ছোট রাজপুত্র : এক নিঃসঙ্গ গ্রহচারী



মাহরীন ফেরদৌস
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

যে কোনো এক সকালে কাঁধে একখানা ব্যাকপ্যাক নিয়ে নিরুদ্দেশ যাত্রায় চলে যাওয়ার মতো বিচিত্র ইচ্ছে বোধকরি এই পৃথিবীতে অনেকেরই আছে। সে ইচ্ছে সবাই পূরণ করতে না পারলেও; বহু বছর আগে ভিনগ্রহের এক ছোট রাজপুত্র পেরেছিল ঠিকই। আর নানা গ্রহের অদ্ভুত সব অধিবাসীদের সাথে পরিচিত হয়ে উপভোগ করছিল তার ভ্রমণ। 'সোজা গেলে বেশি দূর যাওয়া যায় না' এমন এক ছোট্ট গ্রহ থেকে রাজপুত্র শুরু করে তার যাত্রা। জানা কথা, মঙ্গল, শুক্র, নেপচুন ও পৃথিবীসহ নানা চেনা গ্রহ-উপগ্রহ সৌরজগতে থাকলেও পাশাপাশি আছে শত শত বেনামী গ্রহ। এমনই এক গ্রহ থেকে এসেছিল সে। আমরা যদি বয়স্ক মানুষের মতো ভেবে দেখি; তাহলে এখন হয়তো প্রশ্ন করে বসবো, কত বড় আয়তন সেই গ্রহের, কত জনসংখ্যা, ওজন ক্যামন কিংবা নাম কী? আর যদি মন রাখতে পারি সতেজ ও শিশুসুলভ তাহলে হয়তো বলবো, সেই গ্রহে আকাশের রঙ কি নীল? প্রজাপতি উড়ে? বৃষ্টি হয় নাকি বর্ষাকালে? সেইসব প্রশ্ন একপাশে রেখে বরং এইটুকু আপাতত জেনে নেওয়া যাক, রাজপুত্রের নক্ষত্রকে ডাকা যাবে বি-৬১২ নামে।

সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া এক বৈমানিক যখন বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হন; তখন সেখানেই তার দেখা হয়ে যায় চারপাশে রহস্য ঘনিয়ে ওঠা নির্লিপ্ত এক রাজপুত্রের সাথে। মার্কিন দেশে যখন ভর দুপুর; ফরাসিতে তখন সন্ধ্যা নামে, এমন এক দোলাচলের সময়ে রাজপুত্র চায় বৈমানিককে নিয়ে সূর্য ডোবার পালাবদল দেখতে। বৈমানিক জানতে পারে রাজপুত্রের গ্রহসহ তার নানা অভিযানের কথা। আর 'থ্রু দ্য লুকিং গ্লাস' এর মতো রাজপুত্র ঘুরে আসে এক বৃদ্ধ রাজার অধিবাসে, যে ভাবতো 'সকল মানুষমাত্রেই তার প্রজা'। আরেক গ্রহে সে খুঁজে পায় এক আত্মভিমানী লোক; যে হাততালির মাধ্যমে টুপি খুলে প্রশংসা ও স্তুতিবাক্য শুনতে ইচ্ছুক। এরপর একে একে আসে মদ খাওয়ার লজ্জা ভুলে যেতে চাওয়া মাতাল, যোগফল নির্ভুল করতে চাওয়া ধনী ব্যবসায়ী, ল্যাম্প পোস্টের বাতি জ্বালাবার লোক। দেখা দেয়; মোটা মোটা বই লেখা এক ভৌগলিক, যে কেবল দেশাবিস্কারকের কাছ থেকে জ্ঞানটুকুই টুকে নেয় কিন্তু নিজে কোথাও যায় না। সবশেষে সে পায় নীল-সবুজ গ্রহ পৃথিবীকে। সেখানে পরিচিত হয় সাপ, ফুল, গোলাপ বাগান, একাকী পর্বতমালা ও এক খেঁকশেয়ালের সাথে। উপন্যাসের প্লট টুইস্টের মতো জানা যায়, নিজের গ্রহের প্রিয় ও একমাত্র লাল গোলাপের সাথে অভিমান করে রাজপুত্র নেমে এসেছে পৃথিবীতে। সাথে সাথেই যেন এই অভিমান, বিচ্ছেদ আর টকটকে একটি লাল গোলাপ পাঠকদের মনে করায় ১৭৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত ফরাসি ঔপন্যাসিক গ্যাব্রিয়াল সুজান দে ভেলনুয়েভার লেখা বিশ্ব বিখ্যাত আরেক রূপকথা 'সুন্দরী ও কদাকার' এর স্মৃতি। ফলে এক গল্প নদীর মতো বাঁক বদল করে চলে যায় অন্য গল্পে। প্রচণ্ড অমিলের সমীকরণে জেগে ওঠে কিছু মিল।

সেই রূপকথায় এক বৃদ্ধ সওদাগর ঝড়ের কবলে পড়ে আশ্রয় নেয় জনশূন্য, রহস্যময় এক প্রাসাদে। রাজ্যের মুখরোচক খাওয়া, আরামদায়ক ঘুম ও বিশ্রামের সুযোগ সুবিধা নিয়ে পরদিন বৃদ্ধ যখন মনে মনে প্রাসাদের মালিককে ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ির পথ ধরতে যায়, তখনই তার চোখ পড়ে এক ফুল বাগানের দিকে। আর তার মনে পড়ে; সব সন্তানেরা তার কাছে দামী পোশাক, গহনা, উপহার সামগ্রী চাইলেও সবচেয়ে ছোট কন্যা, বইপড়ুয়া বেলা চেয়েছে একটি টকটকে লাল গোলাপ। যে ফুলটি তাদের গ্রামে পাওয়াই যায় না। তাই বাগানের সবচেয়ে সুন্দর গোলাপটি ছিঁড়ে নেয় সে, আর তখনই বজ্রের মতো প্রাসাদের ভেতর থেকে জান্তব হুঙ্কার দিয়ে ওঠে কেউ। এক কিম্ভূতকিমাকার কুৎসিত চেহারার জন্তুর হাতে আটকা পড়ে সওদাগর। ক্ষমা প্রার্থনার পরেও কুৎসিত জন্তুটি তাকে ছাড় দেয় না। বরং জানায় এক শর্তে সে পাবে মুক্তি; যদি বৃদ্ধের কোনো সন্তান এসে তার বদলে জিম্মি থাকে প্রাসাদে। আর এমন বিচিত্র শর্তের পরিণতি হিসেবে নিজের পিতাকে বাঁচাতে রাজপ্রাসাদে এসে ধরা দেয় বেলা। সুনসান প্রাসাদে কুৎসিত জন্তুটির পাশাপাশি আতংকিত হয়ে বসবাস করার সময়ে কেবল একটি স্থানই থাকে; যেখানে বেলা খুঁজে পায় নিজের শান্তি ও ভালোলাগা। তা হলো, প্রাসাদের বিশাল বড় লাইব্রেরি। যেখানে আছে শত শত বই। আর এভাবেই দিন পার করতে করতে বেলা ও কুৎসিত জন্তুটি কৌতূহলী হয়ে ওঠে পরস্পরের প্রতি। হয়ে যায় বন্ধু। প্রকৃতপক্ষে জন্তুটি ছিল এক অভিশপ্ত রাজপুত্র; যে হারিয়েছিল নিজের আসল রূপ, আত্ম-অহমের কারণে। কুৎসিত অবয়বের আচ্ছাদন পেরিয়ে কেবলমাত্র সত্যিকারের ভালোবাসা পেলেই সে ফিরতে পারবে স্বরূপে। নয়তো রাজপুত্রের জীবনের সময়ঘড়ি থেমে যাবে, একটি লাল গোলাপের মুষড়ে পড়ার সাথে সাথেই। সেই গোলাপের সাথে জুড়ে থাকা দু'জনের রূপকথা তখন আমাদের চোখে যেন হয়ে ওঠে সময়ের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত গল্প। মনে হয় আসলে এখানে কোনো মিথ, ম্যাজিক কিংবা কল্পনা নেই। যুগে যুগে মানুষের মাঝেই লুকিয়ে থেকেছে অমানুষ, অমানবিকতার বেশে সেঁটে থেকেছে নানা মুখোশ ঠিক কুৎসিত জন্তুটির মতোই। যার ফলে তারা ভুলেছে অন্যকে ভালোবাসতে। উপকার করতে। মানবিক হতে। রূপকথার এই জন্তুটি যেন প্রথাগত সমাজ ব্যবস্থা ও সৃষ্টির সেরা জীবের আত্মকেন্দ্রিকতার প্রতীক। যেখানে দরকার বেলার মতো আলোকিত, উদার কেউ। যে ছড়াতে পারে জ্ঞান ও ধৈর্য্যের সুবাতাস, যে চায় বাইরের রূপটুকু এক নিমিষে সরিয়ে অন্তরের ভেতরে আলো ফেলতে। যে বই পড়ে, যার প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নতুন করে তাজা হয়ে ওঠে কুৎসিত জন্তুর মন থেকে শুরু করে মুষড়ে পড়া গোলাপ ফুলটিও।

‘সুন্দরী ও কদাকার’ এর গল্প যেমন করে আমাদের সামনে আটপৌরে রূপকথাকে করে ফেলে আধুনিক, তেমন করেই মনে হয় ভিনগ্রহের রাজপুত্র ও তার লাল গোলাপের কাহিনীরও আছে ভিন্ন আঙ্গিক। ঠিক যেন পৃথিবীতে থাকা সাপের বলা একটি হেয়ালিপূর্ণ কথার মতো সত্য, 'লোকেরা বাড়িতেও প্রত্যেকে একা'। কিংবা বয়স্ক মানুষদের মতো একপেশে দর্শন, যেখানে হৃদয়ের চেয়ে সংখ্যাই তাদের কাছে বেশি মূল্যবান। আর খোঁড়া সিস্টেমের যাঁতাকলে হাঁসফাঁস করতে থাকা পাঠক বুঝতে পারে আস্ত হাতি গিলে ফেলা বোয়া অজগরের ছবিটির মতো তাদেরকের গিলে নেবে কোনো না কোনো সিস্টেম যদি শুরুতেই 'বাওবাব' নামের ধ্বংসাত্মক ও বিষাত্মক গাছকে উপড়ে না ফেলা হয় তো। আর এই ফাঁকে আদেশ দিতে ভালোবাসা, পার্থিবতা, কৌতুক ও নিষ্ঠুরতা প্রিয় নানা গ্রহবাসীদের উদ্ভট সব নিয়ামবলীর মাঝে; একাকী সূর্যাস্ত উপভোগ করতে চাওয়া বিষণ্ণ রাজপুত্রকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানায় খেঁকশেয়ালটি। জানায় কেন কাউকে পোষ মানাতে হয়। কেন পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ থাকার পরেও নির্দিষ্ট কেউ আমাদের চোখে হয়ে ওঠে অনন্য। কেন তার চিন্তা ও যাপনকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডি অথচ ইতিবাচক কেয়ার ইমোটিকনসের মতো আঁকড়ে ধরতে চাই। সাদা চোখে সে পৃথিবীর অন্যসব মানুষের মতো হবার পরেও তার গায়ের ঘ্রাণ, চলার শব্দ, তাকানো কিংবা কন্ঠ হয়ে ওঠে আমাদের পরিচিত অংশ। কারণ আর কিছুই নয় ফার্সি কবি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমির মতো বলা যায়, ‘যা কিছু আমরা খুঁজি তা খুঁজে নেয় আমাদেরকেও’। আমরা যাকে পোষ মানাই তার কাছে নিজেও মেনে নেই পোষ। আর এক ভিন্নতর যোগাযোগ শুরু হয়ে যায় যা, খালিচোখে দেখাই যায় না। অথচ ছোট রাজপুত্র বইটিই আমাদের জানায়, যা কিছু চোখে দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায় তাই এই বিশ্বে তুমুল শক্তিশালী, সবচেয়ে খাঁটি।

ছোট রাজপুত্র ভাবে, সে তার গ্রহে গোলাপটি প্রথম দেখে ভেবেছিল এমন সুন্দর ফুল আর কোথাও নেই। ফুলটিও স্বীকার করেছিল সারাবিশ্বে তার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না, কিন্তু খেঁকশেয়ালের সাথে পোষ মানানো উত্তাল বন্ধুত্বের সময়ে রাজপুত্র পৃথিবীতে পেয়ে যায় এমন এক বাগান যেখানে আছে শুধুই গোলাপ। প্রথমে নিজেকে প্রতারিত মনে হলেও নতুন করে বুঝতে পারে আসলেই তার ফুলের কথাটি ছিল সত্য। সহস্র ফুল বাগানে থাকলেও তার ফুল ছিল কেবল একটিই। এভাবেই একের পর এক উপলব্ধির গিঁট খুলতে খুলতে রাজপুত্র এগোতে থাকে সামনে।

'বয়স্কমাত্রই তো একদিন ছোট ছিল' এ কথাটা মনে রাখে না অনেকে, চোখের আড়ালেই আসল চোখটা থাকে লুকিয়ে তাও সময়ের সাথে ভুলে যায় সকলে। রাজপুত্রের অভিযান যেমন তাকে দেয় মনোরম নানা বোধ, মরুভূমিতে আটকে থাকা বৈমানিকও যেন এক পর্যায়ে পেতে থাকে নতুন জীবন দর্শন। যেন বস্তুবাদী দুনিয়ার দেয়াল শুরু করে ভাঙতে। আর গমখেতের ওপর দিয়ে তীব্র বাতাস বয়ে চলা সময়ে স্মৃতিচিহ্ন রেখে বিদায় নেয় খেঁকশেয়াল। প্রায় একইভাবে বিদায় নেয় বৈমানিকের কাছ থেকে রাজপুত্রও। লম্বা সময় পেরিয়ে বৈমানিক ফিরে আসে নিজ দেশে, কিন্তু জানতে পারে না কী হলো এরপর সেই ছোট রাজপুত্রের। হয়তো সে চলে গিয়েছে তার অচেনা গ্রহে, হয়তো হারিয়েছে পথ। সাপে কেটেছে কিংবা তার গোলাপ ফুলটিকে আর অক্ষত পায়নি বলে সে তলিয়েছে মেঘের আড়ালে। পাঠকের আর পরিণতিটুকু জানা হয় না। তবে এক্সপ্রেস ট্রেন রাতের অন্ধকার চিরে যেভাবে চলে যায় আলো ছড়িয়ে, কিংবা কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশে যেভাবে পথশিশুদের মুখে ফুটে ওঠে বিকেলের রোদ, যেভাবে আত্মহত্যা প্রবণ জাপানী লোকগুলো অকিগহরা জংগলে যায় মিলিয়ে, সেভাবেই পাঠকের মনে ভালো-মন্দ উভয় আশংকা কাজ করতে থাকে। পাঠক যেন বাস্তব, অবাস্তব, পরবাস্তবতাকে গেঁথে ফেলে একই সূতায়। ছোট ও বড়ো মানুষের মাঝের দেয়াল গুঁড়িয়ে; সেতু বানিয়ে, জনপদ থেকে জনপদ ঘুরে বেড়াতে থাকে বি-৬১২ গ্রহের এক নিঃসঙ্গ গ্রহচারীর মতো।

তবে আশার কথা, গভীর রাতে আকাশে পৃথিবীর সুন্দরতম, বিষণ্ণতম যে দৃশ্য জেগে ওঠে তাতে পাঠক রাজপুত্রকে খুঁজে না পেলেও তার আবছায়া যেন পরবর্তীতে বইয়ের দোকান কিংবা অন্তর্জালে বিল ওয়াটারসনের কমিক বুক 'কেলভিন এ্যান্ড হবস' -এ পেয়ে যায়। ছয় বছর বয়সী কেলভিনকে মনে হয় বৈমানিকের শৈশব আর তার কাল্পনিক বন্ধু হবসকে মনে হয় সোনালি চুলের রাজপুত্র। তিব্বতের টিনটিন, চাচা চৌধুরী যতই রাঙিয়ে দিয়ে যাক; ফেলে আসা ছেলেবেলার ঝোলা কাঁধে পুরানো শহরে হেঁটে যাওয়া কোনো এক চিরতরুণ গল্পবুড়োর মতো 'দ্য লিটল প্রিন্স' বা ছোট রাজপুত্রকে জীবনে চেনা যায় বার বার। বন্ধ চোখে বাতাসে কান পাতলে শোনা যায় তার প্রাণোচ্ছল হাসি। সংখ্যাতত্ত্বে জর্জরিত পুঁজিবাদের জীবনে আজও এক পলক থমকালে; যুক্তির মেঘগুলোকে ঠেলে পেছনে ফেলে একটু দাঁড়িয়ে অনুভব করা যায়, ভেতরের শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা আর একটি লাল গোলাপের জন্য খাঁটি ভালোবাসা বাদে হয়তো বেঁচে থাকার কোন দীর্ঘ অর্থ নেই এই পৃথিবীতে।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;