বিশেষ উদ্যোগে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃৃহীত

ছবি: সংগৃৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের বাজার। ফলে সর্বশেষ কার্যদিবস বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা দুদিন পুঁজিবাজারে উত্থান হয়েছে। এতে বেড়েছে সূচক ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আস্থা ও তারল্য সংকটে তলানিতে ঠেকেছে দেশের পুঁজিবাজার। বাজার আরও খারাপ হবে এই শঙ্কায় শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজার ছাড়ছেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ব্রোকারেজ হাউজ থেকে বিনিয়োগকারীরা নেমে এসেছেন রাস্তায়। এরপর জাতীয় সংসদে পুঁজিবাজারের পরিস্থিতিতে আলোচনা হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আইসিবিকে আরও সক্রিয় করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট করাসহ ৬টি উদ্যোগ নিয়েছেন।

শেয়ার সংরক্ষণকারী সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য মতে, দেশে ২৫ লাখ ৭৮ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব রয়েছে। হিসেবে পৌনে ২৬ লাখ বিনিয়োগকারীর এখন প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের ফলে পুঁজিবাজারে ঘুরে দাঁড়াবে।

একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া উদ্যোগগুলো হচ্ছে-পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য কতিপয় সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা, আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, বিদেশিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা ও দেশীয় বাজারে আস্থা সৃষ্টি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং বাজারে মানসম্পন্ন আইপিও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুজাতিক ও সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকগুলো নতুন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমডি ও চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দিয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ ফান্ড দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে। সব মিলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের।

বিনিয়োগকারী আব্দুর রাজ্জাক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, সরকারের প্রস্তাবগুলো পুঁজিবাজারের জন্য পজেটিভ। তবে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা দেখার বিষয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সু-দৃষ্টি দিলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবেই।

একই কথা বলেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। তিনিও বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিলে পুঁজিবাজার ভালো হবেই। তবে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য সুশাসন সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে দেশের দুই পুঁজিবাজারে তিনদিন সূচকের উত্থান আর দুদিন বড় পতন হয়েছে। তাতে সপ্তাহ শেষে লেনদেন, সূচক ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। বিদায়ী সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কমেছে ১৬ শতাংশ। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম কমেছে ২৭৭টির, বেড়েছে ৬০টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১ কোম্পানির শেয়ারের। আর তাতে ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের বাজার মূলধনও কমেছে ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই অবস্থায় লেনদেন হয়েছে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও।

আপনার মতামত লিখুন :