নোয়াহ হারারির কল্পিত বাস্তবতা ও সমকালীন সমাজ



মিজানুর রহমান
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম-এর ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ইয়োভাল নোয়াহ হারারি আমার অন্যতম প্রিয় ব্যাক্তিত্ব। তিনি তিনটি সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখক, যেগুলো হলো, ‘সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অব ম্যানকাইন্ড’, ‘হোমো ডিউস’ এবং ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন ফর দি টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরী’। আমার এই লেখার আলোচনা এগিয়েছে তার প্রথম বই ‘সেপিয়েন্স’-এর সূত্র ধরে। হারারি তার ‘সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অব মেনকাইন্ড’ বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে ৭০,০০০ বছর পূর্বে যে হোমো সেপিয়েন্স তথা মানব প্রজাতির প্রভাব পৃথিবীতে একটা জেলিফিশের প্রভাবের চেয়ে বেশি কিছু ছিল না, সেই প্রজাতি কিভাবে সময় পরিক্রমায় এই ধরণীতে তার একক শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম করতে সক্ষম হলো?

এর কারণ হিসেবে তিনি যা বলেছেন সংক্ষেপে তাহলো, মানব প্রজাতির বিশাল সংখ্যায় নমনীয় হয়ে একে অন্যর সাথে সহযোগী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারার ক্ষমতা যা অন্য কোনো প্রজাতির বেলায় দেখা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি পনের থেকে বিশটা শিম্পাঞ্জীর দল দেখতে পাবেন কিন্তু এক হাজার শিম্পাঞ্জীর কোনো দল দেখতে পাবেন না। আপনি চল্লিশ হাজার মানুষকে একসাথে বসে মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করতে দেখতে পারেন, কিন্তু চল্লিশ হাজার শিম্পাঞ্জী মিরপুর স্টেডিয়ামে একসাথে ছেড়ে দেওয়া হলে যা দেখতে পাবেন তাহলো চরম বিশৃংঙ্খলা, একেবারে পাগলামীর চূড়ান্ত।

প্রশ্ন হলো মানুষ নিজেদের মধ্যে কিভাবে বিশাল সংখ্যায় এইরকম সহযোগী সম্পর্কের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছে? হারারির মতে, মানুষের বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষমতা অর্জনের পেছনে যে কারণ তাহলো—তারা গল্প তৈরি করতে পারে এবং সে গল্প যখন সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে তখন তারা সবাই একই রকমের আচার, মূল্যবোধ ধারণ করে, ফলত: তাদের সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি হয়। হারারির কাছে এই গল্পগুলোর উদাহরণ হলো ধর্ম, জাতি, রাষ্ট্র, করপোরেশন, অর্থ ইত্যাদি, এগুলো হলো ফিকশনাল রিয়েলিটি বা কল্পিত বাস্তবতা। অর্থাৎ, মানুষ বসবাস করে দ্বৈত বাস্তবতায়। একটা হলো অবজেক্টিভ রিয়েলিটি, যেমন, পাহাড়, নদী, গাছ, মানুষের নিজের শরীর ইত্যাদি ইত্যাদি। আরেকটা হলো ফিকশনাল রিয়েলিটি যা মানুষ তার কনশাসনেস বা চিন্তা শক্তির মাধ্যমে তৈরি করে। তাহলে আপনি নিরেট বাস্তবতা থেকে কল্পিত বাস্তবতা আলাদা করবেন কিভাবে?

হারারির পদ্ধতি খুবই চমকপ্রদ আবার খুব সরল। তার মতে যা কিছু যন্ত্রণা ভোগ করতে পারে না তাই ফিকশনাল রিয়েলিটি। যেমন, জাতি বা রাষ্ট্র। আমরা প্রায়শই বলি অমুক রাষ্ট্র তমুক রাষ্ট্রের কাছে বা অমুক জাতি তমুক জাতির কাছে পরাজিত হয়েছে কিংবা নতি স্বীকার করেছে। কিন্তু জাতি কি আসলে কোনো যন্ত্রণা ভোগ করছে? রাষ্ট্র কি কোনো যন্ত্রণা ভোগ করছে? উত্তর হলো, না। কারণ এগুলো কোনো নিরেট বাস্তবতা নয়, এগুলো আমাদের কল্পিত বাস্তবতা। কিন্তু যন্ত্রণা বা দুর্দশা ভোগ করে আসলে মানুষ, অমুক কল্পিত জাতির অন্তর্ভুক্ত রক্ত-মাংসের শরীরের মানুষ। সুতরাং নিরেট বাস্তবতা যদি কিছু থেকে থাকে তাহলো মানুষ, তার শরীর। জাতি বা রাষ্ট্র নয়।

হারারি তার বিভিন্ন লেকচারে বা পাবলিক আলোচনায় এটা অকপটে বলেছেন যে, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পেছনে এমনসব কল্পিত বাস্তবতা বা গল্পগুলোর ভূমিকা হচ্ছে প্রধান নিয়ামক। আপনি বেবুনদের কোনো দলের কাছে গিযে বেবুন সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বক্তৃতা দিয়ে সুবিধা করতে পারবেন না। কিংবা কোনো বেবুনকে দশ টাকার নোট দিয়ে দুইটা কলা দিতে বললে কোন সাড়া পাবেন না। কারণ দশ টাকার নোট তার কাছে অর্থহীন, তাকে বরং আপনি একটা নারিকেল দিলে সে আপনাকে একটা কলা দিতে পারে। কারণ সে শুধুমাত্রই অবজেক্টিভ রিয়েলিটিতে বাস করে, কিন্তু মানুষ অন্যএকটা সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষকে দশটাকা দিয়ে আরামসে দুইটা কলা কিনে নিয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেয়ে চলে আসতে পারে, কারণ অর্থ নামক গল্পে সমগ্র মানব জাতি বিশ্বাস করে। হারারির মতে, টাকা হলো মানুষ উদ্ভাবিত পৃথিবীর সবচেয়ে সফল গল্প। সবাই এক ধর্মে, এক খোদায়, এক জাতিতে কিংবা এক রাষ্ট্রে বিশ্বাস না করলেও টাকার গল্পে সবাই বিশ্বাস করে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, লাদেন আমেরিকান জাতি বা ধর্মে বিশ্বাস না করলেও আমেরিকান ডলার নিতে বা ব্যবহার করতে কোনোদিন আপত্তি করেননি। অর্থাৎ, মানুষের সফল হবার পেছনে তাদের গল্প উদ্ভাবন এবং সেসব গল্পে বিশ্বাস স্থাপন করার ক্ষমতাই প্রধান।

কিন্তু হারারির আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো কিভাবে এই গল্পগুলোই বা ফিকশনাল রিয়েলিটিগুলোই আবার মানব প্রজাতির ইতিহাসের পরিক্রমায় মানুষের কষ্ট, দুর্দশা, যন্ত্রণা এবং ধ্বংসের মূল কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। বেশিদূর যাওয়ার দরকার নেই হলোকাস্টের ঘটনাটাই যদি দেখি তবে দেখব যে, হিটলার বা নাৎসি বাহিনীর বিপুল হত্যাযজ্ঞের পেছনে মূল কারণ ছিল জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের গল্প। কিন্তু প্রকৃতিতে বা অবজেক্টিভ রিয়েলিটিতে এমন কোনো পরিমাপক নেই বা মানদণ্ড নেই যেখানে আপনি মাপতে পারবেন কোনো জাতি থেকে কোনো জাতি শ্রেষ্ঠ অথবা কোনো ধর্ম থেকে কোনো ধর্ম শ্রেষ্ঠ। ভিন্ন ভিন্ন গল্পের ভোক্তারা তাদের গল্পকেই শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং সেই শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণে ব্যাতিব্যস্ত থাকে, প্রয়োজনে খুন করে, গণহত্যা সংঘটিত করে, জাতিগত নিধনে লিপ্ত হয় কিংবা ধর্মযুদ্ধে যায়। সবকিছুই এই গল্পগুলোর জন্য আদতে যেগুলোর কোনো জৈবিক সত্তা নেই, এগুলোর অস্তিত্ব কেবল মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তাপ্রণালীর মধ্যেই গ্রথিত।

হারারির সেপিয়েন্স পড়ে এবং তার আলোচনাগুলো শুনে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই যে ফিকশনগুলো সেগুলো আমাদের সমাজকে কিভাবে বেঁধে রেখেছে আবার কিভাবে আমাদের সমাজে অন্যায়, হত্যা, গুম, ধর্ষণ, অবিচারকে টিকিয়ে রাখছে? সত্যিকার অর্থে আমি যা দেখি তাহলো ফিকশন এবং মিথগুলোর জন্য নিরেট বাস্তব রক্ত-মাংসের মানুষরা একে অন্যর ক্ষতি করতে ব্যস্ত। জাতি, জাতীয়তা, ধর্ম, সরকার, রাষ্ট্র, অর্থ নামের কল্পিত গল্পগুলো হয়ে উঠেছে মানুষের নিজের চেয়েও বেশি ক্ষমতাশালী—এগুলোর দোহাই দিয়ে এক ঝটকায় কাউকে রক্তাক্ত করা, খুন করা, গুম করা, জেলে পুরে দেওয়া যায়। যারা এই গল্পগুলো থেকে বাস্তবতা আলাদা করতে পারেন না (সিংহভাগ মানুষ) তারা এই গল্পগুলো অক্ষত রাখতে ইচ্ছুক, আরো শক্তিশালী করতে ইচ্ছুক, সেজন্য যাই করা লাগুক না কেনো। যারা এই গল্পগুলো চ্যালেঞ্জ করেন তাদের সাথে এই সিংহভাগের তৈরি হয় দুর্দান্ত অপছন্দের সম্পর্ক। আর এভাবেই চলতে থাকে অন্যায্যতা।

হারারি এই সমস্যাগুলোর পেছনে কল্পিত বাস্তবতাগুলোর ভূমিকা দুর্দান্তভাবে ব্যাখ্যা করলেও এ থেকে উত্তরণের পথ কী হতে পারে তা নিয়ে তেমন কিছু বলেন না। প্রশ্ন আসে তাহলে মানুষের হাতে সম্ভাব্য বিকল্প কী হতে পারে? তবে কি সময় এসেছে নতুন গল্প তৈরির, এমন কোনো গল্প যে গল্প একক কোনো গল্পের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মাথা ঘামাবে না? যে গল্প নিজেই খোদ বহুবিধ গল্পের সমাহার, যে গল্পের কোনো শেষ নেই বরং নতুন নতুন সংযুক্তি আছে। হয়তো এভাবেই আমাদের সুযোগ আছে বহুধা এবং বহুবিধ গল্পের শেষ না হওয়া একটা সংকলন হিসেবে টিকে থাকার, নতুবা যখন যে গল্প শক্তিশালী হবে সে গল্প গিলে ফেলতে চাইবে অন্য সকল গল্পগুলোকে। তবে হারারি ঠিক এভাবে না বললেও আমার মতে, বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে জরুরি হলো, মিথ/ কল্পগাথা/ কিংবদন্তী/ গল্পগুলো থেকে বাস্তবতাকে আলাদা করতে শেখা। সেটা করতে পারলেই সম্ভবত মানুষ মিথ বা ফিকশনের জন্য নিরেট বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারবে না কিংবা তাকে ধ্বংস করতে উন্মুখ হয়ে উঠবে না, তা সে হোক প্রকৃতি কিংবা মানুষসহ প্রকৃতিতে থাকা অপরাপর প্রাণ।


মিজানুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

   

সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি পেল 'বিড়াল'!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'ম্যাক্স' নামের একটি বিড়ালকে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট অব লিটারেচার’ বা ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। দেশটির ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের স্নাতক অনুষ্ঠানে বিড়ালটিকে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়। তবে সেই অনুষ্ঠানে বিড়ালকে আমন্ত্রণ জানানোর নিয়ম না থাকায় উপস্থিত ছিল না ম্যাক্স। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুষ্ঠানে বিড়ালটি উপস্থিত ছিল না। তাই বিড়ালের মালিক অ্যাশলে ডোর কাছে খুব শিঘ্রই এই ডিগ্রি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।   

বন্ধুসুলভ এই বিড়ালটিকে তার ইঁদুর শিকারের দক্ষতা বা অতিরিক্ত ঘুমানোর জন্য নয় বরং তার সহচার্যের জন্যই স্বীকৃতি দিয়েছে।   বিড়ালটিকে এই ডিগ্রিতে ভূষিত করা হয়। ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্যাসেলটন ক্যাম্পাস।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি পেল 'বিড়াল'!

বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাক্স দ্য ক্যাট, অনেক বছর ধরেই ক্যাসেলটন পরিবারের একজন আদুরে সদস্য। ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তায় পাশেই বসবাস করে এক পরিবার। বিড়ালটি সেই পরিবারেরই পোষা।

বিড়ালের মালিক অ্যাশলে ডো বলেন, ‘বিড়ালটি ঠিক করেছে সে ক্যাম্পাসে যাবে। এরপর থেকেই সে কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে শুরু করে। আর শিক্ষার্থীরাও তাকে আদর করতে শুরু করে।’

বিড়ালটি প্রায় চার বছর ধরে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করছে। বিড়ালটিকে পথের ধারে শুয়ে থাকতে দেখলেই সবাই তার সঙ্গে সেলফি নেয়।

এমনকি সাবেক ছাত্ররাও যখনই ক্যাম্পাসে আসেন তারা তখনই বিড়ালটির খোঁজ নিতে তার মালিক ডো-এর কাছে যান। ডো তাদের কাছে বিড়ালটির মা হিসেবেই বেশি পরিচিত।

;

৯৩ বছর বয়সে বৃদ্ধের অবিশ্বাস্য কর্মকাণ্ড



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বৃদ্ধ জন স্টারব্রুক

বৃদ্ধ জন স্টারব্রুক

  • Font increase
  • Font Decrease

শৈশবে খেলা, কৈশরে পড়ালেখা, যৌবনে চাকরি, মধ্যবয়সে সংসার, বৃদ্ধবয়সে একটা মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজে অবসরে সময় কাটিয়ে দেওয়া। কপাল খারাপ থাকলে বিছানাতেই শোয়া বা আধশোয়া থেকে মৃত্যুর দিন গোণা। সাধারণত এভাবেই মানুষের জীবন কেটে যায়। অনেকে আবার মধ্যবয়সের পরেই নানারকম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অথবা শরীরকে বিভিন্ন রোগের আবাসস্থল বানিয়ে দুর্বল হয়েই বেঁচে থাকেন। তবে খড়ের গাদায় সূচের মতো দু-একজন থাকে যারা একেবারেই ব্যতিক্রম। তেমনভাবেই আলোচনায় এসেছেন ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধ।  তার ব্যতিক্রমী জীবনযাপনের ধারাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুসমাজে।     

যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা জন স্টারব্রুক। তিনি একজন ওয়াটার পোলো খেলোয়াড়। এটি মূলত পানির মধ্যে বাস্কেটবলের মতো একধরনের খেলা। এইখেলার সাথে কুস্তি খেলারও কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে। জনের বর্তমান বয়স ৯৩ বছর। এই বয়সেও যথেষ্ট সুস্থ এবং সবল তিনি। সমবয়েসীদের যেখানে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও ২ জনের সহায়তা লাগে, সেখানে এখনো ম্যারাথনে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বেশ দক্ষ সাঁতারুও বটে! ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাঁতার কাটা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

প্রায় শতাব্দি ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধের এমন কারিশমা দেখে চোখ ছানাবড়া হবার উপক্রম। জন মূলত একজন সাঁতারু। পেশাগতভাবে না হলেও অনেক ছোটবেলা থেকেই তিনি সাঁতার কাটেন তিনি। দেশের সম্মানজনক অনেপ্রতিযোগীতায় একাধিক বার চ্যাম্পিয়নের খেতাবও জেতেন। চাকরি করেছেন ‘ব্রিটিশ আর্মি মেডিক্যাল কর্পস’-। সেখানেও সাঁতারের দক্ষতার কারণে তার বেশ সুনাম ছিল।   

ম্যারাথনে দৌড়াচ্ছেন ৯৩ বছরের জন

তবে সাঁতারের পাশাপাশি এখন ম্যারাথেনেও অংশগ্রহণ করেছেন জন। ৫২ টির বেশি ম্যারাথনের দৌড় শেষ করেছেন তিনি। জানালেন এই বয়সেও তার এমন চ্যালেঞ্জিং সব কাজের অভিজ্ঞতা। সুস্থতা ধরে রাখার রহস্যও ফাঁস করলেন সকলের কাছে। ব্রিটিশ নাগরিক জন বন্ধুদের কাছে ‘দ্য লিজেন্ডনামেই পরিচিত। একই নামে তাকে আখ্যায়িত করছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো

জন স্টারব্রুক জানান, তিনি এখনো সপ্তাহের ৬ দিনই জিমে যাতায়াত করেন। বিশেষ কোনো খাদ্যাভাস নেই তার। খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি রাখতে পছন্দ করেন- এই যা। তাছাড়া প্রতিদিন সকালে পোরিজ খান তিনি। তবে তিনি কখনো ধূমপান করেননি। অ্যালকোহলও খুব সীমিত পরিমাণে সেবন করতেন। মূলত এই বয়সেও এটা সবল থাকার পেছনে বংশ পরম্পরায় পাওয়া নিজের জীন আসল কারণ- বিশ্বাস করেন জন।

কারণ যাই হোক, প্রানবন্ত এই বৃদ্ধ বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। তার মতোই দৃঢ় মানসিকতা ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুবক-যুবতীরা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

;

প্রশ্ন আর উত্তর যেন পরস্পরের সাংঘর্ষিক!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রশ্ন থাকে এক আর তার উত্তর হয় ভিন্ন। এমন উত্তরপত্রের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়। এবার এমনই এক উত্তরপত্রের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে রীতিমতো সবাই অবাক! তবে এই ঘটনার জন্ম দেওয়া দেশটি বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি হিন্দি পরীক্ষায় ঘটেছে এমন কাহিনী।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে পরীক্ষার্থীর এমন উত্তর দেখে শিক্ষককেও হাসতে দেখা যায়। 

ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়েছে @n2154j অ্যাকাউন্টের একটি আইডি থেকে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি প্রশ্ন ছিল এমন, সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ (যৌগিক ব্যঞ্জনবর্ণ) কী? এই প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীটি একটি খাদ্য রূপক দিয়ে উত্তর দিল: "মাটার পনির এবং সব মিশ্র সবজি একত্রিত একটি খাবার।"

আরেকটি প্রশ্ন ছিল "অতীত কাল কাকে বলে?" এর উত্তরে ওই পরীক্ষার্থি লিখেছে, "যখন অতীত আমাদের অতীতের আকারে আসে, তখন তাকে অতীত কাল বলা হয়।"

ভিডিও অনুযায়ী আরও একটি প্রশ্ন ছিল "বহুবচন কাকে বলে?" এর উত্তরে সে লিখেছে "যে পুত্রবধূ তার শ্বশুরবাড়ির কথা শোনে তাকে বহুবচন বলে।"

শিক্ষার্থীটির এমন উত্তর শুনে হাসিতে ফেটে পড়েন শিক্ষক। এমন উত্তরগুলোকে শিক্ষক ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যদিও এমন উত্তরের জন্য তাকে পুরোপুরি হতাশ করা হয়নি। তাকে ১০ মার্কের মধ্যে ৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক পরে তার উত্তরপত্রে লিখে দিয়েছিলেন, এই ৫ মার্ক তোমার মস্তিষ্কের জন্য, ছেলে।

ভিডিওটি দেখে সবাইকে হাসির ইমোজি দিতে দেখা যায়। সম্পূর্ণ নম্বর না পাওয়ায় অনেকেই যুক্তি দিয়ে লিখেছেন, ছাত্রটি তার কৌতুক প্রতিভার জন্য পূর্ণ নম্বর পাওয়ার যোগ্য।

তবে এমন ঘটনা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্র এবং শিক্ষকের হাতের লেখা সন্দেহজনকভাবে একই রকম।

অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "প্রশ্ন এবং উত্তর একই হাতের লেখা"। 

;

ফেনী শহরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া



মোস্তাফিজ মুরাদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

'কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে-আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে' জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই মনোমুগ্ধকর গানে ফুটে উঠেছে কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য। কৃষ্ণচূড়া যেন প্রকৃতিকে দান করেছে লাল আভার অপরূপ সৌন্দর্যের মহিমা। সাথে গ্রীষ্মের উত্তাপে শহরে সৌরভ ছড়াচ্ছে নানা জাতের ফুল। তীব্র তাপদাহের পর কালবৈশাখী, এরপর মাঝারি বৃষ্টির মধ্যে ফুলের আগমন। এতে রঙের উল্লাসে মেতে উঠেছে ফেনী শহরবাসী।

ফেনী শহরের কোর্ট বিল্ডিং, এলজিইডি, পুলিশ লাইন, নবীন চন্দ্র সেন কালচারাল সেন্টার, ফেনী সরকারি কলেজ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়া। এটি একদিকে প্রকৃতিকে যেমন সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে, অন্যদিকে এর সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে তরুণ-তরুণী, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষসহ ফুলপ্রিয় পথচারীদের। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে, সরকারি দফতরসহ স্কুল-কলেজে কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল ও উজ্জ্বল সবুজ পাতার সংমিশ্রণ দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে চারপাশ।


কৃষ্ণচূড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ফুলের ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে আছে পুরো শহর। শহরের মূল সড়কের ডিভাইডারে পৌরসভার উদ্যোগে লাগানো হাসনাহেনা, রজনিগন্ধা, গন্ধরাজসহ নানা জাতের ফুল গাছে ফুল ফুটেছে। এটি একদিকে বাড়িয়েছে সৌন্দর্য অন্যদিকে হেঁটে কিংবা রিকশায় চলাচল করলে পাওয়া যায় এসব ফুলের সুঘ্রাণ।

ফেনী শহরের কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য দেখে ফুলপ্রিয় পথিকরা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতিকে অনন্য সাজে সাজিয়েছে। এই ফুলের সৌন্দর্যের কারণে পথচারীরা একবার হলেও এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এর গাছের উপর নজর দিবে। পাশাপাশি তীব্র গরমে অন্যান্য ফুলের সুঘ্রাণে চারপাশ মুখরিত হওয়াতে ক্লান্তিতা কিছুটা হলেও কমছে।


তারা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া ফুলের এই নান্দনিক দৃশ্য দেখতে এর গাছ রোপণ করা জরুরি। রাস্তা প্রশস্তকরণ, ঘর-বাড়ি নির্মাণসহ নানা প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলা হয়। অন্যান্য গাছ রোপণ করার পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া রোপণ করলে একদিকে যেমন সৌন্দর্য বাড়াবে অন্যদিকে পরিবেশ বান্ধব হবে।

সাজিদ হাসান নামের এক পথচারী বলেন, কৃষ্ণচূড়া একদিকে যেমন প্রকৃতিতে অপরুপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে, আরেকদিকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাবে। সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, আমার মতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এই গাছটিও যুক্ত করা উচিত। তীব্র গরমের পর বৃষ্টি হলো, এরপর শহরে নানা রঙের ফুলের দেখা মিলছে, ফুলের ঘ্রাণে চলাচল করতেই ভালো লাগছে।

ফারজানা ইয়াসমিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ফুলের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। অন্যান্য ফুলের পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া ফুল আমার অনেক ভালো লাগে। আমাদের কলেজে বকুল তলা আছে, ক্যান্টিনের পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। সুযোগ পেলেই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি।

অনিক মোহন নামে একজন বলেন, রিকশায় করে যখন বাসায় ফিরি, শহরের রাস্তার মাঝে ভিডাইভারে লাগানো নানা জাতের ফুলের ঘ্রাণ মনকে আনন্দিত করে। রাতের বেলা শহর যখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন এ ফুলের সৌন্দর্য কয়েকশ’ গুণ বেড়ে যায়।

সড়কের পাশে কৃষ্ণচূড়া লাগানো হলে সৌন্দর্য বাড়বে বলে মনে করেন পথচারী মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য যে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, ওই গাছগুলোর জায়গা কৃষ্ণচূড়ার গাছ লাগালে রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।

একই কথা বলেন শহরের ব্যবসায়ী নাদিম আহমেদ। তিনি বলেন, সৌন্দর্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে এই গাছ রোপণ করা উচিত আমাদের। তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে অন্যন্যা গাছ রোপণ করার পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেগুলো শহরে আছে তাতেই সৌন্দর্য বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ, আরও যদি লাগানো যায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে আমাদের শহর।

কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধন গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপী ছড়ায়।

শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ থাকে। কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। পত্র ঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। বাংলাদেশে বসন্ত কালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচূড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে।

জানা যায়, অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ানোর পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর পাতা, মূলের বাকল ও ফুল ভেষজ গুণাগুণ সম্পূর্ণ, যা জ্বর ও খুশকি নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ভেষজটি হেমিপ্লেজিয়া, আর্থরাইটিস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। কৃষ্ণচূড়া গাছের শিকড়, বাকল এবং ফুল সবই পরজীবী সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

;