বিশ্বের সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্টের জন্মদিন পালনের গল্পটাও অন্যরকম

জাভেদ পীরজাদা, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
বিশ্বের সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্টের জন্মদিন আজ

বিশ্বের সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্টের জন্মদিন আজ

  • Font increase
  • Font Decrease

হোসে মুহিকা ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে। কিন্তু তার জীবনদর্শন বলে তিনিই প্রকৃত ধনী ও সুখী লোক। দেশবাসী যাকে আদর করে ডাকেন ‘এল পেপে’।

তার জন্ম ১৯৩৫ সালে ২০ মে মাসে। কিন্তু সেখানেও আমাদের দেশের মতো সনদপত্রের বয়সের তারিখ আর প্রকৃত জন্মগ্রহণের মধ্যে ব্যবধান থাকে কি না জানা না গেলেও হোসে মুহিকা তার জন্মদিন পালন করতেন ১২ অক্টোবর। কেন? তার জন্মদিনে একবার এ কথা জানতে চেয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার পেলে। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “কৈশোরের এদিনে হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হলো যেদিকে তাকাই সেদিকটাই সুন্দর লাগে। ওয়েদার সুন্দর ছিল। দিন ও রাতের আকাশও ছিল মোহনীয়। ফলে সেরাতেই সিদ্ধান্ত নিই এদিনই আমি পালন করব জন্মদিন।

তার বাবা দিমিত্রিও মুহিকা ছিলেন একজন কৃষক। আর মা লুসি করডানো একজন ইতালীয় মাইগ্র্যান্ট। মুহিকা ছোটবেলায় একটি বেকারির ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করতেন। আবার কখনো কখনো কাজ করেছেন হোটেল বয় হিসেবেও। কমিউনিজমের প্রতি আস্থাশীল থেকে ১৯৬০ সালে উরুগুয়ে সরকারের বিরুদ্ধে টুপামারোস গেরিলা মুভমেন্টে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে মন্টেভিডিওর কাছে পান্ডো শহরের দখল নিতে তিনি সফল গেরিলা অভিযান পরিচালনা করেন।

পরে উরুগুয়ের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ পাসেকো আরেকোর নির্দেশে তার জেল হয়। ১৯৭১ সালে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে পুন্টা ক্যারেটাস জেলখানা থেকে পালিয়ে যান। কিন্তু ১৯৭২ সালে তিনি আবার পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। ১৯৭৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে ১৪ বছরের জন্য জেলে যেতে হয়। ১৯৮৫ সালে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলে জেল থেকে ছাড়া পান।

তিনি ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার মাসিক বেতন ছিল প্রায় ১২ হাজার ডলার। কিন্তু বেতনের শতকরা ৯০ ভাগই তিনি দান করে দিতেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এবং নিজের জন্য অবশিষ্ট রাখতেন মাত্র ৭৭৫ ডলার (কমবেশি)। তার স্ত্রীর নাম লুসিয়াও। নিঃসন্তান এই দম্পতির সবচেয়ে দামি সম্পত্তি হলো ১৯৮৭ সালে কেনা এক হাজার ৮০০ ডলারের একটি গাড়ি।

তার বিখ্যাত কথা হলো, (যেটি তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসরে যাওয়ার সময় বিদায়ী ভাষণে বলেছিলেন) “গরিব হলো তারা, যাদের সব কিছু খুব বেশি বেশি দরকার। কারণ, যাদের সবকিছু খুব বেশি বেশি লাগে, তারা কখনোই জীবনের প্রতি সন্তুষ্ট হয় না। আই অ্যাম ফ্রুগাল, নট পুয়োর। আমার সাধারণ জীবনযাপনের সুবিধা হলো, আমি কাজ করার জন্য প্রচুর সময় পাই। আমি যা যা পছন্দ করি, নিজে নিজেই তার সবকিছু করতে পারি। আমি স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে চাই আর আমি সেভাবেই বেঁচে আছি। লিভিং ফ্রুগালি ইজ এ ফিলোসফি অব লাইফ, বাট আই অ্যাম নট পুয়োর।”

আপনার মতামত লিখুন :