কেউ আমি কিছু এক হিজিবিজি উপমা

তানিয়া চক্রবর্তী
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেব্রুয়ারি

একটা স্বপ্ন বুনছিলাম ছেঁড়া ঘুমে
যেন জোনাক খসে পড়ে
তবু এক চোখ সক্রিয়ভাব মিটমিটে আলো
দু চোখে জল এনে দেয়
এ জল পুরনোপন্থী আধুনিকের গলার জল
এ মাস জলের নয় তবু তেষ্টা আসে
তুমি আমাকে যা দাও
কত অন্যকে তার কতটা দাও?
আমি তোমাকে যা দেব
কত অন্যদের তার কতটায় রাখি ?
এটা অশ্লীলতায় বসে উল্লাস বলা পানীয়ের দিন
তবু মন বলছে এটুকুই—দু পেগ
অতিরিক্ততে পাখি পড়ে যাবে
পাখি পড়ে গেলে
শিল্পীর যত তালপাতা দুলিয়েছি হাওয়ায়...
তারা দুমড়ে-মুচড়ে ঘুমিয়ে পড়বে
বড় বাড়ির কোণায়—এ ঘুম পালানোর ঘুম

এইসব অবহেলার সময়

১.
এই কামনার কুচক্রী জীবনে
হাঁটু খুলে বসে থাকি ,
কে আমি বালির উপাসক
আধখানা পায়ে স্বপ্ন চিবিয়ে রাখি?
আমি যদি আমার হতাম তবে
এত এত নামহীন ঘরে
আমার ক্লান্ত ঘুম জুড়িয়ে যেত কবে!
ওরা মুখ খুলে বসে থাকে
আমি ঢিল ছুঁড়ি, রক্তের চুমু নিয়ে
দারুণ লজ্জা লাগে—
পিপাসায় মিশে আছে হতাশার নুন,
মাখিয়ে মাখিয়ে রোজ বুঝি
কেউ আমি কিছু এক হিজিবিজি উপমা—

২.
লিখতে কেন বলো আমায়
লিখেও তো সব অলিখিত—
অলিখিত আলস্য সব উড়ছে ঘুরছে নাচছে
যেমন নাচে বাঁদর, বাঁদরমুখী ডুগডুগি সব
কে এসবের আমল দেবে
দিলেও কত বাড়বে দোল
উলঙ্গ ওরা সত্যি জানে আমরা কত ন্যাংটো
রাজার মতো খাবলে খেয়ে
পালক লাগাই মাথায়
মাথার মধ্যে বন্ধ সব আদ্যিকালের গিঁট
এসব গিঁট আর খোলে না—
খাবি খাই নরম লেবুর জলে

কোষাগার

আচ্ছন্ন করো, বশীভূত করো না
যার আর পর হয় না
সেইখানে বসে থাকেন বিধ্বংসী করদাতা
তিনিই হয়তোবা ঈশ্বর
ঈশ্বরের গায়ে চুমকি বসানো
আমায় কেউ ঠকালে
তাকে অন্য কেউ ঠকায়, আমি তাকে না
আসলে হিসেবটা কোষাগারে
তাই আচ্ছন্ন করো, বশীভূত করো ন