অফিস সহকারীর বদলি ঠেকানোর অভিযোগে কর্মকর্তাকে শোকজ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, চাঁদপুর
অফিস সহকারী কাউসার, ছবি: সংগৃহীত

অফিস সহকারী কাউসার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে বদলি হলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস সহকারী মোহাম্মদ কাউসার হোসেন। বৃহস্পতিবার তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসে শেষ কর্মদিবস পালন করেন। ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় তার বদলি হয়।

জানা গেছে, তার বদলি ৫ মাস বিলম্ব হওয়ায় পেছনের কারিগর ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল সরকার। সে কারণে তাকে শোকজ করেন জেলা শিক্ষা অফিসার। শোকজ পত্র হাতে পেতেই কাউসার হোসেনকে ফেনী পরশুরাম উপজেলায় যোগদানের নির্দেশ দেন সেই জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার সকালে এই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘কাউসারকে পূর্বের অর্ডার অনুযায়ী বদলি হতে বলা হয়েছে।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বদলির অর্ডারের পর রিলিজের দায়িত্ব শিক্ষা কর্মকর্তার। বিষয়টি আমি জেনে মৌখিক ও লিখিতভাবে কয়েকদিন পূর্বে হাজীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। বৃহস্পতিবার কাউসার হোসেন রিলিজ নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।’

উপজেলা শিক্ষা অফিস সহকারী মো. কাউসার হোসেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ হলেও প্রমোশন নিয়ে এখন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। কচুয়া উপজেলায় তার জন্মস্থান। কর্মজীবনের শুরুতে সচিবালয় কর্মরত ছিলেন। তারপর ছুটে আসেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে। ২০০৮ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলায় তার আগমন। তারপর থেকে যাওয়া-আসা। যতবারই বদলি হন ঘুরে ফিরে সে হাজীগঞ্জে ফিরে আসেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, শিক্ষা অফিসের এ সহকারী হাজীগঞ্জ উপজেলায় ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হাজীগঞ্জ যাওয়া-আসা করেছেন ৮ বার। লিখিত ও অলিখিত অনিয়মের অভিযোগে বদলি হয়েছেন। বদলির খবর পাওয়া মাত্র শুরু হয় তার দৌড়ঝাঁপ। দশ বছরে তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর, চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও চাঁদপুর পিটিআই অফিসে কর্মরত ছিলেন। প্রতিবারই ওইসব উপজেলা থেকে পুনরায় হাজিগঞ্জ উপজেলায় বদলি হয়ে ফিরে আসেন এই কর্মকর্তা।

‘কী মধু’ এই হাজিগঞ্জ উপজেলায় রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে জানা গেল হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার আলীগঞ্জে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে খরিদ করেছেন ৬ কাঠা সম্পত্তি। শ্বশুরবাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলায় কথিত আছে ৪৫ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। নিজের ও স্ত্রীর নামে রয়েছে ব্যাংক একাউন্ট। গত ১০ বছরে হাজিগঞ্জ উপজেলায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের শুনানি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ না দেওয়ায় নাজমুন নাহার নামের এক সহকারী শিক্ষিকার ইনক্রিমেন্ট কর্তন করেছেন। শিক্ষকদের সাথে অশোভনীয় আচরণ, শিক্ষা অফিসে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান, নানান অজুহাত দিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষকরা ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারতেন না।’

আপনার মতামত লিখুন :