তাদের প্রেম কাহিনী হার মানায় ছবির চিত্রনাট্যকেও



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সায়রা বানু ও দিলীপ কুমার

সায়রা বানু ও দিলীপ কুমার

  • Font increase
  • Font Decrease

একেই হয়তো প্রেম বলে। যে প্রেম জীবনের শেষ নিশ্বাঃস পর্যন্ত টিকে থাকে। বয়স বাড়লেও যে প্রেম হয়ে থাকে চিরসবুজ। ঠিক এরকমই এক শাশ্বত প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন বলিউডের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার ও অভিনেত্রী সায়রা বানু। তাদের প্রেমের গল্প হার মানাতে পারে যে কোনও ছবির চিত্রনাট্যকেও।


‘ঝুক গয়া আসমান’ ছবির সেটে সায়রা বানুকে প্রোপোজ করেছিলেন দিলীপ কুমার। কিন্তু তাঁর আগে থেকেই সায়রা পাগল ছিলেন দিলীপের প্রেমে। তাই প্রিয় মানুষটির থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর এক মুহূর্ত দেরি না করে হ্যাঁ বলে দিয়েছিলেন সায়রা।


পরে ১৯৬৬ সালে ২২ বছরের ছোট সায়রা বানুকে বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার। কিন্তু ১৬ বছর সংসার করার পর সায়রাকে ত্যাগ করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার।


সায়রা বানুকে ত্যাগ করার কারণ উল্লেখ করে দিলীপ কুমার তাঁর বায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন, সায়রার গর্ভে এসেছিল সন্তান। তবে সন্তানধারনের পর সায়রা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসক বাঁচাতে পারেনি দিলীপ-সায়রার সন্তানকে। ঠিক এই ঘটনার পরেই দিলীপ কুমার ১৯৮১ সালে আসমা রেহমানকে বিয়ে করেন। যা টিকে ছিলো মাত্র দুবছর। প্রেমের টানে ফের সায়রার কাছেই ফিরে আসেন তিনি।


দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত দিলীপ কুমারের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো তা পরবর্তী সময়ে নিজেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা।


অন্যদিকে, দিলীপের সংসারে মন দিতেই নিজের ক্যারিয়ার ছেড়ে ছিলেন সায়রা। দিলীপ সাহেবকেই জীবনের মূলমন্ত্র করেছিলেন তিনি। তাই হঠাৎ করে স্বামী ছেড়ে যাওয়ায় ভেঙেও পড়েছিলেন সায়রা। তবে দিলীপের প্রতি ভালবাসা একটুও কমেনি বরং দিলীপ সাহেবের কথা উঠলেই সায়রা বলতেন দিলীপ কুমার আমার কাছে কোহিনুর। যার প্রেমে সারাজীবন আবদ্ধ থাকব!


এই তারকা দম্পতি তাদের দাম্পত্য জীবনের ৫৪ বছর অতিক্রম করেছেন। তাদের কোনও সন্তান নেই। তাই পরস্পরকে আগলে রাখতেন দুজনে। দীর্ঘ পাঁচ দশকের সঙ্গীকে একা রেখে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ সায়রা।