কুয়েট বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জেরে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ৩টার দিকে মারা যান কুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন। অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন কুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ছিলেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন।

শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিসহ ৫ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষকরা।

আরও জানা যায়, কুয়েট ছাত্রলীগের বেশ কয়েকটি অলিখিত উপদল রয়েছে। এর একটি প্রভাবশালী উপদল বর্তমান কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই প্যানেলের সদস্যেরা হলের প্রভোস্ট সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন তাঁদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করে। পরে তাঁকে অনুসরণের পর তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাঁরা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ড. সেলিম হোসেনের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করেন।

পরে অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের জন্য বাসায় যান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁর স্ত্রী লক্ষ্য করেন, সেলিম হোসেন বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। এরপর দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

‘তালেবানি কালচার কায়েম করেন শাবি ভিসি’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি ফরিদ উদ্দিন গত চার বছরে ক্যাম্পাসে তালেবানি কালচার কায়েম করেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টায় শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের একথা জানান।

শিক্ষার্থীরা জানন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আসার পর থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের আলপনা, রোড পেন্টিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে যখন ঝড় উঠেছিল তখন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এক কিলোমিটারজুড়ে আলপনা এঁকেছিল যা সর্ব মহলে সুনাম
অর্জন করে।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় তিনি নারী-পুরুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করেন। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধে চলাচলের কথা সেখানে তিনি হলের ছাত্রীদের রাত ৭টার মধ্যে হলে ফেরার শর্ত জুড়ে দেন। এছাড়া মুক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে নানা বৈষম্যমূলক নির্দেশনা জারি করেন।

প্রেস ব্রিফিংকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, এই ভিসি দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কালচারাল সংগঠন বন্ধ করার পায়তারা শুরু করেন। কালচারাল প্রোগ্রামে বিধিনিষেধ আরোপ করার পাশাপাশি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা সংকোচ করার চেষ্টা করে আসছেন।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ এখানেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বৈষম্য তৈরি করেছেন ভিসি। পর্যাপ্ত পরিবহন না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাসে গাদাগাদি করে ক্যাম্পাসে আসে। অথচ শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পরিবহন থাকার পরও তাদেরকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা বিভিন্ন টং দোকান ছোট ছোট খাবার দোকানগুলো ভিসি বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। অথচ এই দোকানগুলোই ছিলো শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা এবং আড্ডার একটি বড় প্লাটফর্ম।

এছাড়া উপাচার্য এক শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, বিকেল পৌনে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় সাংবাদিকদের শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত চলমান আন্দোলন থামবে না। পরে তারা দু'হাত তুলে একসাথে শপথ পাঠ করেন।

শিক্ষার্থীরা সে সময় জানিয়েছিলেন অনশনরত সহপাঠীদের জীবন বাচাঁতে তাদের সাথে কথা বলে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করবেন। তবে রাত ৯টায় অনশনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন ভাঙবে না। জীবন দিয়ে হলেও দবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ২০ জন অনশনকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৮ জন ক্যাম্পাসে অনশন করছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও তারা অনশন ভাঙেনি বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;

আন্দোলনে টাকা দেওয়ায় শাবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থী গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ‘টাকা দেওয়ায়’ বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ জানান, পাঁচ শিক্ষার্থীকে সিলেটের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান স্বপন এবং স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন দীপ ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ এবং এ কে এম মারুফ হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ।

কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, এদেরকে শাবিপ্রবি উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অর্থ যোগান দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অর্থ যোগান তারা কিসের ভিত্তিতে দিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, আটকের বিষয়ে রেজা নূর মুঈনের স্ত্রী জাকোয়ান সালওয়া তাকরিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রেজা সন্ধ্যায় উত্তরা অ্যাগোরার কাছে কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তুলে নেয়। পরে তারা রেজার গাড়ি ফেরত দিতে বাসায় আসে এবং জানায় যে রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা বাসায় এসেছিল তাদের গাড়িতে সিআইডির স্টিকার লাগানো ছিল বলে জানান রেজার স্ত্রী। তিনি নিজেও শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং কিছু অর্থ সহযোগিতা করেছি।

তবে, এবিষয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কাউকে গ্রেফতার কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসার বিষয়ে তথ্য তাদের জানা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;

ভিসির বাস ভবনে শিক্ষক সমিতির প্রবেশের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বাধা



শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভিসির বাস ভবনে শিক্ষক সমিতির প্রবেশের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বাধা

ভিসির বাস ভবনে শিক্ষক সমিতির প্রবেশের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বাধা

  • Font increase
  • Font Decrease

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। রোববার থেকে পুলিশ ও সাংবাদিক বাদে অন্যদের ভিসি ভবনে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে অবরুদ্ধ ভিসির সাথে অনেক চেষ্টা করেও দেখা করতে পারে নি কেউ।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসি কুমার দাশ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ভিসির বাস ভবনের প্রধান ফটকে আসেন এবং ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতে বাধা প্রদান করে। শিক্ষকরা আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য আহবান জানান কিন্তু শিক্ষার্থীরা পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকায় শিক্ষকরা ফিরে যান।

এ সময় শিক্ষকরা কিছু খাবার নিয়ে আসলে শিক্ষার্থীরা বলেন, খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্র নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে দেওয়া যাবে কিন্তু শিক্ষক কেউ যেতে পারেন না। পরবর্তীতে খাবারের প্যাকেট যাচাই করে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে ভেতরে পাঠানো হয়। 

এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিলেট-২ আসনের সাংসদ ও গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুরাইয়া বেগমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের দেখতে এসেছি। তাদের দুরাবস্থা ও দাবিগুলো আমি সংসদে তুলে ধরবো। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে আমি এখানে এসেছি। শিক্ষার্থীদেরকে ড. কামাল হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা বলার জন্য বলেন কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে কামাল হোসেন  গণমাধ্যমে মোবাইলে কথা বলেন।

এদিকে গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশনের আজকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৪৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো সমাধান না আসায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ জন অনশনরতদের মধ্যে ১৯ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং ৯ জন ক্যাম্পাসে অনশন করছে।

;

শাবিপ্রবি অনশনরতদের মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধের অভিযোগ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অনশনরত শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ভোররাত আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের এক মুখপাত্র চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবার অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। তারা সবাই খিঁচুনি, ব্লাডে অক্সিজেন ও সুগার লেভেল কমে যাওয়া, ব্লাড প্রেশারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় পড়ছেন। তারা অর্গান ড্যামেজের ঝুঁকিতে আছেন।

তিনি আরও বলেন, অনশনকারীদের মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সিনিয়র চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, অনশন দীর্ঘায়িত হলে যেকোনো মুহূর্তে হার্ট ফেইলিওরসহ কোমায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরআগে, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের আর্থিক সহায়তা আসা ৬টি একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যলয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মোট ৬টি একাউন্টের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ পাঠান। এসব অর্থ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর খাবার ও আনুসাঙ্গিক খরচ চলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু'জন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিন একাউন্টগুলোতে লাখ দুয়েক টাকার মতো আসতো। তবে আজ থেকে এ একাউন্টগুলোতে আমরা কোনো লেনদেন করতে পারছি না। ব্যাংক একাউন্টসহ সবগুলো একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একাউন্ট বন্ধ করার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমার স্থানীয়ভাবে বিকাশ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাইনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে আমরণ অনশনে বসেন শাবিপ্রবির ২৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরের দিনই বাড়ি চলে যান। শনিবার রাতে গণঅনশনের অংশ হিসেবে নতুন করে যোগ দেন আরও ৪ জন। সবমিলে এখন অনশনে আছেন ২৮ জন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;