‘কুকর্ম ঢাকতে আ'লীগে আশ্রয় নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, নাটোর
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মোহাম্মদ নাসিম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মোহাম্মদ নাসিম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেদের কুকর্ম ঢাকতে বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ঘাপটি মেরে আছে। সময় এসেছে দলে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের সদস্যদের বাছাই করে ছাঁটাই করা এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে এনে জায়গা করে দেয়ার।’

শনিবার (১৯শে অক্টোবর) বিকেলে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।

দলের নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে নাসিম বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে দেশব্যপী দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এতো উন্নয়ন সত্ত্বেও দলে কেন বিএনপি-জামায়াতকে নিতে হবে?’

বিএনপি-জামায়াত ‘অশুভ শক্তি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আবার কোনদিন তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিনাশ হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে তা যেন না হয়, সেজন্য দলকে ঠিক করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ করে অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মানুষ আজ প্রশ্ন তুলছে আওয়ামী লীগে কারা জন্ম নিচ্ছে আর কারা লালিত-পালিত হচ্ছে। নিজেদের ভুল-ত্রুটি শুধরে মানুষের কাছে ফিরে যেতে হবে। মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তাদের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে আওয়ামী লীগের প্রিয়ভাজন হওয়া যাবে না।’

আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘গর্বের যুবলীগও এখন ক্যাসিনো আক্রান্ত। দল ক্ষমতায় থাকলে নেতারা অহংকারী আর কর্মীরা অসহায় হয়ে যায়। ক্ষমতার দম্ভ থাকে না। মনে রাখতে হবে, অনেক বেদনা ধারণ করেই আজকের আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শেখ হাসিনা। এই আওয়ামী লীগের ভিত্তি ওই নির্যাতিত কর্মীরাই যারা দুর্দিনে জীবন দেন দলের জন্য। দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক রেষারেষি ও অশুভ প্রতিযোগিতা পরিহার করে গঠনতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা করতে হবে।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক রাজনীতিকে ‘সমঝোতা শিল্প’ মন্তব্য করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিএনপিকে সহ্য করে দলে আনতে পারলে, তাকে মেনে নিতে পারলে, কেন দলের কর্মীরা পরস্পরকে সহ্য করতে পারছেন না? বিএনপির খারাপটা দেখা যায় না, যায় আমাদেরটা, কারণ আমরা ক্ষমতায়।’

তিনি বলেন, ‘দলের দুঃসময় ভুললে চলবে না। পুলিশ,র‌্যাব দলের শক্তি নয়, দলের শক্তি দুঃসময়ের কর্মীরা। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সক্রিয় ও সম্পৃক্ত করার লক্ষে তিনি (শেখ হাসিনা) নিজে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তথ্য নিচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের নির্দেশনা দেয়া হবে।’

এসময় তিনি দলের পক্ষে প্রচার সৃষ্টি ও অপপ্রচার প্রতিরোধে কর্মীদের সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে দল কেন্দ্রিক রাজনীতির ধারা চালু করতে হবে। এজন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ নেতাকর্মীদের দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে চলতে হবে। এর ব্যতয় হলে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করবে।’

দল শক্তিশালী থাকলে কেনো আঘাত আসতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছি যা এখন থামানো উচিত। শুদ্ধি অভিযান দলের জন্য চরম লজ্জাজনক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আর শেখ হাসিনার আশা শেষ হতে দেবেন না।’

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। আবরার হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু করে জামায়াত-শিবির আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে বিবৃতি আদায় করেছে। তারা আরেকটি লাশের অপেক্ষায় থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই ত্যাগীরা অভিমান করে ঘরে বসে থাকবেন না। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখুন।’

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু সাংসদদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানের ভিত্তি কি ছিলো সেটি সম্পর্কে অবগত হবার পরও যারা নিজেদের সংশোধন করছেন না, তাদের জন্য দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। নাটোর-১ আসনের সাবেক সাংসদ আবুল কালামকে ছোট্ট একটা ভুলের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বর্তমান সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল সতর্ক হয়ে যান, হয়তো আপনার জন্য এর চেয়ে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে।’

সভায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অন্তর্ভূক্ত করে প্রয়োজনে গোপন ব্যালটে প্রতিটি ইউনিয়নে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচনের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস (এমপি)। আর সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল (এমপি)।

আপনার মতামত লিখুন :