যশোর বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৯৩.০৯ ভাগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোর শিক্ষাবোর্ডে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হার ৯৩.০৯ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৬১ পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ হাজার ২২৪ জন, মানবিক বিভাগে ১ হাজার ৩৬৯ জন ও বাণিজ্য বিভাগে ৮৬৮ জন রয়েছে। এবারই প্রথম খুলনা বিভাগের ২৫৫টি মাধ্যমিক স্কুল থেকে সবাই পাস করেছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র।

প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৯৩.০৯ শতাংশ। তিন বিষয়ের পরীক্ষা এবং জেএসসির অন্যান্য বিষয়ের নম্বরের ওপর ভিত্তি করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মত সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে দেড়মাসের মধ্যে এসএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যা অন্যান্য বছরে পরীক্ষা শেষের তিন মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যশোর শিক্ষাবোর্ড এ কাজটি সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, এদিন দুপুর ১২টা থেকে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে তাদের ফলাফল পৌছে দেয়া হয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। সব পরীক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পাস করিয়ে দেয়া হয়। এ বছরও করোনা পরিস্থিতির খুব বেশি উত্তরণ হয়নি। এ কারণে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাত্র তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। প্রতি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। বাকি বিষয়গুলো জেএসসির ওপর নির্ভর করে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৫০ নম্বরের পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হয়েছে একশথ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মোট এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৯৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। এদের মধ্যে ছেলে ৯১ হাজার ৫৯৯ জন ও মেয়ে ৮৭ হাজার ১৯৬ জন। মোট পাসে হার ৯৩.০৯ শতাংশ। পরীক্ষায় জিপিএ ৪ থেকে ৫ পেয়েছে ৩৯ হাজার ১০৯ জন। জিপিএ ৩.৫ থেকে ৪ পেয়েছে ২৯ হাজার ৫২৭ জন, জিপিএ ৩ থেকে ৩.৫ পেয়েছে ৩৪ হাজার ৫৯৪ জন, জিপিএ ২ থেকে ৩ পেয়েছে ৪৪ হাজার ৭৯ জন এবং জিপিএ ১ থেকে ২ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন। অবশ্য এবারের সার্বিক ফলাফলে ছেলেদের থেকে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ফলাফলে খুলনা বিভাগে শীর্ষে রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। এই জেলায় পাসের হার ৯৪.৭৬। এরপর দ্বিতীয় স্থানে খুলনায় পাসের হার ৯৪.৪৯। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাগেরহাট। এছাড়া চতুর্থ যশোর, পঞ্চম চুয়াডাঙ্গা, ষষ্ঠ নড়াইল, সপ্তম কুষ্টিয়া, অষ্টম মেহেরপুর, নবম ঝিনাইদহ এবং দশম স্থানে রয়েছে মাগুরা। এসএসসিতে এ বছর পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, বিগত বছরে ইংরেজি, গণিত ও আইসিটিতে পরীক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হয়েছে। এবার এই তিনটি বিষয়ে কোনো পরীক্ষা হয়নি। এ কারণে পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে এ ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত টেলিটকের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। গত ১৬ নভেম্বর থেকে দেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।

প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে ফলাফল প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানী, বিদ্যালয় উপ পরিদর্শক (মাধ্যমিক) ফজলুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পিএ নজরুল ইসলামসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

মির্জা নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর মির্জা নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদ এবং ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস করানোর দাবিতে নগরীর তেরোখাদিয়া স্টেডিয়াম মোড়ে বেসরকারি এই কলেজের সামনে শনিবার (২৮ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিএসসি ইন নার্সিংয়ের চারটি ব্যাচের প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, অন্যান্য কলেজে ফরম পূরণের ফি সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু তাদের কলেজে ফি পাঁচ হাজার। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ফি আদায় করছে। এছাড়া নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় তাদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস করা হয় না। এতে তারা প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তাদের এ কর্মসূচি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মির্জা নার্সিং কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা ফারুক অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মূলত ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস করানো যাচ্ছে না বলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। এটা দ্রুত করতে আমরা চেষ্টা করছি।

;

শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার প্রকল্পে অনিয়ম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) একটি প্রকল্পে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এড়িয়ে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিয়ে টেন্ডার দেয়া হয়েছে।

২৩ বছরের পুরনো ডস বেইস সফটওয়্যার দিয়ে চলছে দেশের শিক্ষাবোর্ডের সামগ্রিক কার্যক্রম। এ অবস্থার উত্তরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) শীর্ষক যুগোপযোগী এক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফলাফলসহ সকল তথ্য সরকারের নিরাপদ তথ্য ভান্ডারে সুরক্ষিত থাকবে। এ প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত। এখন মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) দেশের ১১ টি শিক্ষাবোর্ডের জন্য ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সার্ভার, রাউটার, ফায়ারওয়াল, কানেক্টিভিটি সুইচ, র‌্যাক, ইউপিএস, এভিআর, ডিজেল জেনারেটর, ইলেক্ট্রিক ও সিভিল ওয়ার্ক প্রভৃতি ক্রয়ের জন্য গত ০৬ এবং ০৭ এপ্রিল দু’টি পৃথক দরপত্র প্রকাশ করে।

তবে, অভিযোগ উঠেছে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যে টেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে তা কোনভাবেই সার্বজনীন নয়। বিশেষ করে, নেটওয়ার্কিং পণ্য যেমন: রাউটার, সুইচ ফায়ারওয়াল ও অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে সুযোগ দেয়া হয়েছে কেবল একটি মাত্র নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও তাদের নির্দিষ্ট মডেলের পণ্যকে। একপেশে এই টেন্ডারের নথিতে সেই কোম্পানি বাদে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অংশ নিতে পারবে না। অন্যদিকে, সরকারের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট-২০০৬ ধারা ১৫(১) এবং পিপিআর ২০০৮ নিয়ম ২৯, অনুযায়ী সিপিটিইউ (সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট) দ্বারা অনুমোদিত যে, কোন ক্রেতা এমন কোন স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত করতে পারবে না যেখানে কোন নির্দিষ্ট ওইএম (OEM) এর ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট বা নকশা থাকে বা উৎপত্তির দেশ বা উৎপাদনের ধারায় দেশের নাম উল্লেখ করতে পারবে না। কিন্তু, এই ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের স্পেসিফিকেশনে প্রতিটি পণ্যের ব্র্যান্ডের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে শুধুমাত্র একটি ওইএম (OEM) অংশ নিতে পারে।

এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে সরকার এ ধরনের অসম প্রতিযোগিতা ও নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য একপেশে টেন্ডার প্রকাশের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। সরকারের সর্বশেষ বিবৃতি অনুযায়ী, অর্ডার মেমো নং: ২১, ০০, ০০০০, ৩৬৪, ২২, ০২০, ২১-৮৭ তারিখ ১৩ জুন ২০২১ (সংযুক্ত), যেখানে বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি সম্পৃক্ত কতিপয় অংশীজনের নিকট হতে এরূপ পাওয়া গেছে যে, দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে কোন কোন ক্রয়কারী আবশ্যকীয় পণ্যের ব্র্যান্ড নাম বা মডেল এবং নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের নাম উল্লেখ করছে। অধিকন্তু, কোন কোন ক্রয়কারী সংস্থার বিভাগীয় দর – তফসিলে আবশ্যকীয় পণ্যের ব্র্যান্ড নাম বা সুনির্দিষ্ট দেশ/ অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে যা পিপিএ/পিপিআর এর উপযুক্ত বিধানের পরিপন্থী। দরপত্র দলিল বা রেট সিডিউলে পণ্যের ব্র্যান্ড/ দেশের নাম নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে না, অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ হ্রাস পায়, সকল দরদাতার প্রতি সমআচরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং ক্ষেত্র বিশেষে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পক্ষপাতমূলক টেন্ডার এ খাতে অসম প্রতিযোগিতার তৈরি করবে; যার ফলে কেবল জনগণের অর্থ অপচয় হবে। তারা আরো মনে করেন, ইন্টারফেস প্রয়োজনীয়তাগুলো টপোলজির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যা কর্মক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে ব্যবসার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতেও অক্ষম হবে।

টেন্ডার অনুযায়ী, এ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের একজন বিশেষজ্ঞ এর মতে, “নেটওয়ার্কিং, কম্পিউটিং এবং স্টোরেজ ডিজাইনের সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুসরণ করলে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ জনগণের অর্থ সাশ্রয় হবে।”
প্রকল্প বাস্তবায়নে টেন্ডারে উল্লিখিত যে সব নিরাপত্তা সামগ্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে তা দিয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা না মেনে এ ধরনের পক্ষপাত ও অসম প্রতিযোগিতা বিরাজমান থাকলে আমাদের দেশের শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে আইসিটি অবকাঠামো সরবরাহকারী দক্ষ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমে যাবে বলে মনে করেন এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

;

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ২৩ বিশ্ববিদ্যালয়কে ফের চিঠি দিচ্ছে ইউজিসি



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ২৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ সময়ের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে না গেলে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়েকে চিঠি দেবে ইউজিসি।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ১২ বছর পূর্ণ হলেও এখনও দেশের ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরিভাবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয়নি। কেউ আংশিকভাবে কেউবা নির্মাণাধীন কাজ দেখিয়ে বছরের পর বছর আউটার ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ে নানাভাবে আলটিমেটাম দিলেও এখনো তারা প্রধান ক্যাম্পাসে যায়নি। সে কারণে ইউজিসি থেকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে শোকজ করা হয়েছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই শোকজের জবাবে নতুন করে আরও সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া অস্থায়ী সব ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অবৈধ করে বিবেচিত হবে। সেখানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো-রাজধানী বনানীর সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, মোহাম্মদপুরে দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, মোহাম্মদপুর সাতমসজিদ রোডে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, ধানমন্ডিতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ধানমন্ডির কলাবাগানে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত মরিয়ম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির লালমাটিয়া ও উত্তরায় অস্থায়ী ক্যাম্পাস, রাজারবাগে দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, বনানীতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, উত্তরা মডেল টাউনে উত্তরা ইউনিভার্সিটি, পান্থপথে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বনানীতে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, একই এলাকায় রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ও শ্যামলীর আশা ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইউজিজির এক শীর্ষ কর্মরোকর্তবা জানান, গতকাল রোববার এ সিদ্ধান্ত এবিষয়ে ইউজিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিষয়গুরোকে অনুমোদন ও দেয়া হয়েছে। দু একদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে জানয়ে দেয়া হবে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অবশিষ্ট ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাকিদের মধ্যে কেউ কেউ আংশিক ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে। জমি কিনেছে কিছু প্রতিষ্ঠান। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ধরনের পদক্ষেপই নেয়নি।

;

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৯ নির্দেশনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপের পরীক্ষা হবে আগামী ২২ এপ্রিল। প্রথম ধাপে ২২ জেলায় হবে এ পরীক্ষা। দ্বিতীয় ধাপে ২০ মে এবং তৃতীয় ধাপে ৩ জুন পরীক্ষা হবে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। আবেদনকারীরা নিজ নিজ জেলায় পরীক্ষা দেবেন।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

ডিপিইর দেওয়া নির্দেশনাগুলো হলো-

১. লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে।

২. পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পূর্বে প্রার্থীকে নির্ধারিত আসন গ্রহণ করতে হবে ও পরীক্ষা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কক্ষ ত্যাগ করতে পারবেন না।

৩. প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো বই, উত্তরপত্র, নোট বা অন্য কোনো কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন, ভ্যানিটিব্যাগ, পার্স, হাতঘড়ি ও যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো পরীক্ষার্থী উল্লিখিত দ্রব্যাদি সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৪. পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে অবস্থানকালে অবশ্যই উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে।

৫. আবেদনপত্রে পরীক্ষার্থীর প্রদত্ত ছবি হাজিরা শীটে থাকবে ও ইনভিজিলেটর এই ছবি দিয়ে পরীক্ষার্থীকে যাচাই করবেন। ভুয়া পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬. আবেদনপত্রে প্রার্থীর দেওয়া সইয়ের সঙ্গে পরীক্ষার হাজিরা শিটে ও ওএমআর শিটে দেওয়া সইসহ সব তথ্যে মিল থাকতে হবে।

৭. পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্রে অবশ্যই কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।

৮. একজন পরীক্ষার্থীর জন্য এএমআার ফরমের সেট কোড পূর্বনির্ধারিত থাকবে, পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ওএমআর ফরমের সেট কোডটি এ প্রবেশপত্রে উল্লেখ করা আছে।

৯. পরীক্ষার হলে যে ওএমআর ফরমটি দেওয়া হবে, সেখানে সেট কোডের ঘরে প্রবেশপত্রে উল্লিখিত কোডটির বিপরীতে বৃত্ত ভরাট করতে হবে।

১০. পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের সেট কোডসমূহ ও ওএমআর ফরমের সেট কোড ভিন্ন হবে। পরীক্ষার্থীর ওএমআার সেট কোডের বিপরীতে কোনো সেট কোডের প্রশ্ন পাবেন তা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে কক্ষ পরিদর্শক জানিয়ে দেবেন। পরীক্ষার্থী সঠিক কোডের প্রশ্নটি পেলেন কি না তা নিয়ে নিশ্চিত হবেন।

১১. প্রবেশপত্রে নির্ধারিত এমআর’র সেট কোড ব্যতীত অন্য সেট কোডে পরীক্ষা দিলে উত্তরটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

১২. রোল বা সেট কোডের বৃত্ত পূরণে কোনো ভুল হলে উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

১৩. হাজিরা শিটের সঠিক স্থানে পরীক্ষার্থীকে সই করতে হবে ও হাজিরা বৃদ্ধটি পূরণ করতে হবে। তা না হলে উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

১৪. ওএমআর ফরমের উপরিভাগের নির্ধারিত সব টেক্সটবক্স নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে, অন্যথায় উদ্ভবপরটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

১৫. পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে আপনার আসন কোন কক্ষে তার তালিকা টানিয়ে দেওয়া হবে।

১৬. লিখিত পরীক্ষায় বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করে না।

১৭. চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিটি উপজেলা/শিক্ষা থানার জন্য নিয়োগযোগ্য মেধাতালিকা ব্যতীত কোনো অপেক্ষমান তালিকা/প্যানেল প্রস্তুত করা হবে না।

১৮. লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ করা হবে না।

১৯. পরীক্ষা সব তথ্যাদি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

;