বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ‘স্কুইড গেম’



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম
‘স্কুইড গেমস’-এর পোস্টার

‘স্কুইড গেমস’-এর পোস্টার

  • Font increase
  • Font Decrease

‘স্কুইড গেম’ সিরিজটির আগমণের কথা কম বেশি সকলেরই জানা ছিলো। কিন্তু এটি যে নেটফ্লিক্সের সর্বকালের সেরা সিরিজে পরিণত হবে তা অনেকেই ভাবেনি।

কোরিয়ান এই সিরিজটি প্রথম ২৮ দিনে ১১১ মিলিয়ন ব্যবহারকারীরা দেখেছে, যার মধ্য দিয়ে সিরিজটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া আরেক সিরিজ ‘ব্রিজারটন’কে শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে ফেলেছে। কেননা ‘ব্রিজারটন’ দেখা হয়েছিলো ৮২ মিলিয়ন।

নেটফ্লিক্স এমন একটি দৃশ্য গণনা করে যে কেউ একটি পর্বের দুই মিনিট করে দেখেছে।

কোরিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিষয়বস্তুর জন্য নেটফ্লিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “শোটির সাফল্য আমাদের স্বপ্নের বাইরে”।

“যখন আমরা প্রথম ২০১৫ সালে কোরিয়ান সিরিজ এবং চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ শুরু করি, তখন আমরা জানতাম যে এশিয়া এবং বিশ্বের ‘কোর কে-কন্টেন্ট’ ভক্তদের জন্য বিশ্বমানের গল্প তৈরি করতে চায়। আজ ‘স্কুইড গেম’ আমাদের অন্যতম স্বপ্নগুলো অতিক্রম করেছে।”

স্কুইড গেমের জনপ্রিয়তা কী কারণে? বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই ধরনের অনুষ্ঠানের ধরন খুব যে নতুন বা অভিনব তা নয়। তবে সিরিজ অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় ভিস্যুয়াল, চরিত্রগুলোর সাথে বাস্তবের মিল এবং মানব চরিত্রের কিছু কঠিন ও বেদনাদায়ক দিক যেভাবে এতে উঠে এসেছে, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের মনকে ছুঁয়েছে।

‘স্কুইড গেম’ খেলায় আছে ৪৫৬জন প্রতিযোগী। তাদের সবাই ঋণে জর্জরিত এবং উঠে দাঁড়াতে মরিয়া। এই খেলা জীবন বাজি রেখে লড়ার- বাঁচার জন্য এক মরণ-পণ গেম। ছয়টি খেলার এই সিরিজ জিতলে বিজয়ীর হাতে আসবে ৪৫.৬ বিলিয়ন কোরিয়ান ওয়ন বা ৩৯ মিলিয়ন ডলার। আর হারলে মৃত্যু অবধারিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গেম সিরিজের সাফল্যের চাবিকাঠি হল এর চরিত্রদের বেশিরভাগই সমাজের প্রান্তিক মানুষ।

তাদের সকলেই বিশাল আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত হলেও তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

যেমন, প্রধান চরিত্র একজন বেকার যার জুয়ার সমস্যা রয়েছে। ফলে পরিবারের কারোর কাছ থেকে সে সম্মান পায় না। এই গেম সিরিজে সে দেখা পেয়েছে একজন তরুণীর যে উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করে দক্ষিণে চলে এসেছে। তার জীবনে অনেক কঠিন অভিঘাত এসেছে। তার সাথে দেখা আরেকজন পাকিস্তানি শ্রমিকের যার মালিক তার সাথে খুব দুর্ব্যবহার করেন।

চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্স থেকে সারা বিশ্বে মুক্তি পায় দক্ষিণ কোরিয়ান এই টিভি সিরিজটি। জীবনযুদ্ধে পরাজিত, সমস্যায় জর্জরিত এবং গভীর হতাশাগ্রস্ত কিছু মানুষের গল্প নিয়ে তৈরি এই থ্রিলার সিরিজের গল্প লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন হোয়াং ডং-হিউক।

৫৫ থেকে ৬০ মিনিটে সাজানো মোট ৯টি পর্বে সাজানো হয়েছে এই সিরিজের প্রথম সিজন। সিরিজটিতে ৩১টি ভাষায় সাবটাইটেল যুক্ত করা হয়েছে এবং ১৩টি ভাষায় ডাবিং করা হয়েছে।