‘না’ শহর



তুষার আবদুল্লাহ
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

সেতু পার হলেই অন্য শহর। ট্রাক থেমে গেল সেতুতে ওঠার আগে। রাস্তা থেকে নিচের দিকে নামিয়ে রাখা হলো ট্রাকটি। রাশেদ লাফ দিয়ে নিচে নেমে পড়ে। উচুঁ রাস্তা থেকে দেখা যায় নিচে ট্রাক আর ট্রাক। কোনো ট্রাকেই মালামাল নেই। অন্য সময় দেখত খালি ট্রাকের পাশাপাশি পণ্য বোঝাই ট্রাকও থাকত। এক শহর থেকে অন্য শহরে যাবার সময় বিশ্রাম নিয়ে নিত এখানে। নদীতে ভেসে থাকা কার্গোও খালি পড়ে আছে। চারদিকে মানুষজন নেই। মধ্যরাত হলে কী হবে, কখনো এই জায়গাটিকে ঝিঁমুতে দেখেনি রাশেদ। ও এখন চায়ের দোকান খুঁজছে। গাভীর দুধের চা এখানে ভালো পাওয়া যায়। এখানে চা না খেয়ে শহর ছাড়ার অভ্যেস নেই রাশেদের। ট্রাক থেকে লাফ দেওয়ার সময় পেছন থেকে বউ ডেকে বলছিল—এই সময় কোন মরা তোমার জন্য চায়ের দোকান খুলে বসে আছে? চা, বিড়ি, সিগারেট এমনকি পরাটা ডিমের খুপড়িও বন্ধ। একটা খুপড়ির সামনে চটের ছালা ঝুলে আছে, কিন্তু বেঞ্চিটা রয়ে গেছে আগের মতোই। রাশেদ বেঞ্চিটার ওপর বসে পড়ে। পকেট হাতড়ে একটা সিগারেট বের করে। কিন্তু ওর সঙ্গে তো লাইটার, দেয়াশলাই নাই। চায়ের দোকানই যখন নাই, দেয়াশলাইর খোঁজ করে কী লাভ? বাসা থেকে বের হবার সময় চুলোর পাশে দেয়াশলাইর একটা বাকসো দেখেছিল। নিয়ে আসলেই হতো। কিন্তু এদিকটা যে মরুভূমি হয়ে আছে কে জানত।

বউ তো ট্রাকে ছেঁড়া তেনা তুলতেও ভুল করেনি। কিছুই রেখে যাবে না এই শহরে সে। শহরের প্রতি রাশেদের বউ ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। রাশেদ মালপত্র গোছাতে গোছাতে বলছিল—আর গরম হলে বিপদ আছে। ঘরে আগুন ধরে যেতে পারে। শেষ বেলায় কেলেঙ্কারী নিয়ে শহর ছাড়তে হবে। বউ আরো জ্বলে ওঠে—কেলেঙ্কারীর বাকি রইল কী? হুম রাশেদ কথা বাড়ায়নি। বাড়তে দিতেও চায়নি। সত্যি, কেলেঙ্কারীর বাকি তো কিছু থাকছে না। লজ্জা, অপমানের ষোল আনা নিয়ে বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে। এই বাড়িটায় যখন উঠেছিল ওরা, রাশেদের বউ এক দেখাতেই পছন্দ করে ফেলে। শোবার রুমের জানালা দিয়ে সামনে একটা তালগাছ দেখা যায়। অনেক লম্বা তালগাছ। সেদিন তালগাছে পাকা তাল ঝুলে ছিল। তাহলে ওরা কি ভাদ্র মাসে এই বাড়িতে এসে উঠেছিল? কী জানি। এখন তো আর পঞ্জিকা ধরে ফুল ফোটে না। আষাঢ়-শ্রাবণেও কাঁঠাল পাকে। জৈষ্ঠ্যে মাত্র মুচি আসে। পাপন তখন কথা বলতে শুরু করেনি। বউ ছেলেকে ঐ তালগাছ দেখিয়ে ছড়া কেটে যেত দিনরাত। পাপনের মুখে যখন কথা ফুটতে থাকে, তখন ও নিজেও তালগাছ নিয়ে কথা ছড়া শোনাত বাবাকে। অফিস থেকে ফিরে তিনজনের সময় কেটে যেত তালেতালে। একদিন পাপন নিজেই একটা ছড়া বানিয়ে ফেলেছিল—তালের পাতায় বৃষ্টি পড়ে, বাপ তোমাকে মনে পড়ে। মোবাইলে সে বাবাকে এই ছড়া শোনানোর পর, অফিসের কাজে সেদিন আর রাশেদ মন বসাতে পারেনি।

ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। ট্রাকে পাপনকে নিয়ে বউ একলা বসা। পলিথিন দিয়ে ট্রাক ঢেকে নিতে হবে। আকাশের দিকে তাকায় রাশেদ—মেঘ বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। খুব তোরজোর করে নামার মুরোদ নেই। রাশেদ ভাবে মেঘের অবস্থাও ওর মতোই। অভিমান, ক্ষোভে ওর মনটাও বিক্ষিপ্ত, কিন্তু তা প্রকাশের মুরোদ নেই ওর। আসলে ও বুঝতেই পারছে না, কার প্রতি ওর ক্ষোভ, অভিমান। ও তো নিজের ছোট মফস্বল শহরের থেকে যেতে পারত। কবিতা, গান, রাজনীতির পাশাপাশি বাড়ির সামনেই বসে পড়তে পারত ছোটখাটো কোনো দোকান দিয়ে। গ্রামে যতটুকু ফসলী জমি ছিল, সেখানে খামার করেও দিন চালিয়ে নেয়া যেত। ওর তো কখনো তালগাছের চূঁড়োতে ওঠার স্বপ্ন ছিল না। তাহলে এমন স্বপ্ন ওর করোটিতে বুনে দিল কে?

গ্রাম ছেড়ে শহরে চলো। এই গান তো কয়দিন আগেও ফুল ভলিয়মে চলেছে গ্রামে গ্রামে। কোনো ভবিষ্যত নেই গ্রামে। অবিশ্বাস হারাচ্ছিল গ্রামের ছনের ঘর, টিউবওয়েল, পুকুরের মাছ, নকশা পিঠা, লাল বিরুই চাল, ঝুঁটিওয়ালা মোরগ, কচু ঘেচু, ডেউয়া থেকে শুরু করে গ্রামে পাওয়া জ্বরের বড়ির ওপরও। শিক্ষা নেই, রোজগার নেই, চিকিৎসা নেই। সব গ্রামের নাম এক হয়ে গেছিল—নেই। সেই নেই থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে সবাই শহরের পথ ধরে। জমিতে ফসল সোনারঙ ধরে থাকে, সেই ফলন তুলে আনার মানুষ শহরে মোটরসাইকেলে গতি তোলে কিংবা যন্ত্র রিকশা নিয়ে ছুটে বেড়ায় গলি থেকে গলিতে। শহরে গাড়ির জানালায় গিয়ে হাত পাতাও গৌরবের।

রাশেদ সেই গৌরবের সৌরভ মাখতে কখন যে রওনা হয়ে গেল, কেন যে শহরে এলো, কোনো অঙ্কই মেলাতে পারে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান শেখানো। অঙ্কের মাস্টার হওয়া। বায়িং হাউজের মার্চেন্টডাইজারের চাকরি। মেরাদিয়া বস্তির মেস থেকে, দিলু রোডের ফ্ল্যাটে ব্যাচেলার মেস, সেখান থেকে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে একা ভাড়া থাকা। কত দ্রুত তালগাছ বেয়ে উঠে যাওয়া। এই উঠতি পথেই দেখা বউ চুমকির সঙ্গে। চুমকিও এই শহরের মেয়ে না। চুয়াডাঙ্গার এক অজ পাড়া গাঁয়ের মেয়ে। কল সেন্টারের চাকরি নিয়ে শহরে এসেছিল। মেয়েদের হোস্টেলে শহর জীবনের শুরু। কল সেন্টার থেকে সুপার শপে। সেখানেই রাশেদের সঙ্গে পরিচয়। সুপার শপে বাজার করার অভ্যেস ছিল না। একদিন সময় কাটাতে এমনিতেই সুপার শপে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, সেখানেই চুমকির চোখে চোখ আটকে যায়। তারপর নিয়মিত যাতায়াত, রেজার কেনার উছিলায়। চুমকিই ধীরে ধীরে ওকে ঝামেলামুক্ত রান্না বান্নার লোভ দেখিয়ে প্যাকেটে কুটে রাখা মাছ, সবজি কিনতে অভ্যস্ত করে। নাস্তাটাও দুধ আর কর্নফ্ল্যাক্সে নিয়ে আসে।

রাশেদ উঠে পড়ে। শহরের শেষ চা খাওয়া আর হলো না। ওদিকে পাপনকে নিয়ে ট্রাকের মালপত্রের ওপর বৃষ্টিতে ভিজছে চুমকি। বৃষ্টির গতি বাড়ছে। রাশেদ মুখ হা করে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জল খেয়ে নেয়। এমনটা সেই ছোটবেলা থেকেই অভ্যেস। ওরা যেদিন নিজেরা কাজী অফিস থেকে বিয়ে করে ফিরছিল, তখন হঠাৎ আকাশ ভেঙে পড়ে। হুডখোলা রিকশায় সেদিন ওরা দুজনেই হা করে মেঘের শরবত পান করেছিল। ওমন মুহূর্ত খুব একটা আসেনি। দুজনে কাজ শেষ করে যখন ঘরে ফিরত, তখন ক্লান্তি নিয়েই পরের দিনের যুদ্ধের প্রস্তুতি। পাপন আসার পর চুমকি আবদার করে—আমি একটু বিরতি নেই, তোমার খুব কষ্ট হবে না? কষ্ট হচ্ছিল কিনা রাশেদ বুঝতে পারেনি। রোজগারে বাড়িভাড়া, পাপনের স্কুল, খাওয়া-দাওয়া, মাঝে মধ্যে রেস্টুরেন্ট, কক্সবাজারে চলে যাওয়া, বেহিসেবি হয়েও চুমকি কেমন করে যেন সব সামলে নিয়েছে। কিন্তু এবারের আষাঢ়ে এসে মাথার ওপর ঠিক আকাশ ভেঙে পড়লই। শহরটাই কেমন গ্রামের মতো নাম নিয়ে নিল। বেতন না। চাকরি না। বাড়িভাড়া না। খাবার না। চিকিৎসা না। নতুন স্বপ্ন না। শহরের নাম এখন—না। এই যে গাভীর দুধের চা খেতে ইচ্ছে করল সেখানেও না।

রাশেদ দূর থেকে দেখে ট্রাক ঘিরে কিছু মানুষের জটলা। চুমকি চিৎকার করে কী যেন বলছে। কাছে যেতেই ভিড়ের লোকগুলো ওর দিকে ঘুরে দাঁড়াল। ওরা রাশেদদের ট্রাক আটকে দিয়েছে। টাকা ছাড়া শহর ছাড়তে দেবে না। রাশেদ কিছু বলে না। হাসে। ওর হাসি দেখে চুমকি বিস্মিত। রাগও হয়। ওর আর এক মুহূর্ত এ শহরে থাকতে ইচ্ছে করছে না। সেতু পেরোতে পারলেই বাঁচে। রাশেদের হাতের সিগারেট বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে। ও হাসতে হাসতে লোকগুলোকে বলে—ভাই এককাপ গাভীর দুধের চা খাওয়াতে পারবেন? না হলে একটা দিশলাইর কাঠি। গরিবের শেষ ইচ্ছা ভাই।

ওমিক্রণে থমকে গেছে বইমেলার আয়োজন



সজিব তুষার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এবারও থমকে গেছে লেখক পাঠকের প্রাণের আসর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। তুমুল উৎসাহ আর ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও কোভিড- ১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক থামিয়ে দিয়েছে কাজ। একটা বড় অংশের কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে গর্ত আর স্তূপ স্তূপ বাঁশ।

বরাবরের মত এ বছরেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা অমর একুশে বইমেলা-২০২২। সে অনুযায়ী, কাজ শুরু করে দিয়েছিলো আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো প্রকাশনী গুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লটারি পূর্ববর্তী কার্যক্রম। কাজ চলার মাঝেই বাঁধ সাধে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

গত ১৬ জানুয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানান, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বইমেলা। মেলার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বাংলা একাডেমির। সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করা যেতো বইমেলা'। 

সরকারের এই ঘোষণার পর থমকে গেছে পুরো উদ্যমে শুরু হওয়া মেলার স্টল তৈরির কাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, স্টল তৈরির জন্য মাঠে কাঠামোর বেশ খানিকটা তৈরি হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় পুঁতে রাখা রয়েছে বাঁশ। কিন্তু কাজ করতে দেখা যায়নি কোনও শ্রমিককে।

এবারের বই মেলায় প্রথম বই প্রকাশ হবে এমন এক তরুণ লেখক বায়েজিদ হোসেন বলেন, 'ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আমাদের রক্তে গেঁথে গেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনার তোপে পণ্ড হয় গতবারের মেলাও। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তায় বসে যাবে। এমন চলতে থাকলে খুব দ্রুতই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এখন পর্যন্ত যেটুকু টিকে আছে সেটা নষ্ট করে ফেললে; শিল্প সংস্কৃতির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।

যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা সঠিক সময়ে শুরু করার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থিক'র প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল বলেন, 'গতবারের মেলার অভিজ্ঞতার পর এবছর আর রিস্ক নেব বলে মনে হচ্ছে না। সম্ভব হলে জমা দেওয়া টাকাটা ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো'।

স্টলের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বাবদ খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'দুটা স্টলের জন্য জমা দিতে হয়েছে আগের থেকেও বেশি। ডেকোরেশন খরচ। স্টলের লোকের খরচ। তাদের এমন সিদ্ধান্তে আমি কোনভাবেই লস আটকাতে পারবো না'।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে গেলে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, "মহাপরিচালক- প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানানো পর্যন্ত কেউ কিছু বলতে পারবো না"।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থেকে তোলা বইমেলার প্রস্তুতিকালীন কাজের একাংশের ছবি। ছবি- বার্তা২৪.কম

 

এর আগে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই নেওয়া হচ্ছে বইমেলা শুরুর প্রস্তুতি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরও মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। আবার নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিলই টানে ইতি। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে দু'সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে আদতে বই মেলা হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বইমেলা মানেই হাজার মানুষের ভিড়। লেখক পাঠকের সমারোহ। তবে একের পর এক মেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুলো মেলা করবে কি না তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন সচেতন মহল।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা হোক চান বড় একটা অংশের নেটিজানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও তুলছেন তারা।


উল্লেখ্য, মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির গেইটে ১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে চট বিছিয়ে শুরু করেন বই বিক্রি। ১৯৭৭ সালে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে। ১৯৭৮ সালে এ বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় বাংলা একাডেমিকে। তখন মহাপরিচালক ছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী। পরের বছরই বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি যুক্ত হয় মেলার সঙ্গে।

মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় ১৯৮৩ সালে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' নামে এ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আর করা যায়নি। পরের বছর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আসর বসে 'অমর একুশে বইমেলা'র। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে কাগজের বইয়ের মুহুর্মুহু গন্ধ মাখা বইমেলাই যেন দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ভাষা সংগ্রামের কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকার জ্যাম ঠেলেও ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাণের গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ভাষা ও বইপ্রেমী মানুষের কাছে। সবাই চায় বইমেলা ফিরে পাক তার আগের জৌলুশ। বইয়ের সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের এই মিল বন্ধনের পুণ্যভূমি বেঁচে থাকুক সব অশুভ ছায়া থেকে।

;

অন্বেষণ মানে তো খোঁজ, এই খোঁজ হল আত্ম-অন্বেষণ...



সুবর্ণা মোর্শেদা, চিত্রশিল্পী
সুবর্ণা মোর্শেদা

সুবর্ণা মোর্শেদা

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে খোঁজার যে তাগিদ, আমার মধ্যে সেটা সবসময়ই কাজ করে। এই তাগিদ থেকেই আমার কাজের শুরু বলা যেতে পারে। সবসময় মনে হয়, নিজেকে খোঁজার চেয়ে কঠিন কিছু নাই। গত দুই বছরে সেই খোঁজার তাগিদ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। এই সময়ে অন্যদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, তার মাঝেও নিজেকেই খোঁজার চেষ্টা চলতো। লকডাউনের বেশ আগে থেকেই নিজেকে অনেক বেশি আইসোলেশনে নিয়ে যাই আমি—একটা নিরঙ্কুশ একাকীত্বের মধ্যে চলে আত্ম-অনুসন্ধানের কাজ। সো, লকডাউন আমার জন্য খুব নতুন কিছু ছিলো না। শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন করে থাকাটা ছিলো একেবারে নতুন।


২০১৯-এর একটা সময় আমি খুব অন্ধকারে ডুবে যাই। স্বভাবগত দিক থেকে রঙিন মানুষ হয়েও একটা গভীর ব্যক্তিগত কারণে আমার জীবন হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ সাদা-কালো। আর এ সময়টাতেই নিভৃতে অনেকগুলো কাজ করে ফেলি। কখনো লিথোগ্রাফ, কখনো পেন্সিল স্কেচ আর কাগজে সেলাই করে করা এ-কাজগুলোই আমাকে সেই গভীর অন্ধকারেও বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছে। কাগজে সেলাই করে শিল্পকর্ম নির্মাণের একটা আলাদা আনন্দ আছে। সেটা হলো স্পর্শের আনন্দ।


এই স্পর্শকে কেমন করে দেখাবো! সেলাইয়ের উঁচু-নিচু অংশগুলোকে আমি বলি স্পর্শের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে স্পর্শের অনুভূতিকে অন্যের মনে সঞ্চার করা যায়। বড় হওয়ার পর, জীবনে এই প্রথম আমি মায়ের সাথে বাবার সাথে এতো দীর্ঘ সময় আমি কাটানোর অবকাশ পেয়েছি। আমার মায়ের গাছ লাগানোর শখ অনেক আগে থেকেই। সেই শখ লকডাউনে আরো তীব্র হলো।

তাঁর লাগানো গাছগুলো যতো বড় হচ্ছিলো, আর তাঁর বয়স যেন ততোই কমছিলো। গাছে ফল ধরা, ফুল ধরা দেখে তাঁর কী যে এক আনন্দ! সব মিলে যেন এক অপার্থিব অনুভূতি! তো, আমি তাঁকে একজন সফল চাষী হিসেবে ঘোষণা করলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি গন্ধ, স্পর্শ নিয়ে কাজ করি। এবার মায়ের গন্ধের সঙ্গে যোগ হলো মায়ের বাগানের গন্ধ-স্পর্শ।


গাছগুলোর পাতা যখন ঝরে পড়ে, সে-পাতার রং, শেইপকে আমার কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করা আর স্পর্শগুলোকে ধরার জন্যই আমার কাগজে সেলাই করার কাজ। আমার ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে ঘুম হয় না বা হতো না সেই অন্ধকার সময়গুলোতে। ঘুম না হওয়ার কারণে যে সকালে খারাপ লাগতো তা-ও না। সকালের গন্ধ আমার খুব প্রিয়।


এরমধ্যেই হলো মায়ের করোনা। দীর্ঘ ১ মাস ধরে মায়ের সিরিয়াস কন্ডিশন । আমি বুঝতে পারতাম, গাছগুলোও মাকে খুব মিস করছে। এদিকে মা তো হসপিটালে অক্সিজেন নিতে ব্যস্ত! ২৪ ঘন্টাই মায়ের সঙ্গে থাকি। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া-- কখনও ভালো, কখনও মন্দ। অবশেষে মায়ের জয়ী হয়ে ঘরে ফেরা। তাঁর সঙ্গে আবার তাঁর গাছেদের সেই নিবিড় সম্পর্ক--গভীর বন্ধুত্ব!

পুরো সময়টাই যেন কবিতার মত, প্রেমের কবিতা! আমার সাদা-কালো ক্যানভাসে ছড়িয়ে দেওয়া রঙের মত! অন্ধকারে অপরূপ আলোর মত। আমার ছবিগুলো যেন জীবনের মত! আমার জীবন যেন আমার ছবির মতো!

সকলকে আমন্ত্রণ!


চিত্রকর্ম প্রদর্শনী: ‘অন্বেষণ’
শিল্পী: সুবর্ণা মোর্শেদা (তৃতীয় একক প্রদর্শনী)
স্থান: ইএমকে সেন্টার
প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন: অধ্যাপক জামাল আহমেদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, তাওহিদা শিরোপা।
মাধ্যম: লিথোগ্রাফ, সায়ানোটাইপ, পেন্সিল স্কেচ, জলরংসহ বিভিন্ন মাধ্যম
সংখ্যা: মোট ৪২টি শিল্পকর্ম
চলবে: ১৫-৩০ জানুয়ারি
শো কিউরেটর: রেজাউর রহমান

;

কল্পনা ও ইতিহাসের ট্রাজিক নায়িকা আনারকলি



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আনারকলির নাম উচ্চারিত হলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের আবহে এক করুণ-মায়াবী প্রেমকাহিনী সবার মনে নাড়া দেয়। ইতিহাস ও কল্পকথায় আবর্তিত এই রহস্যময়ী নতর্কীর পাশাপাশি শাহজাদা সেলিম তথা সম্রাট জাহাঙ্গীর, সম্রাট আকবর, সম্রাজ্ঞী যোধা বাঈ চোখের সামনে উপস্থিত হন। ভেসে আসে পরামক্রশালী মুঘল আমলের অভিজাত রাজদরবার ও হেরেম। ব্রিটিশ ঔপনিবেশ-পূর্ব উপমহাদেশের ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক দ্যুতি, বহুত্ববাদী পরিচিতির রাজকীয় অতীত এসে শিহরিত করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকদের। 

১৫২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৮৫৭ সালে অস্তমিত ৩৩১ বছরের বিশ্ববিশ্রুত মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে বহু সম্রাট, শাহজাদা, শাহজাদীর নাম বীরত্বে ও বেদনায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু আনারকলির নাম বিশ্বস্ত ঐতিহাসিক বিবরণের কোথাও লেখা নেই, যদিও মুঘল হেরেমের এই রহস্যময়ী নারীর নাম আজ পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্য-চলচ্চিত্র ও লোকশ্রুতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। সম্রাজ্ঞী, শাহজাদী কিংবা কোনও পদাধিকারী না হয়েও মুঘল সংস্কৃতির পরতে পরতে মিশে থাকা কে এই নারী, আনারকলি, যিনি শত শত বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছেন, এমন জিজ্ঞাসা অনেকেরই। ইতিহাসে না থাকলেও শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে চিত্রিত হচ্ছেন তিনি অকল্পনীয় জনপ্রিয়তায়। ইতিহাস ও মিথের মিশেলে তাকে নিয়ে আখ্যান ও কল্পকথার কমতি নেই। তার নামে প্রতিষ্ঠিতি হয়েছে মাজার, সমাধি স্মৃতিসৌধ, প্রাচীন বাজার, মহিলাদের পোষাকের নান্দনিক ডিজাইন। ইতিহাসের রহস্যঘেরা এই নারীকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ইতিহাস সৃষ্টিকারী চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’। রচিত হয়েছে অসংখ্য গ্রন্থ ও গবেষণা।

যদিও বাংলা ভাষায় আনারকলিকে নিয়ে আদৌ কোনও গ্রন্থ রচিত হয়নি, তথাপি উর্দু সাহিত্যে তাকে নিয়ে রয়েছে একাধিক নাটক ও উপন্যাস। ইংরেজিতে রয়েছে বহু গ্রন্থ। বিশেষত উর্দু ভাষার বলয় বলতে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের যে বিশাল এলাকা পূর্বের বিহার থেকে পশ্চিমে পাঞ্জাব পর্যন্ত প্রসারিত, সেখানে আনারকলি একটি অতি পরিচিত ও চর্চিত নাম। সাহিত্যে ও লোকশ্রুতিতে তিনি এখনও জীবন্ত। অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে রয়েছে আনারকলি মাকবারা। মাকবারা হলো কবরগাহ, সমাধিসৌধ। মুঘল স্মৃতিধন্য শহর দিল্লি, লাহোরে আছে আনারকলি বাজার। সাহিত্য ও লোককথার মতোই আনারকলিকে নিয়ে নির্মিত নানা লিখিত ও অলিখিত উপাখ্যান। 

অথচ মুঘল রাজদরবার স্বীকৃত ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থগুলোর কোথাও উল্লেখিত হন নি আনারকলি। প্রায়-প্রত্যেক মুঘল রাজপুরুষ লিখিত আকারে অনেক স্মৃতি ও ঐতিহাসিক বিবরণ লিপিবদ্ধ রাখলেও তার নাম আসে নি কোনও মুঘলের আত্মস্মৃতি বা ইতিহাস গ্রন্থে। তাহলে কেবলমাত্র একটি কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে তার নাম অর্ধ-সহস্র বছর ধরে লোকমুখে প্রচারিত হলো কেন এবং কেমন করে? সত্যিই আনারকলি বলে কেউ না থাকতেন কেমন করে সম্ভব হলো পাঁচ শতাধিক বছর ধরে নামটি টিকে থাকা? এসব খুবই বিস্ময়কর বিষয় এবং আশ্চর্যজনক ঐতিহাসিক প্রশ্ন।

ভারতবর্ষে মুঘল ইতিহাসের এক রহস্যময় নারী চরিত্র রূপে আনারকলিকে নিয়ে আগে বহু চর্চা হলেও সবচেয়ে সফল ও ব্যাপকভাবে তিনি চিত্রিত হয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের কেন্দ্রস্থল বলিউডের ইতিহাস সৃষ্টিকারী সেরা জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল ছবি ‘মুঘল-ই-আজম’-এ। ছবির কাহিনী মুঘল-ই-আজম তথা শাহানশাহ জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের দরবারে আবর্তিত। আকবরপুত্র শাহজাদা সেলিম, যিনি পরবর্তীতে হবেন সম্রাট জাহাঙ্গীর, মুঘল দরবারের এক নবাগত নর্তকী আনারকলির প্রেমে বিভোর। দীর্ঘ ছবিটি সেলিম-আনারকলির প্রণয়ের রোমান্টিকতায় ভরপুর। কিন্তু সম্রাট আকবর সেই ভালোবাসা মেনে নিতে নারাজ। প্রচণ্ড ক্রোধে আকবর আনারকলিকে শাহজাদার জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হন নি, সম্রাটপুত্রকে ভালোবাসার অপরাধে তুচ্ছ নর্তকী আনারকলিকে জীবন্ত কবরস্থ করেন। 

প্রশ্ন হলো, সত্যিই যদি আনারকলি নামে কোনও চরিত্র না-ই থাকবে, তাহলে এতো কাহিনীর উৎপত্তি হলো কেমন করে? সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রে আনারকলিকে কেন্দ্র করে যা বলা হয়েছে বা দেখানো হয়েছে, তার সত্যতা কতটুকু? সত্যিই কি আনারকলিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল? নাকি আনারকলি বলে ইতিহাসে কোনও চরিত্রই ছিল না? নাকি সব কিছুই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কোনও মিথ, উপকথা বা গল্প? এসব প্রশ্নের উত্তর শত শত বছরেও মেলে নি।

আনারকলি যদি ‘কাল্পনিক’ হবেন, তাহলে, মুঘল আমলে ভারতে আগত ইংরেজ পরিব্রাজকের বর্ণনায়, লখনৌর লেখকের উপন্যাসে, লাহোরের নাট্যকারের নাটকে, বলিউডের একাধিক সিনেমায় আনারকলি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হবেন কেন? কেন শত শত বছর কোটি কোটি মানুষ আনারকলির নাম ও করুণ ঘটনায় অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন? কেন আনারকলির নামে ভারতের প্রাচীন শহরগুলোতে থাকবে ঐতিহাসিক বাজার? লাহোরে পাওয়া যাবে তার কবরগাহ, যেখানে শেষ বয়সে শাহজাদা সেলিম তথা সম্রাট জাহাঙ্গীর হাজির হয়ে নির্মাণ করবেন সমাধিসৌধ আর রচনা করবেন করুণ প্রেমের কবিতা?

এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্যে ‘কিছুটা ঐতিহাসিক, কিছুটা কাল্পনিক চরিত্র আনারকলি’ ও তাকে ঘিরে প্রবহমান প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলীর ঐতিহাসিক পর্যালোচনা ভিত্তিক এই রচনা। আমার রচিত ‘দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্র্যাজিক হিরো’ (প্রকাশক: স্টুডেন্ট ওয়েজ) গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করায় মুঘল মূল-ইতিহাসের বাইরের এই রহস্যময়ী চরিত্র ও আখ্যানকে বাংলাভাষী পাঠকের সামনে উপস্থাপনে উৎসাহী হয়েছি। উর্দু ও ইংরেজিতে আনারকলির ঘটনাবলী ও প্রাসঙ্গিক ইতিহাস নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। যেগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। আনারকলির প্রসঙ্গে তাকে নিয়ে নির্মিত অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’ সম্পর্কেও আলোকপাত করেছি। চেষ্টা করেছি ইতিহাস ও মিথের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মুঘল হেরেমের রহস্যময়ী নতর্কী ও বিয়োগান্ত প্রেমের নায়িকা আনারকলিকে অনুসন্ধানের।

;

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনায় আক্রান্ত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) তাঁর কোভিড–১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। বতর্মানে তিনি নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বইমেলার উদ্বোধনের জন্য গত ২ জানুয়ারি মালদহ গিয়েছিলেন শীর্ষেন্দু। সেই বইমেলা স্থগিত হয়ে যায়। মালদহ থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর তাঁর সর্দি, কাশি এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। সন্দেহ হলে সোমবার তিনি নমুনা পরীক্ষা করান। মঙ্গলবার কোভিড–১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। এ খবর তিনি নিজেই জানিয়েছেন।

লেখক বলেন, ‘জ্বর আসেনি কখনও। উপসর্গ হিসেবে ক্লান্তি, দুর্বলতার সঙ্গে স্বাদহীনতা রয়েছে।

;