বন্ধুত্ব থেকে বিয়ে, প্রেমের পর্ব ছিল না: সালহা নাদিয়া



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
বিয়ের সাজে সালমান ও নাদিয়া

বিয়ের সাজে সালমান ও নাদিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া গতকাল (২১ জুন শুক্রবার) বিয়ে করেছেন। পাত্র সালমান আরাফাতও একই পেশার মানুষ। এরইমধ্যে বিয়ের অনেক ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন এই নব দম্পতি। কখন কিভাবে বিয়েটা হলো এ নিয়ে প্রথমবার গণমাধ্যমের (বার্তা২৪.কম) সঙ্গে কথা বলেছেন নাদিয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ

সুদর্শন বর আর সুন্দরী কনেকে দারুণ মানিয়েছে

অভিনন্দন, নতুন জীবন শুরু করলেন...


ধন্যবাদ। আসলেই বিয়ের পর জীবনটা নতুন মনে হচ্ছে। এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি বিবাহিতা, যেন স্বপ্নের ঘোরে আছি। মাত্রই ঢাকায় ফিরলাম (আজ দুপুরে)। ক’টা দিন বলতে গেলে নির্ঘুম কেটেছে বিয়ের নানা আয়োজন নিয়ে। গায়ে হলুদ, সঙ্গীত, হলি খেলা- কিছুই বাদ দেইনি। তবে সবটাই হয়েছে ছোট্ট পরিসরে। এখন নিজের বাসায়, একটু আরাম করে ঘুমাবো।

গতকাল চার হাত এক হয় তাদের

সরাসরি নিজের বাড়িতে আসলেন, শ্বশুরবাড়িতে গেলেন না?


না, আসলে আমাদের তো কেবল আকদ হয়েছে। নিকাহ, গায়ে হলুদ ও সঙ্গীতের অনুষ্ঠানটি করেছি ঢাকার বাইরের একটি রিসোর্টে। আমার একটু ইচ্ছে ছিল ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করার। কিন্তু পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়াটা মুশকিল বলে দেশের মধ্যেই ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের ফিলটা নিলাম। একেবারে দুই পরিবারের ক্লোজ আত্মীয়-স্বজনই ছিলেন অনুষ্ঠানে।

দুই পরিবারের সঙ্গে বর-কনে

যেহেতু এখন কেবল নিকাহ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে তাই এখনি আমি শ্বশুরবাড়িতে যাইনি। এখনও আমরা আগের মতোই যার যার বাসায় থাকছি। এরমধ্যে আসা-যাওয়া, ঘোরাঘুরি হবে। কিন্তু বছরের শেষ নাগাদ রিসেপশন অনুষ্ঠান করার পর একসঙ্গে থাকার জায়গার বন্দোবস্ত করব। ইচ্ছে আছে রিসেপশনে আমার সব আত্মীয়-স্বজন এবং শোবিজের বন্ধু বান্ধব, সহকর্মীদের আমন্ত্রণ জানাবো।

হোলির রঙে নাদিয়া

ঘোরাঘুরির কথা বলছিলেন। হানিমুন করতে কোথায় যাচ্ছেন?


এখন আসলে ভিসা করতে গেলে দেরী হয়ে যাবে। বিয়ে যেহেতু ছোট্ট পরিসরে হয়েছে তাই হানিমুনটাও সেভাবেই করতে চাই। বড় অনুষ্ঠান করার পর সবকিছু বড়ভাবে করবো। তাই এখন দেশের মধ্যেই হানিমুন করার পরিকল্পনা করেছি। সেক্ষেত্রে দুজন মিলে কক্সবাজার যাবো শিগগিরই। তাছাড়া কক্সবাজার আমর খুব প্রিয়, সালমানেরও। আমি এতোবার শুটিংয়ে কক্সবাজার গেছি, কিন্তু মন ভরে না, আরও যেতে ইচ্ছে করে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমূদ্র সৈকত বলে কথা!

হানিমুনে কক্সবাজারে যাচ্ছেন এই নব দম্পতি

আপনি আর আপনার স্বামী তো বিজনেস পার্টনার। সেখান থেকেই কী বিয়ের দিকে গড়ালো সম্পর্ক?


না, বিজনেস পার্টনারতো অনেক পরের কথা। তার আগে থেকেই সে আমার কলিগ, এরপর ভালো বন্ধু হয়ে ওঠা এবং এক পর্যায়ে আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে দারুণ সখ্যতা গড়ে ওঠা- এভাবেই সম্পর্কটা এ পর্যন্ত গড়িয়েছে। 

শুটিং সেটে প্রথম পরিচয় দুজনের

সহজ করে বলতে গেলে, আমরা দুজনই যেহেতু শোবিজের সঙ্গে জড়িত, ফলে সহশিল্পী হিসেবেই শুটিং সেটে সালমানের সঙ্গে প্রথম পরিচয়। এরপর আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব, তারপর বিজনেস পার্টনার, এরপর বিয়ে।

বিয়ের পীড়িতে নাদিয়া ও সালমান

বন্ধুত্ব থেকে সরাসরি বিয়ে? মাঝে তাহলে প্রেমের অধ্যায় ছিল না বলছেন?


একদমই তাই বলছি। কারণ আমরা কখনো প্রেম করিনি। এ কথা হয়তো বললে কেউ বিশ্বাসই করবেন না, কিন্তু আসল সত্য এটাই। বলছিলাম না যে, আমাদের বন্ধুত্ব এতোটাই গাঢ় ছিল যে, একটা সময় দুই পরিবারের সবাই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। তার বাবা মার সঙ্গে আমার বাবা মাও কানেক্টেড হয়ে পড়েছিলেন।

পরিবারের সঙ্গে হোলি খেলছেন নাদিয়া ও সালমান

আমাকে আসলে অনেক বছর ধরেই বিয়ের জন্য জোরাজুরি করছিলো পরিবার থেকে। কিন্তু আমি বিয়ে নিয়ে বরাবরই খুব সচেতন ছিলাম। কখনোই চাইতাম না, কারও চাপে পড়ে বা মোহে পড়ে বিয়ে করে কোন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে। কিন্তু সালমান আমার ভীষণ ভালো বন্ধু হওয়ায় আমাদের বিয়ের কথা যখন দুই পরিবার থেকে আসলো তখন আমার আছে এটা কমফোর্ট জোন মনে হয়েছে। আমার বাবা মা বলছিলেন, এতোদিন অনেক বাহানা করেছে, এবার তোমার মানসিকতার সঙ্গে মেলে এমন ছেলে পেয়েছি, তাদের পরিবারও খুব ভালো, তোমরা একে অপরের কেয়ার করো, এখানেই বিয়েটা করো। সালমানকেও তার বাবা মা একই কথাই বলেছেন হয়তো। পরবর্তীতে আমরা রাজী হয়ে যাই।

বিয়ের সাজে সালমান ও নাদিয়া

আপনি অনেক বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত একজন তারকা। আর আপনার স্বামী কেবল শোবিজে নিজের জায়গা তৈরী করার লড়াই করছেন। এ বিষয়টি কী কখনোই সম্পর্কের মধ্যে আসেনি?


আমি অভিনেত্রী বা মডেল, সেটি তো আমার পেশা। তার আগে তো আমি একজন মানুষ। তাছাড়া আমি নিজেকে কখনোই সেলিব্রেটি মনে করি না। আমি সাধারন একটি মেয়ে যে পরিবার নিয়ে থাকতে সবসময় পছন্দ করে। আমি কখনোই চাইনি আমার স্বামী বিলিয়নিয়ার হোক। মোটকথা টাকা পয়সার পেছনে আমি কখনোই ছুটিনি। নিজের স্বাধীনতা রেখে কাজ করেছি, অতোটুকুই উপার্জন করেছি যতোটুকু একটি সুন্দর জীবনের জন্য দরকার।

হোলি খেলছেন নাদিয়া ও সালমান

তাই সব সময় জীবনসঙ্গী হিসেবে একজন ভালো ও শিক্ষিত মানুষ চেয়েছি। আর চেয়েছি এমন একজনকে জীবনে পাশে চাই যার সঙ্গে বন্ধুর মতো চলতে পারবো, কোনকিছু বলতে গেলে ভাবতে হবে না যে সে কি ভাববে? কিংবা বিয়ের পর নিজেকে বদলে অন্য একটা মানুষ হয়ে যেতে হবে এমন পরিবারও আমি চাইনি।

হোলি খেলছেন নাদিয়া ও সালমান

সালমানকে এখন পর্যন্ত যতোটা দেখেছি তাতে তাকে আমার খুব ভালো মনের একজন মানুষ মনে হয়েছে। সে একজন শিক্ষত ছেলে, মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে। শোবিজে হয়তো অল্পদিন কাজ করছে, কিন্তু এর আগে সে অন্য পেশায় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরে তাদের পারিবারিক ব্যবসায়ও সে সময় দিয়ে থাকে। তার পরিবারও ভীষণ আন্তরিক। আমার শ্বশুর শাশুড়ি খুব সংস্কৃতিমনা। তারা আমার কোন ভালো নাটক দেখলে ফোন করে জানান। আমরা একসঙ্গে ঈদে আমর নাটক দেখেছি। জীবনটা ছোট্ট, ছোট ছোট আনন্দ নিয়ে এভাবেই যাতে কেটে যায় সেটাই একমাত্র চাওয়া।

নতুনদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়েছিলেন শাফিন



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সঙ্গীত গুরুমূখী বিদ্যা। এ কথা সব বড় বড় শিল্পীরাই বলে থাকেন। ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়, তবে বতিক্রম কখনোই উদাহরন হতে পারে না। তাইতো একটা সময় বিশেষত ভারতীয় উপমহাদেশে পণ্ডিতরা তাদেও সারা জীবন লাগিয়ে দিতেন যোগ্য শীষ্য তৈরি করতে। নিজের সঙ্গীত ধারা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা পরের প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুদের ভূমিকা ছিলো অনবদ্য।

তবে এখন গান বানিজ্যিক উপকরণ হয়ে পড়ায় সবাই শুধু নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত। খুব কম শিল্পী আছেন যারা পরের প্রজন্মের কথা ভাবেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন শাফিন আহমেদ।

নতুন প্রজন্মের মেধাবী শিল্পীদের গানের জগতে আত্মপ্রকাশ করার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ডাবল বেইজ প্রোডাকশন হাউজ। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী নতুন শিল্পীদের গান প্রকাশ করছিলেন নিয়মিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘নিয়মিত নতুন শিল্পীদের গান আসছে আমার প্রডাকশন হাউজ থেকে। ডাবল বেউজ ইউটিউব চ্যানেলে আসছে ভিডিও ভার্সন। আর অডিও ভার্সন আসছে বিভিন্ন স্ট্রিমিং অ্যাপে।’

বাংলা র‌্যাপ গানকেও প্রমোট করতে দেখা গেছে তাকে। ঢাকার র‌্যাপার ওজি’র ‘গান পাউডার’ নামে একটি ইংরেজি র‌্যাপ গান প্রকাশ করেন নিজের প্রোযোজনায়। পাবনার র‌্যাপার টি.জেড ও ঢাকার র‌্যাপার বিশালের একাধিক গান প্রকাশ করেন তিনি।

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

র‌্যাপ গান নিয়ে এত কাজ করা প্রসঙ্গে শাফিন বলেছিলেন, ‘আমরা যখন রক গানের চর্চা শুরু করলাম তখন কিন্তু এদেশে সেভাবে তা জনপ্রিয় ছিল না। আমরাই সেটা জনপ্রিয় করেছি। কিছুদিন আগেই মেটাল আমাদের দেশে চলত না। এখন তা বড় পরিসরে চর্চা হচ্ছে। আর এখন সময় এসেছে বাংলা র‌্যাপ জনপ্রিয় হওয়ার। তাই যারা এ ধাঁচের গানে মেধার পরিচয় দিচ্ছে তাদের সবার সামনে তুলে ধরতে চাইছি।’

১৯৭৯ সালে ব্যান্ডদল মাইলস-এর মাধ্যমে সঙ্গীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন কিংবদন্তি নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফিরোজা বেগম ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতকার কমল দাশগুপ্তের সুযোগ্য পুত্র শাফিন আহমেদের। মাইলসের প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’ প্রকাশ হয় ১৯৯১ সালে। তার আগে প্রকাশিত হয় দু’টি ইংরেজি গানের অ্যালবাম ‘মাইলস’ ও ‘এ স্টেপ ফারদার’।

;

মাইলস ছেড়ে একক ক্যারিয়ারে কতোটা সফল ছিলেন শাফিন!



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম নাম শাফিন আহমেদ। তার ব্যান্ড মাইলস দেশের শ্রোতাকে নতুন ধারার বাংলা সংগীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। সেই মুগ্ধতা আজও অটুট। তাই তো চল্লিশ পেরিয়েও মাইলস এখনো নিজের গতিতে পথ হাঁটছে। করোনাকালে কেউ সেভাবে কাজ করতে পারেনি। বিশেষ করে ব্যান্ড দলের জন্য স্টেজ কনসার্টটাই প্রধান। সেটা কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি। কিন্তু লকডাউন উঠে যাওয়ার পর যে কজন শিল্পী অল্প বিস্তর কনসার্টে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তার মধ্যে মাইলস ব্যান্ড ছিলো অন্যতম। ওপেন এয়ার কনসার্টে তার পারফরমেন্স ছিলো দেখার মতো। 

মাইলস নিয়ে বড় পরিকল্পনা ছিলো শাফিন আহমেদের। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়েছে মাইলসের কিছু মিউজিক ভিডিও গান করা দরকার। বড় পরিসরে কাজগুলো করব।’

তবে এই কথা বলার কিছুদিন পরেই ২০২১ সালের শেষের দিকে অন্তঃকোন্দলের কারণে মাইলস ছেড়ে একক সঙ্গীত ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করেন শাফিন।

মাইলসের বাইরের মিউজিশিয়ান নিয়ে নিয়মিত দেশে বিদেশে বড় বড় কনসার্টে গাইতেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ইউটিউব চানেলে মিউজিক ভিডিওসহ প্রকাশ করতেন নতুন নতুন একক গান।

এরমধ্যে পপ ধাঁচের ‘শূন্যতা’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া ভারত, ইউরোপ ও আফ্রিকান মিউজিশিয়ানদের নিয়ে ভারতীয় রাগের ওপর একটি ব্লুজ- ফিউশন যন্ত্রসংগীতের ভিডিও প্রকাশ করেন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে। চ্যানেল আইয়ের জন্য ‘পিয়ানো রাউন্ড’ নামের একটি অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র পিয়ানোর ওপর বেইজ করে জনপ্রিয় গানের নতুন কম্পোজিশন করেছিলেন সম্প্রতি। সেই গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনিসহ দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা। বাবা উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত’র গানেরও নতুন সংগীতায়োজন করেছিলেন। এই গানগুলো দর্শকের কাছে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনেন শাফিন।

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রে সলো কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন দেশের শীর্ষ ব্যান্ড ‘মাইলস’ এর ভীষণ জনপ্রিয় ভোকাল, বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। শোয়ের আগে অসুস্থ হয়ে ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ফেরানো যায়নি তাকে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শাফিন। হৃদরোগসহ বেশকিছু জটিলতার কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই ও মাইলস সদস্য হামিন আহমেদ।

বর্তমানে শাফিনের মরদেহ ভার্জিনিয়ার সেই হাসপাতালেই রয়েছে বলেও জানান হামিন। তিনি জানান, আমেরিকায় তাদের বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। তারাই আপাতত সব দেখছেন। তবে শাফিনের মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে বৃহস্পতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন হামিন।

;

কেন বার বার মাইলস ছাড়তেন শাফিন আহমেদ?



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

চার দশকের বেশি সময় ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা দেশের অন্যতম সফল ব্যান্ডদল ‘মাইলস’ থেকে ২০২১ সালের শেষের দিকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। সে সময় এক ভিডিও বার্তায় তার ফেইসবুক পেজে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন এই শিল্পী। একসাথে পথ চলা সম্ভব না হওয়ায় ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

ভিডিও বার্তায় শাফিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘মাইলসের সঙ্গে আমার পথচলা সেই ১৯৭৯ সাল থেকে। বহু বছর পার হয়ে গেছে। অনেক বছর সময় দিয়েছি, শ্রম দিয়েছি। অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ হয়েছে। মাইলসের যে অবস্থান আজকে সেটার পিছনে আমার কতটুকু অবদান, সেটা আপনাদের অনেকেই জানেন। তবে, একটা সিদ্ধান্ত নিতে আমি বাধ্য হয়েছি সম্প্রতি। সেটা হচ্ছে, এ বছরের শুরু থেকে-মাইলসের বর্তমান লাইন আপের সাথে আমার পক্ষে মিউজিকের কোন কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি-আমি এই লাইন আপের সাথে মিউজিক করা থেকে বিরত থাকবো।’

দেশের অন্যতম সফল ব্যান্ডদল ‘মাইলস’-এর পুরনো সদস্যরা

শুধু তাই নয়, মাইলসের গৌরবময় অতীত যেন ভেঙে যাওয়া মাইলসের মাধ্যমে ক্ষুন্ন না হয় এ জন্য ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিলে শাফিন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে, মাইলস নামটার যেন কোন অপব্যবহার না হয়। মাইলসকে নিয়ে আমরা চল্লিশ বছর উদযাপন করেছি-খুব গৌরবজ্জ্বলভাবে। আমরা যদি একসাথে কাজ না করতে পারি তাহলে মাইলসের যে কার্যক্রম তা এখনই স্থগিত করা উচিত। এবং এটাই আমি মনে করি বেস্ট ডিসিশান। সুতরাং আমার প্রত্যাশা থাকবে, অন্য কেউ যেন মাইলস নামটার অপব্যবহার না করে।’

ভিডিওটি প্রকাশ করে শাফিন ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘দীর্ঘদিনের অন্যায় ও ভুল কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।’

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক অন্য ব্যান্ড সদস্যদের কোন মন্তব্য পাওয়া না গেলেও হামিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এই বিষয় তাকেই (শাফিন আহমেদ) পরিষ্কার করতে হবে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এই ব্যক্তি (শাফিন আহমেদ) বারবার একই ধরনের কাজ করছে। এখন হায়ারড (ভাড়াটে) মিউজিশিয়ান নিয়ে মাইলসের অনুমতি ছাড়া মাইলসের গান গাইছে! এর মাধ্যমে দর্শককে যেভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এটা অনেকটা প্রতারণার মতো। কোন অধিকারে মিউজিশিয়ান হায়ার করে মাইলসের সুনামটাকে নষ্ট করছে, এটার উত্তর তো তাকে দিতে হবে। চারবার এই ব্যক্তি ব্যান্ড ছেড়েছে, কোনোবারই ব্যান্ড কিন্তু তাকে বলেনি, চলে যাও।’

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

কিন্তু শাফিন আহমেদ কখনোই তেমন কিছু পরিস্কার করে বলেননি। বিভিন্ন সময় মাইলস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েও দলে ফিরেছিলেন শাফিন। এর আগে ২০১৯ সালে তার মাইলস ছাড়ার গুঞ্জন ওঠে। ২০১৭ সালে অক্টোবরে তিনি একবার ব্যান্ডটি ছাড়ার কয়েকমাস পর দ্বন্দ্ব ভুলে ফের ব্যান্ডে ফিরেছিলেন। ২০১০ সালের শুরুর দিকেও একবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ব্যান্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর কয়েকমাস পর ফের ব্যান্ডে ফেরেন।

মাইলস ছাড়লেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গান ছাড়েননি জনপ্রিয় এই ব্যান্ড তারকা। স্টেজ কিংবা রেকর্ডিংয়ে তাকে আগের মতোই পাওয়া গেছে। শাফিন সে সময় বলেছিলেন বলেন, ‘সংগীত জগতে আমার পথচলা খুব স্বাভাবিক এবং আগের মতোই থাকবে।’

ফরিদ রশিদের হাত ধরে ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলা সংগীতের অন্যতম ব্যান্ড মাইলস যাত্রা শুরু করে। মাইলসের প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’ প্রকাশ হয় ১৯৯১ সালে। তার আগে প্রকাশিত হয় দু’টি ইংরেজি গানের অ্যালবাম ‘মাইলস’ ও ‘এ স্টেপ ফারদার’। মাইলসে’র জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘চাঁদ তারা সূর্য’, ‘প্রথম প্রেমের মতো’, ‘গুঞ্জন শুনি’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ধিকি ধিকি’, ‘পাহাড়ি মেয়ে’, ‘নীলা’, ‘কি যাদু’, ‘কতকাল খুঁজব তোমায়’, ‘হৃদয়হীনা’, ‘স্বপ্নভঙ্গ’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘শেষ ঠিকানা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘বলব না তোমাকে’, ‘জাতীয় সঙ্গীতের দ্বিতীয় লাইন’ ও ‘প্রিয়তমা মেঘ’।

মাইলস ব্যান্ডের লাইন আপ ছিলো: শাফিন আহমেদ (বেজ গিটার, কণ্ঠ), হামিন আহমেদ (গিটার, কণ্ঠ), মানাম আহমেদ (কি-বোর্ড), ইকবাল আসিফ জুয়েল (গিটার) ও সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য (ড্রামস)।

;

শাফিনের মরদেহ আনতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন হামিন



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ

হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রে সলো কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন দেশের শীর্ষ ব্যান্ড ‘মাইলস’ এর ভীষণ জনপ্রিয় ভোকাল, বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। শোয়ের আগে অসুস্থ হয়ে ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ফেরানো যায়নি তাকে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শাফিন। হৃদরোগসহ বেশকিছু জটিলতার কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই ও মাইলস সদস্য হামিন আহমেদ।

বর্তমানে শাফিনের মরদেহ ভার্জিনিয়ার সেই হাসপাতালেই রয়েছে বলেও জানান হামিন। তিনি জানান, আমেরিকায় তাদের বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। তারাই আপাতত সব দেখছেন। তবে শাফিনের মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে বৃহস্পতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন হামিন।

জানালেন, বৃহস্পতিবারই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে যতো দ্রুত সম্ভব শাফিন আহমেদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবেন।

কনসার্টে শাফিন আহমেদ

‘মাইলস’ এর বাইরেও সলো ক্যারিয়ারে সুনাম অর্জন করেছিলেন শাফিন। এছাড়াও বেশকিছু সলো কিংবা মিক্সড অ্যালবামে এই শিল্পীর গান রয়েছে।

শাফিন আহমেদের মা সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্ত। এই পরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই শাফিন আহমেদ গানের ভেতরেই বড় হন। বাবার কাছে মাঝে মাঝে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছেন আর মার কাছে শিখেছেন নজরুলগীতি।

এরপর বড়ভাই হামিন আহমেদসহ ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সুবাদে পাশ্চাত্য সংগীতের সংস্পর্শে এসে ব্যান্ড সঙ্গীত শুরু করেন এবং মাইলস ব্যান্ড গড়ে তোলেন, যা পরবর্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগামী ব্যান্ডদলসমুহের মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি সেইসময় বিটিভিতে মাইলসকে নিয়ে করা অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। শাফিন আহমেদের জনপ্রিয় কিছু গানের মধ্যে আজ জন্মদিন তোমার, চাঁদ তারা সূর্য, জ্বালা জ্বালা, ফিরিয়ে দাও ও ফিরে এলেনা অন্যতম।

;