হাটে। চাঁদের কি পাখা গজিয়েছে? নাহ তাহলে তো চাঁদ উড়ে উড়ে দূরান্তরে হারিয়ে যেত! এই চাঁদ হারায় না। তবে আড়াল হয়। এইসব নাগরিক নিয়নের শিয়রের পাশে দাঁড়ালে পূর্ণিমা তার পুঁজি করা আলো নিয়ে আড়াল হয়ে যায়। পুঁজির কেস সালা দারুণ চক্কর। মানুষের ক্ষুধা ভুলিয়ে দেয়। থাকে কেবল পিপাসা। বাড়ে শুধু পানির চাহিদা। এই শহরে এমন কোনো টিউবওয়েল নেই যা বিপুলের পিপাসা মেটায়। তথাপি পানি তো কেনাই লাগে। কিন্তু ঐ যে সেই একই রকম টাকার অসুখ!

রাত ক্রমশ গতিশীল। সারি সারি গাড়ি ছুটে চলছে ভাবনাহীন। ছুটছে মানুষ, ঝুলছে ভিক্ষুক মুক্ত এলাকায় ভিখিরির মূর্তি। হাঁটছে তারা, চাঁদ-থালা ও বিপুল। টিএসসি, শাহবাগ, বাংলামোটর ফার্মগেট। মানুষের এইসব আধাকৃত্রিম ছুটে চলায় বিপুলের বুকের ভেতরটা হুহু হাওয়া জাগানিয়া গান গেয়ে নেচে ওঠে। চাঁদের পায়ের সাথে তার চটিজোড়ার সংঘর্ষ বাঁধে। থমকে যায়। আর এমন একটা নরমাল রাত নিয়ে ভাবে, যা সে গত তিনদিন ধরে কাটিয়ে যাচ্ছে। উষ্কখুষ্ক চুল, আস্তিন গোটানো গায়ের জামায় ঘামের বিদঘুটে গন্ধ, পরনের জিন্সে জমা ধুলোবালির স্তর, ধূলি ছাড়া এই শহরে বিপুলের খাবার মতো কোনো আহার নেই। গ্রামীণ জনপদ ছেড়ে সে যখন ঢাকায় আসে, এই তো তিনদিন আগে, তারপর ইন্টারভিউ, চাকরি, স্বপ্ন, নিশ্চয়তা কতকিছু। পূর্ণ হলো কই? এখানে এসে বিপুলের স্বপ্ন হয়েছে ধূলিস্মাৎ। তার বদলে পথের যাবতীয় ধুলোবালি মাথায় নিয়ে ছুটছে সে।

গন্তব্যহীন মানুষের থাকে কেবল হাঁটার মতো রাত। কিন্তু তার দুটি ক্ষুধার্ত দুপুরও গড়িয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে। তারপর আর তো যেতে চায় না সময়। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের মতো থমকে আছে। উদ্যানের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছে ফুটপাতের সস্তা ভাত। শাহবাগের বুড়ি মহিলার ডেকচিতে সরিষা ফুলের মতো ফুটে থাকা খিচুড়ি।

বিপুলের পেট মোচড় দিয়ে ওঠে। ফার্মগেটের ফুটওভার ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে খ্যাকখ্যাক করে হাসে। গলার কাছে আটকে থাকা জীর্ণতা বমির সাথে বের করে দিতে চায়। কিন্ত বিপুল বাস্তব জীবন ও রূপকথার পার্থক্য অনুধাবন করে। ফলে রূঢ় বাস্তবতা বিপুলের গলা টিপে ধরে। সে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাতে চায়। ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি, ছুটতে ছুটতে মহাখালী রেলক্রসিংয়ে এসে থামে। এখন মধ্য রাত। রেলক্রসিংয়ের আশপাশ প্রায় জনশূন্য। একটি চায়ের স্টল খোলা পড়ে আছে নীরবে। কোলাহল নেই, মানুষের চনমনে আমেজ ঢেকে গেছে নিদ্রার আবেশে। কেবল কিছু নিশিশ্রমিক কাজের ফাঁকে জিরিয়ে নেওয়ার অবকাশ হিসেবে বন রুটির সাথে কলা খাওয়ার কৌশলে ঝাঁপ দিয়েছে চা স্টলে। রাজধানীর ঐতিহাসিক জ্যাম হটিয়ে কিছু দূরপাল্লার বাস তেড়েফুঁড়ে ছুটছে গন্তব্যের দিকে। রেলক্রসিংয়ের ঐপাশে সোডিয়াম আলোর ঝলকানিতে ম্লান পূর্ণিমা রাত। এইপাশে রেললাইন, নিচে অন্ধকার। সমান্তরাল রেললাইনের ওপর দাঁড়ানো বিপুল। আর ঠিক ঐ মুহূর্তে চলমান দৃশ্যপটের সমাপনী বার্তা হিসেবে আকাশে উদিত ভাতহীন চাঁদের থালা মেঘের পাহাড়ে আঘাত হানে। বিচূর্ণ চাঁদের থালায় ধ্বস নামে; লীন হয়ে থাকে কালো ঘেমের চূড়ায়।

মহাখালি রেলক্রসিংয়ে পুনর্বার যখন বৃষ্টি আসে, তার আগে আচমকা আকাশ গুমোট হয়ে যায়। গাঢ় রাত্রির আঁধার আরো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়, তুমুল বাতাসে ধূসর ধূলিঝড়ে চোখ-মুখ নিভে যায়। রেললাইনের অনতিদূরে বয়সের ভারে ন্যুব্জতার প্রতীক ডাব গাছ নড়ে ওঠে, শাখা নেই, ডাল নেই, পাতা নেই, শুধু শরীর। দৃষ্টির সীমানায় একটি কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে উড়ছে নীল পলিথিন দুরন্ত বাতাসে। তারপর আসে বৃষ্টি, তারপর মেঘ উড়ে যায় আকাশ থেকে আকাশে। আর নিচে বৃষ্টির ফোঁটা মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে, একাকী বিপুল। কোথাও হয়তো কোনো নাগরিক বারান্দার গ্রিলে এইসব বৃষ্টির ফোঁটা রোমাঞ্চকর সঙ্গীতের বয়ান নিয়ে আসে। কিন্তু এইখানে ভিজে যাচ্ছে ফ্লাইওভার, ভিজে যাচ্ছে নর্দমা ও প্রস্রাবাগার। ভিজে যাচ্ছে গেরেজ ভিজে যাচ্ছে রাস্তা ও কংক্রিট। ভিজে যাচ্ছে চোখ, ক্ষুধার শোক মুষলধারে বৃষ্টিস্নাত এই রাত্রি বেলায়। আর তখন একটি উড়োজাহাজ আকাশে উড়ে যাচ্ছিল ইস্পাতের রেললাইনকে আড়াআড়ি অতিক্রম করে। বিপুল অকস্মাৎ উপরে তাকায়। উড়োজাহাজের শব্দের তীব্রতায় তার মাথা ঝিমঝিম করে, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে ওঠে; ক্ষুধায় অথবা ক্লান্তিতে। সে রেললাইনের ওপর লুটিয়ে পড়ে বাঁধাহীন। বিপুলের জড়োসড়ো হয়ে যাওয়া শরীর যেন অন্তস্থ য এর আকৃতি ধারণ করে। আর তখন দূরে কোনো এক স্টেশন থেকে হুইসেল বাজিয়ে ছুটে আসে পুঁজি অথবা দুঃখের ট্রেন।

ট্রেন, রেললাইন আর খুব কাছের সেই চায়ের স্টল, বিপুলের জীবনের সর্বশেষ দৃশ্যপট। উজ্জীবিত হেডলাইট জ্বালিয়ে, কু ঝিকঝিক করে ট্রেন আসে, চলে যায়। বিপুল কাটা পড়ে। একটি আর্তনাদের জ্বলন্ত ধ্বনি আশপাশের বাতাসের সাথে মিশে গেলে, তন্দ্রাঘোরে আটকে থাকা স্টলের লোকটি আচমকা মাথা তুলে তাকায়। দ্যাখে, একটি দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে আছে রেললাইনের ওপর। পেট বরাবর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দেহের নিচের ভাগ নড়েচড়ে উঠছে। উপরে চোখ মিটমিট করছে। বৃষ্টির জলের স্বাভাবিক স্রোতের সাথে মিশে যাচ্ছে রক্ত। লোকটি ছাতা মাথায় ধরে এক গ্লাস পানি নিয়ে এগিয়ে গেল। দেখল যে, মরেনি, বেঁচে আছে। জিজ্ঞাসা করলো নাম, পরিচয়। বিপুল বলতে পারল না কিছুই। লোকটি পানির গ্লাস এগিয়ে ধরল মুখে। বিপুল মাথা নেড়ে অসম্মতি জানাল। তারপর তর্জনী উঁচিয়ে ধরল ঐ চা স্টলের দিকে। লোকটি তাকাল এবং দেখল, ৬০ ওয়াট বাল্বের আলোয় চকচক করছে পলিব্যাগে মুড়ানো থালার মতো চ্যাপ্টা বন রুটি। লোকটি দৌড়ে চলে গেল। পেছনে অন্তস্থ য এর আকৃতিতে কাটা পড়ে পেটকাটা ষ হয়ে পড়ে রইল বিপুল।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;