ঊর্দু বিভাগ আছে জানেন না কেউ, খবর রাখেন শুধু শিক্ষকেরা!



তাসনীম হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘ঊর্দু বিভাগটা কোনদিকে জানেন নাকি’, এমন প্রশ্নে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম যেন আকাশ থেকে পড়লেন। অনেকটা নিশ্চিত হয়েই বললেন, ‘আমাদের কলেজে তো ঊর্দু বিভাগই নেই।’

পরে কলেজের প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে ভুল ভাঙার পর মাহমুদুলের চোখে-মুখে অপার বিস্ময়! বললেন, ‘এত বছর ধরে কলেজে পড়ছি। পুরো ক্যাম্পাস আমার নখদর্পণে। কিন্তু কোনোদিন তো শুনিনি ঊর্দু বিভাগের কথা’!

এই বিস্ময় শুধু মাহমুদুল করিমের একার নয়, বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়, এই প্রতিবেদকের। তাদের কেউ জানেন না, কলেজে ঊর্দু বিভাগ নামে কোনো বিভাগ আছে। বললেন, এই প্রথম ঊর্দু বিভাগের বিষয়ে জানলেন।

চট্টগ্রাম তো বটেই, দেশের সবচেয়ে পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম- চট্টগ্রাম কলেজ। ১৮৩৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা স্কুল হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম। প্রতিষ্ঠালগ্নের ৩৩ বছর পর ১৮৬৯ সালে একে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। তখন থেকেই এটি- চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ বা চট্টগ্রাম কলেজ নামে পরিচিত হয়। কলেজে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাশাপাশি এখন মানবিক ও বিজ্ঞান বিষয়ে ২০টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।

তবে কবে এই কলেজে ঊর্দু বিভাগ সংযুক্ত করা হয়েছে, সেটি কেউ বলতে পারেননি। আর সর্বশেষ কবে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন, সে সম্পর্কেও কারো কোনো ধারণা নেই। কেউ বলেছেন ৪০ বছর আগে সর্বশেষ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। কেউবা আবার বলেছেন, স্বাধীনতার পর এই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

কলেজের ওয়েবসাইটেও সে বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ নেই। কোনো নথিপত্রেও এই বিভাগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু লেখা নেই। প্রখ্যাত ঊর্দু কবি ও পণ্ডিত সৈয়দ ইকবাল আযম এই বিভাগের একসময় প্রধান ছিলেন। বর্তমানে কোনো শিক্ষক-ছাত্র না থাকলেও কাগজে-কলমে থাকা ঊর্দু বিভাগের নামে দুটি পদ (সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক) বরাদ্দ আছে।

খবর রাখেন শিক্ষকেরা
কলেজে ঊর্দু বিভাগ আছে, সেটি শিক্ষার্থীদের অজানা হলেও ঠিকই খবর রাখেন শিক্ষকেরা। কেননা, এই বিভাগের অধীনে থাকা দুটি পদকে কাজে লাগান তারা। বিভাগের নামে কোনো কক্ষ, সাইনবোর্ড না থাকলেও নিয়মিতই দুই পদের অধীনে শিক্ষক পদায়ন হচ্ছে। যদিও ওই শিক্ষকেরা কেউ ঊর্দু বিভাগের শিক্ষক নন।

মূলত বিভাগটিতে শিক্ষকদের শূন্যপদের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কলেজের অন্য বিভাগের শিক্ষকেরা বদলি হয়ে আসেন চট্টগ্রামের এই শীর্ষ কলেজে। পরবর্তীতে নিজস্ব বিভাগে শিক্ষক পদ শূন্য হলে সেখানে চলে যান। সর্বশেষ, সহকারী অধ্যাপক পদে ঊর্দু বিভাগে যোগ দেন ড. মোহাম্মদ আরিফুল হক। পরবর্তীতে তিনি নিজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে চলে যান। অবশ্য তিনি এখন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বদলি হয়েছেন। একইভাবে প্রভাষক পদে যোগ দেন মিজানুর রহমান। কিছুদিন পর নিজের পরিসংখ্যান বিভাগে পদ শূন্য হলে তিনিও সেখানে চলে যান। এখন ঊর্দু বিভাগের দুটি পদই শূন্য আছে।

কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজ বৃহত্তর চট্টগ্রামের একটি শীর্ষ কলেজ। স্বাভাবিকভাবেই এই কলেজে যোগদান করতে শিক্ষকদের একটা বাড়তি আগ্রহ থাকে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী, পদ তো কম। সেজন্য ঊর্দু বিভাগের শূন্যপদ দুটিতে অনেকেই পদায়নের চেষ্টা করেন। আর এক্ষেত্রে যেহেতু বাধা নেই, অনেকে এই বিভাগের শূন্যপদে যোগদান করেন। তবে ক্লাস নেন নিজের বিভাগে। আর পদ শূন্য হলেই নিজের বিভাগের অধীনে চলে যান তারা।’



কলেজের প্রধান অফিস সহকারী গোলাম কিবরিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিভাগের অধীনে দুটি পদ আছে। এই পদের বিপরীতে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকেরা যোগদান করেন। তবে বর্তমানে পদ দুটি শূন্য রয়েছে। কয়েকদিন আগেও মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে পদ শূন্য থাকার কারণ জানতে চেয়েছে।’

শিক্ষার্থী না-থাকলেও শিক্ষকদের জন্য কেন পদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এই বিভাগে সর্বশেষ কখন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন, তা কেউই জানেন না। এই বিষয়ে কোনো নথিও নেই। আমরাও শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। শিক্ষকদের পদ রাখার বিষয়টি তাই মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমরাও ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের ঊর্দুর বিষয়ে কোনো কিছু বলি না। কাউকে এই বিভাগে ভর্তির বিষয়েও উৎসাহিত করি না। কারণ, এই বিষয়ের শিক্ষকই নেই। শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে কী করবেন এখানে’।

শিক্ষার্থীদের আগ্রহ না থাকলে ঊর্দু বিভাগ রাখার বিষয়ে পক্ষপাতী নন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছিলাম। তবে সব ভাষাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যে ভাষা শেখার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নেই বহু বছর, সেই বিষয়ে কেন একটা বিভাগ থাকবে’!

   

মধ্যরাতে ঢাবির জহুরুল হক হলে আগুন, শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে



ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মূল ভবনের (মেইন বিল্ডিং) দ্বিতীয় তলায় ২৫০ নাম্বার রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে, আগুন লাগার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সোমবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া দুইটা নাগাদ এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বলে জানা যায়। ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ২৫০ নাম্বার রুমটির সব শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যাওয়ায় কেউই ছিলো না রুমে। তবে আগুনে পুড়ে গেছে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট,বই, তিনটি ট্রাঙ্ক, টেবিল চেয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র।

এ বিষয়ে নিকটস্থ রুমে থাকা হলটির প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী ছাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাত সোয়া দুইটার দিকে ২৫০ নাম্বার রুমটিতে আগুন লাগে। এ সময় রুমটি তালাবদ্ধ ছিল। রুমের সবাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গেছে। আগুন লাগার সাথে সাথেই রুমটির তালা ভেঙ্গে ভেতরে পানি আর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণে আনি। এর মধ্যেই তিনটি ট্রাঙ্কসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বই, খাতা, কাপড় পুড়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, রুমটিতে চারজন থাকতো। এর মধ্যে দুইজনের সার্টিফিকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

এ রুমটির আবাসিক শিক্ষার্থী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ আইয়ুব মোড়ল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রুমের সবাই বাড়িতে ছিলাম। জেনেছি আগুন লেগে রুমের বেশ ক্ষতি হয়েছে। আমাদের লাগেজ, ট্রাঙ্ক, বিছানা সব নষ্ট হয়েছে।’

এ বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি তৎক্ষণাৎ সেখানে গিয়েছি। ফায়ার সার্ভিসকেও বলা হয়েছিল এবং তারা এসেছিল। তবে তার আগেই শিক্ষার্থীরা আগুন নিভিয়ে ফেলেছিল।’

আগুন লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ইলেকট্রনিক লাইনে দুর্বলতা থাকলে হল অফিসে রিপোর্ট করতে হয়, হলে ইলেকট্রিশিয়ান আছে। তারা ঠিক করে দেবে। এছাড়াও ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার আগে রুমের কোথায় কী আছে সেসব গুছিয়ে যাওয়াও তো শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব। এখন তাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা তো পুষিয়ে উঠা বেশ কষ্টের। অনেকের তো সার্টিফিকেটও পুড়ে গেছে। বিষয়টা আসলেই কষ্টের।’

ছুটিতে বা রুম থেকে বাড়িতে যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীদেরকে রুমের লাইট, ফ্যান ও ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা ও সার্বিক সচেতনতা বাড়ানো উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

;

পয়লা বৈশাখে ঢাবি ক্যাম্পাসে মুখোশ পরা নিষেধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদের প্রস্তুত করা মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে।

এছাড়া, ক্যাম্পাসের ভেতর কোনো যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‘আমরা তো তিমিরবিনাশী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছর পয়লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় হয়ে শিশুপার্কের সামনে থেকে ঘুরে আবার শাহবাগ হয়ে ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) গিয়ে শেষ হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পয়লা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সব ধরনের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। ৫টার পর কোনোভাবেই প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোনো ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। নববর্ষের দিন টিএসসির সামনের রাজু ভাস্কর্যের পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা ব্যক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য চারুকলা অনুষদের সামনে ছবির হাটের গেট, বাংলা একাডেমির সামনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হওয়ার পথ হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট, রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেট ও বাংলা একাডেমির সামনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ব্যবহার করা যাবে।

টিএসসির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম এবং অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প থাকবে।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ সংলগ্ন এলাকা, টিএসসি সংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্বরের আশপাশের এলাকা ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। সভায় নববর্ষের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিং করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

;

ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো ঢাবি শিক্ষার্থীরা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো ঢাবি শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদ উপলক্ষে ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো হচ্ছেন সারাদেশ থেকে আগত ঢাবির শিক্ষার্থীরা। 

এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে যোগ হচ্ছে বাংলা নববর্ষের ছুটি এবং এর সঙ্গে সাপ্তাহিক বন্ধ মিলিয়ে লম্বা ছুটি পাচ্ছেন মানুষ ৷ তাই অন্যবারের তুলনায় এবার বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  তবে নানারকম অনিবার্য কারণে এমন ছুটিতেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

ঈদ উপলক্ষে ৪ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন। কেউ কেউ ছুটি শুরুর আগেই পাড়ি জমিয়েছে আপন ঠিকানায়। এছাড়াও বাকি শিক্ষার্থীরা ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে হল থেকে নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। এদিকে হল ক্যান্টিন,দোকানপাট ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেলেও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি, যাতায়াত সমস্যাসহ নানারকম কারণে ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ হলেই থেকে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, প্রতিবছরই মা-বাবা পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতাম। এবার বিসিএস পরীক্ষাসহ বেশ কিছু পরীক্ষার প্রস্তুতির যেন বিঘ্ন না হয় সেজন্য হলেই থেকে যাচ্ছি। এক সপ্তাহের মতো পড়াশোনায় গ্যাপ হলে সেটা ফিরিয়ে আনতে অনেক সমস্যা হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কবি সুফিয়া কামাল হলের চতুর্থ বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীও একই কারণে এবার হলেই ঈদ পালন করছেন। তিনি জানান, প্রতিবার বাড়িতে ঈদ করলেও এবার নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পরিবারকে খুব কষ্টে বুঝিয়েছি এবার হলেই ঈদ করব। পরেরবার ঈদটা আরো আনন্দময় করতেই এই ঈদটা একটু কষ্ট করে এখানে করছি।

বাড়ি না ফেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় অংশ বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, হলে থাকা ১৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ৩ জন। বাকিরা সবাই পিজে হার্টগ আন্তর্জাতিক হলেই ঈদ পালন করবেন। তাদের মাঝে একজন ঢাবির ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থী ইব্রাহিম।

তিনি জানান, অনেকদিন দূরে থাকায় পরিবারকে ছেড়ে ঈদ পালন করতে একটু খারাপ তো লাগছেই। তবে ঈদে ঢাবিতে আমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে যে বন্ধুরা আছে, সবার সঙ্গে ঈদ করব। ফ্লাইটের অনেক খরচের কারণে দেশে যেতে অসুবিধা হয় বলে জানান তিনি।

তবে অন্যদিকে ঢাবির অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দীর্ঘদিন পর ঢাকার যান্ত্রিক কোলাহল থেকে কিছুদিনের জন্যে নিজ আবাসে ফিরে যাচ্ছেন অত্যন্ত আনন্দ উদ্দীপনার সঙ্গে। প্রতি নিয়তই দেখা যাচ্ছে ব্যাগপত্র নিয়ে কেউ দল বেঁধে কেউ কেউ একাই হল থেকে বের হচ্ছেন বাড়ির উদ্দেশে। তাদের মধ্যেই একজন ঢাবির তৃতীয় বর্ষের ও কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী মাইশা মালিহা।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, আসলে বাড়ি ফেরার টিকিট কাটার পরই আমার ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে যায়। দিন গুণতে থাকি কবে বাড়ি ফিরব। বাড়িতে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা, চাঁদরাতে মেহেদি পরা, ঈদের দিনে মায়ের হাতের রান্না খাওয়া, এসবেই আমার ঈদ।

;

জবি উপাচার্যের নামে ভুয়া ই-মেইল, আইসিটি অ্যাক্টে মামলার প্রস্তুতি



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের নাম ব্যবহার ভুয়া ই-মেইল অ্যাড্রেস খুলে বিভিন্ন মানুষকে স্ক্যাম মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উপাচার্যের নামে ভুয়া ই-মেইল খুলে বিভিন্ন মানুষকে মেসেজ দেওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই একটি জিডি করা হয়েছে কোতোয়ালি থানায়। একজন সহকারী প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জিডি করেন।

তিনি আরও বলেন, ডিবির হেড অফিসে স্ক্যাম মেসেজগুলোর স্ক্রিনশট পাঠানো হয়েছে যেন তারা আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অসাধু মহল [email protected] ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে বিভিন্ন মানুষের কাছে স্ক্যাম মেসেজ পাঠাচ্ছে। ই-মেইলটি জবি উপাচার্যের নয় এবং এর সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই।

;