নোয়াহ হারারির কল্পিত বাস্তবতা ও সমকালীন সমাজ



মিজানুর রহমান
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম-এর ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ইয়োভাল নোয়াহ হারারি আমার অন্যতম প্রিয় ব্যাক্তিত্ব। তিনি তিনটি সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখক, যেগুলো হলো, ‘সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অব ম্যানকাইন্ড’, ‘হোমো ডিউস’ এবং ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন ফর দি টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরী’। আমার এই লেখার আলোচনা এগিয়েছে তার প্রথম বই ‘সেপিয়েন্স’-এর সূত্র ধরে। হারারি তার ‘সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অব মেনকাইন্ড’ বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে ৭০,০০০ বছর পূর্বে যে হোমো সেপিয়েন্স তথা মানব প্রজাতির প্রভাব পৃথিবীতে একটা জেলিফিশের প্রভাবের চেয়ে বেশি কিছু ছিল না, সেই প্রজাতি কিভাবে সময় পরিক্রমায় এই ধরণীতে তার একক শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম করতে সক্ষম হলো?

এর কারণ হিসেবে তিনি যা বলেছেন সংক্ষেপে তাহলো, মানব প্রজাতির বিশাল সংখ্যায় নমনীয় হয়ে একে অন্যর সাথে সহযোগী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারার ক্ষমতা যা অন্য কোনো প্রজাতির বেলায় দেখা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি পনের থেকে বিশটা শিম্পাঞ্জীর দল দেখতে পাবেন কিন্তু এক হাজার শিম্পাঞ্জীর কোনো দল দেখতে পাবেন না। আপনি চল্লিশ হাজার মানুষকে একসাথে বসে মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করতে দেখতে পারেন, কিন্তু চল্লিশ হাজার শিম্পাঞ্জী মিরপুর স্টেডিয়ামে একসাথে ছেড়ে দেওয়া হলে যা দেখতে পাবেন তাহলো চরম বিশৃংঙ্খলা, একেবারে পাগলামীর চূড়ান্ত।

প্রশ্ন হলো মানুষ নিজেদের মধ্যে কিভাবে বিশাল সংখ্যায় এইরকম সহযোগী সম্পর্কের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছে? হারারির মতে, মানুষের বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষমতা অর্জনের পেছনে যে কারণ তাহলো—তারা গল্প তৈরি করতে পারে এবং সে গল্প যখন সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে তখন তারা সবাই একই রকমের আচার, মূল্যবোধ ধারণ করে, ফলত: তাদের সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি হয়। হারারির কাছে এই গল্পগুলোর উদাহরণ হলো ধর্ম, জাতি, রাষ্ট্র, করপোরেশন, অর্থ ইত্যাদি, এগুলো হলো ফিকশনাল রিয়েলিটি বা কল্পিত বাস্তবতা। অর্থাৎ, মানুষ বসবাস করে দ্বৈত বাস্তবতায়। একটা হলো অবজেক্টিভ রিয়েলিটি, যেমন, পাহাড়, নদী, গাছ, মানুষের নিজের শরীর ইত্যাদি ইত্যাদি। আরেকটা হলো ফিকশনাল রিয়েলিটি যা মানুষ তার কনশাসনেস বা চিন্তা শক্তির মাধ্যমে তৈরি করে। তাহলে আপনি নিরেট বাস্তবতা থেকে কল্পিত বাস্তবতা আলাদা করবেন কিভাবে?

হারারির পদ্ধতি খুবই চমকপ্রদ আবার খুব সরল। তার মতে যা কিছু যন্ত্রণা ভোগ করতে পারে না তাই ফিকশনাল রিয়েলিটি। যেমন, জাতি বা রাষ্ট্র। আমরা প্রায়শই বলি অমুক রাষ্ট্র তমুক রাষ্ট্রের কাছে বা অমুক জাতি তমুক জাতির কাছে পরাজিত হয়েছে কিংবা নতি স্বীকার করেছে। কিন্তু জাতি কি আসলে কোনো যন্ত্রণা ভোগ করছে? রাষ্ট্র কি কোনো যন্ত্রণা ভোগ করছে? উত্তর হলো, না। কারণ এগুলো কোনো নিরেট বাস্তবতা নয়, এগুলো আমাদের কল্পিত বাস্তবতা। কিন্তু যন্ত্রণা বা দুর্দশা ভোগ করে আসলে মানুষ, অমুক কল্পিত জাতির অন্তর্ভুক্ত রক্ত-মাংসের শরীরের মানুষ। সুতরাং নিরেট বাস্তবতা যদি কিছু থেকে থাকে তাহলো মানুষ, তার শরীর। জাতি বা রাষ্ট্র নয়।

হারারি তার বিভিন্ন লেকচারে বা পাবলিক আলোচনায় এটা অকপটে বলেছেন যে, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পেছনে এমনসব কল্পিত বাস্তবতা বা গল্পগুলোর ভূমিকা হচ্ছে প্রধান নিয়ামক। আপনি বেবুনদের কোনো দলের কাছে গিযে বেবুন সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বক্তৃতা দিয়ে সুবিধা করতে পারবেন না। কিংবা কোনো বেবুনকে দশ টাকার নোট দিয়ে দুইটা কলা দিতে বললে কোন সাড়া পাবেন না। কারণ দশ টাকার নোট তার কাছে অর্থহীন, তাকে বরং আপনি একটা নারিকেল দিলে সে আপনাকে একটা কলা দিতে পারে। কারণ সে শুধুমাত্রই অবজেক্টিভ রিয়েলিটিতে বাস করে, কিন্তু মানুষ অন্যএকটা সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষকে দশটাকা দিয়ে আরামসে দুইটা কলা কিনে নিয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেয়ে চলে আসতে পারে, কারণ অর্থ নামক গল্পে সমগ্র মানব জাতি বিশ্বাস করে। হারারির মতে, টাকা হলো মানুষ উদ্ভাবিত পৃথিবীর সবচেয়ে সফল গল্প। সবাই এক ধর্মে, এক খোদায়, এক জাতিতে কিংবা এক রাষ্ট্রে বিশ্বাস না করলেও টাকার গল্পে সবাই বিশ্বাস করে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, লাদেন আমেরিকান জাতি বা ধর্মে বিশ্বাস না করলেও আমেরিকান ডলার নিতে বা ব্যবহার করতে কোনোদিন আপত্তি করেননি। অর্থাৎ, মানুষের সফল হবার পেছনে তাদের গল্প উদ্ভাবন এবং সেসব গল্পে বিশ্বাস স্থাপন করার ক্ষমতাই প্রধান।

কিন্তু হারারির আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো কিভাবে এই গল্পগুলোই বা ফিকশনাল রিয়েলিটিগুলোই আবার মানব প্রজাতির ইতিহাসের পরিক্রমায় মানুষের কষ্ট, দুর্দশা, যন্ত্রণা এবং ধ্বংসের মূল কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। বেশিদূর যাওয়ার দরকার নেই হলোকাস্টের ঘটনাটাই যদি দেখি তবে দেখব যে, হিটলার বা নাৎসি বাহিনীর বিপুল হত্যাযজ্ঞের পেছনে মূল কারণ ছিল জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের গল্প। কিন্তু প্রকৃতিতে বা অবজেক্টিভ রিয়েলিটিতে এমন কোনো পরিমাপক নেই বা মানদণ্ড নেই যেখানে আপনি মাপতে পারবেন কোনো জাতি থেকে কোনো জাতি শ্রেষ্ঠ অথবা কোনো ধর্ম থেকে কোনো ধর্ম শ্রেষ্ঠ। ভিন্ন ভিন্ন গল্পের ভোক্তারা তাদের গল্পকেই শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং সেই শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণে ব্যাতিব্যস্ত থাকে, প্রয়োজনে খুন করে, গণহত্যা সংঘটিত করে, জাতিগত নিধনে লিপ্ত হয় কিংবা ধর্মযুদ্ধে যায়। সবকিছুই এই গল্পগুলোর জন্য আদতে যেগুলোর কোনো জৈবিক সত্তা নেই, এগুলোর অস্তিত্ব কেবল মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তাপ্রণালীর মধ্যেই গ্রথিত।

হারারির সেপিয়েন্স পড়ে এবং তার আলোচনাগুলো শুনে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই যে ফিকশনগুলো সেগুলো আমাদের সমাজকে কিভাবে বেঁধে রেখেছে আবার কিভাবে আমাদের সমাজে অন্যায়, হত্যা, গুম, ধর্ষণ, অবিচারকে টিকিয়ে রাখছে? সত্যিকার অর্থে আমি যা দেখি তাহলো ফিকশন এবং মিথগুলোর জন্য নিরেট বাস্তব রক্ত-মাংসের মানুষরা একে অন্যর ক্ষতি করতে ব্যস্ত। জাতি, জাতীয়তা, ধর্ম, সরকার, রাষ্ট্র, অর্থ নামের কল্পিত গল্পগুলো হয়ে উঠেছে মানুষের নিজের চেয়েও বেশি ক্ষমতাশালী—এগুলোর দোহাই দিয়ে এক ঝটকায় কাউকে রক্তাক্ত করা, খুন করা, গুম করা, জেলে পুরে দেওয়া যায়। যারা এই গল্পগুলো থেকে বাস্তবতা আলাদা করতে পারেন না (সিংহভাগ মানুষ) তারা এই গল্পগুলো অক্ষত রাখতে ইচ্ছুক, আরো শক্তিশালী করতে ইচ্ছুক, সেজন্য যাই করা লাগুক না কেনো। যারা এই গল্পগুলো চ্যালেঞ্জ করেন তাদের সাথে এই সিংহভাগের তৈরি হয় দুর্দান্ত অপছন্দের সম্পর্ক। আর এভাবেই চলতে থাকে অন্যায্যতা।

হারারি এই সমস্যাগুলোর পেছনে কল্পিত বাস্তবতাগুলোর ভূমিকা দুর্দান্তভাবে ব্যাখ্যা করলেও এ থেকে উত্তরণের পথ কী হতে পারে তা নিয়ে তেমন কিছু বলেন না। প্রশ্ন আসে তাহলে মানুষের হাতে সম্ভাব্য বিকল্প কী হতে পারে? তবে কি সময় এসেছে নতুন গল্প তৈরির, এমন কোনো গল্প যে গল্প একক কোনো গল্পের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মাথা ঘামাবে না? যে গল্প নিজেই খোদ বহুবিধ গল্পের সমাহার, যে গল্পের কোনো শেষ নেই বরং নতুন নতুন সংযুক্তি আছে। হয়তো এভাবেই আমাদের সুযোগ আছে বহুধা এবং বহুবিধ গল্পের শেষ না হওয়া একটা সংকলন হিসেবে টিকে থাকার, নতুবা যখন যে গল্প শক্তিশালী হবে সে গল্প গিলে ফেলতে চাইবে অন্য সকল গল্পগুলোকে। তবে হারারি ঠিক এভাবে না বললেও আমার মতে, বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে জরুরি হলো, মিথ/ কল্পগাথা/ কিংবদন্তী/ গল্পগুলো থেকে বাস্তবতাকে আলাদা করতে শেখা। সেটা করতে পারলেই সম্ভবত মানুষ মিথ বা ফিকশনের জন্য নিরেট বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারবে না কিংবা তাকে ধ্বংস করতে উন্মুখ হয়ে উঠবে না, তা সে হোক প্রকৃতি কিংবা মানুষসহ প্রকৃতিতে থাকা অপরাপর প্রাণ।


মিজানুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

   

মস্তিস্কেও ঢুকে যাচ্ছে প্লাস্টিক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মস্তিস্কেও ঢুকে যাচ্ছে প্লাস্টিক

মস্তিস্কেও ঢুকে যাচ্ছে প্লাস্টিক

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান পৃথিবী প্লাস্টিকময়। ছোট বড় থকে প্রায় সবরকম কাজে প্লাস্টিকের ব্যবহারের আধিক্য। তবে এই প্লাস্টিক অজৈব পদার্থে তৈরি হওয়ার কারণে সহজে পচনশীল নয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকার কারণে এসব পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।  শুধু পরিবেশ নয়, হার্ট, মগজ, সব জায়গাতেই নাকি ঢুকে রয়েছে প্লাস্টিক। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটাই জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, হার্টের নানা রোগ, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার পিছনেও এই প্লাস্টিকগুলির অবদান রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

সময়ের বিবর্তনে প্লাস্টিক বিভিন্ন আঘাতের কারণে ক্ষয় হয়ে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করে। ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিককে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে। দিন দিন পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে সমুদ্রে বিপুল পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি করেছে। পরিবেশের বিভিন্ন প্রাণী তাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে দিন দিন এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের আধিপত্য বেড়েই চলেছে। এমনকি মানব শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এক গবেষণায় মস্তিস্কে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে নিউ ম্যাক্সিকোর এনভয়রনমেন্টাল হেলথ পারসপেক্টিভ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় খাদ্য, পানি এমনকি বায়ুর মাধ্যমেও শরীরে প্রবেশ করে। এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা আমাদের স্নায়ুবিক নানান অনুভূতির উপরেও মাইক্রো প্লাস্টিক প্রভাব ফেলে।

রক্ত প্রবাহের কারণে তা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে বেড়ায়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে তা জমা থেকে স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা প্রদান করে। বৃক্ক, লিভার, হৃদপিণ্ডের রক্তনালি ছাড়াও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মস্তিষ্ক। মাইক্রোপ্লাস্টিক এসব অঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। 

ডাক্তার ইয়াতিন সাগভেকার বলেন দৈনন্দিন নানা কাজের মধ্যেই শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে। তবে পারে তা ত্বক, প্রশ্বাসের বায়ু বা ইনজেশনের মাধ্যমে।     

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ২০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারার কথা। এছাড়া ১০ মাইক্রোমিটার আকারের গুলো মস্তিষ্কের সুক্ষ্ম কোষের ঝিল্লির অতিক্রম করতে সক্ষম হওয়া উচিত।

প্লাস্টিক পরিবেশ্ম প্রানি এমনকি মানুষের জন্যও অনেক ক্ষতিকর। তাই সকলের উচিত যতটা সম্ভব প্লাস্টিক বর্জন করা। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি জিনিসের ব্যবহার বাড়ানো।

;

খাবারের পর প্লেট ধোয়া কষ্ট? তাহলে এই কৌশল আপনার জন্য!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খাওয়ার বিষয়ে সবাই পটু। কিন্তু খাওয়ার পর থালা বাসন ধোয়াকে অনেকেই কষ্টকর কাজ মনে করেন। তাই দেখা যায় খাওয়ার পর অপরিষ্কার অবস্থায়ই থেকে যায় থালা বাসনগুলো। এবার এই কষ্ট কমাতে এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি এমন এক ভিডিও নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। 

হর্ষ গোয়েনকা নামে ভারতের এক শিল্পপতি তাঁর এক্স হ্যন্ডেলে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি শেয়ার করেন। এতে দেখা যায়, থালাবাসন পরিষ্কারের কাজ এড়াতে এক ব্যক্তি মজার এক কৌশল নিয়েছেন। এতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি খাবার রান্না করছেন। খাবার আগে তিনি প্লাস্টিক দিয়ে প্লেট, চামচ ও পানির গ্লাস মুড়িয়ে নিচ্ছেন।

শেয়ার করে তিনি মজাচ্ছলে লিখেছেন, "যখন আপনার থালা-বাসন ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি থাকে না..."।

ভিডিওটি শেয়ার করার পর মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি অনেক বিনোদনের জন্ম দিয়েছে। যদিও কেউ কেউ প্লাস্টিকের মোড়ককে হাস্যকর মনে করেন এবং এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এক্স ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, 'পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার করা হল মন্ত্র হল এমন কৌশল! তবে প্লাস্টিকের ব্যবহার নতুন করে ভাবাচ্ছে।'

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'আমি আমার হোস্টেলের দিনগুলিতে এটি করেছি। আমাদের পানি সরবরাহ ছিল না এবং বারবার ধোয়ার কষ্টে এমন কৌশল নিয়েছি।'

আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বেঙ্গালুরুতে পানি–সংকটের সমাধান হয়ে যাচ্ছে।’

;

জলদানব ‘লক নেস’কে খুঁজে পেতে নাসার প্রতি আহ্বান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রহস্যময় জলদানব জলদানব ‘লক নেস’কে খুঁজে পেতে নাসার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লক নেস সেন্টার। ২০২৩ সালের এই রহস্যময় প্রাণীর শব্দের উৎস ও একে খুঁজে পেতে হাইড্রোফোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

স্যার এডওয়ার্ড মাউন্টেনের ৯০তম অভিযানের অংশ হিসেবে আগামী ৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত এই ‘লক নেস মনস্টার’কে খুঁজে পেতে অনুসন্ধান চালানো হবে।

রহস্যময় এই ‘লক নেস মনস্টার’কে ১৯৩৪ সালে প্রথম দেখা যায়। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১শ ৫৬ বার দেখা গেছে বলে লক নেস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে লক নেস সেন্টারের এমি টোড বলেছেন, আমরা আশা করছি, এই রহস্যময় জলদানবকে খুঁজে পেতে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষকেরা আমাদের সহযোগিতা করবেন। তারা আমাদের জলদানবকে খুঁজে পেতে যথাযথ নির্দেশনা দেবেন এবং এ বিষয়ে সব কিছু জানাতে সাহায্য করবেন।

তিনি বলেন, আমাদের অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি। আমরা আশা করছি, নাসার উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা জলদানব বিষয়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাবো।

রহস্যময় জলদানব খুঁজে পেতে স্বেচ্ছাসেবকের ভূপৃষ্ঠ থেকে যেমন নজর রাখবেন, তেমনি পানির ভেতরে অভিযান চালানোর বিষয়ে তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। রহস্যময় জলদানবকে খুঁজে পেতে ১৯৭০ দশক ও ১৯৮০ দশকের যে সব তথ্যচিত্র লক নেসের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, সেগুলো যাচাই করে দেখা হবে।

তারপর জলদানব সম্পর্কে স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন লক নেসের পরিচালক জন ম্যাকলেভারটি।

এ নিয়ে গবেষকদের নিয়ে একটি অনলাইন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। যারা রহস্যময় এই জলদানবকে সচক্ষে দেখেছেন, তারাও এ লাইভ বিতর্কে অংশ নেবেন।

নেস হৃদ

যে হ্রদে জলদানব অবস্থান করছে বলে জানা গেছে, অভিযানের অভিযাত্রী দল নৌকায় করে সেখানে যাবেন। এসময় তাদের সঙ্গে থাকবেন গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানকারী দলের ক্যাপ্টেন অ্যালিস্টার মাথিসন। তিনি লক নেস প্রজেক্টে একজন স্কিপার হিসেবে কাজ করছেন। তার সঙ্গে থাকবেন ম্যাকেন্না।

অনুসন্ধান কাজে ১৮ মিটার (৬০ ফুট) হাইড্রোফোন ব্যবহার করা হবে। এটি দিয়ে রহস্যময় শব্দের প্রতিধ্বনি রেকর্ড করা হবে।

দ্য লক নেস সেন্টার ড্রামনাড্রোচিট হোটেলে অবস্থিত। ৯০ বছর আগে অ্যালডি ম্যাককে প্রথম রিপোর্ট করেছিলেন যে তিনি একটি জলদানব দেখেছেন।

লক নেস সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার পল নিক্সন বলেছেন, ২০২৩ সালে নেসিকে খুঁজে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপানসহ আরো অনেক দেশ অনুসন্ধান কাজে অংশ নিয়েছিল। এটি ছিল বড় ধরনের একটি অভিযান।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানের সময় যে অদ্ভুত শব্দ শোনা গিয়েছিল, সে শব্দের কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়নি। তবে আমরা এবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, জলদানব লক নেসের রহস্য উন্মোচন করতে পারবো।

এ বিষয়ে আমরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করবো। এ রহস্যময় জলদানব লক নেস সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। পল নিক্সন আরো বলেন, এবার আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত যে, জলদানবকে খুঁজে পেতে নতুন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবো।

স্কটল্যান্ডের ইনভার্নেসের কাছে এক বিশাল হ্রদের নাম ‘নেস’। স্কটিশ গেলিক ভাষায় হ্রদকে লক (Loch) বলা হয়। আর উচ্চারণ করা হয় ‘লক’। গ্রেট ব্রিটেনের স্বাদুপানির সবচেয়ে একক বৃহত্তম উৎস এ হ্রদটির আয়তন ২২ বর্গ কিলোমিটার, গভীরতা ৮০০ ফুটেরও বেশি। এই হ্রদেই দেখা মিলেছিল সত্যিকারের জলদানব ‘লক নেসের’।

;

স্টেডিয়ামে খেলা দেখার জন্য অফিসে মিথ্যা বলা, শেষ রক্ষা হয়নি তার!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বহুল প্রত্যাশিত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরু হয়েছে ২২ মার্চ থেকে। বিশ্বের নামিদামী সব খেলোয়াড়ের উপস্থিতি থাকায় বিশ্বজুড়ে এই লীগের চাহিদা তুঙ্গে। তাই এর দর্শক সংখ্যাও কত হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। যাদের সুযোগ সামর্থ্য থাকে তারা স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখেন আর যাদের সুযোগ না থাকে তারা টেলভিশনের পর্দায়ই বিনোদন খোঁজেন।

সম্প্রতি, এই লীগের একটি ম্যাচ স্টেডিয়ামে দেখতে গিয়ে অদ্ভুত এক কাণ্ডের জন্ম দিয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরের নেহা নামে এক নারী ভক্ত। ওইদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও লখৌন সুপার জায়ান্টসের মধ্যে ম্যাচ চলছিল। সেই খেলা মাঠে বসে দেখতে তিনি পারিবারিক সমস্যার কথা বলে আগেই অফিস থেকে বের হয়ে যান।

তারপর যথারীতি সে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করছিল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। খেলা চলার এক পর্যায়ে তাকে টিভি স্ক্রিনে দেখতে পায় তার অফিসের বস।

পরে এই ঘটনাটির একটি ভিডিও তিনি তার ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে শেয়ার করেন। সেখানে তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে খোলাসা করেন।

ওই ভিডিওতে নেহা বলেন, অফিস থেকে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে মাঠে এসে খেলা দেখেছি। আমি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর একজন ভক্ত। কিন্তু টিভি স্ক্রিনে আমার বস আমাকে দেখে ফেলে। পরে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন আমি কোন দলের সমর্থক হিসেবে খেলা দেখছি। আমি বলেছি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

এরপর বস বলেন, তাহলে আপনি নিশ্চয় গতকাল খুব অসন্তুষ্ট ছিলেন। ওরা ফিল্ডিংয়ে একটি ক্যাচ মিস করার সময় আপনাকে খুব উদ্বিগ্ন চেহারায় দেখেছি। ১৬.৩ ওভারে যখন কিপার ক্যাচ মিস করলো, তখন।

হাতেনাতে ধরা পড়ে যাওয়ার পর নেহা স্বীকার করে নেন, ওটা তিনিই ছিলেন। বলেন, হ্যাঁ, অনুজ রাওয়াত ক্যাচ মিস করেছিল।

এরপর নেহার বস বলেন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য ক্যামেরায় আপনাকে দেখিয়েছিল। আর তাতেই আমি চিনে ফেলেছি। তাহলে এটাই ছিল গতকাল দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার কারণ।

এরপর তিনি একটি হাসির ইমোজি দিয়ে কথপোকথন শেষ করেন।

ভিডিওটি শেয়ার করার পর রাতারাতি সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

পোস্টের নিচে অনেকেই নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

একজন লিখেছেন, এটা ঠিক আছে। ম্যানেজারের উচিত কর্মচারীকে স্বাধীনতা প্রদান করা। যাতে সে সত্য বলতে পারে বা নিজের জীবনকে স্বাধীনভাবে উপভোগ করতে পারে।

আরেকজন লিখেছেন, আপনাকে এর জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করা উচিত। একে তো আপনি অফিস থেকে মিথ্যা কথা বলে বের হয়েছে আবার নিজেদের ব্যক্তিগত কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।

;