এক রাক্ষস-নন্দন স্বর্গগুলজারের শাপগ্রস্ত দিশা দেখায়

পিয়াস মজিদ
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

ছাইয়ের মুকুট

জোনাকির অন্ধকার পল্লবে
গলে কি মরুভূমি-মন?
পৃথিবীতে পদ্য-প্যারাগ্রাফ লিখে
কেউ দিতে পারবে না এর
গীতি-উত্তর।
শুধু দাউদাউ হ্রদ জ্বলে;
শীতল মশাল।
আর সব সংগীতের ধ্রুপদ
দল বেঁধে পাড়ি জমায়
বলির বাজনায়।
প্রেম যাদের অনুপায়
প্রধান প্রতীক
তারাই তো সওদাগর;
ঘৃণার ফল্গুর।
রাতের রঙ আর ভোরের ভাষা
এক হয়েও উদ্ধার-অক্ষম
ফুলের ভেতর ঘনীভূত
তোমার গন্ধ।
বিপ্লবকে ভোঁতা করে
বেছে নিয়েছিল যারা
নরকের নেকলেস
তারাই বাড়ায় আজ
অভিধানের আয়তন;
জান্নাত-বাগান।
তারসপ্তক, আশ্চর্য অষ্টম ফুরোয়
ফুরোয় না নয়ছয় মানুষজীবন।
অধিকৃত উরুর অঞ্চল থেকে
কতদূর গেলে মধুবাতাঋতায়াত,
তার নিকেশ-হিসেবে
মেঘও মলিন, রিক্ত রোদ।
তারপর অভিযান অসমাপ্ত রেখে
মনের মাইনকে তাক করা;
দেহদূর্গের দুর্নিবার দখল।
চাঁদ গিয়ে টিকে থাকে চাঁদমারি
খেলা চলে সহস্র-শতাব্দী
খেলাঘরের গোপনে যে
নাঙা নিকেতন,
তারই সহোদরা শাস্ত্রশালায়
ক্ষয়ে আসা ধ্যানদল
বসে থাকা মরচে পড়া
প্রহর-বেলায়
আকোকিত অলীকের
অমাদীপ্ত আশায় আশায়।
আবহাওয়া অনুকূল তবু
সে দপ করে নিভে আসে
মোমবাতি তার গলমান
আয়ুর আত্মায় ধরে রাখে
প্রজ্জ্বলনের প্রজ্ঞাবীজ টানটান।
নিঠুর মাধবী,
হৃদয়ের রীতি কোনদেশে কী
সে তপ্ততর্ক, মীমাংসা-মধুরেও
মালিনী বুঝে না
মেরা দিল কি জখম।
নদীর পানি মিঠে
নীলিমার নাচ নোনা,
কোন গহীন গোলাপ-গার্বেজে
ফেলে দিয়ে আসতে হয়
রুচির ময়লা মান এবং
পবিত্র বিকার!
তনু করে জরজর
ঘুমন্ত তীরধনুক, বিদ্রোহ বন্ধক।
জিরো আওয়ার থেকে
হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিচিউড;
আমরা কেবল মাঝামাঝি কোথাও একটা সেঁধিয়ে যাওয়ার
সুযোগে থাকি; ময়ূরাক্ষী।
সূর্যসমুদ্রে মৃত মাল্লাদের নক্ষত্রকঙ্কাল তালাশ করে
আগুনের অরণ্য।
যেহেতু লকডাউনে গেছে
ঝাঁপ দেওয়ার সব জল-গন্তব্য।

গ্রীষ্মে সেদ্ধ এমন কবিতা প্রায়শই বুকের বেদিতে
বৃষ্টির বিভা নিয়ে
শারদীয়া সকাল থেকে
হলুদ পাতার হেমন্তে জমা রাখে
ছায়া-আবছায়া কুয়াশাকল্লোল।

কবি আর তার
শেকলসিক্ত কথার চচ্চড়ি কবিতাকে ছেড়ে গেলে
বসন্তবৃক্ষ ঝেঁপে
এইবার ফলে ওঠে
কাঙ্ক্ষিত লিরিকের
টানাগদ্য রক্ত।

আগুনের আল্পনা

আমি কোথায়
আমারই অশরীরী আল্পনায়
রোদের তীব্র ছায়া ভেসে যায়।
কত পরি পেরিয়ে
জন্মসনদের খোঁজে
গেছি তোমার মায়ামর্গে;
সেখানে লেখা হয়ে আছে
কবির কফিন;
তার ধূপশব্দ আর ছন্দ।
তারার পাতাল থেকে
যাকে ডুবিয়ে মারে
দিগন্তের নিচুনীল নাব্যতা।
গনগনে গদ্যকবিতায়ও
তার ভেতর উপচে পড়ে
সুরের সওগাত;
গানের মিনার থেকে
নাচের বাগান—
এক রাক্ষস-নন্দন স্বর্গগুলজারের শাপগ্রস্ত
দিশা দেখায়।
নরকের অভিজ্ঞান-ছাড়া
মরে যাবার দুঃখে
বেঁচে থাকার বনে বনে
তীব্র তরুতীর্থ৷
হাওয়ার হর্ম্যে
কে পায়
শাখার শব্দ, বৃক্ষদুঃখ!
এমনি বহু বুড়ে বটের নিচে
পৃথিবী এক সাপ্তাহিক হাট
কেনাবেচা দরদাম;
লাগবে নাকি
মনের মেঘের গোরস্তান
প্রাণের পইখ?
আর আছে ঘামের গ্রামার।
বাড়ি ফিরলাম,
থলেভর্তি মনোহারি ;
কীইবা আছে—
ইতরসাধারণ অথবা বিশেষ!
প্রেমিকা রত্নের কাদা
অনামিকার আগুন
দাউদাউ দহ
খুঁজে পায়
হাতের ছাইসিক্ত
বাকিসব আঙুল।
পুড়ে গিয়ে বেঁচে যাওয়া
পায়ের পাতায় সমবেত
ফেরারি ফৌজ
নোঙর
বন্দর।
এমন নাটমঞ্চের
কোন অঙ্কে, কোন দৃশ্যে
কুলোয় ঝাড়া হয়
স্বপ্নের স্বায়ু,
ভিক্ষার চালডাল আর
আমাদের আকাড়া আয়ু!

মৃত্যুকবিতা, জন্মবীজ
(জা য়ে দ, তোমাকে)

নৈকট্যে নৈঃসঙ্গ্য বাড়ে,
তুমি দূরত্বের প্রবল প্রেমিক,
পরিচিত বিতানে বিতানে
অচেনা অর্কিড।
নিঃশ্বাস ফুরিয়ে এলে
গীতিহীন ফুটেছি ভীষণ
গহীন গজলের
গোপন-গোলাপে!
কবিরা গলদঘর্মে
তদন্তে-তল্লাশে,
যদিও কবিতা থাকে
কবিতারও ক্রোশ-দূরে,
রূপের অধিক
তীব্র কোনো রক্তকল্পে।
তারাদের পটভূমে
ধাতব লোকালয়ে
বুনো সেই অর্কেস্ট্রা
আজকের পদকর্তা;
সনেটের স্বর্ণাভা,
দীর্ঘধূসর কবিতা,
মায়াবী জলের জিঞ্জির
আর এক তিমির লিরিক।
ফাটা ডিমে তা দেয়া জীবনকে যেতে হলে যখন মানুষ
মৃত্যুকে ‘মোবারক’ বলে ; তারপরই তো
অঝোরে আমাদের
কবিজন্ম ঘটে থাকে,
বৃষ্টিরুহের দাউদাউ
সুর-বাগিচাতে।

পরিস্থিতি

মৃত্যু আর মৃত্যুর গুজবে
এখন কতটুকু পার্থক্য!
বেঁচে যে আছি আজও
এটা আসলে
বেঁচে থাকার গুজব নয়তো?

লাইভেই ছিলাম বাবা
(উৎসর্গ: শঙ্খ ঘোষ ও তাঁর ‘লাইনেই ছিলাম বাবা’)

রান্না হচ্ছে সময়ের স্যুপ। দূরত্ব ঘুচে গেছে কিচেন আর কফিনে। পাল্লা দিয়ে সুবাস ছড়াচ্ছে বৈশ্বিক মহামারী, রোগা রাজনীতি আর রক্তমাখা এলাচ-দারুচিনি।
ঘরে থেকে আমাদের সঙ্গে আজ লাইভে যুক্ত থাকছেন পাঁচ-পাঁচজন কবি।