ইউজিসির বাজেট: কোন বিশ্ববিদ্যালয় কত পাচ্ছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উন্নয়ন ও পরিচালন বাবদ মোট ১১ হাজার ৬৯০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বুধবার (১২ জুন) ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত ১৬৭তম পূর্ণ কমিশন সভায় এই বাজেট অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া সভায় ইউজিসির ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার (নিজস্ব আয়সহ) বাজেট অনুমোদন করা হয়।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আগামী অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ১১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকার মধ্যে পরিচালন বাজেট ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যেখানে সরকারি বরাদ্দ ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব আয় ১ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এ ছাড়া উন্নয়ন বাজেট রয়েছে ৪ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা।

ইউজিসির সভায় জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বাজেটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারের অনুদান হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সংস্থান করা হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব আয় ধরা হয় ১ হাজার ২৭২ কোটি ৫৩ কোটি টাকা। পূর্ণ কমিশন সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গবেষণা খাতে ১৮৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইউজিসি থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিদেশে পিএইচডি স্কলারশিপের জন্য ১০ কোটি টাকাসহ গবেষণা খাতে ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৩ কোটি টাকা বেশি।

কোন বিশ্ববিদ্যালয় কত বরাদ্দ পেল

আসন্ন অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় বরাদ্দপ্রাপ্তির শীর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি বরাদ্দ পাচ্ছে ৮০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গবেষণা খাতেও ঢাবিকে সবচেয়ে বেশি ২০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পাচ্ছে নওগাঁর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় এক টাকাও বরাদ্দ পাচ্ছে না।

বাজেট বরাদ্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী অর্থবছরের বাজেটের পরিমাণ ৪৭৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি পাচ্ছে ১৪ কোটি টাকা। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পাবে ৩৯৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা, আর গবেষণায় বরাদ্দ পাচ্ছে ১২ কোটি টাকা। চতুর্থ অবস্থানে থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পাবে ২৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণায় পাবে ৭ কোটি ২০ লাখ।

অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১৭৩ কোটি ৫ লাখ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৬৯ কোটি ২১ লাখ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৫৪ কোটি ৯৪ লাখ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ৬৫ কোটি ৫২ লাখ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ৬১ কোটি ৪৬ লাখ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস ৯৫ কোটি ৮৩ লাখ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ৭১ কোটি ৪৪লাখ টাকা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ৪৯ কোটি ২৬ লাখ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ১৮ কোটি ৩ লাখ, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় ৭ কোটি ৪০ লাখ, কিশোরগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় ১০ কোটি ৩০ লাখ, নওগাঁর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় ৩ কোটি ৯৫ লাখ এবং মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বাজেট পাচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১৭০ কোটি ৮ লাখ টাকা, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৫ কোটি ৭৮ লাখ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১০২ কোটি ৬৮ লাখ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৬ কোটি ৫২ লাখ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯০ কোটি ৭৮ লাখ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৫২ কোটি ৫৮ লাখ, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮ কোটি ৫৪ লাখ, পিরোজপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৮ কোটি ৫০ লাখ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ কোটি ৫৬ লাখ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২১ কোটি ৫৫ লাখ, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৪ কোটি ৪৭ লাখ এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে।

কৃষিবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৩৪৫ কোটি ৯৮ লাখ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৮৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৮ কোটি ৬৯ লাখ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৮৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২৭ কোটি ৭১ লাখ, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পাচ্ছে।

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ২২৯ কোটি ৩০ লাখ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ৮৩ কোটি ৪২ লাখ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১০০ কোটি ১৭ লাখ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১১৬ কোটি ৮৯ লাখ এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে।

চিকিৎসাবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ১৬১ কোটি ৬৪ লাখ এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ৪ কোটি ১ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ পাচ্ছে। বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ৩৯ কোটি ৯৮ লাখ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ৪১ কোটি ১১ লাখ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি ১৬ কোটি ২১ লাখ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় ৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বরাদ্দ পাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা।

তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি ১২০০০ শিক্ষার্থী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী

তৃতীয় ধাপেও কলেজ পায়নি জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী

  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ রাত আটটায়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সময় শেষ হয়ে গেলেও কলেজ পাননি প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০ জন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত ৮টায় একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানা গেছে। 

এছাড়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।

তিনি জানান, ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী- তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। এ তিন ধাপ শেষেও ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী কলেজ বরাদ্দ পাননি। তার মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭০০ জনের মতো।

আবারও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে কিনা সে বিষয়েও পরিষ্কার করে কিছু জানাতে পারেননি অধ্যাপক তপন কুমার। 

তিনি জানান, আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্দান্ত নেয়া হবে। তবে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তিবঞ্চিত হোক, এমনটা কারও কাম্য নয়।

অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, হিসাব অনুযায়ী এসএসসিতে কৃতকার্য দেশের প্রায় ১৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজে আসন আছে ২৫ লাখের মতো। এরপরেও শিক্ষার্থীদের ভর্তিবঞ্চিত হওয়ার কারণ পছন্দের কলেজ না পাওয়া।

ভর্তি তথ্যানুযায়ী, তিন ধাপে আবেদনের পর ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ১৫ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।

ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ জুলাই সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

;

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন, তদন্তে ২ কমিটি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী আজ (বৃহস্পতিবার) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে এসে হলরুমে বসে পরীক্ষার্থীরা পেলেন দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন। এতে কেন্দ্রে হৈচৈ পড়ে গেলে সে প্রশ্ন ফেরত নিয়ে দুই ঘণ্টা পর পুনরায় প্রথম পত্রের প্রশ্ন এনে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিজয় স্মরণী ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুল প্রশ্ন বিতরণের ফলে সকাল ১০টার পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ১২টার দিকে। তবে কার ভুলে এমনটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষার শুরুতে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। প্রশ্ন হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রটি পুনরায় সংগ্রহ করে পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়। তবে ২ ঘণ্টা পর প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে একটি। এরমধ্যে ইউএনও কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুজন সদস্যরা হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ। তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম জানা যায়নি।

ভুল প্রশ্ন বিতরণের বিষয়ে জানতে ওই কলেজের প্রিন্সিপাল কেন্দ্র সচিব শিব শংকর শীলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার বলেন, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ট্রেজারি থেকে প্রত্যেক কেন্দ্র সচিবকে বা তাদের প্রতিনিধিকে প্রশ্নপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সীতাকুণ্ড নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, কার ভুলে এ ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে দেখা হবে। উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনা করা হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুজন সদস্য হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন বিতরণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। আর দেখেশুনে প্রতিদিন সকালে প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। কোথাও একটা ভুল হয়েছে বলে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সময় সমন্বয় করে প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষার দিনে বিকল্প প্রশ্নে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না।

;

কটিয়াদিতে ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান শিক্ষা কার্যক্রম



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান শিক্ষা কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আয়োজনে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভূমিকা’ শীর্ষক এক বিজ্ঞান বক্তৃতায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) কটিয়াদির গচিহাটা বিদ্যানিকেতন দুদিনব্যাপী এ আয়োজনে বিজ্ঞান জাদুঘরের একটি মিউজিয়াম বাস ও একটি মুভি বাস অংশ নেয়।

বিজ্ঞান জাদুঘরের প্রান্তিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ কার্যক্রমের আওতায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের মিউজিয়াম বাসের মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর হাতে কলমে জ্ঞান বিতরণ করা এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ ও অনুরাগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিজ্ঞান জাদুঘর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক এ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান মনস্ক করতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিজ্ঞান জাদুঘরের এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

;

ছেলের ফল নিয়ে ‘বিতর্ক’, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিবকে বদলি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
নারায়ন চন্দ্র নাথ ও আমিরুল মোস্তফা

নারায়ন চন্দ্র নাথ ও আমিরুল মোস্তফা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মামলা-তদন্ত চলার মধ্যেই চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র নাথকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই কর্মকর্তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে বদলি করার কথা জানানো হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাবোর্ডের নতুন সচিব হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপদপ্তর, ঢাকার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অধ্যাপক আমিরুল মোস্তফাকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারায়ন চন্দ্র নাথ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে বেশ কয়েকবছর ধরে নানা পদে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর তিনি সচিব পদে নিয়োগ পান। পাশাপাশি শিক্ষাবোর্ডের নিয়মিত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে বেশ কয়েকমাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দুজনকে অবমুক্ত হয়ে নতুন পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অবশ্য প্রজ্ঞাপনে নারায়ন চন্দ্র নাথকে কেন বদলি করা হয়েছে, সেটি উল্লেখ করা হয়নি।

তবে গত একবছর ধরে শিক্ষাবোর্ডেরই আরেকটি পক্ষের ‘রোষানলে’ ছিলেন নারায়ন চন্দ্র নাথ। যার শুরু গত বছরের শেষের দিকে। গত বছর নারায়ন চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ গতবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে তিনি একটি বিষয়ে জিপিএ-৫ পাননি। সেজন্য সচিবের পরিবার পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে চায়। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে গিয়ে দেখতে পায়, কে বা কারা আগেই নক্ষত্র দেব নাথের ছয় বিষয়ের ১২টি পত্রের আবেদন করে ফেলেছেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সচিবের স্ত্রী বনশ্রী নাথ পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনকারীকে শনাক্ত ও আইনি প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে এ নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক আবদুল আলীমের মোবাইল ফোন নম্বর রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নক্ষত্র দেব নাথের নামে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনটি করা হয়েছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

এই ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব আবদুল আলীম ও চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বোর্ডের বর্তমান সচিব নারায়ন চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী দেবনাথ। ইদ্রিসকেও আসামি করা হয়েছে। কারণ, তিনি অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র নাথকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যগুলো বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বলে অভিযোগ করেন নারায়ন চন্দ্র নাথ।

এদিকে, সচিবের ছেলের ফলাফল সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও অর্থাৎ একই বিষয়ে একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলার ফৌজদারি মামলার তদন্ত এবং অন্যটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে তদন্ত চলছে। গত ৩ জুন নারায়ন চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার নেয় তদন্ত কমিটি। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সম্মেলন কক্ষে বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে কথা বলেন তদন্ত কমিটির দুই সদস্য। তবে কমিটি এখনো প্রতিবেদন দেয়নি। তবে ওইদিন তদন্ত কমিটির ‘গোপনীয়’ বৈঠকে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে সাক্ষাৎকার দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন নারায়ন চন্দ্র নাথ।

;