অনিদ্রার দেহ থেকে পড়ছে খসে গোলাপজামের বন

তানিম জাবের
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

মাছের আকার

তোমাকে ছিল না যত
না ছিল দেখার
সে সব হয়ে উঠেছে
মৃত মাছের আকার
এক চোখ খোলা তার
পৃথিবীর পানে
যেন অকরুণ
সে মৃত্যুকে জানে
অন্য আরেক চোখ
ঢাকা পড়ে আছে
মৃত সে দেহের নিচে
মৃত মৃত মাছে
মৃত সে মাছের নিচে
পরে থাকে মাছ
যেন সে অরণ্য থেকে
কেটে ফেলা গাছ
গাছের আকারে ভাসে
মৃত মাছের শরীর
দূর থেকে দেখা তারে
যেন সে বা স্থির
ধীরস্থির সে গাছেরে
দেখে লাগে তীর
যেন চর হয়ে জাগা
বিলীন নদীর
নদীটিও মরে—
থেকে নৌকায় বাঁধা
সে-তো একা কৃষ্ণ
মাছেরা সহস্র রাধা।

দৃশ্যপতন

কেন্দ্রিক কক্ষগ্রস্ত অস্তি-মজ্জাময় এই অনুভূতির ব্যবচ্ছেদ চলে।
চলে নায়লনের ফসকে যাওয়ার মতো-ধরে রাখার মতো আকুতি।
তদুপরি চলে ভাসান-দোলন, যেন অনিদ্রার দেহ থেকে পড়ছে খসে গোলাপজামের বন।
যেন শল্য ছুড়ে মারে ধরণী সময়ের শুশ্রুষায়।
এ যামিনী তবু রয় ফুরাবার তরে, এ যামিনী যেন না ফুরাবার তরে, রয়।

একটা সাইকেল টুংটাং করে সূর্যটাকে আরো মাগরিবে নিয়ে যায়,
এইসব ভবিতব্য মুহূর্তের প্রারম্ভে।

শূন্যতা

পাল পাড়ায়
নামছে আজ
এক রতি
শূন্যতা
তার পিছু
রাত গভীর
রাবার বন
নেই পাতা
গাছগুলো
মৌনতায়
গোপন এক
কষ অসুখ
ঝরাচ্ছে
বিরামহীন
সফেদ সে
কোন ক্ষত
প্রায় মতো
গড়াচ্ছে
মাঝখানে
ঝুলছে এক
পাত্র সে
নয় মাটির
ছিদ্রমূল
গাছ নাভির
ভেতরকার
প্রায় গভীর
এমন রাত
চিৎ লোপাট
হরহরায়
চারপাশে
আমরাও
ঘামছি তাই
একত্রে
তার পাশে
হঠাৎ এক
রাত পাখি
দেয় ডাকি
চিৎকারে
চমকে তাই
ফসকে যাই
বরশি টোপ
ঘাঁই মতো
এর ফাকে
চুপচুপে
ছলকে যাই
খুব ঝুঁকে
শ্বাস এটে
পার হতে
মুখবুজে
ধুকপুকে
বুক চেপে
চোখ খিচে
হাতড়ে প্রায়
পৌঁছে যাই
পাল পাড়ার
শেষ দিকে।

হাফ ছেড়ে
ঘাম মুছে
যেই ঠোঁটে
শিস কাটি
দল ছাড়া
কোত্থেকে
পাশ ঘেষে
দেয় ঝাকি
চকমকে
ডানায় তার
শীতের ওশ
পড়ছে ভোর
হঠাৎ কেউ
ট্রেন থেকে
ফোন দিয়ে
নিচ্ছে খোঁজ
কেমন তার
বাজছে হর্ন
যেই তাকে
জিজ্ঞাসি
পাথর তার
সানগ্লাসে
মুখজুড়ে
নেই হাসি।

এই জীবন
এমন এক
কু ঝিক ঝিক
রেলগাড়ি
চলছে সে
ক্লান্তিহীন
দুনিয়াটাই
তার বাড়ি।

ক্ষত

আমার চইলা যাওয়ার দুঃখ নিয়া—
বারান্দায় ক্ষত শুকাইতে আসো—
কাপড় শুকানোর নামে।
ছাদ তো বন্ধই থাকে,
আকাশ ছাড়া এইসব ক্ষত
কেমনে শুকাও কাপড় শুকায়ে যাওয়ার আগে?
বিরহে?
রাগে?

ঘাস সবার জন্য ফোটে

মাঠের ভেতর সবুজ ঘাস ছিল, থাকে—
সেই ঘাস কেউ ফোটায় না
মাঠের ঘাসেরা ঘাসের মাঠেদের কাছে
এইসব হ্যানত্যান নিয়া দরবার করতে যায়
এই ফাকে বৃষ্টি আসে
আরো ঘাস ফোটে
এবং পুনঃ পুনঃ দরবার চলতে থাকে
ফাঁকে ফাঁকে বৃষ্টিও হয়
মাঠের ঘাস ও ঘাসের মাঠেরা মিলিত হইতে পারে না
মাঠ থেকে মাঠের দূরত্ব বিবিধ বিধায়
এইসব দরবারও চলতে থাকবে
ঘাস ফোটা বন্ধ হবে না।